গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্বঃ ১৯+২০

0
993

গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১৯+২০
লেখকঃ #Mohammad_Asad

ছাদিক রক্ত দিচ্ছে, নিশাতের পার্শের বের্ডে সুয়ে। নিশাতের মায়াবী মুখটার দিকে তাকিয়ে আছে ছাদিক। মনে মনে কান্না করতে থাকে।
“আমার পাগলীটার সঙ্গে কেন এমন করলো। অনেক ব্যথ্যা পেয়েছে হয়তো আমার পাগলীটা। আমি থাকতে কেমন করে পারলো ওকে আঘাত করতে!

রক্ত দেওয়া শেষ হলে ছাদিক ওই বের্ডে সুয়ে থাকে। নিশাতের জ্ঞান ফিরতে কয়েকঘন্টা লাগতে পারে ডক্টর বলেছে।
ছাদিক দুইটি হাত আল্লাহ দরবারে উঠিয়ে দেয়। আল্লাহ তুমি আমার পাগলীটাকে দয়া করে ফিরিয়ে দেও। ও তো খুব পিচ্চি একটা মেয়ে, কতই বা বয়স হয়েছে ওর! আল্লাহ তুমি পাগলীটাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেও। খুব ভালোবাসি ওকে আমি। ওকে কোনোমতে হারাতে চাই না আমি। কোন পাপের শাস্তি দিচ্ছো আল্লাহ তুমি?

নিশাতের জ্ঞান ফিরে ফজরের আজানের ডাকে। ছাদিক নিশাতের পার্শে বসে ছিলো। নিশাত ছাদিকের কানের লতিতে টুক করে কামড় বসিয়ে দেয়। ধির কন্ঠে বলে।
-হনুমান,
“ছাদিক কানের লতিতে ব্যথ্যা পেয়ে জেগে যায়।
-নিশাত তোমার জ্ঞান ফিরেছে। আল্লাহ তুমি মহান। এই পেত্নী আমার চোখের দিকে তাকাও।
-হুঁ
-কেন এমন করতে গেলে বলোতো। কে ইঁটেল ছুঁড়েছিলো যানো তুমি?
-হুম যানি,
-কে,
“নিশাত ছাদিকের চোখের দিকে তাকিয়ে ফিঁক করে হেঁসে বলে”
-যানতে হবে না পরে বলবো ওকে,
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-নামাজ পড়বে না আজকে?
-হুম আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে আসি। তোমাকে আজকে নামাজ পড়তে হবে না। দেখছো না তোমার মাথায় ব্যন্ডেজ করানো!
-আল্লাহ যদি রাগ করে!
-আল্লাহ রাগ করবে না। তুমি অসুস্থ না বলো। আল্লাহ একটুও রাগ করবে না। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখেছো একবার তোমার পুরো কপাল ব্যন্ডেজ করা।
-হুঁ

ছাদিক ব্যাগ থেকে ফলমূল বেড় করে বলে।
-আজকে সারারাত তো কিছু খাওনি। জ্ঞান হারিয়ে ছিলে। এগুলো একটু খেয়ে নেও!
-এই সময়, ভালো লাগছে না।
“ছাদিক নিশাতের মাথায় হাত দিয়ে বলে”
-খেয়ে নেও, ভালো না লাগলেও খেতে হবে তো। নয়তো বাঁচবে কি করে!
-কেন আমি মারা গেলে তোমার কি?
“ছাদিক কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিশাতের চোখের দিকে তাকায়”
-বলো আমি মারা গেলে তোমার কি?
-কি আবার তুমি মারা গেলে নতুন বিয়ে করতে হবে আমাকে।
-কিহহ্ বললে,

নিশাত উত্তেজিত হয়ে যায়। ছাদিক ফিঁক করে হেঁসে বলে।
-আরে উত্তেজিত হচ্ছো কেন? ফলগুলো খেয়ে নেও নয়তো। নতুন একটা বিয়ে করে নিবো।
-আচ্ছা দেও খাচ্ছি,

