তবুও_তুমি ৩য় পর্ব

0
889

তবুও_তুমি
৩য় পর্ব
.
“নিপা তোকে ছোট খালাম্মা ডাকতেছে” সোজা আমার সামনে এসে বলল রাসেল ভাই। খালামনি কোথায়, আমার প্রশ্নের উওরে বলল ” নিচের সিঁড়িতে”। মনে মনে এতটাই খারাপ হচ্ছিল মেজাজ যে বলার মত না। সব ঝামেলা যেন আমার কপালে এসেই জোটে। এদিকে আরেক কাহিনী টের পাচ্ছি কোমরের বাম পাশের শাড়ি যেন আমাকে আলবিদা জানাচ্ছে। মনে হয় সেপটিপিন খুলে গেছে। এই অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামবো কি করে। কি যে যন্ত্রণায় আছি আমি সেটা আল্লাহ মালুম। কোন রকমে শাড়ি উঁচিয়ে আস্তে আস্তে সিঁড়ি ধরলাম নিচে নামার জন্য। বাড়ির ছাদে যতটা কলরব নিচে ততটাই শান্ত পরিবেশ৷ সবাই ছাদে মজা করছে আর খালামনি কোন খুশিতে নিচে নেমেছিল কে জানে। এসব উনিশকুড়ি ভাবতে ভাবতে যখন চারতালার কাছাকাছি নামলাম হঠাৎই যেন কে কোনা দিয়ে হেঁচকা টান দিল আমার হাতে। দু হাতে ছিলাম শাড়ি ধরা টানের চোটে শাড়ির বা পাশের অংশ পুরো খুলে নিচে পড়ে গেল আর আমি যে পড়লাম কারো বুকের উপরে। হঠাৎ ঝাঁকিতে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলাম কিন্তু বুকের উপরে পড়তেই নাকে সেই চেনা পারফিউমের ঘ্রাণ। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি রাসেল ভাই। তাড়াতাড়ি সরতে যেতেই আবার আমাকে টেনে ধরল সে। চোখ থেকে যেন আগুন বের হচ্ছে তার
___ বড় শখ হইছে তোর ছেলে পছন্দ করার তাই না।
___ না মানে আমি তো এমনিতেই ঝুমুর সাথে মজা করছিলাম।
___ চুপ একদম চুপ। তোর মজা বের করছি জয়কে বলে সবার আগে তোরে বিয়ে দেবো।
এতটুকু বলেই ধাক্কা দিয়ে আমাকে সরিয়ে দিল। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরছে আমার আর সেই ঝাপসা চোখে শাড়ি ঠিক করছি। খোঁপা করা ছিল আর ফুল ক্লীপ দিয়ে আটকিয়ে ছিলাম। রাসেল ভাই যেতে যেতে ফিরে এসে খোঁপার মুঠি ধরে বলল ” ছেলে নাচাতে খুব ভাল লাগে তোর তাই না “। কোন রকমে বললাম ” খোঁপা ছাড়েন আমার খুব লাগছে”। হিসহিসিয়ে বলে উঠল সে ” লাগার জন্যই ধরেছি “। এটুকু বলে এক প্রকার ছুঁড়ে ফেলে দিয়েই আমাকে চলে গেল।
“এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি সাপ্তাহে জিতে নিন বই সামগ্রী উপহার।
আমাদের গল্প পোকা ডট কম ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এখানে ক্লিক করুন
কোন রকমে শাড়ি ঠিক করে চুল টাকে হাত দিয়ে সামলিয়ে যখন উপরে আসলাম অনুষ্ঠান মোটমুটি শেষ। জিমি মিলি কোথা থেকে যেন এসে আমার সামনে উদয় হল। ” নিপাপু তোর হইছে কি? ” মিলির প্রশ্নে যেন আমি চুপসে গেলাম। কই কিছুই হয় নি তো বলে পাশ কাটানো উওরে কাজ চালিয়ে দিতে চাইলাম। ” কিছু যদি নাই হয় তাইলে তুমি চেহারা হনুমানের মত করে রাখছ কেন ” জিমির পালটা প্রশ্ন। এমনিতেই মেজাজের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল রাসেল ভাই আর এখন এই দুইটা চব্বিশটা বাজানোর প্লান এ ছিল। সহ্য করতে না পেরে এক রাম ধমক দিতেই দুইটা সুড়সুড় করে সামনে থেকে চলে গেল। এক কোনা খালি দেখে ওখানে চেয়ার নিয়ে বসতেই কোথা থেকে ঝুমুর চলে এলো সাথে সেই ছেলেটা। ঝুমুর কিছুই না জানার ভাব করে পরিচয় করিয়ে দিল আমার আর সাদের। তখন আমি ভয়ে ভয়ে আশপাশে দেখছি যে রাসেল ভাই আছে নাকি কোথাও। আমার এই অবস্থা দেখে সাদ তো প্রশ্নই করে ফেলল ” কি ব্যাপার আপনি কি কাউকে খুঁজচ্ছেন নাকি?”