আঁধারে প্রণয়কাব্য পর্ব-১০

0
127

#আঁধারে_প্রণয়কাব্য
#পর্ব____১০
#নিশাত_জাহান_নিশি

“আমি কিছু করিনি ফায়েয। আমি সত্যিই জানিনা শ্রেতা কোথায়!”

সানামের কথায় ঘোর আপত্তি জানালেন শ্রেতার মা অয়ন্তী পাল! পাশ থেকে তিনি সানামকে দোষারোপ করে আর্তনাদ ভরা গলায় বললেন,

“তুমি মিথ্যে বলছ সানাম। তুমি সব জানো। আমার মেয়ে সবসময় তোমার কথা বলত, ওঠতে বসতে তোমার গুনগান করত। তোমাকে নিজের বোনের মতো করে দেখত। তুমি নিশ্চয়ই জানো আমার মেয়ে কোথায়।”

সানাম অধৈর্য হয়ে গেল। বিধ্বস্ত গলায় বলল,

“শ্রেতার সাথে আমার বোনের মতো সম্পর্ক ছিল তা আমি অস্বীকার করছিনা আন্টি। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি সত্যিই জানিনা শ্রেতা কোথায়। শ্রেতা আমাকে বলে যায়নি কোথায় গেছে।”

পুলিশ অফিসার এবার উত্তেজিত হয়ে গেলেন। অয়ন্তী পালকে উদ্দেশ্য করে তিনি বেশ শক্তপোক্ত গলায় বললেন,

“আহা মিসেস অয়ন্তী পাল প্লিজ আপনি শান্ত হোন। আমাকে আমার মতো করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দিন। আপনি বসুন।”

পুলিশ অফিসার কাঠখোট্টা দৃষ্টিতে ভীতসন্ত্রস্ত সানামের দিকে তাকালেন। ইশারায় সানামকে বসতে বললেন। সানাম বসল। প্যানিক হতে শুরু করল তার। সমস্ত শরীর অসাড় হয়ে যন্ত্রণায় মাথা ছিঁড়ে যেতে লাগল! ফায়েয দরজার বাইরে নিশ্চুপ ভঙিতে দাড়িয়ে বেশ মনোযোগের সাথে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করছিল এবং কি হচ্ছে এখানে তা শোনার চেষ্টা করছিল। যেহেতু ঘটনা সে পুরোপুরি জানেনা। তাই হুট করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়না। ফায়েযের নীরবতা দেখে সানাম হতাশ হলো। ফায়েযের থেকে এমন নিষ্ক্রিয় প্রতিক্রিয়া আশা করেনি সে। নিরাশ ও ভীতিকর দৃষ্টিতে সানাম ফায়েযের নিবিড় দৃষ্টিতে দৃষ্টি ফেলতেই ফায়েয ইশারায় বুঝালো শান্ত হতে! সব প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিতে। ফায়েয আছে তার পাশে।

সানাম স্বস্তি পেল। অন্তত কেউ একজন তো তার পক্ষে আছে। ফায়েযের ইশারার বিপরীতে মাথা দুলালো সানাম। চেয়ার টেনে অফিসার সানামের দিকে আরও একটু এগিয়ে বসলেন। মুখভঙিতে ক্রমাগত কঠোর ভাব ফুটিয়ে তুলতে লাগলেন। প্রশ্ন ছুড়লেন,

“লাস্ট কবে শ্রেতার সাথে আপনার দেখা হয়েছিল? সত্যিটা বলবেন ওকে? মিথ্যে বলে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে এর ফল কিন্তু ভালো হবেনা।”

“লাস্ট তিনদিন আগে। আমরা দুজন একসাথে অফিস থেকে হলে ফিরেছিলাম। এরপর যে যার রুমে ছিলাম। পরদিন সকাল থেকে তার রুমের দরোজা বন্ধ ছিল। এরপর থেকে তার সাথে আর দেখা হয়নি, যোগাযোগও হয়নি।”

“সেদিনের পর থেকে আপনি তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি?”

