তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্ব_২৩+২৪

0
1128

তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্ব_২৩+২৪
#লেখক_Mohammad_Asad

ছাদিক গোসল করে আসে। নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। নিশাত অনেক বার ফিরে আসার জন্য ডেকে যায়। তবে পিছনে ফিরেনি নিশাত। ছাদিকের চোখে নিশাতের জন্য ঘৃণা আর রাগের জোয়ার বইছে।

এভাবে কেঁটে যায় আজকের দিনটা। সকালে নিশাত রুমের মধ্যে আসে ডাক দেওয়ার আগে ছাদিক বিছানা থেকে উঠে যায়, ফ্রেস হয়ে এসে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নিশাত নাস্তা করে যেতে বললে বলে। তুমি খেয়ে নিও, আমি বাইরে থেকে খেয়ে নিবো। ছাদিকের কথায় যেন হাজারো ঘৃণা বয়ে যাচ্ছে। নিশাত কান্নায় ভেঙে পড়ে যে করেই হোক এই ভুল ভাঙাতে হবে। কেন আমার উপর অভিমান ওর?

সকালের নাস্তা খেয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিচ্ছে নিশাত। কলেজে যাওয়ার পর সাকিবের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর সাকিব আসে।
-আরে নিশাত তুমি এতো তাড়াতাড়ি আসছো যে!
-ইচ্ছে হয়েছে তাই।
-ইচ্ছে নাকি অন্য কিছু?
-আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। তার জন্য,
-ওহ হ্যাঁ, আমারও কিছু কথা আছে।
-কি কথা বলুন!
-নাহ্ নিশাত, তুমি আগে বলো।
-আরে নাহ্, আপনি আগে বলুন।

সাকিব কিছু না বলে হাঁটু গেঁড়ে নিশাতের সামনে বসে। তারপর একটা লাল টুকটুকে গোলাপ ফুল নিশাতের হাতে দিয়ে বলে বলে।
-আই লাভ ইউ নিশাত, আমি তোমাকে ভালোবাসি।

নিশাত গোলাপ ফুলটা হাতে নিয়ে মাটিতে পিষিয়ে দেয়। সাকিবের চোখ থেকে অঝোরে বৃষ্টি ঝড়তে থাকে। সাকিব চোখের জলগুলো মুছে নিয়ে বলে।
-নিশাত দেখো, তুমি আমাকে ভালোবেসো তা আমি যানি। এভাবে কষ্ট দিচ্ছো আমাকে সমস্যা নেই, তবে কি যানোতো নিশাত আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। সেই প্রথম দিন থেকেই ভালোবাসি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

নিশাত সাকিবের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে অনেকটা রাগি ভাবে। নিজের রাগ সামলাতে না পেরে সাকিবের গালে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে দেয় নিশাত। সাকিব গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নিশাত রেগে জ্বলতে থাকে।
-এই ছেলে নিজেকে মনে করোটা কি! তুই যানিস আমার হাসবেন্ড আছে! তারপরেও কেন ভালোবাসার কথা বলছিস আমাকে?
আজকে তোর জন্য আমার ভালোবাসার মানুষটা আমাকে ভুল বুঝেছে, শুধু তোর জন্য আমার ভালোবাসার মানুটা আমার শরীলে হাত উঠিয়েছে। আরে ভালোবাসা কি এমনি হয়ে যায়? কয়েকদিন একটা মেয়ের সঙ্গে কথা বললেই কি ভালোবাসা হয়ে যায়? আমার সম্পর্কে কি যানিস তুই! যে ভালোবাসার কথা বলিস আমাকে!

