তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্ব_২৯+৩০(শেষ)

0
1611

তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্ব_২৯+৩০(শেষ)
#লেখক_Mohammad_Asad

বিকেলে আনহা ঘুমিয়ে আছে। দুপুর চারটে বেজে গেছে আনহা উঠছে না। বাইরে নিশাত আম্মুর সঙ্গে বসে বসে গল্প করছে।

ছাদিক নিশাতের কাছে গিয়ে বলে,
-নিশাত,
-হ্যাঁ বলো কি হয়েছে!
-আনহা বলছিলো মাহফিল দেখতে যাবে, মাহফিল দেখিয়ে আনবো?
-আচ্ছা নিয়ে যাও, তারাতাড়ি নিয়ে এসো।
-আচ্ছা তুমি যাবে না?
-নাহ্
-চলো’ই না, তুমি তো বলছিলে শ্বশুড় মশাই নাকি তোমাকে নিয়ে যেতেন।
-হ্যাঁ

নিশাতের আম্মু বলে,
-হ্যাঁ নিশাত জামাই তো ঠিকি বলেছে। জামাইয়ের সঙ্গে যা মাহফিলের আয়োজন দেখে আয়,
-আচ্ছা আম্মু,

“ছাদিক”
-এবার তাহলে এখান থেকে উঠে রেডি হয়ে নাও।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

নিশাত রুমে আসে, আনহাকে ডেকে দিচ্ছে ছাদিক।
-মামনী ঘুম থেকে উঠো দেখি। আমাদের সঙ্গে মাহফিল দেখতে যাবে না?
“আনহা ঘুমের মাঝে এদিক ওদিক করছে। তা দেখে ছাদিক মুচকি হেঁসে দেয়। আনহার কপালে ছোট্ট করে চুমু দিতেই আনহা জেগে যায়। আনহা জেগে গেলে কাপড় পরিয়ে দেয় ছাদিক। আনহা আব্বুর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, আনহাকে দেখে মনে হচ্ছে ঘুমটা ভালোভাবে হয়নি।
-আব্বু,
-হ্যাঁ মামনী,
-আমরা কোথায় যাচ্ছি আব্বু,
-মাহফিলে যাচ্ছি, ভুলে গেলে তুমি?
-নাতো আব্বু,

নিশাত নীল হিজাব পরে আনহা ছাদিকের কাছে আসে।
-হনুমান কেমন লাগছে আমাকে,
” ছাদিক নিশাতের দিকে তাকিয়ে মিস্টি হেঁসে বলে,”
-অনেক সুন্দর লাগছে পেত্নী,
“আনহা মিটিমিটি হেঁসে বলে,
-আম্মু আব্বু, আমাকে কেমন লাগছে।
” নিশাত ছাদিক দুজনে ফিঁক করে হেঁসে বলে।
-তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে মামনী।
-সত্যি আব্বু,
-হ্যাঁ সত্যি,

আজকে আনহা নীল ফ্রক পরেছে। ছাদিক সাদা শার্ট এবং কালো পেন্ট। আব্বু-আম্মু আনহা তিনজনে বের হয় মাহফিল দেখতে যাবে বলে। বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুটা দূর এসেই পৌচ্ছে যায় মাহফিলে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা গজল গাইছে। ছাদিক নিশাত আনহা তিনজনে খেলনার দোকানে যায়। ছাদিক আনহাকে বলে আম্মু তুমি কোন খেলনাটা নিবে? আনহা একবার বলছে এইটা একবার বলছে ওইটা। তা দেখে বিরক্ত হয়ে যায় নিশাত। নিশাত রেগে বলে।
-কি শুরু করলে বাবা-মেয়ে দুজনে। তুমিও মেয়েটার সঙ্গে পাগলামি শুরু করছো?
-আরে রেগে যাচ্ছো কেন? চলো কিছু খেয়ে আসি। তারপর আনহাকে খেলনা কিনে দিবো ওকে।
-আচ্ছা চলো।

