আনমনে সন্ধ্যায় পর্ব-২৭+২৮

0
91

#আনমনে_সন্ধ্যায়
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ২৭

সারা দিন গেলো রিমির দৌড়ের উপর। কাজের তো আর অভাব নেই। তবে যেই রিমি সব কাজ করে মন লাগিয়ে, সুন্দর করে গুছিয়ে। সেই রিমি আজকে করলো সব এলোমেলো। মিথিলা ম্যাডাম তো একবার বলেই ফেললো -” কি ব্যাপার রিমি মন আজ এতো উড়ুউড়ু কেন? ”

রিমি কিছু বলতে পারিনি শুধু হালকা হেসেছে। অবশ্য বলবেই বা কি? আর তার হয়েছেই বা কি? এই যে উড়ুউড়ু মন, সব ভালোবাসা নিজের করে পাওয়ার আবেশে। এই আবেশের কথা কি আর কাউকে বলে, করে বুঝানো যায়? এটা শুধু অনুভব করা যায়। আর সে, সেই অনুভবে ডুবে ডুবেই থানার এ মাথা থেকে ও মাথায় সাতার কাটতে লাগলো। আর এটা সেটায় গন্ডগোল করতেই থাকলো।

আর এই গন্ডগোলের পাল তোলা নৌকায় বাতাস দিচ্ছে সাব্বির। কল করছে তো করছেই। সে ধরেনি। এখন আবার মেসেজের উপরে মেসেজ দিচ্ছে। রিমি একটাও রিপ্লাই দেইনি। ইশ! এমনিতে কতো কথাই তো বলে, আজ এমন লাগছে কেন? যখনি মোবাইলের দিকে তাকাছে তার হার্ট বিট বেড়ে যাচ্ছে। প্রেমের মরা বুঝি একেই বলে।

সে কোন রকম কাজ টাজ এগিয়ে সন্ধ্যার একটু পরেই বেরিয়ে এলো। অযথা সময় নষ্ট, মনতো কাজে দিতেই পারছে না। অবশ্য দেবেই বা কি ? মন কি আর আছে তার কাছে, সেটা নিয়ে গেছে ওই বিশ্বসুন্দরা। আচ্ছা তারও কি এমন হচ্ছে? কি জানি? অবশ্য না হওয়ার চান্স আছে। রিমির প্রথম প্রেম তার তো না ।

সে বেরিয়ে এসে থানার সামনেই রিকশার জন্য দাঁড়ালো। দাঁড়াতেই হাতের দিকে নজর পড়লো। হাতটা সামনে এনে আংটিটার উপরে আঙ্গুল বুলালো। সে সব সময় এমন একজন কে চেয়েছে, সে যেমন তেমনি তাকে চাইবে। সব জেনে বুঝে মেনেই ভালোবাসবে।

রিমি মনে মনে হাসলো! কলেজে থাকতে এক ছেলে তাকে প্রপোজ করলো। যেন টেন টাইপ প্রপোজ না। নাছোড়বান্দা টাইপ। কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। তখন রিমি ভাবলো, আচ্ছা চলো। এতোই যখন ভালোবাসে দেখা যাক। তারা একদিন দেখা করলো। সে নির্দ্বিধায় সেই ঘটনা বললো। অবশ্য পুরো সত্য কেউ জানে না। এমন কি সাব্বির ও না।

যাইহোক সব শুনে সেই ছেলে কথা বলতে পারলো না। চুপচাপ বসে রইলো। সেই দিন কিছু না বললেও। পরে জানালো তার আর এগুনো সম্ভব না। সব ভালোবাসা এক গল্পেই শেষ।

ছেলেরা সব মানতে পারে, গরীর, অসহায়, দেখতে খারাপ সব সব। কিন্তু মেয়েকে ভার্জিন হতে হবে। অবশ্যই হতে হবে। না হওয়া, এটা তারা মানতে পারে না।

তো মিষ্টার সাব্বির, আপনি বিপরীত পাশে চলছেন কেন? এই যে বিপরীতে গিয়ে আপনি আমাকে ভালোবাসলেন। এর বিনিময়ে আমি আপনাকে ভালোবাসবো। জনম জনম ভালো বেসেই যাবো।
আপনাকে আমার অনেক কিছু বলার আছে । জানি বিশ্বাস করবেন না। তবুও বলতে চাই। আপনার কাছে আমার কোন সিক্রেট থাকবে না। আপনার কাছে আমি হবো সাদা পেজের একটা রঙিন ডায়েরি। সেখানে আপনার যা ইচ্ছে হয় লিখবেন, আঁকবেন, কাটাকুটি করবেন। আমি কিচ্ছু মনে করবো না। আমার আপনজন হয়ে শুধু আমার পাশে থাকবেন। ব্যস এইটুকুই।

— কেমন আছো রিমি?

