ফুলপিসি পর্ব-০৯

0
70

#ফুলপিসি
#লেখা_Bobita_Ray
পর্ব- ০৯

ঋষি ছুটে গিয়ে, পৃথিলার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। বলল,
-‘ঘরে চলো?
পৃথিলা ফুলপিসির ঘরে, হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে ছিল। অন্যদিকে তাকিয়ে মলিণ কণ্ঠে বলল,
-‘যাব না।
ঋষি দীর্ঘশ্বাস ফেলে পৃথিলার মুখোমুখি বসল।
পৃথিলার গালে হাত রেখে বলল,
-‘কেন যাবে না? কী করেছি আমি?
-‘ তুমি কেন অন্য মেয়েদের নাম্বার চেয়েছো?
ঋষি অসহায় বোধ করল। বলল,
-‘হায় ভগবান..পৃথিলা আমার চোখের দিকে তাকাও? গড প্রমিস..ওই কুটনি মহিলা তোমাকে মিথ্যে কথা বলেছে।
ফুলপিসি চেয়ারে বসে বসে পা দুলিয়ে, পাইপ দিয়ে ম্যাংগোজুস খাচ্ছিল। ঋষির কথা শুনে চোখ রাঙিয়ে বলল,
-‘খবরদার আমাকে কুটনি বলবি না.. বেয়াদব।
ঋষি বিরক্ত হয়ে বলল,
-‘পৃথিলা তুমি চলো তো?
পৃথিলা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
-‘বললাম তো যাব না।
ঋষি রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পিসির হাত থেকে ম্যাংগোজুসের বোতল টা কেড়ে নিয়ে, জানালা দিয়ে ফেলে দিল। বলল,
-‘এবার শান্তি হয়েছে তোমার?
ফুলপিসি নীচু কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
-‘তুই যে এক নাম্বারের আহাম্মক, গাধা। এগুলোই তার প্রমাণ, বুঝলি? কোথায় তুই বেকার দেখে, বউয়ের রাগ ভাঙানোর একটা কাজ দিলাম। খুশিতে গদগদ হয়ে কাজটা করবি। তা না। উল্টো আমার উপর রাগ ঝাড়ছিস। যা ভাগ..? তোর বউ তোরে দিমু না।
ঋষি, পৃথিলার কাছে চলে গেল। বলল,
-‘পিসি একটু চোখদুটো বন্ধ করো তো?
ফুলপিসি ভেংচি কেটে বলল,
-‘কেন? উল্টাপাল্টা কিছু করবি? বুড়ো বয়সে ভুতপ্রেত দেখার শখ নাই আমার, বুঝছোস?
ঋষি বিরক্ত হয়ে বলল,
-‘পাগলের মতো এত বকবক করো কেন তুমি?
-‘তোর চৌদ্দ গুষ্টি পাগল রে.. গাধার বাচ্চা।
পিসি উঠে বেলকনিতে চলে গেল। ঋষি চট করে পৃথিলার গালে চুমু এঁকে দিল। কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
-‘পিসির মতো তারছেঁড়ার কথায় তুমি আমাকে ভুল বুঝছো? ফুলপিসি কখন কী করে, কী বলে, ওনি নিজেও জানে না। ঘরে চলো না জানপাখি?
পিসি বলে দিয়েছে, অল্পতেই মোমের মতো গলে যাবি না ছেমড়ি। লোহার মতো শক্ত হয়ে থাকবি। তখন দেখবি, আসল মজা কারে কয়। ঋষির বউকে ঘরে নিতে না পারার দুঃখ, মনে মনে খুব উপভোগ করছে পৃথিলা। আবার ঋষির আদর আদর কাজকর্মগুলোও ভাল লাগছে। পৃথিলা, ঋষিকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে, কণ্ঠে বিরক্ত ফুটিয়ে বলল,
-‘তুমি যাও তো?
ঋষি এবার ভয়াবহ রেগে গেল। চাপা কণ্ঠে বলল,
-‘ঘরে যেতে হবে না তোমাকে। থাকো। ওই মুটকির সাথেই থাকো তুমি। অসহ্য…
ঋষি একাই চলে গেল। ফুলপিসি ঘরে এসে বলল,
-‘কী রে তোর জামাই তোরে না নিয়েই চলে গেছে? এই পোলাডার এত ধৈর্য কম কেন, কে জানে! এত রঙঢঙ না করে আর একটু আগে পটে যেতে পারলি না?
পৃথিলা মন খারাপ করে বলল,
-‘তোমার জন্যই তো।
-‘বলে কী মেয়ে? একদম আমারে দোষ দিবি না পৃথিলা। একরাত জামাইয়ের সাথে না শুলে কিছুই হয় না। তোর পিসেমশাই ওই বাড়িতে গেছে। আজ রাতে ফিরবে না। নে তুই বরং আমার পাশে শুয়ে পর?

