কুঞ্জলতার মায়ায় পর্ব-০৫

0
116

#কুঞ্জলতার_মায়ায়
#লেখিকাঃশুভ্রতা_শুভ্রা
#পর্বঃ০৫

বৃষ্টি থামতেই ওরা আবারও বাইকে উঠে পরলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা পৌঁছে গেল শুভ্রতাদের বাসায়।

শুভ্রতা নামতে নিলেই উষ্টা খেয়ে পড়ে যেতে নেয়। কাব‍্য ওর বাম হাত দিয়ে শুভ্রতার ডান হাত আকড়ে ধরে। রাগান্বিত কন্ঠে বলে উঠে
-“দেখেশুনে নামবে তো। এখনো তো পড়ে যেতে। তখন কি হতো দোষ তো আমার হতো। আমি তোমার খেয়াল রাখিনা।”

কাব‍্যের কথা শুনে শুভ্রতা মুখ ভেংচি কাটলো। কাব‍্য চশমাটা ঠিক করে বলল
-“ওই পারো তো একটাই কাজ কথায় কথায় মুখ ভেংচানো।”

শুভ্রতা কাব‍্যের কথায় ‍পাত্তা না দিয়ে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। কাব‍্য বাইকটা পার্কিংয়ে রেখে বাইকের চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে সিড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো। তখনই একটা মেয়ে ওর সামনে রাস্তা আটকিয়ে দাঁড়ালো। কাব‍্যের কপাল কুচকে গেলো। সে গম্ভীর কন্ঠে বলল
-“দেখি সাইড দেন। এমন করে রাস্তা আটকানোর মানে কি?”

মেয়েটা ভ্রু নাচিয়ে বলল
-“দুলাভাই আমাকে চিনতে পারলেন না। আমি আপনার বউয়ের একমাএ বান্ধবী ললিতা।”

কাব‍্য ভাবলেশহীন ভাবে বলল
-“তো আমি কি করবো?”

মেয়েটা শয়তানী হাসি দিয়ে বলল
-“কি আর করবেন বলুন। হিরো মার্কা লুক নিয়ে শশুর বাড়ি এসেছেন এখন শালীকে সালামী দিবেন না। এটা কোনো কথা বলুন তো দুলাভাইইই।”

কাব‍্য বিরক্তি নিয়ে বলল
-“থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো। আমার সামনে নেকামি করো। আর কি যেন নাম বললে ললিতা। দেখো ললিতা এগুলো নেকামি আমার একদম পছন্দ না। এগুলো সালামি পরে হবে সরো তো।”

বলেই মেয়েটার পাশ কাটিয়ে চলে আসতে নিলেই উপর থেকে হাসির শব্দ শুনতে পেলো। শুভ্রতা মুখ বের করে বলল
-“কিরে রাইসা। বান্ধবী ললিতা বলছিলাম না।”

রাইসা ঠোঁট উল্টালো। কাব‍্য কপাল কুচকে বলল
-“ওর নাম ললিতা না।”

কাব‍্যের কথা শুনে শুভ্রতা আরো হাসতে লাগল। কাব‍্য অবাক করা দৃষ্টিতে একবার শুভ্রতা আর একবার রাইসার দিকে তাকাচ্ছে।

শাবরিণ বেগম আসতেই শুভ্রতা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো। শাবরিণ বেগম সালামের উত্তর দিয়ে কোমরে হাত রেখে বলল
-“হয়েছে তোদের এবার ছেলেটাকে ছাড় তো। একা পেয়ে তোরা দুইটা মিলে ওকে বিরক্ত করছিস এটা কিন্তু ঠিক না।”

দুইজনই বাসার ভিতরে চলে গেল। শাবরিণ বেগম কাব‍্যকে বলল
-“বাবা দাঁড়িয়ে আছো কেন? ভিতরে আসো। আর এখন আবার ফল মিষ্টি আনতে হবে কেন? দেও আমি নিয়ে যাই।”

কাব‍্য মেকি হেসে বলল
-“না আন্টি আমি নিয়ে যাচ্ছি সমস্যা নাই।”

