প্রিয় আসক্তি পর্ব-০৩

0
177

#প্রিয়_আসক্তি🔥
তিতলী
পর্ব,,,৩

❤️❤️❤️❤️❤️

পিয়ুস বিভার হাত ধরে টেনে ছাদ থেকে নেমে ওর রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
রাগে শরীর কাঁপতে থাকে পিয়ুসের চোখে যেনো আগুন ঝরবে এখনই।
পিয়ুসের হঠাৎ আচরণ বদলে যাওয়ার কারন বুঝতে পারছে না বিভা।
ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করে,,,

:-কি হয়েছে পিয়ুস ভাইয়া?? আপনি হঠাৎ আমাকে টেনে কেনো আনলেন??

বিভার দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।

:-আছে থেকে তোর ছাদে যাওয়া বন্ধ। ভুল করেও যদি ছাদে পা দিয়েছিস তো তোর পা ভেঙে রেখে দেবো বলে দিলাম। মাইন্ড ইট।

পিয়ুসের রাগের কারনটা বুঝতে পারেনা বিভা।

:- কিন্তু কেনো সেটা তো বলবেন!!

:- কেনো সেটা কি এখন তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে?? আমি বলেছি যখন যাবি না তখন যাবি না ব্যাস।

এবার বিভার একটু রাগ হয়। কারন ছাড়াই তাকে ছাদে যাওয়া আটকানোর মানে কি!! বললেই হলো যাবো না। বিভা গলায় একটু জোর এনে বলে।

:- যাবো। অবশ্যই যাবো। কেনো যেতে নিষেধ করছেন বলতে না পারলে যাবো।

বিভার কথা গুলো পিয়ুসের রাগের আগুনে ঘি ঢালার মতো হলো। বিভার দুই বাহু শক্ত করে খিচে ধরে একদম কাছে টেনে নেই। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

:- কেনো ছাদে গিয়ে আসেপাশের আশিকদের কে তোর এই ঝলসানো রুপ দেখাতে যাবি?? সবাই উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখবে সেটা তোর খুব ভালো লাগে তাই না?? রুপ দেখাতে খুব মজা লাগে তোর??

বিভা পিয়ুসের আচরণে হতবাক হয়ে যায়। বিষ্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে থাকে পিয়ুসের দিকে। নিমিষেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। এরকম কথা বলতে পারলো পিয়ুস তাকে??ও আবার কাকে নিজের রুপ দেখিয়ে বেড়ালো। এই কথা গুলোই বা বলছে কেনো? আর এতোটা কাছে ধরে রাখাতে বিভা যেনো শ্বাস নিয়ে ভুলে গেলো। অদ্ভুত ভাবে মোচড় দিয়ে উঠলো বুকের ভেতর। গলায় কান্না দলা পাকিয়ে যায়।চোখ থেকে যেনো এখনি টুপ করে অশ্রু ঝরে পড়বে।কন্ঠ দিয়ে কোনরকম শব্দ বের করে ভাঙ্গা গলায় জিজ্ঞাসা করে,,

:- কিক..কি বল-ছেন এসব আপনি?? আমি কাকে রু.রুপ দেখিয়ে বেড়িয়েছি??

:- কেনো তখন যে পাশের বাসার ছেলেটা ছাদে দাঁড়িয়ে তোর দিকে তাকিয়ে হাসছিল বার বার। কেনো? কি কারণে তোর দিকে তাকাবে সে?? তোকে কেনো দেখবে?? কেনো তাকাবে তোর দিকে ?? বল!!!

অবাক হয়ে যায় বিভা।বড় বড় চোখ করে তাকায় পিয়ুসের দিকে।সামান্য এই কারণে পিয়ুস এতো রেগে গেলো??
কে না কে তার দিকে তাকিয়েছে সে কি করে বলবে!!
সে নিজে তো আর তাকায়নি। তাতে পিয়ুস কেনো রেগে গেলো!! তার মানে কি,,,,জেলাস!! মনে মনে পুলকিত হয় বিভা। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই বলে

:-, আপনি কি বলছেন এসব?? কে তাকাচ্ছিলো আমি কি করে জানবো??আজব। আর তাকালেই বা। আপনার কি সমস্যা তাতে??

