আমার নিঠুর মনোহর পর্ব-২৩+২৪

0
32

#আমার_নিঠুর_মনোহর
#লেখিনীতে_জেনিফা_চৌধুরী
#পর্ব_তেইশ
[১৮+এলার্ট]

“মা হওয়ার স্বাধ নেওয়ার ইচ্ছে প্রত্যেকটা মেয়ের থাকে। আমারো আছে। কিন্তু একটা নতুন প্রাণ জন্ম দেওয়ার মতো ক্ষমতা বা সময় এখন আমার নেই, মাস্টার মশাই। তাই আমি আপনার সিদ্ধান্ত সসম্মানে মাথা পেতে নিলাম।”
তারিনের মুখ থেকে বাক্যগুলো শুনতেই তামজিদের ঠোঁটে কোনে হাসি ফুটলো। তামজিদ শক্ত করে তারিনকে জড়িয়ে ধরলো। চুমু এঁকে দিলো সারা মুখশ্রীতে। তারিনের কানে কানে বলে উঠল,
“কিন্তু আমার যে তোমাকে আদর করার বড্ড শখ জেগেছে।”
তারিন লজ্জা পেলো। লজ্জায় তামজিদের কাঁধে মুখ লুকালো। তামজিদ তারিনের ঘাড়, গলায় চুমুর বর্ষণ শুরু করলো। তামজিদ খুব যত্নে তারিনকে শুইয়ে দিলো। লজ্জায় চোখ জোড়া খোলার সাধ্য নেই ওর। তারিনের সেই লজ্জা মাখা মুখশ্রী দেখে তামজিদের নিজেকে সামলানো ক্ষমতা হলো না। মুহূর্তেই তারিনের ঠোঁট জোড়া নিজের করে নেওয়ার আগ মুহূর্তে তারিনের কানে ফিসফিসিয়ে বলে উঠল,
“আমার শরীরের ভার বহন করতে পারবে তো, আমার চাঁদ?”
তারিন উত্তর দিতে পারলো না৷ গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। লজ্জায় তামজিদের দুই বাহু শক্ত করে চেপে ধরলো। তারিনের চুপ থাকার মাঝেই সম্মতি বুঝে নিলো তামজিদ। অতঃপত ডুবে গেলো তারিনের দেহের প্রতিটি অঙ্গে। দুটি আত্মা মিশে একাকার হয়ে গেলো মুহূর্তেই৷ ডুবে গেলো ভালোবাসার এক গভীর অনুভূতির সাগরে।



সকালে তারিন গোসল সেরে বের হতেই দেখলো তামজিদ বিছানায় ঘুম ঘুম চোখে বসে আছে। তারিনের কাঁপড়ের আঁচলটা খানিক সরে যাওয়ায় ফর্সা পেট বের হয়ে আছে। তামজিদের নজর সেদিকে যেতেই তামজিদ হাস্যজ্বল স্বরে বলল,
“রাতে আদর খেয়ে বুঝি মন ভরে নি? এখন আবার আমাকে পাগল বানাবে নাকি?”
তামজিদের এমন বেফাঁস কথা বার্তা শুনে তারিন লজ্জায় বার বার নুয়ে পড়ছে। তবুও কোনোরকমে বলে উঠল,
“এসব আবোলতাবোল কথা বাদ দিয়ে। ফ্রেশ হয়ে আসুন।”
তামজিদ বিছানা ছেড়ে এসে তারিনকে ধরার জন্য হাত বাড়াতেই তারিন দূরে সরে গেলো। নাক মুখ কুঁচকে বললো,
“একদম ছোঁবেন না।”
তামজিদ প্রথমে ভড়কে গেলেও পরে ঠিক বুঝে নিলো তারিন কেন এ কথা বলেছে। অতঃপর একটা মেঁকি হাসি দিয়ে তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। তামজিদ বের হতে হত্র তারিন নামাজ আদায় করে নিলো। মাথায় প্যাঁচানো ভেজা তোয়ালেটা খুলে বেলকনিতে চলে গেলো। তখনি পেছন থেকে দুটো হাত তারিনের কোমর প্যাঁচিয়ে ধরতেই, তারিন হাস্যজ্বল স্বরেই বলে উঠল,
“এখন ঢং করার সময় না, জনাব। তাড়াতাড়ি নামাজ পড়ে নিন। তারপর আমার সাথে রান্না ঘরে চলুন।”
তামজিদ তারিনের কাঁধে থুতনি রেখে জিজ্ঞেস করলো,
“রান্না ঘরে আমি কেনো যাবো?”
