তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্ব_২১+২২

0
1035

তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্ব_২১+২২
#লেখক_Mohammad_Asad

বিকেলে ফুসকা আনতে যায় ছাদিক।অনেকগুলো ফুসকা প্যাকেট করে নেয়। নিশাত ফুসকা খেতে চেয়েছে বলে কথা।
বিল দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ছাদিক। তখন বিকেল ৪;৪৫ মিনিট। মিমকে দেখতে পেয়ে ছাদিক বলে।
-আরে মিম এখানে আয়,

মিম ডান বাঁ দিকে তাকিয়ে দেখে ছাদিক। ছাদিকের কাছে এসে বলে।
-ভাইয়া তুমি এখানে,।
-হ্যাঁ আমি এখানে, স্কুল কখন ছুঁটি হয়েছে রে?
-এইতো ভাইয়া, আরেকটু আগে। আর স্কুল কই পাইলে এখন? এখন তো শুধু কোচিং।
-ওহ হ্যাঁ, মাথা ঠিক থাকে না রে আমার।
-বুঝলাম। ভাবিকে রেখে এখানে এসেছো কেন হুম?
-তোর নিশাত ভাবি বলেছে ফুসকা খাবে তাই নিতে এসেছি।
-ওহ আচ্ছা,
-জ্বি হ্যাঁ,
-ভাইয়া বাসায় যাবে না এখন?
-হ্যাঁ যেতে তো হবেই, কিছু খাবি?
-ইচ্ছে তো করছে খুব,
-কি খাবি বল ফুসকা চটপটি,
-নাহহ্ এইসব খাইনা আমি।
-তাহলে?
-আইসক্রিম
-আচ্ছা, আমার বাইকের কাছে দাঁড়া, আমি এই আসছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

ছাদিক ফুসকার প্যাকেটটা হাতে নিয়ে আইসক্রিমের দোকানে যায়। ২টা আইসক্রিম হাতে নিয়ে মিমের কাছে আসে।
-এই যে নে তোর আইসক্রিম। আর ফুসকাগুলো হাতে ধরে রাখবি, ফেলে দিসনা যেন আবার। এগুলো তোর ভাবির জন্য শুধু।
-ঠিক আছে ভাইয়া। তবে এতোগুলা ফুসকা ভাবি খেতে পারবে তো?
-হ্যাঁ পারবে, তুই আবার নজর দিসনা যেন!
-আচ্ছা ঠিক আছে।

ছাদিক বাইক স্টার্ট করলে। মিম বাইকে উঠে ফুসকাগুলো ব্যাগের মধ্যে ডুকে নেয়। আর একটা আইসক্রিম খেতে থাকে। মিমের প্রিয় হচ্ছে আইসক্রিম। এই দুইমাস শীত কালের জন্য আইসক্রিম খেতে পারিনি মিম। এই কয়দিন একটু একটু শীত কমেছে। তাই তো আবার আইসক্রিম খেতে শুরু করছে মিম। শীত কমেছে বলতে শীত যেতে যেতে আবার চলে আসে। এই অবস্থা হয়ে গেছে এখন। আর কয়দিন পর মিমের এসএসসি পরিক্ষা। ছাদিক যতটা টেনশনে আছে মিমকে নিয়ে, ততটা আনন্দে আছে মিম। মিমের মধ্যে কোনো ভয়’ই নেই।

বাড়িতে এসে ফুসকাগুলো হাতে নিয়ে নিশাতের রুমে ঢুকে ছাদিক। রুমের মধ্যে বিছানায় বসে গুনগুন করে গান গাইছে আর ফোন টিপছে নিশাত। ছাদিক নিশাতের পার্শে বসে বলে।
-এই যে পেত্নী, তোমার ফুসকা,

নিশাত ফোন থেকে চোখ তুলে ছাদিকের দিকে তাকায়, ফুসকাগুলো হাতে নিয়ে মিস্টি করে হেঁসে দেয়।
-এতোগুলা ফুসকা কে আনতে বলেছিলো হুম?
-আমার বউটা,
-ইসস বয়ে গেছে। এতোগুলা আনতে বলেছিলাম নাকি! এখানে তো অনেকগুলো ফুসকা ৩ প্লেটের মতো।
-আমার ফুসকা পাগলী বউটা বলেছে ফুসকা খাবে। তাই নিয়ে এসেছি আর তুমি ধন্যবাদ না দিয়ে এইসব বলছো।
-হনুমান থান্কিউ,
-আমার বউটা,

