প্রেমের তাজমহল পর্ব-৪+৫

0
95

#প্রেমের_তাজমহল
৪+৫
#পর্ব৪
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

ক্লান্ত বিকেলে আকাশে অল্প পরিসরে মেঘের আনাগোনা। বাতাসে মিষ্টি একটা ঘ্রান ভেসে আসছে যেমনটা বৃষ্টি আসার আগে পরিবেশে পাওয়া যায়। আনায়া তার ব্যালকনিতে বসে চোখ বুঝে বাতাসের সাথে আসা ঘ্রানটা অনুভব করছে। পরিবেশটা অনুভব করার মতোই। আনায়া অধির আগ্রহের সাথে বসে আছে কখন বৃষ্টি আসবে আর সে তা গায়ে মাখবে। আনায়ার চোখ বুজে থাকার মাঝেই ঝিরিঝিরি শব্দে বৃষ্টি পড়া শুরু করল। জানালার গ্রিলের মধ্যে দিয়ে হাত বাহিরে বের করল আনায়া। হাতের ওপর পড়া বৃষ্টির পানি গুলো মুখের ছিটাচ্ছে। হটাৎ কিছু মনে পড়তেই আনায়া দৌড়ে ঘরে এলো। চুরির বক্স থেকে দুই হাত ভর্তি রেশমি চুরি পরে আবার বেলকনিতে গেল। হাত বাড়িয়ে দিল বিষ্টিকে ছোয়ার প্রয়াসে। বৃষ্টির ঝিরিঝিরি শব্দের সাথে চুরির রিনঝিন শব্দটা যেন মাদকতার সৃষ্টি করছে। আনায়া বৃষ্টির সাথে তাল মিলিয়ে হাত নাড়াচ্ছে আর খিল খিল করে হাসছে। মনে হচ্ছে ও আবার ওর কিশোরী বয়সের ফিরে যাচ্ছে। কিশোরী বয়সে বৃষ্টি হলেই ছুঁটে চলে যেত ছাদে। যতক্ষণ বৃষ্টি হত ততক্ষন ভিজতো। মাঝে মাঝে জ্বরও চলে আসতো। তবুও ওকে কেউ বৃষ্টিটে ভিজা থেকে এটাকে পারতো না।

আনায়ার বাড়ির সামনে গাড়ির ভিতর থেকে এক যুবক মুগ্ধ নয়নে চেয়ে দেখছে আনায়া নামক রমণীর বৃষ্টিবিলাস। বৃষ্টির মাঝে রমণীর চুরির রিনঝিন শব্দ তাকে এক ঘরের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। এই রমণী যদি ভুলেও জানতে পারতো তার চুরির রিনঝিন শব্দ কারো মনে ঝড়ো হাওয়ার সৃষ্টি করে তাহলে হয়তো কখনোই এরূপ কাজ করতো না। যুবকটির এখন বৃষ্টির প্রতি অনেক হিং*সে কাজ করছে। এই যে বৃষ্টি নীরবে তার প্রিয়সীকে ছুঁয়ে দিচ্ছে সেটা তার একটুও সহ্য হচ্ছে না। তার প্রিয়সীকে কেন অন্য কেউ ছুঁয়ে দিবে? অন্য কারো আগমনে প্রিয়সীর ঠোঁটের ভাঁজে কেন হাসি ফুটে উঠবে? এসব ভাবনার মাঝেই কেউ একজন বলে উঠল,
“স্যার, আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। ওদিকে মিটিংয়ে সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে”

জরুরি মিটিং থাকায় এই বৃষ্টির মাঝেই অর্ণব বেরিয়েছে। আনায়ার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কি মনে করে যেন তাকিয়েছিল। এই তাকানোই যেন তার জন্য সর্বনাশ ডেকে নিয়ে এল। ড্রাইভিং সিটে বসা তাপস কে দ্রুত গাড়ি থামাতে বলল। অতঃপর এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল বৃষ্টি বিলাসী প্রিয়সীর পানে। প্রিয়াসীর নেশায় ডুবে ভুলে বসেছিল সব কিছু। তার পি এ তাপস এর ডাকে হুস ফিরল। হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিল। এখন যাওয়া দরকার নাহলে সত্যিই দেরি হয়ে যাবে।
“গাড়ি স্টার্ট না দিয়ে এখনো বসে আছো কেন? আমার দিকে এভাবে বেক্কলের মতো হা করে তাকিয়ে আছো কেন? তাড়াতাড়ি চলো”