“করেছিলাম। অনেকবারই করেছিলাম। বাট তার ফোন সুইচ অফ আসছিল। ননস্টপ সুইচ অফ আসছিল।”

“গত তিনদিন ধরে আপনার কলিগ, আপনার ফ্রেন্ড, আপনার পাশের রুমের মেয়েটি নিঁখোজ অথচ আপনি একবারও তার ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেননা? বিষয়টা কেমন সন্দেহজনক না?”

“কারণ আমি ভেবেছিলাম শ্রেতা তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে গিয়েছে! তাই তার ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজন বোধ করিনি।”

শ্রেতার মা হতভম্ব হয়ে গেলেন। কান্না ভুলে তিনি মুখে হাত চেপে অস্ফুটে গলায় প্রশ্ন ছুড়লেন,

“কি? বয়ফ্রেন্ড? কে শ্রেতার বয়ফ্রেন্ড?”

পুলিশ অফিসার ফট করে বসা থেকে ওঠে গেলেন। মহিলা কনস্টেবলকে উদ্দেশ্য করে তিনি তৎপর গলায় বললেন,

“মেয়েটিকে গাড়িতে তোলো! কেস জটিল মনে হচ্ছে।”

সানাম ফুঁপিয়ে কেঁদে দিলো! সন্দেহের বশে তাকে শেষমেশ কিনা অ্যারেস্ট হতে হবে? কে তাকে উদ্ধার করবে এই ঝঞ্জাট থেকে? কারো তোয়াক্কা না করে ফায়েয এবার হুড়মুড়িয়ে রুমের ভেতর ঢুকে গেল! অফিসারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সে নির্ভীক গলায় বলল,

“স্যার আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
“কি কথা? আর আপনি কে? মেয়েটির কি হন?”
“একটু সাইডে আসবেন?”

ফায়েযকে অনুসরণ করে অফিসার রুম থেকে বের হয়ে ভীড় মাড়িয়ে নিরিবিলি জায়গায় গেলেন। অফিসার বেশ ভাবসাব নিয়ে লাঠি ঘুরিয়ে ফায়েযের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। ফায়েয বেশ ভালো করেই জানে অফিসারকে কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে। ভনিতা ব্যতিরেকে ফায়েয সোজাসাপটা গলায় বলল,

“মেয়েটি আমার রিলেটিভ হয়। তাকে এই কেস থেকে দূরে রাখতে কত টাকার প্রয়োজন বলুন?”

অফিসার লাঠি ঘুরালেন। বাঁকা হেসে বললেন,

“টাকার খুব গরম?”
“উঁহু। মেয়েটির সম্মান, সুস্থতা ও তাকে নিরাপদে রাখাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
“মেয়েটি যদি দোষী হয় তখন?”
“এটা বয়ফ্রেন্ডজড়িত কেস স্যার। আম পাবলিক হয়ে যদি আমি এটা গেস করতে পারি তবে আপনি তো জাত পুলিশ অফিসার। চুটকিতে এসব কেস সলভ করা আপনার কাজ। মেয়েটিকে ছেড়ে দিন। আপনার অ্যাকাউন্টে আমি এখনি টাকা ট্রান্সফার করে দিচ্ছি।”

আজ বড়ো দান মারবে বলে সেই খুশিতে পুলিশ অফিসার আটখানা! ত্রিশ হাজার টাকা চার্জ করলেন তিনি। ফায়েয প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটি নিয়ে অফিসারের নাম্বারে মুহূর্তেই টাকা ট্রান্সফার করে দিলো। অফিসারের ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি। ফায়েয চাপা হাসল। ফোনটি প্যান্টের পকেটে রেখে শার্টের হাতা গুটিয়ে হেয়ালি স্বরে বলল,

“কোনো ব্যাপার নয়। কিছুদিন পর এই টাকা আমার অ্যাকাউন্টেই ফিরে আসবে!”

