আনমনে সন্ধ্যায় পর্ব-০৬

0
95

#আনমনে_সন্ধ্যায়
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ০৬

রিমি হাই তুললো! চুপচাপ বসে থাকলেই তার ঘুম আসে। এটা অবশ্য নতুন না। পুরোনো অভ্যাস, সেই ছোট বেলা থেকে। একটু চুপচাপ বসলেই ঘুম। এমন কতো গেছে, ছোট বেলায় খেলতে খলতেই উঠানেই ঘুমিয়ে গেছে।

সে ঘুম তাড়ানোর জন্য কফিতে চুমুক দিলো। দিয়ে সাথে সাথেই চোখ মুখ কুঁকচে ফেললো। সে গরিব মানুষ। কফি টফিতে তার পোষে না। তার তো চাই ধোঁয়া উঠা এক কাপ চা। ব্যস শান্তি।

সে আশে পাশে একবার চোখ বুলালো। সে বসে আছে ঢাকার নামীদামী শপিংমলের এক কফি হাউজে। কফি হাউজটা তৃতীয় তলায়। সে বসেছে জানালার পাশে। এখান থেকে বাইরের, ভেতরের পুরোটা দেখা যায়।

অবশ্য দেখার জন্যই সে বসে আছে। শুধু সে না, এই শপিংমলের প্রত্যেক ফ্লোরে তার মত কনস্টেবলসহ আফিসারও আছে। আজকে থানায় যেতেই শুনলো এক আসামি নাকি এই শপিংমলে আসার কথা আছে। গোপন সূত্রে পাওয়া।

সে প্রায় এক বছর আগে এক মেয়েকে খুন করেছে। মেয়ের সাথে ছিলো তার প্রেমের সম্পর্ক। ধোকা দিছে, ব্যস কাম খতম। মেয়ের বাবা আবার পয়সাওয়ালা। দু- হাতে টাকা ঢালছে। যে করেই হোক তার মেয়ের খুনিকে চাই।

এক বছর ব্যাটা গা ঢাকা দিছে। আজকে শপিংমলে মরতে আসছে কেন কে জানে। সে থানায় যেতেই হাতে ছবি ধরিয়ে দিলো। আর একটা টিম বানানো হলো। ব্যস্ত এলাকা, তার মধ্যে সিক্রেট মিশন তাই সবাই যাবে সিভিল ড্রেসে।

সে এসেছে শাড়ি পরে। জর্জেট প্রিন্ট শাড়ি। সাদার মধ্যে বেগুনি ফুল। ফুল স্লিভ ব্লাউজ। তার নিজের কোন শাড়ি নেই। এক দুইটা যাও ছিলো রংপুরেই রেখে চলে এসেছে। এই শাড়ি টাড়িতেও তার পোষে না। শাড়ি, মেকাপ তার কাছে আস্ত ঝামেলা। মেয়েলি হাফ ভাবও কম। তাই কলেজে তাকে ডাকা হতো হাফ বয় বলে।

নতুন কিনবে সেই সময়ও নেই। তাই এটা আর্জেন্ট নিপা কাছ থেকে ধার করলো। ধার করতে গিয়ে তার মাথা ঘুরে গেছে। এই মেয়েতো ঘরে কাপড়ের গোডাউন দিয়ে বসে আছে।

সেই গোডাউন থেকে যেটা সামনে পেয়েছে নিয়ে এসেছে। তার সাথে মাথায় ঢিলেঢালা একটা খোঁপা। আর এই শাড়ি, খোঁপা, কফি নিয়ে সে এমন ভাবে বসে আছে, যে কারো সাথে দেখা করতে এসেছে। বসে বসে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

সে আবারো কফিতে চুমুক দিলো। দিয়ে আবারো চোখ, মুখ কুঁচকালো । কোন দুঃখে সে এই বিষ অর্ডার করেছে। টাকা নষ্ট। ধুর!

— ফাস্ট টাইম?

রিমি চমকে উঠলো। চমকে চোখ তুলে তাকালো। লম্বা, চওড়া কালো মতো একটা লোক। কালো বলতে বেশ কালো। তবে চেহেরায় মায়া একটা ভাব আছে। বিনয়ী হেসে দাঁড়িয়ে আছে।

— আমি কি এখানে বসতে পারি?

