আশার হাত বাড়ায় পর্ব-০৩

0
134

#আশার_হাত_বাড়ায় |৩|
#ইশরাত_জাহান
🦋
শ্রেয়া হালকা ঘুরে তাকাতেই দেখতে পেলো রনি ওয়াশরুমের দরজা খুলেছে মাত্র নিজের ফোনটা পাশে রেখে রনির দিকে ঘুরে দাঁড়ায়।রনি ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে দেখে শ্রেয়ার হাতে তার ফোন।রনি ক্ষিপ্ত সুরে বলে,”আনার ফোন তোমার হাতে কেনো?”

নরম সুরে শ্রেয়া বলে,”তোমার বউ হই আমি।তোমার সবকিছুতে তো আমার অধিকার।এটা তো একটা সামান্য ফোন।”

“হেয় লিসেন!তুমি বেশি কথা…”
বলতে না বলতেই রনি দেখলো ওর ফোনের লক খোলা।শ্রেয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,”আমার ফোনের লক খুলেছো কিভাবে?”

“ছোট বোনের থেকে দেখেছিলাম।”

“আজকাল চুরি করে ফোন দেখা শুরু করেছো?”

“বরের বিষয়ে কিছু জানা বা দেখাকে চোর বলেনা রনি।চোর তো তাকে বলে যে বউয়ের পিছনে অন্য মেয়ে নিয়ে নষ্টামি করে।”

রনি ফট করে শ্রেয়ার হাত থেকে ফোন নিয়ে বলে,”দেখে ফেলেছো সব?”

“তোমার কি একটুও খারাপ লাগছে না?তোমার বউ তোমার নষ্টামি সম্পর্কে জানতে পেরেছে।”

তাচ্ছিল্য করে রনি বলে,”তোমার মত মেয়ে জানলেও কি না জানলেও কি?”

শ্রেয়ার চোখ থেকে এবার পানি পড়তে থাকে।সে ভেবেছিলো আজ অন্তত রনি একটু ইতস্তত করবে।কিন্তু না সে তো আরো কঠোর।রনির চোখের দিকে তাকিয়ে শ্রেয়া বলে,”ঘরে বউ রেখে কেনো তুমি বাইরে যাও?কি দোষ আমার?”

“কি আছে তোমার?না আছে রূপ না আছে স্মার্টনেস।”

“তাহলে বিয়ে করেছিলে কেনো?তোমরা পছন্দ করেছিলে বলেই তো বিয়েটা হয়।”

“ওয়ে লিসেন।আমি তোমাকে যখন পছন্দ করি তখন তুমি দেখতে সুন্দরী ছিলে।এখন কি হয়েছো দেখতে পাচ্ছো তুমি?”

চোখের পানি মুছে শ্রেয়া বলে,”এইগুলো কার জন্য হয়েছে রনি?বিয়ের আগে আর বিয়ের পরের জীবন আকাশ পাতাল তফাৎ।আমার বাবা আমাকে রাজকন্যার মতো রাখতো স্বামী এভাবে রাখে না।আমার মা আমাকে রুটি ভাজতে দিলে সে নিজে রুটি বেলত।এখানে আমি রুটি বেলে রুটি ভাজি।আমার বাবা বাজার থেকে মাছ কুটে এনে রান্না করতে বলতো।এখানে আমাকে বাজার করে মাছ কুটে রান্না করতে হয়।আমার বাবার সল্প আয়ে একটা ব্লেন্ডার কিনে রেখেছিলো।এখানে আমাকে প্রতিনিয়ত মশলা কুটে বেটে রান্না করতে হয়।তফাৎ শুধু এগুলোই না তফাৎ আরো আছে।আমাদের বাসায় যার যার পোশাক সে ধুত।এখানে কি হয়?এখানে তোমার পোশাক মায়ের শাড়ি তো আছেই সাথে দুই বোনের পোশাক আমাকে ধুতে হয়।আমাদের বাসায় আমার ওই ছোট বোন আমার মা আর আমি তিনজন মিলে কাজ ভাগাভাগি করতাম।এখানে ঘর মোছা থালাবাটি ধোয়া এসব আমার করতে হয়।তোমাদের বাসায় কিছু রান্না হলে আগে ভালো ভালো মাছের পিচ মাংসের পিচ সব তোমরা বেছে বেছে খাও আমাকে কখনও খেতে বলোনা।এই আঙুল দিয়ে আমাকে পেঁয়াজ রসুন কুচি করতে হয়।এই হাত তুমি কিভাবে পার্লার সুন্দরীদের মতো দেখতে চাও?এই মুখ সারাক্ষণ চুলার পাশে থেকে ঘেমে যায় আর তেলতেলে হয়।তাহলে তুমি কিভাবে সৌন্দর্য খুঁজো?এই শরীর আমাকে খেটে খেটে তারপর দুমুঠো খাবার দেয়।তাহলে তুমি কিভাবে দেখতে চাও একটা স্লিম ফিটনেস বডি?আরে তোমার ফোনের যে সুন্দরী মেয়ে তার মতো করে থাকার মতো ব্যাবস্থা আমাকেও করে দেও দেখবে আমি কোনো অংশে কম না।আমাকেও একটা কাজের বুয়া এনে দেও দেখবে আমিও একটু নিজের পিছনে সময় দিতে পারবো।আমাকে একটু নিজের রূপ চর্চার সামগ্রী এনে দেও দেখবে আমিও পরিপাটি থাকবো।তোমরা ছেলেরা বাইরের চাকচিক্য দেখো আর ঘরের বউয়ের কিসে সৌন্দর্য্য বাড়বে এটা কেনো দেখো না?”

