প্রেমের তাজমহল পর্ব-২+৩

0
151

#প্রেমের_তাজমহল
#পর্ব২
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

রাতের আঁধার কাটিয়ে ধরণী এখন সেজেছে নতুন রঙে। শুক্রবার দিনটা সবাই বাসায় থাকে। আনায়া গভীর ঘুমে মগ্ন। পাশ থেকে ফোনটা বিকট শব্দে বেজে উঠল। আনায়া হাতড়ে ফোনটা নিয়ে নিভু নিভু দৃষ্টিতে স্ক্রিনে চাইল। “বেস্ট ফ্রেন্ড” নামটা জ্বলজ্বল করছে। আনায়া ফোন রিসিভ করে কানে ঠেকাল।
“এখনো ঘুমাচ্ছিস?”

আনায়া ঘুম ঘুম কণ্ঠে উত্তর দিল,
“হুম। বল কি বলবি?”

“আজকে বিকেলে আমারদের সব স্কুল ফ্রেন্ডদের নিয়ে একটা মিট আপ রাখা হয়েছে। অনেক দিন সবার সাথে দেখা হয় না। তাই ভাবলাম সবাই মিলে দেখা করা যাক। তুইও যেহেতু দেশে ফিরেছিস”

“ঠিক আছে। আমি চলে আসবো। তুই আমাকে লোকেশন ম্যাসেজ করে দিস”

আনায়া উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নামল। নিচে নামতেই ওর চক্ষু চরক গাছ। ড্রয়িং রুমে সোফায় অর্ণব বসে আছে। আনায়া অর্ণবকে এই সময় ওদের বাসায় দেখে কিছুটা অবাক হলো। ড্রয়িং রুমে কেউ নেই। আনায়া এগিয়ে গেল অর্ণবের দিকে।
“আপনি এই সময় আমাদের বাসায়?”

অর্ণব ফোনে মগ্ন ছিলো। আকস্নাৎ এক রমণীর মিষ্টি স্বর শুনে সেদিকে চাইল।
“আসতে মানা আছে নাকি?”

“মানা নেই কিন্তু”

অর্ণব ফোনটা পকেটে গুঁজল। দুহাত পকেটে গুঁজে আনায়ার দিকে আগালো। সামনে দিকে আগাতে আগাতে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল আনায়ার পানে। পর্যবেক্ষণ শেষে ঠোঁটে ফুটে উঠল বাঁকা হাসি। আনায়া অর্ণবকে নিজের দিকে আগাতে দেখে পিছাতে লাগল। পিছনে যেতে যেতে এক পর্যায়ে সিঁড়ির হাতলের সাথে ওর পিঠ থেকে গেল। পিছনে যাওয়ার জায়গা নেই। অর্ণব আনায়ার খুব কাছে আসে থামল। দুজনের মাঝে দুই ইঞ্চির মতো ফাঁকা।
অর্ণব নেশালো চোখে ওর পানে চেয়ে বলল,
“তোমাকে অনেক হ*ট লাগছে। তোমার চোখ ধাঁধানো হটনেসে আমার নেশা ধরে যাচ্ছে”

আনায়া নিজের দিকে দৃষ্টিপাত করলো। ওর পরনে ফিটিং একটা টিশার্ট আর টাউজার। আনায়া জিভ কাটলো।নিচে নামার আগে গাঁয়ে ওড়না জড়াতে ভুলে গিয়েছে। ও কি ভেবেছিল নাকি এই অসভ্য লোকটা এই সময় এখানে থাকবে। দুই হাত সামনে ক্রস করে রেখে নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করল। অর্ণব ওর কাণ্ডে হেসে দিল। একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“যা দেখার তা তো দেখেই ফেলেছি। এখন ঢেকে লাভ কি?”

আনায়া লজ্জা মরি মরি অবস্থা। মনে মনে ইচ্ছে মতো অর্ণবকে বকছে। এই অসভ্য লোকটা আসার আর সময় পেল না। সাথে নিজেও কয়টা গা*লি দিল নিজের বোকামোর জন্য।
“মনে মনে আর কতো বকবে আমায়?”