তাপস অর্ণবের এরূপ আচারণে পুরো বেক্কেল হয়ে গেছে। একটু আগেই অর্ণবই তো তাকে গাড়ি থামাতে বলল। আর এখন তাকে বকছে। তার স্যার তার সাথে এরূপটা করতে পারলো?মনে এক আকাশ দুঃখ নিয়ে তাপস গাড়ি স্টার্ট দিল।

বৃষ্টি শেষে আনায়া ঘরে প্রবেশ করল। গায়ের জামা বৃষ্টির ঝাপটায় ভিজে গেছে, দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আনায়া জামার তাক থেকে একটা জামা টান দিতেই তার ভিতর থেকে একটা কাগজ পড়লো। আনায়া কাগজটি তুলে হাতে নিল। তার কাপড়ের ভাঁজে কাগজ কোথা থেকে আসবে। কৌতহল হচ্ছে মনে, কৌতূহলের বসে কাগজটা খুলল।

“প্ৰিয় মায়াবতী”
বিষ্টির টিপ টিপ ফোঁটা যখন ধরণীতে ঝরে পড়বে। তখন তুমি গাঁয়ে আটপৌরে ভাবে লাল শাড়ি জরিও। চোখে গাঢ় কাজল। হাতে রেশমি চুরি, বেলি ভুল দিয়ে খোপা বেধো চুল। সাথে থাকবে নুপুরের রুণঝুন শব্দ। আমি তোমার চরণ নিজের উরুর ওপর রেখে যতনে তা রাঙিয়ে দিবো লাল আলতায়। অতঃপর তোমার ওই নেশালো চরণে একে দিবো গভীর এক চুম্বন। তুমি লাজে রাঙা হয়ে ছুটে পালাবে ছাদের দিকে। আমিও ছুটবো তোমার পিছু পিছু। তখন হওয়ায় তোমার ওই দিঘল আঁচল উড়বে, পরিবেশে তোমার নুপুরের রুণঝুন শব্দের প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়বে । তুমি খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিকে গাঁয়ে মাখবে আর আমি তোমার রূপে বারেবার মুগদ্ধ হবো। বৃষ্টির তোপে তোমার ওষ্ঠ যুগল যখন শীতল হয়ে আসবে তখন আমি নিশ্চুপে তোমার ওই গোলাপ রঙা ওষ্ঠদয়ে উষ্ণতা ছুঁইয়ে দিবো। তুমি লজ্জায় নিজেকে মুড়িয়ে নিবে। আমি মুগদ্ধ চোখে তোমায় দেখবো নয়ন ভরে

ইতি
তোমার গোপন প্রেমিক

আনায়া চিঠিটা বুঁকের মাঝে জড়িয়ে নিল। মনে পড়ে গেল পুরোনো কথা। কিশোরী বয়সে চিঠিটা পড়ে সেকি লজ্জা পেয়েছিল সে। তার গাল গুলো লজ্জায় রাঙা হয়ে গিয়েছিল। মনে মনে চিঠির পুরুষটিকে “অসভ্য পুরুষ” নামে আখ্যা দিয়েছিলো। ওকে ব্লাসিং করতে দেখে অর্ষা ওকে ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,
“কিরে তুই এরকম ব্লাসিং করছিস কেন? তোর গাল গুলো তো পাকা টমেটোর মতো হয়ে যাচ্ছে”

লাজুক আনায়া তখন কিছু বলতে পারেনি অর্ষা কে।কি বলবে ও, ওতো তখন চিঠির পুরুষের ভাবনায় বিভোর ছিল। সেই লাজুক আনায়া এখন আর নেই। সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করেছে। ওর মনে প্রশ্ন জাগলো সব চিঠি তো ও গোপন ড্রায়ারে রেখেছিল, তাহলে এটা এখানে এল কিভাবে? হয়তো মনের ভুলে রয়ে গেছে। বুক চিরে বেরিয়ে এল দীর্ঘনিশ্বাস। কাগজটা গোপনা ড্রয়ারে রেখে চলে গেল ফ্রেশ হতে।

নীলিমা আর মিহির জোড়া জুড়িতে আনায়াকে শপিং এ আসতো হলো। ওর কোনো ইচ্ছার ছিলো না আসার। দুজনে ওকে ধরে বেঁধে নিয়ে এসেছে।
“তোমাদের শপিং করা দরকার তোমরা আসতে। আমাকে ধরে বেঁধে নিয়ে এলে কেন?”

