প্রেমের তাজমহল পর্ব-৩৬+৩৭+৩৮

0
118

#প্রেমের_তাজমহল
#পর্ব৩৬
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

নিকষ কালো আঁধারে ছেয়ে গেছে ধরণী। আনায়া ব্যালকনিতে পায়চারি করছে। অর্ণব সেই সকালে বেরিয়েছে এখনো আসার নাম নেই। আনায়ার টেনশন হচ্ছে। কিছু হলো না তো? এই পর্যন্ত অনেক বার অর্ণবের নাম্বার ডায়াল করেছে তবে প্রতিবারই একই উত্তর ভেসে এলো। অর্ণবের ফোন সুইচ অফ। আনায়ার চিন্তায় ঘাম ছুটে যাচ্ছে। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে এতক্ষনে। আনায়া অহনার রুমের দরজায় নক করলো। অহনা ঘুমঘুম চোখে দরজা খুলে আনায়াকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
“ভাবি কোনো সমস্যা? এতো রাতে তুমি আমার দরজায় নক করছো। ভাইয়া জানে? ভাইয়া যদি জানতে পারে তুমি তাকে রেখে আমার কাছে ঘুমাতে এসেছো তাহলে কিন্তু আমার খবর করে ছাড়বে”

“তোমার ভাইয়া থাকলে তো কিছু করবে”

“মানে? ভাইয়া কোথায়?”

“তোমার ভাইয়া এখনো আসেনি। টেনশনের আমার মাথা ধরে যাচ্ছে। ফোন করছি ফোন সুইচ অফ বলছে। তোমার ভাইয়ার কিছু হলো না তো?”

অহনা আনায়াকে নিয়ে রুমে বসালো। নিজেও পাশে বসল।
“চিন্তা করো না ভাবি। ভাইয়া হয়তো কোনো কাজে আটকে পড়েছে। এর আগেও অনেক সময় দেরি করে আসতো। আর ফোনের চার্জ হয়তো শেষ হয়ে গিয়েছে তাই ফোন সুইচ অফ। তুমি চিন্তা করো না ভাইয়া চলে আসবে”

আনায়ার মন তবুও শান্ত হচ্ছে না। আনায়া এদিক থেকে ওদিক হাঁটাহাঁটি করছে। অহনা বেচারিও টেনশনে পড়ে গেছে। রাত অনেক হয়েছে এখনো অর্ণব কোথায় রয়ে গেল। দুজনে যখন চিন্তায় মশগুল এমন সময় নিচ থেকে গাড়ির হর্ণের শব্দ ভেসে এলো। আনায়ার কর্ণপাত হতেই ছুটে নিচে নামা শুরু করলো। পিছনে অহনাও এলো। দুজনে নিচে নেমে দেখলো অর্ণব দরজা দিয়ে ঢুকছে। অর্ণবকে দেখে আনায়ার কলিজায় পানি ফিরলো। অর্ণবের ওপর অভিমান হলো। আনায়া ধূপধাপ পা ফেলে উপরে চলে এলো।

অর্ণব বেচারা সবে মাত্র বাড়ি ফিরেছে। ক্লান্ত দেহ, ঘামে চিপচিপে পাঞ্জাবী। এলোমেলো উস্কোখুস্ক চুল, ক্লান্ত মুখশ্রী। অহনার ভাইয়ের প্রতি মায়া হলো। এগিয়ে গিয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি এনে দিলো। অর্ণব ঢক ঢক করে পানি খেল। এখন কিছুটা শান্তি লাগছে।
“এতো রাতে না ঘুমিয়ে জেগে আছিস কোনো? যা ঘুমিয়ে পর, রাত অনেক হয়েছে”

“যার জন্য চুরি করি সেই বলে চোর। তোমার জন্যই তো জেগে ছিলাম”

“আমার জন্য?”

“তোমার জন্য নয়তো কি? এতো রাত হয়ে গিয়েছে তুমি আসছো না ফোনও সুইচ অফ। ভাবি টেনশন করছিলো। আমাকের ডেকে তুলল। তোমার জন্য আমার সাধের ঘুমটা ইন্নালিল্লাহি হয় গেল”

অর্ণব চুল টেনে ধরল অহনার।
“এই জন্যই তো বলি তোর মতো শাক’চুন্নি আমার জন্য রাত জাগবে এটাও মানা যায়। তা আমার মহারানী কোথায়? তাকে দেখছি না তো?”