ঘোষ পেয়ে অফিসার সানামের কাছ থেকে শ্রেতার বয়ফ্রেন্ড তাওহীদের ফোন নাম্বার নিয়ে হলের সবাইকে যে যার রুমে পাঠিয়ে দিয়ে বিদেয় হলেন হল থেকে। কোনো টু শব্দটি করলেন না। শ্রেতার মা পাগলের মতো ছুটতে লাগলেন অফিসারের পেছনে। মেয়ের খোঁজ না পাওয়া অবধি তিনি শান্ত হবেননা। বাপ মরা মেয়ে শ্রেতা। মা-ই তার একমাত্র সম্বল। তাই তো মায়ের এতো জ্বালা।

পরিস্থিতি আয়ত্তে এনে সানামের রুমে প্রবেশ করল ফায়েয। ভাবশূণ্য ভঙ্গি তার। কিছু হয়নি এমন। সানাম তেড়ে এলো। উৎকন্ঠিত গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

“অফিসারকে কি বলেছেন আপনি?”
“প্যানিক কমেছে আপনার? সুস্থ বোধ করছেন?”
“অফিসারের সাথে কি কথা হয়েছে বলুন না?”
“এতো ভীতু কেন আপনি?”
“অফিসার আমাকে না নিয়ে চলে গেলেন কেন?”
“ওহ্ আচ্ছা। গারদে যাওয়ার খুব শখ?”
“বার বার প্রসঙ্গ পাল্টাচ্ছেন কেন?”
“ঐ প্রসঙ্গে কথা বলার মুড নেই তাই।”

সানাম বিরক্ত হয়ে বিছানার ওপর ধপ করে বসল। ফায়েয গলা ঝাড়ল। সানামের দিকে এগিয়ে এসে জ্ঞান ঝেরে বলল,

“রাগ করে লাভ নেই। এখনও সময় আছে বাড়ি ফিরে যান। পৃথিবীটা এতো সহজ নয়। যতোটা আপনি ভাবেন৷ ব্যাচেলর মেয়েদের এরচেয়েও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ফেস করতে হয়। আপনার মতো ভীতু মেয়েরা এসব পরিস্থিতি ফেস করতে পারেনা।”

দীর্ঘ একঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ইতোমধ্যেই সানামের মা-বাবা এবং বোন পেরেশান হয়ে সানামের রুমে এসে হাজির হলেেন! দীর্ঘ দু’বছর পর মেয়েকে দেখে আফিয়া শিকদার ও নাজিম শিকদার কাঁদতে বাধ্য হলেন। ফায়েযকে দরজার একপাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখে সিফরা কান্না মুখেও অবাক দৃষ্টি স্থির রাখল। কদাচিৎ হেসে ফায়েয চোখ টিপে দিলো! সিফরা ফিক করে হেসে বলল,

“তাহলে এই ব্যাপার?”

ফায়েয অবুঝ বাচ্চাদের ন্যায় মাথা দুলালো! নাজিম শিকদার সানামকে বুকে চেপে ধরলেন। দাম্ভিকতা ভেঙে গেল তাঁর! অশ্রুবিজরিত গলায় প্রশ্ন ছুড়লেন,

“কেমন আছিস মা? এখান থেকে ফোন এসেছিল তোর নাকি বিপদ হয়েছে? পুলিশে ধরে নিয়ে যাচ্ছে?”

সানামও তার অভিমান চেপে রাখতে পারলনা। নাজিম শিকদারকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেকেটে বলল,

“হ্যাঁ বাবা। মিস্টার ফায়েয এসে আমাকে হেল্প করেছেন।”

আফিয়া শিকদার এদিকে একমরা কান্না কেঁদে ফেলেছেন! ফোলা চোখে তিনি ও নাজিম শিকদার পেছন ফিরে তাকাতেই দেখলেন ফায়েয নির্লিপ্ত ভঙিতে দাড়িয়ে। অবাক হলেন তারা। দুজনের চক্ষুই চড়কগাছ। সমস্বরে বলে ওঠলেন,

“তুমি?”

ফায়েয আলতো হেসে বেশ ভদ্র ও শান্ত গলায় বলল,

“জি আঙ্কেল আন্টি আমি। কেমন আছেন আপনারা?”