নীলিমা বলল,
“বাড়িতে মেয়ে বলতে তুমি, আমি আর মিহি। আমরা রোদে শপিং করবো আর তুমি বাড়িতে বসে থাকবে তা তো হবে না ননদিনি। আর তুমি কেমন মেয়ে, সব মেয়ে যেখানে শপিং করার জন্য বায়না ধরে সেখানে তোমাকে ধরে বেঁধে নিয়ে আসতে হয়?”

মিহি ভেংচি কেটে বলল,
“ওতো মেয়ের কাতারেই পড়ে না ভাবি। নাহলে যেখানে সব মেয়েরা অর্ণব সিকদারের পিছনে পা*গল সেখানে ও তাকে ও পাত্তাই দিচ্ছে না”

আনায়া মিহির পিঠে ঠাস করে একটা থা*প্পড় লাগিয়ে দিল।
“আমি তোর বড় ভুলে যাস না। বড় বোনের সম্পর্কে এসব বলতে মুখে আটকায় না?”

মিহি পিঠ ডলতে ডলতে বলল,
“তুমি আমার পিঠটা জ্বালিয়ে দিলে। তোমার মনে কি একটুও মায়া দয়া নেই। সবার জন্য না হলেও আমার জন্য আর অর্ণব ভাইয়ার জন্য হলেও একটু তো মায়া করা শিখো”

“আমার মনে অনেক মায়া দয়া আছে। কিন্তু সেটা তোর আর তোর অর্ণব ভাইয়ার জন্য এক ফোটাও নেই”

এভাবেই ঝগড়া করতে করতে ওরা পৌঁছে গেল শপিং মলে। ড্রেসের দোকানে যেয়ে যে যার মতো ড্রেস দেখছে। আনায়ার কিছু কিনার ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও নীলমা জোর করার কিছু জামা দেখছে। কিন্তু কোনোটাই ওর পছন্দ হচ্ছে না। হটাৎ কানে ভেসে এল একটা মিষ্টি ডাক,
“মায়াবতী”

#চলবে

#পর্ব৫
#আফিয়া_আফরোজ_আহি

“মায়াবতী”

ডাকটা কানে আসতেই আনায়ার মনে ধক করে উঠল। আশেপাশে তাকাল কিন্তু সন্দেহ জনক কাউকে পেল না। আনায়া ভাবল ও হয়তো বেশিই ভাবছে। এটা ওর ভাবনার ফল নাহলে সেই মানুষটা এখানে কোথা থেকে আসবে। যদিও এই শহরেই তো তার বসবাস। আনায়া নিজের মন থেকে সকল ভাবনা সরিয়ে জামা সিলেক্ট করায় মগ্ন হলো। কিছু মুহূর্তের ব্যবধানে কানে আবারও ভেসে এলো একই সম্মোধন। আনায়া এবার নিজেকে ঠিক রাখতে পারলো না। সারা দোকানে নজর বুলালো। কাউকেই পেল না। খুঁজতে খুঁজতে ও দোকান থেকে বের হলো। সাথে সাথেই ধাক্কা খেল এক শক্ত পক্ত মানুষের সাথে। আনায়া ধাক্কা খেয়ে নিজেকে সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিবে তার পূর্বেই এক জোড়া বলিষ্ঠ হাতের বাঁধনে আটকা পড়ে গেল। আনায়াও নিজেকে বাঁচাতে সামনের মানুষটার হুডির বুঁকের কাছটা খামচে ধরল। আনায়া চোখ মেলে চেয়ে দেখল মুখে মাস্ক লাগানো এক যুবক তার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আনায়া নিজের অবস্থান লক্ষ্য করে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু ব্যর্থ হলো। যুবকটা তাকে এতটা কঠোর বন্ধনে বেঁধেছে সে চাইলেই তা ছিন্ন করতে পারছে না। ব্যর্থ হয়ে আনায়া কঠোর স্বরে বলল,
“ছাড়ুন। আর কতক্ষন এভাবে ধরে আর রাখবেন”

আনায়ার কথায় যুবকটির ধ্যান ফিরল। সে এতক্ষন ঘোরের মধ্যে ছিল। আনায়ার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে বলল,
“শুধু আমি যে তোমায় ধরে রেখেছি এমনটা কিন্ত নয়। আঁকড়ে ধরার প্রয়াস তোমার মাঝেও আছে”

