দো দিলে জাহান পর্ব-০৭

0
87

#দো_দিলে_জাহান
#পর্বঃ৭
#বর্ষা
২২.
পরীক্ষা শেষের পর একদম ফ্রি সময় কাটাচ্ছে মেহের।সকাল হতে দেরি তবে ওর টিভি ছাড়তে দেরি হয়নি।ওদিকে নূরিয়া,মায়া বেগম,তান্মি এবং রাবেয়া বেগম রান্নাঘরে ঢুকেছেন।আজ মেহমান আসবে তাই এতো আয়োজন। অবশ্য এ নিয়ে মেহেরের এতো মাথা ব্যথা নেই।মাথা ব্যথা তো টিভি ছাড়ার পর শুরু হলো।”ঢাকায় নির্মম হত্যার খেলা”শিরোনামে কি বিধ্বংসী লাশ দেখাচ্ছে!

ঢাকাতে নির্মমভাবে হত্যা হয়েছে এক যুবকের। যৌনাঙ্গ থতলে দিয়েছে ভারী কোন বস্তুর প্রহারে।হয়তো বেশ নির্যাতন শেষেই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে একে।বুকের ওপর,বাহুতে,মাথায় সবখানেতে খোদাই করে লিখেছে ‘আমি রেপিস্ট’।কি নির্মম সেই দৃশ্য।কতজন ভয়ে আঁতকে উঠছে। তো আবার কয়েকজন খুশি হচ্ছে সমাজ থেকে এক বিচ্ছিরি কিটের নাশ হওয়ায়।

পুলিশ বাহিনীকে তৎপর যে হতেই হবে এ যে পুলিশ কমিশনারের ভাগ্নে।পুলিশ কমিশনার নিজেও ভীত হয়ে পড়েছেন। কেননা লাশের পাশে মহাদেশের হিংস্র দল টাইকুনের সিমবল মিলেছে।টাইকুন সাম্রাজ্য এমনই শক্তিশালী যাকে রাশিয়ার গুপ্ত সৈন্য দলের মতো শক্তিধর বলেই ধারণা করা হয়।অপরাধ দমনে নয় বরং অপরাধীদের উপরে ফেলতেই এরা বিশ্বাসী।কত অপরাধীর রক্তে যে টাইকুন সেনারা নিজেদের হাত রাঙিয়েছে কে জানে!

ডিআইজি প্রিয়ম মুখার্জি ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গিয়েছেন।তার ধারণা হয়ে গিয়েছে এই কেস সাধারণ পুলিশ দ্বারা সমাধান সম্ভব না।তাইতো কেস যেমন সাধারণ না ঠিক তেমনি পুলিশও তো লাগবে অসাধারণ!মিস হাউডকেই যে লাগবে।দূর্দষ,কম বয়সী,জৌসিলা,সাহসী ইন্সপেক্টর।গোপনে কাজ করে তাই তো মিস হাইড।কাউকে ফোন দেন তিনি।পাশের মানুষটাও টাইকুনের সদস্য হতে পারে তাই আবারো কেটে দেন।কাউকে বিশ্বাস নেই।তবে মিস হাইডকে বিশ্বাস করতে হবে যে।অপরিচিত এক নাম্বার থেকে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে,

-“বাবুজি হাম না আজকে জলদি চালে যাএংগা।কাম কনসি হে জলদি বলুন।আজকের তাজা চুন,চর্বি কি আমার জন্যে হে..?”

