ভালোবাসা তারপর পর্ব-৩০

0
81

#ভালোবাসা_তারপর
#পর্ব:৩০
#তামান্না_শাহরিন_শশী

কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত।

অনুমতি ব্যাতিত কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

রাতে রোদসী বিছানা বসে আগের সব কথা চিন্তা করছিলো। রিন্তীহা কান্না করছিলো কিন্তু রোদসী অন্যমনষ্ক ছিলো বিধায় খেয়াল করেনি আর ঠিক সেই সময়ই উচ্ছ্বাস রুমে প্রবেশ করে। রিন্তীহাকে ওভাবে কাঁদতে দেখে কিছু রাগ হয়। সে রোদসীর কাছে যেয়ে রিন্তীহাকে কোলে তুলে নিয়ে রোদসীকে উদ্দেশ্য করে বলে,

-“মেয়ে কাঁদছে সেই খবর নেই। বসে কি চিন্তা করছো? আবার পালাবে কি করে সেটা? আমি তো বলছি মুক্তি, শুধু মেয়েকে আমার কাছে রেখে গেলেই হবে।”

উচ্ছ্বাসের এমন চেচিয়ে কথা বলায় রোদসীর ধ্যান ভাঙে তারপর উচ্ছ্বাসকে দেখে বলে,

-“কি হয়েছে এভাবে চিৎকার করছেন কেনো?”

-“চিৎকার করবো না? মেয়ে কান্না করছে তার দিকে খেয়াল নেই? কি এতো ভাবছিলে।”

-“কই কিছু না তো। ওকে দিন, ওকে খাওয়াতে হবে। আপনি বাহির থেকে এসেছেন। আগে ফ্রেশ হয়ে আসুন। তারপর নাহয় ওকে কোলে নিয়েন।”

-“সেটা আমারো খেয়াল আছে। মেয়ে কাঁদছে তাই কোলে তুলেছিলাম যাইহোক নেও…”

বলেই রোদসীর কাছে রিন্তীহা কে বাড়িয়ে দিলো। রোদসীও কোনো কথা না বলে ওকে কোলে নিয়ে নিতেই উচ্ছ্বাস কাবার্ড থেকে জামা কাপড় নিয়ে ওয়াস রুমে চলে যায়। রোদসী সেদিকে একবার তাকিয়ে আমারো রিন্তীহার দিকে খেয়াল দেয়। আসলেই এমন অন্যমনষ্ক হওয়া উচিত হয়নি। লোকটা কত গুলো কথা শুনিয়ে চলে গেলো।

