অমানুষ

0
765

অমানুষ

কেমন আছো ? মনে হয় তো ভালোই আছো । আমি বেশি একটা ভালো নেই সেই জন্যই তো কষ্টের গল্প বলতেছি । যাই হোক তুমি এবার তুমি বলাতে রাগ করোনা । আমি একটু বেশি আবেগি তো তাই কখন যে কি বলে ফেলি ঠিক নাই । আর শোন আমি কিন্তু খুব ভালো লিখতে পারি না তাই আবার গল্প পড়ে আমার উপর রাগ করোনা ।

গল্পটা এবার শোন , , , আমি একটা মেয়ে কে খুব ভালবাসতাম , বাসতাম না এখন ও বাসি । মেয়েটার নাম হল লি ………… ।
নাম টা না হয় নাই শুনলে , আমি ওকে eee বলে ডাকি । তুমি হয়ত মনে করতেছো এই টা আবার কেমন নাম ! আমি আগে একটু ভুল বলছি , আসলে খুব বা অনেক বললে কম হয়ে যাবে আমি আমার eee টা কে প্রচণ্ড ভালোবাসি । সবাই তো তাঁর ভালোবাসার মানুষটাকে জান , ময়না পাখি , টিয়া পাখি , আবোল তাবোল কত কি বলে ডাকে কিন্তু eee তো আর কেউ বলে না পৃথিবীতে আমিই শুধু আমার ভালোবাসার মানুষটাকে এই নামে ডাকি ।

এবার আমার eee টার কথা শোন আমার eee টা এমনি তে খুব ভালো, শুধু একটু বেশি রাগী । কিন্তু ও যে আবার সবার উপরেই রাগ দেখায় তা না শুধু আমার উপরেই বেশি দেখায় । আমার উপর ওর ভালোবাসা ও যেমন বেশি তেমনি রাগ ও বেশি আর আমি একটু বেশি ফাজিল তো তাই একটু বেশি বেশি রাগ দেখাতো ।

এক দিন কি হয়ছে শোন , আমি আর আমার eee তা এক খানে বেড়াতে গেছি । আমরা মাঝে মাঝে ওই রকম বেড়াতে যাই কারন আমার ও যেমন নদী , পাখি , গাছপালা ভালো লাগে আমার eee টার ও ভালো লাগে । যে দিন আমরা বেড়াতে যাই ওই দিন আমার eee টা আমাকে গান শোনায় । আর আমার eee টা যে কত সুন্দর গান গায় টা তুমি কল্পনা ও করতে পারবা না। সেই দিন একটা গান শোনার পর আমি eee টাকে বললাম ।

একটা কথা বলব , রাগ করবা না তো ?

না রাগ করবো কেন , কি কথা বলো ।

আমার খুব ইচ্ছা করতেছে তোমার কোলে মাথা রেখে তোমার হাত টা একটু ধরতে ।

আর এতেই আমার অ্যাটম বোম জ্বলে উঠলো । আমার দিকে কিছু সময় অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে থাকলো তারপর কথা নেই বার্তা নেই উঠে হাঁটা শুরু করলো ।

আমি আর কি করব একা একা বসে থাকলাম । আমার ও মনটা খারাপ হয়ে গেল শুধু শুধু কেন যে এই আবদার টা করতে গেলেম ! এমনি তেই তো ভালো ছিলাম !
আমার eee টা অনেক দূরেই চলে গেছিলো , এখন দেখলাম আবার আমার দিকে ফিরে আসতেছে ।
eee টা চুপ চাপ এসে আমার পাশে বসল তারপর বলল, আমি উঠে গেলাম তারপর ও তুমি কার জন্য বসে ছিলে ?
আমি কথা না বলে শুধু ইইই টার দিকে তাকায় থাকলাম , তখন eee টা আমার হাত ধরল আর আমি eee টার কোলে মাথা রেখে ওর চোখের দিকে তাকালাম । দেখলাম যে ওর চোখ টা পানি তে ভরে গেছে , তাই আমি আর কোন কথা না বলে শুধু ওর চোখের দিকেই তাকায় থকলাম ।
একটু পরে eee টা বলল খুব ভালোবাসা পেতে ইচ্ছা করে তাই না ?
আমি আমার চোখ দুটো বন্ধ করে আমার দুই হাত দিয়ে ওর হাতটা আমার বুকের উপর রেখে বললাম খুব না একটু ভালোবাসা পেলেই অনেক খুশি ।
কয়েক ফোঁটা পানি এসে আমার মুখে পড়ল , চোখ বন্ধ করেই বুঝলাম আমার eee টা কাদতেছে ।
ওই দিন ফিরে আসার আগে eee আমার কথা মত আমার সব থেকে পছন্দের একটা গান শোনাল ।
কোন গান টা জানো ?
যে টুকু সময় তুমি থাকো পাশে , মনে হয় এ দেহে প্রাণ আছে … এই গান টা ।

