গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্বঃ ১৫+১৬

0
1088

গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১৫+১৬
লেখকঃ #Mohammad_Asad

বিকেলে ঝুমঝুম করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ছাদিক বিছানায় সুয়ে আছে। সন্ধ্যা ৭টার সময় আবার কোচিং করাতে যেতে হবে। তাই ছাদিক চোখ দুইটা বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে। এদিকে নিশাত বেলকোনিতে দাঁড়িয়ে আছে। ঠান্ডা ঠান্ডা করছে একটু একটু। নিশাত বাইরে হাত বাড়িয়ে দেয় বৃষ্টির পানি গুলো হাত দিয়ে ছুয়ে দেখার জন্য।

নিশাত বাড়ির পিছন দিকটায় চলে যায়। বৃষ্টিতে ভিজবে বলে। বাচ্চাদের মতো লাফাচ্ছে আর বৃষ্টিতে ভিজছে নিশাত।

ছাদিক চোখ খুলে দেখে নিশাত নেই। সারাবাড়ি খুজে কোথাও পায় না নিশাতকে ছাদিক। তারপর বাড়ির পিছন দিকটায় গিয়ে দেখে। নিশাত বৃষ্টিতে ভিজছে।
-নিশাত তুমি এখানে,

নিশাত ছাদিকের গলার কন্ঠ শুনে ছাদিকের দিকে তাকায়। মিস্টি হাঁসি দিয়ে বলে।
-তুমি কখন ঘুম থেকে উঠলে?
-এই তো একটু আগে। তুমি এখানে কি করছো হ্যাঁ।
-কেন বৃষ্টিতে ভিজছি দেখছো না।
-তা তো দেখতেই পাচ্ছি। এবার আমার কাছে এসো অনেক বৃষ্টিতে ভিজেছো। জ্বর চলে আসবে নয়তো।
-নাহহ্ যাবো না। তুমি এখানে আসো দুজনে বৃষ্টিতে ভিজবো।
-মানে তুমি ভিজো দরকার নেই আমি গেলাম।

নিশাত দৌড়ে ছাদিকের কাছে যায়। হাত ধরে টেনে নিয়ে আসে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য।
ছাদিক নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। বাড়ির পিছন দিকটা বলতে একটা ছোট্ট ফুলের বাগান। একা একটি বাড়ি।

-এই নিশাত অনেক হয়েছে এবার চলো গোসল করে নিবে। হয়তো অনেক জ্বর চলে আসবে।
-নাহহ্ এখন না তুমি আমাকে কোলে নেও।
-কি বললে আমি তোমাকে এখানে এভাবে কোলে তুলবো। সম্ভব না। চলো বলছি।
-আমি কিন্তু কান্না করে দিবো। কোলে তুলো বলছি।
-তুমি কি বাচ্চা যে কোলে তুলতে হবে।

ছাদিক নিশাতের ঘাড়ে দুইটা হাত দিয়ে নিশাতের ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে গিয়ে কথা গুলো বলে।
-হুম আমি বাচ্চা না। তবে পিচ্চি হিহিহিহি। কোলে তুলো বলছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

ছাদিক নিশাতের বৃষ্টিতে ভেজা কোমড় ধরে কোলে তুলে নেয়। নিজের নাকটা নিশাতের নাকের ডগায় ঘসিয়ে দেয়।
-এই তুমি খুব দুষ্টু।
-তোমার থেকেই তো শিখেছি মহারানী।
-এ্যা
-এ্যা নয় হ্যাঁ।

ছাদিক নিশাতকে কোলে তুলে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে।
-এই তুমি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?
-কেন রুমের মধ্যে।
-এই আমাকে নামাও বলছি। আমি আরেকটু ভিজবো।
-নাহহ্ তা তো আর হবার না পেত্নী।
-হনুমান