উচ্ছ্বাস যখন ওয়াসরুম থেকে বের হলো। সে হেটে আয়নার সামনে দাড়াতেই আয়নাতে একটা নান্দনিক দৃশ্য তার চোখে পড়লো। ঠোঁট একটা প্রশান্তি হাসি খেলে গেলো। যাক এবার ঘরটা পূর্ণ লাগছে। সে এমন একটা দৃশ্য দেখবে সে কখনোই ভাবেনি। সে এবার ঘুরে বেডের দিকে তাকায়। রোদসী একটা শাড়ি পড়া আর পাশেই মেয়েও ঘুমিয়ে আছে। রোদসী ঘুমিয়েছে কিনা বোঝা যাচ্ছে না তবে মেয়েকে কেমন আগলে রেখেছে। এটাই বোধহয় প্রতিটা বাবার প্রশান্তির দৃশ্য। উচ্ছ্বাস এগিয়ে আসলো। এসে রোদসীর পাশেই ধীরে বসে পড়লো। তারপর মেয়ের দিকে তাকালো। মেয়ে গভীর ঘুম। মাত্র চার’মাস চলছে মেয়েটার। কিছুটা এগিয়ে এসে ঝুকে মেয়ের কপালে চুমু খায়। ওখান থেকে উঠে মেয়ের থেকে চোখ সরিয়ে রোদসীর দিকে তাকিয়ে রোদসীকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে। আচ্ছা রোদপাখি কি আগের থেকে সুন্দর হয়েছে? কোথায় যেনো উচ্ছ্বাস শুনেছিলো মেয়েরা মাতৃত্বের পর সৌন্দর্য্য আরো বেড়ে যায়। তাহলে রোদসী কেও কি সুন্দর লাগছে? কিন্তু উচ্ছ্বাসের কাছে রোদসীকে সবসময়ই সুন্দর লাগে। আর এখন তো এতোদিন দেখার পর আরো বেশি সুন্দর লাগছে। উচ্ছ্বাস এগিয়ে রোদসীর কপালে হালকা করে ঠোঁট ছোঁয়ায়। আবারো উঠে বসে মেঝেতে তাকায় আর ভাবে, উচ্ছ্বাস যত যাই করুক দিন শেষে এই মানুষটার কাছেই উচ্ছ্বাস সব থেকে বেশি অসহায়। উচ্ছ্বাস মুখে যতই বলুক, রোদসীকে মুক্তি দিয়েছি, চলে যেতে, তাকে লাগবে না কিনৃতু সে রোদসীকে কোথাও যেতে দেবে না। উচ্ছ্বাস রোদসীকে খোঁজার জন্য কত কি করেছে। এটা একমাত্র উচ্ছ্বাসই জানে। প্রতিটা দিন নরকের মতো লেগেছে রোদসীকে ছাড়া। রোদসীর চিন্তায়, কোথায় গেছে, কার কাছে আছে, বা খারাপ কোনো জায়গায় নেই তো। এসব ভাবনায় উচ্ছ্বাস ঘুমাতে পারেনি। এসব ভাবনা থেকে বেড়িয়ে উচ্ছ্বাস উঠে রিন্তীহার পাশে যেয়ে সুয়ে পড়তেই রোদসী খুলে সিলিংটার দিকে তাকায়। চোখের কার্নিশ থেকে আশ্রুর জলরাশি গড়িয়ে পড়লো। ওভাবেই তাকিয়ে ছিলো কিছুক্ষণ, তারপর মুখ ঘুরিয়ে উচ্ছ্বাসের দিকে তাকায়। লোকটার এভাবে ঘুমাতে দেখে যে কেউ দেখে বলবে নিসন্দেহে এই জগতের সব থেকে সুখী মানুষটা বোধহয় এই ঘরে সুয়ে আছে। রোদসী আস্তে করে উঠে বসলো। তারপর কি মনে করে উঠে লাইট ওফ করে ঘরের টিমটিমে আলোর বাতিটা জ্বালিয়ে দিয়ে, বারান্দার পর্দা গুলো সরিয়ে দিলো। বাহির থেকে একটা ঠান্ডা বাতাস আসছে। ওভাবে আবারো ফিরে এসে উচ্ছ্বাসের সামনে এসে দাঁড়ায়। আবার মেয়ের দিকে তাকায়। রিন্তীহা ঠিক ভাবেই রাখা হয়েছে। সে এখন ঘুমুচ্ছে। রোদসী কিছুটা ভয়ে ভয়ে উচ্ছ্বাসের পাশে বসলো। তারপর পা উঠিয়ে বিছানা উঠিয়ে আবারো উচ্ছ্বাসের মুখের দিকে তাকালো। না সব ঠিক ঠাকই আছে। রোদসীর নিজেকে কেমন চো*র চো*র লাগছে, লাকুক তবুও এখন কিছু করার নেই। লোকটা তাকে ভালোবেসেই গেছে বিপরীতে রোদসী তাকে শুধু কষ্টই দিয়েছে। সব চিন্তা বাদ দিয়ে চুপ চাপ উচ্ছ্বাসের পাশে সুয়ে পড়লো। তারপর চোখ ঘুরিয়ে আবারো উচ্ছ্বাসের মুখের দিকে তাকিয়ে সব ঠিক ঠাক দেখে রোদসী উচ্ছ্বাসের বুকের ওপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে। না এবার শান্তি লাগছে। এতোদিন এই শান্তিটাই রোদসী খুঁজেছিলো। এটাই আবারো পেলো এর থেকে শান্তির আর কি আছে। রোদসী ঘুমানোর কিছুসময় পর উচ্ছ্বাসের ঘুম ভেঙে যায়। বুকের ওপর ভারি ভারি লাগতেই চট করে তাকায়। রোদসী এভাবে তার বুকের ওপর ঘুমাতে দেখে মুখে হাসি ফুটলো। মেয়েটা বড্ড বোকা তাকেই পুরাবে আবার তার কাছেই শান্তি খুঁজবে। উচ্ছ্বাস হাত উঠিয়ে রোদসীকে আরো সুন্দর করে আগলে নিলো নিজের মাঝে তারপর পাশে তাকিয়ে মেয়েকে দেখে নিয়ে এবার একটা শান্তির ঘুম দেয়।