:-আমার কি সমস্যা মানে?? তুই কি,,, কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায় পিয়ুস। ততক্ষণে স্বাভাবিক হয়ে বলে তুই আমার কাজিন। প্রিয়তার মতো তোর খেয়াল রাখা বিভোরের মতো আমারো দায়িত্ব। তোদের সাথে কোন ভুল হলে সেটা ঠিক করা আমাদের দায়িত্ব।

পিয়ুস হাত আলগা করে ছেড়ে দেয় বিভা কে।তারপর গটগট করে হেঁটে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

রাত ৯:৪৫

বিভা টেবিলে বসে পড়ছে আর প্রিয়তা ব্যালকনিতে গ্রিলে মাথা ঠেকিয়ে অপলক তাকিয়ে আছে চাঁদের দিকে।
পিয়ুস সন্ধ্যায় চলে গেছে। আজ থাকার প্ল্যান থাকলেও বাড়ি থেকে ফোন এসেছিল বাবার ঔষুধ শেষ হয়ে গেছে। প্রিয়তার বাবা আদনান হামিদ প্রেশারের রোগী। তিনি নিয়মিত প্রেশারের ঔষধ সেবন করেন। বাবার মেডিসিন নিয়ে বাসায় যেতে হবে তাই পিয়ুস আর থাকে না। সন্ধ্যায় বিদায় নিয়ে চলে যায়। সেই থেকেই প্রিয়তার মন খারাপ।
বাবা মায়ের কথা বড্ড বেশি মনে পড়ছে।

এমন সময় বিভোর আসে প্রিয়তাদের রুমে। বিভাকে পড়তে দেখে আসেপাশের নজর বোলায়। প্রিয়তা কে দেখতে না পেয়ে ভ্রু কুঁচকে যায়। পরক্ষনেই জানালার থায় গ্লাসের মধ্যে দিয়ে ব্যালকনিতে নজর যায়। বিভার দিকে তাকিয়ে বলে,,

:-বইভআ যা তো মা তোকে ডেকেছে। বিভা বিনা বাক্যব্যয়ে রুম থেকে বেরিয়ে মায়ের রুমের উদ্দেশ্য বেরিয়ে যায়।
বিভোর আলতো পায়ে হেঁটে ব্যালকনিতে যায়। প্রিয়তা এখনো পর্যন্ত বিভোরের উপস্থিতি টের পায়নি। আস্তে করে প্রিয়তার কাঁধে হাত রাখে বিভোর।

আচমকা কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়ে চমকে ওঠে প্রিয়তা। পেছনে তাকিয়ে বিভোর কে নজরে আসে। ওমনি হৃদযন্ত্র টা প্রচন্ড গতিতে চলতে থাকে। কাঁপা গলায় বলে,,

:- বিভোর ভাইয়া আপনি!!

:- হ্যাঁ আমি। এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন এভাবে?
মন খারাপ কেনো??

:-কই মন খারাপ নয়। এমনই দাড়িয়ে আছি।

:- আমাকে বোঝাতে হবে না। তোকে তোর থেকেও বেশি জানি আমি। মামা মামীর কথা মনে পড়ছে??

ছলছল চোখে বিভোরের দিকে তাকায় প্রিয়তা। তারপর মাথা নিচু করে নেয়। যার অর্থ হ্যাঁ। একটু পরেই টুপ করে ঝরে পড়ে অশ্রু।
বিভোর প্রিয়তার দিকে এরেকটু এগিয়ে গিয়ে দু হাতের তালুতে উঁচু করে প্রিয়তার মিষ্টি মুখ টা। বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে অশ্রু মুছে হালকা হেসে বলল,,

:- সন্ধ্যায় বললে পিয়ুসের সাথে যেতে পারতিস। কাল ফ্রাইডে ছিলো। একদিন বাবা মায়ের সাথে কাটিয়ে আসতিস।

প্রিয়তা অবাক হয়ে তাকায় বিভোরের দিকে। বোঝার চেষ্টা করে আসলেই এই কথা টা বিভোর বললো কিনা। কারন প্রিয়তার ওবাড়িতে ঘনঘন যাওয়া নিয়ে যদি কারো আপত্তি থাকে সেটা একমাত্র বিভোরের। যতবার যাওয়ার কথা বলে বিভোর কোন না কোন বাহানা দিয়ে তার যাওয়া আটকে দেয়। আর আজ নিজে নিজেই বলছে যাওয়ার কথা।
বিভোর প্রিয়তার মুখের দিকে তাকিয়েই ওর মনের কথা বুঝতে পারে। হালকা মুচকি হেসে বলে,,,

:- হা করে তাকিয়ে আছিস কেন?? আই নো আ’ম হ্যান্ডসাম,,তাই বলে তুই ডেপ ডেপ করে তাকিয়ে গিলে খাবি??