ছাদিক মিস্টি হেঁসে ফলগুলো কেঁটে কেঁটে নিশাতের মুখে দিতে থাকে। নিশাত মুখ গোমড়া করে সুয়ে আছে।
-তুমি এবার ঘুমিয়ে পড়ো ওকে বাবু।
-হুঁ
-আমি নামাজে যাচ্ছি ওকে,
-আচ্ছা, শুনো
-হ্যাঁ বলো।
“নিশাত কিছুটা কান্না কন্ঠে বলে”
-আমার কিছু হয়ে গেলে অন্য মেয়েকে বিয়ে করবে তুমি?
“ছাদিক নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে বলে।”
-তা কখনো সম্ভব না। আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি। অন্য মেয়ের কথা ভাবতে পারিনা বুঝছো।
-হুঁ বুঝেছি। এবার আমার কপালে আদর দেও।
-ইশশ,
-কি ইশশ,

ছাদিক নিশাতের গালে ছোট্ট করে চুমু দিয়ে দেয়। নামাজে চলে যায়। হাঁসপাতালের পার্শের মসজিদে। নামাজ শেষে ফোনটা যখন বের করে ছাদিক। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে মিম অনেকবার মিসকল দিয়েছে। তখন প্রায় সকাল হয়ে এসেছে। ছাদিক মিমের ফোনে কল দেয়। মিম কিছুক্ষণ পর ফোন রিসিভ করে অনেক বকা দিতে থাকে।
-এই ছাদিক তোকে আমি।
-কি হয়েছে মিম। রেগে আছিস কেন?
-কি বলছিস রাগবো না। কতবার মিসকল দিয়েছি দেখেছিস একবারো? সারারাত ভাবি আর তুই কোথায় আছিস?
-এই তো হাঁসপাতালে!
-মানে, হাঁসপাতালে কেন?
-ছোট্ট একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিলো কালকে।
-মানে কিসের এক্সিডেন্ট? ঠিক আছিস তো তুই?
-হ্যাঁ আমি ঠিক আছি। তোর ভাবি অনেক আঘাত পেয়েছে।
-মানে ভাবি ঠিক আছে তো? তুই আমাকে যানাস নি কেনো? এতোবার ফোন দিলাম রিসিভ করিস নাই কেন?
-ফোন সাইলেন্ট করা ছিলো। তাই বুঝতে পারিনাই। আচ্ছা বাই ভালো থাক। খালা-খালু চিন্তা করছিলো তাই না!
-হ্যাঁ অনেক চিন্তা করছিলো?
-ভাত খেয়েছে?
-একটু খেয়েছে সকলে। তুই সারারাত কিছু খেয়েছিস? আর ভাবি?
-নারে আমি খাইনাই। আর তোর ভাবি জ্ঞান হারিয়ে ছিলো তাই কিছু মুখে তুলে দিতে পারিনাই।
-আচ্ছা বাজার থেকে কিছু কিনে খেয়ে নে।
-আচ্ছা ঠিক আছে। সকালে বাসায় যাচ্ছি।
-আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়,

