প্রেমের তাজমহল পর্ব-৩৯+৪০

0
104

#প্রেমের_তাজমহল
#পর্ব৩৯_৪০
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

গোধূলি বিকেলে আনায়া ব্যালকনিতে বসে আছে। একটু পর পর মিষ্টি বাতাস এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে ওকে। আনায়ার মনে কয়েকদিন যাবত সন্দেহ হচ্ছে। অহনা ইদানীং কেমন আচরণ করছে। এইযে আগের মতো গল্প করেছে না, আড্ডা দিচ্ছে না। বেশির ভাগ সময় নিজের ঘরে পড়ে থাকে। সারাদিন ফোনে কথা বলতে থাকে। জিজ্ঞেস করলে বলে ফ্রেন্ড। আনায়ার কেমন যেনো লাগছে। আগে কোনো ফ্রেন্ড ফোন দিলে ওর সামনেই রিসিভ করতো কিন্তু এখন ফোন নিয়ে উঠে চলে যায়। এইতো আজকে সকালের ঘটনা, আনায়া অহনাকে ডেকে নিয়ে এলো। অহনা আসতে নারাজ ছিলো। আনায়া এক প্রকার জোর করেই নিয়ে এলো। আনায়া সন্দীহান চোখে চেয়ে আছে অহনার দিকে।
“এভাবে তাকিয়ে আছো কোনো ভাবি? কিছু কি হয়েছে? কোনো সমস্যা?”

“কিছু হয়নি আবার হয়েছে”

“মানে কি বলতে চাইছো?”

“এইযে তুমি সারাদিন ঘরে মধ্যে থাকো। আগের মতো আড্ডা দাও না, কারণ কি শুনি?”

“আরে তেমন কিছুই না। কয়েকদিন পর এক্সাম তো তাই ঘরে বসে পড়ি এই আরকি”

“ঘরে বসে পড়ো নাকি ফিসফিস করে কারো সাথে কথা বলো?”

অহনা হতোচকিয়ে গেল। আনায়া যে এগুলো লক্ষ্য করেছে ও তো সেটা ভাবেই নি। এখন কি বলবে আনায়াকে?
“ফ্রেন্ড। ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলি”

“ফ্রেন্ড নাকি অন্য কেউ”

অহনা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“কি যে বলো না তুমি। অন্য কেউ হতে যাবে কেনো?”

“না হলেই ভালো”

অর্ণব কিছু দিন যাবত অনেক ব্যাস্ত। এদিক ওদিক ছুটতে হচ্ছে ওকে। সারাদিন পার্টি অফিসেই কাটায়। আসেও রাত করে। আবার সকাল সকালই চলে যায়। আনায়ার কিছু জিনিস কিনার ছিলো। আনায়া ভাবলো অহনাকে নিয়ে যাবে।
“অহনা আজকে বিকেলে আমার সাথে বের হতে পারবে? আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনার ছিল। তোমার ভাইয়াও বাসায় থাকে না যে তাকে নিয়ে যাবো”

অহনা কথাটা শুনে থতমত খেলে। মিনিমিন করে বলল,
“আসলে ভাবি আজকে আমাকে আমার ফ্রেন্ড এর বাসায় যেতে হবে নোট আনতে”

“কাল ভার্সিটিতে নিয়ে নিও”

“খুব জুরুরি। আজকে রাতের মধ্যে নোট করে কাল সাবমিট করতে হবে”

আনায়া অহনার সমস্যা বুঝলো। তাই মন খারাপ করে বলল,
“ঠিক আছে যাও। আমি অর্ষা কে নিয়ে চলে যাবো”

অহনা আনায়াকে জড়িয়ে ধরে গালে কিস করে বলল,
“থ্যাংক ইউ ভাবি। লাভ ইউ”

আনায়া মুখ ফুলিয়ে বলল,
“হয়েছে আর ভালোবাসা দেখাতে হবে না”

এরপর একে অপরের দিকে তাকিয়ে দুজনই হেসে দিলো।

আনায়া আর অর্ষা দুজন মিলে বেরিয়েছে। অনেক দিন পর দুই বান্ধবী এক সাথে হয়েছে দুজনের আনন্দের শেষ নেই। আনায়ার বিয়ের পর অর্ষার সাথে আর দেখা হয়নি। মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয়েছে। দুজন মন খুলে গল্প করছে আর এটা ওটা দেখছে। আনায়া অর্ষাকে বলছে,
“আর কতকাল সিঙ্গেল থাকবি। তাড়াতাড়ি বিয়েটা কর। তারপর আমি, এমপি সাহেব, তুই আর তোর বর একসাথে হানিমুনে যাবো। কেমন হবে বলতো?”