রিমি চমকে উঠলো। চমকে সাথে সাথেই পাশে তাকালো। ওলীদ দাঁড়িয়ে আছে। পুরো পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢাকা। মুখে মাক্স। চোখ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। যদি কথা না বলে চেনার উপায় নেই। সে ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

তাকে সেইদিনই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। পরে শামীম স্যার তাকে ডাকলেন। কোন ভণিতা ছাড়া একটা খাম এগিয়ে দিলেন। দিয়ে বললেন, — এই লাইনে যখন এসেছো ধীরে ধীরে সবই বুঝে যাবে। তবে তোমার পারফরমেন্সে আমি খুব খুশি। এর পরে অবশ্যই যে কোনে কাজে তুমি আমার টিমে থাকবে। আর ভয় নেই! সে তোমার কোন ক্ষতি করবে না। এমপি স্যারের সাথে কথা হয়েছে। সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে । একে দেশের বাহিরে পাঠানো হচ্ছে। তাই নিশ্চিন্তে থাকো। অবশ্য এ রকম শত্রু এই লাইনে সাধারণ ব্যাপার। তবুও বলছি ভয় নেই।

রিমি কিছু বলে নি। খামও নেয়নি। চুপচাপ চলে এসেছে। অবশ্য কি বা বলবে সে?

রিমি নিজেকে সামলে বললো, — আপনি ?

— হুম আমি।

— এখানে কি করছেন?

— কেন, আসতে পারিনা বুঝি?

রিমি উত্তর দিলো না। তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলো। তার মন বলছে কিছু ঠিক নেই। অবশ্য থানার সামনে। এ নিশ্চয়ই এখানে কোন কিছু করার সাহস পাবে না।

ওলীদ হয়তো বুঝলো! বুঝে হাসলো! হেসে নিজে থেকেই বললো — বাহিরে চলে যাচ্ছি। তাই ভাবলাম শেষ একবার দেখা করে যাই।

— বুঝলাম! তো এভাবে চোরের মতো আসার মানে কি?

ওলীদ আবারো হাসলো! স্বাভাবিক ভাবেই বললো — চুরি করতে এসেছি তো চোরের মতোই তো আসবো তাই না।

— মানে?

— তোমার মানে না জানলেও চলবে। নাও।

রিমি ওলীদের হাতের দিকে তাকালো! তার সেই পার্স। এটা দেওয়ার জন্যই কি এসেছে। তার মন মানলো না। কেন জানি ভেতরে কিছু একটা খচখচ্ করতে লাগলো। তবুও সে হাত বাড়ালো। সব শেষ করাই ভালো।

মিথিলা বের হলো একটু পর’ই । রিকশার জন্য আশে পাশে তাকালো। তাকাতেই তার ভ্রু কুঁচকে গেলো। রিমি একটা লোকের সাথে হেঁটে যাচ্ছে। লোকটাকে সে চিনতে পারলো না। জ্যাকেট, চাদর, টুপিতে পুরো ঢেকে আছে।

সে ওতো মাথা ঘামালো না। নিশ্চয়ই পরিচিত হবে। তা না হলে এতো স্বাভাবিক ভাবে তো আর হেঁটে যাবে না। সে রিকশায় উঠলো। উঠতে উঠতে সে আরেকবার তাকালো। রিমি সাদা একটা গাড়িতে উঠে বসলো । বসতেই গাড়ি শো করে চলে গেলো।

সাব্বির বাসায় ফিরেই রিমিকে আবার কল দিলো। মোবাইল বন্ধ। তার এবার মেজাজ গরম হলো। ফোন তো রিসিভ করছেই না। আবার মোবাইলটাও বন্ধ করে ফেলেছে। করছেটা কি এই মেয়ে ? নাকি খুব ব্যস্ত। সে আর ভাবলো না। আধা পাগল, যখন মন যা চায় তাই করে। অবশ্য বেশিক্ষণ রাখবে বলে মনে হয় না। এটা তার প্রাইভেট প্লাস অফিসিয়াল নাম্বার। চব্বিশ ঘন্টা খোলা রাখতে হয়।

তাই সে আপন মনেই ফ্রেশ হতে গেলো। এই মেয়ে বাসায় ফিরবে কয়টায় কে জানে? ঠিক ঠিকানাও নেই। তবে একবার শুধু আসুক। খবর আছে মেয়ে তোমার। বিয়ে করবে না, প্রেম করবে। এখন আবার মোবাইলও বন্ধ। বের করছি তোমার প্রেম আমি।

সে ফ্রেশ হয়ে বের হয়েই দেখলো খাটে নাঈম বসে আছে। তাকে দেখে বললো, —- সবাইকে ফোন দিয়ে মোড়ে আসতে বল। তোদের বাসায় বসে বসে বোর হচ্ছি। অনেক দিন আড্ডা দেওয়া হয় না। বিয়ে না করেই ভালো আছিস রে দোস্ত । শুধু প্যারা আর প্যারা।

সাব্বির হাসলো! হেসে জামা কাপড় পাল্টে নাঈমকে বললো, — চল তোর প্যারা দূর করে নিয়ে আসি।