বিভোরের কটাক্ষ করা শুনে হতভম্ব প্রিয়তা। কোন সিচুয়েশনে কি বললো বিভোর। কথাটা মনের মধ্যে প্রতিধ্বনি হতেই লজ্জায় লাল হয় প্রিয়তার মুখ। মনে মনে ভাবে (কি নির্লজ্জ কথাবার্তা। বিভোর ভাইয়া মজাও করতে জানে!! বাবা গো বাবা)

:- কি ভাবছিস প্রিয়??

আবারো বিভোরের প্রিয় ডাকে থমকে যায় প্রিয়তা। কি যেনো একটা থাকে এই ডাকে। অদ্ভুত অনুভূতি তে ছেয়ে যায় প্রিয়তার মন। বিভোর কেনো এতো বিমোহিত কন্ঠে এই নামে ডাকে তাকে!!!

প্রিয়তার জবাব না পেয়ে বিভোর প্রিয়তার হাত ধরে টেনে কাছে নিয়ে আসে। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার উপক্রম হয় প্রিয়তার। বড় বড় চোখ করে তাকায় বিভোরের দিকে।
বিভোর কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রিয় তার মুখের দিকে,, বিভরের এই নেশা ধারণা দৃষ্টিতে মিইয়ে যায় প্রিয়তা। বিভরের দৃষ্টি প্রিয় তার সারা মুখে বিচরণ করছে।
প্রিয়তার ডাগর চোখ,,ঘন পাপড়ি অশ্রুতে ভিজে ভিজে একটার সাথে আরেকটা লেগে আছে। স্নিগ্ধ লাগছে দেখতে। বিভোর হারিয়ে যায় প্রিয়তার চোখে। এমন সময় চোখ পড়লো প্রিয়তার তিরতির করে কাঁপতে থাকা গোলাপী ঠোঁটের দিকে। দিশেহারা হয়ে ওঠে বিভোরের মন। কন্ঠনালীতে দেখা দেয় পানির অভাব। শুকনো ঢোক গিলে বিভোর। হুট করেই প্রিয়তাকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। প্রিয়তা এখনো হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিভোরের আচরণ তার মাথার উপ্রে দিয়া গেল 😄😄

এদিকে বিভোর রুমে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে দুহাতে নিজের চুল টেনে ধরে। নিজেকে শান্ত করে বিড়বিড় করে,,,

:- কন্ট্রোল ইউর সেল্ফ বিভোর। কি করতে যাচ্ছিলি তুই বিভোর। আর কিছুক্ষণ প্রিয়তার সামনে দাঁড়ালে নির্ঘাত নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বসতো সে।

:-উফফ,,,কি হচ্ছে কি এগুলো আমার সাথে। কেনো প্রিয়তার সামনে গেলে বেকাবু হয়ে পড়ছি দিনদিন। এত বছর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি আর কয়েকটা মাস অপেক্ষা করতে এতো অস্থিরতা কেনো!!
বিভোর ফ্লোরে হাটু গেড়ে বসে পড়ে। প্রিয়তার জন্য তার মনের মধ্যে সাজিয়ে রাখা পাহাড় সম অনুভূতি গুলো গলতে শুরু করেছে। প্রিয়তার সামনে সেগুলো যেন ছুটেফুটে বেরিয়ে আসতে আন্দোলন শুরু করে দেয়।
নাহ আর কয়েকটা মাস তাকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। ফ্লোর থেকে উঠে ওয়াশরুমে ঢুকে যায় বিভোর।

কয়েক দিন পর,,,ইন অফিস
________________________

বিভোর তার নিজের কেবিনে বসে কাজ করছিলো ।এমন সময় বিভোরের পিএ অয়ন দরজায় নক করে। অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে জানাই তারেক মির্জা এসেছে। বিভোরের সাথে দেখা করতে চাই।
বলাই বাহুল্য তারেক মির্জার একটা ৯০ তলা বিল্ডিং কন্সট্রাকশন এর কাজ করছে বিভোরের আন্ডারের কিছু ইন্জিনিয়ার।
এই কনস্ট্রাকশনের কাজটা বিভোরদের কোম্পানির জন্য একটি প্লাস পয়েন্ট। অনেক বড় অ্যামাউন্ট এর ডিল ছিলো এটা। কনস্ট্রাকশনের কাজ প্রায় শেষের পথে। এই মুহূর্তে মিস্টার মির্জার অফিসে আগমনের কারণ ঠিক বোধগম্য হলো না বিভোরের।