“হ্যাঁ ভাবছি বিয়েটা করেই নিবো। তোর আগে আমার আঁকদ হয়েছে কিন্তু দেখ বিয়ে কিন্তু তুই আমার আগে করে নিয়েছেস। খুব ভালো হবে দুই বান্ধবী মিলে অনেক মজা করতে পারবো”

দুজনে শুরু হয়ে গেল প্লানিং করতে। একসাথে ঘুরতে গেলে কি কি করবে সেগুলো নিয়ে। হটাৎ অর্ষা আনায়াকে খোঁচা দিয়ে বলল,
“বান্ধবী আছে নাকি কোনো সুখবর?”

আনায়া বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো,
“মানে?”

“মানে নতুন কারো আগমনের খবর আছে নাকি?”

আনায়া লজ্জা পেল। অর্ষার কাঁধে চাপর মেরে বলল,
“মুখে কিছু আটকায় না শ*য়*তান মেয়ে”

অর্ষা হেসে দিলো আনায়ার কাজে। মেয়েটা আগের মতোই লাজুক রয়ে গেছে। সামান্য বিষয়েও লজ্জায় মুড়িয়ে যায়। আনায়ার কিছু মনে পড়লো। অর্ষা কে বলল,
“দোস্ত জানিস আমার সেই চিঠির প্রেমিক কে?”

“কে আবার হবে নিশান”

“উহু নিশান না। এমপি আশিয়ান সিকদার অর্ণব হলো আমার সেই চিঠির প্রেমিক”

অর্ষা অবাক হলো। এই মেয়ে কি বলছে। ও তো জানতো নিশানই চিঠির সেই মানুষ। তাহলে অর্ণব কিভাবে?
“ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে না বলে খুলে বল তো”

আনায়া অর্ষাকে সেদিনের সকল ঘটনা খুলে বলল। অর্ষা শুনে অবাক সাথে খুশিও হয়েছে। বান্ধবী তার মনের মানুষকে পেয়েছে তাই।
“আলহামদুলিল্লাহ। শেষ পর্যন্ত তুই তোর ভালোবাসার মানুষকে পেলি। তুই সত্যিই অনেক লাকি। অর্ণব ভাইয়ার মতো ভালোবাসার একটা মানুষ পেয়েছিস। যে তোকে এতটা ভালোবাসে”

আনায়া নিজেও স্বীকার করে ও সত্যিই অনেক ভাগ্যবতী। খুব ভাগ্য করেই ও অর্ণবকে পেয়েছে। আনায়ার কেনাকাটা শেষ। তবে ওদের দুজনের গল্প শেষ হয়নি। আজকে দেখা হয়েছে আবার কবে দেখায় হয় তাই দুজনে মিলে রেস্টুরেন্টে এলো। আরো কিছু সময় একসাথে কাটানোর জন্য। আনায়া আর অর্ষা গল্প করছে হটাৎ অর্ষার নজর গেল ওদের থেকে কয়েক টেবিল পড়ে বসা অহনার দিকে।
“আনায়া দেখ অহনা”

অর্ষার কথায় আনায়া ফিরে তাকালো। একটু দূরেই অহনা বসে আছে। ওর সমানে একটা ছেলে বসে আছে। ছেলেটা আনায়াদের উল্টোদিকে বসায় আনায়া তার ফেস দেখতে পাচ্ছে না। দুজনে হেসে হেসে কথা বলছে। আনায়ার মনে মনে করা সন্দেহ তাহলে ঠিক হলো। কিন্তু ছেলে টা কে? আনায়া এগিয়ে গেল। সামনে যেতেই ও অবাক হলো। অহনার সাথে যে ছেলেটা বসে আছে সে আর কেউ না আবির।
“অহনা”