তারিন এবার তামজিদের দিকে মুখ ফিরে, বেলকনির গ্রীলে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালো। তামজিদের দুই কাঁধে হাত রেখে বলে উঠল,
“কারণ, আপনি আজকে আমাদের সবার জন্য নাস্তা বানাবেন। রুটি, ভাজি আর চা। আর আমি দুপুরের জন্য রান্না করবো।”
কথাটা শুনেই তামজিদের মুখটা চুপসে গেলো। চুপসানো মুখে বলল,
“বানাতে পারি। তবে একটা শর্ত আছে।”
“কী শর্ত, শুনি?”
তামজিদ অসহায় মুখ ভঙ্গি করে বলল,
“আমার রুটি গোল হয় না।”
“তো কি হয়েছে?”
তামজিদ পুনরায় চুপসানো মুখে বলল,
“না মানে, আঁকাবাঁকা রুটি দেখে একদম মজা নেওয়া যাবে না।”
কথাটা শুনে তারিন ফিক করে হেসে দিলো৷ তারিনকে হাসতে দেখে তামজিদ মিছিমিছি রাগ করলো। তারিনকে ছেড়ে দিলো। মুখ গোমড়া করে বলল,
“এই যে এখনি শুরু হয়ে গেছে। যাও তোমার রান্না তুমি একা করো। আমি পারবো না।”
তারিন কিছুক্ষণ হেসে নিয়ে, বহু কষ্টে হাসি থামালো। তামজিদের গাল দুটো টেনে দিয়ে বলে উঠল,
“আচ্ছা, আচ্ছা। মজা করবো না। হাসবো না। হাসো দেখি। স্মাইল।”
বলে তারিন ঠোঁটে চওড়া হাসি টানলো। তারিনের মিষ্টি হাসিতে তামজিদ আর নিজের রাগ ধরে রাখতে পারলো না। ঠোঁটে কোনে হাসি ফুটলো। তারিনের কপালে চুমু এঁকে দিয়ে বলে উঠল,
“আজ থেকে আমাকে তুমি করেই বলবে। ঠিক আছে?”
তারিন কিছুটা আপত্তি জানিয়ে বলল,
“কিন্তু…? ”
তামজিদ তারিনের ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে থামিয়ে দিলো। কড়া আদেশে বলল,
“কোনো কিন্তু নেই। আমি বলেছি মানে সেটাই ফাইনাল। আন্ডারস্ট্যান্ড?”
তারিন হেসে দুষ্টুমির স্বরে বলল,
“ইয়েস, স্যার।”
তামজিদকে ‘স্যার’ বলে সম্মোধন করার তামজিদ আপত্তি জানালো। বলল,
“স্যার বলবে না।”
তারিনও আগের ন্যায় দুষ্টুমির ছলে বলল,
“তাহলে কি ভাইয়া বলব?”
তামজিদ এবার রাগী দৃষ্টিতে তাকালো তারিনের দিকে বললো,
”একদম না। বরকে ভাইয়া বলতে নেই। জানো না তুমি?”
“তাহলে দাদা ভাই অথবা নানাভাই ডাকি?”
তামজিদ এবার রাগে ফোসফাস করতে করতে তারিনের গলায় জোরে কামড় বসিয়ে দিলো। সাথে সাথে তারিন ব্যাথায় ‘আহঃ’ করে মৃদু শব্দ করে উঠল। চোখের কোনে পানি জমে গেলো মুহূর্তেই৷ তামজিদ তারিনের ব্যাথাতুর স্বর শুনে মাথা উঠালো। তারিনের চোখে পানি দেখে ঘাবড়ে গেলো। সাথে সাথে গলার দিকে তাকাতেই দেখলো জায়গাটা লাল হয়ে রক্ত বর্ণ ধারণ করেছে। সাথে সাথে তামজিদের মুখটা চুপসে গেলো। অসহায় চোখে তাকালো তারিনের দিকে। অসহায়ের মতো জিজ্ঞেস করলো,
“বেশি লেগেছে? স্যরি! আমি বুঝতে পারিনি। প্লিজ, কান্না করো না। দাঁড়াও আমি মলম এনে লাগিয়ে দিচ্ছি।”
বলেই রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই তারিন তামজিদের হাত ধরে থামিয়ে দিলো। হাসি মুখে বলল,
“কয় জায়গায় মলম লাগাবেন, জনাব?”
কথাটার মানে বুঝতে তামজিদ কয়েক সেকেন্ড সময় নিলো। রাতে কথা মনে পড়তেই হেসে ফেললো। তারিনের কোমড় জড়িয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে মিনমিনিয়ে বলে উঠল,
“আদরের ডোজ কি বেশি হয়ে গেছে, আমার মনোহরিণী?”