কাব‍্য রুমে যেতেই দেখলো শুভ্রতা সাবা আর রাইসা তিনজন মিলে গল্প করছে। কাব‍্য বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। বারান্দার দোলনায় গিয়ে বসলো। ফোনটা হাতে নিয়ে ওর মাকে জানিয়ে দিলো যে তারা পৌঁছে গেছে। কল কাটতেই ফোনটা আবার বেজে উঠলো।

কাব‍‍্য সর্তকতার সাথে কল রিসিভ করে বলল
-“জি স‍্যার বলুন।”

অপরপাশ থেকে গম্ভীর কন্ঠে ফাহাদ হোসেন বলে উঠলো
-“কাব‍্য চৌধুরী আপনাকে এখনি আজকের মধ্যে চট্টগ্রাম আসতে হবে। আপনি এখন কোথায় আছেন?”

কাব‍্য কপালে ভাঁজ ফেলে বলল
-“কেন স‍্যার কি হয়েছে! আর আমি তো কিছুদিনের ছুটি নিয়েছিলাম। আমি বর্তমানে মিরপুর থেকে হেমায়েতপুরের দিকে এসেছি।”

ফাহাদ হোসেন তাড়া দিয়ে বলল
-“আপনি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে আসুন। গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ পরে গেছে। আর আমাদের টিমের মি.হাসান মাহমুদকে আপনি একটু কল দিয়ে আসতে বলুন।”

কা‍ব‍্য গম্ভীর কন্ঠে বলল
-“আচ্ছা স‍্যার আমি ওকে জানিয়ে দিবোনি। চিন্তা করবেন না আমরা আসছি।”

কলটা কেটে কাব‍্য ওর বন্ধু হাসানকে কল দিলো। দুইবার রিং হতেই কলটা রিসিভ হলো। হাসান ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল
-“কিরে হালা, বিয়ে করে কি ঘোরে আছিস নাকি যে আমাকে গভীর রাতে কল করে বিরক্ত করছিস।”

কাব‍্য বিরক্তি নিয়ে বলল
-“ধুর মিয়া। তোর ঘুম তোর পকেটে রাখ। এখন সন্ধ‍্যা সাতটা বাজে। তাড়াতাড়ি রেডি হ চট্টগ্রাম যেতে হবে। স‍্যার ফোন দিছিল।”

হাসান লাফ দিয়ে উঠে বসে বলল
-“ওই হালায় আরেক হালা নির্ঘাত কিছু নিয়ে বসে আছে। তোর আসলে কপাল খারাপ কেবল বিয়েটা করলি। কোথায় ভাবির সঙ্গে সময় কাটাবি তা না এখন চট্টগ্রাম চলো।”

কাব‍্য বিরক্তি নিয়ে বলল
-“ফালতু পেচাল না পেরে রেডি হ আমি এইদিকে মেনেজ করে আসছি।”

বলেই কল কেটে দিলো কাব‍্য। সামনে চোখ রাখতেই শুভ্রতাকে দেখে খানিকটা চমকে উঠলো কাব‍্য। শুভ্রতা কপাল কুচকে বলল
-“কি কথা বলছিলেন এতো।”

কাব‍্য জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল
-“তেমন কিছু না। আমার ফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলছিলাম।”

শুভ্রতা বলল
-“ওও তাই বলেন। যাইহোক মা আপনাকে ডাকছে।”

কাব‍্য আমতা আমতা করে বলল
-“শুভ্রতা, আসলে আমার বন্ধুর বিয়ে আজ রাতেই চট্টগ্রাম যেতে বলছে।”

শুভ্রতা চোখ ছোট ছোট করে বলল
-“বন্ধুর বিয়ে নাকি আপনার ইশিতার সঙ্গে যাবেন।”

কাব‍্য ধমকে উঠলো। রাগান্বিত কন্ঠে বলল
-“ওই নামটা নেওয়া লাগবে কেন তোমার! বললাম না বন্ধুর বিয়ে। এতো সব কথা বলার সাহস কোথায় পাইলা। এখন তুমি বিশ্বাস করলে করো না করলে আমার করার কিছু নাই।”