*********

সকাল সকাল সবাই নাস্তা করে যে যার কাজে চলে যায়। আর রোদসীর বাসার লোকেরা কালকেই চলে গিয়েছিলো। আজকে আবিদ আসলেই বৃষ্টি ও চলে যাবে। বলতে বলতে আবিদও এসে পড়ে। বৃষ্টিকে সবাই বিদায় দিয়ে রোদসী কি মনে করে দাদুর রুমে নক করে। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত থাকায় রোদসী দাদুর রুমে দাদু ছাড়া আর কেউ কে’ই পায় না। দাদু রোদসীকে দেখে কিছুটা শক্তমুখে বলে,

-“কিছু বলবি নাতবউ?”

-“আসবো?”

-“আয়।”

রোদসী এসে দাদুর পাশেই বসে, উর্জাকে দাদুর বিছানায় সোয়ায়। উর্জা ঘুমুচ্ছে। তাই দাদুর দিকে তাকালো। দাদু এতোক্ষণ রোদসীর দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে ছিলো। তা দেখে রোদসী চোখ নামিয়ে নিলো। তারপর মিনমিন করে বললো,

-“দাদু আমাকে ভুল বুঝো না। আমি আসলেই একটা ভুল করেছি। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি।”

দাদু কিছু বললো না। সে চোখ সরিয়ে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ওইখানে চোখ রেখেই বলে,

-” ভেবেছিলাম তোর কাছে আমার দাদুভাইটা ভালো থাকবে। তুই ওকে দেখে রাখবি কিন্তু তুই যে এতো বড় একটা বোকামী করবি তা আমি কখনো ভাবতেই পারিনি। ছেলেটা অনেক কষ্ট করেছে তার জীবনে কিন্তু তার বদলে ভালোবাসা খুব কমেই পেয়েছে। ভেবেছিলাম তোর কাছে দাদুভাই ভালো থাকবে আর শেষে কিনা তুই ও ওকে কষ্ট দিলি!”

রোদসী ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে দাদুর দিকে। সে এসব করতে চায় নি। কিভাবে হয়ে গেলো সে নিজেও জানে না। দাদু আবারো বলতে শুরু করে,

-“আমরা সব সময় যা দেখি তা কখনো কখনো ভুলও দেখি। মানছি উচ্ছ্বাসের অসুস্থতার কথা তোকে আমরা লুকিয়েছি কিন্তু এগুলো ছাপিয়েও একটা সত্যি হলো আমরা তোকে অনেক ভরসা করতাম। ও তোকে অনেক ভালোবাসে। এই কাজটা করার আগে একবারো উচ্ছ্বাসের কথা মনে হয় নি? বুক কাপে নি?”

রোদসী এবার কেঁদে দিলো। তারপর বললো,

-“দাদু আমি একটা বোকামী করেছি মানছি এবাবে আর দোষারোপ করো না। নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আমার কষ্ট হয়।
তোমাদের দিকে তাকাতে আমার ভয় হয়। কেমন বুক কাঁপে!