ছাদিক ফোনটা কেঁটে দেয়। নিজের অজান্তেই ছাদিকের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে থাকে। হাঁসপাতালে এসে নিশাতের কাছে বসে থাকে ছাদিক। তখন সকাল ৬;১৫ মিনিট। নিশাতের পুরো কপালে ব্যন্ডেজ করানো।
-নিশাত,
-উঁহু
-ফলগুলো খেয়েছো?
-হুঁ তুমি খেয়েছো?
-হ্যাঁ খেয়েছি, কেমন লাগছে এখন?
-একটু ভালো,
-ব্যথ্যা পেয়েছিলে খুব তাই না?
-হুঁ
-তুমি আমাকে ধাক্কা দিতে গেলে কেন তখন?
“নিশাত মায়াবী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে”
-বলো, আমাকে ধাক্কা কেন দিলে তখন?
-তোমার কপালে ইটেলের টুকরোটা এসে লাগতো তাই?
-লাগলে কি হতো! তুমি তো ভালো থাকতে।
-হ্যাঁ আমি ভালো থাকতাম তবে। তুমি তো খুব ব্যথ্যা পেতে।
“ছাদিক নিশাতের হাতটা নিজের আঙুল দিয়ে মুঠো করে নেয়। আর বলে,
-আমি ছেলে না বলো! আমি আঘাতটা সয্য করে নিতাম। তুমি তো ছোট্ট একটা মেয়ে তোমার শরীলটা খুব নরম। তুমি এটা না করলেও পারতে।
-তাহলে কি করতাম শুনি? আমি তোমাকে ধাক্কা না দিয়ে ওখানেই রেখে দিতাম। আর নিজের চোখে দেখতাম ক্ষতবিক্ষত তোমার কপাল।

“ছাদিক কান্না করে দেয়”
-আরে তুমি কান্না করছো কেন?
-তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না?
“নিশাত মিস্টি হেঁসে বলে,”
-আরে পাগল না। একটুও কষ্ট হচ্ছে না। তবে একটা আফসোস থেকে গেলো?
-কি?
-ফুসকা খেতে পারলাম না!
-তোমার এই হাল, আর ফুসকার জন্য আফসোস করছো?
-হুঁ করছি। আগে ঠিক হয়ে নিই তারপর অনেকগুলো ফুসকা কিনে দিবে বলে দিলাম।
-আচ্ছা দিবো।

ডক্টর এসে নিশাতকে চেকআপ করে। নিশাত ঠিক আছে বলে। তবে কয়েকদিন হাঁসপাতালে থাকতে হবে। নিশাত বলে আমি এখানে থাকতে পারবোনা। বাসায় যেতে চাই আমি। নিশাতের কথা মতো বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিশাত বিছানায় সুয়ে আছে। তার পার্শে খালু খালা মিম ছাদিক।

“খালু”
-ছাদিক নিশাতের এমন হাল হয়েছে আমাদের কাওকে যানাসনাই কেন?
-খালু, চিন্তায় মনে ছিলো না।
-ওহ আচ্ছা,

“খালা”
-আচ্ছা তোমরা এখানে থাকো আমি নিশাত আর ছাদিকের জন্য খাবার বানিয়ে আনছি।

“মিম”
-হ্যঁ আম্মু, তুমি যাও খাবার বানিয়ে আনো। এমনিতেই ছাদিক নিশাত না খেয়ে আছে।

ছাদিক না খেয়ে আছে শুনে নিশাত সুয়ে সুয়ে বলে।
-মানে ও না খেয়ে আছে মানে? ও তো তখন বললো খাবার খেয়েছে।
“মিম মিস্টি হেঁসে বলে”
-ভাইয়া মিথ্যা বলেছে।
“ছাদিক নিশাতের মাথার কাছে ৩টে বালিশ দিয়ে সুয়ে দেয়।”
-পেত্নী তুমি মিমের কথায় কিছু মনে করোনা। আমার একটুও খুধা পাইনাই।
-তুমি না খেয়ে আছো কেন?
-ইচ্ছে করছে না তাই।

স্কুল থেকে হেড স্যার ফোন করে”
-আসসালামু আলাইকুম ছাদিক, কেমন আছো।
-জ্বি স্যার ভালো আপনি?
-হ্যাঁ ভালো। আজকে স্কুলে আসোনাই কেন? এভাবে তো চলতে পারেনা তাই না। তুমি যখন খুশি গ্যাব দিতে পারোনা।
“ছাদিক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে”
-আসলে স্যার কালকে আমার স্ত্রীর এক্সিডেন্ট হয়েছিলো। সারারাত জ্ঞান হারিয়ে ছিলো। আজকে সকালে জ্ঞান ফিরেছে।
-ওহহ্ আচ্ছা, স্যরি ছাদিক তোমাকে ভুল বুঝার জন্য। তোমার স্ত্রী কেমন আছে?
-জ্বি স্যার একটু ভালো!
-আচ্ছা তাহলে কালকে স্কুলে এসো। আজকে তোমার ছুঁটি।
-ধন্যবাদ স্যার।