খেলনা দোকান গুলোতে অনেক লোকজন ভীড় করেছে। আনহা আম্মুর আঙুল ধরে হেঁটে চলেছে। ছাদিক অনেকক্ষণ থেকে খেয়াল করে, কয়েকটা ছেলে তাদের পিছু নিয়েছে। তাদের পিছু নিয়েছে বললে ভুল হবে নিশাতের পিছু নিয়েছে। সাত পাঁচ না ভেবে খাবারের দোকান গুলোতে যায় ছাদিক।

ফুসকার দোকানে ডুকে ফুসকার অর্ডার দেয় দুই প্লেট। ফুসকা অর্ডার দেওয়ার কারণ হচ্ছে নিশাত। নিশাত অনেক ভালোবাসে ফুসকা খেতে। নিশাত এক প্লেট ফুসকা নিয়ে খাচ্ছে। আর ছাদিক আর আনহা মিলিয়ে এক প্লেট। পিচ্চি মেয়েটাকে খাইয়ে দিচ্ছে ছাদিক। আনহার একটু ঝাল লেগেছে বলে, চোখ মুখ একদম লাল করে দিয়েছে।
আর একটা ফুসকা খেয়ে ঝালে, উঁহু উঁহু করতে থাকে মেয়েটা। তা দেখে ছাদিক পানির গাল্সটা নিয়ে আনহার মুখে দেয়, সবটুকু পানি খেয়ে নেয় পিচ্চিটা। আনহার মুখে একটু একটু চাট লেগেছে, ছাদিক তা ভালোভাবে বুঝতে পারে। আজকে প্রথম আনহা ফুসকা খাচ্ছে। ব্যান্চের উপর বসে বসে দুই পাঁ ঝুকাচ্ছে আর ফুসকা খাচ্ছে।

অনেকক্ষণ থেকে বাবা-মেয়ের কার্যকলাপ দেখছে নিশাত। আর মনে মনে হেঁসে যাচ্ছে। আব্বু হয়তো এরকম ভাবেই আমাকে ভালোবাসতেন, কখনো বুঝতে পারেনি।

ছাদিক নিশাতের দিকে তাকিয়ে বলে।
-তোমার খাওয়া শেষ।
-হুঁ
-আচ্ছা আমি বিল দিচ্ছি, তুমি আনহাকে নিয়ে এসো।
-আচ্ছা,

ছাদিক বিল দিয়ে, জিলাপির দোকানে ডুকে তা দেখে নিশাত বলে।
-আরে আবার এই দোকানে কেন?
-আমার জিলাপি অনেক প্রিয় তাই!
-ওহ আচ্ছা

তিনজন বাবা-মা মেয়ে আবার একটা ব্যান্চে বসে। নিশাত আনহাকে দেখে একটু হলেও মাথায় হাত দিয়ে চিন্তা করতে থাকে। এই মেয়ের ছোট একটা পেট আর আব্বুর সঙ্গে খাচ্ছে কিভাবে দেখো। ফুসকা খেয়ে নিশাতের পেট অনেকটাই ভরে গেছে। একটু জিলাপি খেয়ে, আর কিছু খেতে মন চাইছে না নিশাতের, তাই বাবা মেয়ের কার্যকলাপ দেখছে। ছাদিক জিলাপি একটু একটু করে ভেঙে আনহার মুখে দিচ্ছে, আনহা তা খেয়ে নিচ্ছে।

নিশাত দুজনের দিকে তাকিয়ে হেঁসে যাচ্ছে বাবা-মেয়ের পাগলামি দেখে। “বেশি ভালোবাসা দিচ্ছে ছেলেটা। তার প্রতিদানে বড় হয়ে কি যে করবে আনহা আল্লাহ ভালো যানেন। এতো আদর ভালোবাসা দেখে নিশাতের চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরে, বাবার ভালোবাসা এমনটাই হয় বুঝি!

