বিয়ে পর্ব-৩৭

0
225

#বিয়ে
#লেখনীতে -ইসরাত জাহান ফারিয়া
#পর্ব-৩৭

অদ্রি আজ আটকালো না ওকে, বরং সামলালো। রাগ করলো না মোটেও। ধ্রুব’র দিকে নির্বিকার চেয়ে
থেকে ভ্রু কুঁচকে বলল,
— এত রাগ করলে হয়? চলুন বাইরে থেকে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করে আসি!
বলতে বলতে আলো জ্বালালো ঘরে। কাবার্ডের খুলে কাপড় বের করতে থাকলো। ধ্রুব সব অবলোকন করে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বলল,
— কেন? ডিভোর্স নিবে তাই?
অদ্রি ব্যস্ত গলায় উত্তর দিলো,
— না তো, নতুন বিবাহিত জীবনের জন্য! বিলটা
আমি পে করবো, রিকশা ভাড়া আপনি পে করবেন। ওকে?

অদ্রির নিচু স্বরে বলা কথাগুলো শুনে ধ্রুব স্তম্ভিত হয়ে গেলো। ভ্রু দুটো আপনাআপনি কুঁচকে এলো। অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। ভুল কিছু শুনেছে নাকি এটা বাস্তবেই ঘটেছে? ধ্রুব’র বিশ্বাস হলো না। অদ্রিকে তো সে ভালো করেই চেনে৷ ওর মুখ দিয়ে এসব কথা বেরুনো একপ্রকার অসম্ভব৷ আজকাল তো অদ্রিই ওর মাথায় ঘুরপাক খায়, ভ্রমই হবে হয়তো! ওকে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অদ্রি ওর সামনে এসে দাঁড়ালো। ধ্রুব বিস্মিত চোখে ওকে আপাদমস্তক লক্ষ্য করে বলল,
— তুমি কিছু বলছিলে? আমি ঠিক শুনলাম?
— মানে?
— এক্ষুনি তুমি কি বললে?
অদ্রি ভ্রু কুঁচকে এলো। এত গুরুত্বপূর্ণ কথাটা ধ্রুব শুনতেই পায়নি? নাকি শুনেও না শোনার ভান করছে? ও কি বয়রা হয়ে গেলো? একটু তেজ নিয়েই সে বলল,
— বয়রা হয়ে গেলেন নাকি?
ধ্রুব’র চোয়াল শক্ত হয়ে এলো,
— তুমি কিন্তু আমাকে অপমান করছো।
— আশ্চর্য! তাহলে কি করা উচিৎ বলুন তো? এতদিন তো ভালোবাসা পাওয়ার জন্য বাড়ি ছেড়ে পথে পথে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এখন যখন ভালোবাসা বিলি করছি তখন আপনি বয়রা হয়ে গেলেন?
ভালোবাসার কথা শুনে ধ্রুব’র মনটা হালকা হয়ে ওঠছিলো। কিন্তু পরক্ষণেই কটুক্তি শুনে ওর মেজাজ বিগড়ে গেলো,
— তোমার সাথে কথা বলাই বৃথা। সহজভাবে কথা বলা আসলে তোমার দ্বারা সম্ভব নয়!
অদ্রির রাগান্বিত গলা,
— ঘোড়ার ডিম। এত বাজে না বকে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে আসুন।
— কেন?
— বাইরে খেতে যাবো। সেই কখন থেকে বলছি?
ধ্রুব শক্ত হয়ে সোফায় গিয়ে বসে পড়লো। গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— আমি কোথাও যাবো না।
অদ্রিও দমে যাওয়ার পাত্রী নয়,
— আপনার ঘাড় যাবে।
ধ্রুব’র গলায় তাচ্ছিল্য,
— মুক্ত জীবন পাওয়ার আনন্দে তুমি সেলিব্রেট করো, কে মানা করেছে? কিন্তু তোমার সঙ্গী হিসেবে
আমাকে চুজ করে ভুল করেছো, আমি এতোটাও নিচে নেমে যাইনি যে তোমার সাথে এসব সেলিব্রেট করতে যাবো…
বিস্মিত, কুন্ঠিত অদ্রির রাগে গা কাঁপতে লাগলো। এসব আবোলতাবোল কথাবার্তা কেন বলছে ধ্রুব? নতুন জীবন শুরু করার যে অফারটা অদ্রি করলো সেটা কি ধ্রুব শুনতে পায়নি? তাহলে এখনো কেন সেই এক কথা বলছে? দু-চোখ বন্ধ করে নিজের রাগ দমন করার চেষ্টা করলো। এই রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। রাগের কারণে কিছু হারাতে চায় না ও। সেজন্য ধ্রুব’র কথার জবাব না দিয়ে ধীরপায়ে হেঁটে ঘরময় চক্কর দিলো। এরপর আলো জ্বালালো। আলমারি খুলে ঘাঁটাঘাঁটি করতে লাগলো। এদিকে গম্ভীর চেহারা নিয়ে ধ্রুব বসে শুধু ওর কান্ড দেখছে। অবাক হয়ে গিলছে অদ্রির নমনীয়তা। এমন অচেনা অদ্রিকে বিয়ের পর প্রথম দেখছে সে। ওর এতক্ষণে খেয়াল হলো অদ্রি আগের চেয়ে একটু শুকিয়ে গেছে, মলিন মুখ, চুল ছোট করেছে আরও৷ তবুও কি স্নিগ্ধ, মোহনীয় দেখাচ্ছে ওকে। ধ্রুব আড়চোখে ওকেই দেখতে থাকে। অদ্রিকে দ্বিধান্বিত দেখাচ্ছে। সময় নিয়ে সে ধ্রুব’র জন্য কাপড় চুজ করলো। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সব সামনে নিয়ে এসে রাখলো। এরপর হালকা কেশে নিজের অস্বস্তি লুকিয়ে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলল,
— নিচে নামতে হবে না, আপনি উঁচুতেই আছেন। তবে এখন যদি আপনি আমার কথা না শুনেন তাহলে ট্রাস্ট মি, এ বাড়ি ছেড়ে এক্ষুনি বেরিয়ে যাবো। দ্বিতীয়বার খুঁজে পাবেন না কোথাও…
— হুমকি দিচ্ছো? ভয় পাইনা…
অদ্রি ওয়্যারড্রোব থেকে নিজের কাপড় খুঁজতে খুঁজতে ব্যস্ত গলায় জবাব দিলো,
— হুমকি না, ফ্যাক্ট বলছি!
ধ্রুব মুখ গোঁজ করে বসে রইলো। ওর বুক চিনচিন করছে, মাথা দপদপ করছে। বড় গলা করে বললেও সে তো জানে, চেনে এই মেয়েকে। যা বলেছে তা-ই করে বসবে। দেখা যাবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও চলে গেছে, খুঁজে পাবে না কোথাও! আর চিরকুট পেয়ে ধ্রুব তো ঠিক এ কারণেই ছুটে এসেছে। কিন্তু সত্যিটা তো সে স্বীকার করবে না অদ্রির সামনে। তাই প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,
— আজ হঠাৎ এতকিছু?
অদ্রি পেছন ফিরে একপলক ওকে দেখে উদাস গলায় বলল,
— বউয়ের ই তো দায়িত্ব হাজব্যান্ডের রাগ ভাঙানো। আমি আপাতত শুধু সেই দায়িত্বটা পালন করছি!
ধ্রুব খুশি হতে পারলো না। কপালে ভাঁজ পড়লো ওর। ক্রোধ নিয়ে ওঠে দাঁড়ালো৷ অদ্রির সামনে গিয়ে তেজ দীপ্ত কন্ঠে বলল,
— সবসময় শুধু দায়িত্ব পালন, দায়িত্ব পালন। কে চেয়েছে তোমার কাছে এসব? তুমি নিজে তো আমাকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে দাওনি। মহান হতে চাও; মানুষ মনে হয় না তোমার আমাকে, তাইনা…
আকস্মিক ধ্রুবকে এমন রেগে যেতে দেখে অদ্রি থমকালো। বুঝতে পারলো এভাবে কথা বলা ঠিক হয়নি। বলল,
— এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই। কথার কথা বলেছি…
ধ্রুব’র চেহারা ক্রমেই রক্তিম হয়ে ওঠলো। ওর রাগের মাত্রা বাড়ছে। এই ক’দিনে অদ্রি বেশ ভালোই বুঝেছে রাগলে আসলেই ধ্রুব যা খুশি তা-ই করে ফেলে, বলে ফেলে। আর এই মুহূর্তে ধ্রুবকে রাগাতে একদমই চায় না সে। ধ্রুব তেজদীপ্ত গলায় কিছু একটা বলতে যাবে তখনই আচমকা অদ্রি কি করবে বুঝতে না পেরে খানিকটা উঁচু হয়ে ধ্রুব’র বাঁ-গালে চুমু খেলো। ঠিক সেখানটায়, যেখানে ওর নখের আঘাতে দাগ হয়ে গিয়েছিলো। ধ্রুব’র ঘটনাটা বুঝতে সময় লাগলো। সে আশ্চর্য হয়ে গালে হাত দিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো। অদ্রি ততক্ষণে সরে গেছে। নিজের কাজে ব্যস্ত হবার চেষ্টা করলো। এত লজ্জ্বা সে কখনো পায়নি। ওর গা কাঁপছে। হুট করে কিভাবে কি করে ফেললো বোধগম্য হচ্ছে না। কিন্তু এটাও ঠিক ধ্রুব’র রাগ না বাড়ানোর জন্যই ও এই কাজ করেছে। অদ্রি নিজের মনকে এসব বিভিন্ন কথা বলে বুঝ দিলো৷ নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করতে দূরত্বে দাঁড়িয়ে বলল,
— দেরি হচ্ছে এবার, প্লিজ যান…
ধ্রুব নাছোড়বান্দা,
— এটা কি ছিলো?
অদ্রি দ্রুত জবাব দিলো,
— কর্তব্য!

