যেখানে দিগন্ত হারায় পর্ব-৫৩ এবং শেষ পর্ব

0
196

#যেখানে_দিগন্ত_হারায়
#অন্তিম
জাওয়াদ জামী জামী

চোখের জলে বিদায় নিল সুধা। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে আম্মাকে পাশে পেয়েছিল সুখ-দুঃখের ভাগীদার হিসেবে। কিন্তু নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা দিনে মেয়েটা আম্মার দোয়া পেলোনা। এই আফসোস ওর আজন্ম থেকে যাবে। বোনকে বিদায় দিয়ে আরমান ভেঙে পড়েছে। মাশিয়া তাকে সামলাচ্ছে। হুট করেই মাশিয়া বেশ দ্বায়িত্বশীলা নারীতে পরিনত হয়েছে। সুধার বিয়ের যাবতীয় দ্বায়িত্ব কোন অভিযোগ ছাড়াই ঠিকমতই পালন করতে পেরেছে।

বিদায় নেয়ার আগে ডক্টর জহুরুল হক আরমানদের সব আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দিয়েছেন। যেহেতু তাদের ঢাকা ফিরতে রাত হবে, সেহেতু তারা রিসিপশন পার্টি দুইদিন পর করবে। দুইদিন পর আরমানরা ঢাকা যাবে সুধা-অনিকের রিসিপশনে।

” এভাবে কাঁদলে হবে বলুনতো? এদিকে আপনি কাঁদছেন, ওদিকে শশী কাঁদছে। আপনি নিজেই যদি এভাবে ভেঙে পরেন, তবে শশীকে সামলাবে কে? সুধা বারবার ফোন দিচ্ছে। মেয়েটা এখনো ঢাকা পৌঁছায়নি। কিন্তু আপনাদের চিন্তায় ও অলরেডি অসুস্থ হয়ে গেছে। আপনি শান্ত হয়ে সুধার সাথে কথা বলুন। ওকে বলুন আপনারা ঠিক আছেন। ” মাশিয়া আরমানকে অনেক বুঝিয়ে শান্ত করল। এরপর আরমান ফোনে সুধার সাথে কথা বলল। ভাইয়ের গলা শুনেই সুধা অনেকটাই শান্ত হয়ে যায়। ভাই-বোনের চিন্তা একটু হলেও দূরীভূত হয় মন থেকে।

নিস্তব্ধ রজনী। আকাশের বুকে রুপালী চাঁদ ঝলমল করছে। চাঁদের রুপালী আলোয় ধরনী উদ্ভাসিত। পুবের জানালা দিয়ে আলো এসে পরেছে ঘরে। পুরো মাটির ঘর আলোয় আলোকিত। উচ্ছ্বসিত মাশিয়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শরীরে চাঁদের আলো মাখছে। মেয়েরা ঘুমাচ্ছে। আরমান বাচ্চাদের পাশে শুয়ে আছে। ও মাশিয়ার পাগলামি দেখে হাসছে।

” তুমি কি সারারাত জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকার প্ল্যান করেছ নাকি? ”

” জামাইয়ের মন যেখানে খারাপ, সেখানে রাতে ঘুমানো এক ধরনের বিলাসিতা। আর একজন দ্বায়িত্বশীল স্ত্রী হিসেবে আমি এটা কখনো করতেই পারিনা। ” মাশিয়ার এহেন কথা শোনার পর আরমানের মন কিছুতেই খারাপ থাকতে পারেইনা। ও হেসে উঠল। বিছানা থেকে নেমে মাশিয়ার কাছে গেল।

” আসলেই আমার বউ একজন দ্বায়িত্বশীলা রমনী। প্রতিদিন আমি আমার বউকে নতুনভাবে চিনছি। আমি কি কখনোই ভেবেছিলাম, এই মেয়েটা একদিন পুরো সংসারের দ্বায়িত্ব নিজের কাঁধে নিবে! ” আরমান পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল মাশিয়াকে। থুতনি রাখল মাশিয়ার কাঁধে।