জিলাপির দোকান থেকে বের হয়ে আবার খেলনার দোকানে যায় ছাদিক।
-মামনী তুমি কি নিবে বলো।
-আব্বু আব্বু,
-হ্যাঁ বলো মামনী,
-আব্বু ওই বড় পুতুলটা,
-ওহ আচ্ছা

ছাদিক দোকানদারের উদ্দেশ্য করে বলে।
-চাচা ওই বড় পুতুলটা দেখান তো।

ছাদিক পুতুলটা আনহাকে দেয়। আনহা গড়মড় করে জরীয়ে ধরেছে পুতুলটাকে পতুলটা একদম আনহার মতো বড়।
-মামনী তোমার আম্মুকে পুতুলটা দেও, তুমি তো এতো বড় পুতুল নিয়ে থাকতে পারবে না।

-আচ্ছা আব্বু,

আনহাকে আরো কয়কটা খেলনা কিনে দেয় ছাদিক। কারণ মেলা অথবা মাহফিলে আসা হয়না কখনো। বাড়িতে আনহার জন্য বেশি খেলনাও নেই। ছাদিক আবার খেয়াল করে সেই ছেলে গুলো নিশাতের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। নিশাতের শরীল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছে।

ছাদিক তা দেখে রেগে বলে,
-নিশাত তুমি আনহাকে একটু নিয়ে থাকো তো।
-কেন?
-যা বলছি তাই করো।

ছাদিক একটু রেগে কথাটা বলে, নিশাত আনহার আঙুল ধরে দোকানের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। ছাদিক ছেলেগুলোর কাছে গিয়ে নাঁক বরাবোর ঘুঁশি মেরে দেয়। যে ছেলেটার নাকে ঘুঁশি মেরেছে সেই ছেলেটা ওখানেই পরে যায়। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। ছেলেটার বন্ধুরা মারতে আসলে ছাদিক আবার তাদের নাঁক বড়াবোর ঘুঁশি দেয়। তিনটা ছেলেই চিৎপটাং, ছেলেগুলো রেগে বলে।
-এই তুই যানিস আমরা কে!

ছাদিক ছেলেগুলোর কাছে গিয়ে বলে। একটা মার খেয়ে তোদের এই হাল। আর মুখ দিয়ে বড় বড় কথা বের করছিস। তোদের কোনো শিক্ষা নেই তাই না রে। আরে তোদের মা বোনদের পাছে অন্য ছেলেরা লেগে আছে কিনা দেখে আয় লম্পট কোথাকার। তোদের জন্য স্বাধীন ভাবে শ্বাস নিতেও ভয় করে মেয়েরা।

ছেলেগুলো রেগে ওখান থেকে চলে যায়। নাঁক দিয়ে একটা ছেলের রক্ত পরছে। এমনি এমনি ছেরে দিবে বলে মনে হচ্ছে না। নিশাত আনহাকে নিয়ে ছাদিকের কাছে আসে।
-এই তুমি কি করলে এইটা, ছেলেগুলোকে মারলে কেন?
-তোমার শরীল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিলো তাই।
-তার জন্য ছেলেগুলোকে মারছিলে তুমি!
-হ্যাঁ তার জন্য মারছিলাম।
-ওরা নাহয় একটু দুষ্টিমি করেছে,
“ছাদিক নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে রেগে বলে”
-এই চুপ করোতো। আচ্ছা মাহফিল কি খারাপ যায়গা? এখানে মানুষ ওয়াজ শুনতে আসে। আর ওরা নোংরামি করতে ব্যাস্ত, কি বললে তুমি, ওরা দুষ্টুমি করছিলো। আচ্ছা তুমি কি ছেলেগুলোর বউ যে দুষ্টুমি করবে তোমার সঙ্গে।
-আচ্ছা হয়েছে হয়েছে এবার চলো বাসায় যাবে, সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।

আনহা আব্বুর হাত টেনে বলে।
-আব্বু তুমি ঠিক করেছো ছেলেগুলা খুব খারাপ।
-হ্যাঁ মামনী,

ছাদিক আনহাকে কোলে তুলে নেয়। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে তাই তিনজন বাসায় উদ্দেশ্যে জন্য রওনা দিয়ে দেয়।

মাঝপথে যেতে সেই তিনটা ছেলের সঙ্গে অনেকগুলা ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিশাত,
-দেখছো ওই ছেলেগুলোকে তুমি মারলে তাই ছেলেগুলো তোমাকে মারতে এসেছে।