আনায়া ভাবনা ছেড়ে অর্ণবের দিকে চাইল। ধরা পড়ে যাওয়ার পরও বুজতে দিতে চাইল না।
“আপনাকে বকতে যাবো কেন? আমার আর কাজ নেই বুঝি”

অতঃপর অর্ণবকে হাল্কা ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে বলল,
“দূরত্ব বজায় রেখে চলুন”

“তুমি আমার ভবিষ্যত বউ, তোমার সাথে দূরত্ব রাখলেই কি আর না রাখলেই কি?”

“আপনার মতো অসভ্য লোককে আমি, এই সেহেরিশ আনায়া কোনো দিনও বিয়ে করবোনা”

“সেটা তো দেখাই যাবে”

“আপনি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখেন। আর আমি আপনার সামনে অন্য কারো বউ হয়ে চলে যাবো”

“বউ তুমি একমাত্র আশিয়ান সিকদার অর্ণবের হবে। কথাটা মাথায় গেথে নাও মেয়ে”

আনায়া কথা না বাড়িয়ে কিচেনের দিকে যেতে নিল। পিছন থেকে অর্ণব ডেকে উঠল,
“আগে ওপরে যেয়ে গাঁয়ে ওড়না জড়িয়ে এসো। বলা তো যায়না আমার মতো একটা ইনোসেন্ট ছেলে তোমার হ*টনেসে ঘায়েল হয়ে কখন উল্টাপাল্টা কিছু করে বসে। তখন কিন্তু আমার দোষ দিতে পারবে না বিকজ আমি একটা ইনোসেন্ট ছেলে”

আনায়া বিড়বিড় করে বলল,
“অসভ্য”

রুমে যেয়ে গাঁয়ে সুন্দর মতো ওড়না জড়িয়ে নেমে টেবিলে খেতে বসল। কিছুক্ষনের মাঝে পরিপাটি হয়ে নিচে নামল আবির। অর্ণবের উদ্যেশে বলল,
“চল দোস্ত”

“শা*লা এতক্ষন লাগে তোর রেডি হতে? মেয়েদেরও তো এর চেয়ে কম সময়ে হয়ে যায়”

“আমার বোন এখনো তোর সাথে বিয়ে দেইনি এখনই শা*লা বলছিস। আর বোন বিয়ে দিলেও আনু আমার ছোটো তাই আমি কোনো ভাবেই তোর শালা হব না। কিন্তু তুই চাইলে তুই আমার শালা হতে পারিস”

অর্ণব আবিরের পিঠে ধুম করে কিল বসিয়ে দিয়ে বলল,
“অসভ্য আমার বাচ্চা বোনের দিকে তুই নজর দিস”

“আমার সাথে তোর বোনের বিয়েটা দে। দেখবি এক বছরের মাথায় তোর বাচ্চা বোনের কোলে কিউট একটা বাচ্চা”

আনায়া এদের দুজনের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না। এরা কি পূর্ব পরিচিত। কথা শুনে মনে হচ্ছে খুব ভালো বন্ধু।
“ভাইয়া তুমি কি এই অসভ্য এমপিকে চেন?”

আনায়ার কথায় আবির ফিক করে হেসে দিল। অর্ণব রাগী চোখে আনায়ার দিকে তাকাল।
“এই অসভ্য এমপি হলো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড”

অর্ণব রাগী কণ্ঠে বলল,
“তুই আমাকে অসভ্য বলছিস কেন? তোর বোন ভালোবেসে আমাকে অসভ্য বলতেই পারে”

বলে আনায়ার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ দিল। আনায়া অর্ণবের দিকে রাগী দৃষ্টিতে নিক্ষেপ করে খাওয়া মনোযোগ দিল।
“এর আগে তো কখনো তাকে আমাদের বাসায় দেখিনি?”

“তুই বাসায় থাকলে তো দেখবি। ওর সাথে আমার স্কুল লাইফে পরিচয়। প্রথমে বন্ধু তার পর বেস্ট ফ্রেন্ড। কলেজ লাইফ শেষে ও বিদেশে চলে যায় পড়াশোনা করতে। ও যখন দেশে ফিরে তার আগে তুই চলে গেলি কানাডা। দেখা হবে কি করে?”

অর্ণব দুস্টু হেসে বলল,
“আমায় আরো আগে দেখতে পাওনি বলে আফসোস হচ্ছে? সমস্যা নেই একবার আমাদের বিয়েটা হয়ে যাক সারাদিন আমাকে তোমার চোখের সামনে দেখতে পারবে যত ইচ্ছে”

“অস*হ্য”

“মুখে তুমি যাই বলো মনে মনে যে আফসোস করছো সেটা কিন্তু আমি জানি”

আনায়া রেগে আবিরকে বলল,
“ভাইয়া তুই তোর অসভ্য বন্ধুকে নিয়ে আমার সামনে থেকে যাবি নাকি আমি এর মাথা ফাটিয়ে দিবো”

অর্ণব কিছুটা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,
“আমার কিছু হয়ে গেলে তোমার কি হবে বলো?”