আরমানের স্পর্শে মাশিয়া কেঁপে উঠল। আরমানের দু হাতের আঙুল বিচরন করছে মাশিয়ার মেদ হীন পেটে। আরমানের নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে মাশিয়ার ঘাড়ে। আরমানের ছোঁয়ায় নিজেকে ধরে রাখা কঠিন মাশিয়ার পক্ষে। ওর স্মৃতিতে উঁকি দিচ্ছে সেই দেড় বছর আগের রাত। সেই রাতেও আরমানের ছোঁয়ার গভীরতা ঠিক এমনই ছিল। সেইরাতেও মাশিয়া আরমানের ভালোবাসার আ’গু’নে পু’ড়ে নিঃশেষ হয়েছিল। আরমানের অবিরাম চুমুতে পাগলের ন্যায় মাশিয়া তার ব্যাক্তিগত পুরুষের দিকে ঘুরে তাকে জাপ্টে ধরল। ওর কম্পিত সর্বাঙ্গে তখন আরমানের দু হাতের অবাধ বিচরণ। মাশিয়া বুঝল, আজকের রাতটিও সেই রাতের মতই মধুমাখা হতে চলেছে।

মাশিয়া ওর পুরুষের বুকে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে তার প্রতিটি ছোঁয়া উপভোগ করছে। আবেগে তিরতির করে কাঁপছে ওর ওষ্ঠদ্বয়।

” সরি। ” এই মধু লগনে মাশিয়ার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্যে আরমানের ভ্রু কুঁচকে আসল। ও শুধু একটা বাক্যই উচ্চারণ করল।

” কেন? ”

” সবকিছুর জন্য। আপনার থেকে কয়েকটা মাস ছিনিয়ে নেয়ার জন্য, আপনার হাসি কেড়ে নেয়ার জন্য, বাচ্চাদের আগমনের সুসংবাদ না দেয়ার জন্য, আম্মার কষ্ট পেয়ে চলে যাওয়ার জন্য। ” মাশিয়া ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আম্মার কথা যখনই মনে হয় তখনই ওর বুক ফেটে কান্না আসে। আম্মার মৃ’ত্যু’র জন্য ও নিজেকেই দায়ী করে আসছে। ও নিজেকে পাপী ভাবতে শুরু করেছে। এই পাপবোধ ওর আজন্মকাল থেকে যাবে।

আরমান মাশিয়ার মুখ দু হাতের আঁজলায় তুলে নিয়ে ওর কপালে চুমু দেয়। এরপর আদুরে গলায় বলল,

” ভুল করলে কয়জন সেটা স্বীকার করতে পারে? এই যে তুমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছ, এতেই তোমার সব ভুল ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে। আর কখনোই এসব ভেবে নিজেকে কষ্ট দিবেনা। ”

” আপনারা সবাই এত ভালো কেন! এতকিছুর পরও আপনারা তিন ভাইবোন কেউ আমাকে একটা কটু কথাও বলেননি! অথচ যেটা আমার প্রাপ্য ছিল। ”

” কটু কথা শুনতে ইচ্ছে করলে পাশের বাড়ির ছেলের বউ হতে হত তোমাকে। তারা উঠতে-বসতে তোমাকে কটু কথা শোনাতো। ঐ বাড়ির বউ হবে নাকি? ” আরমানের ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি দেখে মাশিয়া ওর বুকে আলতো করে কিল মা র ল।

” অসভ্য মাস্টার, নিজের বউকে অন্যের বাড়িতে দিতে চায়! আর আমি কিনা এই অসভ্য লোকটার জন্য দিনের পর দিন কেঁদেছি! ” মাশিয়া কথা শেষ করার আগেই আরমান ওর ঠোঁট নিজের ঠোঁটের মধ্যে বেঁধে নিয়ে এক ঝটকায় ওকে কোলে তুলে নেয়।

আরমানের উন্মুক্ত বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে মাশিয়া। মানুষটা শরীরের পুরুষালী গন্ধে মাতোয়ারা মাশিয়া তার হৃৎস্পন্দনের আওয়াজ শুনছে মন দিয়ে। ওর ভাবতেই ভালো লাগছে, এই পুরুষের হৃদস্পন্দন শোনার অধিকার, তার শরীরের পুরুষালী গন্ধ নিজের শরীরে মেখে নেয়ার অধিকার শুধুই মাশিয়ার। এই মানুষটার প্রতিটি লোমকূপের অধিকার মাশিয়ার। কথাগুলো ভেবে আনমনেই হাসল মেয়েটা। এই মানুষটাকে এক মুহূর্ত না দেখলে ওর কেমন পাগল পাগল লাগে। তার মুখের কথা না শুনলে বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। এটাই বুঝি ভালোবাসা!