তিনটা ছেলের সঙ্গে অনেকগুলো ছেলে ছিলো। তাই তাদেরকে দেখে আবার মাহফিলে চলে আসে তিনজন।

খাবার দোকানে অনেকক্ষণ থেকে বসে আছে তিনজন। ছাদিক নিজেকে নিয়ে ভয় পাচ্ছে না, ভয় পাচ্ছে আনহা আর নিশাতকে নিয়ে।
-পেত্নী এবার চলোতো যা হবার হবে।
-কি বললে এখন যাবে। ছেলেগুলো যদি তোমার ক্ষতি করে দেয়।
-আরে নাহ্ কিছু করতে পারবে না চলোতো।
-নাহ্ দরকার নেই যাওয়ার। ওখানে ২৫জন ছেলে দেখলাম।
-এই, তুমি এতো ভয় পাও কেন বলতো।

কিছুক্ষণ দুজনে কথা-কাটাকাটি করে, পার্শে আনহা নেই দেখে ছাদিক নিশাত চমকে উঠে।
-নিশাত আনহা কোথায়?
-এই তো এখানে ছিলো।

ছাদিক আর নিশাত সামনের ব্যান্চ গুলোর দিকে তাকায়। নুসরাত ভাবি আফরোজা আর রাইসুর বসে আছে, তাদের কাছে আনহা গল্প করছে। তা দেখে ছাদিক শান্তির শ্বাস ফেলে। ছাদিক রাইসুর ভাইয়ার কাছে গিয়ে বলে।
-ভাইয়া তুমি!
-হ্যাঁ আমি,
-তুমি আনহাকে চিনলে কি করে!
-তোদের পার্শে বসে থাকতে দেখে। ভাই তুই পর হয়ে গেছিস তাই না রে। নওগাঁ এসেছিস একবারো জানানোর দরকার বোদ্ধ করিস নাই।
-স্যরি ভাইয়া,
-আচ্ছা এইসব বাদ দে, শুনলাম তোদেরকে নাকি কয়েকটা ছেলে মারতে এসেছে!
-কে বললো ভাইয়া তোমাকে?
-তোর মেয়ে,
-ওহ আচ্ছা,
-তোরা নিশ্চিনতে বাসায় যা, আমি সবকিছু ঠিক করে রেখেছি।
-আচ্ছা ভাইয়া।

ছাদিক আফরোজার পার্শে বসে বলে,
-বাবারে আফরোজা দেখছি অনেক বড় হয়ে গেছি।
-হ্যাঁ মামা,

“নুসরাত”
-ছাদিক কেমন আছো?
-জ্বি ভাবি অনেক ভালো আছি।
-ভালো তো থাকবেই, আমাদের কথা তো একদম মনে রাখো না।
-হা হা ভাবি তুমিও না। তোদের সঙ্গে তো ফোনে কথা হয়।
-হইছে হইছে, আর বলতে হবে না।

অনেকটা রাত হয়ে গেছে, তাই তিনজন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দেয়। সামনে ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে আছে। তার বাঁ দিকে পুলিশের গাড়ী ছাদিক বুঝতে পারে পুলিশগুলোকে রাইসুর ভাইয়া ডেকেছে।

কয়েকটা পুলিশ আনহা নিশাত তিনজনকে বাড়িতে পৌচ্ছে দিয়ে আসে। ছাদিক পুলিশগুলোকে বলে, ধন্যবাদ।

বাড়িতে ঢুকেই আনহাকে কোলে তুলে নেন নানু।
-বাবারে আমার নানুভাই দেখি অনেক খেলনা কিনেছে।

“চলবে?”

#তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
#অন্তিম_পর্ব_৩০
#লেখক_Mohammad_Asad

নদীর ধারে বসে আছে ছাদিক এবং নিশাত তাদের সঙ্গে আনহাও আছে। বসে বসে গল্প করতেছে তিনজন। আনহা পিচ্চিটা আব্বুর বুকে মাথা দিয়ে সুয়ে আছে, মুখে একটা আঙুল। নিশাত ছাদিকের পার্শে বসে গল্প করছে।
-হনুমান মনে আছে তোমার, এই নদীতেই আমাদের প্রথম আসা হয়েছিল।
-হুম মনে আছে, তোমার গিফটের কথাও খুব মনে আছে।
-হিহিহিহি
-পেত্নী,
-আচ্ছা আনহা কি ঘুমিয়ে গেছে?
-হুম আমাদের গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেছে মেয়েটা।
-আনহা একদম তোমার মতো।
-হ্যাঁ আমাদের দুজনের মতো।
-হয়েছে এবার চলেন বাড়িতে যাবে, সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।
-আচ্ছা,

ছাদিক আনহাকে ডাক দিতে থাকে। আনহা আনহা বলে, আনহা ঘুম থেকে জেগে গেলে ছাদিক আনহাকে বুকের সঙ্গে জরীয়ে নেয়।
নিশাত ছাদিক হেঁটে যেতে থাকে। আনহা আবার ঘুমিয়ে পরেছে, আব্বুর বুকে মুখ গুঁজে দিয়েছে মেয়েটা। সন্ধ্যা অনেকটাই হয়ে এসেছে সূর্য সোনালী রুপ ধরণ করেছে। পিছন থেকে কার যেন কন্ঠ ভেসে আসে। ছাদিক নিশাত পিছনে তাকিয়ে অনেকটাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। আরে এটা আলামিন না। মুখে চাপ দাঁড়ি হয়ে যে চিনতেই পারি নাই।

আলামিন, ছাদিক নিশাতের কাছে এসে বলে।
-স্যার কেমন আছেন?
-হ্যাঁ অনেক ভালো আছি তুমি? আর তোমার পার্শের মেয়েটা কে?
-আমার স্ত্রী,
-বাহ্ বিয়ে করেছো তুমি!
-জ্বি স্যার,

আলামিন নিশাতের দিকে তাকায়।
-স্যরি নিশাত,
-আরে স্যরি বলছো কেন?
-তোমাকে অনেক জালিয়েছি তাই।
-আরে এইসব বাদ দেও তো, তোমাকে অনেক বছর ধরে দেখিনাই, কেমন আছো তুমি?
-হ্যাঁ অনেক ভালো আছি।
-তুমি তো ভালোই আছো, তোমার মিস্টি বউটা কেমন আছে শুনি!

আলামিন তিন্নিকে বলে কথা বলতে,
-জ্বি অনেক ভালো আছি ভাবি।
-তোমার নাম কি?
-তিন্নি,
-অনেক সুন্দর নাম।
-ধন্যবাদ ভাবি,
-তা তোমাদের বিয়ে হয়েছে কবে?
-৬ মাস হয়েছে ভাবি!
-ওহ আচ্ছা,

আলামিন ছাদিকের বুকে আনহাকে দেখে বলে।
-আচ্ছা স্যার আপনার বুকে এই পিচ্চি মেয়েটা কে? যা ভাবছি তাই নাতো!
-হ্যাঁ তুমি যা ভাবছো তাই। আমার বুকে সুয়ে আছে আমাদের মেয়ে আনহা।
-আচ্ছা দেখি দেখি মুখটা।
-ঘুমিয়ে আছে পরে দেখো।
-আচ্ছা ঠিক আছে,
-আলামিন তাহলে আমরা আসি। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। একদিন আমাদের বাড়িতে এসো সকলে মিলিয়ে আড্ডা দিবো কেমন।
-আচ্ছা স্যার,

ভালোবাসা বন্ধুত্বের মধ্যে মান অভিমান ভুল বুঝাবুঝি হয়েই থাকে। কোনো মানুষ ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিতে হয়। হয়তো মানুষটা নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। তেমনি এখানে আলামিন নিজের ভুল বুঝতে পেরে বিয়ে করেছে। কারণ একজনের জন্য জীবন চলে না। আমরা অনেক সময় ভুল করে সুন্দর দুইটা জীবন নষ্ট করে দিই। না বুঝেই অনেক কাজ করেই থাকি।