যদিও বুঝতে সমস্যা হয় প্রথমে।তবে এর মানে কি দাঁড়ায় তা খুব ভালো করেই জানেন প্রিয়ম মুখার্জি।তাইতো তেমনি করে গুপ্তভাবে উত্তর দিলেন,

-“আহা বাসায় তো তোমার ম্যাডাম ছিলোই। আচ্ছা যাইহোক ফোন যখন দিয়েছে তো শোনো ওইগুলো তোমার জন্যই।বুঝেছো?”
-“আজ্ঞে বাবুজি”(মিস হাইড)

ফোন রেখে নিশ্চিন্তের হাসি হাসেন তিনি।তবে যেই ভয় ছিলো সেই হলো।ওনার এসিস্ট্যান্ট বিষয়টা ঠিকই দেখলো।আবার জানিয়েও দিলো কাউকে।আহা ঘরের শত্রু বিভীষণ!পুলিশ হলেও ভেতরে ভেতরে একে অপরের শত্রু।

২৩.
ঘর অন্ধকার করে বসে আছে তীব্র।বড্ড ইচ্ছে করছে নিষিদ্ধ কিছুর প্রতি ঝুঁকতে।তবে সে যে ওর জন্য বারণকৃত।সে কেউটা তার জীবনে আসলে দু’জনের জীবনেই যে তান্ডব লীলা জ্বলবে।তীব্র হঠাৎ ঘরের লাইট জ্বালিয়ে দেয়।এটা ওর ঘর না।অন্য কোথাও দেখেই বোঝা যাচ্ছে।খাট নেই,কিছুই নেই।এই নেই এর মাঝেও এখানে আছে অজস্র ছবি,মেহেরের ছবি।তবে ওর অজান্তেই যে তোলা তাও বোঝা যাচ্ছে।

তীব্র নিজের বুকের উপর হাত রেখে নেশালো কিছুর সংস্পর্শে আসার মতো করে বলে ওঠে,
-“তোমাকে চাওয়ার এই ইচ্ছেটা বিধ্বংসী,তোমাকে পাবার এই স্বপ্নটা প্রাণঘাতী। তবুও তোমাকে চাই হৃদয়ের প্রতিটি শিরা-উপশিরা হতে।যদি তোমার আমার দুই হৃদয়ের এই জাহান হতো তবে দো_দিলে_জাহানে তোমায় আটকে নিতাম খুবই যত্নে”

ছোটবেলায় খেলার ছলেই নিজেকে মেহেরের বলে মেনে নেওয়া তীব্র দূরে গিয়েও থাকতে পারেনি ওকে ছাড়া। তাইতো পাগলামি করতো নিত্যনতুন।তবে হঠাৎ করে ওর ঊনিশ তম জন্মদিনে সব ঠিক হয়ে গেলো।ও পাগলামি করা।দুইবছরের পাগলামি কি আর এতো সহজেই যায়!তীব্র তো মেহেরের খবরাখবর পাওয়ার জন্য আলাদাই এক লোক নিয়েছিলো।মোটা অংকের মাইনে তো তার হাত খরচের টাকা দিয়েই হয়ে যেতো।তাছাড়া পার্টটাইম জব তো সে করতোই।

ফোন বাজার শব্দে তীব্র বেড়িয়ে আসা ওই রুম থেকে। গুপ এই রুমটা তীব্রের রুমে ভেতরে আলমারির আড়ালে।দিনে দুই -তিনবার এখানে না আসলে ওর চলে না।ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বিদেশী ভাষার কিছু কথা ভেসে আসে।

-“এস.আর তুমি কেন বাংলাদেশে গেলে?তোমার প্রয়োজন কানাডাতে। নাবিন গ্রুপ আবারো নিউ স্ক্যান্ডাল করেছে।”

-“আহা আংকেল আপনি এতো ভয় পান কেন?আপনার এস.আর এখনো জীবিত।এই নাবিন গ্রুপ আমাদের হাতের ময়লা।আজ সমস্যা করছে,কাল তো নাও থাকতে পারে।”

ওপরপাশের ব্যক্তি খুব ভালো করেই বুঝে যান কাল নাবিন গ্রুপে কিছু না কিছু হবে।হোক কারো মৃত্যু কিংবা হাইভোল্টেজের কিছু!আংকেল আবারো বলে ওঠেন,
-“ও কোথায়?তোমার সাথেই কি আছে নাকি ওর কোন….”