তিনদিন পর ঋষি বাসায় ফিরল। কোথায় জামাইয়ের পাশে শুয়ে দুটো সুখ দুঃখের গল্প করবে, তা না। এখন সারারাত জেগে ফুলপিসির কর্কশ কণ্ঠের নাক ডাকা শুনো? ধেৎ ভালো লাগে না। কানে বালিশ চাপা দিল পৃথিলা। তাতেও কাজ হচ্ছে না। মানুষ এত জোরে জোরে নাক ডাকে কীভাবে? কে জানে! একটু পরেই অনুভব করল, ফুলপিসি পৃথিলার পিঠে মাথা দিয়ে জোরে গুঁতো দিয়েছে। তারপর ফুলপিসি ঘুমের ঘোরে এক ঠ্যাং পৃথিলার গায়ের উপর তুলে দিল। পৃথিলা ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল। ভয়ে জান যায় যায় অবস্থা। এখন খুব কান্না পাচ্ছে। ঋষিটা আর একটু জোর করলে কী এমন ক্ষতি হতো? এখন এই মুটকির জ্বালাতন সারারাত সহ্য করো! পৃথিলা ভয়ে ভয়ে আবারও শুয়ে পরল। কেবলই তন্দ্রা ভাব এসে গিয়েছিল! ঠিক তখনই ঠেলতে ঠেলতে, পৃথিলাকে বিছানা থেকে ফেলে দিল ফুলপিসি। পৃথিলা ব্যথা পেয়ে শব্দ করে কেঁদে দিল। বিড়বিড় করে বলল,
-‘আমার খুব শিক্ষে হয়েছে। মনে থাকলে আর জীবনেও ওনার কাছে শুবো না। পিসেমশাই যে কীভাবে সহ্য করে, কে জানে! আজ থেকে আমি ওনার নাম দিলাম ‘মুটকি পিসি’।
পৃথিলা পা টিপে টিপে দরজা খুলে ঋষির ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দরজায় আলতো ধাক্কা দিয়ে, নীচু কণ্ঠে বলল,
-‘এই ঋষি দরজা খুলো? আমি এসেছি।
দরজা একা একাই খুলে গেল। আশ্চর্য ঋষি কী দরজা লাগিয়ে ঘুমায়নি? কোনো ভাবে কী জানতো, আমি আসব?
পৃথিলা ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিয়ে, ঋষির পাশে গিয়ে গুটিশুটি মেরে শুলো। ঋষি ঘুমের ভাণ ধরে ঘাপটি মেরে পরে ছিল। ওভাবেই পৃথিলাকে বুকে টেনে নিল। পৃথিলা, ঋষির বুকে মুখ গুঁজতেই স্বর্গীয় শান্তি অনুভব করল।

সকালে ঠোঁটকাটা ফুলপিসি সারা বাড়ি রটিয়ে দিল। পৃথিলা জামাই ছাড়া ঘুমাতে পারে না। আগ রাতে খুব পণ্ডিতি করে না কী পিসির কাছে শোবার আবদার করেছে। অর্ধেক রাতে মানুষের জলের তৃষ্ণা পায়। পৃথিলার না কী ঋষির তৃষ্ণা পেয়েছে। তাই ফুল পিসিকে একা ঘরে রেখে পালিয়ে গেছে। ঋষির বাবা যতক্ষণ বাড়িতে ছিল। ততক্ষণ লজ্জায় পৃথিলা ঘর থেকেই বের হলো না। ঋষির তাতে অবশ্য হেলদোল নেই। উল্টো মনে মনে ব্যাপক খুশি হয়েছে। একটু পর পরই এক চোখ টিপে আমুদে কণ্ঠে বলছে,
-‘কী পৃথিলা আরও শোবা ফুলপিসির কাছে?
পৃথিলা জোরে জোরে ‘না সূচক’ মাথা নাড়ে। ঋষি হেসেই কুটিকুটি। বিড়বিড় করে বলে,
-‘বেশ হয়েছে। এতে যদি দুজনের মাখো মাখো ভাব একটু কমে। এদের জন্য আমার বউকে আমি মন চাইলে কাছে পাই না।

ফুলপিসি সেজেগুজে এসে বলল,
-‘চল পৃথিলা? কাল একটা বিয়ের নিমন্ত্রণ আছে। একটু পার্লারে যামু।
-‘আমি যাব না।
-‘ঢঙ করিস না তো। মেজাজ এমনিতেই গরম আছে।
-‘তোমার কেন মেজাজ গরম হবে? মেজাজ গরম হওয়ার কথা তো আমার।
ফুলপিসি আচমকা পৃথিলার হাঁটু চেপে ধরে বলল,
-‘আমার ভুল হয়েছে। ভুল না..ভুল না.. মহা মহা অন্যায় হয়েছে মা জননী। প্লিজ আপনার এই পাপী বান্দীকে ক্ষমা করে, মহৎ হৃদয়ের পরিচয় দিন?
-‘কী হচ্ছে? পা ছাড়ো ফুলপিসি?
-‘তাহলে তুই চল?
এই মানুষটাকে কী দিয়ে তৈরি করেছে সৃষ্টিকর্তা? কে জানে! মানুষটার উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকা যায় না। পৃথিলা সব রাগ, জেদ ভুলে সেজেগুজে পিসির হাত ধরে, পার্লারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেল।