। মেকি এক হাসি দিয়ে বললাম না না দেখছিলাম সবাই কি করে। বাসায় যাওয়ার সময় হয়ে গেছে তো “। তখন মনে মনে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করছিলাম আমি তাকে এত ভয় পাই কেন আজব কাহিনী তো। সেদিন যখন ভাবিদের বাসা থেকে ফিরছিলাম সারা গাড়িতে চোখ বুলিয়ে দেখেছি কোথাও ছিল না রাসেল ভাই। মনে মনে ভেবেছিলাম গেল কই মানুষটা। রাতে এসে দেখি বাসায় মনে হয় সুঁই ঢোকানোর জায়গা নেই। এত মানুষ আসল কোথা থেকে। খালাকে জিজ্ঞেস করতেই বলল পটুয়াখালী থেকে যারা যারা আসার কথা ছিল সবাই এসেছে। মনে চাচ্ছিল খুব জোরে এক চিল্লান মারি। আমার আবার সমস্যা আছে বেশি গাদাগাদিতে একদম ঘুম আসে না। কালকে মাত্র তিন ঘন্টা ঘুমিয়েছি আজকে এমন হলে মরে যাব। শাড়ি খুলে ফ্রেশ হয়ে যখন বের হলাম খেয়াল করলাম আমাদের বেড রুমের ফ্লোর পর্যন্ত বুক হয়ে গেছে। বারান্দায় চলে গেলাম সোজা ভাবতে লাগলাম চারটা বেডরুমের মধ্যে ফ্রি আছে কোনটা? তখনই হঠাৎ করে মনে পড়ল একমাত্র ভাইয়ার রুমই ফাঁকা। কারণ ভাইয়া কখনোই কাউকে বেডরুমে এলাউ করে না। ভাইয়ারে পটাতে পারলে আজকে ওর রুমে শান্তিতে ঘুমানো যাবে। আস্তে করে একটা বালিশ বগলদাবা করে যাতে কেউ টের না পায় এমন করে কেটে পড়লাম ওখান থেকে। পা টিপে টিপে যখন ভাইয়ার রুমে সামনে পৌঁছালাম দেখি মোটামুটি কেউ খেয়াল করছে না আমাকে। একবার ভাবলাম নক করি পরে আবার ভাবলাম ভাইয়া যদি ভেতর থেকে উঁচু গলায় ডাক ছাড়ে তখন কি হবে৷ আল্লাহর নাম নিয়ে দরজার লক মোচড় দিয়েতেই আস্তে করে দরজা খুলে গেল। আশ্চর্য লাগল ভাইয়া লক না করেই ঘুমিয়ে পড়েছে। পরে মনে পড়ল পেটের যে অবস্থা এজন্যই মনে হয় লক করে নাই। দেখা গেল ওয়াশরুম পর্যন্ত যাওয়ার আগেই যদি কোন অঘটন ঘটে যায় তখন কি হবে। রুমে ঢুকেই দেখি একদম শান্ত পরিবেশ পিন পড়লেও যেন টের পাওয়া যাবে৷ এসির দিকে তাকিয়ে দেখি ২৩ এ টেম্পারেচার সেট করা আবার ফ্যান ফুলে ছাড়া। এজন্যই মাঝে মাঝে এত জিদ লাগে ভাইয়ার উপরে। আবছা অন্ধকারে দেখি কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। একবার ভাবলাম লাইট জ্বালাই সাথে সাথেই প্লান ক্যান্সেল করলাম।যদি ভাইয়ার ঘুম ভেঙ্গে যায় একটা উষ্টা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেওয়া ওর কাছে ওয়ান টু র ব্যাপার। কোন রকমে হাতড়ে হাতড়ে একটা কম্বল পেলাম সেটা নিয়ে যখন বেডে আসলাম দেখি ভাইয়া এক সাইডে করে ঘুমিয়েছে। আমি তো মহা খুশি ভাইয়া ঠিক মাঝ বরাবর ঘুমায় তাও হাত পা ছড়ায়ে আজকে সুন্দর করে এক কোনায় যেয়ে ঘুমাইছে। এই না হলে আমার ভাই অন্ধকারেই একা একা ফিক করে হেসে দিলাম। দরজা লক করে কম্বল মুড়ি দিয়ে যখন আমি ঘুমাতে গেলাম তখন মনে হয় ১ টার উপরে বেজে গেছে।