ছাদিক হেড স্যারের সঙ্গে কথা বলে। তা নিশাত সুয়ে সুয়ে শুনছিলো। নিশাতের পার্শে মিম বসে আছে। ছাদিক মিমকে বলে,
-মিম আজকে স্কুল যাসনাই কেন?
-এমনি ভাইয়া,
-তোর না এবার এসএসসি পরিক্ষা।
-হ্যাঁ ভাইয়া।
-তোকে আমি।

“নিশাত,
-আরে তুমি ওকে বকছো কেন?
-তোমাকে ওর হয়ে কথা বলতে হবে না ওকে। ওকে আমি ভালোভাবে চিনি।
-উঁহু ভাবি দেখো ভাইয়া কেমন করে বকা দিচ্ছে আমাকে। তোমাদেরকে নিয়ে চিন্তা হচ্ছিলো অনেক তাই যেতে পারিনাই।

খালা রুমে খাবার নিয়ে আসলে নিশাতের মুখে খাবার তুলে দেয়। খালাম্মা খাবারগুলো রুমে রেখে যায়। মিমকে বলে নিশাতকে খাইয়ে দিতে।

মিম খাইয়ে দিচ্ছে নিশাতকে তা দেখে ছাদিকের খুব ইচ্ছে করে। খাবার খেতে সারারাত কিছু খেয়ে নেই ছেলেটা। এখন দুপুর ১২ প্রায়।

“মিম”
-কি ভাইয়া খুধা লেগেছে তোমার?
-নাহহ্
-তাই,

সারারাত না খেয়ে ছিলো ছাদিক আর রক্ত দেওয়ার কারণে শরীলটা অনেকটা কালান্ত।
-ভাইয়া আমাদের এখানে বসো। তোমাকে আর ভাবিকে এক সঙ্গে খাইয়ে দেই।।
-সত্যি নাকি মিম।
-জ্বি ভাইয়া।

(চলবে?)

#তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
#পর্ব_২০
#লেখক_Mohammad_Asad

দুপুর ১টা ছাদিক গোসল করে আসে, পরণে থ্রী-কটার। নিশাত রুমে সুয়ে আছে। নিশাতের পার্শে বসে কপালের বেন্ডেজটা একটু খুলে দেখে ছাদিক। দগদগে হয়ে আছে পুরো কপাল।
-উফফ্,
-পেত্নী ব্যথ্যা পেয়েছো?
-উঁহু
-আচ্ছা তুমি ঘুমিয়ে থাকো, আমি নামাজ পড়ে এসে তোমাকে ভাত খাইয়ে দিবো।
“নিশাত ঘুমের মাঝে বলে”
-আচ্ছা,

ছাদিক পাঞ্জাবি পড়ে মসজিদে চলে যায়। এদিকে নিশাত রুমে সুয়ে আছে। মিম খালাম্মা ভাত রান্না করছে। খালাম্মা প্রতেদিন দুপুরের রান্নাটা করে। নিশাত সকালের আর রাতের খাবার তৈরি করে। নিশাতের এক্সিডেন্টের কারণে কয়েকদিন কিছু রান্না করতে পারবে না নিশাত।

ছাদিক নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বইরে আসলে ফয়সাল এবং রিয়াদের সঙ্গে দেখা হয়।
“ফয়সাল”
-এই ছাদিক,