নিশাতের কোনো কথা না শুনে। বাড়ির ভিতরে নিয়ে চলে যায় ছাদিক। মাথায় একটু পানি ডেলে রুমে নিয়ে আসে। মাথাটা সুন্দর করে মুছে দিচ্ছে ছাদিক। নিশাত ডেবডব করে তাকিয়ে আছে ছাদিকের চোখের দিকে।
ছাদিক মনে মনে ভাবতে থাকে পিচ্চিটা কখনো বড় হবে কিনা আল্লাহ ভালো যানেন। কে যানে আজকে আবার জ্বর নিয়ে আসে কিনা। ছাদিক নিশাতকে সুন্দর করে শাড়ী পড়িয়ে দেয়। নিশাত লজ্জায় ছাদিকের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
-পেত্নী তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। একদম বউ বউ।
-হিহিহিহি সত্যি তো,
-হুম সত্যি,
-তোমার কি একটু লজ্জা নেই হনুমান।
-বাহরে কেন লজ্জা থাকতে যাবে?
-তুমি আমাকে গোসল করিয়ে দিলে। আর সম্পূর্ণ কাপড় বদলিয়ে দিলে ছিঃ ” কথাগুলো বলে নিশাত নিজের মুখ দুই হাত দিয়ে ঢেকে নেয়। ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।”
-বলেছিলাম না। আমি শুধু তোমাকে দেখবো আর কেউ না।
-হু,
-আমার বউটা,
-আমার জামাইটা,

নিশাত বিছানায় চুপটি করে বসে থাকে। ছাদিক নিশাতের ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক লাগিয়ে দেয়। কানে দুইটা বড় বড় দূল। সুন্দর করে সাজিয়ে দেয় নিশাতকে ছাদিক।
-এই তুমি এতো সুন্দর সাজিয়ে দিতে পারো যানতাম না তো।
-তোমাকে যানতেও হবে না।

ছাদিক নিশাতকে নিয়ে বেলকনিতে যায়। একটা চাঁদর মুড়ে নিশাতকে জরীয়ে থাকে। ঝুমঝুম করে বৃষ্টি হচ্ছে ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া। আর ভালোবাসার মানুষটা পার্শে দাঁড়িয়ে।
-এই তুমি একটু দাঁড়াও একটা চেয়ার নিয়ে আসি।
-কেন?
-তোমাকে কোলে নিয়ে আমি বৃষ্টি দেখতে চাই।
“নিশাত মিস্টি একটা হাঁসি দেয়।”
-আচ্ছা ঠিক আছে।

ছাদিক একটা চেয়ার বেলকনিতে নিয়ে যায়। নিশাতকে কোলে তুলে নেয়। চাঁদর মুড়ো বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে দুজনে। আর গল্প করতে থাকে।
-হনুমান তুমি আমাকে এতোটা ভালোবাসো কেন?
-তুমি যে আমাকে অনেক ভালোবাসো তাই।

কিছুক্ষণ পর ছাতি নিয়ে মিম বাসায় আসে। মিম ছাদিকের রুমে এসে দেখে রুমে কেউ নেই। তাই বেলকনিতে গিয়ে দেখে ছাদিক নিশাতকে জরীয়ে ধরে আছে।
-ছাদিক এইসব কি হচ্ছে।
“নিশাত একটু রাগি সুরে বলে”
-ছাদিক তোমার বড় না ছোট্ট।
-ছাদিক এই মেয়েটা এইসব বলছে কেন আমাকে?
“ছাদিক নিশাতের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ইসারা করে, কিছু না বলতে।”
-আরে তোর ভাবির কথা বাদ দে। কখন স্কুল থেকে আসলি? স্কুল তো অনেক আগেই ছুটি হয়ে গেছে।
-এই তো বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
-ওহ আচ্ছা ভালোই তো ভাত খেয়েছিস?
-নাহহ্ ভাত খাইনাই এখনো।
-আচ্ছা তাহলে ভাত খেয়ে নে। তারপর আমার কাছে বই নিয়ে আসবি ওকে।
-ঠিক আছে।