হঠাৎ করে কেন জানি না ঘুম ভেঙ্গে গেল। ঘুম থেকে উঠলে আমার বেশখানিকটা সময় যায় নিজেকে বুঝে উঠতে। টের পেলাম আমার মুখটা বেশ উঁচু একটা জায়গায়। মনে করতে থাকলাম আমি কি ফ্লোরে বসে খাটের উপরে মুখ দিয়ে শুয়ে পড়েছিলাম নাকি? এর দুই সেকেন্ড পরে টের পেলাম আমার হাতের নিচে চুল। আজব কাহিনী মাথার চুল কি ঘুমের ঘরে ছিঁড়ে ফেলেছি নাকি। আবার টের পেলাম চারপাশে শীত প্রচুর কিন্তু আমার মাথার উপরে যেন গরম বাতাসের ফ্যান কে জানি ছেড়ে দিয়েছে। ঠিক করে শোয়ার চেষ্টা করতেই টের পেলাম মাথার বালিশটা যেন একবার উপরে উঠছে একবার নিচে নামছে। শেষ মেষ কম্বল উঁচু করে তাকাতেই আমার মাথার ভেতরটা যেন পুরো শূন্য হয়ে গেল। ইয়া খোদা এ কি দেখছি আমি। রাসেল ভাইয়ের বুকের উপরে আমি মাথা দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছি। আচ্ছা আমি মনে হয় স্বপ্নে দেখছি এসব। ভাবলাম একটা চিমটি কাটি হাতে। খুব জোরে হাতে একটা চিমটি কাটলাম আশ্চর্য লাগল যে আমি ব্যাথা পেলাম না কেন। তাইলে আমার ধারনাই ঠিক আমি স্বপ্নেই দেখছি।এই বলে যেই চিমটি থেকে হাত সরালাম ধুম করে রাসেল উঠে বসে আউক করে উঠলো। তাকে বসতে দেখে আমি চিতকার করার জন্য যেই হা করেছি অমনি সে আমার মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে। কানের কাছে এসে বলে “এই রাতে একটা শব্দ যেন না হয়। বাইরে লোক আমার তো কিছু হবে না যা হবার তোর হবে ” এই বলেই মুখের থেকে হাত সরিয়ে দিল। উনিকে দেখে আমার মাথায় যেন কাজ করা ছেড়ে দিল। অনেক্ষন পরে জিজ্ঞেস করলাম ভাইয়া কই,আর আপনিই বা এইখানে কেন? ” তোর সাথে ঘুমাবো তাই এসে এখানে ঘুমাইছি” এই বলেই উনি ওয়াশরুমে গেল। আমি আস্তে আস্তে রুমের দরজা খুলেই দেখি ড্রয়িংরুমের বসে ছোট মামা টিভি দেখছে আমি বের হলেই ছোট মামা দেখবে আর এলাহি কান্ড হয়ে যাবে। আস্তে করে দরজা লক করে এসে সোফায় বসলাম মনে মধ্যে প্রশ্ন ঘুরতে লাগল আশ্চর্য ব্যাপার ভাইয়াটা গেল কই এত রাতে। বেডে যেয়ে মাথার বালিশের কাছে হাত দিতেই রাসেল ভাইয়ের ফোন পেলাম। স্ক্রীনে দেখি পুরো রাত সাড়ে তিনটা। সকালের আগে বের হওয়া মনে তো হয় না পসিবল।তার চেয়ে বড় কথা এতক্ষন এই লোকের সাথে অন্ধকার ঘরে আমি থাকব কি করে। নিজেকে মনে হচ্ছিল নিজেই লাঠি পেটা করি।উফফ কোন কুক্ষনে যে ভাইয়ার রুমে শোয়ার চিন্তা এসেছিল মাথায়। ওয়াশরুমের দরজা খুলে বের হতেই রাসেল ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আমার হার্টবিট বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। ওয়াশ রুমের আলোয় দেখলাম পুরো খালি গায়ে নিচে একটা হাঁটু পর্যন্ত লম্বা শর্ট প্যান্ট পরা চুল গুলো এলোমেলো ঘুম ভেঙ্গে ওঠা চোখ মুখের আবেশ বুকের ভেতরে কেমনই জানি করে ওঠে। ইসস এই বুকে মাথা দিয়ে কতক্ষন ঘুমিয়ে ছিলাম কে জানে। এই ভাবতেই নিজের অজান্তে কখন যে হেসে ফেলেছি কে জানে। ওয়াশরুমের লাইট অফ করে আবছা অন্ধকারে সোজা সে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো………..

মারিয়া আফরিন নুপুর
পর্ব ২
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=457850218146965&id=212049839393672
পর্ব ১
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=457115094887144&id=212049839393672