সানাম তার বাবাকে ছেড়ে দাড়ালো। আফিয়া শিকদার ও নাজিম শিকদার সানামের দিকে কৌতূললী ও সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাকালো। সানাম ব্যতিব্যাস্ত গলায় বলল,

“তোমরা যা ভাবছ তা নয়। আমরা ভালো বন্ধু! ব্যস এটুকুই।”

ফায়েয ফিচেল হাসল। মাথা চুলকে বিড়বিড় করে বলল,

“যাক। ভালো বন্ধু তো হতে পারলাম।”

সানামকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ফায়েয তার মা-বাবার সাথে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলো। ভাড়া করা ক্যাবে ওঠার আগে সানাম শেষবারের মতো ফায়েযের দিকে গম্ভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছিল। ভেবেছিল এখানেই বুঝি তাদের যোগাযোগ শেষ। স্পর্শের কেসটা নিয়ে বুঝি ফায়েয আর তাকে সাহায্য করবেনা! সানামের মনের ভাব ও চোখের চাহনী বুঝতে সময় ব্যয় করলনা ফায়েয। চোখের ইশারায় সে সানামকে আশ্বস্ত করল। আলতো হেসে সানামকে বিদায় দিলো। কেননা এই মুহূর্তে সানামের এখানে থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ তাই।

গাড়ি নিয়ে ফায়েয সোজা পুলিশ স্টেশন চলে গেল! সানামের পরিবর্তে সে এই কেসে যুক্ত থাকার চেষ্টা করল। খবরাখবর না রাখলে সানাম প্রবলেমে ফেঁসে যেতে পারে তাই। পুলিশের কাছ থেকে খবর নিয়ে ফায়েয জানতে পারল শ্রেতার বয়ফ্রেন্ড তাওহীদের ফোন নাম্বারটি এখন সচল নয়। ফোন নাম্বারটিকে ট্রেক করে জানতে পারল গত দুইদিন আগে মালিবাগের একটি রিসোর্টে ফোন নাম্বারটি সচল ছিল। আর শ্রেতার ফোন নাম্বারটি এখনও রিসোর্টেই শো করছে। তবে নাম্বারটি বন্ধ। শ্রেতার মায়ের আহাজারি, কান্নাকাটি ও অসহায়ত্ব দেখে ফায়েযের মনটা ভার হয়ে এলো। যতটুকু সম্ভব সে শ্রেতার মাকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করল।

_______________________

রাত একটায় বাড়ি ফিরল ফায়েয। ক্লান্ত শরীরে সে সিঁড়ি বেয়ে রাইয়ের রুমের পাশ দিয়ে তার রুমে প্রবেশ করতে গেলেই রাই ও সাদিদের বিকট গলার আওয়াজ পেল। দুজনের মধ্যেই তুখোর কথা কাটাকাটি হচ্ছে। এসবে বিরক্ত হয়ে গেল ফায়েয! শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে সে তার রুমে প্রবেশ করল। শার্টটি গাঁ থেকে খুলে বিছানায় ধপ করে শুলো। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সে বেশ ভেবেচিন্তে সানামের নাম্বারে কল করল। দ্বিতীয় কলটি বেজে ওঠতেই সানাম তোয়ালে দ্বারা মুখ মুছতে মুছতে বেশ ব্যাস্ত ভঙিতে কলটি তুলে বলল,

“হ্যালো।”
“বাড়ি পৌঁছে একটা কল দেয়ারও প্রয়োজন বোধ করেননি?”
“মাত্রই পৌঁছেছি। ফ্রেশ হয়েই আপনাকে কল দিতাম।”
“এনাফ। মিথ্যা শান্তনা দিতে হবেনা!”
“হুটহাট করে রেগে যাওয়া কি আপনার স্বভাব?”
“আপনার মতো টিউবলাইট কেউ জীবনে থাকলে এমন তো হবেই!”

