দো দিলে জাহান পর্ব-২৮

0
98

#দো_দিলে_জাহান
#পর্বঃ২৮
#বর্ষা
৯১.
মায়া বেগম সবার ওপর রাগ দেখিয়ে নুরিয়াকে নিয়ে বাড়ি ছেড়েছেন।গোলাম ফখরুল বাধ সাধেননি। বরং এতো কষ্টের মাঝেও যেন বেশ খুশিই হয়েছেন।এই বাড়িতে থাকলে ওনার সম্মানে লাগতো‌।ওনার মৃত ছেলের কলিজাতে যে আঘাত লাগতো মনে করেন গোলাম ফখরুল।তবুও স্ত্রীর কথা ভেবে থাকতে বাধ্য ছিলেন তিনি।আজ যেন মুক্তি পেলেন। স্ত্রী তার বাপের বাড়ির লেটা চুকিয়ে এসেছে।

-“নূরিয়া জানি না কিভাবে কি হলো!তুমিও ভুলে যাও।যেহেতু তুমি আমাদের বাড়ির বউ, আমাদের দায়িত্ব।আজ থেকে আমাদের সাথেই তুমি আমাদের মেয়ে হয়ে এখানে থাকবে”

নূরিয়া পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে।নিজেকে বারবার আঘাত করতে চাইছে।তার মনে হচ্ছে তূর্যয় তার সাথে অভিমান করে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেড়ে নিয়েছে।তূর্যয় হয়তো নূরিয়ার ভাবনায় রাগ করেছিলো।নূরিয়া কেন ভাবলো অন্যকাউকে তূর্যয়ের বাচ্চার বাপ বানাবে!তূর্যয় হয়তো নিজের সন্তানকে নিজের পরিচয় দিতে পারবে না ভেবেই হয়তো কেড়ে নিয়েছে তার থেকে।

মায়া বেগমের একটা কথাও কানে ঢোকেনি নূরিয়ার।এই বোধহয় নূরিয়া শেষ হয়ে যাবে।মাত্র দুইদিনে নূরিয়াকে একদমই চেনা যাচ্ছে না।চুল উস্কখুস্ক,চেহারা শুষ্ক,মুখটা ক্লান্ত।একদমই যেন আগের নূরিয়ার বিপরীত।

-“মা আমি একটু গোসল করবো”

নূরিয়ার কথা বলতে দেরি হলেও মায়া বেগম গোসলখানা অব্দি ওকে পৌঁছে দিতে দেরি করেন না।তিনিও তো মৃত সন্তানের মা তাই হয়তো বোঝেন সন্তানের মরণে কেমন জ্বালা হয়!

শাওয়ারের নিচে দেওয়াল হাত ঠেকিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে আছে নূরিয়া।নিজেকে দেখে তার নিজেরই ঘৃণা হচ্ছে।বারবার তার মনে হচ্ছে সেই তার সন্তানের খুনি।নিজেকে মেরে ফেলতে মন চাচ্ছে তার।ধরতে গেলে তো সেই প্রকৃত খুনি।সে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়তো হয়তো সে পিছলেই পড়তো না!বেবিও সুস্থ থাকবো,বেড়ে উঠতো।

-“মাম্মাকে মাফ করে দিস বাচ্চা,মাম্মা তো তোর খুনি।তাহলে বল মাম্মা কি করে বেঁচে থাকি? সুইসাইড তো করতে পারবো না।তবে জীবনের সব শখ আহ্লাদ কিছুই আর রইলো না।”

সন্তান হচ্ছে মায়ের জন্য এক অনুভূতি।সবার কাছে একজন মানুষ হিসেবে খারাপ হলেও মা কিন্তু তার নাড়ি ছেঁড়া ধনকে প্রচন্ড ভালোবাসে।তার জন্য যেমন খুন করতেও রাজি তেমনি খুন হতেও!সেখানে সেই নূরিয়াও তো মানুষ।হবু মা ছিলো।বাচ্চার বাবা তার প্রেমিক পুরুষ,মাহরাম অর্থাৎ স্বামী ছিলো।আবার বলবেন না যেন স্বামী কি কখনো প্রেমিক পুরুষ হয় কিনা?হয়,হয়।প্রেমিক পুরুষকে বিয়ে করলে যেমন প্রেমিক পুরুষটা স্বামী হয় তেমনি বিয়ের পর একজনের ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠেও প্রেমিক পুরুষ পাওয়া যায়।

