তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্ব_১১+১২

0
1113

তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্ব_১১+১২
#লেখক_Mohammad_Asad

ফজরের আজান দিচ্ছে। ছাদিক চোখ মেলে দেখে নিশাত ছাদিকের বুকে সুয়ে আছে চুপটি করে। কালকে রাতে দুজনে দুষ্টুমি করেছে যে অনেক।

ছাদিক নিশাতের বাচ্চা টাইপের মুখটার দিকে তাকিয়ে আছে। একদম ছোট্ট বাচ্চাদের মতো করে ঘুমিয়ে আছে নিশাত।
নিজের বুক থেকে সরাতে চাইলে নিশাত আরো শক্ত করে জরীয়ে ধরে। শরীলটা অনেক ক্লান্ত লাগছে ছাদিকের আজ।
-নিশাত,
-হুমমম,
-নামাজ পড়বে না?
-নাহহ্ আজকে না।

ঘুমের মাঝে কথাগুলো বলে নিশাত। ছাদিক মিস্টি হেঁসে নিশাতের কপালে আদর মেখে দেয়। তার বুকের মাঝখান থেকে সরীয়ে নেয়। ছাদিক গোসল করে এসে নামাজ পড়ে নেয়। রুমের জানালা খুলে দেয়। ভোরের আলো নিশাতের মুখে এসে পরছে।
ছাদিক নিশাতের কাছে বসে নিশাতের মিস্টি মুখটার দিকে তাকিয়ে আছে।

নিশাত কিছুক্ষণ পর পর বাচ্চাদের মতো এদিক ওদিক করতে থাকে। মিটমিট চোখে ছাদিকের দিকে তাকায় নিশাত। ভূত ভূত বলে চেঁচিয়ে উঠে। নিশাত ছাদিকের গলা জরীয়ে ধরে।
-আরে নিশাত কি হয়েছে তোমার? ভয় পেলে নাকি? আমি তো।
“নিশাত হুহু করে কেঁদে দেয়”
-নিশাত তুমি কান্না করছো কেন?
-তুমি আমাকে ভয় দেখালে কেন?
-ভিতুর ডিম একটা,
-তুমি এখানে বসে আছো কেন? আমার তো ভয় করবেই তাই না।
-তোমাকে দেখছিলাম। আমার মিস্টি বউটাকে।
-হিহিহিহি তার জন্য আবার মাথায় টুপি দিয়ে দেখতে হবে?
-গোসল করে নামাজ পড়লাম। তাই মাথায় টুপি।
“নিশাত এবার ছাদিকের চোখে দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে আছে”
-আমাকে ডাকোনি কেন নামাজ পড়ার জন্য?
-তুমি তো ঘুমিয়ে ছিলে। আর কালকে রাতে অনেক দুষ্টুমি করেছো যে তুমি।
-ইসস রে, নিজে খুব দুষ্টুমি করেছে। আর আমাক বলতেছে।
-আবার দুষ্টুমি করবো নাকি পেত্নী।
-হিহিহিহি না,
-আচ্ছা ঠিক আছে তুমি ঘুমিয়ে পড়ো!
-নাহহ্ আমি আর ঘুমাবো না। নামাজ পড়তে হবেনা বলো? নয়তো আল্লাহ রাগ করবে তো। “নিশাত মুখ গোমড়া করে কথাগুলো বলে।”

নিশাত ছাদিকের মুখে নিজের হাত রেখে। গাল টেনে দেয়। তারপর গোসল করতে যায় নিশাত। এদিকে ছাদিক বিছানায় সুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।