চলছিলো ভালোই দুজনে প্রেমের মিস্টি গল্প। নিশাতের কপালের ক্ষতটা আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায়। এখন নিশাত ঠিকমতো কলেজে যেতে পারে। নিশাত একা একটা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। মাথাটা কেন যানি আজকে খুব ঝিমঝিম করছে।

নিশাতের ক্লাসমেট নিশাতকে দেখতে পেয়ে নিশাতের কাছে আসে।
-এই যে নিশাত, এভাবে মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
“নিশাত মাথায় হাত দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আজকে মাথাটা খুব ব্যথ্যা করছে নিশাতের। মাথার ক্ষতটা ভালো হয়ে গেছে তবে। আজকে কেন যানি খুব ব্যথ্যা করছে কপালে। নিশাত জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পরে যাবে তখন সাকিব নিশাতকে ধরে নেয়। আর নিজের বুকে নিয়ে নেয়। নিশাত সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সাকিব নিশাতের মাথা নিজের বুকে নিয়ে আছে। কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না।
.
.
আজকে হাফ স্কুল থাকার কারণে ছাদিক বাইক নিয়ে নিশাতের কলেজে আসে। নিশাতকে নিতে কলেজের মধ্যে ঢুকে একটা গাছের নিচে নিশাত আর সাকিব নামের ছেলেটিকে দেখে ভুল বুঝে ছাদিক। রেগে বাড়িতে চলে আসে।
” আমি যা ভাবছিলাম সম্পূর্ণ ভুল। নিশাত আমাকে ভালোবেসে না, এই মেয়ে তো ছলনামহী হয়ে গেছে। এই জন্য বাচ্চা নিতে চাইতো না।”
ছাদিক বাড়িতে এসে রুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করতে থাকে আর কথাগুলো ভাবতে থাকে।

এদিকে নিশাত সাকিবের বুকে সুয়ে পড়েছে। সাকিব এখন কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। সাত পাঁচ না ভেবে হাসপাতালে নিয়ে যায় সাকিব।
-ডক্টর মেয়েটার কি হয়েছে?
-চিন্তা করবেন না। ঔষধ লিখে দিচ্ছি, ঠিক মতো খাওয়াবেন ঠিক হয়ে যাবে।
-আচ্ছা ঠিক আছে ডক্টর,
-আচ্ছা আপনি ওনার কে?
-আমি মেয়েটার ফ্রেন্ড, আর কিছু না।
-ওহ আচ্ছা আসুন ঔষধ গুলো লিখে দেই।
-হ্যাঁ চলুন।

আসলে সাকিব একটা ভদ্র ছেলে। সাকিবের মনে কোনো খারাপ উদেশ্যে নেই। না চাইতে ভালোবেসে ফেলছে। নিশাত বিবাহিত যানলে ভালোবাসার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতো সাকিব!

ডক্টরের কাছ থেকে ঔষধ গুলো লিখে নিয়ে নিশাতের পার্শে বসে আছে সাকিব। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। নিশাতের জ্ঞান ফিরলে মাথায় হাতের স্পর্শ পেয়ে মনে করে ছাদিক মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বেডে বসে পড়ে নিশাত। সাকিব একটু ভয় পেয়ে নিশাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিশাত বুঝতে পারেনা আমি কোথায় এসেছি। ভালোমতো খেয়াল করে দেখে এটা তো হসপিটাল। নিশাত পুরাই ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে যায়।
-আরে আমি হসপিটালে কেন?
“সাকিব ধির কন্ঠে বলে”
-আপনি কলেজের একটা গাছের নিচে জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন।
-তো আমি এখানে কেন?
-আমি হসপিটালে নিয়ে এসেছি।
-মানে!
-আরে খারাপ কিছু ভাববেন না। আমার কোন খারাপ খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো না।
-ঠিক আছে, ধন্যবাদ।

নিশাত হসপিটাল থেকে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে যেতে থাকে। পিছন থেকে সাকিব নিশাতের পিছনে আসতে থাকে।
-আরে নিশাত শুনো। তোমার ব্যাগ,