তারিন লজ্জা পেয়ে তামজিদকে দুই হাত ঠেলে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলল,
“আমার রান্নাঘরে প্রচুর কাজ আমি গেলাম।”
বলেই তারিন আর এক মুহূর্তে দাঁড়ালো না সেখানে।



তারিন ড্রয়িংরুমে এসেই ধপ করে সোফায় বসে পড়লো। পেটে ব্যাথায় সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। তবুও তামজিদের সামনে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে নিজেকে সামলে রাখার। কিছুক্ষণ চুপ চাপ কোমর চেপে সেখানে বসে রইলো। এই ব্যাথা নিয়ে কাজ করবে কি করে ভেবে পাচ্ছে না। কিন্তু কিছু করার নেই। তারিন ছাড়া এ সংসার সামলানোর কেউ নেই। তারিন উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি ঢকঢক করে গিলে ফেললো। তারপর জাহেলার রুমে গিয়ে তাকে ডেকে তুললো। কিছু কাজের কথা বলে, আমজাদ সাহেবের রুমের দিকে গেলো। দেখলো সে নামাজ পড়ে তাসবীহ পড়তে পড়তে রুম দিয়ে হাঁটছেন। তারিনকে দেখেই মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন,
“কেমন আছো, মা?”
তারিন মিষ্টি হেসে জবাব দিলো,
“আলহামদুলিল্লাহ, বাবা। আপনার শরীর ঠিক আছে? রাতে ঘুম হয়েছিলো? কোনো সমস্যা হয় নি তো?”
আমজাদ সাহেব হাসলেন। যেদিন থেকে বর্ষা বেগম মারা গেছেন৷ সেদিন থেকে প্রতিদিন সকালে উঠে তারিনের এই প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হতে হয় তাকে। তারিনের প্রশ্নের উত্তরে সে আলতো হেসে বললেন,
“একদম ঠিকঠাক আছি, আলহামদুলিল্লাহ।”
তারিন প্রতিউত্তরে হাসলো। রুমে প্রবেশ করে ওষুধের বক্স থেকে একটা ওষুধের পাতা বের করে, ট্রি-টেবিলের উপর রাখলো। পাশে এক গ্লাস পানি রাখলো। তারপর কড়া স্বরে বলল,
“নাস্তা করতে যাওয়ার আগে এটা খেয়ে তারপর রুম থেকে বের হবেন, বাবা৷ মনে থাকবে তো?”
আমজাদ সাহেব হেসে জবাব দিলেন,
“আমার মা আদেশ দিয়েছে। আমি না মেনে থাকতে পারবো নাকি, বলো? আমার ঘাড়ে কটা মাথা আছে শুনি?”
তার কথা শুনে দুজনেই একসাথে হেসে উঠলো৷ তারিন এবার রান্নাঘরে যেতেই দেখলো জাহেলা সব সবজি কা’টতে ব্যস্ত৷ তারিন তার উদ্দেশে বলে উঠল,
“আমি ফ্রীজ থেকে মাছ নামিয়ে দিলে আমাকে একটু কে’টে দিবেন, আপা?”
জাহেলা প্রতিউত্তরে চওড়া হেসে উত্তর দিলো,
“কি যে কও তুমি বইনা? তোমার লেইগা আমার জানডাও হাজির। তোমার মতোন মাইয়া পাওন বড়ই ভাগ্য ব্যাপার। আমাগো ভাইজানের ভাগ্যডা সোনায় সোহাগা___এর ল্যাইগাই তোমারে পাইছে। তোমার মতোন এত্ত ভালা ব্যবহার কেউ আমার লগে কোনোদিন করে নাই। আর তুমি আমারে জিগাও মাছ কাই’টা দিমু নাকি? তুমি খালি আমারে হুকুম করবা আমি সব কইরা দিমু। বুজ্জনি?”
তারিন হাসলো। বিয়ের পর থেকেই জাহেলা যখনি সুযোগ পাবে তারিনের নামে গুনগান গাওয়া শুরু করে দিবে। এটা আজ নতুন কিছু না৷ তারিন এসবে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে আজকাল। রুটি বানানোর জন্য ময়দা মাখতে গিয়ে তারিন বার বার দাঁতে দাঁত চেপে সোজা হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷ ব্যাথাটা কিছুতেই কমছে না। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না? লজ্জায় তামজিদের সাথে বিষয়টা শেয়ার করতেও পারছে না৷ তবুও জাহেলার সাথে টুকটাক কথা বলছে আর ময়দা মাখছে। এর মধ্যেই তামজিদ সেখানে উপস্থিত হয়। হাতে একটা হট ওয়াটার ব্যাগ। তারিন তা দেখে প্রশ্ন করলো,
“এটা কেনো এনেছেন?”
তামজিদ ছোট্ট করে উত্তর দিলো,
“আমার পিঠে ব্যাথা করছে, তাই সেঁক নিবো।”
তারিন চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করলো,
“পিঠে ব্যাথা করছে মানে? কখন থেকে? আগে তো বললেন না?”