নিশাত গোসল করে এসে ফজরের নামাজ পড়ে নেয়। নামাজ শেষে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাস উপভোগ করছে নিশাত। তখন প্রায় সকাল হয়ে এসেছে। পিছন থেকে কে যেন আল্ত করে জরীয়ে ধরেছে। নিশাত বুঝে যায়, ছাদিক ছারা আর কেউ না।
-এই হনুমান,
-হুম,
-আবার দুষ্টুমি করতে ইচ্ছে করছে তাই না?
-হুম খুব ইচ্ছে করছে।
-এখন না।
-পেত্নী একটা কথা বলবো?
-হুম বলো
-আমাকে একটা বাবু দিবে?
-আমি তো তোমার বাবু। আর বাবু কি করবে হুম?
-তুমি তো আমার বাবু। তবে আমাদের দুজনের একটা ফুটফুটে বাবু হলে কেমন হয় বলো?
-নাহহ্ এখন না। আমি আগে বড় হই। তারপর বাবু নিবো কেমন।
-আচ্ছা ঠিক আছে। আমার পিচ্চি বউটা।
-হনুমান আমি পড়াশোনা করতে চাই।
-কেন পেত্নী,
-তোমার বাবুর আম্মুটাকে একটু শিক্ষিত হতে হবে না বলো।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-হিহিহিহি
-পেত্নী একটা, আমি তোমার শিক্ষক। আমি তোমাকে পড়াবো ওকে।
-আচ্ছা মাস্টার মশাই। তবে পড়ালেখার সময় নো দুষ্টুমি।
-ঠিক আছে পেত্নী।
-হিহিহিহি
-তুমি সত্যি পেত্নী,
-হু, আর তুই সত্যি হনুমান,
-ভালোবাসি,
-খুব ভালোবাসি,

-এভাবেই ভালোবাসবে তো সারাজীবন আমাকে।

ছাদিক নিশাতকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলে।
-হুম এভাবেই ভালোবাসবো সারাজীবন। বেশি ভালোবাসবো তবে একটুও কম হবে না বুঝছো।
-হুম বুঝছি মহারাজ।

ছাদিক নিশাতের ঠোঁটে কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে যায়। নিশাত এক দৌড়ে বেলকনি থেকে রুমে চলে আসে। আর জোরে বলে উঠে।

-ইসস শুধু দুষ্টুমি তাই না।
.
.
সকাল ৭;০০
ছাদিকের বুকে নিশাত মাথা রেখে সুয়ে আছে। আর ছাদিক ফেসবুকিং করছে। নিশাত শিখিয়ে দিচ্ছে ফেসবুক কিভাবে ব্যবহার করতে হয়।

দরজায় কে যেন টুকা দিচ্ছে। ছাদিক দরজাটা খুলে দেয়। দেখে নুসরাত ভাবি রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে।
-ছাদিক, এতো সকাল হয়ে গেছে। সকালের নাস্তা করবি কখন?
-এই তো ভাবি,
-হ্যাঁ, তোর বউকে নিয়ে আয়।

ছাদিক নিশাতকে নিয়ে খাবার টেবিলে যায়।
টেবিলে বাসার সঙ্গে সঙ্গে রাইসুর ভাইয়া বলে।
-কিরে ছাদিক আর পিচ্চি ভাবি রাত কেমন কাঁটলো তোমাদের?
“নিশাত একটু হলেও লজ্জা পেয়েছে। তাই তো নিজের মুখটা নিচু করে নিয়েছে। ছাদিক বলে।
-ভাইয়া রাতটা একদম হেব্বি কেঁটেছে। তবে এই পেত্নীটা খুব পাজি আমাকে খাটের নিচে রেখেছিলো সারারাত।
-মানে কি বলছিস ছাদিক। ছোট্ট ভাবি দেখছি খুব পাজি। “কথাগুলো বলে রাইসুল হা হা করে হেঁসে দেয়।”

“নিশাত মাথা নিচু করে আছে। আর রাগে ফুঁসছে। এই হনুমানটা তো খুব খারাপ। কতটা মিথ্যা কথা বলছে। আগে যাই রুমে তারপর দেখাচ্ছি মজা।

-ভাইয়া আমার তিন বন্ধু কোথায়?
-ঘুমিয়ে আছে মনে হয়।
-হায় রে হায়, আমার বন্ধুরা এতোটা অলস কেন কে যানে।

কিছুক্ষণ পর তিন বন্ধু এক সঙ্গে খাবার টেবিলে আসে। সকালের নাস্তা গুলো খেয়ে। সকলে গল্প জুরে দেয়। নিশাত আর ছাদিককে নিয়ে।
-এই ছাদিক তোদের প্রেম কেমন করে হয়েছিলো রে?
-প্রথমত আমি ভাইয়ার কলেজে গিয়েছিলাম ক্লাস নেওয়ার জন্য। ভাইয়া সেদিন অনেক অসুস্থ ছিলো তাই আমি গেয়েছিলাম।