আমার আর ওর ভালোবাসার মধ্যে এমনি কোন সমস্যা ছিল না , সমস্যা একটাই তা হল ওর বাপ মা । সব মেয়ের বাপ মাই ভাবে তাদের মেয়ের সাথে যে ছেলেটা প্রেম করে সেই দুনিয়ের সব চেয়ে নিকৃষ্ট ছেলে তার থেকে খারাপ মানুষ আর দুনিয়াতে নেই । বাপ মা শুধু ছেলের টাকা পয়সা আর স্ট্যাটাস দেখতে চায় ।

আর আমি যে খুব খারাপ ছেলে টা কিন্তু না । আগে যে টুকু বা খারাপ ছিলাম eee টা আমাকে মার টার দিয়ে ভালো করে ফেলছিল । ভালো কথা মনে আসলো আমার eee যে আমাকে মাঝে মাঝে মারত সে কথা তো বলাই হয় নি । কিন্তু আমার মার খেতে খুব ভালো লাগত কেন ভালো লাগতো তা পরে বলছি আগে একটা ঘটনা শোন ।

একদিন আমি আর আমার eee বসে ফুস্কা খাচ্ছি তখন ২-৩ টা ছেলে ওই ফুস্কার দোকানে ঢুকল , ঢোকার সময় একটা ছেলে আমার eee এর পা তে একটা ধাক্কা দিল । এমনি এমনি ধাক্কা লাগেনি ছেলেটা ইচ্ছা করেই ধাক্কা দেছে আর একবার সরি ও বলে নি । তুমিই বল তাইলে মেজাজ টা কেমন খারাপ হয় । তাও আমি চুপ করে ছিলাম । কিন্তু ওই ছেলেটা আবার কি করল জানো ? আমার eee টার দিকে তাকায়ে খারাপ খারাপ হিন্দি গান গাওয়া শুরু করল । এইবার আর আমি চুপ থাকতে পারলাম না । আর আমি ভালো হয়ে গেছিলাম ঠিকই কিন্তু পুরোপুরি তো আর ভালো হয়নি । তাই এইবার আর কথা না বাড়ায়ে সজাসুজি যায়ে ছেলেটার গলা ধরে নাকে মুখে ঘুসি দেওয়া শুরু করলাম । ওর সাথে আর যে দুই জন ছিল তারা আমাকে মারা তো দুরের কথা আমাকে ঠ্যাকায় ই কুল পাচ্ছিল না । তারপর আমার eee আমাকে হাত ধরে টানতে টানতে দূরে নিয়ে গেল । তারপর আমার দুই গালে ঠাশ ঠাশ করে হাফ ডজন চড় মারল , আস্তে মারলে এক কথা ছিল কিন্তু ও ভালো জোরেই চড় গুলো মারছিল অবশ্য eee লোকজন দেখে ফাঁকা জায়গায় নিয়েই চড় মারছিল তাই ব্যথা পেলেও লজ্জা তেমনটা পাই নি ।

কিন্তু এবার পড়লাম আরেক বিপদে মার টার দেয়ার পর eee নিজেই কান্না শুরু করল । আমি ভাবছিলাম মনে হয় কয়েক সেকেন্ড কাঁদে চুপ করে যাবে কিন্তু সেই রকম কিছুই হল না তাই আমি ওর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বললাম , মারামারি করলাম ও আমি মার খালাম ও আমি কিন্তু তুমি শুধু শুধু কাদতেছ কেন । তখন eee টা কোন কথা না বলে আমার বুকের উপর ঝাপিয়ে পড়ল আর আমাকে জড়ায় ধরে আমার বুকের ভিতর মাথা গুজে ফায়ার ব্রিগেডের পাম্প এর মত চোখ দিয়ে পানি ঝরাতে লাগল । আমি আর কি করব যাকে এত ভালোবাসি তাকে তো আর কাঁদতে দেওয়া যায় না তাই আমি ও আমার eee কে জড়ায় ধরলাম আর কপালে দুটো চুম দিয়ে বললাম , এইবার এর মত কান্না থামাও সত্যি বলতেছি আর কোন দিন মারামারি করব না ।

এইবার eee আমাকে আরও জোরে জড়ায় ধরল আর কাঁদতে কাঁদতে বলল , আমি আর কোন দিন তোমাকে মারব না কোন দিন ও না ।
আমি তখন একটা হাঁসি দিয়ে বললাম , সে না হয় বুঝলাম কিন্তু ওই ছেলে গুলোর জন্য তুমি আমাকে এত জোরে মারলে কেন , একটু আস্তে তো মারতে পারতে ।
তখন eee টা ও হেসে দিল আর চোখে পানি নিয়ে হাঁসি মুখে আমার দিকে তাকায়ে থাকল , তারপর আমার দুই গালে হাফ ডজন চুম দিল । এরপর আমি আস্তে আস্তে বললাম তাহলে আরও ৬ টা চড় দেও , এই কথা বলে দুই জন ই খুব হাঁসতে লাগলাম ।
এখন বুঝলে তো কেন মার খেতে ভাল লাগত !