আনায়া যুবকটির কথা বুঝতে না পেরে প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে চাইল তার পানে। যুবকটি চোখের ইশারায় আনায়ার হাতের দিকে ইশারা করল। এখনো আনায়া যুবকটির হুডি আঁকড়ে ধরে রয়েছে। আনায়া সাথে সাথে হাত সরিয়ে ফেলল। কিন্তু তবুও যুবকটির মাঝে তাকে ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আনায়া আশেপাশে তাকিয়ে দেখল অনেক মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ওর নিজেরও অসস্তি হচ্ছে।
“এবার তো ছাড়ুন। আশেপাশের মানুষ তাকিয়ে আছে। আমার অসস্তি হচ্ছে”

যুবকটি আনায়ার দিকে কিছুটা ঝুঁকে বলল,
“তোমার অসস্তি হলেও আমার কিন্তু ভালোই লাগছে”

বলেই চোখ টিপ দিল। আনায়ার আর সহ্য হলো না। ইচ্ছে করছে ধাক্কা দিয়ে লোকটাকে সরিয়ে দিতে। ও করলও তাই ধাক্কা দিয়ে যুবকটিকে সরিয়ে দিল। আশেপাশ থেকে তাকিয়ে থাকা মানুষদের উদ্দেশ্যে ধমকের স্বরে বলল,
“সিনেমা চলছে এখানে? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”

এতক্ষনে নীলিমা আর মিহিও দোকানের বাহিরে এসে দাঁড়িয়েছে। ওরা এতক্ষন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলো। নীলিমার উদ্দেশ্যে বলল,
“ভাবি তোমাদের কেনাকাটা হলে চলো। আমার ভালো লাগছে না”

নীলিমা কিছু বলবে তার আগেই মিহি বলল,
“আমাদের তো এখনো কিছুই কিনা হয়নি আপু। এখনই চলে যাবে”

“আনায়া বোন আমার এরকম করে না। আজকে বেড়িয়েছি আবার কবে না কবে বের হব তার ঠিক নেই। আরো কিছুক্ষন থাকো প্লিজ”

“ঠিক আছে। যাও তোমাদের কি কি কেনা বাকি তা দেখো”

আনায়া দোকানের ভিতরে ঢুকতে নিবে এমন সময় আবার যুবকটি ওর হাত ধরল। আনায়া তাকিয়ে আবার যুবকটিতে দেখে মাথা গরম হয়ে গেল। বড় অ*সভ্য তো ছেলেটা। একটু আগে বা পড়ে যেতে নিয়েছিল বলে ধরেছিল এখন আবার হাত ধরছে কেন? আনায়া ঝাড়ি দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
“আপনার সমস্যা কি? আবার হাত ধরছেন কেন? একটা অপরিচিত মেয়ের হাত ধরতে লজ্জা লাগে না”

“তোমার হাত ধরতে আবার লজ্জা কিসের। তুমি তো আমার ভবিষ্যত বউ”

যুবকটি নিজের মুখ থেকে মাস্ক সরালো। মুহূর্তের ব্যবধানে আবার মাস্ক পড়ে নিল। যুবকটি আর কেউ নয় স্বয়ং অর্ণব। আনায়া অবাক এই লোকটা ওর পিছু পিছু এখানেও চলে এসেছে। কিন্তু তার তো এখানে আসার কথা না। ও যেখানেই যাচ্ছে মানুষটা ওর পিছু পিছু চলে আসছে। এটা কি ডেস্টিনি নাকি পরিকল্পিত?
“আপনি এখানেও চলে এসেছেন? এখন কি শপিং মলেও রাজনীতি হয় নাকি?”

“আমি তো এখানে তোমার জন্য এসেছি”

আনায়া অবাক হলো। লোকটা ওর জন্য এসেছে মানে? ও কি তাকে আসতে বলেছে নাকি?
“আমার জন্য এসেছেন মানে? আমি কি আপনাকে আসতে বলেছি”

“উহু, তুমি আসতে বলনি কিন্তু আমি আমার দায়িত্ব বোধ থেকে এসেছি”

“দায়িত্ব বোধ?”