” রাইসুল বলে”
-হ্যাঁ বল তারপর,

ছাদিক তার প্রেমের গল্প ভাইয়া ভাবি বন্ধুদের সঙ্গে শিয়ার করে।
-বাহহ্ এতো কাহিনী হয়ে গেছে এই কয়দিনে?
-হ্যাঁ রে ফয়সাল,
-আচ্ছা ভাইয়া, আজকে বিকেলে আমরা চলে যাচ্ছি রাজশাহী। এখানে থাকলে শুধু শুধু অশান্তী হবে।

“নুসরাত ভাবি”
-কি রে ছাদিক। আমার উদ্দেশ্য করে কথাটা বললি তাই না?
-নাহহ্ ভাবি।
-বুঝি রে বুঝি সব বুঝি। আমাকে যতটা খারাপ ভাবিস ততটা খারাপ না আমি।

-নুসরাত, তা কক্ষণো বলি নাই আমি। স্যরি ভাবি।

হঠাৎ করে ছাদিক নুসরাত বলে উঠে। নুসরাত বলে।
-ওহ হ্যাঁ তোমাদের বলা হয়নি। আমি আর ছাদিক আমরা ছিলাম বেস্ট ফেন্ড। তবে হঠাৎ করে আমাদের বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যায়। কোনো এক কারণে। তারপর রাইসুল মানে আমার হাসবেন্ডকে আমার জীবনে আসে।
“রাইসুল”
-তাহলে তোমরা দেবর ভাবি দুজন দুজনকে চিনতে?
“ছাদিক”
-হ্যাঁ ভাইয়া ভাবি আমার অনেক ভালো বন্ধু ছিলো। কে যানতো আমার পাজি বান্ধবী আমার ভাবি হয়ে যাবে।
“ছাদিকের কথা শুনে সকলে হা হা করে হেঁসে উঠে।”

“তুহিন”
-আচ্ছা আমরা সকলে গল্প করছি। তবে পিচ্চি ভাবিটা কিছু বলছেনা যে।
“ছাদিক”
-ও আর কি বলবে। বোকা তো, তাই কিছু বলছে না।
“ছাদিক”
-তোমরা যানো আমার মিস্টি বউটা খুব পেত্নীও বটে।
“রিয়াদ”
-ছাদিক, ভাবিকে এভাবে লজ্জা দিচ্ছিস কেন?

নিশাত মাথা নিচু করে রাগে ফুঁসে যাচ্ছে। আগে রুমে যাই তারপর দেখাচ্ছি। আমি ওকে খাটের নিচে রাখছিলাম তাই না। আমি বোকা পেত্নী তাই না।
.
.
“নুসরাত”
-এই ছাদিক আজকে চলে যাবি বলছিস কেন? কয়দিন থেকে যা।
-না ভাবি তা কি করে হয় বলো। মিম খালাম্মা খালু তারা অনেক চিন্তা করবে তো। আর স্কুল ছুঁটি নিয়ে আসিনাই আমি।
“তুহিন”
-তোকে চিন্তা করতে হবে না। আমি আছি না দেখে নিবো। আমি হেড মাস্টার কে সবকিছু বুঝিয়ে বলবো।
“নুসরাত”
-হ্যাঁ তুহিন ঠিকি বলেছে। কয়দিন আমাদের এখানে থেকে রাজশাহী যাবি। তোর খালুকে সবকিছু বলেছি আমি ফোনে। অনেক খুশি হয়ে গেছে।
.
.
ছাদিক নিশাতকে সঙ্গে নিয়ে রুমে ডুকলে নিশাত রুমের দরজাটা বন্ধ করে দেয়। ছাদিক ভেবেছে নিশাত দুষ্টুমি করবে হয়তো।

নিশাত ছাদিকের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। একদম বড় বড় চোখ করে। আর ভয়ংকর ভাবে রেগে আছে নিশাত। মুখটা লাল হয়ে গেছে। ছাদিক নিশাতের এমন ভয়ানক রুপ দেখে ঢুক গিলে।
-নিশাত এমন ভাবে রেগে গেছো কেনো?
-আমি তোমাকে খাটের নিচে রাখছিলাম তাই না। আমি বোকা, আমি পেত্নী।
দেখাচ্ছি দাঁড়াও, আমি পেত্নী না শুধু রাক্ষসী’ও।