ছাদিক পিছনে তাকিয়ে দেখে
ফয়সাল-রিয়াদ দাঁড়িয়ে আছে।
-আরে ফয়সাল রিয়াদ, হ্যাঁ বল।
-অনেকদিন থেকে তো আড্ডা দেওয়া হয়না। আজকে ছুঁটি পেয়েছিস নাকি? চল আড্ডা দেই।
-আরে আজকে না অন্যদিন।
-কেন? ভাবিকে পেয়ে আমাদের ভুলে গেলি নাকি? তুই আর তুহিন এক রে।
-আরে না বদলে যাবো কেন?
“রিয়াদ”
-আচ্ছা ভালো তা ভাবি কেমন আছে।
-ভালো নেই রে, কালকে এক্সিডেন্ট হয়েছে।
-মানে কি বলছিস এইসব। কি করে এক্সিডেন্ট হয়েছে?
-আরে পরে বলবো। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে আঘাতের ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে।
“ফয়সাল”
-মানে কি বলছিস!
-হ্যাঁ রে, আল্লাহ ভালো যানেন কে আমাদের পিছনে লেগেছে।
“রিয়াদ”
-আমাদের শুধু নামটা বল পাঁ ভেঙে রেখে দিবো।
-আরে এইসব কিছু করতে হবে না থাক।
-হ্যাঁ রে কিছু করতে হবে না।
-আচ্ছা থাক আমি তাহলে গেলাম।
-আচ্ছা আমরা তোর সঙ্গে যাই কি বল।
-নাহহ্ রে আসতে হবে না। অন্য একদিন।
-কেন?
-তোর ভাবি এমনিতেই এইসব পচ্ছন্দ করে না।
-ওহহ্ আচ্ছা
-মন খারাপ করিস না। থাক তাহলে।

ছাদিক মসজিদ থেকে বাড়ির রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে শুরু করে। তখন পিছন থেকে কে যেন ঘাঁড়ে হাত দিয়েছে।
-আরে আলামিন কেমন আছো তুমি?
-এই তো স্যার, অনেক ভালো আছি আপনি?
-হুম কোনো রকমে ভালো।
-স্যার আমার কথা কি আপনার মনে আছে?
-হ্যাঁ মনে আছে তো। নিশাতকে বলছিলাম আমি। আলামিন নামে কাউকে চিনো কিনা।
-নিশাত কি বললো?
-বললো চিনে। আর বললাম আলামিন নামে কাউকে কি ভালোবাসতে তুমি? নিশাত বলেছে না। আলামিন তুমি অযথা নিশাতের পিছনে পরে আছো।
-স্যার আমি ওকে অনেক ভালোবাসি। ও আমাকে ভালোবেসে। আপনাকে মিথ্যা বলেছে।
“ছাদিক আলামিনে চোখের দিকে রেগে তাকায়, আবার মুচকি হেঁসে আলামিনের ঘাঁড়ে হাত দিয়ে বলে।
-তুমি কিন্তু ভুলে যাচ্ছো। আমি নিশাতের হাসবেন্ড। আর আমাদের বিয়ে ১বছর প্রায় শেষ। আমি ভালোভাবে যানি নিশাত আমাকে কতটা ভালোবাসেন। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিশাত আজকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। আজকের পর থেকে এই ব্যপারে কথা না বললেই তোমার জন্য ভালো। মনে রেখো আমি উপরে যতটা ভালো নিচে কিন্তু ততটায় খারাপ। তার মনেটা বুঝে নিও।

কথাগুলো বলে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসা শুরু করে ছাদিক। পিছন থেকে আলামিন বলে।
-আমি আপনাকে চিনি না স্যার। তবে আমি যাকে চাই তাকে না পেলে কেঁড়ে নেই।