“বেশি মুখ ফুটেছে মনে হচ্ছে।”

“আমিও মানুষ রনি।দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমার। দয়া করে এবার আমাকেও একটু সুখে থাকতে দেও।অন্য নারীদের না দেখে একটু বউকে দেখো।তোমার বউ তোমার মন মতোই থাকতে চায়।নোংরামি করো না।”

আর বলতে পারে না শ্রেয়া।ঠাস করে থাপ্পড় মারে রনি।অনেক জোরেই মেরেছে।শ্রেয়া ছিটকে পড়ে যায়।তারপর শ্রেয়ার চুলের মুঠি ধরে হেঁচকা টান দিয়ে রনি বলে,”তোকে বিয়ে করেছিলাম কারণ তুই ঘরকুনো।গ্রাম থেকে পড়াশোনা করেছিস বাইরের বিষয় কম বুঝিস এই দেখে।সমাজের লোক জিজ্ঞাসা করলে বলবো আমার বউ বিবিএ করেছে ব্যাস এইটুকু।তোর কাজ স্বামীর সেবা করা সংসার দেখা এর বেশি না।বেশি পক পক করলে আরো মার খাবি।তাই চুপ থাকবি।”

বলেই ঝটকা মেরে শ্রেয়াকে সরিয়ে দিলো রনি।ফোন নিয়ে বাইরে চলে যায় সে।শ্রেয়ার নিজেকে অসহায় লাগছে।কিন্তু আজ আর সে এই অসহায়তা ধরে রাখবে না।টেবিলের কোনায় বইয়ের আড়াল থেকে নিজের ফোন বেড় করে ভিডিও সেভ করলো শ্রেয়া।ওই সময় হালকা ঘুরে রনির পজিশন দেখতে চেয়েছিলো।রনি ওয়াশরুম থেকে বেড় হওয়ার আগেই শ্রেয়া ফোনের ভিডিও চালু করে রাখে।ইচ্ছা করেই রনির ফোন হাতে রেখে রনির সামনে সব স্বীকার করে নিলো।প্রতিদিন সহ্য করার থেকে আজ সে শেষবারের মতো কষ্ট সহ্য করলো। এখান থেকে যাওয়ার আগে এদের একটা শিক্ষা দিবে শ্রেয়া। এখান থেকে গেলে আরো একটা মেয়ে আসবে।হয়তো শ্রেয়ার থেকেও অসহায় কেউ।যেখানে সে এতকিছু সহ্য করেছে অন্য কাউকে কিভাবে ভুগতে দেয়?তাই এই রনির আসল রূপ সমাজকে দেখাবে।সমাজের নোংরা মানুষের আসল রূপ সবার দেখা উচিত।তাদের পাপের প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করা উচিত।ভিডিওটা শ্রেয়া অর্পাকে পাঠিয়ে দেয়।

ব্যালকনিতে দাড়িয়ে পুরো ভিডিও দেখলো অর্পা।তার চোখ দিয়ে পড়ছে পানি।শ্রেয়াকে এভাবে ট্রিট করলো রনি।ইচ্ছা করছে রনিকে কষিয়ে থাপ্পড় দিতে।অর্পা লিখে দেয়,”তুই চিন্তা করিস না।ওর সবকিছু ফাঁস তো হবেই আর তোর চাকরির ব্যাবস্থা হয়ে যাবে।”

“আমি এখান থেকে বেড় হয়ে যেতে চাই।একটা থাকার জায়গা খুঁজে দিবি?”