কিছুক্ষণ পর তারেক মির্জা বিভোরের কেবিনে প্রবেশ করে।
বিভোরকে দেখেই হাসতে হাসতে বলে,,

:- হ্যালো মিস্টার বি.কে!! ওয়েল ডান!! সত্যিই আপনাদের কাজের প্রশংসা করতে হয়। ভাবতে পারছেন ৯০ তলা বিল্ডিং এর একটা প্লটও খালি নেই। সবগুলো তৈরি হওয়ার আগেই বিক্রি হয়ে গেছে।

এতক্ষণের আটকে রাখা নিঃশ্বাস সাড়ে বিভোর। ভাবছিল আবার কোথায় কি গড়বড় হলো।
বিভোর হেসে কনগ্রাচুলেট করে তারেক মির্জাকে।

:- তো মিস্টার মির্জা চা নাকি কফি??

:-আরে মি. বি. কে!! চা কফি তো চলতেই থাকবে।
একচুয়ালি আজকে আমি এখানে এসেছি অন্য প্রয়োজনে।

ভ্রু কুঁচকে যায় বিভরের।

:-ঠিক বুঝলাম না মি, মির্জা!!

:-হাহাহা,,,আসলে হয়েছে কি মিস্টার বি.কে আপনাদের কাজ যে এত নিখুঁত কি বলবো। ৯০ তলা বিল্ডিং এর গ্রাউন্ডফ্লোড ছেড়ে প্রত্যেকটা ফ্লোরে পাঁচটা করে ফ্ল্যাট যা তৈরি হওয়ার আগেই বুকড হয়ে গেছে। তো যাদেরকে আমরা প্লট দিতে পেরেছি,এছাড়াও অনেক নামিদামি মানুষ আছে যাদেরকে আমরা প্লট দিতেই পারিনি। তাই বলতে চাইছিলাম যে তাদের চাহিদা অনুযায়ী যদি আর দশ তলা বাড়ানো যেতো!!

বিভোর অবাক চোখে তাকায় তারের মির্জার দিকে।

:- নো নো মিস্টার বি কে!! অ্যামাউন্ট নিয়ে আপনি ভাববেন না। ১০ তলার জন্য আমি এনাফ এমাউন্ট সাজেস্ট করবো আপনার জন্য!!

মিস্টার তারেক মির্জার মতলব জেনে মাথা গরম হয়ে যায় বিভোরের। বিভোর খান কে টাকা দেখাচ্ছে!!
বিভোর যথেষ্ট মাথা ঠান্ডা রেখে বলে,,

:-দেখুন মিস্টার মির্জা কথা এখানে টাকার নয়! একটা বিল্ডিং বানাতে হলে মাটির ওপরে যতটা বাড়বে মাটির নিচের ভিতটাও ততটা শক্ত করতে হয়। আর আপনার কনস্ট্রাকশন এর কাজ যেটা করা হয়েছে সেটা ৯০ তলার জন্যই উপযুক্ত। সেখানে দশ তলা কেন ১০ ইঞ্চিও বাড়ানো অসম্ভব!! দেখুন ডক্টর, পুলিশদের মত আমাদের আর্কিটেকচার দেরকেউ কসম খেতে হয়!! আমাদের সামান্য একটা ভুলের কারণে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ যেতে পারে।আপনার অফার গ্রহণ করা সম্ভব নয় মিস্টার মির্জা!!

বিভোরের কথা শুনে বাঁকা হাসেন তারেক মির্জা। বলেন,,

:- আহা মাথা গরম করছেন কেনো মিষ্টার বি কে। আপনারা আর্কিটেক্টরা চাইলেই কিছু সময় এদিক ওদিক করতেই পারেন। এতে দুজনেরই ফায়দা হচ্ছে। তাছাড়া আমরা কোথায় থাকতে যাচ্ছি ওখানে।

তারেক মির্জার মন-মানসিকতা দেখে মাথায় আগুন ধরে যায় বিভোরের। বিভোর সামনের টেবিলে হাতের জোরে থাবা দিয়ে বলে,,

:- দেখুন মিস্টার মির্জা। বিভোর খান কখনো টাকার কাছে বিক্রি হয় না ।আপনার আমার সাথে কাজ করে এতদিনের ধারণা হওয়া উচিত ছিলো ।বিভোর খান তার সততা নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করে। টাকা দিয়ে এই বিভোর খানকে কেনা যায় না।
কয়েকদিনে আপনার কনস্ট্রাকশন এর কাজ শেষ হয়ে যাবে সাথে আমাদের ডিলও শেষ। আপনি এখন যেতে পারেন।