-“আংকেল ও কি বাচ্চা নাকি?ঘুরছে হয়তো কোথাও কোথাও।ওকে ইগনোর করেন।ওর বিষয়ে এখনো জানেই বা কয়জন”(তীব্র)

-“হু।আচ্ছা বেস্ট অফ লাক মাই বয়।”(আংকেল)

আংকেলের কোনো কালো অতীত নেই।শাসন ব্যবস্থা ওনাকে এমন বানিয়েছে।তীব্রর সাথে ওনার প্রথম দেখাটা ছিলো অন্যরকম।কাউকে হত্যা করে তিনি বকছিলো ওই লাশটাকে।আর তীব্র তা দেখে থমকে ছিলো অনেকক্ষণ।তারপর এগিয়ে এসে বলেছিলো,
-“আংকেল রেপিস্টটাকে এতো সহজ মৃত্যু দিলে কেন?এর তো আরো কঠিন মৃত্যুর প্রয়োজন ছিলো”সেই দেখাতেই এমন কিছু ছিলো যে তীব্র আজ ওনার সাথে।ওনার হয়ে লড়ছে।সময়ের গভীরতায় সে জানতে পেরেছিলো আংকেলের মেয়ে লড়া যখন রেপের ভিক্টিম তখন প্রমাণের অভাবে আসামী খালাস। অবশ্য লড়া যদি আত্মহত্যা না করতো তবে হয়তো আসামীর সাজা হতো।তবে আংকেল সেইদিন থেকেই নাকি এই অন্ধকার খুনাখুনির জগৎকে বেছে নিয়েছেন।

২৪.
মোয়াজ,মাহিন পরিবারের বাকি সবাই ডাইনিং টেবিলে উপস্থিত।একসাথে সকালের নাস্তাটা খাবে বলে কথা।তবে তোয়া নেই।এইতো চার পাঁচ দিন যাবৎ কেমন চুপচাপ হয়ে থাকে।যেন অনেককিছুই ভাবে।তবে এই ভাবনার সুরাহা আদৌ সে পায় কিনা তা সে নিজেই জানে।

মেহের ডাইনিং এ বসতে তার আগেই মোবারক তালুকদার তাকে বসতে নিষেধ করেন।একটা চেয়ারেই ফাঁকা ছিলো।তিনি মেহেরকে উঠিয়ে নুরিয়াকে ওখানে বসতে বলেন।মেহেরের ভেতরটা রাগে কেঁপে ওঠে।যত সে এই মেয়েটার সাথে মেশার চেষ্টা করছে তবে তার দাদার কর্মকাণ্ডে পারছে না।আর এই মেয়েটা তো কথার কথা বলতেই পারতো আমি নাহয় পরে খাবো মেহের আগে খেয়ে নিক।না,এই কথা এই মেয়ের মুখে আসেনি।রাগ দেখিয়ে ড্রয়িংরুম থেকে মোবাইল হাতে বাড়ি থেকেই বেরিয়ে যায় সে।

মেহেরের প্রতি এমন অবিচার দেখে মোয়াজ চুপ থাকতে পারেনা।টেবিলে সশব্দে আঘাত করে। প্রতিটা মানুষ কেঁপে ওঠে।তবে মাহিন নির্বাক।সে জানতো তার ভাই এমন কিছুই করবে।

-“তোমাদের সমস্যা কি আমাকে বলবা?মেহের তো এই বাড়ির মেয়ে তাও তোমাদের ভেতরে কি এমন চলে যে সবসময় ওকে হেয় করো! তোমাদের কারণে না খেয়েই চলে গেলো ছুটকি এখন”