কাব‍্যের কথায় শুভ্রতার চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পরলো। কাব‍্য কপালে পড়ে থাকা চুল গুলো ঠেলে দিয়ে বলল
-“আচ্ছা বাবা হয়েছে কান্না করতে হবেনা। সরি ওর নাম শুনে রাগ উঠে গিয়েছিল আমার। আমি তাড়াতাড়ি ঘুরে চলে আসবো। তুমি না হয় এই কয়েকদিন এখানেই থাকো।”

শুভ্রতা ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলল
-“আমি তো শুধু একটু মজা করতে চেয়েছিলাম।”

কাব‍্য শুভ্রতার হাত ধরে বলল
-“সরি বললাম তো।”

কাব‍্য পকেট থেকে একটা কিটক্যাট বের করে দিয়ে বলল
-“এই নেও চকলেট আর কান্না থামাও তো। কি এক বিপদে পরছি। কিছু বললেই চোখ দিয়ে পানি পড়ে। যাইহোক তুমি একটু তোমার আব্বু আম্মুকে মেনেজ করে নেও। আমি রাতের খাবার খেয়েই বেড়িয়ে পরবো।”

শুভ্রতা মুখ মুছে বলল
-“আচ্ছা আমি আম্মুকে বলে দিবোনি। আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন বাবা অফিস থেকে এখনি চলে আসবে।”

কাব‍্য মুচকি হাসলো। কাব‍্য চলে গেল ফ্রেশ হতে। শুভ্রতা চকলেট খুলতেই রাইসা আর সাবা এসে হাজির হলো। দুইজন কোমরে হাত দিয়ে বলল
-“একা একাই খাবে।”

শুভ্রতা ভাব নিয়ে বলল
-“আমার বর আমাকে দিয়েছে। তোদের কেন দিবো।”

পিছন থেকে কাব‍্য বলে উঠলো
-“তোমাদের জন‍্যও আছে। টেবিলের উপর দুটো বক্স আছে। তোমাদের দুইজনের জন‍্যই এনেছি ওগুলো। তখন মজা করেছিলাম।”

রাইসা আর সাবা খুশি হয়ে গেল। রাইসা বলল
-“ধন‍্যবাদ দুলাভাই। এই মাইয়ারে আগেই কইছিলাম আপনে ওতো খারাপ না। মাইয়া আমার কথা বিশ্বাসই করেনা। কয় আপনি খারাপ, বদমেজাজি হেনতেন।”

শুভ্রতা রাইসার মুখ চেপে ধরে বলল
-“ওর কথা বিশ্বাস করবেন না। ও আসলে পাবনা ফেরত পাগল।”

কাব‍্য ভ্রু উচিয়ে বলল
-“তাই নাকি। নাকি ওর কথাই সত্যি বলো তো শুভ্রতা।”

শুভ্রতা দাঁত বের করে বোকামির হাসি দিয়ে বলল
-“আসলে তেমন কিছু না ও মিথ্যা বলছে।”

কাব‍্য শুভ্রতা বলতেই রাইসার হাত ধরে ভো দৌড় দিলো শুভ্রতা। কাব‍্য জোরেই হেসে দিলো।

নিজের কান্ডে নিজেই অবাক হলো কাব‍্য ইদানিং মনে হচ্ছে একটু বেশিই হাসছে সে। কি হলো তার সে কি শুভ্রতার প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। কাব‍্য নিজের মাথায় নিজে গাট্টা মেরে বলল
-“কাব‍্য কন্টোল কর নিজের আবেগকে। একটা ধোকা খেয়ে শখ মিটেনি তোর।”

শাবরিণ বেগমের ডাক শুনে ভাবনায় ছেদ ঘটে কাব‍্যের। কাব‍্য নিজেকে স্বাভাবিক করে রুমের বাহিরে যায়।

—————

কালো সুটবুট পরিহিত এক যুবক বসে আছে একটা চেয়ারে। সামনেই একটা চেয়ারে অপরাধীর মতো বসে আরেক যুবক। সামনের থাকা যুবক কাঁপছে থরথর করে।

#চলবে