“মিরাজের সাথে কথা বলে তোর জন্য ছোট একটা বাসা দেখবো।আমি এটা আগে থেকেই ভেবে রেখেছি।তোর সুখের পথে আসার আগে তো অনেক ব্যাবস্থাই করতে হবে।এটুকু চিন্তা আমারও আছে।”

“অনেক ভালোবাসা তোর প্রতি আমার।আমাদের বন্ধুত্বে থ্যাঙ্ক ইউ সরি এগুলো এলাউ না তাই তোকে ওগুলো বলছি না।”

“তুই চাকরি পেয়ে প্রথম যে সেলারি পাবি ওটা দিয়ে আমাকে খাওয়াবি।সব উশুল হয়ে যাবে।”

“আচ্ছা।”

অর্পা এবার একটু শান্তির নিশ্বাস নিলো।বান্ধবীর সুখের ব্যাবস্থা করে দিলো।কিন্তু তার দুঃখের বিষয় যে আরো গোপন।দুই বছর হয়েছে বিয়ের।এখনও বাচ্চা হচ্ছে না।শাশুড়ি তাকে উঠতে বসতে কথা শুনিয়ে দেয়।শুধু কি সে কাকি শাশুড়ির বউমা সেও তো আছে।মডার্ন বউ সাথে একটা বাচ্চা আছে।পরিপূর্ণ সংসার তার।তাই সেও জিনিয়ার সাথে তাল মেলাতে থাকে।

অর্পার ভাবনার মাঝেই তাকে মিরাজ পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে।বলে,”আমার বউ সবার সুখ দেখে।তার দুঃখটা কে দেখে?”

“এই অর্পার জন্য তার স্বামী আছে।আমার দুঃখ আমার স্বামী দেখে।”

“তাহলে কষ্ট পাও কেনো তুমি?তোমার জন্য তো তোমার আপন লোক আছেই।সে তোমার ঢাল হয়ে আছে।”

“মুখে যতই তুমি বলো যে বাচ্চা না হলে সমস্যা নেই।কিন্তু আমি তো জানি ছোট ছোট মুখে বাবা ডাক শুনতে তোমারও খুব ইচ্ছা করে।আমারও তো ইচ্ছা করে।”

“ইচ্ছা করলেই কি পূরণ করতে হবে?ভাগ্যে থাকা লাগবে না!”

“মা ডাক শোনার যে খুব ইচ্ছা আমার।”

বলেই কান্না করে দেয় অর্পা।অর্পার চোখের পানি মুছে মিরাজ বলে,”তোমার উচিত কি জানো?”

অর্পা তাকালো মিরাজের দিকে।মিরাজ বলে,”তোমার উচিত আমাদের বৃদ্ধা আশ্রম ঘুরে আসা।”

অবাক হয়ে অর্পা বলে,”কেনো?”

“ওখানে কিছু বৃদ্ধ বাবা মা আছে। জানো তারা অনেক বড় পরিবারের লোকজন।ওখানে এমনও একজন আছে যে এক সময় বড় বিজনেসম্যান ছিলো।কিন্তু এখন তার স্থান আমাদের আশ্রমে।কেনো জানো?”

“কেনো?”

“কারণ তার ছেলে বিয়ে করার পর তাদের বোঝা মনে করে। আর একজনের মেয়ে আছে সে বিয়ে করে বরের কাছে থাকে।মাকে বোঝা মনে করে আশ্রমে রেখেছে।যখন ওদের দেখি তখন আমার ভিতরে বাচ্চার জন্য কোনো আকাঙ্খা থাকে না। হ্যাঁ বাচ্চা হলে আমি নিজে পুরো মহল্লা জুড়ে মাইক বাজাবো কিন্তু বাচ্চা না হলে আফসোস করবো এমনটা কেনো হবে?আমাকে আমার সবটুকু দিয়েই সন্তুষ্ট হতে হবে।অর্পা বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টায় তো আছি আমরা।ভাগ্যে না থাকলে কি জোর করা যায়?এসব নিয়ে এত দুঃখ পেতে নেই।”

এই স্বামীর কথাতে অর্পার মন ভালো হয়ে যায়।মিরাজ অর্পাকে সবদিক থেকে স্বাধীনতা দেয়। অর্পার কোনো কিছুতে ত্রুটি রাখে না।

*****
সকালে ঘুম থেকে উঠেই রান্নার কাজে মন দিয়েছে শ্রেয়া। রিমলি সিভি পাঠিয়েছে ওটা এখন অর্পাকে দিলো। বটি দিয়ে সবজিগুলো কুটতে থাকে।ঠিক তখনই শ্রেয়ার মুখের উপর একটি শাড়ি এসে পরে।শ্রেয়া কোনো মতে নিজেকে সামলে শাড়িটি নিয়ে তাকালো রুবিনার দিকে।রুবিনা কঠমঠ চোখে চেয়ে আছে শ্রেয়ার দিকে।জোরে জোরে চিল্লিয়ে বলে,”নবাবজাদী আনা হয়েছে আমার সংসারে।একটা কাজ ঠিকমত করতে পারো না।”

শ্রেয়া শাড়িটি দেখতে দেখতে বলে,”কি হয়েছে মা?”