মিম রুম থেকে চলে গেলে ছাদিক নিশাতকে শক্ত করে জরীয়ে ধরে।
-নিশাত ওর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করো না। মেয়েটা একটু কম বুঝে। তাছারা, সেই ছোট্ট থেকে মিম খুব জেদি। আর আমাকে ছাদিক বলেই ডাকে।
-কি বললে আমি খারাপ ব্যবহার করছি।
-স্যরি তুমি না।

মিম রুমে আসলে ছাদিক নিশাতকে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে রুমের মধ্যে চলে আসে। নিশাত মনে মনে বলতে থাকে। এই মিমটাও না আমাদের রোমান্টিক মূহুর্তটা নষ্ট করে দিলো।

নিশাত মুখ গোমড়া করে বেলকনিতে বসে আছে। এদিকে মিম বিছানায় বসে আছে সামনে ছাদিক।
-এই বই বের কর।
-হুম

নিশাত খেয়াল করে দেখে মিম ছাদিকের শরীল ঘেঁষে বসে থাকার চেষ্টা করছে। তা দেখে বেলকনি থেকে রুমে চলে আসে নিশাত। ছাদিকের পার্শে বসে বলে। মিম আজকে তোমাকে আমি পড়াই ওকে।
মিম একটু রাগি সুরে বলে।
-এই ছাদিক ও কি বলছে রে।
“ছাদিক মুচকি হেঁসে বলে।
-মিম আজকে তোর ভাবি তোকে পড়াতে চাইছে পড় না প্লিজ। আমকে তো এখন কোচিং করাতে যেতে হবে তাই না বল।

সন্ধ্যা ৬টা বেজেছে তখন। নীল রঙের শার্ট আর সাদা পেন্ট পড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। আর বলে।
-নিশাত তুমি মিমকে একটু পড়াও ওকে। কোচিং ছুটি হলে আমি চলে আসবো।
-কয়টার সময় আসবে তুমি?
-রাত ১১টা।
-আচ্ছা ভালোভাবে যেও,

ছাদিক রুম থেকে বের হয়ে গেলে মিম নিশাতের চোখে দিকে তাকিয়ে রেগে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

(চলবে?)

গল্পঃ #তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১৬
লেখকঃ #Mohammad_Asad

“পাগলটা গিয়েছে বৃষ্টির মধ্যে, ছাতাটাও নিয়ে যাই নাই। আল্লাহ ভালো যানেন এতো রাতে কিভাবে বাসায় ফিরবে। তবে হ্যাঁ পাগলটা সত্যি আমাকে অনেক ভালোবাসে। ওকে পেয়ে আমি সত্যি ধন্য।”

রাতের ভাত তরকারি রান্না করার সময়। মাথাটা কেন যানি ঝিমঝিম করতে শুরু করছে নিশাতের। কোনোরকমে মা-বাবা মিতুকে খাবার খাইয়ে দিয়ে ছাদিকের জন্য ভাত তরকারি রুমে নিয়ে আসে।

মাথাটা ভিষণ ঝিমঝিম করতে শুরু করছে নিশাতের। মিম রুমে এসে বলে,
-এই যে মহারানী, টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছো যে। আমাকে একটু আঙ্কটা শিখিয়ে দিবে?
-“নিশ্চুপ”
-এই এতো ঢং কিসের হুম। তোমার কাছে আমি আসতাম না ওকে। ছাদিক নেই বলে এসেছি।

মিম নিশাতের পার্শে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বললেও নিশাত কোনো সারাশব্দ করে না। তা দেখে একটু ভয় পেয়ে যায় মিম। মাথায় হাত দিয়ে দেখে নিশাতের অনেক জ্বর এসেছে। মিম বুঝতে পারে জ্বরের কারণে চোখে গভীর ঘুম চলে এসেছে নিশাতের।

