আঁধারে প্রণয়কাব্য পর্ব-১৮

0
119

#আঁধারে_প্রণয়কাব্য
#পর্ব_____১৮
#নিশাত_জাহান_নিশি

“আরে কি বলো? এতো ফর্মালিটিস দেখাচ্ছ কেন?”

হাঁফ ছেড়ে যেন বাঁচল ফায়েয। স্বস্তির শ্বাস ফেলল। আলতো হেসে বলল,

“এটাকে ফর্মালিটিস বলেনা ভাইয়া এটাকে রেসপেক্ট করা বলে। আমার এক কথায় আপনি অফিসের সকল কাজ ফেলে রেখে চলে এসেছেন এরচেয়ে থ্যাংকফুল জিনিস আর কি হতে পারে?”

“বিষয়টা এমন নয় ফায়েয। বরং আমিই গত দুইদিন যাবত সুযোগ খুঁজছিলাম তোমার সাথে দেখা করার জন্য। সাদিদের ঘটনাটা এলাকার প্রত্যেকটি মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে! সকলে আতঙ্কগ্রস্ত। পরকীয়ার ফলাফলও যে এমন ভয়াবহ হতে পারে তার নজির রেগে গেল সাদিদ। ট্রাস্ট মি আমি কখনও দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি সাদিদ এমন একটা ভয়ঙ্কর স্টেপ নিতে পারে। ছোটোবেলা থেকে তার সাথে আমার পরিচয়। তার মত নম্র, ভদ্র, শান্ত ও নরম মনের ছেলে এলাকায় আর দুটো ছিল বা আছে কিনা সন্দেহ। শেষ বেলায় এসে ছেলেটা আমাদের হতাশ করে গেল।”

ফায়েযের মুখশ্রী শুকিয়ে এলো। বিষন্নতা তাকে গ্রাস করতে লাগল। হাইপার হয়ে ওঠল। শার্টের প্রথম দুটো বোতম খুলে দিলো। সাদিদের প্রসঙ্গ ওঠলেই তার কেমন অস্থির অস্থির লাগে। আপন বোনের চেয়ে বেশি সাদিদের জন্য হৃদয় পুঁড়ে। সাদিদের সাথে কাটানো সময় ও খুঁনসুটি ভরা মুহূর্তগুলো বারে বারে মনে পড়ে যায়। প্রত্যয় এর আঁচ পেল। পাশ থেকে খোঁচা দিলো নাবিলকে। ইশারায় বলল এই টপিকে আর কথা না বাড়াতে। নাবিল সতর্ক হলো। ফায়েযের হাত ধরল। প্রসঙ্গ পাল্টে মৃদু হেসে বলল,

“শুনলাম তুমি নাকি নতুন অফিস খুলছ? কংগ্রাচুলেশনস ফায়েয।”

ফায়েয জোরপূর্বক হাসল। বলল,

“থ্যাংকস ভাইয়া। এবার তবে কাজের কথা বলি?”
“হ্যা বলো?”

ভনিতা ভুলে ফায়েয বলল,

“একসময় তো সাদিদ ভাইয়া আপনার সবচেয়ে ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল?”

“হ্যা ছিল। এখনও আছে। বাট কেউ কাউকে প্রকাশ করিনি!”

“আপনাদের মধ্যে মায়া আপুকে নিয়ে ভেজাল ছিল আমি জানতাম! এটা কি সত্যি?”

“হ্যা! ভার্সিটি লাইফ থেকেই আমি মায়াকে ভীষণ রকম পছন্দ করতাম। এই খবরটা সাদিদ বেশ ভালোভাবেই জানত। জানার পরেও সাদিদ মায়ার সাথে মিশত! মায়া যে সাদিদকে পছন্দ করত তা জানার পরেও সাদিদ মিশত। কারণ, মায়া চাইতনা সাদিদ তার থেকে দূরে থাক। সাদিদও প্রশ্রয় দিত। আর এই বিষয়টাই আমার পছন্দ হতোনা। মূলত এই কারণেই সাদিদের সাথে আমার মনোমালিন্য সৃষ্টি হত। একসময় একে অপরের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিই।”

উদ্বিগ্ন কণ্ঠে ফায়েয শুধাল,

“আপনি জানেন সাদিদ ভাইয়ার শেষ ইচ্ছে কি ছিল?”

নাবিল তৎপর গলায় শুধাল,

“কি?”
“মায়া আপুর সাথে আপনার বিয়ে!”
“হোয়াট? এটা সত্যি?”
“মিথ্যা হলে অন্য কাউকে খুঁজতাম। আপনাকেই কেন?”