“এই শাড়ির কোনা ছিঁড়ে গেছে কিভাবে?”

শ্রেয়া দেখলো শাড়ির আঁচলের জায়গায় সামান্য একটু না দেখার মতোই ছেড়া।এটা রুহির দ্বারা হয়েছিলো।শ্রেয়া শাড়ি আয়রন করার পর রুহি শাড়িটা নিয়ে আবার মেলে মেলে দেখে।শাড়িটা এমন ভাবে দেখতে থাকে যে আয়রন করা শাড়ি দলা মোচড়া হয়ে যায়।টেবিলের কোনায় ছোট লোহার অংশ থাকে।ওখানে লেগে সামান্য ছিঁড়ে যাওয়ার সাথে সাথে শ্রেয়া শাড়িটি নিয়ে নেয়।যেখানে দোষ মেয়ে করলো সেখানে সাত সকালে ভুগতে হলো বাড়ির বউয়ের।রুবিনার দিকে তাকিয়ে শ্রেয়া বলে,”এটা আমি করিনি মা।রুহি করেছে।”

“ওমনি আমার মেয়ের নামে দোষ দেওয়া তাই না!আমার মেয়েরা কি এসব শাড়ি পরে?তুমি তো দেখছি আমার মেয়েদের নামে যা নয় তাই বলতে শুরু করলে।”

রুবিনা চিৎকারে রনি চোখ ডলতে ডলতে আসে।বলে,”কি হয়েছে মা?”

রুবিনা এবার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে,”তোর বউ আমার শাড়ি নষ্ট করেছে।এখন আবার আমার মেয়েদের নামে দোষ দেয়।এই শাড়ি কি তোর বোনেরা পরে?কি শুরু করেছে তোর বউ?থাকতে পারবো না নাকি আমরা?”

রনি এবার রাগী চোখে তাকালো শ্রেয়ার দিকে।বলে,”কি শুরু করেছো তুমি?একটা কাজ কি ঠিকভাবে করতে পারো না।অকর্মার মতো চেয়ে চেয়ে খালি দেখো।অপদার্থ কোথাকার।খালি একটা সার্টিফিকেট আছে আর কিছু না।এই দেখে বিয়ে দিয়েছিলে তোমরা আমাকে।”

বলেই চলে যায় রনি।রুবিনা নিজেও চলে যায় বিড়বিড় করতে করতে।শ্রেয়ার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।আজ তার বিয়ে না হলে এখন সে বাকি পড়াশোনায় প্রস্তুতি নিতো।বাবা বেঁচে থাকলে এই অপদার্থ মেয়ে সরকারি চাকরির ব্যাবস্থা করতে পারতো। আর এরা নিজেদের জন্য বড়াই করছে।

যে যার মতো খাওয়া দাওয়া করে বিদায় নিলে শ্রেয়া ফোন করে অর্পাকে।অর্পা বলে,”বড় ভাই বললো তোর ইন্টারভিউ নিবে।তিন দিন সময় আছে।এর মধ্যে যেকোনো একদিন গেলে ভালো হবে।আমার মনে হয় আজকেই যাওয়া উচিত।অন্তত ওই দোজখ থেকে বেড় হতে পারবি।”

“আজকে যদি মা বেড় হতে দেয় তাহলে সম্ভব। কাঁচা বাজারের অজুহাতে দেখি পারি কি না।”

“আমাকে জানিয়ে দিবি।”

“আচ্ছা।”

অর্পার সাথে কথা বলে শ্রেয়া চলে যায় রুবিনার কাছে।রুবিনা সিরিয়াল দেখতে ব্যাস্ত।শ্রেয়া হালকা কেশে বলে,”আজকে বাজার লাগবে মা।আমি কি যাবো বাজারে?”