তারা দু- জনেই বেরুলো। সাব্বির যেতে যেতেও রিমিকে আরেকবার কল দিলো। শুধু একটা যান্ত্রিক শব্দই ভেসে এলো, ” দ্যা নাম্বার ইউ আর ট্রাইং টু কল ইজ কারেন্টলি সুইচস্টপড। ”

রিমি ধীরে ধীরে চোখ খুললো। চোখ খুলতেই আবার ফট করে বন্ধ করে ফেললো। তার মুখ বারবার একটা বাল্ব জ্বালানো। আলো চোখে বিঁধছে। সে চোখ, মুখ কুঁচকে আবার ধীরে ধীরে চোখ মেলার চেষ্টা করলো।

মেলতেই দেখলো তার ঠিক সামনে একটা টুলে ওলীদ বসে আছে। মূর্তির মতো। হাতে তার জ্বলন্ত সিগারেট। নিচে ফিল্টার পড়ে আছে বেশ কয়েকটা। কতোক্ষণ সে এভাবে শুয়ে আছে?

সে উঠতে চাইলো। তার হাত পেছনে মুড়িয়ে বাঁধা, পা ও বাঁধা। অসাড় হয়ে আছে। নড়তে গিয়ে তার মাথা ঘুরে উঠলো। সে আবার মাথাটা পাটি বিছানো চকিতেই রাখলো। রেখে আবার কিছুক্ষণ সেভাবেই শুয়ে রইলো। মাথা এমন ভার হয়ে আছে কেন?

টিনের ঘর! নিচ দিয়ে হু হু করে ঠান্ডা বাতাস আসছে। গায়ে তার ইউনিফ্রম। তার উপরে সোয়েটার , তবুও শীতে কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। আছে টা কোথায় সে। চারিদেকে কেমন নিশ্চুপ, শান্ত।

সে মনে করার চেষ্টা করলো। পার্সটা হাতে নিয়েছিলো, সে পর্যন্তই। এর পরে আর কিছু মনে নেই। সে একবার নড়ার চেষ্টা করলো। হাত ব্যথায় টনটন করছে। গলা,মুখ সব শুকনো খরখরে। সে ঢোক গিলে গলা, ঠোঁট ভেজানোর চেষ্টা করলো।

তখনি ওলীদ উঠলো! সিগারেট নিচে ফেলে পায়ে পিষলো। স্বাভাবিক ভাবেই এগিয়ে এসে রিমির পাশে বসলো। বসে তাকে টেনে উঠে বসালো।

রিমি বসতে পারলো না। এক কাতে অনেক্ষণ শোয়ার কারণে ঘাড় সহ পুরো এক সাইডই অসাড় হয়ে আছে। সে ওলীদের বাহুতেই পিঠ এলিয়ে বসলো। বসে বললো, — আপনি এতো ভীতু জানতাম নাতো। সমান্য একটা মেয়েকে শাস্তি দিতে এনেছেন তাও হাত পা বেঁধে।

— হাত পা বেঁধে এনেছি নাকি?

— তাহলে?

ওলীদ কিছু বললো না। নড়লোও না। বসে রইলো। তার হাতে সাব্বিরের দেওয়া আংটি। সেটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নাড়াতে লাগলো।

রিমি দেখলো তবে কিছু বললো না। সে একটু নড়েচড়ে বোঝার চেষ্টা করলো। ওলীদ আর কি কি নিয়েছে।

ওলীদ সেটা বুঝলো! বুঝে শান্ত ভাবে বললো , — চিন্তা করো না। হাত শুধু পকেটেই গেছে। অন্য কোন জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে এখনো চিন্তা করার অবস্থায় থাকতে না।

রিমি দাঁতে দাঁত চাপলো! চেপে বললো, — কাপুরুষদের শাস্তির ধরণ একই হয়। এখানে চিন্তা ভাবনা করার কিছু নেই।

— আছে, বলেই সাব্বির হালকা হাসলো। সাইড থেকে ঝিনুকটা হাতে নিলো। নিয়ে ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে দেখলো। এক সাইডটা খুব ধার। আমদানি করলো কোথা থেকে এটা। সে হেসেই বললো, — পকেটে ঝিনুকের খোসা নিয়ে ঘুরো তুমি? সিরিয়াসলি! কি করো এটা দিয়ে?

রিমি সেটার দিকে তাকিয়ে রইলো! কিছু বললো না।

— সামান্য মেয়ে তুমি না রিমি। এগারো বছর বয়সে যে মেয়ে শক্ত সামার্থ এক লোকের সব চেয়ে মূল্যবান সম্পদ কেটে ফেলতে পারে। সে আর যাই হোক সামান্য না। এই ভোলাভালা চেহেরার পেছনে একটা ভংয়কর মেয়ে তুমি। সেটা তোমার সাব্বির জানু না জানলেও আমি জানি। জানি বলেই তো বার বার প্রেমে পড়ি।

রিমি বড় একটা শ্বাস ফেললো! সোজা ভাবে বললো, — কি চান বলুনতো ?

