আঁধারে প্রণয়কাব্য পর্ব-০৪

0
104

#আঁধারে_প্রণয়কাব্য
#পর্ব_____৪
#নিশাত_জাহান_নিশি

“বিয়ের দিন ছেলেটি হঠাৎ জানতে পারল তার হবু বউ পালিয়েছে! এই পরিস্থিতিতে না পরলে কখনও জানতেই পারতাম না পুরুষ মানুষরাও অসহায় হয়। পৃথিবীতে লয়্যাল মানুষরা কতটা নির্মমভাবে ঠকে যায়!”

উর্ধ্বগতিতে গাড়ি ছেড়ে দিলো ফায়েয। হিংস্র বাঘ যেমন তার শিকারকে একটু ভুলের কারণে শিকার করতে না পেরে ক্ষুধার যন্ত্রণায় তীব্র ক্ষোভ নিয়ে ফিরে আসে এই মুহূর্তে ফায়েযের অবস্থাও ঠিক তেমন! ইতোমধ্যেই ফোন বেজে ওঠল ফায়েযের। স্ক্রিণের দিকে তাকিয়ে দেখল তার কাজের কলই এসেছে। কলটি তুলে ফায়েয স্বাভাবিক গলায় বলল,

“অ্যানি আপডেট?”

ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ফায়েযের অন্য একজন ফ্রেন্ড কাফি বেশ তৎপর গলায় বলল,

“আমাদের অনুমানই ঠিক হয়েছে ফায়েয। কাল আসছে আমাদের টার্গেট তার নামে দলিল হস্তান্তর করতে!”

“দেট’স গ্রেট। আই উইল কাম টু ইউ।”

“বাট তুই সাবধানে থাকিস। আই থিংক সে তোকে ট্রেক করার চেষ্টা করবে। কারণ, তোর হুমকির কারণেই সে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছে।”

“এই বিষয়ে তোর মাথা ঘামাতে হবেনা। আই উইল হ্যান্ডেল ইট। রাখছি বায়।”

ফোন কেটে দিলো ফায়েয। গাড়ির গতি নামিয়ে নিয়ে এলো নিম্নগতিতে। গাড়ি ঘুরিয়ে ব্যগ্র হেসে ফায়েয হেয়ালি স্বরে বলল,

“এরশাদ শিকদার। আপনার খেলা শেষ হতে চলেছে! আপনি ভাবতেও পারছেন না আমি আপনার ঠিক কোথায় কোথায় আঘাত করব! পাগল ক্ষ্যাপলেই জ্বালা জানেন তো? কারণ পাগলের কোনো ধর্ম কর্ম থাকেনা!”

_________________________

“ছেলেটি কে অনামিকা? নাম কি তার?”

বেশ ঝাঁজালো গলায় সানাম প্রশ্ন ছুড়ল বেশ আয়েশ করে আপেলে কামড় বসাতে থাকা অনামিকার দিকে। প্রত্যত্তুরে অনামিকা ভাবলেশ গলায় বলল,

“ফায়েয। পুরো নাম ফায়েয ফারনাজ চৌধুরী।”

সানামের সব সন্দেহ এবার সত্যিতে রূপান্তরিত হলো। সানাম পূর্বের ন্যায় অধিক আগ্রহী হয়ে ওঠল। অনামিকার পাশে চেয়ার টেনে বসল। উৎসুক গলায় প্রশ্ন ছুড়ল,

“ছেলেটির পরিচয় কি? ডিটেলসে বল প্লিজ।”
“কেন? তোর এত ডিটেল জানতে হবে কেন?”