ছাদিক মুচকি হেঁসে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটতে থাকে। ফোনটা বেড় করে নিশাতের মায়াবী মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে। মাথার টুপিটা পকেটে ঢুকিয়ে নেয়। বাসায় এসে রান্নাঘরে যায় ছাদিক। ওখান থেকে নিশাতের জন্য এক প্লেট ভাত উঠে নেয়। আর আলাদা বাটিতে তরকারি। রুমে ঢুকে দেখে মেয়েটা ঘুমে আছে। টেবিলে পেল্ট আর তরকারির বাটিটা রেখে দেয়।
নিশাতের পার্শে বসে। আল্ত করে নিশাতের কমল আঙুল গুলো নিজের হাতে মুঠো করে নেয়। ধির কন্ঠে বলে।
-নিশাত বাবু,
-উঁহু
-পেত্নী,
-উঁহু,

নিশাত ঘুমের মাঝে শুধু উঁহু উঁহু করছে। নিশাতের পুরো কপাল বেন্ডেজ করানো। তাই কাপালে হাত দিতে পাচ্ছে না ছাদিক।
নিশাতের মুখে একটা আঙুল দিয়ে দেয়। নিশাত যে কি মনে করেছে আল্লাহ ভালো যানেন, ছাদিকের আঙুলটা নিজের মুখে নিয়ে কামড় দেয়। ছাদিক ব্যথ্যায় চিৎকার দিয়ে উঠে।
-উফফ কি করলে এইটা তুমি?

ছাদিকের চিৎকার শুনে নিশাত ঘুম থেকে উঠে যায়।
-এই তুমি চিৎকার দিলে কেন?
-আমার আঙুল কামড় দিলে কেন হুম।
-ঘুমিয়ে ছিলাম তো বুঝতে পারিনি।
-ওহহ্ আচ্ছা,
-হুম, ব্যথ্যা পেয়েছো।
-হুম অনেক।

ছাদিক কিছুক্ষণ নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। একটু কাঁমড়ের ব্যথ্যায় চিৎকার দিয়ে উঠেছে ছাদিক। না যানি নিশাত কতটা ব্যথ্যা পেয়েছিলো।
-এই তুমি কান্না করছো কেন হুম।

চোখের কোঁনায় আসা জলটুকু মুছে নিয়ে ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।
-পাগলী একটা কখন কান্না করলাম হুম?
-তুমি মিথ্যা বলছো। তোমার চোখে জল দেখলাম।
-পাগলী একটা।
-উঁহু
-যানো আজকে আলামিনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল আমার।

আলামিনের নামটা শুনতেই নিশাত রেগে যায়। আর উত্তেজিত হয়ে যায়।
-তুমি ওকে কোথায় দেখেছো? তোমার ক্ষতি করতে এসেছিলো তাই না!
-আরে পেত্নী না। ছেলেটা কেন আমার ক্ষতি করতে আসবে হুম। ছেলেটা আমার কাছে এসেছিলো তোমার ব্যপারে। আমি বলে দিয়েছি। নিশাত আমাকে অনেক ভালোবাসে। আপনাকে চিনে না।

নিশাত হিহিহি করে হেঁসে বলে।
-হুম ঠিক বলেছো।
-হ্যাঁ এবার চলো ভাত খেয়ে নিবো।
-আচ্ছা চলো। তবে হ্যাঁ ওই ছেলেটার থেকে তুমি দূরে থেকো ওকে।
-আচ্ছা

ছাদিক নিশাতের কমল আঙুল গুলো নিজের হাতে মুঠো করে নেয়। ওয়াশরুমে নিয়ে যায় হাত ধোয়ার জন্য। হাত ধুয়ে এসে মেঝেতে বসে দুজনে। নিশাত নিজের মাথাটা দূলাচ্ছে বাচ্চাদের মতো করে। ছাদিক নিশাতের দিকে তাকিয়ে মিস্টি হেঁসে বলে।
-পেত্নী তুমি আর বড় হবে না। বাচ্চা থেকে গেলে।
-কিহহ্ বললে আমি বাচ্চা।
-হুম তাই তো। আমার পিচ্চি একটা বাবু।
-উঁহু আমি বাবু না। আমি অনেক বড় হয়ে গেছি।
-হ্যাঁ অনেক বড় হয়ে গেছো। এবার মুখটা খুলো দেখি।
-এই তো খুলেছি।
-সুন্দর করে বসে থাকো। মাথা আর দূলিয়ো না ওকে।
-আচ্ছা ঠিক আছে হিহিহিহি।
-পেত্নী একটা।