অহনা এদিক ওদিক তাকালো। আনায়াকে খুঁজে পেল না। কোথায় গেল? ওর আগেই তো এলো।
“একটু আগেই তো এখানে ছিলো। দেখো ওপরে আছে হয়তো”

“তুইও যা ঘুমিয়ে পর”

“এমনিও আমার জেগে থাকার শখ নেই”

অহনা অর্ণবকে মুখ ভেংচি দিয়ে চলে গেল। আনায়া গাল ফুলিয়ে বসে আছে। সে তো দিব্বি আছে। উল্টো ওকে টেনশনে রাখলো। একটা বার ওর খবর নেয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। তার জন্য যে কেউ অপেক্ষায় আছে সে খবর কি তার আছে? মন বললো, উহু নেই, একটুও নেই। যদি থাকতো তাহলে একবার ফোন করে জানিয়ে দিতো। আনায়া অভিমান করায় ব্যস্ত। এমন সময় অর্ণব ভিতরে ঢুকল। আনায়া ওকে দেখে ব্যালকনিতে চলে গেল। অর্ণব পিছু পিছু গেল।
“মহারানীর অভিমান হয়েছে? কথা বলবে না আমার সাথে?”

আনায়া কোনো জবাব দিলো না। মুখ ঘুরিয়েই রাখলো। অর্ণব থুতনিতে ধরে আনায়াকে ওর দিকে ফিরালো। আনায়ার চোখে অশ্রু টলোমল।
“কি হলো কথা বলবে না আমার সাথে?”

“আমি কে যে আমার আপনার সাথে কথা বলতে হবে? আপনি অনেক ব্যস্ত মানুষ যান নিজের কাজ করেন। আমার কথা আপনার ভাবতে হবে না”

“বউ আমার অভিমান করে গাল ফুলিয়েছে আমাকে তো ভাবতেই হবে। এখন বলো রাগ করেছো কোনো?”

“আপনার জন্য যে কেউ অপেক্ষা করে বসে থাকে সে খবর আপনার আছে? এতো রাত হয়ে গেছে, তার ওপর ফোন বন্ধ। আপনি তো কখনো এতো দেরি করে আসেন না। আপনি জানেন আমি কতো টেনশনে ছিলাম। মাথায় কিছু আসছিলো না তাই অহনাকে ডেকে তুলেছি। ওমা যার জন্য আমার এতো টেনশন। তার কোনো খবর নেই। দিব্বি মিস্টার লাট সাহেবের মতো বাসায় ঢুকছে”

অর্ণব আনায়ার কথায় মিটিমিটি হাসছে। বউ তার হেব্বি খেপেছে। আনায়া অর্ণবকে হাসতে দেখে বলল,
“একদম হাসবেন না। হাসলে কিন্তু দাঁত ভেঙ্গে ফেলবো”

অর্ণব শব্দ করে হেসে দিলো। আনায়ার গাঁ জ্বলে যাচ্ছে ওর হাসি দেখে। ওকে টেনশনে রেখে এখন হাসা হচ্ছে। আনায়া রক্তিম চোখে অর্ণবের দিকে তাকিয়ে আছে। সেটা দেখে অর্ণব হাসি থামিয়ে বলল,
“সরি। আসলে আজকে অনেক ব্যস্ত ছিলাম তাই তোমার সাথে কথা বলার সময় পায়নি। আর ফোন কখন অফ হয়ে গেছে সেটাও খেয়াল করিনি। আর এমন হবে না। এবারের মতো মাফ করে দাও প্লিজ”

আনায়া কোনো কথাই বলল না। অর্ণব পুনরায় বলল,
“সরি বললাম তো। আর কখনো এমন হবে না। এবার মাফ করে দাও”

আনায়া তবুও নিরুত্তর। কোনো কথাই বলছে না।
“এখন কি আমায় কান ধরে উঠবস করতে হবে? তাহলে তোমার রাগ ভাঙবে? ঠিক আছে বউয়ের রাগ ভাঙাতে আমি সেটা করতেও রাজি আছি”

অর্ণব উঠবস করতে নিবে আনায়া অনেকে আটকে দিলো।
“হয়েছে আর ঢং করতে হবে না। যান ফ্রেশ হয়ে নিন। রাত অনেক হয়েছে”

আনায়া অর্ণবের হাত ধরলো। অর্ণব সাথে সাথে মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠল। আনায়া হতোচকিয়ে গেল।
“কি হলো? চিৎকার করছেন কোনো?”