নাবিল দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে গেল। অস্থির গলায় শুধাল,

“মায়া কি রাজি হবে?”
“রাজি করানোর দায়িত্ব কার? নিশ্চয়ই আপনার।”
“বাট এই কাজ আমার দ্বারা সম্ভব নয়!”

বসা থেকে দাড়িয়ে গেল নাবিল। হতাশ ফায়েযকে বলল,

“জোর করে কারো মন দখল করা যায়না ফায়েয। মায়া এখনও সাদিদের দহনের পুড়ে আমি জানি! প্রয়োজনে আমি সারাজীবন নিঃসঙ্গ থাকব তবুও আমার সাথে কাউকে থাকার জন্য জোর করতে পারবনা! এটাও সস্তা আমি নই।”

ফায়েযও বসা থেকে ওঠে দাড়ালো। নাবিলকে বাজিয়ে দেখতে চাইল। তার একটি মিথ্যের জন্য যদি দুটো ভাঙা মনের মিলন হয় এতে ক্ষতি কি? ঠান্ডা মাথায় ফায়েয শান্ত সুরে নাবিলকে বলল,

“ভালোবাসায় অহেতুক রাগ, অভিমান কিংবা অহংকার থাকতে নেই ভাইয়া। একটু নরম হয়ে দেখুন আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনার কাছে ধরা দিতে বাধ্য। আপনি যদি মায়া আপুকে মন থেকে ভালোবেসে থাকেন তবে মায়া আপুর পরিস্থিতি ও মনের অবস্থা বুঝবেন। তার কাছে যাবেন, তার কষ্টগুলো শুনবেন। তাকে ফিল করাবেন আপনার কাছে সে স্পেশাল। আপনি তাকে যথেষ্ট শুনেন এবং বুঝেন। ব্যস, মেয়েরা এতেই কপোকাত।”

নাবিল নিশ্চুপ। তবে ফায়েযের কথাগুলো সে নিঁখুতভাবে ভাবল। আপাতত বিষয়টি এড়িয়ে গেল। ফায়েযের অর্ডার করা কফিটুকু খেয়ে তার অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল।

পাশ থেকে প্রত্যয় চোয়াল শক্ত করল। ফায়েযের দিকে ঘুরে বসল। তিরিক্ষিপূর্ণ গলায় শুধাল,

“আমারে মফিজ পাইছিস তুই?”
“তুই শুধু মফিজ না। আবুল, কুদ্দুস, বলদ, ছ্যাবলা আর কিছু শুনবি?”

প্রত্যয় গম্ভীর হলো। ক্ষীণ সুরে বলল,

“মাইয়া দেখানোর নাম কইয়া তুই আমারে এমনে ছক্কাটা মারলি? এবার শেভের টাকা দে তুই! মেয়ে দেখতে আসার চক্করে পড়ে আমার জেব থেকে কত টাকা খসেছে জানিস তুই?”

“কফির বিল দিয়ে আয়!”

ফায়েয গাঁ ছাড়া ভাব নিলো। প্যান্টের পকেটে হাত গুজে ধীরে সুস্থে হেঁটে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেল! প্রত্যয় পুনরায় ফেঁসে গেল। ফায়েযের পিছু ডেকে অসহায় কণ্ঠে বলল,

“আমার ভুল হইছে বাপ! শেভের টাকা দিতে হবেনা প্লিজ কফির বিলটা দিয়ে যা।”

ফায়েয ততক্ষণে গাড়ি নিয়ে ফেরার। বিল হাতে নিয়ে ওয়েটার দাড়িয়ে। প্রত্যয় জোরপূর্বক হাসল। পকেটে থেকে ওয়ালেট বের করতে করতে আবদার সূচক গলায় বলল,

“দশ বিশ টাকা কমিয়ে রাখা যায়না?”
“চাইলে পুরো টাকাই কমিয়ে রাখা যায় স্যার।”
“সত্যি? কিভাবে?”
“থালা বাসন মাজতে পারেন?”

হাসোজ্জল মুখটি মুহূর্তেই চুপসে গেল প্রত্যয়ের। ওয়েটারের কাছ থেকে এই সেভেজ রিপ্লাই আশা করেনি সে। গোমড়া মুখে প্রত্যয় ওয়েটারকে বিল ধরিয়ে বলল,

“এই নিন।”

______________________

বিমর্ষ মনোভাব নিয়ে সানাম সবে শ্রেতাদের বাড়ি থেকে বের হলো। রাস্তায় দৃষ্টি ফেলতেই আচম্বিত হলো। গাড়িতে হেলান দিয়ে ফায়েয দাড়িয়ে। বুকে হাত গুজে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায়। সানাম কে দেখে ফায়েয অধর বাঁকিয়ে হাসল। চোখ থেকে কালো চশমা খুলল। সানাম তেড়ে এলো ফায়েযের নিকট। নাক ফুলিয়ে প্রশ্ন ছুড়ল,

“আপনি এখানে?”
“কেন আশা করেননি?”
“এখানে আসব আমিতো আপনাকে বলে আসিনি কিছু।”
“বলতে হবে কেন? আমি কি আপনার মন বুঝিনা?”