রিমি সাথে সাথেই নিজেকে সামলালো। সামলে মাথা দোলালো। না দুলিয়েও অবশ্য উপায় নেই। আজকে পুরো কফি হাউজ ফুল। সে একা মানুষ, পুরো টেবিল দখল করে বসে আছে। বসুক! মানা করতেও তো গায়ে লাগছে ।

সে মাথা দুলিয়ে সাথে সাথেই মোবাইলে চোখ রাখলো। এমন ভাব মোবাইলে ভিতরে তার পুরো জগৎ সংসার।

লোকটা বসতেই কিছু অর্ডার করলো। কি করলো রিমি ওতো খেয়াল করলো না। তার নজর মোবাইলের সাথে আশে পাশেও রাখতে হচ্ছে। একটা মাত্র মানুষ আর কতো দিক খেয়াল করবে।

কিছুকক্ষণ পরে কফি আসতেই লোকটা বললো — নিন এটা ট্রাই করুন।

রিমি ভ্রু কুঁচকে তাকালো। সব সময়ের মতো ভ্রু’র সাথে তার মুখও কুঁচকে গেলো। যাকে রিমির ভাষায় বলে পেঁচিমুখী।

লোকটা হাসলো! সুন্দর হাসি। গায়ের রং কালো হলেও, অন্য রকম একটা চার্ম আছে।

সে হেসেই বললো, —- আপনি যেটা নিয়েছেন, এটা এসপ্রেসো। যাদের কফির অভ্যেস নেই। এটা না খাওয়াই ভালো। এটার স্বাদ খুব তিতকুটে। আর এটা লাটে। আশা করি এটা খুব একটা খারাপ লাগবে না।

রিমি তাকিয়েই রইলো। বলে কি রে, এ তো দেখি কফির বিশারদ। সে তো যেটা সামনে পেয়েছে অর্ডার করেছে।

সে বিনা দ্বিধায়’ই নিলো। তার জীবন তো আর পুষ্প বিছানো ছিলো না । যে নামীদামী কফি হাউজে গিয়ে কফি টফি খাবে, টাইম পাস করবে। তারা হলো রাস্তার পাশে ভ্যানের ফুসকা পাটি। ফুসকা খেয়ে ঝালে হাঁসফাঁস করে টাইম পাস করেই তাদের আনন্দ। তাছাড়া কফি বলতে তারা পনেরো টাকার ওয়ান টাইপ কাপের চায়ের জমজ ভাই কে বুঝে। তাদের এতো হুদিগুষ্টিকে কে চেনে।

তো আজ যখন নসিবে হলো, তবে আসো বাবা লাটে। দেখি তোমার টেষ্ট টা কেমন।

টেষ্ট অবশ্য করার সময় হলো না। ঠোঁটের কাছে কফি কাপ নিতেই তার চোখ গেলো কফি হাইজের বাইরে। কাচের দেওয়াল। তাই বাইরে থেকে দেখা না গেলেও ভেতর থেকে যাচ্ছে ।

রিমি কফির কাপ রেখে ফট করে উঠে দাঁড়ালো! তার আর ডানে বামে হুশ কই। থাকলে হয়তো দেখতো, ঠোঁটে না ছোঁয়া কফির জন্য একজনের চোখে বিষাদ নামলো।

অবশ্য সেই খেয়াল এখন রিমির নেই। সেই তার টিমকে ফোন দিতে দিতে দৌড়ে গেলো।

লোকটা লিফটে উঠেছে। সম্ভবতো নিচে যাবে। আশ্চর্য উপরে এলো কেউ খেয়াল করেনি?

সে সবাইকে ইনফ্রম করতে করতে সিঁড়ির দিকে দৌড়ে গেলো। বেশিদূর অবশ্য যেতে পারলো না। কারো সাথে ধাক্কায় সিটকে পড়লো। শুধু যে পড়লো তা না। পড়ার আগে দেয়ালে বাড়ি খেলো। যেন তেন টাইপ বাড়ি না। ডেনজারাস টাইপ! সাথে সাথেই কপাল ফুলে আলু হয়ে গেলো। সেই আলু চেপে সে নিচেই বসে রইলো। চোখে সে অন্ধকার দেখছে। মাথা ঝিমঝিম করছে। বাংলা সিনেমার নায়িকা হলে এতোক্ষণে স্মৃতিশক্তি সব হারিয়ে ফ্লোরে গাড়াগড়ি খেতো।

সাব্বির বিরক্ত মুখে রিমিকে টেনে তুললো। এই মেয়ে তো দেখি আস্ত ঝামেলা ঘাড়ে নিয়ে ঘুরে। পরে গিয়ে আবার ঝিম মেরে বসে আছে। দিন দুনিয়ার হুশ নেই। মানুষ জড়ো হয়ে গেছে। এদিকে আবার পড়ে গিয়ে এই মেয়ের শাড়ির অবস্থা খারাপ। সামলাতে না পারলে এমন লিকলিকে টিংটিয়ে শাড়ি পরার দরকার কি। যত্তোসব ফালতু কাজ কারবার।

সাব্বির সবাইকে কিছুই হয়নি টাইপ চেহেরা দেখিয়ে রিমিকে সোজা দাঁড় করালো । শাড়ির আঁচল গায়ে লাটিমের মতো পেঁচালো। পিন বলে যে একটা জিনিস আছে, এই মেয়ে হয়তো জানেও না। জানলে এভাবে কেউ শাড়ি পরে?