নিশাত সাকিবের হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে আবার হেঁটে যেতে শুরু করে। নিশাতের এমন পাগলীমির প্রেমে পড়ে যায় সাকিব। সাকিব মিস্টি হেঁসে আবার নিশাতের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে।
-আরে নিশাত, হেঁটে বাসায় চলে যাবে নাকি!
-হ্যাঁ
-এতো রাগের কি আছে শুনি। চলুন আপনাকে বাসায় রেখে আসি।
-দরকার নেই,
-আরে আপনি না। এতো রাগের কি আছে।

নিশাত সাকিবের শাটের কলার ধরে বলে।
-এই ছেলে, তোর উপর রাগ করতে যাবো কেন আমি। আমি ভয় পাচ্ছি আমার হাসবেন্ড আমাকে দেখে ফেলে কিনা।
-তোমার হাসবেন্ড, হাঁসালে নিশাত। তুমি মজা করতে বেস পারো।
-আরে আজব তো। আমার জামাই আছে যানেন না আপনি?
“সাকিব নিশাতের কথাগুলো হেঁসে উড়িয়ে দেয়। আর নিশাতের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়”
-এই যে ম্যডাম, এখানে আপনার জামাই আসবেনা ওকে। চলুন আপনাকে বাসায় রেখে আসি।
-দরকার নেই বললাম তো।
-আচ্ছা চলুন না এতো ভয় পাবার কি আছে হুম।
-ধুর আপনি এতো কথা বলেন কেন? আমার ভালো লাগছে না,

ছাদিক রিকশায় উঠে বসে আছে। সাকিব নিশাতের রিকশায় উঠে যায়। নিশাতের পার্শে বসে চাচাকে বলে।
-চাচা চলুন।
“নিশাত রেগে দাঁতকটমট করে বলে”
-এই আপনি আমার পার্শে বসেছেন কেন?
-আরে ভয় পেও না। আমার খারাপ উদ্দেশ্য নেই। আচ্ছা তোমার বাসা কোথায়।
-বাঁ দিকে,
-ওহ আচ্ছা,

সাকিব নিশাতকে বাসার সামনে নামিয়ে দেয়। নিশাত রেগে রিকশা থেকে নেমে যায়। বাসার মধ্যে প্রবেশ করে। রুমের মধ্যে এসে দেখে ছাদিক বিছানায় বসে বসে ফোন টিপছে।
-হনুমান তুমি কখন আসলে?
-এই তো আরেকটু আগে,
-ওহহ্ আচ্ছা, আমাকে ফোন করনি কেন?
-তোমাকে ডিস্টার্ব করতে চাইছিলাম না তাই।
-কিসের ডিস্টার্ব,
-আরে কিছু না থাক। আচ্ছা তোমাদের প্রেম কেমন চলছে।

নিশাত মিস্টি হেঁসে ছাদিকের পার্শে বসে।
-আমাদের প্রেম তো বেশ চলছে।
“ছাদিক মাথা হেঁলে ফোন টিপে যাচ্ছে।”
-আরে না আমাদের না। তোমার কলেজের প্রমিক।
-কি বলছো এইসব তুমি।

নিশাতের কথা শেষ না হতেই নিশাতের মুখ শক্ত করে ধরে ছাদিক।
-এই আমাকে বোকা পয়েছিস তুই। ছবিটা নাহয় আলামিন এডিট করেছিলো। আর আজকে যে দেখলাম আরেকটা ছেলের সঙ্গে শরীল ঘেঁষে বুকে মাথা দিয়ে আছিস!
-উঁহু ছেঁড়ে দেও ব্যথ্যা পাচ্ছি তো।

ছাদিক নিশাতের মুখের দিকে তাকিয়ে মুখ থেকে হাতটা সরিয়ে নেয়। রুম থেকে বের হয়ে চলে যায়।
নিশাতের মুখটা খুব শক্ত করে ধরেছিলো ছাদিক। তার জন্য অনেক ব্যথ্যা পেয়েছে। নিশাত বুঝতে পারেনা আমি কার বুকে মাথা দিয়ে ছিলাম এইসবের মানে কি?

(চলবে?)

#তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
#পর্ব_২২
#লেখক_Mohammad_Asad

আজকে সারাদিন বাসায় ফিরেনি ছাদিক। নিশাত অনেক চিন্তিত হয়ে অনেকবার ফোন করে। তবে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাত প্রায় ১০;১১ মিনিট বাড়ির সকলে ভাত খেয়ে নিয়েছে। শুধু নিশাত আর ছাদিক ছাঁড়া। নিশাত রুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি শুরু করে, আর ছাদিকের ফোনে কল করে। এবার ওফ থেকে ফোন ওয়ান করেছে ছাদিক। ফোন ঢুকছে তবে ফোন রিসিভ করছে না।
“ধুর বাবা এতো রাগ কিসের আল্লাহ ভালো যানেন। না খেয়ে কি বুঝাতে চায় ছেলেটা?

বাড়ির কলিংবেলের আওয়াজে নিশাত দৌড়ে দরজার কাছে যায়। তখন রাত প্রায় ১১টা। দরজাটা খুলে দিয়ে বলতে থাকে।
-এই হনুমান কোথায় ছিলে তুমি।
“নিশাতের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে রুমে চলে যায় ছাদিক। নিশাত পিছনে পিছনে হেঁটে যেতে থাকে, আর প্রশ্ন করতে থাকে, কোথায় ছিলে তুমি। বিকেল থেকে বাড়ির বাইরে কেন তুমি?

ছাদিক রুমের মধ্যে আসে। নিশাতের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়। ফ্রেস হয়ে আসলে নিশাত মাথা নিঁচু করে বলে।
-হনুমান, আমার উপর এতো রাগ কিসের? বুঝিয়ে বলবে প্লিজ, আমি কোন ভুল করে থাকলে ক্ষমা করে দিও। এমন করে চুপ থেকোনা। খুব কষ্ট হয় আমার,

ছাদিক নিশাতের চোখের দিকে তাকায় অনেক রাগি ভাবে। তারপর বলে।
-তুমি ভুল করেছো। আর আমাকে বলছো কি ভুল করেছো তা বুঝিয়ে বলতে! কেন তুমি যানোনা কি ভুল করেছো তুমি। তোমার এই নোংরামি কতদিন থেকে চলছে আল্লাহ ভালো যানেন।
-কিসের নোংরামি হনুমান।
-বাহরে এতো নেকামি করো কেন? তোমার মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে কিছু করোনি। একটা ছেলের সঙ্গে ঢলাঢলি করতে একটুও লজ্জা করলোনা তোমার? ভেবে দেখেছো, তোমার এই নোংরামি গুলো দেখলে কতটা কষ্ট পেতে পারি আমি।

নিশাত কিছু বুঝতে পারেনা। ঢলাঢলি মানে, কি বলতে চাইছে ও? আর আমি একটা ছেলের সঙ্গে ঢলাঢলি করেছি। এতোটা খারাপ ভাবে ও আমাকে।
-এই কি বলছো এইসব! একটা ছেলের সঙ্গে ঢলাঢলি করেছি মানে?

ছাদিক নিশাতের মুখ চেপে ধরে,
-এই কিছু বুঝিস না তাই না। অন্য ছেলে হলে এতোক্ষণে বাড়ি থেকে লাথি দিয়ে বের করতো তোকে।

ছাদিকের এমন কথা শুনে নিশাত কান্না করে দেয়।
-তুমি এইসব বলছো!
-হ্যাঁ বলছি, তোমাকে খুব ভালোবাসতাম আমি। ভুল করেছি খুব ভুল করেছি, তোমাকে ভালোবেসে।

ছাদিক ধাক্কা দিয়ে খাটে বসে পরে। নিশাত ছাদিকের পার্শে বসে বলে।
-আমার উপর শুধু শুধু রাগ করছো তুমি। তুমি যেমনটা ভাবছো তেমনটা না। তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে। চলো ভাত খেয়ে নিবে,
-এই মেয়ে, আমাকে কি মনে করো তুমি? আমি কি খেলার পতুল! যা ইচ্ছে বলবে তাই করবো?