ওলীদ সাথে সাথেই বললো — তোমাকে।

— আপনার কি মনে হয়? সব জেনে কেউ আপনাকে ভালোবাসবে?

— না বাসবে না। তাইতো তুমি এখানে। তা না হলে আমরা অন্য কোথায়ও থাকতাম। হাতে হাত হতো, চোখে হাজারো স্বপ্ন থাকতো। তুমি জানো? অনেক দিন পরে আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম।

— না জানি না। জানতে চাই ও না।

— জানি তো চাইবে না। চোখে সৌন্দর্যের পর্দা পড়েছে। সকালেই তো দেখলাম। হাতে হাত রেখে রিকশায় ঘুরছো।

রিমি তাকিয়ে রইলো। কিছু বললো না। এই কথার কথার খেলা ভালো লাগছে না তার।

ওলীদ তাচ্ছিল্য করে বললো, — সব মেয়েরাই এক রিমি। তারা শুধু দু- টো জিনিস দেখে। এক টাকা দ্বিতীয় সৌন্দর্য। অথচো তোমাকে আমি অন্যরকম ভেবেছিলাম।

রিমি ভাবলেশহীন ভাবে বললো —- কেন ভেবেছেন? আমি কি ভাবতে বলেছিলাম। নাকি মহৎ সেজে আপনার সামনে হাজির হয়েছি। নিজেই এসেছেন। নিজে থেকে ভালোবেসেছেন। এখানে আমার দায় কি?

— ভালোবাসার অভিনয়টা না করলেও পারতে।

— হ্যাঁ পারতাম! তো? আপনি অভিনয় করা বন্ধ করে দিতেন? আমার পেছনে ঘোরা বন্ধ করে দিতেন? আমি অভিনয় করার আগে আপনি শুরু করেছেন। আমার পিছু নিয়েছেন, সব রকম খোঁজ খবর করেছেন। এমনকি ঐ লোকটাকে আপনি খুন করেছেন।

— এটা সে ডিজার্ভ করে রিমি। তোমার দিকে নোংরা হাত বাড়িয়েছে। শাস্তিটা তুমি সেই তুলনায় কমই দিয়েছিলে।

রিমি চুপ করে গেলো। মেজাজ মাথা দুটোই গরম হচ্ছে। অথচো তার এখন ঠান্ডা থাকা দরকার। যেটা সে কখনও পারে না। তার নিজের উপর নিজেই বিরক্ত লাগলো। খালামণি ঠিক বলে আস্ত ফাজিল সে।

— আমি অভিনয় করলেও তোমাকে পাওয়ার জন্যই করেছি। আমার ভালোবাসায় কোন খাদ নেই।

রিমি হেসে ফেললো! হেসে বললো, — ভালোবাসা, সেটা কি আপনি জানেন? যদি জানতেন তাহলে চৈতি কে খুন করতে পারতেন না। আমি এখানে এভাবে থাকতাম না। আপনি শুধু নিজেকে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন নিজের বিকৃত মস্তিষ্ককে।

ওলীদের চোয়াল শক্ত হলো! শক্ত ভাবেই বললো, — ধোকাবাজদের সাথে এমনি হওয়া উচিত। এতে যদি আমি বিকৃত মস্তিষ্ক হই , তাহলে তা – ই।

বলেই ধাক্কা মেরে রিমিকে ফেলে দিলো। দরজার পাশে একটা কালো ব্যাগ। সেখান থেকে একটা হাতুড়ি নিয়ে আংটি টা টুলের উপরে রেখে এক বাড়িতে থেঁতলে ফেললো।

চলবে….

#আনমনে_সন্ধ্যায়
#নূপুর_ইসলাম
#পর্ব- ২৮

রিমি নিশ্চুপ তাকিয়ে দেখলো। তার কোথায়ও যেন খুব খুব লাগলো। সে অবশ্য খুবই শক্ত টাইপ মেয়ে। কোন কিছুই সহজে তাকে টলাতে পারে না। ছোট বেলা থেকে কতো কিছু সহ্য করেছে। প্রিয় বলতে তো তার কখনো তেমন কোন কিছু ছিলো,ই না। মামিরা সব তাদের নিজেদের মতো কেনাকাটা করতো। তাদের যা ভালো মনে হয় এনেছে, না হলে নেই।

তাদের ছেলে মেয়েদের কতো কতো বায়না। তার কখনো তেমন কিছু ছিলো না। বায়না তো করবে ভালো ই, হাসি মুখে এরা কখনও কথা বলেছে কিনা সন্দেহ। এ রকম অবস্থায় কিছু প্রিয় হওয়াটা বিলাসিতা। তাই সে কখনো কিছু সেই ভাবে আশাই করেনি। যেমন ছিলো তার মধ্যেই ভালো থেকেছে। তবে এই যে ছোট্ট একটা আংটি। এটা শুধু আংটি ছিলো না, তার জীবনের প্রথম প্রিয় মানুষের প্রথম পাওয়া উপহার।

রিমি বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো! ফেলে নিজেকে সামলে নিলো। সব কিছু ঝট করে সামলে নেওয়ার অসীম এক ক্ষমতা আল্লাহ তাকে দিয়ে দিয়েছে। তাই এটাও নিলো অনায়াসেই । তার সাথে এও বুঝলো তার শাস্তি শুরু হয়ে গেছে। হ্নদয় নিয়ে খেলেছে তাই হয়তো হ্নদয় থেকেই শুরু। শেষটা হবে কোথায়?