অহনা পরিচিত কণ্ঠে নিজের নাম শুনে ফিরে তাকালো। সামনে আনায়াকে দেখে ঘাবড়ে গেল। আনায়া এখানে কি করছে? এভাবে যে ধরা পড়ে যাবে ও এটা ভাবে নি। এখন আনায়াকে কি বলবে?
“এই তাহলে তোমার প্রয়োজনীয় নোট নিতে আসা? তা রেস্টুরেন্ট কবে থেকে তোমার বান্ধবীর বাড়ি হয়ে গেল? আর ভাইয়াই বা কবে তোমার বান্ধবী হলো?”

অহনা মনে মনে বাহানা বানাচ্ছে কিন্তু কোনো বাহানাই পাচ্ছে না।
“ভাবি শোনো আসলে”

“কতদিন ধরে চলছে এসব? তোমার ভাইয়া জানে?”

আবিরের উদ্দেশ্যে বলল,
“কিরে ভাইয়া কিছু বলছিস না যে? তোর বন্ধু কি জানে তুই তার বোনের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছিস?”

আবির কিছু বললো না। অহনা কিছু বলতে নিবে আনায়া ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“থাক আমি আর কিছু শুনতে চাই না”

আনায়া অর্ষাকে নিয়ে চলে এলো। অহনা বাড়িতে এসে অনেক বার আনায়ার সাথে কথা বলতে চেয়েছে কিন্তু আনায়া বলেনি। আনায়া ভেবেছে অর্ণব এলে ওকে জানাবে। আবির যতই ওর ভাই হোক অহনাও ওর বোন ও চায়না দুজনের জন্য অর্ণব বা আবিরের মাঝে কিছু হোক। অর্ণব এলে আনায়া ওকে বলল,
“আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো এমপি সাহেব”

“তুমি কি বলবে আমি সেটা জানি। আবির আর অহনার বিষয়ে তো?”

আনায়া মাথা নেড়ে সায় জানালো। অর্ণব বলল,
“তোমার কি মনে হয় মনে হয় অর্ণব সিকদারের বোন কি করে? কার সাথে ঘরে? কার সাথে কথা বলে সেটা সে জানে না? আমি সবই জানি।আমি কিছু দিন ওদের সময় দিতে চেয়েছি। ওদের নিজেদের বোঝার জন্য, জানার জন্য।আমার মনে হয় এখন উপযুক্ত সময় এসেছে। আমি ওদের বিষয়ে খুব শীঘ্রই সবার সাথে কথা বলবো। তুমি এটা চিন্তা করো না”

আনায়া খুশি হলো অর্ণবের কথায়। অর্ণব যে বিষয়টাকে এতো সহজে নিবে ও সেটা ভাবেনি। আনায়া অর্ণবকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“থ্যাংক ইউ আপনাকে”

গালে একটা কিস দিয়ে বলল,
“আপনাকে এত্তো এত্তো ভালোবাসি”

অর্ণব আনায়ার কোমর চেপে ধরে কাছে নিয়ে এলো। কপালের ওপর পড়া চুলগুলো পিছনে ঠেলে দিয়ে বলল,
“হটাৎ এতো ভালোবাসা?”

“কিছু না এমনি”

“এমনি বললে তো হবে না জানু। তুমি ভালোবাসা আদান করলে এখন আমার প্রদান করার সময়। ওয়েট করো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি”

আনায়া অর্ণবের কথার মানে বুঝতে পেরে লজ্জা পেল। লজ্জায় ওর গাল গুলো লাল হয়ে যাচ্ছে।

দুই পরিবার মিলে একসাথে হয়েছে। অর্ণবদের বাড়িতে আনায়াদের বাড়ির সবাইকে ইনভাইট করা হয়েছে। দুপুরের খাবার খাওয়া শেষে সবাই ড্রয়িং রুমে বসে আছে। অর্ণব সবার মাঝে বলে উঠলো,
“আপনাদের সবার সামনে আমি কিছু বলতে চাই”

সবাই সম্মতি দিলে অর্ণব বলা শুরু করলো,
“আবির আর অহনা দুজন দুজনকে পছন্দ করে। তাই আমি চাইছিলাম আমরা দুই পরিবার মিলে ওদের বিষয়টা ভেবে দেখলে ভালো হয়”