আনায়া খেয়াল করে দেখলো অর্ণবের হাতে ব্যান্ডেজ করা। এতক্ষন খেয়াল করেনি।
“কি হয়েছে এখানে? ব্যান্ডেজ করা কোনো?ব্যাথা পেয়েছেন? কিভাবে ব্যথা পেলেন?”

“ঐতো একটু খানি কেটে গেছে”

“দেখে তো একটুখানি মনে হচ্ছে না। সত্যি করে বলুন তো কিভাবে হয়েছে?”

“বিরোধী দলের সাথে ঝামেলা হয়েছে। ঝামেলা থামাতে গিয়ে হাতে লেগেছে। বেশি না সামান্য”

অর্ণব ফ্রেশ হতে চলে গেল। আনায়া নিচে চলে গেল। খাবার রেডি করতে। অর্ণব বেরিয়ে আনায়াকে না পেয়ে নিচে নামলো।
“খেয়েছেন বলে তো মনে হয় না। খেতে আসুন”

“কাঁটা হাত দিয়ে কিভাবে খাবো বলো? কেউ যদি খাইয়ে দিতো”

অর্ণব শেষের কথাটা আফসোসের সুরে বলল। আনায়া খাবার প্লেটে বাড়তে বাড়তে বলল,
“ঢং না করে বসুন খাইয়ে দিচ্ছি”

“এই না হলে আমার লক্ষী বউ”

আনায়া অর্ণবকে খাইয়ে দিচ্ছে। খাওয়ার মাঝে অর্ণব খাওয়া থামিয়ে আনায়াকে জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি খেয়েছো?”

আনায়া থতমত খেয়ে গেল। ও তো খায়নি। সবাই অনেক বার খাওয়ার জন্য বলেছে কিন্তু ও অর্ণবের সাথে খাবে বলে খায়নি।
“কি হলো বলো? খেয়েছো?”

“আসলে”

“তোমাকে আর বলতে হবে না বুঝেছি আমি। এখান থেকে তুমিও খাও আমাকেও খাইয়ে দাও”

“আপনি খান আপনাকে খাওয়ানো শেষ হলে আমি খেয়ে নিবো”

“সেটা হচ্ছে না। তুমি এখান থেকেই খাবে। তুমি শোনোনি, এক প্লেটে খেলে ভালোবাসা বাড়ে”

আনায়া আর কিছু বলো না। অর্ণবকে খাইয়ে দিলো সাথে নিজেও খেয়ে নিল। খাওয়া শেষ হলে আনায়া সব কিছু গুছিয়ে রাখছে। অর্ণব যেতে যেতে বলল,
“তাড়াতাড়ি এসো। অপেক্ষা করছি”

#চলবে?

#প্রেমের_তাজমহল
#পর্ব৩৭
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

(প্রাপ্তবয়স্ক-প্রাপ্তমনস্কদের জন্যে)

রুম জুড়ে শীতলতার ছোঁয়া। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। অর্ণব গভীর ঘুমে মগ্ন। আনায়া ব্যালকনি থেকে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে ছুঁইয়ে দিচ্ছে। এই বৃষ্টিতে চা হলে মন্দ হয় না। আনায়া রুমে প্রবেশ করলো। অর্ণব কেমন বাচ্চাদের মতো করে ঘুমিয়ে আছে। আনায়ার মাথায় দুস্টু বুদ্ধি চেপে বসল। কাছে যেয়ে অর্ণবের নাক টেনে দিলে। অর্ণব ঘুমের ঘোরে কপাল কুঁচকে বিরক্তি প্রকাশ করলো। আনায়া একটু থেমে অর্ণবের গাল টেনে দিলো। অতঃপর বুড়ো আঙ্গুল বুলিয়ে দিলো অর্ণবের ওষ্ঠে। তারপর দৌড়ে বাহিরে চলে এলো। নাহলে অর্ণব ধরতে পারলে ওর খবর ছিলো। অর্ণবের ঘুম হাল্কা হয়ে গেল। পিটপিট করে চোখ খুলে কাউকে খোঁজার চেষ্টা করলো। কিন্তু পুরো রুম ফাঁকা ও ছাড়া আর কেউ নেই।

আনায়ার মনে কিছু একটা চলছে। খুব গভীর ভাবে কিছু ভাবছে। অহনা আনায়াকে ভাবুক দেখে জিজ্ঞেস করলো,
“ভাবি কি এতো ভাবছো?”