সে ঠেলে ঠুলে খুব কষ্টে উঠে বসলো। হাত পেছনে মোড়ানো, ধাক্কায় ব্যথা পেয়েছে। পায়ে রশি বসে গেছে। সেখানেও জ্বলছে। শরীর তার শেষ।

সে বসে পুরো ঘরটায় আরেকবার চোখ বুলালো। টিনের তৈরি কোন রকম একটা ঘর। কিছুই নেই! এক কোণে হাবিজাবি স্থুপের মতো রাখা। পাশেই ছোট্ট একটা জানালা। আরেক কোণে এই কাঠের চৌকি। চৌকিতে শুধু পাটি বিছানো। চৌকির সাইডেই দরজা। সেটা ভেতর থেকেই আটকানো।

সেই দরজার পাশেই ওলীদের কালো ব্যাগটা। রিমির ঘুরে ফিরে ব্যাগটার দিকেই নজর গেলো। কি কি আছে এতে?

তখনি ওলীদ ফিরে তাকালো। রিমি ঢোক গিললো! এক হাতে হাতুড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষটাকে তার স্বাভাবিক মনে হলো না। এই চোখ, এই মুখ ভয়ংকর। হিংস্র প্রাণীর মতো ভংয়কর। হিংস্র প্রাণী দেখলে যেমন গা শিরশির করে উঠে। রিমিরও তেমন শিরশির করে উঠলো।

ওলীদ এগিয়ে এলো! থেঁতলে যাওয়া আংটি জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে, টুল টেনে ঠিক আবার রিমির সামনে বসলো।

রিমি না নড়লো, না কিছু বললো। সে এক পলকে তাকিয়ে রইলো।

ওলীদ হাসলো! রিমির লম্বা গড়নের মায়াবি মুখ। পাতলা ঠোঁট, টানা টানা চোখ। চোখের সাথে ভ্রুদুটোও লম্বা, মোটা। আজ পর্যন্ত মনে হয় পর্লারের কৃত্রিম ছোঁয়া লাগেনি। তাই ওলীদের এতো ভালো লাগে। রং নেই, ঢং নেই, আজকাল মেয়েদের মতো ন্যাকামিও নেই। এই যে এক পলকে তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছে রং তুলিতে আঁকা সুন্দর নিঁখুত একটা ছবি।

ওলীদ সেই দিন বাথরুমে লোকটাকে খুন করে বের হতেই সে প্রথম রিমিকে দেখলো। পেট চেপে চোখ, মুখ কুঁচকে টুকটুক করে হাঁটছে। আর এদিক ওদিক তাকাছে। প্রথমে সে বিরক্ত হলো। বিরক্ত মুখেই সাইডে চেপে দাঁড়ালো। কাজের সময় ঝামেলা তার ভালো লাগে না।

কিছুক্ষণের মধ্যেই রিমি চলে যেতে নিলো। যেতে যেতে কেন জানি আবার ফিরে তাকালো। তখনি সে বাথরুমটা দেখলো। জীবনে প্রথম বাথরুম দেখে কাউকে সে এতো খুশি হতে দেখলো।

তখন অজান্তেই সে হেসে ফেললো! হাসতেই তার মনে একটা প্রশান্তি ছেয়ে গেলো। কতোদিন সে মন থেকে হাসে না। তার যে জীবন, দিনরাত অভিনয় করতে হয়। ভালো মানুষ হওয়ার অভিনয়।

তারপরেই রিমি এগিয়ে এলো। বাকি সব হলো। তার একমন বললো ” শেষ করে দে ” আরেক মন কিছুতেই সায় দিলো না।

সব সময় সে ঠান্ডা মাথায় এক মনে কাজ করে। সেই দিন কি হলো কে জানে। তার ভেতরের অন্য একটা মন। যাকে সে চেনে না। বিদ্রোহ করে উঠলো। কিছুতেই কিছু করতে পারলো না। তা না হলে রিমির গল্প সেইদিন সেখানেই শেষ। কেননা, খুন করতে তার হাত কখনো কাঁপে না। দু- মন দুয়াশায় ভোগে না। বরং উপভোগ করে। সেই দিন প্রথম তার হাত কাঁপলো। দু- মন দুয়াশায় ভুগলো।