ঋষি, দুইজনের গলায় গলায় ভাব দেখে, ঠোঁট উল্টিয়ে বলল,
-‘যাহ্ বাবা..এদের মিলও হয়ে গেল?

ফুল পিসির একটা বদঅভ্যেস আছে। পার্লারে এসে প্রচুর বকবক করে। ফুলপিসির ভ্রু প্লাক করার সময় কৈ মাছের মতো নাড়াচাড়া করল। আজব তো! এত ব্যথা পেলে ভ্রু প্লাক করা লাগবে কেন? যে পিসির ভ্রু প্লাক করে দিচ্ছিল। সে বোধহয় নতুন কাজ শিখেছে। পিসির এত নাড়াচাড়া দেখে, আহা..উহু করা দেখে, সে হাতের সুঁতো টানার ব্যালেন্স ঠিক রাখতে পারল না। ভুলে ডান ভ্রুর মাঝখান দিয়ে টানতে লাগল। ব্যথা পেয়ে মেয়েটার হাত বার বার সরিয়ে দিচ্ছিল ফুলপিসি। মেয়েটি ফুলপিসির ভ্রু’র শেইপ ঠিক করতে গিয়ে চিকুন করতে করতে প্রায় ভ্রু তুলে ফেলল। পিসি নিজেকে আয়নায় দেখে, আঁতকে উঠল। হঠাৎ এক হাজার একশো পাওয়ারের শক খেলে যেমন অনুভূতি হয়। তার থেকেও বাজে অনুভূতি হচ্ছে ফুলপিসির। চিৎকার করে বলল,
-‘এই ছেমড়ি তুই আমার সব ভ্রু তুলে ফেলছিস কেন? দে আমার ভ্রু, ভেতর দে?
পার্লারের সবাই হকচকিয়ে গেল। পৃথিলা বসে বসে একমনে ফোন টিপছিল। পিসির চিৎকার, চেঁচামেচির শব্দ পেয়ে ছুটে এলো। ভীতু কণ্ঠে বলল,
-‘কী হয়েছে পিসি?
-‘ওরে..পৃথিলা। দ্যাখ..দ্যাখ..এই ছেমড়ি আমার সবগুলা ভ্রু তুলে ফেলছে রে। আবার গলাবাজিও করতেছে। আমি না কী বেশি নড়াচড়া করছি দেখে, আমার ভ্রু তুলে ফেলছে। ওরে..ছেমড়ি রে.. তুই পারবি না। আমারে আগে কইতি। আমি অন্য পার্লারে যাইতাম। পার্লারের কী অভাব পরছে? ওই ছেমড়ি.. আমি এতকথা বুঝি না। তুই আমার আগের ভ্রু ফেরত দে?
শেষের কথাগুলো একগুঁয়ের মতো, এক হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল ফুলপিসি। বার বার আয়নার দিকে তাকাচ্ছে মানুষটা। ইশ, এক ভ্রু না থাকলে কী বাজে দেখা যায়!
যার পার্লার সে এসে বলল,
-‘কী হয়েছে?
-‘কী হয়নাই তাই কন? আমার দিকে তাকিয়ে দ্যাখেন? ওই ছেমড়ি আমার ভ্রু খাইয়া দিছে। আমি তো ভ্রু না নিয়া কিছুতেই যামু না, আপনার পার্লার থেকে। ওই ছেমড়ি তুই কী ভালোই ভালোই আমার ভ্রু ফেরত দিবি? না দিলে একটা ব্লেড আন? তোর এক ভ্রু আমি চাচুম। তারপর এখান থেকে যামু। এই আমি বসলাম। ওই পৃথিলা মোবাইল বের কর? ভিডিও কর এই পার্লারের? এবার আমারে ভাইরাল হওয়া থেকে কে আটকায় আমিও দেখুম।
-‘ম্যাডাম আপনার ভ্রু কাজল দিয়ে ঠিক করে দেই? প্লিজ সিক্রেট করবেন না।
ফুলপিসি দিক-দিশা না পেয়ে ঋষিকে ফোন দিল। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল,
-‘ওরে ঋষিরে.. তুই কোথায় ময়না? আমার এক ভ্রু নাই।
এটা আবার কোন নাটক?
ঋষি হকচকিয়ে গেল। চিন্তিত হয়ে বলল,
-‘কী হয়েছে? ঠিক ভাবে বলো?
-‘ওই ছ্যামড়া তুই পুলিশ নিয়ে আয় শিগগিরই? পরে তোরে আমি ঠিক ভুল বুঝাইতেছি।
ওরে তোরা কেউ একটু বরফ দে রে আমারে? আমার তো মাথার ভেতর কেমন জানি করতেছে। মনে হয় আগুন ধরে যাইবো।
পৃথিলা শুকনো ঢোক গিলে বলল,
-‘পিসি চলো বাড়ি যাই? ওনাদের ভুলের জন্য ওনারা তো ক্ষমা চাইছে।
-‘চুপপপ..আমার ভ্রু না নিয়া আমি কোত্থাও যামু না। হয় আমার ভ্রু সুন্দর করে দিবো আর নাহয় আগের মতো করে দিবো।
পিসি হাত উঁচিয়ে বলল,
-‘ওই ছেমড়ি তুই দূরে দাঁড়াইয়া রইছিস ক্যান? আমার কাছে আয়?
মেয়েটা প্রচুর ভয় পেয়েছে। এরকম পাগলী কাস্টোমার জীবনেও দেখেনি। নিজের দোষেই ওনার ভ্রু নষ্ট হয়েছে। এখন শুধু শুধু দোষ দিচ্ছে মেয়েটার। প্রতিশোধ নিতে যদি মেয়েটার চুল কাটতে চায়। তাহলে চুল কাটতে দেবে। কিন্তু ভ্রু কিছুতেই নষ্ট করতে দেবে না। মরে গেলেও না। এমনিই কিছুদিন আগে নতুন নতুন প্রেম হয়েছে। বয়ফ্রেন্ড যদি ছোলা ভ্রু দেখে, কিসের প্রেম! ভয়েই তো পালাবে।
পৃথিলা, ফুলপিসিকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে, এক ডজন কাজল, মুখের ফর্সা হওয়ার ক্রীম, কিছু সাজের সামগ্রী ক্ষতিপূরণ হিসাবে নিয়ে, তবেই পার্লার থেকে যেতে সক্ষম হলো। মনে মনে হাজার বার কান ধরলো পৃথিলা। মরে গেলেও আর ফুলপিসির সাথে কোনদিন পার্লারে আসবে না। বাবা রে..কী ডেঞ্জারাস মহিলা।