সে পেঁচিয়ে তার বন্ধুর দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে বললো, — এতো লম্বা, চওড়া একটা মেয়েকে তুই চোখে দেখিস নি?

মাহিম অবাক হয়ে বললো, — আমার কি দোষ? এই মেয়েই কোথা থেকে উড়ে আসলো কে জানে। আমিতো ভাই আপন মনে হেঁটে যাচ্ছিলাম।

— তোর শুশুর বাড়ি এটা। আপন মনে হাঁটছিস?

— দেখ আমার সাথে তেজ দেখাবি না। এই মেয়েকে জিজ্ঞেস কর। কার দোষ। যে ভাবে এসেছে। ভাগ্যিস আমার স্বাস্থ্য ভালো । তা না হলে এই মেয়ের মতো আমিও উড়ে যেতাম।

সাব্বির এবার রিমির দিকে তাকালো! এই সময়তো থানায় থাকার কথা। শাড়ি টারি পরে শপিংমলে কেন?

রিমি অবশ্য ওতো কিছু ভাবার অবস্থায় নেই। সে চোখ, মুখ কুঁচকে মাথায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে। সে কিছু বলবে, তখনি কনস্টেবল মিথিলা আসলো। সে রিমির চেয়ে বয়সে এবং কাজে দু- জায়গায়ই সিনিয়র। তাকে এই অবস্থা দেখে প্রায় হুংকার দিয়ে বললো, — কি হয়েছে রিমি?

রিমিকে অবশ্য কিছু বলার সুযোগও দিলো না। সাব্বির রিমিকে ধরে রেখেছে। তাই ভাবলো হয়তো সাহায্য করছে। কিন্তু মাহিমের দিকে তাকিয়ে ধমকে বললো, —- কি করেছিস ওর সাথে। হ্যারাসমেন্ট! একা মেয়ে দেখেছিস। ওমনি হাতের সুড়সুড়ি শুরু হয়ে গেছে। থানার চল বেটা, সুড়সুড়ি বের করছি। পুলিশ কে খোঁচানো। এতো বড় সাহস?

মাহিমের মুখ কাতলা মাছের মতো হা হয়ে গেলো। বলে কি এই মহিলা। আর এই পিচ্ছি মেয়ে পুলিশ নাকি? আল্লাহ গো, সে তো শেষ। বিনা দোষে ব্যান্ড বাজাতে পুলিশের চেয়ে আর কে পারে। তার দুঃখের কথা এখন আর কে বিশ্বাস করবে।

সে অসহায়ের মতো সাব্বিরের দিকে তাকালো। যেন সব আশা ভরসা এখন সাব্বির।

সাব্বির কিছু বলতে যাবে তখন রিমি কুঁকাতে কুঁকাতে বললো,—- ওনার দোষ নেই ম্যাডাম। আমিই খেয়াল করিনি। ওই লোকটাকে দেখে…. সাথে সাথে রিমির মনে পড়লো। আরে লোকটার খবর কি? নাকি পালিয়ে গেছে? সে সাথে সাথে জিজ্ঞেস করলো, — লোকটা খবর কি ম্যাডাম?

মিথিলা হাসলো! হেসে বললো, —- ঘুঘু তো ফাঁদে আটকা পড়েছে রিমি। স্যার তো তোমার উপরে অনেক খুশি। রুমেল গাধাটা নিচে ছিলো। ব্যাটা উপরে এসেছে খেয়ালই করেনি।

রিমি কুঁকানোর মাঝেও একটু হাসলো। যাক মিশন সাকসেসফুল।

— স্যাররা আসামিকে নিয়ে গেছেন। আমাদেরও ফিরতে হবে। কিন্তু তোমার অবস্থা তো খারাপ। আর থানায় গিয়ে কাজ নেই। আসো বাসায় পৌঁছে দেই। আমি স্যারের সাথে কথা বলে নেবো।

— আমি যেতে পারবো ম্যাডাম। আপনার কষ্ট করতে হবে না।

— কষ্ট কিসের? আসাতো! ইশ! মাথাটা তো একদম গেছে। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে নাকি। বলেই রিমিকে ধরলো।

সাব্বির ছেড়ে দিলো। চিকন লম্বা একটা হাত, মাংস নেই বললেই চলে। তবুও কেন জানি তার ছাড়তে ইচ্ছে হলো না। একবার ভাবলো বলে, —- আমি নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গলার কাছে এসে কথা আটকে রইলো। সাধারণ একটা বিষয়। কিসের এতো সংকোচ সে বুঝতে পারছে না।

তারা এগুতেই মাহিম তড়িঘড়ি করে মোবাইল বাড়িয়ে দিলো। সিটকে পড়ে গিয়েছিল। সে তুলেছে! অবশ্য মোবাইলের বারোটা বেজে গেছে।

রিমি বড় একটা শ্বাস ফেলে মোবাইল হাতে নিলো। সে ভেবেছিলো খালামণির বাড়ি তার জন্য কুফা। এখন মনে হচ্ছে পুরো ঢাকা শহর তার জন্য কুফা। দু- বার নিজে আছড়ে পড়লো, দু- বার মোবাইল। আরো কতো কি দেখাবে প্রাণের প্রিয় শহর ঢাকা?