নিজেও খাওয়া রেখে টেবিল থেকে সরে আসে।মাহিনের খাওয়া শেষ।এখন সে তার বনুর কাছে যাবে।সে জানে তার বনু অতিরিক্ত রেগে গেলে কোথায় যায়।মোয়াজের পিছুপিছু তৃষ্ণা ঘরে গিয়েছে।এই ছেলের যা রাগ ঘরে গিয়ে সব না ভাঙলেই হলো।যাকে নিয়ে এতো কিছু হলো সে তো নির্লজ্জের মতো খেয়েই যাচ্ছে।মায়া বেগমও অপমানে সেখান থেকে রান্না ঘরে ফিরে গিয়েছেন।তূর্যয় আর নূরিয়ার জন্য আর যে কত কথা শুনতে হবে তাকে!

মোয়াজ,মাহিনের চলে যাওয়া দেখে মোবারক তালুকদার বিড়বিড় করে বলে ওঠেন,
-“আমি কি তাড়াইয়া দিছিলাম নাকি!একটা জায়গা আছিলো তাইতো নূরিয়া নানুভাইকে বসাইলাম।আহারে সকাল সকাল মেয়েটা কাজকাম করছে।”

মোবারক তালুকদারের এমন চিন্তায় ভাটা পড়বে।যদি তিনি শোনেন তার আদরের নাতবউ কাজ করার পরিবর্তে রান্না ঘরে বসে মোবাইল চালিয়েছে।নাম কামাতেই তার রান্নাঘরে যাওয়া ছিলো।মডেলিং এজেন্সি থেকে তার নতুন কাজ সে পেয়েছে।আজ যেতে হবে। তাইতো পারমিশন পেতে জানি সহজ হয় তাই ঢং ধরেছে।

২৫.
তালুকদার বাড়ি থেকে বেশ অনেকটা দূরেই খোলা মাঠ।আর খোলা মাঠের একপাশে সুন্দর একটা বিশাল আমগাছ। ডালপালা গুলো বিশাল বিশাল।মাঠের একপাশে ফুলগাছ আছে কিছু।ফুল ফুটলে অসম্ভব সুন্দর লাগে সেদিকে তাকিয়ে থাকতে।তবে এখন দূর আকাশের দিকে মেহের তাকিয়ে আছে। হঠাৎ পেছন থেকে কেউ বলে ওঠে,
-“জাফরান মেহের তালুকদারের মুড অফ করলো কোন আল্লাহর বান্দা?”

তীব্রর এই সকাল সকাল উপস্থিতি যদিও এর আশা ছিলো না তবে বেশ খুশি হয় সে।তবে বিষয়টা বুঝতে দেয়না।তীব্র আবার বলে,
-“তোরে এতো পাত্তা দেই দেখেই কি এমন ঢং করছ!”
-“কোথায় ঢং করলাম?”(মেহের)
-“চুপ থাকবি না।তোর নিরবতা আমার ভালো লাগে না।আমার সাথে থাকলে পটরপটর করবি।”(তীব্র)
-“তা সারফারাজ রেদওয়ান তীব্র যে নিরবতা প্রেমী থেকে শব্দ প্রেমী হয়ে উঠছে তা কি সে জানে?”(মেহের)
-“মানে?ওহ…হুম জানে।কেন তোর কি আমার এই আমিকে অপছন্দ নাকি?”(তীব্র)
-“আমার তো তুমি নামক মানুষটাকেই বড্ড পছন্দ তীব্র”(মেহের)
-“আহা আমি ধন্য ধন্য।মেহেরের পছন্দ নাকি আমি!”(তীব্র)
-“তোমার সাথে আর কথাই বলবো না।”(মেহের)
-“তাহলে কার সাথে কথা বলবি।ওই নিহালের সাথে?”(তীব্র)
-“তীব্র তখন আমরা বাচ্চা ছিলাম।বয়স ছিলো আমার মাত্র আট।তখন আমি ওর সাথে খেলেছি বলে কি তুমি সারাজীবন ওর কথাই বলবে!”(মেহের)
-“তুই খেলবি কেন?আমি কি ছিলাম না সেখানে! তুই আমার তাহলে তুই কেন ওই ছেলের সাথে খেলবি”(তীব্র)
-“আসো এখন ঝগড়া বাঁধাই ছোটবেলার ঘটনা নিয়ে”(মেহের)