সানাম প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে নিলো। কৌতূহলী গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

“শ্রেতার কোনো খবরাখবর পেয়েছে পুলিশ?”
“শ্রেতা তার বয়ফ্রেন্ডের সাথেই মালিবাগের কোনো রিসোর্টে আছে।”
“আমি জানতাম এমন কিছুই হবে। পুলিশ খামোখা আমাকে সন্দেহ করেছে। জানেন? কি পরিমাণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আমি?”
“জানিতো। খাওয়াদাওয়া করে এখন ঘুমান।”
“আপনি খেয়েছেন?”
“আজ খুব মন খুলে কথা বলছেন মনে হচ্ছে!”

কিছু একটা ভেবে ফায়েয পুনরায় বলল,

“ওহ্ হ্যাঁ এখন তো আমি আপনার ফ্রেন্ড!”
“কোনো একটা প্রশ্ন করলে তার সোজাসাপ্টা উত্তর দিতে জানেননা?”
“ত্যারা ত্যারা উত্তর ছাড়া আমি সোজা উত্তর দিতে পারিনা! বাই দ্য ওয়ে, ঘুমিয়ে পড়ুন। গুড নাইট।”

ফায়েয কলটি কেটে দিলো। ডেস্কের ড্রয়ার থেকে একটি সিগারেটের প্যাকেট হাতে নিয়ে উন্মুক্ত শরীরে সোজা ছাদে চলে গেল। বেশ তৃপ্তি নিয়ে ফায়েয সিগারেটটি টান দিয়ে ছাদে পা রাখতেই তাড়াহুড়ো করে মুখ থেকে সিগারেটটি ফেলে দিলো। নাকমুখ থেকে ধোঁয়া উড়িয়ে সাদিদ একের পর এক সিগারেটে টান দিচ্ছে। তাকে দেখতে ভীষণ চিন্তাগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। ফায়েয এগিয়ে গেল সাদিদের দিকে। ফায়েযকে দেখতে পেয়েও সাদিদ সিগারেটে ফুঁক দেয়া থামালো না। খরখরে গলায় সাদিদ প্রশ্ন ছুড়ল,

“এতো রাতে ছাদে কি করছিস?”
“সেইম প্রশ্ন তো আমারও?”
“খুব শেয়ানা হয়ে গেছিস তাইনা? পাল্টা প্রশ্ন ছুড়িস।”
“স্মোকিং কি নতুন ধরেছ?”
“হুম। আজ থেকেই!”
“রুমে যাও।”
“এখানেই শান্তি লাগছে!”

ফায়েয রুদ্ধশ্বাস ফেলল। সোজাসাপটা গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

“আপুকে ছেড়ে দিচ্ছনা কেন?”
“নিজের জন্য মায়া হয় তাই!”
“কেমন মায়া?”
“এইযে তাকে ছেড়ে দিলে আমার ভালো থাকা হবেনা!”
“এখনই বা কোথায় ভালো আছো?”
“যতই খারাপ থাকি, তার মুখটা তো দেখতে পাই।”
“কিছু বলার নেই আমার। যা ইচ্ছে তা করো।”

ফায়েয প্রস্থান নিলো। সাদিদের কোনো হেলদোল নেই। সিগারেট ফুঁকতে ব্যাস্ত সে। ভাতের মতো করে সিগারেট গিলছে সে। এতেই যেন শান্তি।

ফায়েয নির্বিকার ভঙিতে রুমে ফিরে এলো। পুনরায় বিছানায় চিৎ হয়ে শুলো। নির্নিমেষ দৃষ্টিতে জানালার পর্দা ভেদ করে আকাশের উজ্জ্বল চাঁদ দেখতে লাগল। চোখ দুটো শান্ত হয়ে এলো তার। এক পর্যায়ে ফোন ঘাঁটতে গিয়ে দেখল অনামিকার নাম্বার থেকে অনেকগুলো কল ও ম্যাসেজ জমে গেছে। শেষ ম্যাসেজটিতে লিখা ছিল—-

“কাল সকাল দশটায় ব্লু বেরি ক্যাফে তার সাথে দেখা করতে!”

#চলবে____?