-“ভয়? আর বিপাশার কথায় এতো বড় একটা অঘটন ঘটালি সেটা বুঝি ভয় করে নি?”

রোদসী বিষ্ফরিত নয়নে তাকালো। এটা তো সে আর বিপাশা জানতো, তাহলে দাদু জানলো কি করে? এটা কি সবাই জানে? তাহলে তো আরো অনেক ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে। রোদসী এমন দৃষ্টিতে তাকানো দেখে দাদু বুঝলো রোদসীর মনে কথা তাই বললো,

-“চিন্তা করিস না। এটা এখনো উচ্ছ্বাস জানে না। আমরা জানতে দেই নি। বৃষ্টির থেকে আমরা জেনেছি। বৃষ্টি, উদয় আর আমি জানি এই ব্যাপারে আর কেউ জানে না। ও তোকে যে ঠিকানা দিয়েছিলো সেই ঠিকানায় গেলে ওই লোক গুলো তোকে প*তি*তা*ল*য়ে বিক্রি করে দিতো। ভাগ্য তোর ভালো তাই তুই যেতে পারিস নি। এসব কথা উচ্ছ্বাসকে আমরা জানাইনি। তাহলে ও বিপাশাকে খু*ন করতেও পিছ পা হতো না। আর এই ব্যপারে জানবেও না। তাকে কি আর শাস্তি দেবো? সে নিজের কর্মের শাস্তি ভোগ করছে। ডক্টর বলে দিয়েছে বেশিদিন বাঁচবে না। আসলে আমরা কারো খারাপ চাইলে বা করলে সেটা উপরওয়ালাই তাকে ফেরত দেয় এবং সেই শাস্তি দুনিয়ায় ভোগ করিয়ে নেয়।

রোদসী দাদুর কথা বুঝতে পারছিলো না। দাদু কি বলছে? কিসের কর্ম? কিসের শাস্তি? আর সে বাঁচবে না মানে?

দাদু আবারো বলতে শুরু করে,

-“তোদের অনেক কিছুই বলা হয় নি। আমি নিজেই চাপিয়ে গেছি। এগুলো জানালে এ বাড়িতে আর কিছু মানুষ কোনো সম্মানের স্থানে থাকতো না। কিন্তু এবার তোকে বলতে বাধ্য হচ্ছি। তোদের ঊর্মিলা আর রাশেদের কথা বলেছি ঠিকি কিন্তু তাদের মাঝের তৃতীয় ব্যাক্তির কথা আমি চাপিয়ে গেছি। আর যার জন্য ওদের সংসারে এতোবড় একটা ফটল ধরেছে। সেই ব্যাক্তি-ই বিপাশা। ঠিক ধরেছিস। ওই’ই সব নষ্টের মূল।”

রোদসীর চমক যেনো কাটছিলোই না। সে মনে হচ্ছে গোলেক ধাঁধায় আটকে যাচ্ছে। এসব কি আসলেই? যে মানুষটা এগুলো করেছে? তাকেই কিনা রোদসী বিশ্বাস করে ঘর ছেড়েছিলো? দাদু আবারো বলতে শুরু করে।