অহনা আবির দুজনই অবাক হলো। একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করছে। অর্ণব যে ওদের বিষয়ে সবার মাঝে এভাবে বলবে সেটা ওরা ভাবে নি। দুই পরিবারের গুরুজনরা মিলে আলোচনায় বসলো। অহনা নিজের ঘরে পায়চারি করছে। ওর টেনশন হচ্ছে সবাই মিলে কি সিদ্ধান্ত নিবে সেই ভয়ে। কিছুক্ষণ পর আনায়া এলো ওর রুমে। আনায়া গম্ভীর মুডে আছে। আনায়ার এক্সপ্রেশন দেখে অহনার ভয় হচ্ছে। অহনা এগিয়ে এসে বলল,
“ভাবি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সবাই মিলে? সবাই কি রাজি হয়নি? কি হলো? তাড়াতাড়ি বলো আমার খুব টেনশন হচ্ছে”

আনায়া দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলল,
“সবাই রাজি হয়েছে। আগামী মাসের ১০ তারিখ তোমাদের আকদ”

অহনা খুশিতে আটখানা হয়ে গেল। মুহূর্ত ব্যায় না করে আনায়াকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“লাভ ইউ ভাবি”

#চলবে?

(দেরি করে দেওয়া জন্য দুঃখিত। ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন। পর্বটা কেমন লেগেছে জনাবেন। ধন্যবাদ)

#প্রেমের_তাজমহল
#পর্ব৪০
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

সময় বয়ে চলে তার আপন গতিতে। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। মাঝে কেটে গেছে অনেক গুলো দিন। সামনে এগিয়ে আসছে অহনা আর আবিরের আকদ এর দিন। আনায়া, অহনা, নীলিমা, মিহি, মেহনাজ বেগম ও আশালতা বেগম সবাই। মিলে শপিংয়ে এসেছে। সবাই মিলে বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে জিনিস কিনছে। এমন সময় অহনার ফোনে ফোন এলো। অহনা তাকিয়ে দেখলো আবিরের ফোন। ও একটু দূরে সরে গেল। ফোন রিসিভ করে আবিরকে কিছু বলতে না দিয়ে বলা শুরু করলো,
“আপনি কোথায়? এখনো আসছেন না কোনো? আমেদের কিন্তু কথা ছিলো এক সাথে শপিং করার”

“সরি। আই এম রিয়েলি সরি, অহু । একটা জরুরি মিটিং পড়ে গেছে তাই আসতে পারছি না”

অহনা ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলল,
“আপনার সরি গুষ্টি কিলাই। আপনি যদি না আসেন তাহলে আকদ ক্যানসেল”

আবির মনে মনে ভাবছে,
“কি মেয়ের পাল্লায় পড়েছিলাম রে ভাই। দেখতে শুনতে ভদ্র হলেও কথা ছুরি মতো ধারালো। যেমন ভাই তার তেমন বোন। ভাই এক রাজাকার, বোন তার দোসর”

মনের কথা মনে রেখে মুখে বলল,
“রাগ করে না অহু সোনা। আমি মিটিং টা শেষ করেই চলে আসবো। ততক্ষন তুমি সবার সাথে শপিং করো। আমি এসে তোমাকে পুরো শপিং মল ঘুরিয়ে তোমার পছন্দের সব কিছু কিনে দিবো”

অহনা কিছু না বলে ফোন রেখে দিলো। ওপর পাশে আবির হাফ ছেড়ে বাঁচলো। এই মেয়ে এমন বারুদ হবে তা আগে জানলে ভুলেও বন্ধুর বোনের সাথে প্রেম করতো না। যখন ভাইয়ের বন্ধু ছিলো তখন ওর সামনে অহনা খুবই ভদ্র, শান্ত শিষ্ঠ থাকতো। ধমক দিলে উল্টো কোনো কথা বলতো না। দেখে মনে হতো ভাজা মাছটা উল্টো খেতে জানে না। আর এখন ওকে ভাজা ভাজা করে ফেলে। আগে কিছু বলতে চুপচাপ শুনতো কিছু বলতো না এখন একটা কথা বললে ওকে দশটা শুনিয়ে বসিয়ে রাখে। আবির মনে মনে আফসোস করতে করতে মিটিং রুমের দিকে অগ্রসর হলো।