চৈতির ধোকার পরে কোন মেয়ে বা মেয়েদের শরীর তাকে কখনো টানে নি। এমনকি চৈতিও না। যখন তিলে তিলে মেরেছে তখনও না। তার প্রতিটি অঙ্গের উপরে যখন ধীরে ধীরে এসিড ফেলেসে। তার চিৎকার মনে যে প্রশান্তি দিয়েছে। তার ধবধবে ফর্সা নিখুঁত শরীর দেখে সেই শান্তি অনুভব হয়নি। এমনকি একবারের জন্য আকর্ষণও করেনি।

ছোট বেলা থেকেই সে বৈষম্যের শিকার। অতিরিক্ত কালো। তার মধ্যে ফেস কাটিংও খুব একটা ভালো না। যেখানেই যেতো সবাই অন্য ভাবে তাকাতো। ছোট বেলা তার নাম ধরে ডেকেছে খুব কম সংখ্যক মানুষই। সবাই ডাকতো কাইল্যা বলে। তাদের এলাকায় ওলীদের চেয়ে কাইল্যা ওলীদ বললেই সবাই তাকে চেনে । প্রথম প্রথম কষ্ট পেতো, মন খারাপ হতো, পরে ধীরে ধীরে সয়ে গেছে। তার স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি সব জায়গা গেছে মানুষের হাসির খোরাক হিসেবে । অন্যরা হেসেছে, মজা করেছে। তার কালো রঙের পেছনে একটা মন ছিলো সেটা কেউ দেখেনি।

অবশ্য চেহেরা কাকের মতো হলেও। আল্লাহ মেধা দিয়েছিলেন অসাধারণ। স্কুর থেকে ভার্সিটি সব জায়গায়ই টপ। তাই চাকরি হতে সময় লাগে নি । চাকরি হলো, মা বিয়ে ঠিক করলো। চৈতিকে দেখে প্রথম মনে হলো। তার এক জীবনের দুঃখ বুঝি ঘুচলো।

প্রথম বার স্বপ্ন দেখলাম , ঘর বাঁধলাম, একটু একটু করে সংসার সাজাতে লাগলাম। চৈতি আসবে তার সংসার হবে,বাচ্চা হবে, সুন্দর একটা পরিবার হবে। কোন কষ্ট আর তাকে ছুঁতে পারবে না।

চৈতির বাবা, মা নেই। ভাইয়ের সংসারে থাকতো। বিয়ে নিয়ে সে কোন অমত করলো না। শুধু বললো ” লেখাপড়া সে শেষ করে বিয়ে করতে চায়। ওলীদ অমত করেনি। লেখাপড়া করতে চায় করুক। সে অপেক্ষা করবে।

সেই চৈতিও তাকে ধোকা দিলো। লেখাপড়া শেষের মাথায় এক ছেলেকে লুকিয়ে বিয়ে করে ফেললো। ছেলে সুন্দর, স্মার্ট। আমার মতো কাইল্যার সাথে তার যায় নাকি। তার একটু সময়ের প্রয়োজন ছিলো। তাইতো এতো নাটক। ভালোবাসার নাটক।

সেই নাটকের শুরুতো চৈতি করেছিলো। শেষ করেছে সে। অনেক যত্ন করে। প্রমাণ ছিলো না। থাকার কথাও না। সে, যে কোন কাজই করে খুব নিঁখুত ভাবে। তবে সন্দেহের বসে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। জেলে পরিচয় হলো একজনের সাথে। সেও তার মতোই ছিলো। তার হাত ধরেই তার দ্বিতীয় জীবন শুরু । টাকার বিনিময়ে মানুষ হত্যা।

হত্যাটা টাকার বিনিময়ে হলেও, যখন মানুষ গুলো মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করে। তখন তার দেখতে ভালো লাগে। রক্তের ধারা যখন দেহ থেকে স্রোতের মতো বেরিয়ে আসে। একটা প্রশান্তি তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই প্রশান্তি, দুনিয়ার কোন নেশা দ্রব্যর পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। রক্তের নেশা যে বড় নেশা। তাই তো অল্প সময়ের মধ্যে সে অন্ধকার জগৎতে অনায়াসেই ছড়িয়ে গেলো।

কখনো কোন ক্লু নেই, ভুল নেই। ধরা পরার কোন চান্সই নেই।

সেই দিন রিমিকে ছেড়ে এলো। কেন জানি আর মাথা থেকে বেরই হলো না। পুলিশের ইউনিফর্ম গায়ে ছিলো। খুঁজে পেতে সময় লাগলো না। সে দিন জেনে শুনেই সে শপিংমলে গিয়েছিলো। সামনে যাওয়ার অবশ্য ইচ্ছে ছিলো না। কিন্তু শাড়ি পরা আনমনে কাচের জানালার পাশে বসা এই মানবিকে দেখে সে আর নিজেকে আটকাতে পারেনি। অনেক অনেক দিন পরে কোন নারী তাকে টানলো। সে উপেক্ষা করবে কিভাবে?

