দো দিলে জাহান পর্ব-২৯ এবং শেষ পর্ব

0
113

#দো_দিলে_জাহান
#শেষ_পর্ব্
#বর্ষা
৯৭.
রাতে অভুক্ত ঘুমানোতে পেটের ভেতর ইঁদুর দৌড়াচ্ছে মারিয়ামের।মাহিনকে আস্তো এক পাগল মনে হচ্ছে ওর।প্লেটে পানি ঢালতে গিয়ে কেউ খাবারে পানি ঢালে!মারিয়াম খেয়াল করেছে ইদানিং মাহিন অনেক বেশিই ফোনে আসক্ত।এমনকি মারিয়ামের আগে কাজ শেষ হলেও তাকে আরো কাজ দিয়ে বসিয়ে রাখে।কয়েকটা পেশেন্ট ধরিয়ে দেয়।মারিয়াম ভাবছে সে কি মাহিনের হসপিটালে এসে ভুল করলো নাকি!আর মাহিনই বা এমন করছে কেন!

-“এই নেও কফি আর স্যান্ডউইচ”

ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হতেই মাহিন হাজির।টেবিলে কফির কাপ আর স্যান্ডউইচ রাখা।মাহিন বানিয়েছে কি?মাহিন তার জন্য ব্রেকফাস্ট বানিয়েছে!বিনা বাক্যব্যয়ে খাবারে হাত লাগাতে নিলে মাহিন অতি নিকটে এসে মারিয়ামের কপালে উড়ো উড়ি করা চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে দেয়।মারিয়াম আশ্চার্য্য দৃষ্টিতে তাকায়।মাহিন অস্বস্তিতে পড়ে যায়।সরে এস বলে ওঠে,

-“খেয়ে নেও।আমি রেডি হয়ে আসি।একসাথেই বের হবো”

মাহিন দ্রুত কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে।তবে সেকেন্ড কয়েকবাদেই বেরিয়ে আছে।সে তো সকালে উঠেই গোসল করে রেডি হয়েছে।মারিয়াম বারান্দায় কাপড় দেখে তা আন্দাজ করে নেয়।মাহিনের অবস্থা ভেবে হেসে দেয়।

-“আমি..আসলে আমি সকালে গোসল করেছি।ভুলে গিয়েছিলাম। তৃষ্ণাকে দেখে হাসপাতালে যাবো”(মাহিন)

মিনিট দুয়েকের রাস্তা পেরিয়ে তালুকদার বাড়িতে উপস্থিত হয় মাহিন-মারিয়াম। তৃষ্ণা তখন সোফায় বসে আছে।বাড়ির গিন্নিরা তাকে কোনো কাজে হাতও লাগাতে দিচ্ছে না।বাড়ির প্রথম নাতির আগমন বলে কথা।

-“এই তৃষ্ণা খেয়ে নে মা।দ্রুত জুস ফিনিস কর।রুটি খেয়েছিস তো?”

তান্মি বেগম ব্যস্ততার মাঝেই জিজ্ঞেস করে।গতকাল বিকেলেই দেশে ফিরেছেন ওনারা।পনেরোদিন মেয়ের কাছে ছিলেন।মেয়েটাকে এতোদিন পর দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন।রেখে আসতে যেন মনটা মানছিলো না।

-“ছোট মা এখনই তো পরে যেতে…”

উল্টো দিকে যেতে গিয়ে পরে যেতে নেন তান্মি বেগম।মাহিন ধরে ফেলে।চিন্তিত হয়। জিজ্ঞেস করে,”ছোট মা কি হয়েছে তোমার? অসুস্থ কি? প্রেশার ফল করেছে কি”

-“আরে বাপ একটু শান্ত হো।কিছু হয়নি।মেয়েটার কথা চিন্তা করছিলাম তাই তোকে খেয়াল করিনি।আর তাই পড়ে যেতে নিয়েছিলাম”(তান্মি)

-“আমার মেয়েটা সেই যে তূর্যয়ের মৃত্যুর পর বাড়ি ছাড়লো আর ফিরলো না।আর মাহিনটাও তো তিনদিনে একবার আসে।”(রাবেয়া বেগম)

মাহিনের দিকে চায়ের কাপ এগিয়ে দেয়।রাবেয়া বেগম কেমন করে যেন সবসময়ই মাহিনের আসার কথা জেনে যান।ওর প্রিয় দুধ চা দেন।মারিয়ামের দিকেও এগিয়ে দিয়ে তৃষ্ণার পাশে বসেন।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে মাহিন আর মারিয়ামের দিকে তাকান।বলে ওঠেন,