” শুনছেন? ”

” শুনছি। ” সাথে সাথেই কা ম ড় পরল আরমানের বুকে।

” আবার কি হলো! ”

” শুধু ‘ শুনছি ‘ বললেন কেন? বলুন, বল বউ শুনছি। ”

” বল বউ শুনছি। ”

” গুড জামাই। এবার শুনুন, যেহেতু সুধা শ্বশুর বাড়িতে চলে গেল, এখন থেকে ও সেখানেই থাকবে। তাই আমাদের ঢাকায় ফ্ল্যাট রাখার কোন মানেই হয়না। শুধু শুধু প্রতিমাসে অনেকগুলো টাকা যাবে। এছাড়া শশীর এইচএসসি পরীক্ষাও আর কয়েকমাস পর। ওর ও নাকি ট্রান্সফার হয়নি। এই কয়েকমাস ও নিজের কলেজেই ক্লাস করুক। এখানেই কোচিং করুক। ”

” মানে! তুমি কোথায় থাকবে? ” আরমান মাশিয়ার কথা বুঝতে পারছেনা।

” এখানে থাকব। এই বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও থাকতে আমার ভালো লাগেনা। ”

” আমি তোমাদের এখানে একা রেখে চিন্তামুক্ত থাকতে পারব? তোমরা দুইজন মেয়ে একা এই বাড়িতে থাকতে পারবেনা। টাকার চিন্তা তোমাকে করতে হবেনা। তুমি ঢাকায় থাকবে। আল্লাহ না করুক হঠাৎ করে যদি কখনো আমার প্রিন্সেসরা অসুস্থ হয় কিংবা কোন সমস্যা হয় তখন আশেপাশে কোন ডক্টর পাবেনা। এছাড়াও গ্রামে লোডশেডিং। এতে ওদের কষ্ট হবে। ”

” আমরা একা থাকব কে বলেছে? মেজো ফুপু শ্বশুর বাড়িতে একা থাকেন। তার ছেলেমেয়ে নেই, ফুপাও বেঁচে নেই। আমি ফুপুকে বলেছি আমাদের সাথে এখানে থাকার জন্য। আমার বিশ্বাস আপনি বললেই ফুপু রাজি হবে। আর আমি আপনার প্রিন্সেসদের দেখভাল ভালোভাবেই করতে জানি। ওরা অসুস্থ হবেনা। আর গ্রামে যে লোডশেডিং হয় সেটা আমরা সবাই জানি। একটু কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে। ওদের এসব শিখতে হবে। যে গ্রামে জন্ম নিয়ে, বেড়ে উঠে ওদের বাবা বিসিএস ক্যাডার হয়েছে , ওদের ফুপি মেডিকেলে পড়ছে, তবে ওরা কেন আপনাদের মত হতে পারবেনা? এসব চিন্তা না করে আপনি বরং ট্রান্সফারের চেষ্টা করুন। বাচ্চারা বেড়ে উঠবে কিন্তু ওদের বাবাকে কাছে পাবেনা এটা আমি মানতে পারবনা। আপনি আপনার বড় মামাকে বলে দেখুন। নয়তো আমি পাপাকে বলব। মোটকথা আগামী দুইমাসের মধ্যে আমি আপনাকে এই বাড়িতে দেখতে চাই। ”

মাশিয়ার কথা শুনে আরমান হাসল। ওর আজ প্রথমবারের মত মনে হচ্ছে, এই মেয়েটা ওর জীবনে এসে ভুল কিছু হয়নি। মাশিয়ার অকাট্য যুক্তি ও ফেলতে পারলনা।

” ট্রান্সফারের ব্যাপারে আমিও কথা বলেছি। চেষ্টা করে দেখি কি হয়। কিন্তু আমার এটা ভাবতে ভালো লাগছে যে, আমার বউটা বেশ করিৎকর্মা হয়েছে। শোন, সুধার রিসিপশন থেকে এসে আইপিএস এর ব্যবস্থা করব। গরমে আমরা প্রিন্সেসরা কষ্ট পাবে এটা আমি মানতে পারবনা। সকালে মেজো ফুপুর সাথে কথা বলব। তাকে রাজি করাব দেখে নিও। অনেক ভালোবাসা বউ, আমাকে সুন্দর পরিপূর্ণ একটা সংসার উপহার দেয়ার জন্য। ” আরমান মাশিয়ার পুরো মুখে চুমোয় ভরিয়ে দিল।

” সংসার এখনো পূর্ণ হয়নি। আমার স্বপ্ন আমাদের চারটা বাচ্চা হবে। ওরা বাড়িময় দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াবে, ওরা বাড়িটাতে মুখরিত রাখবে। আমার আরও দুইটা বাচ্চা লাগবে। ”

মাশিয়ার কথা শুনে আরমান ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল। ওর বুক কাঁপছে। এই মেয়ে বলে কি!