“নিশাত মিস্টি হেঁসে বলে”
-পাগল একটা রাগ করে না, না খেয়ে থেকে কি লাভ বলো। তুমি ভুল বুঝেছো আমায়, তা প্রমাণ করে দিবো ওকে।
“ছাদিক নিশাতের চোখের দিকে রেগে তাকায়।
-কি প্রমাণ করবে তুমি। আমি নিজের চোখে যা দেখেছি তা ভুল।
-হ্যাঁ প্রমাণ করে দেখাবো। তুমি যা দেখেছো সম্পূর্ণ ভুল। আচ্ছা চলো এবার ভাত খেয়ে নিবে। আমিও না খেয়ে আছি,

-আমার খিদে পাইনাই ওকে, তুমি খেয়ে নেও।
-নাহহ্, তোমাকে ছাড়া খেতে পারি আমি বলো?

ছাদিক নিশাতের পার্শ থেকে উঠে বেলকনিতে চলে যায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে দাঁড়িয়ে আছে। নিশাত ছোট ছোট ধাঁপে ছাদিকের কাছে আসে এবং জরীয়ে ধরে পিছন থেকে।
-হুম বুঝেছি আমার হনুমানটা আমাকে একটুও ভালোবাসে না। এতো সুন্দর একটা জামাই আমার, শুধু শুধু সুন্দর মুখটা পেঁচার মতো রেখেছে।

ছাদিক শান্ত গলায় বলে,
-নিশাত আমাকে ছেঁড়ে দেও।
-না ছাঁড়বো না।
-তোমার শরীলে হাত উঠাতে বাধ্য করোনা আমায়।
-হিহিহিহি তুমি আমার শরীলে হাত উঠাবে। হিহিহিহি আমাকে তা বিশ্বাস করতে বলছো।

ছাদিক রেগেমেগে নিশাতের দিকে তাকিয়ে, ২টা থাপ্পড় দিয়ে বলে, আমাকে যতোটা বোকা ভাবো ততটা বোকা না আমি ওকে।
নিশাত এ্যা এ্যা এ্যা করে কান্না করতে থাকে।
-এই কান্না থামাও বলছি।
-তুমি আমাকে থাপ্পড় দিতে পারলে!
-হ্যাঁ পারলাম।
” নিশাত কান্না করতে করতে রুমে চলে আসে। অনেকক্ষণ কান্না করে নিশাত। ছাদিক বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। নিশাত ভ্যা ভ্যা করে কান্না করে যাচ্ছে। বিরক্তিকর কান্নার আওয়াজে বিরক্ত হয়ে যায় ছাদিক। রুমে এসে দেখে নিশাত বিছানায় বসে বাচ্চাদের মতো কান্না করছে। তা দেখে না হেঁসে পারেনা ছাদিক, তবুও রাগি ভাবে বলে।
-এই কান্না করছো কেন? আমার কান্নাকাঁটি একদম ভালো লাগেনা যানোনা তুমি! ভাত খেয়ে সুয়ে পড়ো।
“নিশাত অভিমান করে জোরে ভ্যা ভ্যা করে কান্না করতে থাকে। ছাদিক বিরক্ত হয়ে হাত জোর করে বলে।

-প্লিজ, তোমার এই বিরক্তিকর কান্না থামাও। ধুর এই মেয়েটা এমন কেন!

নিশাত কোনো কথা না শুনে কান্না করতে থাকে। ছাদিক কোনো উপাই না পেয়ে কানে ইয়ারফোন দিয়ে গান শুনতে থাকে। রুমের লাইটটা ওফ করে বিছানায় সুয়ে পড়ে। রুমের লাইটটা ওফ করে দেয়। পার্শে নিশাত ভ্যা ভ্যা করে কান্না করছে।
রুমের লাইটটা জালিয়ে দিয়ে আবার কান্না করতে থাকে নিশাত। ছাদিকের আলোর কারণে ঘুম আসছে না। তাই রুমের লাইটটা ওফ করে দেয়, নিশাত আবার জালিয়ে দেয়। এভাবে অনেকক্ষণ চলতে থাকে, শেষে কোন উপাই না পেয়ে ইয়ারফোনটা কান থেকে খুলে কয়েকটা ধমক দেয়। নিশাত এবার চুপ হয়ে যায়। কে যানে রেগে আর কয়টা যদি থাপ্পড় দেয়। তা ভেবে বিছানায় সুয়ে পড়ে। অন্যদিকে ঘুরে নিরবে কান্না করতে থাকে। ছাদিক মাঝখানে একটা কোলবালিশ দিয়ে দেয়। মাঝরাতে ছাদিক মনে করে নিশাত কোলবালিশ জরীয়ে ধরে। বুঝতে পারেনি এটা কোলবালিশ। মিটিমিটি চোখে কোলবালিশের দিকে তাকায় আর ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। “কোলবালিশ আসলো কোথা থেকে। এই হনুমান তাহলে এখানে কোলবালিশ রেখেছে। নিশাত রেগে কোলবালিশ বিছানার এক পার্শে রেখে দেয়। আর ছাদিকের বুকে গুটিশুটি হয়ে সুয়ে পড়ে। নিশাতের নড়াচড়া অনুভব করে ছাদিক ঘুম থেকে জেগে যায়।
-এই নিশাত তুমি এখানে কোলবালিশ কোথায়।
“নিশাত ছাদিকের বুকে চিমটি কেঁটে বলে”
-নেই
-কেন?
-তোমার তো শাহস কম না। আমাদের মাঝখানে কোলবালিশ রেখেছো তুমি।
-এই মেয়ে, তোকে আমি।
-কি মেরে ফেলবে?
-হ্যাঁ তাই করবো।