বিভোরের কড়া কথায় অপমানিত বোধ করেন তারেক মির্জা। বলেন,,

:-ভেবে দেখতে পাচ্ছেন মিস্টার বি.কে!! কাজটা আপনি না হোক অন্য কেউ নিশ্চয়ই করে দেবে। সে ক্ষেত্রে আমি আমার প্রয়োজন অবশ্যই মেটাবো। গতকাল চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রির এমডি নাহিদ চৌধুরী আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তারা নিজেরাই অফার দিয়েছে কাজটা করে দেবে। কিন্তু আমি আপনাকে ভরসা করেছিলাম। এখন দেখছি নাহিদ চৌধুরীকেই হায়ার করতে হবে।
বলেই শয়তানি মার্কা হাসি দিয়ে বেরিয়ে যান তারেক মির্জা।

বিভোর অবাক হয় এদের মন মানসিকতা দেখে। কতটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজটা, অথচ টাকার কাছে বিবেকবোধ বিক্রি করে ফেলেছে এরা ।সামান্য দুর্ঘটনায় কত শত মানুষের প্রাণ যেতে পারে সেটা একবারও এরা ভাবে না।
বিভোর ঠিকই বুঝতে পারে গত দিলটা হাতছাড়া হয় চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রি ক্ষেপে আছে তারই প্রতিশোধ নিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নাহিদ চৌধুরী ।
বিভোরকেই কিছু একটা করতে হবে।আটকাতে হবে এই ভয়াবহ অন্যায় কাজটাকে। বিভোর কাউকে একটা ফোন করে কিছু বলে তারপর একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বেরিয়ে আসে অফিস থেকে।

আজ প্রিয়তার ভার্সিটিতে বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ভার্সিটির চারপাশ রঙিন কাগজ ফুল ইত্যাদি দিয়ে সুন্দর করে ডেকোরেশন করা হয়েছে। বিভা প্রিয়তার সাথে অনুষ্ঠানে যাবে বলে সেজেগুজে বসে আছে। বিভা একটা বাসন্তী কালারের শাড়ি পড়েছে। শাড়ি পড়ার মোটেও ইচ্ছে ছিলো না প্রিয়তার। সামলাতে কষ্ট হয়। কিন্তু রিয়ার জোর করাতে পড়েছে।রিয়াও করেছে বাসন্তী কালারের শাড়ি।

রিয়া প্রিয়তাকে দেখে বলে,,,

:- ওয়াহ,,কিয়া আইটেম লাগ রাহে হো জানু।

:- ছি!রিয়া মুখের ভাষা ঠিক কর!!

:- সত্যি বলছি প্রিয়ু তোকে দারুন লাগছে। ভার্সিটিতে আজকে কত ছেলে মাথা ঘুরে পড়ে যাবে সেটাই আমি ভাবছি। বলেই বিভা আর রিয়া হাসতে থাকে।

তিনজনে সেজেগুজে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। বিভোরের জরুরী কাজ থাকায় আজক বাড়ির ড্রাইভার ওদেরকে ভার্সিটিতে ড্রপ করে।

ভার্সিটিতে ঢুকেই চারপাশের মনোরম দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায় প্রিয়তাদের। আশেপাশে ঘুরে ঘুরে সাজানো দেখতে থাকে ওরা।
এর মাঝে কয়েকটা ছেলে ফলো করে ওদের। ওদের মাঝে একজনের নাম রাকিব। ভার্সিটিতেই অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ে। প্লেবয় বলে ভীষণভাবে পরিচিত ভার্সিটিতে। বড়লোক বাপের বখে যাওয়া ছেলে। ভার্সিটিতে এমন কোন মেয়ে নেই যাকে সে উত্ত্যক্ত করেনি। বেশ কয়েকদিন ধরেই প্রিয়তার পেছনে পড়েছে। কয়েকদিন ডিস্টার্ব করলেও বিভোর কে কথাটা জানাতে পারেনি প্রিয়তা ভয়ে। বিভোর শুনলে আবার কি করবে তার ঠিক নেই। ঝামেলা চায় না বলে চুপচাপ থেকেছে প্রিয়তা। আর সেটাকেই প্রিয়তার দুর্বলতা ভেবেছে রাকিব।
বন্ধুদের নিয়ে প্রিয়তাকে ইশারা করে বদমাইশি হাসি দিয়ে বলে,,
:- আরে দেখ আমার পাখিকে আগুন লাগছে আগুন।
বলেই সবগুলো হাসতে থাকে।
প্রিয়তারা ওদের কথা শুনে না শোনার ভান করে চলে আসে।