তামজিদ সেসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সোজা জিজ্ঞেস করলো,
“তোমার ময়দা মাখা হয়েছে?”
তারিন হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়াতেই তামজিদ পুনরায় বলে উঠল,
“তাহলে ওখান থেকে সরে আসো। আমাকে আমার কাজ করতে দাও।”
তারিন প্রতিউত্তরে কিছু বলার আগেই তামজিদ তারিনের হাত আলতো টেনে তারিনকে দূরে সরিয়ে আনলো। তারপর চুলায় এক পাতিল গরম পানি বসিয়ে রুটি বানানোর প্রস্তুতি শুরু করলো। তারিনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজে গিয়ে একটা চেয়ার এনে দিয়ে বললো,
“আজকে তোমার ছুটি। আজ আমি আর জাহেলা আপা মিলে রান্না করবো। তুমি বসে বসে দেখবে৷ ঠিক আছে? এখন বসো।”
বলেই তারিনকে কোনো প্রশ্ন না করে চেয়ারে বসার জন্য ইশারা করলো। তারিনও চুপচাপ বসে রইলো। তামজিদ মন দিয়ে রুটি বানাচ্ছে৷ কিন্তু একেকটা রুটির অবস্থা মানচিত্র হয়ে যাচ্ছে৷ তা দেখে তারিন আর জাহেলা হেসে কুটি কুটি হচ্ছে৷ মাঝে মাঝে তামজিদ রাগে ফোস করে উঠলেও ওরা পাত্তা দিচ্ছে না। জাহেলার কা’টাকুটি শেষ হতেই তামজিদ তার উদ্দেশে বললো,
“আপা, গরম পানি টা একটু এই ব্যাগে ভরে দিন। সাবধানে করবেন কিন্তু।”
জাহেলা আদেশ পেয়ে নিজের কাজটা সাবধানেই শেষ করে বললো,
“হইয়া গেছে, ভাইজান।”
তামজিদ হেসে পুনরায় বললো,
“তাহলে এক কাজ করুন। ছাদে টবের গাছ গুলোতে পানি দিয়ে আসুন। আমি এদিকটা সামলে নিচ্ছি।”
জাহেলা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে সেদিকে চলে গেলো। জাহেলা চলে যেতেই তামজিদ হাতটা পরিষ্কার করে চুলাটা নিভিয়ে নিলো। তারিনের ডান হাতের কব্জিতে ধরে বলল,
“উঠো।”
“কোথায় যাবো?”
তারিনের বিস্মিত স্বরের প্রশ্ন শুনে তামজিদ উত্তর দিলো না। শুধু বললো,
“উঠতে বলছি, উঠো। এত প্রশ্ন করো কেনো?”
তামজিদের রাগী স্বর শুনে তারিন আর প্রশ্ন করার সাহস পেলো না। গুটিগুটি পায়ে তামজিদের পেছনে হাঁটা শুরু করলো। নিজের রুমে আসতেই তামজিদ তারিনের হাতটা ছেড়ে দিলো। আদেশ বাক্যে বলল,
“বিছানার উপর গিয়ে চুপচাপ বসে পড়ো।”
তারিন প্রশ্ন করার জন্য মুখ খুলতেই তামজিদ ধমকে উঠে বলল,
“যা বলছি করো। যাও।”
তারিন বিছানার উপর গিয়ে বসতেই তামজিদ হাতের ব্যাগটা বিছানার উপর রাখলো। ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ার থেকে একটা ওষুধের পাতা বের করলো। সেখান থেকে একটা ওষুধ আর এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে তারিনের সামনে ধরলো। থমথমে স্বরে বললো,
“কোনো প্রশ্ন না করে খেয়ে নাও।”
তারিন চুপচাপ খেয়ে নিতেই, তামজিদ পুনরায় আদেশ করলো,
“এবার সোজা হয়ে শুয়ে পড়ো।”
তারিন ভদ্র মেয়ের মতো শুয়ে পড়তেই, তামজিদ এক হাতে তারিনের পেটের থেকে শাড়িটা খানিক সরিয়ে সেখানে পানির ব্যাগটা চেপে ধরলো। তারিন এতক্ষণে সবটা বুঝলো। তার মানে তামজিদ সব বুঝেছে? প্রশ্নোত্তর চোখে তামজিদের দিকে তাকাতেই তামজিদ শান্ত বাক্যে বলতে লাগলো,
“শোনো আমার চাঁদ, আমি তোমার স্বামী। তোমার শারীরিক, মানসিক সবধরনের অস্বস্তি, অসুস্থতার কথা জানার আমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। তুমি কি ভেবেছিলে, আমি তোমার অস্বস্তি বুঝবো না? তোমার ব্যাথাতুর চোখ, মুখ দেখেও বুঝবো না? আমাকে তোমার অবুঝ মনে হয়? আমি বাচ্চা? যে তোমার সর্বাঙ্গে ছোঁয়ার অধিকার রাখে, সে তোমার সর্বাঙ্গের ব্যাথা বোঝার ও ক্ষমতা রাখে। বুঝলে? চুপচাল এটা চেপে ধরে শুয়ে থাকবে। যতক্ষণ না ব্যাথা কমবে ততক্ষণ অব্দি এখান থেকে এক পা ও নিচে নামবে না। কিছুক্ষণ পর যেয়ে আমি পিল এনে দিবো। খেয়ে নিবে। তোমাকে নিয়ে আমি কোনোরকমে রিক্স নিতে চাই না, আমার চাঁদ। একটু সাবধানে থাকবে। কোনো সমস্যা বা অস্বস্তি হলে আমাকে জানাবে। মনের মধ্যে চেপে রাখবে না। আমি ছাড়া এখানে তোমার কেউ নেই। তাই নেক্সট টাইম আমার থেকে কিছু লুকাবে না। বুঝতে পারছো?”