নিশাত কথাগুলো বলে ছাদিকের শরীলে ঝাপিয়ে পড়ে। ছাদিকের বুকে কিল ঘুশি দিতে শুরু করে। নিশাতের মারগুলো ছাদিকের যেন কিছু’ই হচ্ছে না।

ছাদিক নিশাতের কমড়ে হাত দিয়ে পাজোকলা করে কোলে তুলে নেয়।
-এই আমাক নামাও বলছি।

নিশাত ছাদিকের বুকে একটা কামড় দেয়। ছাদিক উফফ্ করে উঠে ব্যথ্যায়।
-তবে রে,
“ছাদিক কোলে করে খাটে নিয়ে যায়। বিছানায় সুয়ে দিয়ে বলে।
-এবার তোমার কি হবে বলো তো।
-এই একদম দুষ্টুমি করবে না। আমি কতটা পিচ্চি বউ তাই না। আমি দুষ্টুমি করবো। না করে তুমি দুষ্টু করছো! খুব পাজি তুমি।

(চলবে?)

গল্পঃ #তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১২
লেখকঃ #Mohammad_Asad

ছাদিকের বন্ধুরা রাজশাহী চলে যায় সকালে নাস্তা খেয়ে। ওদের নিজেদের নিজ নিজ কাজে চলে যায়। তুহিন আর ছাদিক এক স্কুলে চাকরি করে। তাই ছাদিকের ছুঁটির দাইত্বটা তুহিন নিয়েছে।
.
.
দুপুরের দিকে নিশাত রান্নাঘরের দিকে উঁকি দিচ্ছে। ছাদিক, রাইসুল ভাইয়ার সঙ্গে কলেজে গেছে। এদিকে নিশাতের রুমে একা থাকতে একদম ভালো লাগছে না।

নিশাত রান্নাঘরে গিয়ে নুসরাত ভাবির পার্শে দাঁড়িয়ে থাকে।
-আরে নিশাত তুমি এখানে?
-হুম,
-ছাদিক নেই বলে ভালো লাগছেনা তাই না?
-হু
-হা হা পাগলী মেয়ে একটা। আমারো এক সময় ভালো লাগতো না, রাইসুল কাছে না থাকলে। তারপর আস্তে আস্তে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে। কি যানোতো ভালোবাসার মানুষটা পার্শে থাকলে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করে। ছাদিক অনেক ভালো ছেলে। কখনো হাত ছারা করোণা।
-হু যানি,
-তুমি রান্না করতে যানো নিশাত।
-নাহহ্
-শিখবে না?
-হুম শিখবো তো।
-নিশাত তুমি এখন অনেক ছোট্ট। তবুও রান্নাবান্না শিখে নেওয়াটা অনেক ভালো বুঝছো। নয়তো একসময় দেখবে ঝামেলায় পড়ে যাবে। আর রাজশাহী গেলে তো ছাদিকের খালাম্মা তোমার হাতের রান্না খেতে চাইবে। তখন তুমি খুব মুশকিলে পড়ে যাবে।
-হুম তা ঠিক।
-চিন্তা করোনা আমার ফোনে অনেক গুলো রান্নার ভিডিও আছে। শিয়ার করে নিও ওকে।
-আমার তো ফোন নেই,।
-তোমার ফোন নেই তো কি হয়েছে ছাদিকের তো আছে।
-হু

নিশাত ভাবির সঙ্গে গল্প করতে থাকে। নিশাতের একদম ভালো লাগছে না ছাদিক পার্শে না থাকাই। নুসরাত ভাবি নিশাতকে শিখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে রান্না করতে হয়।
-যানো নিশাত, আমি যেদিন প্রথম এই বাড়িতে আসি। সেদিন আমি কিছু’ই রান্না করতে পারতাম না। তারপর ভিডিও দেখে আস্তে আস্তে শিখে ফেলছি।
-হিহিহিহি হুম,