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সাথে সাথেই সবাই প্যান্ডেলে জায়গা দখল করে বসে পড়ে সামনের শাড়ির কয়েকটা শাড়ি পেছনেই প্রিয়তারা বসে।

অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুষ্ঠানের চিপ গেস্ট এসে উপস্থিত হয়। পরপর কয়েকটা গাড়ি ভার্সিটির ভেতরে প্রবেশ করে। দ্বিতীয় গাড়িটার দিকে চোখ আটকে যায় প্রিয়তার। বিভার হাত শক্ত করে ধরে বলে,,

:-বিভা এটা তো বিভোর ভাইয়ের গাড়ি!! তার মানে কি বিভোর ভাইয়াই চিপ গেস্ট হিসেবে ইনভাইটেড!!

পরক্ষণেই বিভোর আর পিয়ুস একসাথে গাড়ি থেকে নেমে আসে। সবাই তাদেরকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়।
তার মানে এরা দুজনই চিফ গেস্ট হিসেবে আমন্ত্রিত। বিভা তো পিয়ুষের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। ব্লু কালারের সুট প্যান্ট, ব্ল্যাক কালারের সু, হাতে হোয়াইট ওয়াচ, চুলগুলোর স্টাইল করে সেট করা । একদম কিলার লুক।

বিভা বুকের বাম পাশে হাত চেপে ধরে বিড়বিড় করে বলে হাই !!! মে তো মার গেয়া,,,, বেহুশ হো গিয়া!! কই বাচালো মুঝে!!🥴🥴

এদিকে প্রিয়তার চোখ আটকে আছে বিভোরে। সবুজাভ বিড়াল চোখে ব্ল্যাক সানগ্লাস,,হোয়াইট শার্টের উপরে অ্যাশ কালারের স্যুট ,অ্যাস কালারের প্যান্ট, বরাবরের মতো ফেব্রিট ব্ল্যাক লোফার সু, হাতে এস কালারের রিস্ট ওয়াচ, বাম কানে ছোট্ট একটা ব্ল্যাক স্টোনের ইয়ারিং, জেল দিয়ে সুন্দর করে সেট করা সিলকি চুল। পরপর কয়েকটা শুকনো ঢোক গিলে প্রিয়তা।
আশেপাশে তাকিয়ে দেখে ভার্সিটির প্রায় সব মেয়েরা চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে বিভোর আর পিয়ুসকে। এভাবে বিভোরের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অন্তরটা জ্বলে ওঠে প্রিয়তার। কেন যেন ভীষণ রাগ হতে থাকে।
( কেন রে ভাই এত সেজে আসতে হবে কেন!!নিজের কিলার মার্কা লুক দিয়ে মেয়ে পটাতে এসেছে, নাকি অনুষ্ঠানে এসেছে বুঝতে পারে না প্রিয়তা। এরকম জামাই সেজে আসার কি দরকার। রাগের গজগজ করে বিড়বিড় করতে থাকে প্রিয়তা।
এদিকে বিভা পিয়ুষের দিকেই তাকিয়ে আছে আশেপাশের কোন খেয়াল নেই।

অনুষ্ঠান পুরোদমে শুরু হতে আস্তে আস্তে স্যারেরা বক্তৃতা দিতে শুরু করে। তারপর একে একে অন্যান্য অতিথিরা বক্তৃতা দেয়।
বিভোর অতিথিদের মাঝে বসেই সামনের স্টুডেন্টদের দিকে চোখ বুলাই। প্রায় সব মেয়েরাই তাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে। বিভরের সেদিকে কোন খেয়াল নেই। তার চোখ খুজছে বিশেষ কাউকে। কয়েকবার আশেপাশে তাকাতেই চোখ পড়লো কাঙ্খিত মুখটার উপরে। প্রশান্তিতে ভরে যায় মন। কিছুক্ষণ অপলকে তাকিয়ে থাকে।
কয়েক সারি পেছনেই প্রিয়তা বিভা আর রিয়ার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। সেই হাসি মুখের দিকেই মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে বিভোর।
এরপর পিয়ুষ অল্প কিছু কথা বলেই নিজের জায়গায় গিয়ে বসে। তারপর বিভোরকে কিছু বলার জন্য রিকোয়েস্ট করা হয়।বিভোর ডেস্কের দিকে এগিয়ে যায়।