তারিন প্রশান্তির চোখে তামজিদের দিকে চেয়ে আছে। শারীরিক সম্পর্কের পর অনেক পুরুষ ভুলে যায় নারীও ব্যাথা, যন্ত্রণা আছে। তারা নিজেদের খায়েশ মেটানোর পর নারীর মনের খোঁজ নিতেই ভুলে যায়। হেলাফেলায় দূরে ঠেলে দেয়। মাথায় চাপিয়ে দেয় সংসারের বোঝা। অথচ প্রত্যেক পুরুষের উচিত শারীরিক সম্পর্কের পর, নারীর মন ও দেহের খবর রাখা। তাদের যত্ন করা। পাশে থেকে আগলে রাখা। তামজিদের মতো কজন স্বামী পারে, স্ত্রীর চোখের ভাষা বুঝতে? যে পুরুষ স্ত্রীকে দিয়ে শারীরিক চাহিদা মেটানোর পর তার অস্বস্তির দিকে খেয়াল রাখে, সে পুরুষ অবশ্যই প্রকৃত পুরুষ। যে নারী এমন স্বামী পায়, সে নিঃসন্দেহে ভাগ্যবতী। তারিনও ভাগ্যবতী। তামজিদের মতো এত যত্নশীল একজন স্বামী পেয়েছে, আর কি চাই? তামজিদ তারিনের দুই গালে হাত রেখে তারিনের কপালে চুমু এঁকে দিয়ে রান্না ঘরের উদ্দেশে চলে গেলো। যাওয়ার আগে কঠিন হুশিয়ারী বার্তা দিয়ে গেছে অবশ্য৷ তারিনের চোখ থেকে খুশিতে অশ্রুকণা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে।মনে মনে ভাবছে,
“উপর ওয়ালা কষ্টের পর এভাবেই প্রত্যেকটা ঝড়ে পড়া হৃদয়কে শান্তি দেন।”

#চলবে

#আমার_নিঠুর_মনোহর
#লেখিনীতে_জেনিফা_চৌধুরী
#পর্ব_চব্বিশ

“আমাকে ভালোবাসেন, মাস্টার মশাই?”
তামজিদ রান্না করছিলো, আর তারিন পাশেই চেয়ারে বসে ছিলো চুপটি করে। হুট করে এহেতুক প্রশ্ন করতেই তামজিদ ভড়কে তাকালো। অবাক স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
“হঠাৎ এই প্রশ্ন?”
তারিন বিস্তর হাসলো। হাসিমুখে বলল,
“বলুন না, ভালোবাসেন?”
তামজিদ কিছু বললো না। হাতের কাজটুকু শেষ করে এসে তারিনের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো। তারপর আবার কাজে মনোযোগ দিলো। তারিন থেমে থাকার মেয়ে না। পুনরায় আগের ন্যায় প্রশ্ন করল,
“ভালোবাসেন?”
তামজিদ চুপ। দেখে মনে হচ্ছে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছে না। তারিনের এবার রাগ ধরছে শরীরে। কি আশ্চর্য! এত প্রয়োজনীয় একটা প্রশ্ন মানুষটা ঠান্ডা মাথায় এড়িয়ে যাচ্ছে! তারিন এবার উঠে দাঁড়ালো। সাথে সাথে পেট ধরে ‘আহঃ’ বলে শব্দ করে বসে পড়লো। তামজিদ তড়িঘড়ি করে তারিনকে ধরে রাগী স্বরে বলে উঠল,
“তোমাকে উঠতে বলেছে কে? বেশি পাকনামি করো তুমি।”
তারিন চেয়ারে বসে পড়ে। তামজিদের কোমর জড়িয়ে ধরে। তারপর বলে উঠে,
“আমার আপনি আছেন তো। ভয় কিসের?”