” এই তুমি সুস্থ আছোতো? তোমার মাথা ঠিক আছে? প্রিন্সেসদের জন্ম দিতে গিয়ে তুমি মরতে বসেছিলে, সেটা ভুলে গেছ? তোমার চিন্তায় আমরা সবাই আধমরা হয়ে গেছিলাম। আর তুমি বলছ আরও দুইটা বেবি নিবে! খবরদার এসব চিন্তা মাথায় আনবেনা। ” আরমানের গলা কাঁপছে। ও মাশিয়াকে হারাতে চায়না কিছুতেই।

” সরি, দুঃখিত, ব্যথিত, আপনার এই কথা মানতে পারছিনা। আগেরবার অসুস্থ হয়েছিলাম আপনার চিন্তায়। এবার আমার পাশে আপনি থাকবেন। তাই কোন চিন্তা নেই। আমার এবার একটা জুনিয়র আরমান লাগবে। আর চার নম্বরটা ছেলে কিংবা মেয়ে যেকোন একটা হলেই হবে। ” মাশিয়া আরমানের কথা পাত্তা দিলনা। সে আরমানের সব কথা মানলেও এটা মানতে রাজি নয় মোটেও।

” মাশিয়া, জিদ করোনা। তোমার এই আবদার আমি রাখতে পারবনা। আমার কাছে তোমার সুস্থতা আগে। তোমার জীবনের কোনও রিস্ক হয় এমন সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারবনা। তাই এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল। পড়াশোনা আর বাচ্চাদের দিকে নজর দাও। ”

মাশিয়া আরমানের অগোচরে বাঁকা হাসল। মুখে শুধু বলল,

” হুম, বাচ্চাদের দিকেই এখন আমার নজর। ”

” গুড। শোন, কে কে ঢাকা যাবে তার লিষ্ট করো। লিষ্ট অনুযায়ী গাড়ি ভাড়া করতে হবে। ”

” আপনি যাবেন তো? আগে থেকেই শুনে রাখুন, ঐ মেয়ের আশেপাশে ভিড়বেননা। আমি যদি শুনেছি, ঐ মেয়ের সাথে কথা বলেছেন তবে আপনার খবর আছে। ”

” তুমি শুনবে মানে? আমি তার সাথে কথা বললে তুমি দেখতে পাবে। ”

” আমি ঢাকা যাবোনা। বাচ্চাদের নিয়ে যেতে-আসতে পারবনা। এই কয়দিনে এমনিতেই ওদের ওপর অনেক ধকল গেছে। আপনার ছোট মেয়ের শরীরটা ভালো নেই। আপনারা রিসিপশনে যান, আমি বাচ্চাদের নিয়ে পরে যাব। ”

আরমান মাশিয়ার কথা বুঝতে পারছে। সে-ও মেয়েদের কষ্ট দিতে চায়না।

” আচ্ছা তোমার যাওয়ার দরকার নেই। আমিই সবাইকে নিয়ে যাব। তবে তোমাকে না দেখলে সুধা মন খারাপ করবে। ওরা তো দুইমাসের আগে এখানে আসতেও পারবেনা। ”

” ওরা না আসতে পারবেনা কিন্তু আমরাতো যেতে পারব। আপনি সেকথা ওদের বলবেন। ”

” জ্বি ম্যাম, বলব। ” আরমান জড়িয়ে ধরল তার রমনীকে।

দুইদিন পর আরমান ঢাকা গেল সুধার রিসিপশনে। মাশিয়া বাচ্চাদের নিয়ে বাড়িতে থাকল। ওর সাথে কল্পনা মোর্তাজাও থেকে গেলেন। আরমানরা ঢাকা থেকে আসলেই তিনিও ঢাকায় ফিরে যাবেন।