ধ্রুব আর প্রশ্ন করলো না৷ ওর বুকের ভেতরটা কাঁপছে। ওর আজ অবাক দিবস। ক্ষণে ক্ষণে অবাক হচ্ছে। বাড়ি ফেরার পর থেকেই চমক পাচ্ছে। এই অদ্রি সম্পূর্ণ তার অচেনা। না দেখেও সে নিশ্চিত যে অদ্রির চোখমুখ লজ্জায় রক্তিম হয়ে আছে। তবুও নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর কি আপ্রাণ চেষ্টা! ধ্রুব’র ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠলো। বেশ মজা পেলো যেন! ডিভোর্সের কথা শুনেই পাথর অদ্রি আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে। এই মেয়েটা এত অদ্ভুত যে সে কি চায় নিজেই জানেনা৷ তবে ধ্রুব’র রাগ আর নেই। কর্পূরের ন্যায় উবে গেছে। সে আর দিরুক্তি করলো না৷ কাপড়গুলো তুলে ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে ফিচেল গলায় সে বলে ওঠলো,
— “না” শুধু “না’তেই” সীমাবদ্ধ থাকতো। চুমুর বদৌলতে রিকশা ভাড়া দিতে রাজি হয়েছি। অন্যকিছুর বাহানা দিলেও আমার মত পরিবর্তন হতো না। একটু বেহায়া কিনা…

অদ্রি নির্বাক হয়ে শুধু ওর কথা শুনলো। বলতে পারলো না কিছুই!