“কাছে এসো বলছি”

দুজনে মিলে অনেকক্ষণ কি যেন আলোচনা করলো। অর্ণব ফ্রেশ হয়ে একেবারে তৈরি হয়ে নামছে। দূর থেকে দেখলো ননদ-ভাবি মিলে গুজুড়গুজুর করছে। দুজনে কি নিয়ে এতো আলোচনা করছে? অর্ণব কাছে যেতেই দুজনে চুপ হয়ে গেল। অর্ণব কি হলো কিছুই বুঝতে পারলো না।
“কি হলো? তোমরা আমাকে দেখে চুপ হয়ে গেলে? কারণ কি?দুজনে মিলে আবার কোন অকাজ করার প্ল্যান করা হচ্ছে শুনি”

“ভাইয়া তোমার আমাদের এমন মনে হয়? আমরা অকাজ করি? আমরা অকাজ করলে তুমি কোন কাজের কাজ করে দেশ উদ্ধার করছো?”

“আমি এমপি হিসেবে আছি বলেই দেশটা এখনো ভালোভাবে চলছে না হলে এতদিনে রসাতলে চলে যেত”

অহনা মুখ ভেংচি দিয়ে বলল,
“যেই না চেহারা নাম রাখছে পেয়ারা, হুহ। তুমি আছো বলেই দেশটা রসাতলে যাচ্ছে, যখন তুমি ছিলে না তখনই শান্তিতে ছিলাম”

“তবে রে”

অর্ণব অহনার দিকে এগিয়ে যেতেই আনায়া সামনে এসে দাঁড়ালো। অর্ণবকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আপনি যান টেবিলে গিয়ে বসুন আমি খাবার দিচ্ছি”

অর্ণব অহনাকে বলল,
“এবারের মতো বেঁচে গেলি”

অর্ণব টেবিলে গিয়ে বসল। আনায়া দুজনকেই খেতে দিলো। খাওয়া শেষ করে অর্ণব চলে গেল। আনায়া আর অহনা রয়ে গেল। অহনার আজকে কোনো ক্লাস নেই। সারাদিন দুজন মিলে কি যেন আলোচনা করলো। বিকেলে বাহিরে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি করে কিছু নিয়ে এলো। সন্ধ্যার পর দুজনে মিলে রুমের মধ্যে কি যেন করছে। জিয়া গিয়েছিল গল্প করার জন্য ডাকতে তবে ওরা রুম থেকে বের হলে না। অনেকক্ষণ খাটাখাটনির পর অহনা সোফায় ধুপ করে বসে বলল,
“ফাইনালি সব কাজ শেষ হলো”

আঁধারে আচ্ছাদিত কক্ষ। আঁধারের মাঝে প্রদীপের মৃদু আলোর দেখা পাওয়া যাচ্ছে। পুরো কক্ষ জুড়ে মিষ্টি এক সুগন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। অর্ণব সবে মাত্র বাড়ি ফিরেছে। ড্রয়িং রুমে কাউকে না দেখে ভাবলো সবাই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। রাত্র কম নয়। অর্ণব সোজা রুমে চলে এলো। রুমের দরজা খুলে অন্ধকার দেখতেই কপাল কুঁচকে এলো। রুম অন্ধকার করে রেখে আনায়া কোথায় গেল? অর্ণব প্রদীপের নিভু আলোয় হাতড়িয়ে লাইট জ্বালাতে নিবে এমন সময় এক মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে এলো।
“লাইট জ্বালানো নিষেধ”