তামজিদ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলে পরম যত্নে তারিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
“ভালোবাসা যদি এত সহজ হতো, তাহলে আমরা প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে ভালোবাসতাম। তখন পৃথিবীতে ‘ভালোবাসা’ শব্দটাকে ঘিরে এত আহাজারি, সুখ, দুঃখ থাকতো না, আমার চাঁদ। বুঝলে?”
তারিন নিশ্চুপ। তামজিদ পুনরায় বললো,
“তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী! আমার দুনিয়া ও পরকালের সাথী। আমার হালাল সঙ্গিনী। আমার বৃদ্ধকালের একাকিত্বের বন্ধু৷ তোমাকে ভালো না বাসলে যে উপরওয়ালা নারাজ হবেন।”
তারিন তামজিদকে ছেড়ে দিলো। শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো তামজিদের দিকে। তামজিদ তারিনের দুই গালে হাত রেখে শান্ত বানীতে বলে উঠল,
“এইযে তুমি আমার ব্যক্তিগত চাঁদ৷ আমার ব্যক্তিগত সুখ। আমার বুকের বাম রাজ্যের রানী।”
তামজিদ এবার আলতো স্বরে ‘চাঁদ’ বলে ডেকে উঠতেই তারিন ছোট্ট করে জবাব দিলো,
“হুঁ”
“আমার চাঁদ, শুনবে?”
“বলুন। শোনার জন্যই তো তৃষ্ণার্ত হয়ে আছি, মাস্টার মশাই।”
“তাহলে শোনো?”
“শুনছি।”
“ভালোবাসি, আমার চাঁদ।”
শব্দটা শুনেই তারিন হুঁ হুঁ করে কান্না করে উঠল। আজ এতদিন পর মনের ভেতরে শান্তির বাতাস বইছে। এই একটা শব্দ শুনার জন্য কতদিন তারিন তৃষ্ণার্ত কাকের ন্যায় চেয়ে ছিলো। অবশেষে আজ তৃষ্ণা মিটলো তবে৷ তারিনের কান্না দেখে তামজিদ প্রথমে ঘাবড়ে গেকেও পরক্ষণেই হেসে দিলো৷ তামজিদকে হাসতে দেখে তারিন ভ্রু যুগল কুঁচকে তাকালো সেদিকে। কান্নারত স্বরে প্রশ্ন করলো,
“এভাবে পাগলের মতো হাসছেন কেনো?”
তামজিদ হাসি থামিয়ে উত্তর দিলো,
“এই যে আমার ছোট্ট চাঁদ কেমন বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। অবশ্য সে তো বাচ্চাই।”
তারিন গর্জে উঠে বলে উঠল,
“একদম বাচ্চা বলবেন না।”
তামজিদ এবার তারিনের কানে ফিসফিস করে বলে উঠল,
“যে আমার আদরের ডোজ সহ্য করতে পারে না, সে বাচ্চা নয় তো কি?”
তারিন এবার লজ্জা পেলো। দুজনের খুনশুটি চলতেই থাকলো। তামজিদ আজ এক হাতেই সব রান্নাবান্না করেছে। ঘর গুছানো থেকে শুরু করে সব তামজিদ নিজেই করেছে৷ তারপর দুজনে মিলে গোসল শেষ করে নামাজ আদায় করে নিলো। সবাই মিলে খাবার টেবিলে বসে গল্প সল্প করে খাওয়া শেষ করলো।



বিকেলের চারদিকে পরিবেশে ঠান্ডা বাতাস বইছে। তারিন আর তামজিদ বেলকনিতে বসে আছে। বসে আছে বললে ভুল হবে। তামজিদ খুব যত্নসহকারে তারিনের মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছে। আর তারিনকে বকছে,
“কি করেছো তুমি এতদিনে? চুল গুলো একটুও যত্ন নেও নাই৷ নষ্ট করেছো। আমি থাকতে, আমার বউয়ের এত সুন্দর চুলগুলো অযত্নে নষ্ট হতে দিবো না। আজ থেকে প্রতি সপ্তাহে আমি তোমার চুলে তেল দিয়ে দিবো, শ্যাম্পু করে দিবো। একদম অযত্ন করবে না। বুঝেছো?”
তারিন মাথা নাড়লো। কিছুসময় পর বলে উঠল,
“একটা কথা বলবো?”
“দশটা বলো।”
তারিন হাসল। বলল,
“আমার না ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছে খুব। বাইরে নিয়ে যাবেন?”