আনায়া চিল্লিয়ে বলল,
“আপনি যাবেন নাকি আমি আসবো?”

“থাক তোমাকে কষ্ট করে আসতে হবে না। আমাকে বলেই হয় তুমি আমার কাছে আসতে চাচ্ছ। আমি নিজ দায়িত্বে তোমায় কাছে চলে আসবো”

আনায়া রাগে ফেটে পড়ছে। ইচ্ছে করছে লোকটার মাথা ফাটিয়ে দিতে। আবির আশালতা বেগম কে ডেকে বলল,
“মা আমরা যাচ্ছি”

আশালতা বেগম রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে বললেন,
“অর্ণব বাবা দুপুরে না খেয়েই চলে যাচ্ছ”

অর্ণব হেসে আনায়াকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলল,
“শাশুড়ি মা তোমার মেয়েকে আমার সাথে বিয়েটা দেও দেখবে আমি সারাদিন তোমাদের বাড়িতে বসে থাকবো জামাই আদর পাওয়ায় জন্য”

আশালতা বেগম মেয়ের দিকে চাইলেন। মেয়েকে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে বেশি কিছু বললেন না। অর্ণব আর আবির বিদায় নিয়ে চলে গেল।

আনায়া বিকেলে রেডি হচ্ছে। রেডি হওয়া শেষে মাকে বলে বেরিয়ে পড়ল অর্ষার দেওয়া এড্রেসের উদ্দেশ্যে। গাড়ি থেকে নেমে দেখলে একটা রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটা নিরিবিলি পরিবেশে যা আনায়ার অনেক বেশি পছন্দ। আনায়া ভিতরে ঢুকে দেখলে ওর ফ্রেন্ডরা কেউই এখনো আসেনি। রেস্টুরেন্ট এর এক পাশে খোলা জায়গা আছে। আনায়া ভাবল সেখানে যেয়ে দাঁড়াবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আনায়া যখন নিজেতে মত্ত তখন নীরবে কেউ ওর পাশে এসে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো। আনায়া পাশ ফিরে তাকিয়ে বলল,
“আপনি”

#চলবে?

#প্রেমের_তাজমহল
#পর্ব৩
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

“আপনি? এখানে?”

“তোমাকে অনেক মিস করছিলাম তাই চলে এলাম। তুমি এখানে কি করছো?”

আনায়ার মাথায় দুস্টু বুদ্ধি হানা দিল। ও ইশারায় অর্ণবকে কাছে আসতে বলল। অর্ণব কাছে আসতেই মিষ্টি হেসে বলল,
“প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করছি”

“শোনো মেয়ে তোমার জীবনে প্রেমিক বলো আর ভালোবাসাই বলো সব শুধু এক জনই হবে। সে আশিয়ান সিকদার অর্ণব”

হটাৎ আনমনা হয়ে গেল আনায়া। স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠল কিছু স্মৃতি। প্রেমিক? আদোও কি অর্ণব সাহেব তার একমাত্র প্রেমিক হতে পারবে নাকি তার আগেও কারো বিচরণ ছিলো আনায়ার হৃদয়ে? আনায়া অর্ণবের দিকে চাইল। লোকটা ওর দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আনায়া ভেবে পায় না লোকটার এভাবে চেয়ে থাকার কারণ। আনায়া এক ভ্রু উঁচু করে জিজ্ঞেস করল,
“যদি আপনার আগে কেউ প্রেমিক হয়ে থাকে?তখন”

অর্ণব মুখটা আনায়ার কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস কর বল,
“আমি জানি তোমার একজন প্রেমিক ছিলো কিন্তু সে তোমার প্রেমিক হয়েও প্রেমিক না, ভুল মানুষ”

আনায়া অর্ণবের কথায় থতমত খেয়ে গেল। অর্ণব কিভাবে জানলে ওর প্রেমিক ছিলো? তার সম্পর্কে ও আর অর্ষা ছাড়া আর কেউ জানার কথা না। তাহলে? অর্ণব কি আন্দাজে বলছে। হয়তো হতেও পারে।
“আপনি কিভাবে জানলেন সে ভুল মানুষ?”