অর্ণব বুঝলো ব্যালকনি থেকে শব্দ আসছে। এগিয়ে গেল ব্যালকনির দিকে। ব্যালকনির দরজার দাঁড়াতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। চোখের সামনে প্রিয়সীর বিধ্বংস রূপ। আনায়ার পরনে লাল জর্জেট শাড়ি, হাতে লাল রঙের রেশমি চুরি। শাড়ির আবরণ ভেদ করে আনায়ার ফর্সা মেদহীন পেট ও কোমর দৃশ্যমান। চোখে গাঢ় কাজল, মুখে অল্প বিস্তর প্রসাধনীর ছোঁয়া।ঠোঁটে গাঢ় লাল রঙের আবরণ। যা অর্ণবকে খুব করে আকর্ষণ করছে। অর্ণবের হৃদস্পন্দন কিছুক্ষনের জন্য থমকে গেল। প্রিয়সীর লাস্যময়ী রূপ বুকে ঝড়ের সৃষ্টি করছে। অর্ণব ঘোরের মাঝে এগিয়ে গেলো আনায়ার পানে।

অর্ণব যতো এগিয়ে আসছে আনায়ার হৃদস্পন্দন ততো বেড়ে যাচ্ছে। অর্ণবকে ধ্বংস করতে যেয়ে নিজেই না ওর মাঝে ধ্বংস হয়ে যায়। আনায়া শাড়ির আঁচল খামচে ধরল। অর্ণব এগিয়ে এসে আনায়ার গালে হাত রাখলো। আনায়া অর্ণবের স্পর্শে কেঁপে উঠলো।
“আমায় খুন করার পরিকল্পনা করেছো মায়াবতী? তোমার সর্বনাশা রূপ আমার বুকে ছুরির মতো বিধছে। তবে সর্বনাশ হলে তো আমি একা সর্বনাশা হবো না সাথে তোমার সর্বনাশও নিশ্চিত মায়াবতী”

আনায়া শুকনো ঢোক গিললো। গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না। অর্ণবের ঘোর মাখা চাওনি দেখে আনায়া সব কিছু ভুলে যাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে কোনো মতে বলল,
“আমি ধ্বংস হতে চাই এমপি সাহেব। আপনার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাই। পুরোপুরি ভাবে মিশে যেতে চাই আপনাতে যেন কেউ আমাদের আলাদা করতে না পারে। তাতে যদি সর্বনাশ হয় তবে হোক”

প্রিয়সীর কাছ থেকে অনুমুতি পেয়ে অর্ণবের মন উচ্চাসিত হয়ে গেল। মুহূর্ত ব্যায় না করে হামলে পড়লো আনায়ার লাল টকটকা ওষ্ঠে। আনায়াও কোনো বাঁধা দিলো না। অর্ণব অবাধ বিচরণ করছে আনায়ার ওষ্ঠ জুড়ে। তবে আনায়ার রেসপন্স নেই। অর্ণব হাল্কা করে বাইট দিলো আনায়ার ওষ্ঠে। এবার আনায়াও রেসপন্স করছে। কিছুক্ষন পর অর্ণব আনায়ার ওষ্ঠ ছেড়ে গোলদেশে নেমে এলো। অর্ণবের পুরুষালি ওষ্ঠের ছোয়ার ভরিয়ে দিচ্ছে আনায়ার গোলদেশ। অর্ণব আর নিজের মাঝে নেই। ঘোরের মাঝে ডুবে রয়েছে। আনায়া অর্ণবকে থামিয়ে দিলো। অর্ণব ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
“কি হয়েছে? থামালে কোনো?”

“এটা আপনার বেড রুম নয় এমপি সাহেব, এটা ব্যালকনি”

“ও এই বেপার আগে বললেই পারতে”

অর্ণব এক ঝটকায় আনায়াকে কলে তুলে নিল। রুমে ঢুকে আসতে করে আনায়াকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। আনায়ার মনে কিছুটা ভয় কাজ করছে। অর্ণব পুনরায় আঁকড়ে ধরলো আনায়ার ওষ্ঠ। অর্ণব রীতিমতো অত্যাচার চালাচ্ছে আনায়ার ওষ্ঠ জুড়ে। আনায়ার তাই মনে হচ্ছে। ওর দম আটকে আসছে। অর্ণব আনায়ার ওষ্ঠ ছেড়ে দিলো। গাঁয়ে থাকা পাঞ্জাবির বোতাম একে একে খুলে ফেলল। পাঞ্জাবী খুলে ছুড়ে ফেলে দিলো। পুনরায় ডুব দিলো আনায়ার মাঝে। আনায়া আঁকড়ে ধরলো বিছানার চাদর। ধীরে ধীরে দুজন দুজনের মাঝে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পুরো রুম জুড়ে উত্তপ্ততা। দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। অর্ণবের স্পর্শে আনায়া কেঁপে কেঁপে উঠছে। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে গভীর হচ্ছে অর্ণবের ভালোবাসা। আনায়া মাঝে মাঝে গুঙিয়ে উঠে। অর্ণব বলে উঠলো,
“একটু কষ্ট করে সামলে নাও জান”