-“মাহিন তৃষ্ণা মা হয়ে যাচ্ছে।তোরাও নাহয় বেবি প্ল্যান কর।একসাথে দুইটা বেবি হলে হেসে খেলে বড় হয়ে যাবে”

মাহিন -মারিয়াম দুইজনই লজ্জা পায়। সামনাসামনি যে এভাবে বলবে ভাবেনি কখনো ওরা।তাই লজ্জা পাওয়াটা একটু বেশিই হলো যেন।তখনই মাহিনের ফোন বেজে ওঠায় সাইডে সরে আসে সে।তীব্রর ফোন।কথা বলতেই হবে।তবে ওপাশ থেকে বলা কথার জন্য যেন সে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলো। মাহিন সংক্ষেপে জাস্ট বললো,”আচ্ছা,দ্রুত আয়”

৯৮.
প্রায় বারো ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়েছে।রাত নয়টা বাজে।মুবাস্সির আদনানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তীব্র,মেহের,মাহিন এবং প্রশাসনের কয়েকজন।যারা মূলত তীব্ররই লোক।মুবাস্সির আদনানের পাশাপাশি জুয়েল রানাকেও বেঁধে রাখা হয়েছে পাশের চেয়ারটাতে।মেহের স্তব্ধ শুনে যে এই লোক একজন ফেইক পারসন।একজন মানুষের রুপ এখন অন্য কেউ নিতে পারছে।এমন তো কঠিন নয় যে তারও সত্তা কেউ ছিনিয়ে নিবে না!

গরম পানির প্রভাবে শরীর জ্বলে উঠতে চিৎকার করে ওঠে জুয়েল রানা আর মুবাস্সির আদনান।মুবাস্সির আদনান পরিস্থিতি বুঝে চিৎকার করে সাহায্য চান মাহিনের কাছে।ওরা সবাই সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আছে।চাইলেও ওদের টিকিটিও করতে পারবেন না মুবাস্সির আদনান।

মাহিন রাগান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করে,”কেন অভিনয় করলেন আমার সাথে মিষ্টার জাবির ফারহান!”

মুবাস্সির আদনানের রুপধারী জাবির ফারহান চমকে ওঠেন।মাহিন কি করে জানলো বুঝতে পারেন না।তবে এতুটুকু বোঝেন যে তার খেলা শেষ।এখন আর নতুন করে খেলা সাজালেও তার রেহাই নেই।তীব্রর হাতে ধরা পড়েছে সে।তবে তীব্র কিভাবে জীবিত!!!তার তো লাশ হয়ে থাকার কথা।

-“আপনি বলতে শুরু করবেন নাকি আমি আপনার কালো অধ্যায়ের বিশ্লেষণ করবো!”

তীব্রর হুমকিতে কেঁপে উঠলেও নিজেকে শেষবার ডিফেন্স করার চেষ্টা করেন তিনি।এটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ালো ওনার।মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া প্রতিটা মানুষের শেষ পরিণতিই যেন মৃত্যু।ওপর থেকে ফুটন্ত তেল পরে জাবির ফারহানের মাথার ওপর।ঝলসে যায় পুরো শরীর।চিৎকার করতে করতে চেয়ার নিয়েই পড়ে যায়।আর তার কিছুক্ষণ পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে!

ভয়ে থরথরিয়ে কাঁপতে থাকে জুয়েল রানা।আমতা আমতা করে অনেক কিছুই বলে দেয়।আর তীব্র বাঁকা হাসে সেই সব কথা শুনে।জাবির ফারহানকে তুলে নিয়ে যেতে বলে দুইজনকে।লোকটার জান এখনো আছে।এতো দ্রুতই কি প্রজন্ম ধ্বংসকারী মানুষকে হত্যা করা যায় নাকি!!

-“তীব্র এসব কি করে জানলে তুমি?কি করে জানলে মুবাস্সির আংকেল নয় এই লোক?আর কি করেই জানলে এই লোকটার সাথে এমপি জুয়েল জড়িত?”