মেহের-তীব্র দু’জনেই হাসে।আর তাদের হাসি দেখে হাসে মাহিন।বোনের মন ভালো করতে আইসক্রিম কিনতে গিয়েছিলো সে।তাইতো একটু দেরি হওয়া।আর এসে যখন বোনের পাশে নিজের বেষ্ট ফ্রেন্ডকে দেখলো তখন নিশ্চিন্ত হলো।বোনের খুশিই সবচেয়ে বেশি।তীব্র যে মানুষ হিসেবে এবং ওর বোনের আপন কেউ হিসেবে সেরা সেটা ও খুব ভালো করেই জানে।মোয়াজকেও একটা ছবি পাঠিয়ে দেয়। যাতে বেচারা বোনের জন্য পারফেক্ট কাউকে খোঁজা বন্ধ কর।

উল্টো পথে গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় মাহিনের দেখা হয় জারিনের সাথে।মাহিনের হাতে আইসক্রিম দেখে জারিন লাফিয়ে উঠে বলে,
-“উঃ হুম মাহিন ভাই। তুমি কি প্রেম করো?দুইটা আইসক্রিম নিয়ে ঘুরছো!বাহ বাহ”

-“ফাজিল দিবো এক চড়।তা তোর বড় বোন মারিয়াম কিন্তু খারাপ না।আমাকে তুই পারমানেন্ট ভাইয়া বানাতে পারিস”(মাহিন)

-“মাহিন ভাই থেকে দুলাভাই বিষয়টা খারাপ না।তবে তুমি আমার মামাতো বোন মারিয়াম আপুকে কোথায় দেখলে নাকি মজা করছো?”(জারিন)

-“এই নে আইসক্রিম খেতে খেতে বাসায় যা।আর শোন তোর আমাকে কি মজার মানুষ মনে হয়!”(মাহিন)

শেষের কথাটা সিরিয়াস কন্ঠে বলে মাহিন।জারিনের ছোট মাথায় মাহিনের শেষ কথা ঢোকে না।তবে আইসক্রিম পেয়ে সে বড্ড খুশি।সারিম বলেছিলো আজ আসবে।সাথে করে নাকি ওর সিনিয়র বড় ভাইও আসবে।প্লেসটা তো এই আশেপাশেই ছিলো।আর ওই হাদারাম এখনো আসেনি।তখনই জারিনের নজর যায় মাঠের ওদিকটায়।তার বান্ধবী আর একটা ছেলে!খুশিতে গদগদ হয়ে ওঠে সে।একবার যেতে চাইলেও নিজেকে শাসিয়ে বলে ওঠে,
-“জারিন তুই তো ভালো বাচ্চা। বড়দের কথা শুনতে যাওয়ার কোনো দরকার নেই।”

-“আজকে বিয়ে দিলে কালকে নিজেই বাচ্চার মা হয়ে যাবা।এখন নিজেকে বাচ্চা বলছো।সো ব্যাড জারিন”

সারিমের কন্ঠস্বরে ওর বাচ্চামো কথার প্রতিক্রিয়া শুনে লজ্জায় কুঁকড়ে যায় ও।ভেতরে ভেতরে অগ্নিকুপ হলেও এই ছেলের সামনে আসলে কিংবা আশেপাশে থাকলে ভেজা বিড়াল হয়ে যায় সে।এটা হয়তো ভালোবাসার ব্যক্তির কাছ থেকে ভালোবাসা পাওয়ার কৌশল! ভালোবাসা তো আর কৌশলে পাওয়া যায় না।

চলবে কি?