সাকিব নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে।
-তোমার বিয়ে হয়ে গেছে। “নিজের মুখে হাত দিয়ে,

-হ্যাঁ আমার বিয়ে হয়েছে। আজকে না ১বছর আগে।

সাকিব নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে বলে
-স্যরি নিশাত। অনেক ভুল করেছি আমি, আমার বন্ধুরা বলতো তোমার নাকি বিয়ে হয়েছে। তবে কথাগুলো ঠাট্টা ভাবে নিয়েছিলাম। অনেক অনেক দুঃখিত।

-হ্যাঁ আমিও স্যরি, রাগের মাথায় একটু বেশি জোরে থাপ্পড় গুলো দিয়েছি। লেগেছে তাই না!
” সাকিব ফিঁক করে হেঁসে দেয়।
-সত্যি নিশাত তোমার মিস্টি কন্ঠে যে কেও পাগল হয়ে যাবে। আমি নিজেই তো ভুল করেছিলাম। আচ্ছা তোমার হাসবেন্ডের নাম কি?
-হাদিক,
-ওহ আচ্ছা,
-হ্যাঁ
-আমার ব্যবহারে কষ্ট পেয়ে থাকলে স্যরি নিশাত।
-আরে হয়েছে আর স্যরি বলতে হবে না। ভুল মানুষ মাত্র’ই হয়। আর হ্যাঁ কোন মেয়েকে প্রপোজ করার আগে তার সম্পর্কে ভালোভাবে যেনে নিও।
“সাকিব একটা লজ্জা পেয়ে যায় নিশাতের কথায়। মাথার চুল গুলো চুলকতে চুলকতে বলে।
-হ্যাঁ, এরকম ভুল আর দ্বিতীয় বার করবো না স্যরি।

নিশাত মিস্টি হেঁসে বলে,
-আচ্ছা আমার একটা কাজ করে দিতে পারবে?
-হ্যাঁ পারবো, বলো নিশাত।
-আপনাকে আর আমাকে এক সঙ্গে দেখে ভুল বুঝেছে ছাদিক, ওকে সবকিছু খুলে বললে খুশি হতাম। পাগলটা বলছে আমি নাকি আপনার সঙ্গে ঢলাঢলি করেছি।
“সাকিব ফিঁক করে হেঁসে বলে,
-আচ্ছা ঠিক আছে।

চলবে?

#তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
#পর্ব_২৪
#লেখক_Mohammad_Asad

বিকেল ৪;৩৫ মিনিট, নিশাত সাকিব দাঁড়িয়ে আছে স্কুলের বারান্দায়। স্কুল ছুঁটি হয়ে গেলে ছাদিক ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে আসে। এসেই চমকে যায়। পিছন থেকে ছাত্র ছাত্রীরা এসে সালাম দিচ্ছে।
-আসসালামু আলাইকুম স্যার,
-উলাইকুম আসসালাম।

ছাদিক নিশাতের কাছে গিয়ে বলে।
-আরে নিশাত, তোমার এটা বয়ফ্রেন্ড না? তা এখানে এসেছো কেন?
“নিশাত মাথাটা নিচু করে বলে”
-সাকিব তোমাকে কিছু কথা বলতে এসেছে।
-ওহ তোমার নাম সাকিব। অনেক সুন্দর নাম তো, আমার কাছে ডিভোর্স চাইতে এসেছো তোমরা? আরে কোন সমস্যা নেই তোমরা যদিন চাইবে সেদিন ডিভোর্স দিয়ে দিবো।
“নিশাতের দিকে রেগে তাকিয়ে কথাগুলো বলে ছাদিক।”

নিশাত ওখান থেকে কান্না করতে করতে চলে যায়। সাকিব অনেক ডাকতে থাকে তবে নিশাত পিছনে তা তাকিয়ে চলে যায়। ছাদিক মুচকি হেঁসে বলে।
-তোমাদের প্রেম তো ভালোই চলছে। মান অভিমান সবকিছুই আছে দেখছি।
-আচ্ছা স্যার, আপনি কি সত্যি নিশাতকে ভালোবাসেন?
-আরে না, ভালোবাসতাম তবে এখন আর নাহ্।
-কেন নাহ্
-কারণ ওতো আমার আর নেই।
-ওহ আচ্ছা, তাহলে নিশাত এখন কার?
-কেন তোমার।