পিসি বাড়ি এসে, শিখাকে দেখে তাড়াতাড়ি আধা মাথা ঘোমটা দিয়ে, মুখটা ঢেকে ফেলল। বিড়বিড় করে বলল,
-‘এমন সময় এই ডাইনীটার আসার ছিল।
শিখা কৌতূহল দমিয়ে রাখতে পারল না। এগিয়ে এসে বলল,
-‘দিদি আপনি আমাকে দেখে ঘোমটা দিলেন কেন? দেখি মুখ দেখি?
ফুলপিসি মিনমিন করে বলল,
-‘আমি আজকাল যাকে তাকে মুখ দেখাই না। স্যরি।
শিখা অন্যদিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটল। ঘোমটার এক কোণা টেনে ধরে বলল,
-‘আরে দেখান না? আমরা আমরাই তো।
ফুলপিসি রেগে গেল। বলল,
-‘আরেহ..আজব তো। আমি তোমাকে মুখ দেখাবো না৷ বললাম তো। তুমি কী জোর করেই আমার মুখ দেখবা শিখা? বেশ, একলক্ষ টাকা দাও? তাহলেই মুখ দেখাব। শুধু মুখ না যা দেখতে চাইবা, তাই দেখাবো। এবং তোমার জামাইকেও বলে দেব, তুমি মহিলা থেকে লেসবিয়ান হয়ে গেছো।
শিখা রেগে গেল। বলল,
-‘দিদি এত সস্তা রসিকতা আমার সাথে ভুলেও করবেন না। অসহ্য..
ফুলপিসি সেকথায় পাত্তা দিল না। পৃথিলাকে নিয়ে ঋষির ঘরে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দিল। ঋষি, ফুলপিসিকে দেখে চমকে উঠল। বলল,
-‘তোমাকে এমন দেখা যাচ্ছে কেন?
ফুলপিসি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে, ভ্রু’তে আর একটু মোটা করে কাজল টানলো। হতাশ হয়ে বলল,
-‘তোর চোখ টিপাটিপি কাকাশ্বশুর আমাকে পছন্দ করেছে। সেই দুঃখে ভ্রু’রই কেটে ফেললাম।
ঋষি বিষম খেলো। পৃথিলা মুখটিপে হেসে দিল। বিড়বিড় করে বলল,
-‘পিসি তুমি রক্স.. আমরা সবাই তোমার কীর্তি দেখে, শকস।

(চলবে)