শাওয়ার থেকে বের হতেই নূরিয়ার কেমন যেন লাগতে লাগে।শরীর তার অনেক দূর্বল। হসপিটালে দুইদিন থাকতে বলেছিলো। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা,যায়নি।ওখানেই ছিলো।আর আজ এবাড়িতে।

-“আপু…”

নওশিনকে দেখে চিৎকার করে কেদে ওঠে নূরিয়া।বোনের কাছে বোনের অনুভূতি যেন প্রকাশ পায় অতিদ্রুত।বোন যে আমারো ভালোবাসার মানুষ।আমি বুঝি বোন মানে কি! কান্নারা ঢুকড়ে বেরিয়ে আসতে চায়।মস্তিষ্ক যেন মনকে জানান দেয় যে,ওইতো তোর ভালোবাসার,মনখুলে কথা বলার মানুষ,তুই যার সামনে নির্দ্বিধায় কাঁদতে পারিস।

-“হুঁশ,আপু আর কাঁদে না।দেখ আমি আছি তো।আমি সারাজীবন তোর পাশেই থাকবো।প্লিজ বনু কাদিস না”

নওশিন ভেজা কন্ঠে বোনকে সামলাতে থাকে।তারও কষ্ট লাগছে বোনের অংশটার প্রতি‌।কতো নাম ভেবে রেখেছিলো।পোশাকও তো কিনেছিলো। কিন্তু সে আর পৃথিবীর আলো দেখলো না।বোনের দুঃখে যেন আজ নওশিনও ভালো হয়ে গেছে।এটাই হয়তো নিয়ম মানুষ কঠিন সময়ে কষ্ট পায়,তবে টানা কষ্ট কাউকে প্রচন্ডভাবে শক্ত করে কিংবা কাউকে প্রচন্ড নরম করে দেয়।

-“বনু আম..আমার তানিজ-তানিজা নেই রে।বনু আমার বাচ্চাকে আমি খুন করেছি।আমি খুনি।আমাকে তুই মেরে ফেল।এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আমার নেই।প্লিজ বনু আমায় মেরে ফেল”(নূরিয়া)

৯২.
বুশরার সাথে বটতলায় বসে আছে জায়িন।আজ দুদিন বাদে বুশরা ভার্সিটি এসেছে।একই ডিপার্টমেন্টে পড়ছে দু’জনে।জায়িনের কাছে নিজ থেকেই বুশরা এসেছে।কিছুটা সময় চেয়েছে।জায়িন রাজি হওয়াতে ওর বন্ধুরা সোর তোলে।বুশরা লজ্জা পেয়ে স্থান ত্যাগ করে।ছুটির পর ভার্সিটির পেছনে এই বটগাছটায় এসে বসেছে ওরা।

-“কি জন্য সময় চেয়েছো?”(জায়িন)

-“আমি আপনাকে কিছু বলেছিলাম কি সেদিন?”(বুশরা)

-“কিছু নয় বরং অনেককিছু”(জায়িন)

-“আমি তখন অনেক ড্রাংকড ছিলাম। বন্ধুদের পাল্লায় পরে ভুলবশত খেয়ে ফেলি।আর আপনাকে কল দিয়ে দেই।সরি”(বুশরা)

-“ভালোবাসার ইজহারও কি ভুলবশত?”(জায়িন)