মিম জেদি হলেও ওতোটা খারাপ না। সারাঘর খুঁজাখুঁজি করে মিম কোথাও ঔষধ পায় না। তখন রাত প্রায় ১০টা। এখনো এক ঘন্টা পর ছাদিক বাসায় আসবে। বিছানায় সুয়ে দিয়ে মাথায় জলপট্টি দিতে থাকে মিম নিশাতের কপালে। আর ছাদিকের ফোনে কল করে।
-এই ছাদিক নিশাতের অনেক জ্বর। তাড়াতাড়ি জ্বরের ঔষধ নিয়ে বাসায় ফিরে আয়।

ছাদিক যতক্ষণ বাসায় না আসে ততক্ষণ মিম নিশাতের মাথা নিজের হাঁটুই নিয়ে বসে থাকে। তার সঙ্গে জল পট্টি দিতে থাকে।

ছাদিক ভিজতে ভিজতে রুমে আসে ঔষধ নিয়ে। মিমের হাতে ঔষধগুলো দিয়ে বলে।
-এই মিম তোর ভাবিকে ঘুম থেকে তুলে ঔষধ গুলো খাইয়ে দে। আমি ভিজে গেছি গোসল করে আসি।
-আমি ঘুম থেকে তুলবো। কি বলছিস ছাদিক?
-হ্যাঁ তুই তুলবি।

কথাগুলো বলে গোসল করতে চলে যায় ছাদিক। ছাদিকের এইটা দুষ্টু বুদ্ধি বললেই চলে। নিশাত আর মিমের মধ্যে একটু হলেও ভালোবাসা সৃষ্টি করার জন্য।

মিম নিশাতের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
-ভাবি, এই ভাবি।

মিম আজকে প্রথম ভাবি বলেছে নিশাতকে।
মিমের ডাকে নিশাত মিটমিট করে চোখ খুলে। আর বলে,
-তুমি এসেছো হনুমান। আমার মাথাটা কেমন যানি করছে।
“মিম মিস্টি হেঁসে বলে”
-ভাবি আমি ছাদিক না আমি মিম।

মিমের কন্ঠটা ভালোভাবে বুঝতে পেরে যায় নিশাত। ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসে।
-কি হলো ভাবি!
-তুমি এখানে মিম,
-উঁহু, কেন থাকলে সমস্যা কি। হা করো দেখি ঔষধ গুলো খাইয়ে দিই।

নিশাত মিমের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। মিম মেয়েটাকে যতটা খারাপ ভেবেছিলো। আসলে মিম অতোটা খারাপ না। ভেবেই নিশাত ফিঁক করে হেঁসে দেয়।
-এই যে ভাবি তাড়াতাড়ি ঔষধ গুলো খেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন।

নিশাত মুখটা খুললে মিম নিশাতের মুখে ঔষধ ঢুকে দেয়। আর এক গ্লাস পানি খাইয়ে দেয়।

ছাদিক গোসল করে রুমে আসলে মিম বলে।
-ভাইয়া আমি যাচ্ছি। নিশাতের খেয়াল রেখো।

ছাদিক এক্কেরে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। আমার খালাতো বোনটা দেখছি আমাকে ভাইয়া বলছে। আমি কি কানে মিথ্যা শুনছি নাকি। আজকে প্রথম ভাইয়া বলেছে মিম।
-বাহরে আজে দেখছি। আমার বোনটা আমাকে ভাইয়া বলছে।
-কেন ভাইয়কে ভাই বলবো নাতো কি বলবো? তাছারা বড়দের সম্মান দিতে হয়। তুমি আমার বড় ভাই। নাম ধরে ডাকলে কেমন যানি দেখায়।