আনায়ারা সবাই মিলে শপিং করছে এমন সময় আগমন ঘটলো অর্ণবের। অর্ণবকে হটাৎ এখানে দেখে সবাই চমকে গেল। ওর এখানে আসার কথা না। আনায়া বলল,
“এমপি সাহেব আপনি এখানে? আপনার না অনেক ইম্পরট্যান্ট কাজ আছে। আপনি আমাদের সাথে আসতেই পারবেন না, তাহলে এখন এলেন কিভাবে?”

অর্ণব মুখটা দুঃখী দুঃখী করে বলল,
“সাধেই কি এসেছি বলো। ভয় থেকে এসেছি”

আনায়া ভ্রু জোড়া কিঞ্চিৎ কুঁচকে বলল,
“ভয়? কিসের ভয়?”

“সুন্দরী বউ আমার বলা তো যায় না কে কখন তুলে নিয়ে যায়। সেই ভয়েই তো বউ কে পাহারা দিতে চলে এলাম”

মিহি পাশ থেকে বললো,
“ওহো হো, এই না হলে আমার জিজু। এসে ভালোই করেছেন জিজু। দেখুন আশেপাশে কতো ছেলে আপনার বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে জীবনে মেয়ে দেখেনি”

“তুমি কোনো চিন্তা করো না শা*লিকা এখন তোমার জিজু এসে পড়েছে। এখন আর কোনো ভয় নেই”

অর্ণবের কথায় আর কাণ্ডে মেহনাজ বেগম আর আশালতা বেগম মিটিমিটি হাসছে। মেহনাজ বেগম খুব ভালো করেই জানেন ছেলে তার আনায়া বলতে পাগল। তাই আনায়াকে একা ছাড়তে চায় না। অহনা বিরবির করে বলছে,
“ভাইয়া ভাবির জন্য ইম্পরট্যান্ট কাজ ফেলে চলে এলো আর আমার জনকে দেখো মিটিংয়ের জন্য আমাকে সাইড করে দিলো”

অহনা যখন আফসোস করতে ব্যাস্ত এমন সময় আগমন ঘটলো আবিরের। অহনা আবিরের দিকে তাকালো। ছেলেটা ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা। অহনার মায়া হলো। সবাইকে পরোয়া না করে সবার সামনেই আবিরকে জড়িয়ে ধরলো। আবির চমকে গেল। তবে নিজেকে সামলে নিল। আশেপাশে সবাইকে দেখে অহনাকে ফিসফিস করে বলল,
“কি করছো? ছাড়ো। আশেপাশে সবাই আছে। তোমার বড় ভাইও আছে। বড় ভাইয়ের সামনে একটু তো লজ্জা রাখো”

অহনা আবিরকে ছাড়তে ছাড়তে বলল,
“অন্য কাউকে জড়িয়ে ধরেছি নাকি হবু বরকেই জড়িয়ে ধরেছি। আর বড় ভাই যখন আমার সামনে তার বউক জড়িয়ে ধরে তখন”

পাশ থেকে অর্ণব বলে উঠল,
“নিজের মান সম্মান ডুববাচ্ছিস ভালো কথা সাথে আমারটাও কোনো ডুবাচ্ছিস?”

আবিরকে বলল,
“ভাই আবির তোকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তোর কাছে এই শাক*চুন্নিকে গোছিয়ে দিয়ে বাড়িটা শাক*চুন্নি মুক্ত করবো”

অহনা কিছু বলবে তার পূর্বেই মেহনাজ বেগম দুজনকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিলেন। নাহলে এরা দুই ভাইবোন শুরু হলে শেষ হওয়ার নামই নেয় না। সবাই পুনরায় শপিং করায় মনোযোগী হলো।

অর্ণবদের বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। সবাইকে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করছে। অর্ণব খুবই ব্যাস্ত। আনায়াও আজকে অনেক ব্যস্ত। ওদের বাড়িতেই সকল আয়োজন করা হয়েছে। এখন খুব নিকট আত্মীয়দের নিয়ে আকদ করা হবে। অহনার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হলে ধুমধাম করে আয়োজন করে তুলে দেওয়া হবে। আনায়া সকাল থেকে কাজে ব্যাস্ত। অহনাকে সাজিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সব কিছু আনায়াই করছে। সাজ শেষে অহনা আয়নায় নিজেকে দেখে আনায়াকে জিজ্ঞেস করলো,
“ভাবি ভালো করে দেখে বলতো সব ঠিক আছে কিনা? তোমার ভাইয়ের পছন্দ হবে তো?”