জায়িনের ভ্রু কুঁচকানো দেখে বুশরা অবাক হয়ে তাকায়।বুঝতে পারেনা কি বলবে।পরিবারে সবাই আছে তবে ওর প্রিয় দাভাইটা আর নেই।বছর এক আগে ক্যান্সারে ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছে।তারপর থেকেই পরিবারের মানুষদের সাথে ওর দূরত্ব।

বুশরা উঠে দাঁড়ায়।এই প্রশ্নের উত্তর হ্যা সূচক সে নিজের মনকে প্রশ্ন করলেই উত্তর পায়।তবে সে জায়িনকে জানাতে চায় না।যদি জায়িন না করে দেয় কিংবা দাভাইয়ের মতো হারিয়ে যায় তখন!বুশরা চলে যেতে নেয়।

-“কিছু জিজ্ঞেস করলাম চলে যাচ্ছো যে”(জায়িন)

-“সব প্রশ্নের উত্তর যে সামনের মানুষ দিবো তা তো নয় তাই না!কিছু কিছু উত্তর হয়তো জানার দরকার হয়না কিংবা নিজ থেকে জেনে নিতে হয়”(বুশরা)

বুশরা চলে যায়।জায়িন বসে থাকে।সেখান থেকে কিছুটা বা’দিকে তাকালেই ছোট একটা পুকুর।পরিষ্কার করা হয়না বিধায় কচুরিপানায় ভরপুর। দৃষ্টি সেদিকে নিক্ষেপ করে অনেক কিছু ভাবে।মুচকি হেসে উঠে দাঁড়ায়। বিড়বিড় করে বলে ওঠে,

-“রিনি তুমি আমার ভালোবাসা সত্যিই হয়তো ছিলে না।মোয়াজ ভাই ঠিকই বলে যে ভালোবাসলে তাকে না পেলেও কখনো ভুলা যায় না। কিন্তু দেখো মাত্র কয়েকসপ্তাহ আমি তোমায় পুরোপুরি না ভুললেও একটু হলেও ভুলেছি.”

জায়িনের চোখ ছলছল করছে।বেচারা কতটা কষ্ট নিয়ে কথা বলছে বোঝাই যাচ্ছে।হয়তো ওর কথা ঠিক কিংবা ঠিক না! ভালোবাসা হোক কিংবা ভালো লাগা সেই ব্যক্তির জন্মদিন,নাম,নাম্বার, কথাগুলো,অপমান কিছুই ভুলা যায় না।যারা ভুলে যায় তারাও কোথাও না কোথাও মনে রাখে।

৯৩.
আদালত চত্বরে আজ মোয়াজ এসেছে।প্রিয়তমাকে আজ সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবে। ইদানিং মেয়েটার শরীর খারাপ যাচ্ছে।খেতে গেলেও বমি আসলে দৌড়ে যায়।শরীরটা ওর বড্ড দূর্বল।তাইতো আজ বেঁধে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে।মারিয়াম ভাবীও তো ক্যাম্পে চলে গেলো কাল ভোরেই‌।

-“এই তুমি এখানে কি করছো?”(তৃষ্ণা)

-“প্রেম করতে এসেছি। সুন্দর একটা মেয়ে দেখে প্রেম করিয়ে দেও তো”(মোয়াজ)

-“শয়তান ছেলে বউকে এইসব কি বলছো!মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবো”(তৃষ্ণা)

একসময় দুইজন বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলো।তারপর প্রণয় এবং তারপর বিয়ে।তাইতো মাঝে মাঝে হাসি ঠাট্টা চলে তাদেরও। বন্ধু তো তাই নয়কি!মোয়াজ তার প্রেয়সীর রাগ দেখেও আনন্দিত হয়।এই মেয়েটার সাথে সে গত দুইবছর ধরে সংসার করছে।সংসারে ঝড় উঠলেও তা কখনো দীর্ঘতা লাভ করতে দেয়নি ওরা।

হসপিটালে দীর্ঘক্ষণের লাইন অতিক্রম করে গাইনিকোলজিস্টের কাছে এসেছে ওরা।এখানে এসেও বমি বমি লাগছে তৃষ্ণার।তার ধারণা যদি ঠিক হয় তবে পৃথিবীতে নতুন প্রাণের আগমন ঘটবে হয়তো।