বিভোর ভার্সিটিকে তার কিছু মূল্যবান কথা উপহার দেয়। তারপর আবার নিজের জায়গায় গিয়ে বসে ।অজান্তে চোখ চলে যায় প্রিয়তা যেখানে বসেছিল সেখানে। তাকিয়েই ভ্রু কুঁচকে যায় বিভোরের। প্রিয়তা কোথায় গেলো !!এখানেই তো ছিলো একটু আগে।বিভা আর রিয়া বসে আছে। প্রিয়তার জায়গা খালি। কিছু একটা ভেবে বিভোর এক্সকিউজ মি বলে স্টেজ থেকে নেমে আসে।
সে দেখেছিল প্রিয়তা শাড়ি পরেছে। ওর তো শাড়ি সামলাতে সমস্যা হয়। তাহলে কি ওয়াশরুমের দিকে গেছে। কিছু একটা ভেবেই ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায় বিভোর।

এদিকে শাড়ির কুচি ঠিক করতে করতে ওয়াশরুমে ঢুকে প্রিয়তা।বিড়বিড় করে বকে রিয়াকে।
:- আমি বলেছিলাম শাড়ি পরে সামলাতে পারবো না!! এখন কুচিটা খুলে যাচ্ছে ।কি করে ঠিক করবো!! উফফ আর পারিনা,,
ওয়াশরুমে ঢুকে কুচি ঠিক করে ঘুরে দাড়াতেই রাকিবকে দেখে আঁতকে ওঠে প্রিয়তা।
দরজার সামনেই দরজা আটকে দাঁড়িয়ে আছে রাকিব। ঠোঁটে শয়তানি মার্কা হাসি।

প্রিয়তা মনে মনে প্রচন্ড ভয় পেলেও মুখে জোর এনে বলে,,

:-এটা কি ধরনের অসভ্যতা ভাইয়া। এভাবে দরজা আটকে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো?? সরুন আমি যাবো।
বলে আসতে নিলেই খপ করে প্রিয়তার হাত ধরে রাকিব। পাশের দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বিশ্রী হাসি দিয়ে বলে,,

:-আরে পাখি দাঁড়াও দাঁড়াও এই তো এলাম এখনই যাওয়ার এত তাড়া কিসের!!আগে আমাকে একটু ইন্টারটেইন্ড করো তারপর না হয় যেও!!
প্রিয়তা ছোটার জন্য ছটফট করতে থাকে। হাত মোচড়া মুচড়ি করতে থাকে প্রিয়তা।

:-ছাড়ুন ছাড়ুন বলছি আমাকে। আমি কিন্তু চিৎকার করবো।

:- চিৎকার করবে করো। নিষেধ করেছে কে!! কিন্তু অনুষ্ঠানের মাইকের আওয়াজে তোমার কন্ঠটা এই রুমের বাইরে যাবে না। আর অনুষ্ঠান ছেড়ে এদিকে কেউ আসবেও না তাই সময় নষ্ট না করে আমাকে সময় দাও বেবি।

অসহায় লাগে প্রিয়তার। একা একা ওয়াশরুমে আসার বোকামির জন্য নিজেকেই কয়েকটা গালি দিতে মন চাচ্ছে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পড়ছে টুপটাপ। এদিকে ছোটার জন্য ছটফট করেই যাচ্ছে।
এমন সময় রাকিব প্রিয়তাকে ঠেসে ধরে প্রিয়তার ঠোঁটের দিকে এগিয়ে আসতে নিলেই প্রিয়তা জোড়ে ধাক্কা দিয়ে রাকিবের গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয়।
এতেই রাকিব ক্ষেপে যাই দ্বিগুণ। আগুন চোখে প্রিয়তার দিকে তাকিয়ে প্রিয়তাকে হেচকা টানে ভাঙা একটা বেঞ্চের উপরে ঠেসে ধরে। প্রিয়তা জোরে চিৎকার করে ওঠে।

এদিকে বিভোর ওয়াশরুমের কাছে এসে কাউকে পাইনা। ওয়াশরুমের দরজাও বন্ধ। তাই দেখে ফিরে আসতে নিলেই চাপা একটা চিৎকার শুনতে পাই। আওয়াজটা শুনেই বিভরের শির দাঁড়া বেয় ঠান্ডা স্রোত নেমে যায়। এটাতো প্রিয়তার গলা। চকিতে পেছন ঘুরে ওয়াশরুমের দরজায় লাথি মেরে ভেঙে ফেলে বিভোর চোখের সামনে ভেসে ওঠে ভয়াবহ দৃশ্য।

