গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্বঃ ১৩+১৪

0
1013

গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১৩+১৪
লেখকঃ #Mohammad_Asad

১মাস পর।
কয়েকদিন থেকে ছাদিক কেন যানি অন্যরকম হয়ে গেছে খালাম্মাদের বাসায় এসে। মিম নিশাতের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না।
ছাদিক বাসায় আসে অনেক রাত করে। স্কুল ছুঁটি হয়ে গেলে নাকি কুচিং করাতে হয়। তাই বিকেলের বাড়িতে ফিরতে পারে না ছাদিক। নিশাত বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চেয়ে থাকে ছাদিকের পথ চেয়ে।

নিশাত এখনো অনেকটাই ছোট্ট সবকাজ একাই করতে পারে না। তারমধ্যে আবার কলেজে যেতে হয়। নওগাঁ থেকে টিসি নিয়ে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হয়েছে নিশাত।

সকালের আর রাতের ভাত তরকারি নিশাত রান্না করে। খালাম্মা খালু নিশাতকে নিজের মেয়ের মতো দেখে। তবে মিম নিশাতের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না। এতে নিশাত খুব কষ্ট পেয়ে থাকে।

নিশাত রাতের ভাত তরকারি রান্না করে টেবিলে সাজিয়ে রাখে। মা-বাবাকে মিম সকলে রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের রুমে চলে যায়। আর নিশাতের রান্নার প্রশংসা করে। নিশাতের হাতে নাকি জাদু আছে মা-বাবা বলে। তবে মিম মুখ পাকিয়ে সবকিছু শুনে রুমে চলে যায়।

মা-বাবা বলতে খালাম্মা আর খালু। নিশাত নিজের বাবা-মায়ের মতো শ্রদ্ধা করে। খালাম্মা খালুদের মা-বাবা বলেই ডাকে নিশাত।

সবাইকে খাইয়ে দিয়ে। নিজের রুমে ছাদিকের খাবার নিয়ে যায় নিশাত। নিশাত ছাদিক না আসলে মুখে খাবার তুলতে পারে না। ছাদিক নিশাতের যত্নটাও আগের মতো নেয় না আর। হয়তো কালান্ত থাকার কারণে। সরাদিন স্কুলে সময় কাঁটায় ছাদিক।

ছাদিকের মনে নিশাতের প্রতি একটা অবহেলা সৃষ্টি হয়ে গেছে। তার কারণ নিশাত কলেজে যায়। আর ছাদিক উপরে কোনোকিছু না বললেও মনে মনে অনেক আঘাত পেয়ে থাকে। ছাদিকের মনে একটা ভয় কাজ করে সবসময়, নিশাতের যদি কোনোকিছু হয়ে যায়।

আজকে ছাদিক অনেক রাত করে বাসায় ফিরেছে। রাত প্রায় ১১টা। আজকাল বাড়ি আসতেই ভালো লাগেনা ছাদিকের।
নিশাত রুমে ভাত তরকারি নিয়ে এসে টেবিলে রেখে দেয়। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছে নিশাত।
“কেন এমন হয়ে গেলে তুমি? তুমি তো এমন ছিলে না। আমি কি খুব পচা। আমাকে চোখের সামনে দেখলেই কি ঘৃণা করে তোমার? তুমি তো বলতে সারাজীবন ভালোবাসবে আমাকে তুমি। কোনোদিন ভালোবাসা কমবে না। তাহলে অবহেলা করছো কেন তুমি আমাকে?

নিশাত বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কথাগুলো ভাবছে। পিছন থেকে কে যেন জরীয়ে ধরেছে। এরকম প্রতেদিন হয়। নিশাতের রাগ ভাঙানোর ছাদিকের এটা “কু” বুদ্ধি।
-আমার পেত্নীটা কি করছে এখানে?
-কিছু করছি না আমি। তুমি কখন আসলে?
-এই তো, আরেকটু আগে।
-একটা কথা বলবো!
“নিশাত হুহু করে কান্না করে দেয়। ছাদিক নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়। নিশাতের চোখের জলগুলো বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে মুছে বলে।
-কান্না করছো কেন তুমি হুম? যানোনা তোমার চোখে জল মানায় না।
-তুমি আগের মতো আমাকে ভালোবাসো না কেন! বলবে প্লিজ!