ভালোবাসা কখনো জোর করে হয়না তা বুঝে নিতে হয়। আপনি হয়তো একজনকে অনেক ভালোবাসেন তবে সেই মানুষটা আপনাকে দূরে ঠেলে দিলে তার থেকে দূরেই থাকুন। নিজের ভালো চাইতে গিয়ে আরেকজনের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছেন কিনা দেখুন।

ভালোবাসাটা মিস্টির মতো একটু বেশি খেলে পেট খারাপ হয়ে যায়। তেমনি নিশাতকে অনেক ভালোবেসে ছিলো আলামিন। নিজের আজান্তেই মেয়েটাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তা হয়তো একটু হলেও অনুভব করতে পেরেছে। আমরা তো মানুষ আমাদের জ্ঞান আছে বুঝতে পারি শুনতে পারি অনুভব করতে পারি।

ছাদিক অনেক ভালোবাসে নিশাত পাগলীকে। তাদের ভালোবাসার ভুল ফুটেছে সেই ফুল থেকে আনহা এসেছে। ছাদিকের অনেক ইচ্ছে ছিলো একটা ফুটন্ত গোলাপ ভুল আসবে তাদের কোল জুরে, তাই হয়েছে। একেকটা মানুষের একেক রকমের ইচ্ছে হয়ে থাকে। আপনার হয়তো নীল রংঙ পচ্ছন্দ আমার নাহয় লাল। মানুষের জীবনে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। আপনার গল্পটা অন্য, আমার গল্পটা অন্য। যখন আমার গল্পটা আপনাদের শুনাই তখন মশকরা করে কাটিয়ে দেন। আর আপনার গল্পটা আমি শুনি যখন, মশকরা করি। বাস্তবে এমনটাই হয়ে থাকে। নিশাত যেমন একসময় ফেসবুক নিয়ে ব্যাস্ত থাকতো। এখন মেয়েটা এইসব ভুলে গিয়ে সংসার নিয়ে ব্যাস্ত। পরিবারের মধ্যে সুখ খুঁজে নিতে হয়।

আনহা তার আব্বুকে অনেক ভালোবাসে। লুকানো ভালোবাসা গুলো কেমন যানি হয়ে থাকে, বড়ই অদ্ভুত।
মানুষ সবসময় সুখ খুঁজে তাই তো নিজের সুখ খুঁজতে গিয়ে অন্যের ক্ষতি করে দেয়। কালকের ঘটনার পর আজকে সকালে অনেক গুলো ছেলে নিশাতের বাড়িতে এসেছিলো তাদের মারবে বলে। তবে এসেই মারেনি নিজের ভুল শিকার করেছে। যে ছেলেটার নাকে ঘুঁশি মেরেছিলো ছাদিক সেই ছেলেটার বোন নাকি কালকে তার জন্য বেঁচে গেছে। তার বোন কালকে মাহফিলে এসেছিলো। ছাদিক যখন বলে তোর বোনের পিছনে অন্য ছেলেরা লেগেছে কিনা দেখে আয়। ছেলেটা তখন তাই করে, ছেলেটা দেখে কয়েকটা ছেলে তার বোনের পিছু নিয়েছে।

নিজের বোন কলিজা হতেই পারে অন্যের বোন মাল। অন্যের বউ-বোনকে মাল বলার আগে একবার ভেবে দেখবেন আপনার বউকে-বোনকে আবার অন্য কেউ মাল বলছে কিনা।

একটা সময় এসেছিলো নিশাত ছাদিকের জীবনে সে হচ্ছে সাকিব। সাকিব নিজের আজান্তেই নিশাতের জীবনে ঝড় নিয়ে এসেছিলো। একটু ভুল বুঝাবুঝি হতেই পারে, নিজের চোখে যা দেখলাম তা ভুল হতেই পারে কোনো ব্যাপার না। অনেক মেয়েরা আছে পরকীয়া করে থাকে। তাদের জন্য যে জাহান্নাম পরে আছে।

এই দুনিয়ায় সুখের জন্য বলি দিতে পারেন অন্য একজনের জীবনকে। ভালোবাসা মোটেও জোর করে পাওয়া যায় না। তা সহজ উপাইয়ে খুঁজে নিতে হয়।