সকালের মিষ্টি আলো চোখে পড়তেই আনায়ার ঘুম ভেঙ্গে গেল। নিজেকে আবিষ্কার করলো অর্ণবের উন্মুক্ত বুকে। স্মরণ হলো কাল রাতের কথা। আনায়া লজ্জায় মুড়িয়ে গেল। সেই মুহূর্তেই ঘুম ভেঙ্গে গেল অর্ণবের। আনায়া ওকে জাগতে দেখে ঘুমের ভান ধরলো। আনায়ার কাণ্ডে অর্ণব মুচকি হাসলো। অধর ছুঁইয়ে দিলো আনায়া ললাটে। অতঃপর ফিসফিস করে বলল,
“শুভ সকাল জান। তুমি যে জেগে আছো আমি কিন্তু সেটা জানি। তাই ঘুমের ভান ধরে লাভ নেই”

আনায়া নড়লো না। একই ভঙ্গিতে পড়ে রইল। অর্ণব দুস্টু স্বরে ফিসফিস করে বলল,
“ভালোই হলো তুমি যেহেতু ঘুমিয়ে আছো তাহলে তোমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে একটু রোমান্স হয়ে যাক”

আনায়া অর্ণবের বাহুতে চাপর মারলো। মুখ লুকালো অর্ণবের উন্মুক্ত বুকে।বিড়বিড় করে বলল,
“অসভ্য লোক”

অর্ণব উচ্চস্বরে হেসে দিলো। জড়িয়ে ধরলো আনায়ার কোমর,
“আমার কথায় লজ্জা পেয়ে আমার বুকেই মুখ লুকাচ্ছ ইন্টারেস্টিং তো”

#চলবে?

#প্রেমের_তাজমহল
#পর্ব৩৮
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

পানির ঝিরঝিরি শব্দ ভেসে আসছে। অর্ণব শাওয়ার নিচ্ছে। আনায়া গাঁয়ে চাদর জড়িয়ে শুয়ে আছে। সারা শরীর ব্যথায় জর্জরিত । কিছুক্ষন পর অর্ণব বেরিয়ে এলো। ফর্সা উন্মুক্ত বলিষ্ঠ দেহ কোমরে সাফেদ রঙের টাওয়াল জড়ানো। লোমস বুকে বিন্দু বিন্দু পানির অস্তিত্ব। ভেজা চুল থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। অর্ণবকে আনায়ার নিকট খুবই আকর্ষণীয় লাগছে। আনায়া শুকনো ঢোক গিললো। আনায়া আর না তাকিয়ে চোখে হাত দিয়ে ঢেকে নিলো।
“এভাবে সং সেজে দাঁড়িয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি কাপড় পড়ুন”

অর্ণব ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
“কোনো?”

“আমার লজ্জা লাগছে”

অর্ণব এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
“কাল রাতেই তো লজ্জা ভেঙ্গে দিলাম। এখনো লজ্জা লাগছে? তাহলে আরেকবার কাছে এসো লজ্জা ভেঙ্গে দেই”

আনায়া মৃদু চিৎকার করে বলল,
“খবরদার একদম কাছে আসবেন না। এমনিই আমার অবস্থা বেহাল তার ওপর উনার শখের শেষ নেই”

অর্ণব থেমে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“খুব বেশিই কি পেইন হচ্ছে?”

আনায়া মাথা নেড়ে সায় জানালো। অর্ণব মেডিসিনের বক্স থেকে পেইন কিলার বের করে আনায়ার হাতে দিলো। আনায়া এখনো চাদর জড়িয়ে শুয়ে আছে। অর্ণব আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছে। আনায়া তাড়া দিয়ে বলল,
“আপনি জলদি তৈরি হয়ে ঘর থেকে যান তো”

“তুমি এতো তাড়াহুড়ো করছো কোনো শুনি? আমি ঘর থেকে গেলে তুমি কি করবে?”