ছাদিক নিশাতের গালে আল্ত ছোঁয়া দিয়ে বলে।
-কে বললো ভালোবাসি না। খুব ভালোবাসি।
-ছাঁই ভালোবাসো তুমি আমাকে। সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকো। প্রতেদিন রাত ১১টা ১২টার দিকে আসো। তারপর সকালে গিয়ে আবার একরকম। আমার মুখ যেন দেখতে না হয়। তাই এমন করো তাই না!
“ছাদিক ফিঁক করে হেঁসে দেয়”
-পাগলী একটা। কি যানোতো এখন স্টুডেন্টদের বেশি বেশি পড়াতে হয় তাই তো আমার আসতে এতো রাত হয়ে যায়। আর কয়দিন পর পরিক্ষা তো তাই এমন হয়।
-হুম বুঝছি। এবার তো আমি ইন্টার ৩য় বর্ষের ছাত্রী।
-হুম তাই তো। আমার বউটা দেখছি অনেক বড় হয়ে গেছে।
-হিহিহিহি
-পেত্নী কলেজে কোনো ছেলে ডিস্টার্ব করেনা তো?
-নাহহ্
-কোনো বাজে ছেলে ডিস্টার্ব করলে আমাকে বলবে ওকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে। এবার চলো ভাত খেয়ে নিবে।

(চলবে?)

গল্পঃ #তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১৪
লেখকঃ #Mohammad_Asad

ছাদিক আর নিশাতের দুষ্টু মিষ্টি প্রেম ভালোই চলছিলো। তবে মিম নিশাতের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো। চিল্লিয়ে কথা বলতো। আরো অনেককিছু।

আজকে কলেজ ছুটির পর নিশাত একটা রিকশায় উঠতে যাবে, সেই সময় একটা ছেলে নিশাতকে ডেকে উঠে।
-এই যে শুনছেন!
-জ্বি বলুন
-আমার নাম সাকিব, আমি আপনার ক্লাসমেট।
-হু চিনি তো,
-হ্যাঁ চিনেন, তবে একটু করে তাই তো?
-হিহিহিহি হুম, আসলে ক্লাসের মধ্যে না চাইলেও তো চোখে পড়ে যায় তাই না।
-হ্যাঁ ঠিক বলেছেন। আপনি একটু কেমন যেন লাজুক টাইপের। আপনার কোনো ছেলে মেয়ে ফ্রেন্ড নেই।
-আমি এখানে লাজুক। তবে বাসায় অনেক দুষ্টু। এখানে কাউকে চিনি না। তাই এতো শান্ত হয়ে থাকি বুঝছেন। আর আমি ছেলেদেরকে একদম বন্ধু বানাই না।
-কেন?
-কারণটা না হয় অন্য একদিন বলবো।
-আচ্ছা ঠিক আছে। আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
“নিশাত কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে”
-হ্যাঁ অবশ্যই,
-সত্যি বলছেন?
-হ্যাঁ সত্যি,

নিশাত সাকিবের সঙ্গে কথা বলে রিকশায় উঠে বসে। বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দেয়। আকাশটা আজকে মেঘলা বৃষ্টি হতে পারে।
.
.
এদিকে ছাদিক আজকে হাফ স্কুল থাকার কারণে। তারাতাড়ি বাসার উদ্দেশ্যে বাইকে উঠেছে। সেই সময় একটা ছেলে এসে ছাদিককে বলে।
-এই যে শুনছেন!
-হ্যাঁ বলুন।
-আসলে আমার নাম আলামিন। আপনি ছাদিক স্যার তাই না।
-হ্যাঁ তো,
-আপনার সঙ্গে একান্ত কিছু কথা ছিলো।
-হ্যাঁ বলতে পারেন।

আলামিন ছবিগুলো দেখায়। নিশাত আলামিনকে জরীয়ে আছে দেখে ছাদিক অনেক রেগে যায়। আলামিন কান্না সুরে বলে।
-আসলে আমি নিশাতকে অনেক ভালোবাসি। আর নিশাত আমাকে খুব ভালোবাসে। যদি আপনি ডিভোর্স দিয়ে দিতেন।

ছাদিক কিছু না বলে বাইক স্টার্ট করে বাসায় চলে আসে। এসে দেখে নিশাত বিছানায় সুয়ে আছে। ছাদিক নিশাতের কানের কাছে আস্তে করে বলে।
-নিশাত,
-“নিশ্চুপ”
-এই পাজি মেয়ে। আমি যানি তুমি ঘুমিয়ে নেই। ঢং করতে হবে না ঘুম থেকে উঠো বলছি।
“নিশাত মুখটা গোমড়া করে ঘুম থেকে উঠে”
-কখন আসলে তুমি?
-এই তো কিছুক্ষণ আগে। ভাত খেয়েছো তুমি?
-নাহহ্
-আচ্ছা চলো ভাত খেয়ে নিবে।
-নাহহ্
-কেন খাবেনা।
-ভালো লাগছে না।
-ইসস আমার বউটা,
-হিহিহিহি,
-পেত্নী, একটা কথা বলবো।
-হু বলো।
-আলামিন নামে কাউকে চিনো তুমি?
-“নিশ্চুপ”
-কিছু বলছো না যে, ভয় পেওনা আমি তোমাকে অনেক বিশ্বাস করি।
-হুম চিনি,
-আজকে আলামিন আমার কাছে এসেছিলো বলেছে তোমাকে ডিভোর্স দিতে। তুমি নাকি ওকে খুব ভালোবাসো।
-ছিঃ কিসব বলছো তুমি। আমি ওকে ভালোবাসতে যাবো কেন? ওই বেডা এখানেও চলে এসেছে।