“তুমি নিজেই একদিন জানতে পারবে”

আনায়া আর মাথা ঘামালো না। দুজনের মাঝে নীরবতা। নীরবে কেটে গেল কিছু মুহুর্ত। আনায়ার জন্য সময়টা অপেক্ষার হলেও অর্ণবের জন্য সময়টা প্ৰিয় মানুষ পাশে থাকার। প্ৰিয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে অনুভব করার। সামনের দিকে তাকিয়ে থেকে আনায়া প্ৰশ্ন করল,
“আপনি আদোও এমপি তো? নাকি ভুয়া এমপি”

অর্ণব আনায়ার প্রশ্নে ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকাল। শেষমেষ মেয়েটা ওকে ভুয়া এমপি বলল। মেয়েটা কি জানে যে ও বিপুল ভোট প্রতিপক্ষ কে হারিয়ে জয়ী হয়েছে? না, জানে না বোধ হয়। জানলে এভাবে বলতো না।
“এরকম মনে হওয়ার কারণ?”

“এইযে সারাদিন আমার পিছু পিছু ঘুরছেন। এমপিদের তো অনেক কাজ থাকে। আপনি সত্যিকারের এমপি হলে নিশ্চয়ই আমার পিছু পিছু ঘুরতেন না”

“তোমার ধারণা ভুল মেয়ে। আমি একজন সংসদ সদস্য। কিন্তু তাই বলে কি আমি তোমার পিছু ঘুরতে পারবো না? দেখতে দেখতে বয়স ত্রিশের কোঠায় পৌউছলো এখন তোমার পিছু না ঘুরলে দেখা যাবে দাদা হওয়ার বয়সে আমাকে বাবা হতে হবে”

আনায়া বিরবির করে বলল,
“অসভ্য”

এর মাঝেই আনায়ার নজর গেল রেস্টুরেন্ট এর গেটের দিকে। ওর ফ্রেন্ডস রা গেট দিয়ে ঢুকছে। আনায়া ওদের দেখে খুশি হলো। যাক অবশেষে ওরা এল।
“আপনি থাকেন। আমার ফ্রেন্ডরা চলে এসেছে”

অর্ণবকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে প্রস্থান করল। আনায়া এক বার পিছু ফিরলে দেখতে পেত একজোড়া আঁখি ওর পানে কতটা মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে আছে।

আনায়া বন্ধুদের সাথে অনেকটা সময় কাটালো। এতদিন পর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে ওর মনটা হাল্কা হয়ে গেল। বন্ধুদের মাঝে অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই একজনের তো বেবিও আছে। বন্ধুদের মাঝে আনায়াই অবিবাহিত বাকি সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। অর্ষার আকদ হয়েছে বিয়ে কিছু দিন পর। অর্ষার এক কথা সে তার বেস্ট ফ্রেন্ড কে ছাড়া বিয়ে করবে না। মেয়েটা আনায়াকে বড্ড ভালোবাসে। আড্ডা চলা কালীন সবাই আনায়াকে এক সাথে হামলা করল,
“বিয়ে করছিস কবে?”

আনায়া ওদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
“খুব তাড়াতাড়ি”

অর্ষা অবাক চোখে তাকাল আনায়ার পানে। তার চোখে প্রশ্ন। সত্যিই কি আনায়া বিয়ে করবে? তাও খুব তাড়াতাড়ি? আনায়া ওকে আসস্থ করল ও অর্ষাকে বলবে। অর্ষা সবার সামনে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।

ডিনারের সময় সবাই যার যার মতো খাচ্ছে। টেবিলে পিন পতন নীরবতা। আনায়া বাবার পাশে বসেছে। আশরাফ সাহেব মেয়েকে বড্ড ভালোবাসেন। ছেলেদের ভালোবাসে না তেমনটা নয়। কিন্তু মেয়ে পাশে বসে না খেলে তার কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। তাই আনায়া সব সময় বাবার পাশেই বসে। হটাৎ আশরাফ সাহেবের কণ্ঠ শোনা গেল,
“আনায়া মা কি ভাবলে?”

“কোন বিষয়ে?”