ছাদিক বুক থেকে সরিয়ে নেয়। আর বলে আমার বুকে আসবে না তুমি। নিশাত আবার ছাদিকের বুকে সুয়ে পড়ে। আবার ছাদিক সরিয়ে নেয়। এভাবে চলতে থাকে অনেক্ষণ। ছাদিক বিরক্ত হয়ে আর কিছু বলেনা। চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়ে। নিশাত ছাদিকের বুকের উপর গুটিশুটি হয়ে শুয়ে আছে।

রাত একটা দুইটা তিনটা এভাবে চলে যেতে থাকে প্রহর গুলি। ফজরের আজান দিচ্ছে।
আল্লাহ আকবার, আল্লাহ আকবার,
আজানের মুধুর আওয়াজের ঘুম থেকে জেগে যায় নিশাত। পাখিরা কিচিরমিচির করে গান গাইছে। জানালাটা খুলে রাখার জন্য শীতল বাতাস বয়ে আসছে শরীলে।

শীতল বাতাসের আনাগুনায় নিশাতের মাথাটা ঠান্ডা হয়ে যায়। ছাদিকের বুক থেকে মাথাটা উঠিয়ে ছাদিকের কপালে চুমু এঁকিয়ে দেয়। ছাদিকের ঠোঁটে একটা নখ দিয়ে দেয়। মিস্টি করে হেঁসে দেয় নিশাত রাতের পাগলামী গুলোর জন্য। আবার মনটা খারাপ হয়ে যায়, আমাকে বলতে পারলো হনুমানটা, আমি নাকি একটা ছেলের সঙ্গে ঢলাঢলি করেছি।

নিশাত মুখটা গোমড়া করে ছাদিকের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
-হনুমান
-“নিশ্চুপ”
-নামাজে যাবে না?

ছাদিক কোনো কথা না বলে, ঘুম থেকে উঠে পাঞ্জাবি পড়ে নেয়। নিশাত হাজার কথা বললেও ছাদিক কোনো উত্তর দেয় না। রুম থেকে বের হয়ে চলে যায় ছাদিক, ফজরের নামাজ পড়ার জন্য।

মসজিদে যাওয়ার সময় প্রশান্তিময় বাতাস উপভোগ করতে থাকে ছেলেটা। মিস্টি বাতাসে মাথাটা ঠান্ডা হয়ে যায়। বুকটা নিষ্পাপ হয়ে যায়। মনে যেন কোনো কষ্ট নেই। প্রভুর এবাদত করতে যাচ্ছি তাই হয়তো আল্লাহ তায়ালা মনটা শীতল করে দিয়েছে, এর জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি অনেক। মসজিদে প্রেবেশ করার পর নামাজের কাঁতারে দাঁড়ায় ছাদিক। নামাজ শেষে মোনাজাতে নিশাতের জন্য দোয়া করে। না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আব্বু আম্মুর জন্য দোয়া করতে থাকে।

এদিকে নিশাত ওজু করে আসে নামাজে দাঁড়ায়। আর সঠিক পথ দেখানোর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকে।