কিন্তু সত্যি সত্যি ওই দিনের পর eee আমাকে আর মারেনি, মারবে কিভাবে ? তারপর তো eee টার বিয়েই হয়ে গেল !!!!!!

আমি যে চুপ চাপ বসে ছিলাম টা কিন্তু না , eee কে অনেক বার বুঝলাম যে আমি ওকে প্রচণ্ড ভালোবাসি । কিন্তু eee প্রতিবার আমাকে বলল ওকে ভুলে যেতে , ওর বাবা মার ইচ্ছার বাইরে ও কিছু করতে পারবে না ।
তারপর আমি ওর বাবা মার কাছে ও গেলাম , তাদের কে ও বুঝালাম যে ওই মেয়েটাকে আমি নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি , আর আমি তো লেখাপড়া করতেইছি ৩-৪ বছরের ভিতর ই ভালো ভাবে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবো , শুধু শুধু এই কয়টা বছরের জন্য আমার এত দিনের ভালোবাসা টাকে মেরে ফেলেন না । কিন্তু কেউ আমার কথা শুনল না । পরে যখন আমি একটু খারাপ ভাবে বললাম তখন আমার eee ঘর থেকে বেরিয়ে আসল ।

না , আমার জন্য না ওর বাবা মার জন্য কথা বলতে আসল ।

কি কি বলল জানো ? বলল

আমি নাকি একটা অমানুষ !!!
আমার মত অমানুষ কে নাকি সে কোন দিন ও বিয়ে করতে পারবে না ।আরও বলল আমি যদি আর কোন দিন ওর সামনে আসি তাহলে তাহলে ও অনেক কষ্ট পাবে ।
তাই আমি আর কোন কিছু করলাম না শুধু বললাম যে , তোমাকে ভালবেসেছি আমি , তোমাকে হারালাম ও আমি আর কষ্ট গুলো ও আমিই পাবো, আমার কষ্টের একটি ফোঁটা ও তোমাকে নিতে হবে না , আর তা নেয়ার ক্ষমতা ও তোমার নেই ।

এরপর অনেক দিন কেটে গেছে , আমি ও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গেছি কিন্তু হারানো ভালোবাসা আর খুজে পাই নি ।

একদিন হাসপাতালে গেছি নিজেরি একটা কাজে ,তখন দেখলাম আমার হারানো ভালোবাসাটা দাঁড়িয়ে আছে ; সাথে ওর বাবা মা ও আছে আর সবাই ই খুব কান্না কাটি করতেছে । আমি আমার পরিচিত এক ডাক্তারের কাছে শুনলাম eee টার বর নাকি অ্যাকসিডেন্ট করছে , তাই রক্ত লাগবে কিন্তু নেগেটিভ রক্ত কোথায় পাওয়া যাচ্ছে না । আমি রক্তের গ্রুপ শুনলাম আর তা ভাগ্যক্রমে আমার রক্তের সাথে মিলে গেল। তাই ডাক্তার কে বললাম আমার রক্ত নিতে আর এই কথাটা সবার কাছে গোপন রাখতে । আমি ২ ব্যাগ রক্ত দিলাম , রক্ত দেয়া হয়ে গেলে ডাক্তার আমাকে ধন্নবাদ দিয়ে বলল আপনার জন্য আজ কে একটা মানুষের জীবন বাচল । ডাক্তার বলল যদি উনারা কে রক্ত দিল তা জানতে চায় তাহলে কি বলব ?
আমি বললাম , বলবেন যে একটা অমানুষ রক্ত দিয়ে গেছে , এতেই তারা বুঝবে ……

কিছু কথাঃ

আমার এই গল্পের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই ।

মাঝে মাঝে একটু লেখা লেখি করি কিন্তু পড়াশুনার চাপে তাও ইচ্ছা মত সম্ভব হয় না । এই ঘটনা আমার কিছু দিন আগে মনে আসছে কিন্তু পরীক্ষার জন্য লেখার সময় হচ্ছিল না । হরতালের কারনেই পরীক্ষা পিছায়ে গেল তাই আজকে গল্পটা লেখতে পারলাম। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন ভালো একটা রেজাল্ট করে ভালো জায়গা ভর্তি হতে পারি ।

আর কাউকে উৎসর্গ করার মত লেখা আমি এখন ও লেখতে পারি নি তবুও এই গল্পটা দুই জনকে উৎসর্গ করতে ইচ্ছা হল । এক জনকে আমি নিজে নিজেই আগে বলে দিছি নাম না বললেও সে এমনিতেই বুঝবে আর অন্য জন হলেন ,

দাইফ ভাই

আজ পর্যন্ত যত গুলো লেখা লেখছি , ভালো হোক খারাপ হোক সব সময় এই মানুষটা আমাকে অনুপ্রানিত করছে যা অন্য কেউ করে নি । আপনার প্রতি আমার স্রধা আর স্মমান লেখায় প্রকাশ করার মত ক্ষমতা এখন ও আমার হয় নি ।

লিখেছেন- পাগল ছেলে