তামজিদ সংগোপনে জিজ্ঞেস করলো,
“তোমার শরীর ঠিক আছে?”
তারিন আগের ন্যায় বলে উঠল,
“একদম পারফেক্ট আছে। চলুন না, একটু ঘুরে আসি। বিয়ের পর তো আমরা একদিনও বাইরে কোথাও ঘুরতে যাইনি।”
তামজিদ জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় যাবে বলো?”
তারিন বলল,
“কোথায় যাবো জানিনা। আপনি আর অজানা উদ্দেশ্য হাঁটবো, ঘুরবো, খাবো।”



অতঃপর দুজনেই রেডি হয়ে নিলো। তারিন কালো রঙের একটা শাড়ি পড়েছে। খোঁপায় গোলাপ ফুলের দিয়েছে। চোখে হালকা কাজল ও ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়েছে। দেখতে কী সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে! তামজিদ কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেই মায়াবী মুখপানে। পেছন থেকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ ডুবালো। নেশালো স্বরে বলে উঠল,
“আমাকে সম্পূর্ণ পাগল করে ফেলবে নাকি?”
তারিন হাসলো। খানিকটা লজ্জাও পেলো। লজ্জা মিশ্রিত স্বরে বলল,
“যে এমনিতেই পাগল হয়ে আছে, তাকে আর নতুন করে কিভাবে পাগল করবো?”
তামজিদ হাসলো। ঠোঁট ছোঁয়ালো তারিনের কাঁধে। বলল,
“বেশি পাকা পাকা কথা শিখে গেছো।”
তারিন সে বলল,
“সে আমি ছোট থেকেই বড্ড পাকা।”
দুজনে একসাথে হেসে উঠলো। আমজাদ সাহেব বাহিরে আছেন। হয়তো কোনো চায়ের দোকানে আড্ডা জমাতে গিয়েছেন। জাহেলা ঘুমাচ্ছে। তারিন জাহেলাকে ডেকে দরজা লাগিয়ে দিতে বলে বেরিয়ে গেলো।



দুজনে বেরিয়ে ফুটপাতের রাস্তা ধরে কিছুক্ষণ এগিয়ে যেতেই একটা ফুলের দোকান চোখে পড়তেই তামজিদ তারিনের হাত ধরে সেদিকে গেলো। দোকান থেকে দুটো বেলী ফুলের মালা কিনে একটা মালা তারিনের খোঁপায় খুব যত্ন করে পড়িয়ে দিলো। অন্যটি তারিনের হাতে পড়ালো। তারপর একটা রিকশা নিয়ে দুজনে রমনার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। খোলা আকাশের নিচে, দুজন কপোত-কপোতী রিকশায় চড়ে বসেছে। তামজিদের বাহু জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধে মাথা রেখে আছে তারিন। আধা ঘন্টার মাথায় ওরা এসে পৌঁছালো সেখানে। দুজনেই ভাড়া মিটিয়ে নেমে গেলো। তারিনের হাতটা শক্ত করে ধরে হাঁটা শুরু করলো দুজন মনের আনন্দে। তামজিদও আজ কালো পাঞ্জাবী পড়েছে। দুজন হাজারটা গল্প সল্প করতে করতে হাঁটছে৷ তামজিদ বেশ কিছু ফটোও তুলে দিয়েছে তারিনকে। তারিনের কাছে সময়টা কিছুটা কল্পনার মতো কাটলো।



সন্ধ্যা নেমে এসেছে চারদিকে। দুজনে রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা ফুচকার দোকানে বসেছে। তামজিদ হাঁক ছেড়ে ফুচকা ওয়ালার উদ্দেশ্যে বলল,
“মামা, দুই প্লেট ফুচকা দিবেন। ঝাল কম দিবেন।”
ব্যস! এখানেই বাঁধলো বিপদ। তারিন কিছুতেই ঝাল কম দিয়ে খাবে না। গর্জে উঠে বলে উঠল,
“একদম না, মামা। আমারটায় বেশি ঝাল দিবা।”
তামজিদ ও কম কিসে। সেও গর্জে উঠে বলল,
“না, একদম ঝাল দিবেন না।”
ফুচকাওয়ালা মামা পড়েছে এবার বিপদে। সে কোন দিকে যাবে আসলে বুঝতে পারছে না। কিন্তু শেষমেশ তারিনের রাগের কাছে তামজিদ হার মানলো। ঝাল করেই ফুচকা বানিয়ে দেওয়া হলো। তারিন একেক করে তিন বার টক নিয়েছে। তৃতীয় বারেরটা শেষ করে ঝালে হু হু করতে করতে বলে উঠল,
“মামা, আর একটা টক দাও।”
তামজিদ খাবার রেখে হা করে তাকিয়ে আছে তারিনের দিকে। রাগী স্বরে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো। মাথায় দুষ্টু বুদ্ধিরা ধরা দিলো। তারিনের দিকে ঝুঁকে বলে উঠল,
“এত টক খাচ্ছো যে, ব্যাপার কি?”