দুপুরের ২টা
ছাদিক আর রাইসুল দুই ভাই বাড়িতে আসে। ছাদিক বাড়িতে এসেই নিশাতের রুমে প্রবেশ করে। নিশাত বিছানায় সুয়ে পড়েছে। টেবিলে ভাত রেখে। ছাদিক অনেক কালান্ত হয়ে বাসায় ফিরেছে।
রুমের দরজাটা লেগে দেয় ছাদিক। নিশাতের পার্শে বসে নিশাতের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। ছাদিক ভালোভাবে যানে নিশাত এই পযন্তু কিছু’ই খাইনি। আমার দেরি হচ্ছে দেখে ভাত তরকারি রুমে নিয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়েছে নিশাত। যাই আগে গোসল করে আসি।

ছাদিক গোসল করে এসে তোয়াল দিয়ে মাথা মোছাও করে। ছাদিক কাপড় বদলানোর পর সাদা সার্ট আর সাদা পেন্ট পড়ে নেয়। নিশাত তখনও ঘুমিয়ে আছে। কালকে সারারাত জেগে ছিলো নিশাত। তাই হয়তো খুব ঘুম পেয়েছে নিশাতের। ছাদিক নিশাতের ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে যায়। আর আস্তে করে বলে।
-নিশাত,
-উমমমম,

নিশাত ঘুমের মাঝে মিটমিট চোখে ছাদিকের দিকে তাকিয়ে আছে।
-কখন আসলে তুমি?
-এই তো আরেকটু আগে। ভাত খেয়েছো তুমি?
-নাহহ্

“নিশাতের ঘুমটাও ভালোভাবে কাঁটেনি। ছাদিক দুষ্টুমি করে নিশাতের ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে যায়। তা দেখে ঘুমের মাঝে ছাদিকের ঠোঁটে নিজের দুইটো আঙ্গুল দিয়ে বলে।”
-তুমি ভাত খেয়ে নেও। আমার খুব খুব ঘুম পাচ্ছে।
-তা কি করে হয় পেত্নী। ঘরীর দিকে তাকিয়েছো ৩টা বেজে গেছে।
-আমার কেন যানি খুব ঘুম পাচ্ছে। তুমি খেয়ে নাও।

ছাদিক ভালোভাবে বুঝতে পারে। রাতের ঘুমটা এখন নিশাতের চোখে চাপিয়ে পরেছে।

নিশাত বিছানায় সুয়ে ছিলো। ছাদিক নিশাতের কোমড় ধরে পাজোকলা করে কোলে তুলে নেয়। মেঝেতে বসে দেয়। নিশাত ঘুমের মাঝে বসে বসে দৌল খাচ্ছে বাচ্চাদের মতো।

ছাদিক টেবিল থেকে ভাত আর তরকারি মেঝেতে রাখে নিশাতের সামনে। ভাতের সঙ্গে তরকারি মাখিয়ে নিশাতের মুখে তুলে দেয় ছাদিক। নিশাত একবারে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে খুলছেই না। “এই পিচ্চি মেয়েটাকে নিয়ে আরেক ঝামেলা। হায়রে কপাল এই মেয়েতো দেখছি বাচ্চাদের মতো শুরু করছে।
-নিশাত মুখটা খুলো দেখি।
“নিশাত দূলতে দূলতে ঘুমের তালে বলে”
-আমার ভালো লাগছে না। তুমি খাইয়ে দেও আমাকে।
-এই তো খাইয়ে দিচ্ছি। মুখটা খুলো দেখি নিশাত।
-এই তো খুলেছি। আ আ

ছাদিক নিশাতের পাগলী দেখে মুচকি মুচকি হেঁসে চলেছে। পাগলী মেয়ে একটা। নিশাতের ভাত খাওয়া শেষ হলে। নিশাতের হাত ধুয়ে দেয় ছাদিক।
আবার পাজোকলা করে কোলে বিছানায় সুয়ে দেয়। কিছুক্ষণ নিশাতের পার্শে বসে থাকে ছাদিক। ছাদিকের খুব ক্ষিধে পেয়েছে। ছাদিক মেঝেতে বসে দুপুরের খাবারটা খেয়ে নেয়।

বিকেল ৫টা,
ছাদিক ফোনে ফেসবুকিং করছে। ছাদিকের যেন আস্তে আস্তে ফেসবুক ব্যবহার করতে খুব ভালো লাগছে এখন। নিশাতের তখন ঘুম ভেঙে গেছে। নিশাত ছাদিককে দেখে এক লাফে খাটে দাঁড়িয়ে যায়।
-এই তুমি কখন আসলে?
-ঘুম ভেঙেছে তাহলে তোমার।
-হ্যাঁ আমাকে জাগাওনি কেন! ভাত খেয়েছো তুমি?
-হুম শুধু আমি খাইনাই। তুমিও খেয়েছো।
-মানে?
-ঘুমের মাঝে।