দম নিয়ে অনামিকা ভ্রু কুঁচকে পুনরায় বলল,

“প্রেমে টেমে পড়ে যাসনি তো? খবরদার সে কিন্তু আমার উডবি। আজ না হয় কাল আমাদের বিয়ে হবে।”

“প্রেম এত সহজ নয় যে আমি যার তার প্রেম পড়ে যাব। জীবনে আমার প্রেম একবারই হয়েছিল। আর কারো সাথেই প্রেম হওয়ার কোনো চান্সই নেই। আর এটা তুই খুব ভালো করেই জানিস। বাই দ্য ওয়ে, তুই কাইন্ডলি ছেলেটির সম্পর্কে আমাকে বল। আমি তার সম্পর্কে জানতে চাই।”

“আমি নিজেও তার সম্পর্কে অনেককিছু জানিনা। তবে এতটুকু জানি তার বাবা খুবই খুবই খুবই বিত্তশালী লোক! এড্রেস দিয়েছিল ঢাকা মিরপুরের দিকে। যদিও ঢাকায় তাদের বাড়ির অভাব নেই। আমি ভাবছি কাল পরশুর মধ্যে তার বাড়িতে একবার যাব!”

“কিছু মনে না করলে আমি তোর সাথে যেতে পারি?”

“মাথা খারাপ হয়ে গেছে আমার যে তোকে সাথে নিয়ে যাব? দেখা যাবে ওর ফ্যামিলি আমাকে পছন্দ করার বদলে তোকে পছন্দ করে ফেলল! তখন কি হবে?”

“একটা আইডিয়া আছে আমার কাছে। আমি বোরখা, হিজাব ও মাস্ক পড়ে যাব। ওরা কেউ আমাকে দেখতেও পারবেনা। প্লিজ নিয়ে চলিস আমাকে!”

“বুঝলাম না ঐ বাড়িতে যাওয়ার জন্য তোর এত ক্রিঞ্জ ওঠল কেন?”

“পরে ডিটেলে সব বলব। বাট যাওয়ার সময় আমাকে নিয়ে যাস।”

অনামিকা কিছুক্ষণ ভেবেচিন্তে বলল,

“ওকে। তাহলে এখনই রেডি হয়ে নে। আমার উডবি শ্বশুর বাড়িটা দেখে আয়!”

________________________

অন্যদিনের তুলনায় আজ রাই একটু বেশিই সুন্দর ও নিঁখুতভাবে সাজছে। নীল রঙের একটি পাতলা শাড়ির সাথে চুল খোলা ভারী সাজে তাকে কিঞ্চিৎ সিনেমার নায়িকাদের চেয়ে কোনো অংশে কম মনে হচ্ছেনা। বয়স তার আটাশের কোটায় হলেও তাকে দেখতে আঠারো বছরের যুবতীদের মতই লাগে। ব্যাপারটি ফায়েয পেছনে সোফায় বসে লক্ষ্য করল। ফোন থেকে চোখে সরিয়ে সে তীক্ষ্ণ গলায় তার বড়ো আপুর দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,

“জিজু তো কাল আসবে আপু। আজ তুমি হঠাৎ এত সাজছ কেন?”

কিছুটা থতমত খেলেও রাই কানে এক জোড়া নীল রঙের দুল পরতে পরতে বেশ ব্যাস্ত গলায় বলল,

“একটু শপিংয়ে বের হব। তাছাড়া কাল কিভাবে সাজব তার ট্রায়াল দিচ্ছি এখন।”

হুট করে ফায়েয রেগে গেল। বসা থেকে ওঠে শক্ত গলায় বলল,

“এসব ভাঁওতাবাজি ছাড়ো আপু! জিজুর মত সফট হার্টেড মানুষ তুমি পুরো দুনিয়া ঘুরে এলেও পাবেনা। পৃথিবীর সবার চোখকে ফাঁকি দিতে পারো তুমি তবে আমার চোখকে নয়! সম্পর্কে লয়্যাল থাকতে শিখো। দিনশেষে ঠকে গেলেও তুমি নিজের কাছে পিওর থাকবে। নিজেকে অনেস্ট ফিল হবে।”

“শাট আপ জাস্ট শাট আপ। একজনের প্রতি লয়্যাল থেকে তুই কি পেয়েছিস? ধোঁকা, যন্ত্রণা আর অবহেলা ছাড়া? তোর সাথে আমার ছোটো বেলা থেকেই মিলত না। কখনও আমি তোর থেকে সাপোর্ট পাইনি। কেমন ভাই তুই হ্যাঁ?”