“ওয়াশরুমে যাবো শাওয়ার নিতে”

“তো যাও না। তোমাকে ধরে রেখেছে কে?”

আনায়া উসখুস করছে। ওর কেমন অস্বস্তি হচ্ছে। মিনিমিন স্বরে বলল,
“এই অবস্থায় আপনার সামনে দিয়ে যেতে অস্বস্তি লজ্জা দুটোই হচ্ছে”

“লজ্জা পাবে বলে নিজের গাঁয়ের পাঞ্জাবী তোমায় পড়িয়ে দিলাম এখনো লজ্জা করছে”

আনায়া লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলল। এই লোক কথায় কথায় ওকে লজ্জা দেওয়ার বাহানা খোঁজে। এমনি বেচারি লজ্জায় মরি মরি অবস্থা তাও এর লজ্জা দিতেই হবে। আনায়া যখন লজ্জায় লাল নিল হতে ব্যাস্ত সেই সুযোগে অর্ণব হুট করে এসে আনায়াকে পাজাকলে তুলে নিল। আনায়া হতচকিয়ে গেল। গাঁয়ে থাকা চাদর শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো। অর্ণব আনায়াকে ওয়াশরুমের সামনে নামিয়ে দিলো। অর্ণব চলে যেতে নিবে এমন সময় আনায়া পিছন থেকে বলল,
“আমার ড্রেস”

“তুমি যাও আমি দিচ্ছি”

আনায়া শাওয়ার নিচ্ছে। অর্ণব দরজায় নক করলো।
“তোমার ড্রেস নাও”

আনায়া দরজার ফাঁকা দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো। অর্ণব আনায়ার হাত ধরে ফেলল। ওর মাথায় ঘুরছে দুস্টু বুদ্ধি।
“কি হলো হাত ধরলেন কোনো? ড্রেস দিন”

“আমিও আসি”

আনায়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
“আমিও আসি মানে কি? আপনি না একটু আগে শাওয়ার নিয়ে বের হলেন”

“তুমি একা একা বোর হোচ্ছ নিশ্চই। আমি আসলে দুজনে মিলে একটা রোমান্টিক শাওয়ার নিতে পারবো”

আনায়া অর্ণবের হাত থেকে কাপড় গুলো নিয়ে বলল,
“তার কোনো দরকার নেই”

ঠাস করে অর্ণবের মুখের ওপর ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে দিলো। অর্ণব আফসোসের সুরে বলল,
“ভালোর কোনো দামই নেই”

অর্ণব নিচে নামলো ব্রেকফাস্ট করার জন্য। মেহনাজ বেগম রান্না ঘরে ব্রেকফাস্ট তৈরি করছেন। অর্ণব ডেকে বলল,
“মা আমার ব্রেকফাস্টটা তাড়াতাড়ি দিয়ে যাও, আজকে ইম্পরট্যান্ট একটা মিটিং আছে”

অর্ণব যেয়ে টেবিলে বসল। আগে থেকেই সেখানে অহনা বসে আছে। মেহনাজ বেগম খাবার অর্ণবের সামনে রেখে বলল,
“তুই একা নামলি, আনায়া কোথায়? আজকে সকাল থেকে মেয়েটাকে একবারও দেখলাম না। ওর কি কিছু হয়েছে”

অর্ণব সবেই খাবার মুখে নিয়েছে। মেহনাজ বেগমের কথায় ওর কাশি উঠে গেল। মেহনাজ বেগম পানি এগিয়ে দিলেন। অর্ণব পানি খেয়ে নিজেকে সামলে নিল।
“আসলে মা আনায়া একটু অসুস্থ তাই আরকি”

“কি হয়েছে ওর? মেয়েটা অসুস্থ তুই আমাকে আগে বলবি না, আহাম্মক কোথাকার”

“আরে মা তেমন গুরুতর কিছু না একটু মাথা ব্যথা করছে। ওষুধ খেয়েছে একটু রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে”

অহনা মেহনাজ বেগমকে বলল,
“মা তুমি ভাবির খাবার টা দাও আমি নিয়ে যাই সাথে ভাবিকে দেখেও আসি”

মেহনাজ বেগম রান্না ঘরে চলে গেলেন। অহনা অর্ণবের দিকে কেমন সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তা দেখে অর্ণব ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
“কি হলো? এভাবে তাকিয়ে আছিস কোনো?”