বিভোরের মাথায় আগুন ধরে যায়। ছুটে গিয়ে রাকিবের মাজা সোজা জোরে লাথি দেয়। আচমকা প্রচন্ড লাথিতে ছিটকে পড়ে যায় রাকিব।
বিভোর দ্রুত গিয়ে প্রিয়তাকে টেনে তোলে। প্রিয়তা কেঁদে কেটে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। কাজল লেপটে ঘেমে একাকার হয়ে গেছে মেয়েটা। প্রচন্ড ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। বিভোরকে চোখের সামনে দেখেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দেয়।

বিভোরের বুকে যেন হাতুড়িপেটা করছে। আর একটু দেরি হলে কি হতো ভাবতেই আতঙ্কে বুক শুকিয়ে আসছে বিভোরের। প্রিয়তাকে বুক থেকে টেনে তুলে রাকিবের দিকে এগিয়ে যায়। রাকিবের কলার টেনে উঁচু করে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকে পেটে আর মুখে।
দেখতে দেখতে রাকিবের ঠোঁট মুখ ফেটে রক্ত ছিটকে বেরিয়ে আসে।
মারতে মারতে প্রায় আধমারা করে ফেলেছে বিভোর। বেঞ্চের সাথে ঠেসে ধরে হুঙ্কার দিয়ে বলে,,

:- তোর সাহস হয় কি করে আমার প্রিয়র গায়ে হাত দেয়ার। হাউ ডেয়ার ইউ! তোর হাত আমি ভেঙে দেবো।
বলেই রাকিবের দুই হাত মুছরে ধরে। রাকিব গগনবিদারী চিৎকার করে ওঠে ।ভয়ংকর চিৎকারে ভারী হয় আশপাশ।

তাতেও যেন রাগ কমে না বিভোরের। রাকিবের গলা টিপে ধরে বলে,,
:- তোর সাহস দেখে আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি ।তোর বুক থেকে কলিজাটা টেনে বের করতে আমার এক মিনিটও সময় লাগবে না ।তোর সাহস কি করে হলো আমার কলিজায় হাত দেয়ার।
ঠিক তখনই সেখানে উপস্থিত হয় পিয়ুস। এসেই পরিবেশ দেখে বুঝে নেই সবটা। দৌড়ে গিয়ে বোন কে আগলে ধরে।
বিভোরকে আসতে দেরি হওয়ায় এদিকে এসেছিলো সে। কল্পনায়ও ভাবেনি এরকম ভয়ানক ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে। প্রিয়তা কোনরকমে পিয়ুসকে বলে,,

:-ভাইয়া বিভোর ভাইয়াকে আটকাও নয়তো মেরে ফেলবে ওকে।

পয়ুসও ব্যাপারটা খেয়াল করে। বিভোরের অবস্থা বুঝতে পারে পিয়ুস ।ওকে এখন না আটকালে রাকিবকে মেরেই ক্ষান্ত হবে বিভোর।এরকম কিছু ঘটলে ব্যাপারটা অন্যদিকে মোড় নেবে। তাই পিয়ুস এগিয়ে এগিয়ে বিভোরকে টেনে সরিয়ে আনে। তারপর বলে,,

:- তুই প্রিয়তাকে দেখ !!আমি এর ব্যবস্থা করছি। বলেই রাকিবকে টেনে তুলে বাইরে নিয়ে চলে যায়।

এতক্ষণে বিভোর প্রিয়তার কাছে এগিয়ে যায়।দ্রুত এগিয়ে গিয়েই প্রিয়তাকে শক্ত করে বুকের সাথে ঝাপটে ধরে।
প্রিয়তা আবারও ঝরঝর করে কেঁদে দেয়।
কিছুক্ষণ বুকের সাথে চেপে ধরে রেখে আবার প্রিয়তাকে সামনে এনে দুহাতের আজলে প্রিয়তার মুখ তুলে ধরে বলে,,,

:- আর কোন ভয় নেই প্রিয়,, কোন ভয় নেই,, আর কাঁদিস না। কিছু হয়নি। বাপ ব্রেথ প্রিয়।
বলে আবারও বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়।

প্রিয় তাও বিভোরকে আঁকড়ে ধরে যেন নিশ্চিন্ত হয়ে নিঃশ্বাস নেয়। পরম শান্তিতে আবেশে চোখ বন্ধ করে থাকে।

চলবে,,,,,