“অন্যায় কাজে তুমি কখনও আমার থেকে সাপোর্ট পাবেও না আপু! একজনের প্রতি লয়্যাল থেকে আমি কিছু পাই বা না পাই দিন শেষে অন্তত আমার কারণে কারো রুহে হায় লাগেনি। আমরা এক মায়ের পেটের ভাইবোন হলেও আমাদের চিন্তাধারা ভিন্ন। আর এই কারণেই হয়ত তোমার সাথে আমার কখনও ভালো সম্পর্ক তৈরী হয়ে ওঠেনি। আর ওঠবেও না। যতদিন না তুমি নিজেকে চেঞ্জ করতে পারবে!”

রেগেমেগে প্রস্থান নিলো ফায়েয। সিঁড়ি বেয়ে অমনোযোগীভাবে নামতে গেলেই কারো সাথে ধাক্কা খেলো সে। এতে করে আরও তেতে ওঠল ফায়েয। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখল একজন বোরখাওয়ালী মেয়ে! চোখ ছাড়া আর কিছুই স্পষ্ট নয়। সানাম অন্য পাশে মুখ করে তাড়াহুড়ো করে সরে দাড়ালো। হাত-পা কচলে বিড়বিড় করে বলল,

“যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়। উফ, এই আপদটা না আমাকে চিনে ফেলে!”

ফায়েয কয়েক সেকেন্ড ধীর থেকে আগাগোড়া দেখল সানামের। মন মেজাজ শান্ত হয়ে এলো তার। অতঃপর নাক ঘঁষল। বিড়বিড় করে বলল,

“মিস সারাহ্ সানাম। অবশেষে আমাকে খুঁজতে খুঁজতে আপনি চলেই এলেন! আপনার মাথায় আমি এমন ভাবে বসে গেছি যে আমার পেছনে ছুটা ছাড়া আপনার আর কোনো উপায় নেই! তবে আপনি এতটা ফাস্ট কাজ করবেন আমার আইডিয়া ছিলনা। অনামিকা কোনোভাবে কিছু বুঝতে পেরে গেলে আমার প্ল্যান আর ওয়ার্ক করবেনা। আই হোপ এমন কিছু হবেনা।”

ফায়েয ইচ্ছে করে সানামের মুখোমুখি দাড়ালো। তাকে ক্ষ্যাপানোর জন্য ভ্রু যুগল কুঁচকে প্রশ্ন ছুড়ল,

“হু আর ইউ?”

সানাম নিশ্চুপ। কথা বললে নিশ্চিত সানামের কণ্ঠস্বর ধরে ফেলবে ফায়েয। তবে এসবের তোয়াক্কা করলনা সানাম! মুখ থেকে মাস্ক খুলে সে ফায়েযের মুখোমুখি দাঁড়ালো। ফায়েযের মুখের কাছে তেড়ে এসে দাঁত চেপে বলল,

“আপনিই ফায়েয ফারনাজ চৌধুরী। এবার অস্বীকার করে দেখুন।”

বুকের ওপর হাত গুজে দাড়ালো ফায়েয। ফিচেল হেসে বলল,

“আপনার মত টিউবলাইট আমি পৃথিবীতে দু্টো দেখিনি। আপনার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে সেকেন্ড টাইম আমাকে চিনতে দু’সেকেন্ড সময়ও নিতো না! বাই দ্য ওয়ে আমাকে খুঁজতে খুঁজতে যেহেতু আপনি আমার বাড়ি অবধি চলে এসেছেন এবার বলুন আমাকে চিনে আপনার কাজটা কি?”

“আপনার কাছে আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর জানার আছে। আই হোপ ঠিকঠাক উত্তর দিবেন।”

“কি প্রশ্ন বলুন?”

“আপনি আমার নাম কিভাবে জানেন? সেদিন কেন আমাকে বাঁচিয়েছিলেন? কেনই বা বার বার বিভিন্ন বেশে এসে আপনি আমাকে বিভ্রান্ত করছেন? মোটিভটা কি আপনার?”