দাঁত কিড়মিড় করে সানাম বলল,

“ওহ্ রিয়েলি? তো বলুন তো এখন আমার মন কি চাইছে?”
“এখানে বলব?”
“তো কোথায় বলবেন?”
“গাড়িতে ওঠুন বলছি। প্র্যাক্টিক্যালি দেখাতেও পারি!”

সানাম ভ্রুদ্বয় কুঁচকালো। উৎসুক হয়ে গাড়িতে ওঠে বসল। ফায়েয ক্রুর হাসল। ড্রাইভিং সিটে বসল। সানামের দিকে প্রেমময় দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। সানাম কিছু বুঝে ওঠার পূর্বেই ফায়েয আচমকা সানামের গালে চুমু খেতে এগিয়ে আসতেই সানাম ফায়েযের মুখ চেপে ধরল। আশঙ্কিত গলায় বলল,

“এই কি করছেন আপনি?”
“কেন? আপনার সম্মতিতেই তো করছিলাম!”
“আমার সম্মতি মানে?”
“বললেন না আপনার মন কি চাইছে দেখাতে?”

সানাম তেতে ওঠল। রসিয়ে হেসে ওঠা ফায়েযের শার্টের কলার চেপে ধরল! চোখ রাঙিয়ে বলল,

“একদম শেয়ানাগিরি করবেনা আমার সাথে।”
“করলে? কি করবেন? চুমু খেলে আর শেয়ানাগিরি করবনা প্রমিস!”

ডানপিটে গলায় সোজাসাপটা জবাব ফায়েযের। চট করে সানাম ফায়েযের শার্টের কলার ছেড়ে সোজা হয়ে বসল। পুরো দমে নিশ্চুপ হয়ে গেল সে। ফায়েয নত হয়ে এলো। আজ হয়ত একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলল সে। মাসুম বাচ্চাদের মুখ বানালো ফায়েয। কান ধরে সানামকে উদ্দেশ্য করে নিচু স্বরে বলল,

“সরি। আর হবেনা এমন। প্লিজ হাসুন, কথা বলুন।”

ফায়েযের দিকে নিশ্চল দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সানাম। ফায়েযের কাতর ও আলাভোলা রূপ দেখে হাসি দমিয়ে রাখতে পারলনা সে! হু হা করে হেসে দিলো। ফায়েযের মন জুড়িয়ে গেল। হালকা হাসল সে। আচ্ছন্ন সুরে বলল,

“এভাবেই হাসবেন। হাসতেই থাকবেন। হাসি কখনও থামাবেন না। মেয়েদের হাসি চাঁদ দেখার চেয়েও সুন্দর। আমার মা হাসলে যেমন মনে হয় চাঁদ হাসে। আপনাকেও দেখে হুবহু মনে হলো চাঁদ হাসল!”

হাসি থামালো সানাম। অভিভূত হলো সে। তবে এই ভালো লাগার অনুভূতি আড়াল করল। লক্ষ্য করল ফায়েযের কানে এখনও হাত। সানাম সাহস করল। এই প্রথম ফায়েযকে স্পর্শ করার দাপট দেখাল। কান থেকে ফায়েযের হাতটি সরিয়ে দিলো। তড়াক করে অন্য পাশ ফিরে তাকালো। বলল,

“বাড়ি যাব। বাড়ি পৌঁছে দিন।”

__________________________

“আপু? তুমি কি আমাকে এখনও ক্ষমা করতে পারোনি?”

চোখে থইথই জল নিয়ে সিফরা নির্মম কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়ল সানামের দিকে। রাতের খাবার খেতে ব্যাস্ত সানাম। সিফরার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামালোনা সে। তরকারির বাটি নিয়ে আফিয়া শিকদার ডাইনিং টেবিলে এলেন। সানামের পাতে তরকারি তুলে দিয়ে বললেন,

“কি হয়েছে দু-বোনের মধ্যে? কথাবার্তা বলছিসনা। আলাদা রুমে থাকছিস কাহিনী কি?”