আনায়া অহনার কপালে চুমু খেয়ে বলল,
“মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে। ভাইয়া তোমাকে দেখে আজকে আবার প্রেমে পড়ে যাবে”

অহনা লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গি করে বলল,
“ইসস কি যে বলো না তুমি। আমার লজ্জা লাগছে”

“তোমার লজ্জাও আছে? আমি তো ভেবেছিলাম তোমার ভাইয়া আর তোমার একটুও লজ্জা নেই”

“ভাবি”

আনায়া কিছু বলবে তার আগে শুনলো অর্ণব ওকে ডাকছে। আনায়া অহনাকে বলে রুমে চলে এলো। আনায়া রুমে এসে দেখলো অর্ণব আয়েস করে বিছানায় বসে আছে। আনায়া আসতেই ওকে টান দিয়ে কোলে বসিয়ে নিল। আনায়া ছোটার জন্য ছটফট করছে।
“আহা কি করছো? শান্ত হয়ে বসো না। কতক্ষন হয়ে গেল বউকে একটু কাছে পাই না। বউয়ের অভাবে কেমন দুর্বল হয়ে যাচ্ছি”

“ঢঙের জ্বালায় বাঁচি না। ওদিকে কাজের শেষ নেই আর এদিকে মহারাজের ঢঙের শেষ নেই”

অর্ণব আনায়ার ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে চুপ করিয়ে দিলো।
“এখন কোনো কথা, নয় শুধু রোমান্স হবে”

অর্ণব ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আনায়ার দিকে। অধরে অধর মিলিত হবে এমন সময় বাহির থেকে কে যেন আনায়াকে ডাকছে। আনায়া অর্ণবকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিলো।
“তুমি কেমন বউ হ্যাঁ? কোথায় বরের সাথে রোমান্স করে বেশি বেশি সোয়াব কামাবা তা না করে বরকে দূরে ঠেলে দিয়ে গুনাহ কমাতে চাইছো?”

আনায়া তাড়া দেখিয়ে বলল,
“এখন কাজের সময়। কাজের সময় কাজ আর রোমান্সের সময় রোমান্স। আপনার কিছু লাগলে বলুন নাহলে আমার অনেক কাজ আছে”

“আমার তো এখন তোমাকে লাগবে”

“সবুর করুন। সবুরে মেওয়া ফলে”

অর্ণব আনায়াকে নিজের আরো কাছে টেনে নিয়ে বলল,
“আমার তো মেওয়া না, তোমাকে চাই জান”

আনায়া লজ্জা পেল। এই লোক যখন জান বলে ডাকে তখন আনায়ার মনে অন্য রকম অনুভূতি হয়। কেমন শিহরণ জাগে মনে। অর্ণব আনায়াকে ছেড়ে দিয়ে বলল,
“এখন ছেড়ে দিলাম তবে রাতে ছাড় পাবে না। তখন সুদে আসলে সব উসুল করে নিব”

আনায়া ছাড়া পেতেই দৌড়ে চলে এলো রুমের বাহিরে। সকল আয়োজন শেষ। আনায়াদের বাড়ি থেকে সবাই চলে এসেছে। আবির বসে আছে প্রিয়সীকে বধূ সাজে দেখার। কিছুক্ষন পর অহনাকে নিয়ে এলো আনায়া। বসিয়ে দিলো আবিররে বিপরীতে। অহনা ওড়নার ফাঁকা দিয়ে উঁকি দিয়ে আবিরকে দেখছে। আবির ও তাই। অবশেষে বাঁধা পড়লো দুজন পবিত্র এক সম্পর্কে। সবাই একসাথে বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ”

#চলবে?