অনেকে বলে বিয়ের পরে নাকি ভালোবাসা কমে যায় তা মোটেও না, কাছে থাকলে ভালোবাসা বুঝাটা মুশকিল হয়ে যায়, দূরে গেলে বুঝা যায়। এই গল্প যেমন ছাদিক নিশাত তাদের ভালোবাসার কোনো অভাব নেই। একটা মানুষের জীবনটাকে সহজ ভাবে দেখলে বুঝা যায়। কিন্তু নিজের জীবনটাকে অনেকে অনুভব করতে পারেনা। অনুভব করুন নিজের ভালোবাসার মানুটাকে নিয়ে।

আনহাকে নিয়ে ছাদিক নিশাত দুজনের যেমন অনেক স্বপ্ন। তেমনি, তাদের মেয়ের একটা স্বপ্ন থাকতে পারে, সবসময় নিজের স্বপ্নটাকে না গড়ে আমার আপন মানুষগুলোর স্বপ্নের কথাগুলো শুনুন অনুভব করুন।
.
.
ছাদিক স্কুল থেকে বাসায় ফিরে আসে। এসেই আনহা আনহা বলে ডাকতে থাকে। আনহা গুটিগুটি পায়ে আব্বু আব্বু বলে ছাদিকের কোলে আসে। ছাদিক বাজার থেকে চকলেট নিয়ে এসেছে আনহার হাতে চকলেটটা দেয়। মেয়েটা অনেক খুশি হয়ে যায়। ছাদিক আনহার কপালে চুমু দিয়ে যানতে চায়। আজকে সারাদিন কি করেছো আম্মু।
আনহা মিস্টি কন্ঠে বলে, আজকে আমি অনেক খেলা করেছি। তোমার কথা ভেবেছি। আনহার মিস্টি মিস্টি কথাগুলো শুনে ছাদিকের বুক ভরে যায়। আনহা আম্মুর নামে অভিযোগ দেয়,
-আব্বু যানোতো আম্মু আমাকে অনেক বকেছে।
“ছাদিক মুখটা গোমড়া করে দেয়। নিশাতের সঙ্গে ঝগড়া লাগে,
-আনহাকে কেন বকেছে তুমি।
“ভালোবাসা গুলো এমনি হয়ে থাকে। সবসময় মিস্টি হলে চলেনা। কখনো কখনো একটু ঝাল না হলেই নয়।

দুই বছর পর আরেকটা বাবু আসে নিশাত ছাদিকের কোল জুরে। একটা ভাই আসে আনহার, নাম ফাহিম। আনহা সব সময় ফাহিম পচুকটার সঙ্গে বসে থাকে। আরেকটা ভালোবাসার উদ্বোধন হয়েছে বলায় যায়। ভাই বোনের ভালোবাসার আরেকটা গল্প হতে চলেছে। মানুষের জীবনটাই গল্প, কখনো লিখে শেষ করা যায় না।
কেউ বা ভালোর মাঝেই ভালো থাকে। কেউবা দুঃখের মাঝে সুখ খুঁজে পায়।

তুমি ছারা আমি শূন্য, ছাদিক ছারা যেমন নিশাত শূন্য তেমনি ছাদিক ছারা নিশাত শূন্য। মানুষ ছারা আরেকজন মানুষ শূন্য। এটাই আল্লাহর লিখন।

★”দুই টাকার ঝগড়া, ভাঙা ফোন আয়না,

“ঝাল ঝাল কথা নিশাতের মনে,
“হলোনা আর রাগ ক্লাস রুমে”
“শেষ দুপুরে সৃষ্টি এক হওয়ার মিস্টি”
“চলতে চলতে দিন শেষ”
“ভালোবাসার কথা বলে দিন শেষ”

“তাদের ভালোবাসার গোলাপ ফুল,
“এসেছে কোল জুরে,
“আনহা আনহা বলে চিল্লিয়ে দিচ্ছে
বাড়িটা মাথায় উঠিয়ে,
“ফাহিম নামে পচুকটা কোথা
থেকে আবার উদ্ধয়,
“দিচ্ছে বেশ ভালোবাসা আনহার
পচুক নামের ভাইটা”

………………………..সমাপ্ত…………………………..