সেটাই তো তার করা দ্বিতীয় জীবনের প্রথম ভুল। সেই ভুল থেকেই শুরু। ফোন করা, এক্সিডেন্ট সব ছিলো নাটক। রিমিকে কাছে পাওয়ার নাটক। তার ধারণা ছিলো রিমি তার প্ল্যান মতোই চলছে।ধীরে ধীরে তার দিকে এগুচ্ছে। কিন্ত শেষে এসে দেখলো, সে ই চলছে এই মেয়েটার প্ল্যানে। ভাবা যায়?

কি নিখুঁত অভিনয়। না! সব অভিনয় ছিলো না। ছিলো না বলেই সে ধরতে পারেনি। একমাত্র তার মায়ের পরে রিমিই একমাত্র মেয়ে যে তার গায়ের রং দেখেনি, চেহেরা দেখেনি। মন দেখতে চেষ্টা করেছে। খুনি জানা সত্বেও তার চোখে মায়া খুঁজেছে। এই মায়া আর কেউ না বুঝুক ওলীদ বুঝে। ছোট বেলা থেকে এতো এতো ঘৃণা, উপেক্ষা, উপহাস দেখেছে। মায়া দেখলেই চট করে মনে গেঁথে যায়। তাইতো রিমি যাই করেছে সে ধরতে পারিনি । তা না হলে ওলীদকে ধোকা দেওয়া এতো সোজা না।

ওলীদ ঝট করে আবার উঠে দাঁড়ালো। দাঁড়াতেই হাত থেকে হাতুড়ি পড়ে গেলো।

রিমি হালকা কেঁপে উঠলো। কেঁপে ভ্রু কুঁচকে তাকালো! কি হচ্ছে, কি হবে, সে এখনো ঠিক ধরতে পারছে না। ওলীদ চাইছে টা কি?

ওলীদ অবশ্য কিছু খেয়াল করলো না। আপন মনে ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথা কিছুক্ষণ পায়চারি করলো । যেন কিছু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। নিজের চুল নিজেই কিছুক্ষণ টানলো। টেনে আবার ঝট করে একেবারে রিমির সামনে এসে বসলো। চোখে চোখ রেখে বললো, —- আমার সাথে যাবে রিমি? আমরা অনেক দূরে চলে যাবো। কেউ চিনবে না। কেউ জানবে না। তুমি যা চাইবে সব দেবো। যেমন চাইবে তেমনি থাকবো, চলো না রিমি, প্লিজ।

রিমি প্রথমে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। সব কিছু এতো তাড়াতাড়ি হচ্ছে, তার মাথায় সব জট পাঁকিয়ে যাচ্ছে।

ওলীদ একহাত রিমির গালে রাখলো! রেখে কোমল সুরে বললো, — যাবে রিমি? আমরা আমাদের নতুন একটা দুনিয়া বানাবো। সেখানে কোন কষ্ট তোমাকে আমি ছুঁতে দেবো না।

রিমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো, নিজেকে ধাতস্থ করলো। তারপর বললো, — সব দেবেন?

ওলীদ পাগলের মতো মাথা নাড়ালো। রিমি আস্তে করে মাথা নাড়িয়ে গালে থেকে হাত সরালো। সরিয়ে বললো, — কি দিয়ে? মানুষের রক্তে রাঙানো টাকা দিয়ে।

ওলীদ নিষ্পলোক ভাবে তাকিয়ে রইলো। কিছু বলতে পারলো না।

— ঠিক আছে টাকার কথা বাদ। টাকা সামান্য জিনিস। আপনি ওলীদ আশফাক! বড় মাপের মানুষ। সব পারেন! আপনার বুদ্ধি, আপনার নিঁখুত কাজ নিয়ে আপনার খুব অহংকার। তাহলে যেই মানুষগুলোকে হত্যা করেছেন , তাদের জীবন ফিরিয়ে দিন। মানুষের জীবনতো আপনার কাছে খুবই তুচ্ছ । খুশি খুশি নিয়ে নেন। এই তুচ্ছ জিনিস গুলো ফিরিয়ে দিন। কথা দিলাম, নিজ ইচ্ছায় আমি আপনার সাথে যাবো।

ওলীদের চোয়াল শক্ত হলো। রিমি বুঝলো তবুও নিজের মতো করেই বললো, — পারবেন না জানি। পারার কথাও না। মানুষ হত্যা করা খুব সহজ ওলীদ। একটু চেষ্টা করলেই পারা যায়। কিন্তু হাজার চেষ্টা করলেও তা আর ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।