ছাদিক নিশাতকে ছবিগুলোর কথা বলে। নিশাত কিছু বলতে না পেরে চুপ হয়ে যায়।
-তাহলে ছবিগুলো সত্যি ছিলো।
-হুম
-তুমি আলামিনের সঙ্গে প্রেম করো?
-“নাহহ্

ছাদিক নিশাতের গালে ঠাস ঠাস করে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে বলে।
-ওই আমাকে তুই বোকা পেয়েছিস তাই না। ওকে জরীয়ে ধরে আছিস। আর বলছিস ওকে ভালোবাসি না। আরে তোর মতো মেয়েকে ভালোবেসে ভুল করেছি আমি। কে যানতো তুই একটা ছলনাময়ী।
“নিশাত কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে”
-সত্যি বলছি ওই ছেলেটাকে আমি ভালোবাসি না।

ছাদিক নিশাতের গালে আরেকটা থাপ্পড় দিতে যাবে তখন নিশাতের মায়াবী মুখটা দেখে ছাদিক কেঁদে দেয়।
-তুমি এমন কেন করলে নিশাত।
-“নিশ্চুপ”
-আচ্ছা তুমি যদি সত্যি আলামিনকে ভালোবাসো তাহলে আমাকে বলতে পারো।
-কি বলছো এইসব তুমি।

“ছাদিক চিৎকার দিয়ে বলে”
-কি বলছি তাই না।
“নিশাতের গালে থাপ্পড় দিতে যাবে তখন খালাম্মা রুমে চলে আসে।।
-এই ছাদিক কি হয়েছে রে?
-কিছু নাতো খালাম্মা।
-বউমাকে বকছিস কেন?
-সাধে কি বকছি।
-কি করেছে নিশাত। যে বাচ্চাদের মতো শাসন করছিস ওকে।
-কিছু না।
-আচ্ছা এই যে টেবিলে দুপুরের খাবার রেখে গেলাম খেয়ে নিবি দুজনে।
-আচ্ছা খালাম্মা।

খালাম্মা রুম থেকে চলে গেলে ছাদিক আবার নিশাতকে বকতে শুরু করে। নিশাত চুপটি করে বসে আছে গালে হাত দিয়ে।
-হিহিহিহি
-এই তুমি হাঁসছো কেন?
-তোমাকে দেখে।
-পেত্নী তোকে আমি।
-কিহহ্
-কিছু না, তোকে আমি ভালো মতো বকতেও পারি না। কপাল আমার।
-হনুমান সত্যি বলছি ওই ছবিগুলো মিথ্যা।
-হুম যানি।
-তাহলে আমার গালে থাপ্পড় দিলে কেন?

ছাদিক নিশাতের গালে হাত দিয়ে দেখে নিশাতের গাল লাল হয়ে গেছে। ছাদিক নিশাতের গালে আল্ত করে চুমু দেয় আর বলে।
-স্যরি পাগলী তখন খুব রাগ হচ্ছিলো তোমার উপর। আমি যানি ছবিগুলো মিথ্যা। তুমি পরিবারকে ছেরে আমার কাছে চলে এসেছো। শুধু ভালোবাসার টানে। আমি কি ওতোটাই বোকা। যে একটা অপরিচিত ছেলের কথা শুনে তোমাকে আমি ডিভোর্স দিয়ে দিবো।
-আমাকে এতোটা বিশ্বাস করো তুমি।
-হ্যাঁ অনেক বিশ্বাস করি।
-সত্যি তোমাকে পাওয়াটা আমার ভাগ্য। তবে আমার গালে থাপ্পড় দিলে কেন।
“নিশাত হুহু করে কান্না করে দেয়। ছাদিক নিশাতের চোখের জলগুলো বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে নিজের বুকে টেনে নেয়। নিজের আজান্তে ছাদিকের চোখে জল চলে আসে।

ছাদিক ভালোভাবে যানে নিশাত কতটা ভালোবাসে আমাকে। একটা মেয়ে কি শুধু শুধু একটা ছেলেকে বিশ্বাস করে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে? আর একটা অপরিচিত ছেলের কথা শুনে কেনই বা ভুল বুঝতে যাবো ওকে আমি? ছবিগুলো যে ভুল তা তো হতেই পারে। যা দেখাচ্ছে তা আসলে সম্পূর্ণ ভুল।

(চলবে?)