একটু খোঁচা দিয়ে রুবিনা বলে,”না খাইয়ে রাখতে চাইলে যেয়ো না। আর যদি খাইয়ে রাখতে চাও তাহলে যাও।”
শাশুড়ির সম্মতি পেয়ে শ্রেয়া খুশি হয়।অর্পাকে জানিয়ে দেয় আজকে সে আসছে।

গাড়ি এসে থামলো ফ্যাশন হাউজের সামনে।চলতি পথে রিমলিকে সবকিছু জানিয়ে দিলো শ্রেয়া। রিমলি নিজেও আজ খুশি।তার বোন কোনো স্টেপ নিবে কিন্তু তার আগে নিজেকে শক্ত রাখবে। অর্পার সাথে করে ফারাজের কোম্পানিতে এসেছে।অনেক বড় বিল্ডিং তাকিয়ে দেখলো শ্রেয়া।ভাগ্যক্রমে এমন পরিবেশ দেখবে এটা যেনো কাল্পনিক। অর্পার দিকে তাকিয়ে বলে,”আমি পারবো তো?কেমন যেনো গা হাত পা কাপছে আমার।”

অর্পা শান্তনা দিয়ে বলে,”আমি যখন এই পরিবারে বউ হয়ে আসি তখন আমারও এমন হয়েছিলো।এরা আস্তে আস্তে আমার ভয় কাটিয়েছে।এই কোম্পানির মেম্বাররাও তেমন ধরনের।চিন্তা করিস না তো।মনে মনে সাহস রাখ।সাহসের সাথে উত্তর দিলেই মনে কর চাকরি ডান।কারণ এখানে চাকরির ক্ষেত্রে তোকে কথায় বেশি পারদর্শী হতে হবে।”

শ্রেয়া মনে মনে দোয়া পড়তে থাকে।নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো। নরমাল সালোয়ার কামিজ পরা সে।চুলটা কাটা দিয়ে খোঁপা করে রাখা।ফ্যাশন হাউজের কোম্পানির সাথে এই লুক বেমানান লাগছে তার।কিন্তু পরিচিতর ভিতরে বলে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে শ্রেয়া।বাবা মা ছাড়া এই প্রথম কোনো উদ্যোগ নিজে থেকে নিচ্ছে সে।ওড়নার আচল ধরে আছে শ্রেয়া।ভিতরে যত এগোতে থাকে তত দুর্বলতা বাড়তে থাকে।কোম্পানির ভিতরে আসতেই এসির ঠান্ডা বাতাসে শ্রেয়ার হাত পায়ে কাটা দিতে থাকে।চারিদিকে সবাই শার্ট কোর্ট পরে চেয়ারে বসে কাজ করছে।কিছু মেয়ে আছে ড্রেস পরে আয়নায় নিজেকে দেখছে।এরা একটু পর ছবি তুলবে।কিছু কিছু জায়গায় গর্জিয়াস জামা কাপড় বড় বড় মূর্তি আকারে পুতুলের গায়ে দিয়ে সাজানো।শ্রেয়া এগুলো দেখতে দেখতে অর্পার পিছনে হাঁটতে থাকে।

ফারাজের রুমের সামনে এসে অর্পা বলে,”এবার তোকে একা যেতে হবে।ওখানে দুজন আছে।একজন আমার ভাসুর একটু গম্ভীর আরেকজন ফ্রী মাইন্ডের উনি দেখবি বয়স্ক এক মহিলা।আমাদের মা কাকিদের বয়সী।কিন্তু ফ্যাশনের ব্যাপারে এক্সপার্ট।বয়স হলে কি হবে চুল তার কাঁধ অব্দি আর স্ট্রেট করা।ওনারা দুজন তোর ইন্টারভিউ নিবে।কঠিন কিছু জিজ্ঞাসা করবে না ঠিক।কিন্তু তোকে ভীত না সাহসী হতে হবে।মিরাজ আমাকে এগুলো বলে দিয়েছে।যা এবার বেস্ট অফ লাক।”

বলেই অর্পা জড়িয়ে ধরে শ্রেয়াকে।শ্রেয়া মাথা দুলিয়ে দরজা খুলে প্রবেশ করতে থাকে।যতই বিবিএ কমপ্লিট করুক সে তো যশোরের সাধারণ কলেজ থেকে পড়েছে।এমন উচ্চ পদের কোনো জায়গায় এই পর্যন্ত শ্রেয়া আসেনি।এমনি লোকজনের ভিতরে শ্রেয়া যাওয়া আসা করেনা।ক্লাস না করে বাসায় পড়াশোনা করতো আর পরীক্ষা দিতো।প্রায় সময় কলেজ যাওয়া আসা করলে সৃষ্টি বেগমের সাথে করতো।আজ এত বড় একটা কোম্পানিতে দুজন বিজ্ঞ লোকের সামনে ইন্টারভিউ দিবে।এটাই তো আসল ভয় শ্রেয়ার।চাকরিটা না পেলে তাকে আবার ফিরে যেতে হবে ঐ দোজখে।

চলবে…?