সাকিব মুচকি হেঁসে বলে।
-এটা আপনার ভুল ধরণা, আসলে নিশাতকে আমি ভালোবাসতাম তা আসলেই সত্যি। তবে আমি যানতাম না নিশাত বিবাহিত। বৃহস্পতিবারে নিশাত আজ্ঞান হয়ে যায়। তা হয়তো দেখেছেন আপনি। আমার বুকে সুয়ে আছে, আর ভুল বুঝেছেন মেয়েটাকে। আমার মনে কোন খারাপ উদেশ্য ছিলো না। আসলে নিশাত আপনাকে অনেক ভালোবাসে। আজকে আমি মেয়েটাকে প্রপোজ করেছিলাম। তার বদলে পেয়েছি দুইটা থাপ্পড়। আমি বুঝতে পাচ্ছি না নিশাত আপনাকে এতোটা ভালোবাসে। আর আপনি মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছেন কেন? মাঝে মাঝে চোখের দেখাটাও ভুল হয়ে যায় মিস্টার ছাদিক, স্যরি স্যার।

“ছাদিক এতোক্ষণ চুপ করে ছিলো। সাকিব সামনে দাঁড়িয়ে কথা গুলো বলে যাচ্ছে।
কিছু বলতে পারেনা ছাদিক অনেক অপমানিত বোদ্ধ করছে আজ।
“যে নিশাত আমাকে এতোটা ভালোবাসে তাকে আমি ভুল বুঝলাম! ছিঃ ছাদিক ছিঃ।

ছাদিক বাইক স্টার্ট করে, বাজারের এসে দেখে নিশাত একটা রিকশায় বসে আছে। নিশাতের কাছে বাইক নিয়ে যায় ছাদিক। নিশাত অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
-নিশাত বাইকে এসো প্লিজ,
-“নিশাত কিছু বলছে না
-অনেক অনেক স্যরি নিশাত, প্লিজ বাইকে এসো।

নিশাত মুখটা গোমড়া করে রিকশায় বসে ছিলো। রিকশা থেকে নিমে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে শুরু করে। ছাদিক নিশাতের সামনে বাইক নিয়ে যায়।
-প্লিজ বাইকে এসো, অনেক অনেক স্যরি।
-এই ছেলে আমাকে ডিস্টার্ব করিস কেন? লোকজন ডাকবো নাকি, তোকে একটু শিক্ষা দেওয়ার জন্য।

ছাদিক ফিঁক করে হেঁসে দেয়।
নিশাতের হাতটা ধরে পিছনের সিটে বসিয়ে নেয়, নিশাত কিছু বলতে পারেনা। বাজার থেকে খোলামেলা রাস্তায় আসলে ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।
-নিশাত,
-হু
-আমাকে জরিয়ে ধরো,
-নাহ্
-কেন?
-তুমি আমার কে! যে জরীয়ে ধরবো।
-অনেক অনেক স্যরি পেত্নী।
-কেন স্যরি?
-তোমাকে ভুল বুঝার জন্য।
-ঠিকি তো বলছিলে, আমি একটা বেহায়া মেয়ে।
-স্যরি স্যরি আমাকে ক্ষমা করে দিবে প্লিজ।
-নাহ্ তোমার কোনো ক্ষমা নেই।
-তাই,
-হু

ছাদিক বাইক ড্রাইভ করে যাচ্ছে। নিশাত নিশ্চুপ হয়ে আছে। ছাদিক জরীয়ে ধরতে বললে। নিশাত জরীয়ে ধরছে না, নিশাতের মনে অনেক অভিমান জমিয়ে আছে। নিশাত পিছনের সিটে বসে হুঁহুঁ করে কান্না করে দেয়। ছাদিক বুঝতে পেরে বাইক রাস্তার বাঁ দিকে থামায়। বাইক থেকে নেমে নিশাতের চোখের দিকে তাকায়।
-স্যরি পাগলীটা তোমাকে ভুল বুঝার জন্য। তোমার শরীলে হাত উঠিয়েছি পযন্তু, স্যরি অনেক অনেক স্যরি।
নিশাত হুঁহুঁ করে কান্না করে বলে।
-স্যরি বললেই কি সবকিছু ক্ষমা হয়ে যায়?
-আচ্ছা কি করতে হবে আমাকে?
-থাক কিছু করতে হবে না।