মেহেরের প্রশ্ন প্রশস্ত হাসে তীব্র।এই মেয়ের ধৈর্য নামক বস্তুটার বড্ড অভাব আছে।সবসময় তাড়াহুড়োয় থাকে।জুয়েল রানাকে চোখের ইশারায় নিয়ে যায় প্রশাসনের লোক।সাথে আছে টেপ রেকর্ডিং।নিজের দোষগুলো স্বীকার করেছেন। কুঠিবাড়িগুলোর ঠিকানা নিজেই বলেছেন। অবশ্য সেগুলো ডিলেট করতে বলা হয়েছে। কেননা তীব্র চায়না মেয়েগুলো সামনে আসুক।ওরা যদি সামনে আসে তাহলে হয়তো আর কখনো সমাজের সামনে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে না।

সমাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।সভ্যতার উন্নয়ন ঘটেছে।তবে কিডন্যাপ করে কিংবা শশুরবাড়ি থেকে বিক্রিত মেয়েগুলোকেও দোষারোপ করা হবে বিনা দোষে।যারা চায়নি খারাপ পেশায় জড়াতে তবুও প্রাণের দায়ে জড়িয়েছিলো তাদের বাঁচাতেই তীব্রর সামান্য প্রয়াস আরকি।

-“চলো বাড়ি যাই।তারপর তোমায় বলবো।”

রাত দশটার দিকে বাড়ি পৌঁছে গোসলখানায় ঢুকে যায় মাহিন।মারিয়াম তালুকদার বাড়িতেই আছে।বেচারা একাই এসেছে এ বাড়িতে।আর তীব্র তার স্ত্রীকে নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে গিয়েছে‌।বাসায় ফিরে কোনো মতে ফ্রেশ হয়ে নেয় দুইজনে।মেহেরের ভেতর এখনো কেমন যেন গা গুলিয়ে যাওয়া একটা ভাইব আসছে।এখনো মনে পড়ছে জাবির ফারহানের দেহ থেকে কিভাবে চামড়া খসে পড়েছিলো!!

গাড়িতে থাকা অবস্থায় তীব্র সব খুলে বলেছে মেহের আর মাহিনকে।তীব্রর অপর যে এটাক হয়েছে সেটাও তীব্র বলেছে।তবে কিভাবে বেঁচেছে তা বলেনি।শেষে শুধু বলেছে,

-“জাবির ফারহান হলেন মুবাস্সির আংকেলের কলেজ লাইফের বন্ধু। একজন চিকিৎসক।ড্রাগ বিআইএর আবিষ্কারক। বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে আত্মগোপন করেছিলো।এমনকি মুবাস্সির আংকেলের হত্যার পেছনেও জাবির আছেন।এইসব আমি কিভাবে জানলাম যদি জানতে চাও তবে বলবো আমার লোকসংখ্যা বড্ড বেশি।খবর বের করতে তাই সময় লাগেনি।যারা ওনার হয়ে কাজ করেছিলো একসময় তারাই টাকার গন্ধ পেয়ে সব শর্ত ভুলে সত্য উগলে দিয়েছে।তূর্যয়ের খুনের পেছনে কে আছে তা এখনো অজানা। তবে মনে হয় ওরই কোনো শত্রু ওকে মেরে ফেলেছে।বাকিরা নিজেরাও জেলে গিয়েছে”

(জীবনে ঘটমান বহু কাছের তথ্য থেকে আমরা বঞ্চিত হই। যদিও তা চোখের সামনেই হোক না কেন!আমরা সবসময় জানতে পারিনা সবকিছু এটাই বাস্তবতা।তাই অনেক কিছুই অজানা রয়েছে।কেন ক্লিয়ার করা হলো না এটা জিজ্ঞাসা করে নিজেকে এবং আমাকে বিব্রত করবে না।আমরা সবই অজানা নিজেদের পার্শ্ববর্তী মানুষটার পূর্ণাঙ্গ কাজকর্ম,জীবন পরিচালনার করার কৌশল সম্বন্ধে।যখন তারা কিছু বলে তাই আমরা তাদের জীবন ভেবে নেই)
৯৯.
সাতমাস পর,,,,

হসপিটালের করিডোরে এপাশ ওপাশ করেই চলেছৈ তালুকদার বাড়ি লোকেরা। তৃষ্ণার প্রসব বেদনা শুরু হয়েছে।অনেক কমপ্লিকেশনের কারণে এতো দ্রুতই এমন হওয়া। অবশ্য এতো দ্রুত বলা যায় না। তৃষ্ণা সাড়ে আটমাসের গর্ভবতী নারী।এইতো কিছুক্ষণ আগেই ওটিতে নেওয়া হয়েছে তাকে।

মোয়াজ কান্না করছে।আর আল্লাহ আল্লাহ করছে।ভালোবাসার মানুষটার চিৎকার এখনো ওর কানে বাজছে।কতটা ভালোবাসলে একজন পুরুষ তার প্রিয়ের ব্যথায় কাঁদতে পারে!!