সুধার বিয়ের সাতদিন পর আরমান কুড়িগ্রাম চলে গেছে। মাশিয়া ওর ফুফু শ্বাশুড়ি আর শশীকে নিয়ে গ্রামেই থেকে গেছে। কল্পনা মোর্তাজা ওদের ঢাকার ফ্ল্যাটে গিয়ে সব জিনিসপত্র গোছগাছ করে গ্রামে পাঠিয়ে দেবেন।

বাচ্চাদের নিয়ে বেশ ভালো সময় কাটে মাশিয়ার। সুধার সাথে প্রতিদিন কথা হয়। ওরা ভালো আছে শুনলে মাশিয়ার ভালো লাগে। মাশিয়ার আর একটা সেমিস্টার বাকি আছে। গত সেমিস্টারে ও টপ হয়েছিল। এবারেও মন দিয়ে পড়াশোনা করছে।

বিশদিন পর আরমান কুড়িগ্রাম থেকে ফিরল। বাড়ি ফিরেই সে মাশিয়াকে জানাল, তনয়ের বাড়ি থেকে বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। তারা শশীকে পুত্রবধূ হিসেবে চায়।

” পাত্র কি করে? ” মাশিয়া জানতে চায়।

” জাপানে ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ছে। অনিকের চাচাতো ভাই সে। ”

” সবই ঠিক আছে। কিন্তু সে দেশে থাকেনা। তার সম্পর্কে জানবেন কিভাবে? ”

” ঢাকা ভার্সিটির আমার ডিপার্টমেন্টের টিচার যিনি অবসরের পর ছেলের কাছে জাপান আছেন। তার সাথে আমার দু-চার মাসে একটুআধটু কথা হয়। আসলে স্যার আমাকে খুব পছন্দ করতেন। সেজন্যই উনি দেশের বাইরে যাওয়ার পরও আমার সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। স্যারকে আমি তনয়ের ককথা বলে ওর এ্যাড্রেস দিয়েছিলাম। স্যার খোঁজ নিয়েছেন। তনয়ের বাবা ভুল তথ্য দেননি। এছাড়া তনয়ের নাকি বাজে কোন অভ্যাস নেই। ”

” কিন্তু শশী এখনো ছোট। সামনেই ওর পরীক্ষা। এছাড়াও শশীর মতামত নেয়ারও দরকার আছে। ” মাশিয়া চাইছেনা শশীর পরীক্ষার আগে বিয়ে হোক।

” আমি বোনকে বিয়ে দেব ঠিকই, কিন্তু ওদের পড়াশোনার ক্ষতি করে অবশ্যই নয়। আমি তনয়ের বাবাকে বিষয়টা বলেছি। তিনিও চান শশীর পরীক্ষা দিক। এডমিশনের প্রস্তুতি নিক । এছাড়া তনয়ের পড়াশোনা শেষ হতে আরও নয়মাস লাগবে। তারা এখন সব ঠিকঠাক করে রাখতে চায়। তনয় পড়াশোনা শেস করে একটা চাকরি পেলেই বিয়ে হবে। ”

” আপনি শশীকে জিজ্ঞেস না করে কিছুই করবেননা। আগে ওর মতামত নিন। তারপর তাদের সাথে কথা বলুন। ”

বিয়ের কথা শুনে শশীর মাথায় হাত। যেই ও তনয়ের নাম শুনেছে, তখন থেকেই তাকে মনে মনে হাজারটা গালি দিচ্ছে।

” আমি বিয়ে করবনা, ভাইয়া। ”

” খুব তো বিয়ের জন্য লাফাও। এখন বিয়ের কথা শুনে এমন চুপসে গেলে কেন? ” মাশিয়া শশীকে খোঁচা দিল।

” ভাবি, তুমি ভালো করেই জানো আমি মজা করি। মন থেকে বিয়ের কথা বলিনা। তুমি ভাইয়াকে না বুঝিয়ে আমাকেই খোঁচাচ্ছ! ”