সব শুনে এবং চেকআপ করে পজিটিভ কথা বলেন ডক্টর।তবুও সিওরিটির জন্য একবার টেস্ট করতে বলেন।মোয়াজ পারলে এখনই তৃষ্ণাকে কোলে নিয়ে দুই চক্কর লাগায়। রেজাল্ট পজিটিভ আসে। হসপিটাল থেকে তিনঘন্টা পর বের হয় ওরা।

-“তৃষ্ণা আজ আমি অনেক অনেক অনেক খুশি।এতো খুশি হয়তো আমি তোমাকে পাবার মুহূর্তে হয়েছিলাম। ধন্যবাদ তোমাকে আমার জীবনটা রাঙিয়ে দেবার জন্য”

-“মোয়াজ তোমাকে ধন্যবাদ আমাকে সংশয় সম্পূর্ণ নারী করার জন্য।আমার অতীতের মতো ভীতু আমিকে তুমি সাহসী করেছিলে, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলে।আমি সহসা বাঁচতে চাই তোমায়,আমায় এবং আমাদের পুচকিকে নিয়ে”

৯৪.
সন্ধ্যা হয়েছে অনেকক্ষণ।আকাশের চাঁদের দিকে মেহের তাকিয়ে আছে। আর তারই পাশে মনমরা হয়ে জারিন বসে আছে।সারিম দুবাই গিয়েছে দিন দুয়েক‌ হলো।বিজনেসের জন্যই বউ রেখে এদিক ওদিক যেতে হয় এই ভাইদেরকে।

-“আর কতক্ষন এভাবে থাকবি?”(মেহের)

-“ভালো লাগছে না”(জারিন)

-“চল রাত করে একটু ঘুরে আসি রিক্সায় করে।”(মেহের)

-“তীব্র ভাইয়ের ধমক ইদানিং কম খাচ্ছিস নাকি?আজ সিলেট যাওয়ার আগে কি বলে গিয়েছে!”(জারিন)

মেহের মনে করে তীব্রর কথা।বাসায় ব্যবসার কথা বলে গেলেও প্রকৃত অর্থে সে তো গিয়েছে হসপিটালের খোঁজে।ফেসের সার্জারি হয়েছে ওখানে।আর তাও যে একবছর আগে তার খবর পেয়েছে তীব্র।এখন দেখবার পালা লোকটাকে যে সার্জারি করেছে। তাইতো লোকের মাধ্যমে আর না ঘাটিয়ে নিজেই গেলো!যদি মুবাস্সির আদনানের চেহারার মানুষটা ছদ্মবেশী হয় তবে কে সে আর কিই বা তার উদ্দেশ্য??

-“কিরে কোথায় হারিয়ে গেলি?”(জারিন)

-“কোথাও না।সারিম ভাইয়ের সাথে কথা হইছে?”(মেহের)

-“না”(জারিন)

-“কল দিয়ে দেখ।তোর জামাই হয়তো তোর কলেরই অপেক্ষায় “(মেহের)

জারিন মেহেরকে ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ দেখে দোলনা থেকে উঠে গ্রিলের কাছে যায়।ফোনে কিছুক্ষণ টেপাটেপি করে কল লাগায়।মেহের হাসে।মেয়েটাও না!মেহের নিজেও কিছু একটা ভেবে কল লাগায় তীব্রকে।কল ঢোকে তবে রিসিভ হয় না।চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ে মেহেরের।

৯৫.
সন্ধ্যা করেই হসপিটালে এসেছে তীব্র। উদ্দেশ্য সত্যিটা জানা। নিজের লোকটার সাথেও দেখা করেছে। ছেলেটা এই হসপিটালেরই স্টাফ।তাইতো এতো সহজে জানতে পারা।এই হসপিটালের প্রথম ফেস সার্জারি ছিলো ওইটা। তাইতো এতো দ্রুত খুঁজে বের করা গেলো।