আবহাওয়া শান্ত। শুভ্রসাদা একদল মেঘে ওড়ে বহুদূরের পথ পাড়ি দিচ্ছে। চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবী। পথের দু-প্রান্ত কৃত্রিম হলদে আলোয় ছেয়ে আছে। রাতের ব্যস্ত নগরী। গাড়ির হর্ণে কান তোলপাড় হওয়ার জোগাড়। বাড়ি থেকে বেরোনোর পাঁচ মিনিট পর মেইন রোডে এসে ওরা রিকশা পেলো। ধ্রুব আগে ওঠলো, অদ্রি নিজেও ওঠে বসলো। ছোট রিকশায় বসতে দু-জনেরই কষ্ট হচ্ছিলো। তবে ধ্রুব সামলে নিলো। অদ্রি মুখ কালো করে রইলো। এর আগেও ধ্রুব’র সাথে কয়েকবার রিকশায় ওঠেছে সে। কিন্তু এবার আলাদা ব্যাপার। তখনকার ঘটনাটা নিয়ে ওর ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছে, লজ্জা লাগছে৷ এদিকে ছোট রিকশায় বারবার ধ্রুব’র পায়ে পা লাগছে ওর। অদ্রির মনের সাথে পাল্লা দিয়ে ওর হৃদযন্ত্র ছুটতে লাগলো।
হুড তোলা ছিলো। অদ্রি বিব্রত গলায় রিকশাওয়ালাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— মামা, হুডটা ফেলে দিন।
রিকশাওয়ালা জবাব দেওয়ার আগেই ধ্রুব ভ্রু কুঁচকে বলল,
— কেন? হুড থাকলে কি সমস্যা?
অদ্রি বলল,
— সেটা আপনার জানার বিষয় নয়!
ধ্রুব রেগে গেলো। রিকশাওয়ালাকে বলল,
— এই মামা, আপনি ওর কথা শুনবেন না।
অদ্রি চোখ রাঙিয়ে বলল,
— না মামা। আপনি আমার কথা শুনুন…
রিকশাওয়ালা প্যাডেলে পায়ের চাপ দিতে দিতে মাথা ঘুরে পেছনে ফিরে তাকালো। তার চেহারায় বিরক্তি। ধ্রুব’র দিকে কড়া দৃষ্টি ফেলে সে বলল,
— ফেলমু না কেন? আফার কষ্ট হইতাছে দেইখাই তো সে কইছে। আফনে মানা করেন কেন? বাজে মতলব আছে নাকি?
ধ্রুব’র বাক্যহারা হয়ে গেলো। না চাইতেও অদ্রি ঠোঁট টিপে হেসে ওঠলো। রিকশাওয়ালা আবারও বলল,
— লোক ডাইকা গণধোলাই দেওয়া উচিৎ আপনেরে। দেখতে তো ভালা ঘরের মানুষ মনে হয়, আবার মাইয়া মাইনসের লগে চিপকায় বইতে চান… ছিঃ