“নিজে খুঁজে বের করুন। ব্রেনটাকে একটু কাজে লাগান। ধার না দিলে কিন্তু লোহার বস্তুতেও মরিচা পড়ে যায়। আর এটা তো আপনার ব্রেন!”

ইতোমধ্যেই রাই সেজেগুজে রেডি হয়ে বেশ তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি বেয়ে নামতে গেলেই ফায়েয চট করে সানামের মুখের মাস্ক লাগিয়ে দিলো! সানাম হতভম্ব হয়ে গেল। ফায়েয ও বোরখাওয়ালী সানামকে দেখে রাই কপাল কুঁচকালো। ফায়েযের দিকে প্রশ্ন ছুড়ল,

“মেয়েটি কে?”

ফায়েয মাথা চুলকে বলল,

“ফ্রেন্ড।”

রাই আর কথা বাড়ালো না। বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল সে। সানাম মুখের মাস্ক খুলে চোয়াল উঁচিয়ে ফায়েযকে বলল,

“আমাকে আপনার কোনদিক থেকে মাথামোটা মনে হয়? আমি আমার ব্রেনকে কাজে লাগিয়েই আপনার কাছে এসেছি।”

“মুখে মাস্ক পড়ুন। বাড়ির কেউ আপনাকে এভাবে দেখে নিলে প্রবলেম হতে পারে। অনামিকাকে আমি হারাতে পারবনা!”

“আমি আপনাদের বিয়ে ভাঙতে আসিনি।”

“উঁহু। বিয়ে ভাঙার অভ্যেস তো আছেই আপনার! তাই বিশ্বাস করতে পারছিনা।”

সানাম ভড়কালো। ফায়েযকে জানতে আরও উদগ্রীব হয়ে ওঠল। শক্ত গলায় বলল,

“বলুন আপনি কে? কি চান আমার থেকে?”

“আপনার রুহ্ চাই! দিবেন?”

“আমাকে মে*রে ফেলে আপনার লাভ?”

“মরে গেলে অন্তত স্পর্শ স্পর্শ করবেন না!”

থমকে দাঁড়ালো সানাম। একের পর এক ফায়েয তাকে চমকে দিচ্ছে। সানামের হতবাক মুখখানি দেখে ফায়েয ব্যগ্র হাসল। সানামের কানে ফিসফিস করে বলল,

“মৃ’ত ব্যাক্তি কখনও ফিরে আসেনা সানাম। তার জন্য মনভরে দোয়া করা যায় ব্যস এটুকুই। আপনার যতটুকু হক ততটুকুর মধ্যেই থাকুন, সৃষ্টিকর্তা নিজেও বাড়াবাড়ি পছন্দ করেন না।”

ইতোমধ্যেই অনামিকা ও মালিহা চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িংরুমে এলো। সিঁড়ি থেকে ফায়েয তাদের দেখে সানামের মাস্কটা আবারও লাগিয়ে দিলো। চোখ রাঙিয়ে সানামকে বলল,

“মুখ যেন না দেখা যায়। বি কেয়ারফুল। আপনার নামটাও যেন কেউ জানতে না পারে।”

“কেন? আমার নাম জানলে ক্ষতি কি?”

“কথা বাড়ালে ক্ষতিটা আপনারই হবে। বাই দ্য ওয়ে নাম ধাম আপনি আমার বাড়ির কাউকে বলে দেননি তো?”

“না। বাট বলব ভাবছি!”

“ডোন্ট এংরি মি। আপনার ভেতর থেকে রুহটাকে ঠিক টান দিয়ে বের করে ফেলব! চিনেননি এখনও এই ফায়েয ফারনাজ চৌধুরীকে।”

“পূর্বে কি আপনি ক’শাই ছিলেন? কথাবার্তা তো এমনই মনে হচ্ছে।”

“আজ্ঞে না। একটা টিউবলাইট মেয়ে আমাকে বাধ্য করেছে ক’শাই হতে। তাকে পিস পিস করে কে’টে কিমা না বানানো অবধি আমি ক’শাইয়ের পেশা থেকে অব্যাহতি নিবনা!”