” এখনইতো বিয়ে হচ্ছেনা, চন্দ্র। আরও এক দেড় বছর সময় লেগে যাবে। ততদিনে তোর পরীক্ষা, এডমিশন সব হয়ে যাবে। অবশ্য আমি চাইব তুই ভালো কোথাও চান্স পেলেই তবে বিয়ের আয়োজন করব। ততদিন নিশ্চিন্ত মনে পড়াশোনা করতে পারবি। তাদের প্রস্তাবে আমি প্রথমে আপত্তি করেছিলাম। কিন্তু সুধা চাইছে আমি রাজি হই। ওদের দুই ফ্যামিলির বন্ডিং খুব ভালো। সেজন্যই ওর এত আগ্রহ। এখন তুই রাজি থাকলেই সব ঠিক করে রাখব। তনয়ের জব আর তোর ভর্তির পর বিয়ে হবে। ”

শশী প্রথমে আঁইগুই করলেও ওর ফুপুরা সব শুনে ওকে বুঝাতে থাকে। সবার কথা শশী ফেলতে পারেনা। অবশেষে রাজি হয়েই যায়।

আরমান ট্রান্সফারের ব্যাপারে আবেদন করেছিল। তিনমাস পর ওর নিজ জেলায় বদলি হয়েছে। আগামী মাসেই ও জয়েন করবে নতুন কলেজে। শশীর পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ও সব কিছু ভুলে মন দিয়ে পড়ছে। তনয় জাপান চলে গেছে সুধার বিয়ের পনের দিন পরেই। এখন সে নিয়মিত শশীর সাথে যোগাযোগ করে। তবে শশী ওর সাথে কথা বলেনা খুব একটা। যখনই কথা বলে কথা কম গালি দেয় বেশি। তনয় ওর গালি শুনে শুধুই হাসে। ও জানে বাকি জীবন ওকে শশীর গালি আর খোঁটা শুনেই পার করতে হবে।

পরীক্ষা শেষে শশী ঢাকায় কোচিং করতে যায়। এবার মাশিয়া আরমানকে ফ্ল্যাট নিতে দেয়নি। ওর নামে যে ফ্ল্যাট আছে, সেখানেই শশী উঠেছে। প্রথমে আরমান আপত্তি করেছিল। তবে মাশিয়ার জিদের কাছে হার মানতে হয়। মাশিয়ার একটাই কথা, ওদের ফ্ল্যাট ফাঁকা থাকতে কেন ভাড়া বাসায় উঠতে হবে। অবশ্য সেই ফ্ল্যাট সুধার বাসার কাছাকাছি হওয়ায় সুধাও চেয়েছে শশী সেখানেই থাকুক।

আরমান প্রতিদিন সকালে কলেজে যায়
বাড়িতে ফিরতে ওর বিকেল হয়ে যায়। যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাইক কিনেছে।

মেয়েরাও অনেকটাই বড় হয়েছে। ওদের নয় মাস চলছে। মাশিয়া পরীক্ষা সামনের মাসে। ও পরীক্ষার সাতদিন আগে ঢাকা যাবে। আরমান যেতে পারবেনা। সেজন্য মাশিয়ার মন খারাপ।

” এই যে শুনছেন? ”

” জ্বি বলুন। ” আরমান খাতা দেখছিল। কিন্তু মাশিয়া একটু পরপর এসে ওকে বিরক্ত করছে। ওর উদ্দেশ্য বিরক্ত করা হলেও, আরমান মোটেও বিরক্ত হচ্ছেনা। কারন সে ভালো করেই জানে মাশিয়া ওকে বিরক্ত করতেই এমন করছে।

” দূর, ভাল্লাগেনা। ”

” মেয়েরা কোথায়? ওদের সাথে খেল, দেখবে ভালো লাগবে। ”

” আপনার মেয়েরা সফরে বেড়িয়েছে। কখন আসবে জানিনা। ”

” বুঝেছি আমার বউ এখন আদর চাইছে। কাছে এস আদর দিচ্ছি। ” আরমান খাতাগুলো একপাশে রেখে মাশিয়াকে কোলে বসালো।

” সত্যি আপনি আমাদের সাথে ঢাকা যাবেননা? ”

” উহু। এখন ছুটি চাইতেই পারবনা। তবে তোমার পরীক্ষার মধ্যে এক-দুই দিন যেতে পারব। ” মাশিয়ার গলায় মুখ ডুবিয়েছে আরমান। আরমানের স্পর্শে কেঁপে উঠল মাশিয়া। যতবারই আরমান ওকে ছোঁয় ততবারই মেয়েটার এমনই হয়। আরমানের ছোঁয়া প্রতিনিয়তই ওকে পাগল করে দেয়।