ছাদিক তরকারির সঙ্গে ভাত মেখে নেয়। নিশাতের মুখে তুলে দিলে। নিশাত আল্ত করে খেয়ে নেয়।
-যানো নিশাত আমার না খুব ইচ্ছে করছে একটা বাবু নেওয়ার।
-হুম নিবোই তো, পরে ওকে।
-কখন পেত্নী,

নিশাত হেঁসে হেঁসে বলে।
-আমি আগে ভালো হয়ে নিই তারপর।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-আমাদের মাঝে একটা বাবু আসলে তুমি অনেক খুশি হবে তাই না হনুমান।
-হুম অনেক খুশি হবো তো। আমার দুইটা বাবু হয়ে যাবে তখন। একটা নিশাত বাবু আরেকটা আনহা বাবু।
-আনহাটা কে হনুমান।
-আরে ভুলেগেলে, আমাদের মেয়ের নাম।
-ওহহ্ আচ্ছা।
-হুম একটা দুদু খাওয়া বাবু। আর একটা পেত্নী বাবু।
-কি বললে,
-কিছু না,
-এখন কয়টা বাজে হনুমান।
-দুপুর ২;২০মিনিট,
-ওহ আচ্ছা।
-হুম,
-বিকেলে আমার জন্য ফুসকা নিয়ে আসবে।
-আচ্ছা নিয়ে আসবো। আর কিছু,
-না আর কিছু না।
-এবার ভাত খেয়ে নেও, গল্প তো করেই যাচ্ছো, ভাত খাবে কখন?
-উঁহু, খাইয়ে দেও।
-হ্যাঁ মুখটা খুলো।

নিশাতের মুখে একটু একটু করে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে ছাদিক, আর গল্প করছে।
-আমার ফুসকা পাগলী বউটা। এতোকিছু হয়ে গেলো তবুও ফুসকা খাবে বলছে।
“নিশাত মুখটা গোমড়া করে বলে”
-তুমি আর কখন ফুসকা খাওয়ালে। এই ১বছরে তো একটি বারো না।
-তুমি আমাকে বলেছো কখনো, ওগো ফুসকা নিয়ে এসো!
-উঁহু না,
-তাহলে বলছো কেন,
-আমার অনেক ইচ্ছে করে, তবে লজ্জায় বলতে পারিনি।
-কি বলছো, মানে কি? হায় হায়, লজ্জায় বলতে পারোনি তুমি ফুসকার কথা। হায় হায় কি বলো তুমি।
-হিহিহিহি হ্যাঁ।
-পেত্নী একটা শুধু পেত্নীদের মতো হেঁসে যায়।
-হিহিহিহি, তুমি আবার পেত্নী দেখেছো নাকি?
-হ্যাঁ দেখেছি তো। আমার সামনেই তো বসে আছে। আমি ছোট্ট থাকতে খালাম্মা আমাকে গল্প শুনাতেন পেত্নীর।
-ওহ আচ্ছা!
-হ্যাঁ, আমার আব্বু আম্মু মারা যাবার পর, আমি আর ভাইয়া একা হয়ে যাই। তারপর খালাম্মা খালু আমাকে ভাইয়াকে নিজের ছেলের মতো মানুষ করে। বড় হয়ে নিজের বাড়িতে চলে যায় ভাইয়া। আর আমি এখানে চাকরি পেয়ে থেকে যাই।

কথাগুলো বলার সময় ছাদিকের চোখে জল চলে আসে। ছাদিক জলটুকু মুছে নিয়ে। নিশাতের মুখে ভাত তুলে দিতে থাকে।

(চলবে?)