ঘন্টার মাঝেই নার্স এসে বেবি কোলে দেয়।জানায় ছোট সোনাটা ছেলে বাবু।মোয়াজ ছেলে কোলে নিয়েই স্ত্রীর কথা জিজ্ঞেস করে।নার্সের মুখটা একটুখানি হয়ে যায়।মোয়াজ প্রচন্ড ভয় পায়। তবে নার্স বলে,
-“চিন্তা করবেন না এখন কিছুটা ঠিক আছে।তবে কমপ্লিকেশনের জন্য সমস্যা হতে পারে তাই আজকের দিনটা আইসিইউতে রেখে পরে কেবিনে সিফট করা হবে।”

মেহের ভাতিজাকে দেখে চুম্মা খায়। আদর করে দেয়।কত কথাই না বললো মেহের।তবে বাচ্চাটা ঘুমে।মোয়াজ যখন জানায় ওরা সন্তানের নাম ঠিক করেনি। ভেবেছিলো সাততম দিনে আকিকার সময় নাম দিবে।জন্মের সাতদিনের মধ্যে ভেতর নাম খুঁজবে।এই কথা শুনে মেহের কাউকে নাম রাখতে দেয়নি।বলেছে সবাইকে,
-“খবরদার কেউ ওর নাম রাখবে না। ওর মা ওকে নয়মাস পেটে রেখেছে।নাম তো ওর মা’ই রাখবে।ওর বাবা তো নাম রাখছে না,সেহেতু কেউ কোনো উল্টাপাল্টা নাম রাখবা না”

মেহের গিয়ে তৃষ্ণার সাথে দেখা করে এসেছে।একটাও পরপুরুষকে মেহের যেতে দেয়নি তৃষ্ণার কাছে। কেননা এই সময়ে মেয়েটা বড্ড এলোমেলো থাকবে। নার্সের সাথে কথা বলে মেহের একজনকে‌ ঠিক করেছে তৃষ্ণা সব সাহায্যের জন্য। আইসিইউতে তো আর ঘনঘন ঢুকতে পারবে না ওরা। তখন যদি মেয়েটার কিছু প্রয়োজন হয় তখন!

কেবিনে বসে বেবির সাথে তীব্র খেলছে। বাচ্চা ওর বড্ড প্রিয়।মোয়াজ গিয়েছে তৃষ্ণার জন্য খাবার আনতে।বাড়ির মানুষেরাও চলে গেছে সবাই।এখন আর কাজ কি তাদের। কাল আসবে আবার।রয়ে গেছে শুধু তীব্র, রাবেয়া বেগম,মেহের,জায়িন,মারিয়াম।মাহিন তো অপারেশনে ঢুকেছে।মারিয়াম অবশ্য তৃষ্ণার সার্জারিতে ডক্টর জামানকে সাহায্য করেছিলো।

-“মেহের..”(তীব্র)
-“হুম”(মেহের)
-“আমার না একজনকে চাই।”(তীব্র)
-“কাকে?”(মেহের)
-“আমাদের বেবিকে”(তীব্র)

নিজের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট সোনামনির কাঁথাগুলো একজায়গায় রাখছিলো মেহের।তীব্রর কথা শুনে ফটাফট উপরে তাকায় সে। মারিয়াম ওদের কথা শুনে মিটিমিটি হাসছে।আর মেহের তো লজ্জায় শেষ।

সাতদিন পর,,,

তৃষ্ণা মোটামুটি সুস্থ।বাড়ি ভর্তি মেহমান।সবার ধ্যান জ্ঞান নুকতার ওপর। তৃষ্ণা যেন সামনে থেকেও অদৃশ্য।তবুও সবাই বাচ্চাটার নাক,কান,চোখ কার মতো হলো এই নিয়ে জাজ করতে বসেছে।মোয়াজ তো রাবেয়া বেগমের সাথে এই নিয়ে রাগারাগী করেছে।পরে আকিকার পশু জবাইয়ের ওখানে চলে গেছে।

মেহেরের সহ্য হয়নি ভাবীর অবজ্ঞা।আজ ভাবীর সাথে হচ্ছে কাল যে ওর সাথে হবে না তার মানে কি!সবার এতো জাজমেন্ট কেন করতে হবে!সবার সামনে থেকে বাচ্চাকে নিয়ে তৃষ্ণার কাছে চলে যায় মেহের।সবাই অনেক অবাক হয়।মেহের দেখেছে তৃষ্ণা এখনো অব্দি নিজের সন্তানের দিকে দুদন্ড স্থিরভাবে তাকাতে পারিনি।রাতে পেরেছে কিনা ওর জানা নেই।নুকতা রাতে ঘুমায় দিনে জাগে তাই তৃষ্ণা আর মোয়াজের জালা কম।