রিমি একটু থামলো! তার গলা শুকিয়ে আছে। কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। সে ঢোক গিলে আবার বললো, — ভালোবাসা ভালো। তবে ভয়ংকর ভালোবাসা ভালো না। আমার মাও একজনকে ভালোবেসে ছিলো। আপনার মতো ভয়ংকর ভাবে। তাকে পাওয়ার জন্য সে সব করেছে। দিন শেষে সে শূণ্য। নিজের ভালোবাসা, পরিবার, সমাজ সবার চোখে সে বিষাক্ত। তাই আমাকে যেতে দিন ওলীদ। জোর করে জীবন নেওয়া যায়। ভালোবাসা যায় না, ঘর বাঁধা যায় না।

ওলীদ হেসে ফেললো! হো হো করা হাসি। এক চোট হেসে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, —- জোর করে ঘর বাঁধবো তোমাকে কে বললো? জোর করে করার ইচ্ছা থাকলে চৈতির সাথেই তো করতাম তাই না। শেষ সময়ে কতো মিনতি করেছিলো বেচারি, জানো তুমি ? তাকে যেনো আরেকবার সুযোগ দেই। আমি যেমন চাই সেভাবেই নাকি থাকবে। কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগ তো ওলীদ কাউকে দেয় না। তবে তোমার কথা ভিন্ন। ভালোবাসি তো! তাই প্রথম শুধু তোমাকেই দ্বিতীয় সুযোগটা দিলাম। যেটা তুমি হারালে।

রিমি তাকিয়ে রইলো! ওলীদ কি বলতে চাইছে এখন সে বুঝলো। তাবে কেন জানি এবার আর ভেতর কেঁপে উঠলো না। তার মুখ শান্ত। একেবারেই শান্ত। ঐ যে অসীম এক ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছে। কারণ উপরওয়ালা তো জানের, কষ্টের এক সাগর তাকে পাড়ি দিতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে কিভাবে?

সাব্বিরের বাসায় ফিরতে ফিরতে বারোটা বেজে গেলো। আড্ডার শেষে সবাই রেস্টুরেন্ট গিয়েছিলো। খেয়ে দেয়ে ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেছে।

দরজা খুললো নিসা! এতো রাতে কারো জেগে থাকার কথা না। সে নাঈমকে তুলোধূনো করতে করতে উপরে গেলো।

সাব্বির হাসলো! তখনি তার রিমির কথা মনে পড়লো। এতোক্ষণে তো এসে পড়ার কথা। সে কল দিতে দিতে উপরে উঠতে লাগলো। ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা কে জানে? এই মহারাণীর যে ঘুম। কেয়ামত হলেও কিছু বলতে পারবে না।

সাব্বির সিঁড়িতেই থমকে দাঁড়ালো। মোবাইল এখনো বন্ধ। তার কপালে ভাঁজ পড়লো। সে এগিয়ে রিমির রুমের সামনে গেলো। দরজায় হাত রাখতেই খুলে গেলো! অন্ধকার রুম, কেউ নেই। না থাকারই কথা। এই মেয়ে রুমে এসেই প্রথম যে কাজটা আগে করে, সেটা হলো দরজা লক।

সে সাথে সাথেই থানায় ফোন করলো। রিং হচ্ছে কারো ধরার খবর নেই। তার মেজাজ খারাপ হলো। সে আবার ফোন দিলো। ঘুম জড়ানো কন্ঠে একজন হ্যালো বললো।
— আমি কনস্টেবল রিমির বাসায় থেকে বলছি। তাকে কি একটু দেওয়া যাবে?

রুমেল ঝট করে চোখ খুললো। আজকে তার নাইট ডিউটি ছিলো। এতো রাতে রিমির বাসায় থেকে ফোন। কোন সমস্যা? তার ঘুম কেটে গেলো। সে তড়িঘড়ি করে বললো, — কেন কি হয়েছে?

— সে এখনো বাসায় ফেরেনি। মোবাইলটাও বন্ধ। কোন কাজে বেড়িয়েছে?

রুমেল অবাক হয়ে বললো, —- না! আজকে সেরকম কোন কাজই ছিলো না। যতোদূর জানি সে তো সন্ধ্যায় ই বেরিয়ে গেছে।

সাব্বিরের ভ্রু কুঁচকে গেলো। আজকে আবার এই মেয়ে কোথায় গেলো? তারপর বললো, — একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন প্লিজ। কোন অফিস্যারের সাথে কাজে গিয়েছে কি না?

রুমেল ভাবলো! এমন হওয়ার চান্স আছে। শামীম স্যারের সাথে উঠছে বসছে। এ আবার কাউকে কিছু বলে না। সব করে পেটেপেটে। সে গদগদ হয়ে বললো,
— আমি দেখছি! চিন্তা করবেন না। খোঁজ নিয়ে আমি এখনি জানাচ্ছি।

সাব্বির ফোন রাখলো। সে কি করবে বুঝতে পারলো না। রিমি হঠাৎ হঠাৎ এখানে ওখানে যাওয়ার অভ্যাস আছে। তবে কখনো তো ফোন অফ করে না। তার ভেতরে কিছু একটা খুট খুট করতে লাগলো। কোথায় তুমি রিমি?

চলবে……