“এই যে তোমার মতো সুন্দরী একটা মেয়েকে যদি হাঁটতে হাঁটতে কোথাও হারিয়ে যায় তখন আমার কি হবে ভেবে দেখেছো? সেটা তুমি ভাববে কেন? সকল ভাবনা তো আমার। আর আমার সেই দায়িত্ব বোধ থেকেই আমি তোমাকে পাহারা দিতে এসেছি”

আনায়া হতাশ, পুরাই হতাশ। এই লোকের দায়িত্ব বোধের নমুনা দেখে ওর বিরক্ত লাগছে। এ নাকি আবার সংসদ সদস্য, আদোও কি কথা টা গ্রহণ যোগ্য? কে জানে? নীলিমা আর মিহি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদের দুস্টু মিষ্টি কথোপকথন শুনছিল আর হাসছিলো। মিহি আফসোসের সুরে বলল,
“আজ কেউ আমাদের পাহারা দিতে আসে না বলে আমরা কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে তার গাঁয়ে পড়তেও পারি না। আফসোস, বড়োই আফসোসের বিষয়”

নীলিমা আর অর্ণব মিহির কথায় হেসে দিল। আনায়া ওর পিঠে একটা চাপর দিয়ে বলল,
“বেশি আফসোস হলে বল কাকাই কে বলে তোকে বিদায় করি। তোর মতো শ*য়তান মেয়ে আমাদের বাড়িতে আর রাখা যাবে না”

“বললেই হলো নাকি। উল্টো তোমাকে শশুর বাড়ি পাঠিয়ে আমি একা খান বাড়িতে রাজত্ব করবো”

“বকবক বাদ দিয়ে যা কিনার তাড়াতাড়ি কেন নাহলে তোদের ফেলেই আমি চলে যাবো”

নীলিমা আর মিহি ওদের কেনা কাঁটা করতে চলে গেল। ওরা চলে যেতেই অর্ণব আনায়ার হাত ধরে সামনের দিকে হাঁটা দিল।
“আজব আপনি আমাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?আপনি এরকম চোর টাইপ সাজ দিয়েছেন কেন?”

অর্ণব নিজের দিকে তাকাল। ওর পরনে কালো প্যান্ট, কালো হুডি, হাতে কালো রঙের ঘড়ির, পায়ে কালো সু। আনায়ার ওকে দেখে চোর মনে হচ্ছে?
“প্রথমত আমি তোমায় বেঁচে দিতে নিয়ে যাচ্ছি না, গেলেই দেখতে পারবে। দ্বিতীয়ত তুমি হয়তো “আশিয়ান সিকদার অর্ণবের” সম্পর্কে জানো না। এখানে যদি এভাবে না এসে সাধারণ ভাবে আসতাম তাহলে এখানে ভীড় লেগে যেত। আশেপাশের সব মেয়েরা আমাকে ঘিরে ধরতো। তখন নিশ্চয়ই তোমার ভালো লাগবে না? তোমার কথা ভেবেই আমি এভাবে এসেছি। আর তুমি আমাকে চোর বলছো”

আনায়া ভেঙিয়ে বলল,
“ভীড় জমে যাবে না ছাই। ভাব নেওয়া বন্ধ করুন। আর আমার জানা মতে চোররাই চুরি করার আগে নিজেকে পরিপূর্ণ আবৃত করে আসে যেন কেউ তাকে চিনতে না পারে তাই”

কথা বলতে বলতে ওরা অর্ণব আনায়া কে নিয়ে একটা চুরির দোকানে এল। দোকানদার কে বলল অনেক ধরনের রেশমি চুরি বের করতে। দোকানদার অনেক গুলো চুরি অর্ণবের সামনে রাখল। অর্ণব আনায়ার হাত নিজের হাতে নিয়ে নিজেই চুরি পড়িয়ে দেখছে কোনটা ওর হাতে সুন্দর লাগে। আনায়া দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অর্ণবের পাগলামো দেখছে। অর্ণব অনেক গুলো চুরি দোকানদার কে বলল প্যাক করে দিতে বলল। দোকানদার প্যাকিং করে একটা বড় বক্স ওদের সামনে রাখল। আনায়া লোকটা কাণ্ডে হতবাক। এতো গুলো চুরি দিয়ে ও কি করবে? লোকটার মাথার তার কি ছিঁড়ে গিয়েছে।
“আপনি কি পাগল ? এতো গুলো চুরি কিনলেন? এতো চুর দিয়ে আমি কি চুরির দোকান দিবো?”

“অবশ্যই আমি পাগল। তবে সেটা শুধু এবং শুধু তোমার জন্য। এই চুরি গুলো তুমি এখন পাবে না, আমাদের বিয়ের পড়ে পাবে। তুমি নিত্য নতুন চুরি পরে আমার সামনে ঘুরবে। আমি মুগদ্ধ নয়নে তোমাকে দেখবো। তোমার চুরির রিনঝিন শব্দে আমি মাতোয়ারা হবো”

“আপনি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে থাকেন”

অর্ণব আনায়ার চোখে চেয়ে বলল,
“স্বপ্ন পূরণ হতে কতক্ষন?”

#চলবে?