সিফরা সিদ্ধান্ত নিলো আজ তার মাকে তার অতীত সম্পর্কিত সকল কুকীর্তি খুলে বলবে। সিফরা চোখ তুলে তার মায়ের দিকে তাকালো। চরম আক্ষেপ ও নতজানু গলায় তার মাকে বলতে উদগ্রীব হলো,

“মা। আমি আপুর সাথে অন্যায় করেছি। আপুকে ঠকিয়ে..

মাঝ পথে সিফরাকে থামিয়ে দিলো সানাম। কথায় ফোড়ন কেটে গম্ভীর গলায় তার মাকে বলল,

“তেমন কিছু হয়নি মা। সামান্য ঠোকাঠুকি। এ আর নতুন কি? তোমার জন্য তো পুরোনো। তুমি যাও। আলুর দম একটু বাড়িয়ে নিয়ে এসো।”

আফিয়া শিকদার সন্দিহান হয়ে ওঠলেন। কপাল কুঁচকিয়ে সানামের দিকে প্রশ্ন ছুড়লেন,

“সত্যি করে বল তোদের মধ্যে কি হয়েছে? তুই সেদিন কেন সু’ইসা’ইড করতে চেয়েছিলিস?”

সানাম মাথা ঠান্ডা রাখল। শান্ত কণ্ঠে বলল,

“টেনশন থেকে সেদিন ঘুম আসছিলনা মা। তাই একটু নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জন্য ঘুমের ওভারডোজ নিয়েছিলাম। ভাবতে পারিনি এতটা রিয়েকশন হয়ে যাবে। আলুর দমটা এবার নিয়ে এসো মা।”

আফিয়া শিকদার ঝাড়ি মেরে বললেন,

“বোকা ভাবিসনা আমাকে। দু-বোন মিলে কি চাল চেলে বেড়াচ্ছিস আমি ঠিকই খুঁজে বের করব!”

আফিয়া শিকদার রান্নাঘরে চলে গেলেন। সিফরা এতক্ষণ নীরব দর্শকের ন্যায় সব দেখছিল। খাওয়া থামিয়ে সিফরার দিকে সানাম ঘৃণার দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। বেশ তটস্থ গলায় বলল,

“অনুরোধ করছি মা কিংবা বাবাকে এই ব্যাপারে কিছু বলিসনা। মরে যাবে তারা। যখন শুনবে ছোটো বোন হয়ে তুই বড়ো বোনের জীবন ধ্বংস করতে চেয়িছিলিস। ব্যাপারটা আমাদের দুজনের মধ্যেই থাক। জানিনা আমি কখনও তোকে ক্ষমা করতে পারব কিনা তবে তোকে আর আগের মতো ভালো ও বাসতে, আপন বোন ভাবা তো দূর!”

সানামের সোজাসাপটা ও বিদ্বেষিপূর্ণ বাচনভঙ্গি সইতে পারলনা সিফরা। কেঁদেকেটে সে জায়গা পরিত্যাগ করল। সানাম খাবার পাতে চোখের জল ফেলে দিলো! চাপা কান্নায় ভেঙে পরল। বলল,

“তোকে ক্ষমা করলে আমার নিজের সাথে নিজের অন্যায় করা হয়ে যাবে! অতীতে নিজের অজান্তেই অনেক অন্যায় করে এসেছি নিজের সাথে। তবে আর নয়। এবার আমার যা সঠিক মনে হবে আমি তাই করব। প্রয়োজনে তোকে অনুতাপের আগুনে পোঁড়াতেও আমি রাজি!”

_________________________

ফায়েয তার বেডরুমে নতুন একটি ফটো অ্যালবাম টাঙালো। মিনিট কয়েক সে ফটোটির দিকে নিমগ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। লাল পাড়ের একটি কাপড় পরিহিতা সানাম। চুলগুলো খোলা এবং ঠোঁটের কোণে আলতো হাসির রেখা ঝুলানো। কানের পেছনে গুজে রেখেছে একটি ফুটন্ত লাল গোলাপ। দু-দুটি স্নিগ্ধ ও জীবন্ত ফুল বিভোর দৃষ্টিতে একাই দেখে চলছে সে। পেছনে দাড়িয়ে দৃশ্যটি দেখছিল তৃধা। ফায়েযের দিকে রোষাগ্নি দৃষ্টি তার। এভাবে আর নিশ্চুপ ভাবে ক্ষোভ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলোনা তার পক্ষে। গটগট করে সে হেঁটে গেল ফায়েযের পিছু। প্রশ্ন ছুড়ল,

“মেয়েটি না তোমার বেস্টফ্রেন্ড? কে কার বেস্টফ্রেন্ডের ছবি এভাবে দেয়ালে ঝুলায়?”