সানামকে গরম মাথায় হুমকি দিয়ে ফায়েয সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে নামতে অনামিকাকে বলল,

“হোয়াট অ্যা প্রেজেন্ট সারপ্রাইজ অনামিকা। আ’ম সো হ্যাপি।”

অনামিকা আলতো হেসে বলল,

“হুট করেই মনে হলো তোমার বাড়িতে আসি তাই চলে এলাম। আমি জানতাম তুমি খুশি হবে।”

দেয়াল ঘড়ির দিকে দেখিয়ে ফায়েয বেশ তাড়া নিয়ে বলল,

“আচ্ছা তুমি থাকো আমার একটা জরুরি কাজে বাইরে বেরুতে হবে। রাতে কথা হবে ওকে? বায়।”

ফায়েয প্রস্থান নিলো। মালিহা চৌধুরী অবাক হয়ে ফায়েযের যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইলেন। চিন্তিত গলায় বললেন,

“ফায়েযের মতিগতি তো আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। ফায়েযের তো কোনো মেয়ে বান্ধবীই ছিলনা। সানামকে ছাড়া তো সে কিছুই বুঝেনা। তবে এই অনামিকা মেয়েটি কে? কেন এলো মেয়েটি এই বাড়িতে?”

বোরখা পরিহিতা সানামকে মোটেও চিনতে পারলেন না মালিহা চৌধুরী। তবে সানাম ঠিকই চিনতে পারল মালিহা চৌধুরীকে! ফায়েযের খেলা এবার শেষ! তবে বিষয়টা পুরোপুরি শিওর হওয়ার বাকি। ঘণ্টা খানিকের মধ্যে সানাম ও অনামিকা ফায়েযের বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। সানাম তার হলে ফিরে এলো। বেশ সাহস নিয়ে দীর্ঘ দু’বছর পর সে সিফরাকে কল করল! টেবিলের ওপর ফোনটি বাজতে দেখে সিফরা বিছানা থেকে ওঠে এলো। স্ক্রীণে সানামের নাম্বারটি ভেসে ওঠতেই সিফরা আনন্দে চকচক করে ওঠল। ফোনটি তুলে উত্তেজিত গলায় বলল,

“হ্যালো আপু?”
“হুম। কেমন আছিস?”
“এতদিন পর আমার কথা মনে পরল?”
“একটা দরকারে কল করা তোকে।”

মনঃক্ষুণ্ন হলো সিফরার। বিষন্ন গলায় বলল,

“ওহ্ দরকারে কল করেছ!”
“বিষয়টা খুবই আর্জেন্ট।”
“বলো কি জানতে চাও?”
“দুই বছর আগে আমি যে বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম তুই জানিস সেই ছেলেটির নাম কি?”
“ওহ্ তুই ফায়েয ভাইয়ার কথা বলছিস?”
“তুই চিনিস তাকে?”
“হ্যাঁ! তোমার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর দু’বার দেখা হয়েছিল তার সাথে। ছেলেটা তোমার জন্য খুবই পাগল ছিল আপু! জানো কতবার চেষ্টা করছিল তোমার সাথে একবার দেখা করতে, যোগাযোগ করতে? কিন্তু তুমিই তো পাত্তাই দাওনি।”

ফোনটি সঙ্গে সঙ্গে কেটে দিলো সানাম। কপাল ঘঁষে বিড়বিড় করে বলল,

“তার মানে সেদিন ফায়েয ফারনাজ চৌধুরীই আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন প্রতিশোধ নেয়ার জন্য! তিনি আমার অতীত জেনেই স্পর্শকে সহ্য করতে পারছিলেন না? তাই স্পর্শের ছবিটা তিনি এভাবে ভেঙে দিয়েছেন‌! এসব কি হচ্ছে আমার সাথে।”

#চলবে____?