-“রাশেদ, বিপাশা আর ঊর্মিলা ক্লাসমেট ও ভালো বন্ধু ছিল। আগেই বলেছিলাম ওরা সমবয়সী। রাশেদকে বিপাশা আগে থেকেই পছন্দ করতো। তাই সে ঊর্মিলাকে পছন্দ করতো না। কিন্তু বন্ধুত্বের খাতিরে তা প্রকাশ করতে পারতো না। তাই সে অন্য ভাবে চাল চালে। ঊর্মিলাদের বাসায় রাশেদ আর ঊর্মিলার ব্যাপারে জানিয়ে দেয়। এবং তারপরই ঊর্মিলাকে তার বাসায় গন্ডগোল করে আটকি কে রাখে। বিপাশা ওদের এতো সুন্দর ভাবে ব্রেনওয়াশ করেছে যে তারা আমাদের প্রস্তাব দেয়ার পরও আমাদের সবসময় নাকচ করে দেয়। এই স্তর বিপাশা জিতে গেলেও পড়ের চালে আর লাভ হয় না। ঊর্মিলা তার ভাবীর সাহায্যে আমাদের বাসায় চলে আসে এবং ওদের বিয়ে দিয়ে দেই। তাই সেই রাগে ক্ষোভে বিপাশা দেশের বাহিরে চলে যায়। বিয়ের পরেরদিন সকালেই ঊর্মিলাদের বাড়ি থেকে লোক এসে অনেক ঝামেলা করে তবে। ঊর্মিলা এক কথায় বলছে এখান থেকে ও এক পা-ও কোথাও যাবে না। এতে ওদের বাড়ির মানুষেরা অনেক বাজে আচারন করে। সম্পর্ক ছিন্ন করে। ঊর্মিলা কষ্ট পেলেও সব কিছু চুপচাপ মেনে নেয়। কারণ এই সব কিছুর জন্য ও নিজেকে দায়ী মনে করতো। এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। ও আগের কথা ভুলে নতুন করে নিজেকে গড়তে লাগলো পড়াশোনাও কমপ্লিট করলো। তবে বলে না সুখের দিন বেশি দিন থাকে না। তেমনই রাশেদ আর ঊর্মিলার মধ্যে একটু একটু কথা কাটাকাটি, রাগারাগি দিনকে দিন বাড়তে লাগলো। এর মধ্যে মাঝে মাঝে রাশেদকে দেশের বাহিরে যেতে হতো। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি থেকে কি হচ্ছে। পরে এতো ঝামেলা দেখার পর আমি নিজেই ঊর্মিলাকে বলি বাচ্চা নিতে। ঊর্মিলা আমার পরামর্শ নিয়ে বাচ্চা কানসিভ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৫ মাস থাকা কালীন ওই বাচ্চাটা মিসকারেজ হয়ে যায়। ওটার পরে ঊর্মিলা অনেক ভেঙে পড়ে, তার অবস্থা পাগল প্রায় তখন। প্রথম বাচ্চা নষ্ট হবার পর সবার অবস্থাই খারাপ। কি করবে না করবে অনেক ডাক্তার দেখালাম। সবাই জানালো ৩ মাস পর থেকে আবার চেষ্টা করতে আর যে ঔষধ দিয়েছে সেগুলো ঠিক ঠাক মতো খেতে। এভাবে দেখতে দেখতে ৪ মাসের মাথায় আবার কনসিভ করলো তবে প্রথমবারে এতো ধকলের কারণে শরীর তখনও ঠিক মতো ভালো হয়ে ওঠেনি। সব প্রেশার এবং মেডিসিনের ইফেক্ট পড়ে উচ্ছ্বাসের ওপর। যখন সময় এগিয়ে আসলো উচ্ছ্বাস জন্ম নেবার। ওই টাইমে ডাক্তার কন্ডিশন জানালো যে, আগে মিসকারেজ গেছে তাই এখনো ও মানসিক ভাবে ওতো ভালো প্রস্তুত না সাথে শরীরের যে ঘটতি গুলো ছিলো ওটাও পূরণ হয় নি। বাচ্চা জন্ম হলে হয় মা বাচবপ না হয় বাচ্চা। যা উনাদের হাতে নেই। বাচ্চা জন্ম দিতে যেয়ে ঊর্মিলা মারা যায়। আর এদিকে প্রেগ্ন্যাসির সময় অনেক মানসিক সমস্যা দেখার সাথে ওর অসুস্থতার জন্য যে ঔষধ গুলো ঊর্মিলা নিয়েছিলো তার প্রভাব পড়ে উচ্ছ্বাসের উপর। আমরা ডক্টর দেখাই। এত সমস্যার মাঝে আমাদের ব্যাবসায় লস খাওয়াতে উচ্ছ্বাসের দাদা মারা যায়। সাথে ঊর্মিলা মারা যাওয়াতে তাদের বাড়ির লোকেরা ক্ষেপে আমাদের নামে কেস করে। সবকিছু সামলাতে অনেক টাকা ঢালতে হয়েছিলো। সাথে ব্যাবসার লস। এগুলো পূরণ করতে ওরা দুই ভাই ঠিক করলো দেশে আর বাহিরের টা তারা দুজনেই সামলাবে। তাই মাসুদ কে দেশে এবং রাশেদ কে বাহিরে চলে যেতে হয়। রাশেদ বাহিরে গেলে উচ্ছ্বাস কে আমি সামলাতে লাগলাম। আর দেশের কাজে হাত লাগায় মাসুদ। একটু একটু করে সব দেনা-লস কাটিয়ে উঠেছি। উচ্ছ্বাসকে কেবল স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। তার মাঝেই খবর আসে রাশেদ বিদেশে বিয়ে করেছে। রাশেদ বিদেশে বিপাশাকে বিয়ে করেছে। খবর শুনে আমার হতবাক ছিলাম। কিভাবে যে কি হলো বা কি করলো। আমরা জানতাম না৷ বিপাশার সাথে রাশেদের কোনো যোগাযোগ ছিলো না তাহলে? কিন্তু তারা যে বিয়ে করে নিয়েছে সেটা সবার বিবাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। আসলেই এটা আমাদের অনেক অদ্ভুত খবর। তারপর জানতে পারি বিপাশার সাথে রাশেদের পরকিয়ায় জড়িয়ে যাওয়াতে তখন প্রায়ই ঊর্মিলার সাথে রাশেদের ঝগড়া, কথা কাটাকাটি হতো। এতো হতবাক বোধহয় আমি আমার গোটা জীবনে হই নি। ”