ছাদিক মিমের চোখের দিকে তাকিয়ে মিস্টি করে হেঁসে দেয়। মিম রুম থেকে চলে গেলে ছাদিক রুমের দরজাটা ভিতর থেকে লাগিয়ে দেয়। নিশাত ঔষধ খেয়ে বিছানায় সুয়ে পড়েছে। ছাদিক টাউজার আর একটা কালো সেন্ডো গেঞ্জি পড়ে নেয়। নিশাতের পার্শে বসে নিশাতের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলে।
-নিশাত,
-“নিশ্চুপ”

ছাদিক নিশাতের মাথায় হাত দিয়ে দেখে একটু একটু জ্বর আছে। জলপট্টি মাথায় দেওয়া কারণে আর ঔষধ খাওয়ার কারণে জ্বরটা অনেকটা কমে গেছে।

ছাদিক নিশাতের মাথাটা ধরে বিছানায় বসে দেয়। নিশাত মাথাটা বাচ্চাদের মতো করে দূলাচ্ছে। তা দেখে মুচকি হেঁসে উঠে ছাদিক।
-নিশাত চোখ খুলো দেখি।
-উঁহু,

নিশাত চোখ খুলে ডেবডেব করে তাকিয়ে আছে ছাদিকের চোখের দিকে। ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।
-ভাত খেয়েছো তুমি?
-নাহহ্
-কেন খাওনি। তোমাকে আগে বলেছিলাম না। আমি বাসায় না আসলে তুমি ভাত খেয়ে নিবে।

নিশাত এবার রেগে দাঁত কটমট করে বলে।
-ওহহ্ আচ্ছা তাই না। তুমি না আসলে আমি ভাত খেয়ে নিবো।
-হ্যাঁ, এবার চলো দুজনে ভাত খেয়ে নিই।
“নিশাত এবার হেলে দূলে সৈইতানি হাঁসি দিয়ে উঠে”
-তা তো হচ্ছে না মহারাজ আমার খুঁধা একটুও পাইনাই। তুমি একা ভাত খেয়ে নেও।
-তা কি করে হয় নিশাত। তোমাকে ছারা আমি কিভাবে ভাত খেতে পারি।

নিশাত এবার খিকখিক করে হেঁসেই যাচ্ছে।।
-আরে হাঁসছো কেন?
-তুমি তো একটু আগে বললে। তুমি বাসায় না আসলে ভাত খেয়ে নিতে। এখন আমি ভাত খাচ্ছি না। তাহলে তুমি কেন একা খাচ্ছো না। তুমি যেমন আমার জন্য অপেক্ষা করতে যানো। ঠিক তেমনি আমিও তোমার জন্য অপেক্ষা করতে যানি বুঝছো।
-হ্যাঁ বুঝেছি মহারানী, এবার চলো ভাতটা খেয়ে নিবে।
-উঁহু না।
-কেন না।
-আমাকে একটু আদর করে দেও।
-এই সময়!
-উঁহু শুধু দুষ্টুমি তাই না। বলছিলাম কি আমাকে কোলে তুলে নেও তুমি। তারপর সারাঘর হাঁটাহাঁটি করো।
-মানে কি নিশাত। দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছো তুমি। এই বস্তা তুলতে পারবো আমি?
-কি বললা আমি বস্তা। আমাকে তুলো বলছি।

পাজোকলা করে তুলে নেয় ছাদিক। নিশাত ডেবডব করে তাকিয়ে আছে ছাদিকের চোখের দিকে। ছাদিক কোলে তুলে সারাঘর হাঁটাহাঁটি করে। তারপর মেঝেতে বসে দেয়। টেবিল থেকে ভাত তরকারি নিয়ে এসে। নিশাতের মুখে তুলে দেয়।
-এই মুখটা খুলো দেখি।
-আআআআচ্ছু,
-এই দেখেছো শদ্ধি নিয়ে এসেছো তুমি। বৃষ্টিতে ভিজো কেন তুমি আল্লাহ ভালো যানেন। তোমার পাগলামি গুলো যে কবে যাবে!
-এই বেশি কথা না বলে খাইয়ে দেও।
-এই তো মুখটা খুলো দেখি।