“মাথা ব্যথা নাকি অন্য কিছু?”

অর্ণব থতমত খেয়ে গেল। মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,
“অন্য কিছু মানে কি?”

“সেটা তুমি আমার চেয়ে বেশি ভালো জানো”

অর্ণব অহনার কান মুচড়ে ধরলো,
“বেশি পেকে গিয়েছিস তাই না? বড় ভাইয়কে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করছিস। দ্বারা খুব শিগ্রীই তোকে শশুর বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করছি”

অহনা অর্ণবের কাছ থেকে কান ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,
“বড় ভাই করলে সমস্যা নাই,আর আমি বললেই সমস্যা”

অহনা ছুটে পালালো। অর্ণব পিছন থেকে বলল,
“তবে রে শাক*চুন্নি”

আনায়া ব্যালকনিতে রাখা ডিভানে বসে আছে। শুয়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না। ব্যালকনিতে স্নিগ্ধ বাতাস বইছে। আনায়া চোখ বুজে সেটা উপভোগ করছে। অহনা রুমে আনায়াকে না পেয়ে খাবার ট্রি-টেবিলের ওপর রেখে ব্যালকনিতে উঁকি দিলো। আনায়াকে দেখে পাশে গিয়ে বসল।
“কি শুনছি ভাবি? তুমি নাকি অসুস্থ”

আনায়া পাশে থেকে কারো আওয়াজ শুনে চোখ মেলে চাইলো। অহনা যে কি মিন করে কথাটা বলেছে আনায়া বুঝতে পারলো। মুহূর্তেই লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল আনায়ার গাল। লজ্জায় মুড়িয়ে গেল ও । আনায়াকে লজ্জায় মুড়িয়ে যেতে দেখে অহনার মাথায় দুস্টু বুদ্ধি চাপলো ওকে আরো লজ্জা দেওয়ার। আনায়ার কানের কাছে ফিসফিস করে সুধালো,
“কি গো লজ্জাবতী লতিকা ভাইয়ের দেওয়া একদিনের ভালোবাসায় অসুস্থ হয়ে গিয়েছো? তাহলেই সারাজীবন এই ভালোবাসা সহ্য করবে কিভাবে শুনি?”

আনায়া আরো একটু লজ্জায় নেতিয়ে গেল। এরা দুই ভাই-বোন ওকে লজ্জা দিয়ে কি মজা পায় কে জানে? দুজনই একই রকম। যেমন অ*সভ্য ভাই তেমনই অ*সভ্য বোন। ওকে কিভাবে লজ্জা দিচ্ছে দেখো। আনায়া লজ্জায় রাঙা হয়ে কিছুই বলতে পারছে না। আর এরকম অসভ্য মার্কা প্রশ্নের উত্তর কি বা দিবে? আনায়া মেকি রাগ দেখিয়ে বলল,
“আমি তোমার বড় ভাবি হই ভুলে গেছো? এভাবেই বড় ভাবিকে কেউ এসব জিজ্ঞেস করে?”

অহনা আনায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“বড় ভাবি হওয়ার আগে তুমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হও। আর বেস্ট ফ্রেন্ড কে তো জিজ্ঞেস করতেই পারি। কি বলো?”

অহনা আনায়াকে কাতুকুতু দিলো। আনায়া খিলখিল করে হেসে দিলো। আনায়াও অহনাকে কাতুকুতু দিলো। দুজনে হাসায় মশগুল। অর্ণব রুমে আসলো। হাসির আওয়াজ পেয়ে ব্যালকনিতে যেয়ে দেখে বোন,বউ দুজন খিলখিল করে হাসছে। অর্ণব ব্যালকনির দরজায় দাড়িয়ে আনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটার মাঝে এক রাশ মুগ্ধতা আছে। অর্ণব ওকে যতো বার যেই রূপেই দেখুক না কোনো সব সময়ই মুগদ্ধ হয়। এই যে খিলখিল করে হাসছে এতে অর্ণবের বুকে প্রশান্তি ছুঁইয়ে দিচ্ছে। অর্ণব বিরবির করে বলল,
“মাশাআল্লাহ”

#চলবে?

(ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।)