-“সব রেডি তো?”(তীব্র)

-“জি ভাইয়া।এই নিন আমার কোট আর আইডি।এগুলো দিয়েই ইনফরমেশন রুম অব্দি যেতে পারবেন।মুখে মাস্ক রাখবেন কিন্তু”(ছেলেটা)

-“হুম।তুমি যাও তাহলে “(তীব্র)

ছেলেটা হসপিটালের ব্যাক ইয়ার্ড দিয়ে বেরিয়ে যায়।ওপাশ দিয়ে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই।তাই চিন্তা নেই ওর। আর তীব্র?সে সুন্দর মতো প্রস্তুত হয়ে নেয়।আজ এসপার ওসপার করেই ছাড়বে সে।ভালো মতোই ফুল অফ এটিটিউড নিয়ে সে চার তলায় চলে যায়।একপাশে স্টাফ রুম তো আরেকপাশের একদম শেষদিকের রুমে ইনফরমেশন কালেক্ট করে রাখা হয়েছে।

তীব্রকে কেউ একজন ফলো করছে।তীব্র যদিও উপলব্ধি করতে পারছে তবে পেছন ফিরে সে কাউকেই দেখছে না।বারবার ব্যর্থ হচ্ছে বুঝতে যে তাকে সত্যিই কেউ ফলো করছে কিনা!

তীব্র ইনফরমেশন রাখা রুমে ঢুকতেই আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে লোকটা।কাউকে ফোন লাগায়।স্ক্রিনে নাম সেভ করা ‘বস’ দিয়ে।বলে ওঠে,

-“বস ওই ছোকড়া এখন হাসপাতালেই আছে।খাল্লাস করে ফেলবো নাকি!”

-“খাল্লাস করতে পারলে কর।নয়তো এমন হাল কর যে ওই ছেলে যেন আর উঠে দাঁড়াতে না পারে”(ফোনের ওপাশ থেকে)

৯৬.
রাত নয়টা।মাহিন আর মারিয়াম একসাথেই বাড়ি ফিরেছে।মুবাস্সির আদনান তখন কাউকে ব্যগ্রভাবে ফোন দিচ্ছিলেন।তাকে যে চিন্তিত লাগছিলো।মাহিন এগিয়ে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান তিনি।ওদেরকে জানান আজ তিনি রান্না করেছেন। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসতে।যেন একসাথে খেতে পারেন সবাই।

-“মারিয়াম যাও দ্রুত ফ্রেশ হয়ে আসো”(মাহিন)

-“তুমি চাইলে তুমিও যেতে পারো।একটু বিশ্রামের প্রয়োজন”(মারিয়াম)

-“কোনো কথা না।যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।দ্যান খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমাবা।আমি আরেক রুমে যাচ্ছি”(মাহিন)

-“হুম”(মারিয়াম)

আধাঘন্টা পর একসাথেই নিচে আসে দুইজন। আড়চোখে দুইজন দুইজনকে দেখছে বারবার।কি একটা কাজ হয়ে গেলো!মাহিন তো আরেক রুমে গোসল করতে গিয়েছিলো তাই মারিয়াম দরজা চাপিয়ে কোনমতে শাড়ি পড়ে চুল শুকাচ্ছিলো।আর তখনই কি কার্ড দিয়ে দরজা খুলে মাহিন রুমে ঢোকে।লজ্জায় মারিয়াম ওয়াসরুমে দৌড় দেয়।আর মাহিন?সে তো মারিয়ামকে ওয়াসরুমের দরজায় বারি খেতে দেখে হেসে গড়িয়ে পড়ে।

-“মারিয়াম মা কোনো সমস্যা?”(মুবাস্সির আদনান)

-“না, না আংকেল।”(মারিয়াম)

-“তাহলে খেতে শুরু করো।আর মাহিন তুমিও খেতে শুরু করো।”(মুবাস্সির আদনান)

চলবে কি?