নিশাত চিন্তা করতে থাকে কখন খেলাম। নিশাতের মনে পরে যায়। ছাদিক আমাকে ঘুমের মাঝে খাইয়ে দিছে।

-নিশাত তোমার জন্য একটা গিফট এনেছি।
“নিশাতের হাতে গিফটের প্যাকেটটা দিয়ে ছাদিক মুচকি হেঁসে উঠে।

নিশাত প্যাকেটটা খুলে দেখে। একটা স্মার্টফোন।
-এই তুমি এইসব আনছো কেন?
-দরকার ছিলো তাই।
-শুধু শুধু টাকা নষ্ট করেছো তুমি।

-আরো অনেক কিছু আছে তোমার জন্য। চোখ বন্ধ করো আগে বলছি।

নিশাত মুখটা গোমড়া করে খাটে বসে আছে। ছাদিক কিছুক্ষণ পর নিশাতের পার্শে অনেক গুলা চুড়ি রেখে দেয়। আর একটা নীল রংঙের শাড়ী। তার পার্শে ছোট্ট একটা চিরকুট। নিশাত চোখ খুলতেই অবাক হয়ে যায়।
নিশাত চিরকুটটা খুলে দেখে।
-খুব ভালোবাসি।

নিশাত ছাদিকের চোখের দিকে তাকায়। মিস্টি হেঁসে বলে।
-পাগল একটা এতোগুলা চুড়ি এনেছো কেন?
-একদম বেশি কথা বলবে না পেত্নী। তারাতাড়ি নীল শড়ীটা পড়ে ছাঁদে এসো। দাঁড়িয়ে থাকবো তোমার জন্য আমি।
.
.
ছাদিক ছাঁদে দাঁড়িয়ে আছে। নিশাতের আসার কোনো নামি নেই। কিছুক্ষণ পর চুড়ির আওয়াজ পায় ছাদিক। বুঝে যায় নিশাত এসেছে। নিশাতের দিকে তাকিয়ে ছাদিক ত্রাশ খায়। ছাদিক নিশাতের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। নীল রংঙের শাড়ি আর নানারংঙের চুড়ি পড়ে আছে নিশাত। একদম বউ পরীর মতো লাগছে। ছাদিক নিশাতের রুপে যেন মুগ্ধ হয়ে গেছে। চোখ ফিরাতে পাচ্ছে না।

নিশাত ছাদিকের কাছে আসে। ছাদিকের দুইটি হাত গুটিশুটি করে নিয়ে বলে।
-কি দেখছো এভাবে।
-তোমাকে,
-আমাকে দেখার কি আছে।
-আমার পিচ্চি বউটা যে এতোটা কিউট।
-হইছে আর পাম দিতে হবে না। তুমি তো আর কম সুন্দর নও, আমার হনুমানটাও খুব সুন্দর। সাদা শার্ট আর সাদা পেন্ট খুব সুন্দর মানিয়েছে তোমাকে।
-হুম বললেই হলো। আমার বউটার মতো আমি। আমি তো রোগা পটকা একটা ছেলে। আর আমার বউটা কতটা সুন্দর।

নিশাত ছাদিকের কথা শুনে মিস্টি হেঁসে দেয়। ছাদিক যতটা রোগা পটকা বলছে ছাদিক আসলে এতোটা রোগা পটকা না।
একদম কিউটের ডিব্বা।
-এই যে আমার সুন্দরী বউ। কি ভাবছো এমন করে?
-হিহিহিহি কিছু না।
-পেত্নী তোমাকে খুব সুন্দর মানিয়েছে নীল শাড়ীতে। তবে আমি ছারা তোমাকে যেন আর কেউ না দেখে।

নিশাত ছাদিকের ছোট্ট ছোট্ট দাঁড়ি গুলো টানতে টানতে বলে।
-ঠিক আছে হনুমান।
-মনে যেন থাকে। তুমি শুধু আমার জন্য সাজবে। আর কারো জন্য না।
-আচ্ছা বাবা ঠিক আছে,

(চলবে?)