“অর্ণবের সাথে তোমায় বিয়ের বেপারে”

“ভাবার জন্য আমার কিছু সময় চাই”

আশরাফ সাহেব মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
“তুমি যতটা সময় নিতে চাও নিতে পারো। বাবা হিসেবে আমি বলবো অর্ণব খুবই ভালো ছেলে। বাকিটা তোমার ইচ্ছে। আমি কখনো কোনো বিষয়ে তোমাদের জোর করিনি আর করতেও চাই না। আমি চাই তোমরা খুশি থাকো”

আনায়ার মনটা খুশিতে ভরে গেল। ঠোঁটের কোনো হাসি ফুটে উঠল। ওর নিজেকে অনেক ভাগ্যবতী মনে হয় এরকম একটা সাপোর্টিভ পরিবার পেয়ে।

আনায়া, মাহির, মিহি আর নীলিমা ড্রয়িং রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে। মিহি অর্ণবের ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকে একটা ফটো বের করে আনায়ার সামনে ধরে বলল,
“আপু তুমি না সত্যিই বোকা। নাহলে এতো সুন্দর হ্যান্ডসাম ছেলেকে বিয়ে না করে তাকে ওয়েটিং লিস্ট এ ঝুলিয়ে রাখো। দেখে কি সুন্দর চোখ, জিম করা বডি, চোখে চশমা, ঠোঁটে মুচকি হাসি। হায় এই হাসিতে মা*র গায়ি মেয়”

আনায়া রাগী চোখে মিহির দিকে তাকাল। ধমকে উঠে বলল,
“আমাকে তোর বোকা মনে হয়? থা*প্পড়িয়ে গাল লাল করে দিবো ফা*জিল। আর তোর যদি লোকটাকে এতই ভালো লাগে তাহলে বল কাকাই কে বলে তার সাথে তোর বিয়ের ব্যবস্থা করি”

“আ*স্তা*গফি*রু*ল্লাহ। কি বলো এসব। তাকে তো আমার জিজু হিসেবে ভালো লাগে। আর সে আমাকে না তোমাকে পছন্দ করে। তাইতো সেদিন যাওয়ার আগে তোমার উদ্দেশ্যে চোখ টিপ দিয়েছিলো”

কথাটা বলেই মিহি আর নীলিমা হেসে উঠল। আনায়ার এদের হাসি দেখে গাঁ জ্বলে যাচ্ছে। তাই উঠে নিজের রুমে দিকে হাঁটা দিল। নীলিমা পিছু ডেকে বলল,
“আরে নন্দিনী চলে যাচ্ছ যে?”

মিহি পাশ থেকে টিটকিরি মেরে বলল,
“ভাবি আপু লজ্জা পেয়েছে। দেখোনা ওর গাল লাল হয়ে গেছে”

আনায়া হাঁটা থামিয়ে পিছু ফিরে আরেকবার ওদের দিকে রাগী লুকে তাকাল। অতঃপর ধূপধাপ শব্দ করে নিজের ঘরে চলে এল। আনায়া যেতেই নীলিমা আর মিহি শব্দ করে হেসে দিল।

আনায় ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিল। আলমারির কাছে যেয়ে গুপ্ত জায়গা হতে একটা চিঠি বের করল,

“প্ৰিয় মায়াবতী,
তোমার ওই ঝিল চোখের মায়ায় আমি ডুবতে চাই বারংবার । তোমার ওই মায়াবী চোখ জোড়া আমার বুকে উত্তাল সমুদ্রের ন্যায় ঢেউ সৃষ্টি করে। তোমার ঔ তীক্ষ্ণ চাহনি আমার বুক এফর ওফর করে ফেল। এক অদ্ভুত নেশা জাগে মনে। তোমার নেশা। তুমি কি আমার পার্মানেন্ট নেশা হবে?”

আমি তোমার উত্তরের আশায় রইলাম মায়াবতী

ইতি
তোমার গোপন প্রেমিক

আনায়া চিঠিটা আবার আগের জায়গায় রেখে দিল। চিঠি গুলো পড়লে তার মনে শান্তি লাগে। ও বারবার প্রেমে পড়ে যায় চিঠির। কিন্তু যখনই তার মুখটা চোখে সামনে ভেসে উঠে তখন মনে ঘৃ*ণা জাগে। তিক্ত স্মৃতি ভেসে ওঠে মনের কোণে। ও এই জীবনে মানুষটার মুখোমুখি হতে চায় না।

#চলবে?