নিমগ্নতা ভাঙল ফায়েযের। পিছু ঘুরে দাড়ালো সে। তৃধার প্রশ্নের জবাবে কড়া গলায় পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ল,

“তোকে জবাবদিহি দিতে আমি কি বাধ্য?”
“কেন বাধ্য নও? সোজাসাপটা উত্তর দিলেই তো সব মিটে যায়।”
“আমি মেয়েটিকে ভালোবাসি এটাই সহজ উত্তর।”

মনোক্ষুণ্ণ হলো তৃধার। জোরপূর্বক হাসল সে। বলল,

“ভালোই তো বাসো। বিয়ে তো আর করবেনা!”
“কারণ?”
“কারণ আমি এই বিয়ে হতেই দিবনা!”

ক্ষিপ্ত গলায় কথাটি বলে ওঠল তৃধা। ফায়েয ক্ষুব্ধ হয়ে তৃধার দিকে এগিয়ে এলো। ঠাস করে তৃধার গালে চড় বসাতে সে কার্পণ্যতা করলনা! বলল,

“চড়িয়ে একদম পাগলামি ছুটিয়ে দিব। আগেও বলেছি এখনও বলছি আমি তোকে জাস্ট নিজের কাজিন হিসেবে দেখি। এরচেয়ে বেশি কিছু নয়। নেক্সট টাইম এটা বুঝিয়ে বলার সময়টাও পাবিনা তুই। এর আগেই…

গালে হাত দিয়ে তৃধা কান্নাজড়িত চোখে আক্রোশিত গলায় বলল,

” কি করবে তুমি? মেরে ফেলবে?”
“প্রয়োজনে তাই করব। বের হ আমার রুম থেকে।”

তৃধাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে ফায়েয ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিলো। তৃধা রুমের বাইরে দাড়িয়ে দরজা ধাক্কিয়ে উঁচু আওয়াজে বলল,

“তোমাকে বিয়ে করার স্বপ্ন আমি সত্যি করেই ছাড়ব! তুমি জানোনা আমি তোমাকে পেতে কতটা এগ্রেসিভ!”

ফায়েয সিগারেট ধরালো। নাকমুখ থেকে ধোঁয়া বের করল। রাগ কমাতে সানামের নাম্বারে ডায়াল করল। সানাম কলটি তুলল। ভারী কণ্ঠে বলল,

“হ্যালো?”
“ঘুমাননি এখনও?”
“উঁহু। আপনি ঘুমাননি কেন?”
“ভিডিও কল করা যাবে?”

সানাম ইতস্তত বোধ করল! প্রত্যত্তুর করতে কিছুটা দেরি করে ফেলল। ফায়েয হাইপার হয়ে গেল। বলল,

“লাগবেনা!”

কল কেটে ফায়েয ফোনটি বন্ধ করে দিলো! সিগারেটটি শেষ করে উল্টে গেল বিছানায়। সানাম উতলা হয়ে ওঠল। নাকমুখ কুঁচকিয়ে অনবরত ফায়েযের নাম্বারে ডায়াল করতে লাগল। নাম্বারটি বন্ধ এলো। সানাম রি রি করে ওঠল। বলল,

“এই বেটার সমস্যা কি? সবসময় চ্যাতা থাকে, তেলে পানি পড়ার আগেই ছ্যাত করে ওঠে।”

____________________

“কে ওখানে?”

রুমের দরজার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে কথাটি বলল মায়া। নাবিল দরজার ওপাশ থেকে গলা ঝাকালো। জড় গলায় বলল,

“আমি নাবিল।”
“বন্ধু নাবিল?”
“হ্যা।”

মায়া ছুটে গেল দরজার সামনে। নাবিলকে দেখামাত্রই সে চোখের জল ছেড়ে দিলো। আচমকা জড়িয়ে ধরল নাবিলকে। ডুকরে কেঁদে বলল,

“সাদিদ আমাকে সারাজীবনের জন্য ছেড়ে চলে গেল নাবিল। এই দুঃখ যে আমি সইতে পারছিনা।”

নির্বিকার নাবিল। বুঝে ওঠতে পারছিলনা মায়াকে তার জড়িয়ে ধরা উচিত হবে কিনা! ঠায় দাড়িয়ে বলল সে। শক্ত গলায় বলল,

“অন্যের স্বামীর জন্য আর কত কাঁদবি মায়া? তোর একতরফা প্রেমিক কিন্তু তোকে নয় বরং অন্য নারীকে বিয়ে করেছিল। নিজেকে এতটা বিলিয়ে দিসনা ভুল মানুষের কাছে!”

#চলবে_____?