এটুকু বলেই দাদু থামলো। তারপর বললো,

-“উচ্ছ্বাসের খেয়াল আমরা ঠিক মতো রাখতে পারিনি। ওকে হোস্টেলেই রাখা হয়েছে। এতো এতো সমস্যার কারণে ওর যে অসুস্থতা রয়েছে তা আমরা একপ্রকার ভুলেই গেছিলাম। ও বাসায় আসতো না। হোস্টেলেই একা একাই থাকতো। তারপর ছেলেটা যখন সব বুঝতে শিখলো কেমন চুপ হয়ে নিজের মতো থাকতে লাগলো। ভার্সিটিতে উঠার পর নিজের মতো বাসায় উঠে গেলো। আসতো না এই বাসায়। মাঝে মাঝে আমি কল দিতাম বা ও দিতো। ওতটুকুই। এই এতো এতো কথা কেউ জানে না। আমিই জানতে দেই নি। কি করবো বল? সংসার টা তো আমারই। ওর যে সমস্যা এটা ওর জন্ম থেকেই। কাউকে পায় নি তো। ও ওর জিনিস কাউকে দিতে চায় না যা ওর তা ওর-ই। ও ভাগাভাগি জিনিস টা পছন্দ না৷ হারিয়ে ফেলার ভয় পায়। তুই ওর এই অতিরিক্ত রাগের কারণে চলে গেলি। কিন্তু ওকে বোঝার চেষ্টা করলি না।”

রোদসীর এসব শুনে বাকশূন্য লাগলো মনে হচ্ছে সে কথাই হারিয়ে ফেলেছে। এর মধ্যেই অনেক জোরে চিৎকার চেচামেচির আওয়াজ ভেসে আসলো। রোদসী আর দাদু একে ওপরের দিকে। এমন কান্নাকাটি চিৎকার চেচামেচির কি আছে?

#চলবে…..