-“ভাবী আমাদের নুকতা সোনা একদম তোমার আর ছোটদা ভাইয়ের প্রতিচ্ছবি হবে।দেখো!তোমার দু’জন ওকে মানুষের মতো মানুষ করবে ”

তৃষ্ণা মেহেরের গালে হাত স্পর্শ করে।এই মেয়েটার কারণেই এত তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে উঠেছে। সাতদিনের চারদিন তো তৃষ্ণার সাথে ওই ছিলো।প্রথম দুইদিন আইসিইউতে ছিলো সে। অবস্থা খারাপের দিকে চলে গিয়েছিলো।তারপর একটু সুস্থ হবার পর না কেবিনে দিলো।

এরই মাঝে তান্মি বেগম আরেক খুশির খবর দিলেন।তোয়া নাকি প্রেগন্যান্ট।কথাটা শুনে সবাই যতটা খুশি,ঠিক ততটাই চিন্তিত।একেতো একাকী থাকে,তারওপর বাচ্চাকাচ্চা হলে দুইজন কি সামলাতে পারবে নাকি!!তবে সবাই আনন্দের সহিত খবরটা গ্রহণের চেষ্টা করলো।মেহের কল দিলো তোয়াকে।তোয়ার খোঁজ খবরের মাঝে নুকতাকেও দেখালো।নুকতার পুরো নাম তাজমান তালুকদার নুকতা।

এরই মাঝে রেদওয়ান বাড়ির লোকরাও চলে আসে।ছেলেকে নয় বরং ছেলের মা’কে স্বর্ণের চেইন দেয়। ছেলেদের তো স্বর্ণ কিংবা অলংকার পড়া নিষিদ্ধ তাই ছেলের মা’কেই উপহার দেওয়া।ছেলের মা এখন পড়বে। ভবিষ্যৎ এ ছেলের বউ পড়বে।এমনটা ভেবেই এই স্বর্ণ -অলংকার গিফট করে সবাই।

১০০.

“সাতবছর পর”

সাতবছরের এই লম্বা সময়টা খুব একটা সহজ ছিলো না।উত্থাল পাতালের পরেই আজকের এই সুন্দর সময়টা।অনেক রহস্য নিয়েই তাদের জীবনের বিশাল এই সময়টা অতিক্রম হয়েছে। পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে মোবারক তালুকদার।বেড়ে উঠেছে কয়েকটি জান।আজ তোয়া আসছে বাংলাদেশে।ছুটে করে দুইতিনবার এসেছিলো।তবে বেশিদিন থাকতে পারেনি।তবে এবার লম্বা ছুটিতে আসছে

তালুকদার বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ। রেদওয়ান বাড়ির সকলে উপস্থিত। জুনায়েদ তালুকদার আর জায়িন গিয়েছে তোয়া আর ওর টুইন বেবি মাহা আর তিতাসকে আনতে।মাহা আর সানায়া দুইজন হয়েছে ওদের ভাইদের চোখের মনি।সানায়া হচ্ছে মেহের আর তীব্রর ছোট সোনা। মারিয়াম -মাহিনের ছেলে তাকসির আর তাকওয়া। একজনের পাঁচ বছর আর আরেকজনের দুই বছর। তৃষ্ণা-মোয়াজের দুই ছেলে নুকতা আর নিশাত।

জিয়ান এখনো বিয়ে করেনি।ওর বিয়ের কারণেই সবার আবারো একত্রিত হওয়া।সাতবছরের অন্তরে জিয়ান বিয়ে করতে রাজি হয়েছে।তবে শর্ত দিয়েছে বিয়ে যদি করতেই হয় তবে বুশরা নামক পাগল রমনীটাকেই করবে সে।যেই মেয়েটা তাকে ভালোবেসে এখনো অবিবাহিত।তাকে কি করে কেউ ভুলে নতুন করে শুরু করতে পারে!

সবশেষে সবাই সুখী হয়েছে।নূরিয়া ভালো হয়ে গেছে।বিয়েশাদী আর করেনি। নিজের প্রফেশন থেকেও বেরিয়ে এসে ছোটখাটো স্কুলে চাকরি করছে আর শশুরবাড়িতেই আছে।তানিয়া আপু বছরে দুইএকবার আসে এখন।আর ফুফা ফুফিও মেনে নিয়েছে তাকে এখন।জারিন-সারিম বেশ আছে।বছর দুই হলো স্পেনে তারা।ব্যবসা সূত্রে চলে যাওয়া।ছেলে নিয়ে বেশ আছে ওরা।রোমানও একদম বাবা-মায়ের মতোই হয়েছে।মিষ্টি বাচ্চাটা।

সমাপ্ত….