আজকে শুক্রবার তাই গভীর ঘুমে আছে ছাদিক। মসজিদ থেকে ফিরে গভীর ঘুমে চলে যায় ছেলেটা। সকাল ৮টা বেজে গেছে, নিশাত অনেকক্ষণ থেকে ডেকে যাচ্ছে সকালের নাস্তা করার জন্য। বাড়ির সকলে নাস্তা শেষ করে নিজেদের রুমে চলে যায়। মিমের পরিক্ষা শেষ হয়ে পরিক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। ওহ হ্যাঁ বলা হয়নি, মিম অনেক ভালো ফলাফল করেছে এসএসসি পরিক্ষায়। নতুন কলেজে ভর্তি হয়েছে। হাতে পেয়েছে স্মার্টফোন, ফেসবুক নিয়ে অনেকটায় ব্যস্ত থাকে মিম এখন।

নিশাত রেগে নিজের রুমে যায়। ছাদিকের চোখে জল ঢেলে দেয়। ছাদিক কিছু বুঝতে না পেয়ে ঘুম থেকে জেগে যায়। নিশাতের দিকে তাকিয়ে থাকে অনেকটা রেগে। এদিকে নিশাত খিকখিক করে হেঁসে যাচ্ছে।
-এই এগুলার মানে কি?
-কি আবার মানে, কতক্ষণ থেকে ডাকছি ঘুম থেকে উঠোনা কেন?

ছাদিক নিশাতের গালে ঠাস ঠাস ঠাস করে তিনটা থাপ্পড় দিয়ে দেয়। বলে,
-তোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আর হ্যাঁ তোর হাতের রান্না খেতে পারবোনা আমি। বাইরে থেকে খেয়ে নিবো। তোর রান্না তুই খেয়ে নে।

নিশাত মাথাটা নিচু করে আছে গালে হাত দিয়ে। রুম থেকে বের হয়ে যায় ছাদিক। সারারাত না খেয়ে থাকার জন্য অনেক খিদে পেয়েছে। তাই নিশাত ছাদিককে রেখে একা খেয়ে নেয়। “ও রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে নিবে। তাহলে আমি কেন না খেয়ে থাকবো? হ্যাঁ আমিও পারি ওকে ছাঁড়া খেতে।

দুপুরে বাড়িতে আসে ছাদিক। তখন দুপুর ১২টার পার হয়েছে। নিশাত ভাত রান্না করতে দিয়েছে চুলোয়। রুমটা ঝাঁড়ু দিচ্ছে, ছাদিক রুমে ঢুকলে নিশাত অনেকটাই রেগে গিয়ে ছাদিকের মাথায় ঝাঁড়ুর বাড়ি মারে। তারপর নিজের জিহ্বায় কামড় দেয়।
“হায় হায় নিশাত কি করলি এইটা তুই।

ছাদিক রেগে নিশাতের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। আলমারি থেকে কাপড় নিচ্ছে। তা দেখে নিশাত বলে।
-আরে তুমি বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছো নাকি?

নিশাতের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না ছাদিক। ছাদিকের হাত থেকে কাপড় গুলো নিয়ে নেয় নিশাত।
-আরে আমি দোষ করছি তুমি চলে যাচ্ছো কেন? আমার মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা। তুমি বাচ্চাদের মতো কোথায় যাচ্ছো?
“ছাদিক রেগে বলে,
-যেখানে দুই চোখ যায় সেখানে যাবো আমি। নতুন একটা মেয়েকে বিয়ে করে নিবো। আর তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো।

নিশাত ফিঁক করে হেঁসে দেয়, ছাদিকের হাতে টাওয়াল আর শার্ট টাউজার দিয়ে বলে।
-আহারে শখ কতো আরেকটা বিয়ে করার। তোমার চোখ দুইটা আছে না, তুলে নিবো একদম, এইসব ফালতু কথা বললে।
-এই আমি ফালতু কথা বলছি তাই না। তোমার মতো বেহায়া মেয়ের সঙ্গে থাকতে পারবোনা আমি।
-আচ্ছা ঠিক আছে থাকতে হবে না। এবার টাওয়াল আর কাপড় দুইটা নিয়ে গোসল করতে যাও। রান্না করেছি খেয়ে নিও।
-পারবোনা আমি, তোমার হাতের রান্না খেতে।
-আচ্ছা খেতে হবে না। আগে তো গোসল করে এসো।

(চলবে?)