বলেই রিকশাওয়ালা হুড ফেলে দিলেন। ধ্রুব নির্বাক। অদ্রির চোখ জ্বলজ্বল করছে। হাসি আটকাতে ওর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তবুও হাসতে পারছে না ধ্রুব’র চেহারার দিকে তাকিয়ে। বেচারার চেহারটা দেখার মতো হয়েছে। ওকে মিটিমিটি হাসতে দেখে ধ্রুব’র মেজাজও তিরিক্ষি হয়ে গেলো,
— আমাকে অপদস্ত করে তো খুব মজা পাচ্ছো তাইনা?
— আমাকে দেখে কি আপনার তাই মনে হচ্ছে? সত্যিই আমি খুব দুঃখ পাচ্ছি! মামা আপনাকে ভুল বুঝলো..
ধ্রুব’র রাগী স্বর,
— অহেতুক কারণেই ওনি ভুল বুঝলো। হুড ফেলার কি দরকার ছিলো? আর তুমি বলোনি কেন আমি তোমার হাজব্যান্ড?
অদ্রি মুখ গোঁজ করে বলল,
— আমি ঠিক করে বসতে পারছিলাম না, পড়ে যাচ্ছিলাম। আর ওনি কি আমায় জিজ্ঞেস করেছেন আপনি আমার কে? আহা! আপনার কানদুটো
ওরকম লাল হয়ে গেলো কেন?
অদ্রি ওর সাথে মজা নিচ্ছে৷ ভাবতেই রাগ হলো ধ্রুব’র।
নিজের বউয়ের পাশে বসেও শান্তি নেই৷ আর অন্যকেই বা কি দোষ দেবে? অদ্রি তো ওকে কেয়ারই করে না। আবার উল্টো হাসছে। ধ্রুব আচমকাই অদ্রির কোমরে হাত চাপিয়ে তাকে নিজের দিকে টেনে আনলো। সঙ্গে সঙ্গেই অদ্রির মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো। শক্ত হয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় মগ্ন হলে ধ্রুব ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,
— আমাকে নিয়ে হাসতে তোমার খুব ভালো লাগে তাইনা?
অদ্রি কটমট করে বলল,
— হচ্ছেটা কি? ছাড়ুন আমাকে…
— পড়ে যাবে, চুপচাপ বসো। এতো ছটফট করার কিছু নেই, আমার ইন্টেনশন খারাপ না।
— হুহ!
এভাবেই কথা কাটাকাটি করতে করতে কাঙ্খিত স্থান অর্থাৎ রেস্টুরেন্টে ততক্ষণে ওরা পৌঁছে গেছে। ধ্রুব নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে রিকশা থেকে নেমে দাঁড়ালো। অদ্রিও নামলো। রিকশাওয়ালা সন্দেহী গলায় ওকে জিজ্ঞেস করল,
— সইত্য কন তো আফা, এনি আফনের কে হন? ভাবগতিক সুবিধার লাগে না। কেমন জানি ষন্ডা মার্কা আচরণ…
অদ্রি বিস্মিত হয়ে গেলো। ঝামেলা এড়াতে হাসার চেষ্টা করে বলল,
— মামা, আসলে আপনার বুঝতে ভুল হয়েছে। ওনি আমার হাজব্যান্ড।
ধ্রুব’র কোটর থেকে চোখ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। হা হয়ে অদ্রির কথা শুনলো সে। অদ্রির স্বীকারোক্তিতে রিকশাওয়ালার অভিব্যক্তির পরিবর্তন ঘটলো। অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে ভ্রু কুঁচকে আপাদমস্তক ধ্রুবকে লক্ষ্য করে এরপর অদ্রিকে বলল,
— দেখতে ভালোই, ব্যবহারে শালীনতা নাই।
ধ্রুব’র চোখমুখ কঠিন করে ফেললো। রিকশাওয়ালাকে কিছু বলতে উদ্যত হওয়ার আগেই অদ্রি বলল,
— না না। ওনি খুব ভালো ছেলে। আপনার বোঝার ভুল হয়েছে। ওনি খুব অমায়িক একজন মানুষ। আপনার রিকশা চালানোতে ওনি খুশি হয়ে দেখবেন আপনাকে আজ হাজার টাকা ভাড়া দেবে।
রিকশাওয়ালার চোখজোড়া চকচক করে ওঠলো খুশিতে৷ অদ্রি ধ্রুব’র দিকে ইশারা করতেই ও বাক্যহারা হয়ে গেলো। চোখমুখ কঠিন করে কপাল কুঁচকে নিচু স্বরে বলল,
— আমাকে বাজে বলে, আর তুমি ভাবছো আমি ওনাকে হাজার টাকা টিপস দেবো? দরকার হলে টাকা আমি বাতাসে ওড়িয়ে দেবো, তবুও ওনাকে না। নো নেভার..
অদ্রি চোখ রাঙিয়ে বলে,
— আপনি তো আমার হাজব্যান্ড! অন্য কেউ খারাপ ভাববে তা তো হয় না। যাইহোক, আমি দিয়ে দিচ্ছি!
ধ্রুব ওকে থামিয়ে দিয়ে নিজের ওয়ালেট বের করতে করতে বলল,
— একদম না। আমি দেবো, কথা ছিলো…

[আজ আর লিখলাম। আমার পরীক্ষা চলছে। সেজন্য দিতে বিলম্ব হলো। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। শালীনতা বজায় রেখে মতামত জানানোর চেষ্টা করবেন। পাঠকদের থেকে এতটুকুই সবাই আশা করে। ধন্যবাদ।]

চলবে…