নিশাত মুখটা খুললে একটু একটু করে ভাত খাইয়ে দিতে থাকে ছাদিক। নিশাতের ভাত খাওয়া শেষ হলে, নিশাতের হাত থেকে ভাত খেয়ে নেয় ছাদিক। নিশাত হিহিহিহি করে হাঁসছে আর খাইয়ে দিচ্ছে।
.
.
বিছানায় সুন্দর করে সুয়ে পড়েছে নিশাত। ছাদিক নিশাতের কপালে ছোট্ট করে চুমু এঁকিয়ে দেয়। রুমের লাইটটা বন্ধ করে দিয়ে ড্রিম লাইটটা জালিয়ে দেয়। ড্রিম লাইটের আলোয় নিশাতের সৌন্দর্য বেড়ে দিয়েছে যেন। নিশাতকে গুটিশুটি ভাবে জরীয়ে ধরে ছাদিক। নিশাত ছাদিকের বুকের উপর সুয়ে কথাগুলো বলে।
-হনুমান তোমার এই কোচিং কবে শেষ হবে?
-এই তো আর কয়দিন আছে।
-ওহহ্ আচ্ছা।
-হুম
-কালকে তো শুক্রবার তাই না?
-হুম,
-আমাদের বিয়ের তো প্রায় ১বছর কেঁটে গেলো। আব্বু আম্মু ছোট্ট ভাইয়াকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে। “নিশাত হুহু করে কান্না করে দেয়।”
-এই পাগলী কান্না করো কেন?
-হনুমান, আব্বু আম্মু কি আমাদের মেনে নিবে?
“ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে”
-হুম নিবে তো।
-কিভাবে?
-কেন, যানোনা তুমি!
-যানিনা তো,
-আমাদের পিচ্চি একটা বাবু হলে।
-ইসস শখ কত,
-কেন প্রায় ১বছর শেষ আমাদের বিয়ে হয়েছে। একটা বাবু নিলে কেমন হয় বলো নিশাত।।
-না এখন না আরেকটু বড় হই আমি। তুমি তো যানো আমি কতটা পিচ্চি। আমি শুনেছি বাচ্চা দিতে গিয়ে মেয়েরা নাকি মারা যায়।

“ছাদিক নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে কান্না করে দেয়।”
-থাক আমাদের বাচ্চা নিতে হবে না। তোমাকে কোনো মতে হারাতে চাই না আমি।

নিশাত ছাদিকের কান্না ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে ফিঁক করে হেঁসে দেয়।
-হনুমান, আমাদের বাবু হবে তবে পড়ে এখন না। আর ১বছর পর।
-না দরকার নেই বাবু নেওয়া। তুমি তো আমার বাবু।

নিশাত ছাদিকের চিন্তা ভরা মুখটা দেখে হিহিহিহি করে হেঁসে দেয়।
-পাগল একটা আমার কিছু হবেনা। এই একটু ব্যথ্যা তারপর সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।
-সত্যি বলছো তো।
-হুম সত্যি বলছি।
-পেত্নী তাহলে আমার কিন্তু একটা মেয়ে বাবু চাই।
-কেন মেয়ে কেন? তা তো হবার না আমার একটা ছেলে বাবু চাই।
-যানো নিশাত আমার অনেকদিনের স্বপ্ন একটা মেয়ে বাবু নেওয়ার।
-ইশশ কত স্বপ্ন আমার হনুমানটার। ঠিক আছে আমাদের মেয়ে বাবু হবে ওকে।।
-হুম,
-আমাদের মেয়ে বাবুর নাম কি রাখবে হুনুমান।
-তুমি বলো।
-নাহহ্ তুমি বলো।
-আচ্ছা বলছি। আনহা,

(চলবে?)