বলেই মোবাইল রাখতে যাবে। তখনি তার মনে পড়লো। আরে তার পার্স কই? সে সাথে সাথেই আশে পাশে তাকালো।

— কি হয়েছে রিমি?

— আমার পার্স।

— সেকি বলেই মাহিমের দিকে তাকালো। যার অর্থ এই বেটা পার্স কই?

মাহিম মুখ আবার হা হয় গেলো। আজকে তার দিনই খারাপ। কোন দুঃখে সে এই শপিংমলে এসেছিলো। সে হা করেই বললো, —- আল্লাহর কসম ম্যাডাম। ওনার হাতে পার্স ছিলোই না। শুধু মোবাইল ছিলো। এই সাব্বির তুই বল।

সাব্বিরের অবশ্য কিছু বলতে হলো না। রিমিই মনে পড়লো। সে পার্স কফি হাউজেই রেখে এসেছে। তড়িঘড়িতে পার্সটার কথা মাথায় ছিলো,ই না।

সে বলতেই মিথিলা মাহিমকে বললো, — এই তরমুজ যা, দৌড়ে পার্স নিয়ে আয়। পুলিশের ধাক্কা খেয়েছিস। এবার ঠেলা সামলা।

মাহিম চোখ মুখ ফুলিয়ে উপরে গেলো। রিমি এতোক্ষণে ভালো ভাবে সাব্বির কে খেয়াল করলো। পকেটে হাত পুরে চোখে মুখে বিরক্ত নিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। গায়ে কালো শার্ট। হাতা ফোল্ড করা। এমনিতেই ফর্সা। কালো শার্টের জন্য আরেক ধাপ বেশি লাগছে। প্রেমিকার ট্রেমিকার সাথে দেখা করতে এসেছে নাকি?

সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের দিকে তাকালো। সে শাড়ি পরেছে নাকি শাড়ি তাকে পরেছে বোঝার উপায় নেই। মুখে অবস্থাও নিশ্চয়ই বারোটা বেজে আছে। অবশ্য মেকাবের ধারের কাছে সে কখনও যায় না। তার সাজ ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক পর্যন্তই। সাজলে তাকে আরো ভুতের মতো লাগে। তাই এমনিই ভালো ।

সাথে সাথেই সে অবাক হলো। আরে সে দু- জনের কমপেয়ার করছে কেন? আশ্চর্য! জাহান্নামে যাক এই বাবা পরিষ্কারগির।

তখনি মাহিম আসলো। হাতে তার একটা কাগজ। সে সেই কাগজ রিমির দিকে বাড়িয়ে বললো,– আপনি নাকি এক লোকের সাথে কফি হাউজে ছিলেন। সে আপনার পার্স নিয়ে গেছে। আর এই নাম্বার দিয়ে গেছে। তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেছে।

রিমি কাগজ নিলো। মিথিলা হাসলো! হেসে রিমিকে ধরে যেতে যেতে বললো, —- কি ব্যাপার রিমি? মিশনে এসে লাভেশন।

রিমি হাসলো! কিছু বললো না। সে যেতে যেতে একবার সাব্বিরের দিকে তাকালো। সাব্বির আগের মতোই দাড়িয়ে আছে। তবুও তার কেন জানি মনে হলো, সাব্বিরের চোয়াল এখন কিছুটা কঠিন হয়ে আছে। কিন্তু কেন?

কি জানি? তাতে তার কি কাজ। অবশ্য তাদের যাওয়ার পথে কুফা লাগিয়েছে তাতেও হতে পারে। তবে তার নিজেরও একটু দুঃখ হলো। দূরের হোক তবুও তো আত্মীয়। এক বাসায়ই আছে। একবার কি বলা যেতো না। আমি পৌঁছে দেই। ঠিক আছে, এই ইয়াসমিন সুলতানা রিমি কিছুই ভোলে না, সবাইকে সবার প্রাপ্য অবশ্যই ফিরিয়ে দেয়। মনে রাখবে সে । আজ আপনি চিনলেন না। আরেক দিন এই রিমি চিনবে না। হুহ্!

চলবে……