বাসায় এসে নিশাত চুপ করে আছে কিছু বলছে না। ছাদিক নিশাতের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও যে নিশাত কোনো কথা বলছে না।
-নিশাত এভাবে চুপ করে আছো কেন? প্লিজ কিছু বলো। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার।

নিশাত রেগে দাঁত কটমট করে বলে।
-তোর শুধু একার কষ্ট হচ্ছে তাই না। আমার কষ্ট হচ্ছে না। আমাকে কতটা কষ্ট দিয়েছিস তুই যানিস।
“ছাদিক নিশাতের মায়াবী মুখটার দিকে তাকিয়ে আছে। থাপ্পড় দেওয়ার জন্য গালটা এখনো লাল হয়ে আছে।
নিশাত খাটে বসে আছে, ছাদিক নিশাতের পার্শে বসে বলে।
-স্যরি নিশাত অনেক অনেক স্যরি,
-” নিশ্চুপ ”

নিশাতের কোমল দুইটা হাত নিজের হাতে নিয়ে নেয় ছাদিক। নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে।
-আমি যানি তো, তুমি খুব রাগ করে আছো আমার উপর। তাই তো ক্ষমা করতে পাচ্ছো না। তোমার যদি খুব রাগ থাকে আমার উপর, তাহলে তোমার এই দুইটা হাত দিয়ে থাপ্পড় দেও আমাকে।
-কি বললে, তোমাকে থাপ্পড় দিবো আমি। তা কখনো করতে পারবো না আমি মিস্টার। একমাত্র তুমি পারো এই কাজটা করতে।
-স্যরি,
-আরে এতো স্যরি বলছো কেন? স্যরি বলার কি আছে। তুমি তো কোন ভুল করোনি তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো আমি।

নিশাত ফিঁক করে হেঁসে রান্নাঘরে চলে যায়।
ছাদিক মাথা চুলকতে চুলকতে ভাবছে, নিশাত ডিভোর্স দিবে মানে। নিজের মাথায় ডিভোর্সের ব্যাপারটা ঢুকলে ছাদিক দৌড়ে রান্নাঘরে যায়।
-এই পেত্নী, আমাকে ডিভোর্স দিবে মানে?
-হ্যাঁ তাই দিবো। কারণ অত্যাচারি স্বামীর কাছে থাকতে পারবোনা আমি। তার চেয়ে বরং সাকিবের সঙ্গে থাকবো।
-বয়ে গেছে, সাকিব তোমাকে বিয়ে করবে। তোমার মতো একটা পেত্নীকে কেউ বিয়ে করবে নাকি?
-এই কি বললে!
-হ্যাঁ ঠিকি তো বললাম।
-হনুমান তোকে আমি,
-কিহ্

ছাদিক নিশাতের কোমড় দুই হাত দিয়ে জরীয়ে নেয়। নিশাতের নাকের ডগায় নিজের নাকটা ঘেঁসে দিয়ে বলে।
-আমি তো খুব খারাপ একটা জামাই। তাই না বাবু,
-হু,
-আচ্ছা তুমি আমার কাছ থেকে চলে যাবে তাই তো।
-উঁহু না,
-তুমি চলে গেলে, আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো বলতো।
-কেন, নতুন একটা বিয়ে করে নিবে।
“ছাদিক মিস্টি মিস্টি হেঁসে বলে,”
-ওহ্ হ্যাঁ তাই তো। তাই করতে হবে দেখছি। তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে একটা কিউট মেয়েকে বিয়ে করতে হবে।