ঝালে তারিনের চোখে পানি জমেছে। মুখ লাল হয়ে আছে। তবুও নাকি আরো ঝাল লাগবে। তারিনের ঝাল খাওয়া দেখে তামজিদের ঝাল লেগে গেছে। তামজিদ পুনরায় বলে উঠল,
“এক রাতেই প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছো নাকি, জান?”
কথাটা শোনা মাত্রই তারিনের সব ঝাল মাথায় উঠে গেলো। তৎক্ষনাৎ তড়িৎ বেগে কাশি শুরু হলো। তারিনের কাশি দেখে তামজিদ মুচকি হাসছে৷ আর তারিন একাধারে কাশতে কাশতে ভাবছে,
“লোকটা আজকাল বড্ড ঠোঁট কাটা স্বভাবের হয়ে গেছে।”
তামজিদ তারিনের মাথায় ফুঁ দিতে দিতে ফিসফিসিয়ে বলে উঠে,
“থাক জান, এত তাড়াতাড়ি প্রেগন্যান্ট হয়ে যেও না। তাহলে আমার আদরে আরেকজন ভাগ বসাতে চলে আসবে। তখন আমার কি হবে, জান? আর…।”
তামজিদ আর কিছু বলার আগেই তারিন মুখ চেপে ধরলো। এক গ্লাস ঢকঢক করে গিলে ফেলে, হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
“একদম চুপ। হয়ে গেছে আমার খাওয়া। এবার চলুন। রাত হয়ে গেছে। বাসায় ফিরতে হবে৷ বাবা একা আছেন।”
তামজিদও আর কথা বাড়ালো না। বিল মিটিয়ে দুজনেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। রাস্তায় আসতেই তারিন খেয়াল করলো আজকের চাঁদটা একদম গোল। খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলে উঠল,
“দেখুন, আজ চাঁদকে এত সুন্দর লাগছে! মাশ-আল্লাহ!”
তামজিদ আকাশ পানে তাকিয়ে তারিনকে এক হাতে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
“আকাশের চাঁদের থেকেও আমার ব্যক্তিগত চাঁদ আরো বেশি সুন্দর! মাশ-আল্লাহ!”
তারিন হাসলো। তারিনের মনে হঠাৎ করেই ইচ্ছা জাগলো চাঁদকে সাক্ষী রেখে একটা সুন্দর মুহূর্তে ফোনে ক্যাপচার করার। কিন্তু কে করবে? তামজিদকে ইচ্ছার কথা বলতেই তামজিদের পাশ দিয়ে কয়েকটা ছেলে হেঁটে যাচ্ছিলো৷ ওদের রিকুয়েষ্ট করে বলল, ছবি তুলে দেওয়ার জন্য। চাঁদকে সাক্ষী রেখে দুজনে কয়েকটা ছবি তুলে নিলো। সাথে একটা সুন্দর ভিডিও করে দিলো ছেলেগুলো। যাওয়ার সময় ছেলেগুলোর মধ্যে একজন বলে উঠল,
“আপনাদের দুজনকে একসাথে এত সুন্দর লাগছে। একদম পারফেক্ট। এভাবেই হাসিখুশি থাকুন সারাজীবন।”
প্রতি উত্তরে তামজিদ হেসে ধন্যবাদ জানালো। তারপর দুজনে রিকশায় চড়ে বসলো। কিছু দূর যেতেই হঠাৎ পেছন থেকে একটা দ্রুতগামী সি.এন.জি এসে রিকশায় ধাক্কা লাগালো। তারিন আর তামজিদ কিছু বুঝে উঠার আগেই দুজনেই রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়লো। সাথে সাথে তারিনের মাথা ফেটে র’ক্ত পড়া শুরু করলো। তামজিদের চোখ সেদিকে যেতেই ‘তারিন’ বলে জোরে চিৎকার করে উঠলো। তারিন জ্ঞান হারানোর আগে শুধু খেয়াল করলো চারদিক থেকে মানুষজন ছুটে আসছে। বেশিক্ষণ চোখ খুলে রাখার শক্তি পেলো না। তারিনের মনে হচ্ছে এই বুঝি তারিন দুনিয়ার সব মোহ মায়া ত্যাগ করে বিদায় নিচ্ছে৷ জ্ঞান হারানোর আগে একবার অস্পষ্ট স্বরে থেমে থেনে বলতে লাগলো,
“ভালোবাসি, মাস্টার মশাই।”

#চলবে