“নিশাত রেগে দাঁত কটমট করে বলে।
-এই কি বললা, আমি কিউটা না তাই না। আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করার ধান্দা দাঁড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি।
-আরে আরে স্যরি, রেগে যাচ্ছো কেন? তুমি তো আমার মিস্টি একটা বউ।

ছাদিক দৌড়ে রুমে চলে আসে। নিশাত রাতের ভাত তরকারি রান্না করতে থাকে।
একা একা রুমে বসে থাকতে একদম ভালো লাগছে না ছাদিকের। আবার রান্নাঘরে আসে।
-এই আবার এখানে কেন?
-একা একা রুমে ভালো লাগছে না।
-তো আমি কি করবো!
-তোমাকে আদর করতে ইচ্ছে করছে খুব!
-ইসসস এখন না। আগে রাতের ভাত খাবে তারপর।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-তুমি সুয়ে থাকো। রান্না হয়ে গেলে খেতে ডাকবো!
-ওকে পেত্নী,

ছাদিক রুমে সুয়ে আছে। আর ভাবতে থাকে। এই কয়দিন অনেক অন্যয় করেছি মেয়েটার উপর। প্রতিরাতে অনেক কান্না করেছে পাগলীটা। আমারো কি কম কষ্ট হয়েছে। ওকে হারানোর ভয়ে বুকটা হাহাকার পরে গেছিলো। বুকটা খুব শুন্য শুন্য মনে হচ্ছিল আমার। যাক বাবা আমার পেত্নীটা আমার কাছে ফিরে এসেছে এটাই অনেক।

নিশাত ভাত খাওয়ার জন্য ডাক দিলে। ছাদিক টেবিলে যায়, যাওয়ার পর দেখে খালাম্মা, খালু, সকলে বসে আছে। ছাদিক চেয়ারটা টেনে বসে পরে।
-আরে মিম ফোন পেয়ে তোকে দেখায় পাচ্ছি না যে।
-আরে কি যে বলনা ভাইয়া।
-ফোন ব্যবহার কর ঠিক আছে তবে পড়ালেখা ভালো করে কর।
-আচ্ছা ভাইয়া ঠিক আছে।

নিশাত ভাত বেড়ে দিচ্ছে। ভাত খাওয়া শেষ হলে ছাদিক রুমে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর নিশাত রুমে আসে। নিশাত রুমে আসলে ছাদিক বিছানা থেকে উঠে যায়। নিশাতের পার্শে দাঁড়িয়ে কোমড় জরীয়ে ধরে। নিশাতের ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে যায়।
-পেত্নী খুব আদর করতে ইচ্ছে করছে।
-নাহ্ এখন না,
-তাহলে কখন হুম?
-রান্না করে খুব ক্লান্ত লাগছে শরীলটা।
-আহারে আমার পেত্নীটা।

ছাদিক পাজোকলা করে কোলে তুলে নেয়। বিছানায় সুয়ে দিয়ে কপালে চুমু দিয়ে বলে।
-তোমার খুব ঘুম পাচ্ছে তাই না?
-হু

ছাদিক নিশাতের কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর নিশাত তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে।
-এই যে পেত্নী, চোখ খুলে রেখেছো কেন?
-কিছু না, এমনিতেই।
-ওহ আচ্ছা
-হু,
-ঘুমিয়ে পরো দেখি, চোখ বন্ধ করো।
-আমার ঘুম আসছে না তো, রুমের লাইটটা ওফ করে দেও।
-আচ্ছা ঠিক আছে, তবে আমার কিন্তু আদর চাই।
-আচ্ছা ঠিক আছে, লাইটা বন্ধ করো আগে।

ছাদিক রুমের লাইটটা ওফ করে দেয়। ড্রিম লাটটা জালিয়ে দিয়ে দুজনে ভেঁসে যায় সুখের সাগরে।

চলবে?