” অপেক্ষায় থাকব। ” মাশিয়াও সাড়া দেয় আরমানের ভালোবাসায়।

মাশিয়া ঢাকায় এসেছে দশদিন। কল্পনা মোর্তাজা প্রতিদিন এসে নাতনিদের দেখে যান। তবে তিনি রাতে থাকতে পারেননা। কারন দোলনও ছয়মাসের প্রেগন্যান্ট। তাই তার পক্ষে মাশিয়ার কাছে থাকা সম্ভব নয়। তবে তিনি দুইজন মেইড দিয়েছেন বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য।

পরীক্ষা দিয়ে বাসায় এসে মেয়েদের নিয়ে বসেছে মাশিয়া। এমন সময় কল্পনা মোর্তাজার ফোন আসল। ফোন রিসিভ করে মা’য়ের কথা শুনে মাশিয়া স্তব্ধ হয়ে গেছে। সিঁড়ি থেকে পরে গিয়ে দোলেনর মিসক্যারেজ হয়েছে। ওর অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। মাশিয়া মেইডদের কাছে বাচ্চাদের রেখে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। তার আগে অবশ্য আরমানকে সবটা জানায়।

কল্পনা মোর্তাজা কাঁদছেন। কাঁদছেন মিরাজ মোর্তাজাও। মাহিন মাথায় হাত দিয়ে হসপিটালের করিডরে বসে আছে। ডক্টর জানিয়েছে, আঘাতের কারনে দোলনের ইন্টার্নাল প্রব্লেম দেখা দিয়েছে। সে আর কখনোই মা হতে পারবেনা। মাশিয়া সব শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

দুইদিন পর আরমান ঢাকা এসেছে। সে মাশিয়াকে নিয়ে হসপিটালে গেছে দোলনকে দেখতে। দোলন মাশিয়াকে দেখেই কাঁদতে শুরু করেছে। ওর চোখেমুখে অনুশোচনা।

” আমাকে মাফ করে দিও তোমরা। পাপের শাস্তি আমি পেয়েছি। মাশিয়া যেদিন বাসায় চলে আসল সেদিন আমি বিরক্ত হয়েছিলাম। যখন শুনলাম ও একবারে চলে এসেছে, তখন আমার ভয় হলো, বাসায় যদি মাশিয়ার আগের মতই আধিপত্য থাকে তবে আমার মূল্য থাকবেনা সংসারে। যেদিন শুনলাম ও প্রেগন্যান্ট সেদিন আমার পায়ের নিচের মাটি সরে গেছিল। একেতো মাশিয়া বাড়িতে থাকছে, তার ওপর ওর বাচ্চা। প্রপার্টি ভাগের চিন্তা পেয়ে বসল আমাকে। ভাবতে শুরু করলাম, আব্বু-আম্মু হয়তো খুশি হয়ে মাশিয়ার সন্তানকে বেশি প্রপার্টি দেবে। ভবিষ্যতে আমার সন্তানরা বঞ্চিত হবে। তাই ওর সাথে দূর্ব্যবহার করতে শুরু করলাম। কখনো কি ভাবতে পেরেছিলাম, যে প্রপার্টির জন্য আরেকজনের স্ত্রী-সন্তানকে হিংসা করছি, সেই প্রপার্টি ভোগ করার জন্য আমার কোন সন্তান থাকবেনা! ” দোলন কান্নায় ভেঙে পরল। কাঁদতে কাঁদতে ও জ্ঞান হারায়।

দোলনের কান্না দেখে মাশিয়ার কষ্ট হচ্ছে। হোকনা দোলন লোভী, স্বার্থপর তবুও তো সে মাশিয়ার ভাবি। দোলনের সন্তান মাশিয়ার আপনজন। কি থেকে কি হয়ে গেল।

শেষ পরীক্ষার দিনে, পরীক্ষার হলেই মাশিয়া অসুস্থ হয়ে গেছে। কোনরকম লিখে সময়ের আগেই বেরিয়ে এসেছে। বাহিরে এসে শশীকে ফোন দিয়ে ওর ভার্সিটিতে আসতে বলল। শশীও আধাঘন্টার মধ্যেই মাশিয়ার কাছে এসেছে। এরপর মাশিয়ার কথামত সরাসরি ওকে নিয়ে ডক্টর জহুরুল হকের কাছে এসেছে। পথিমধ্যেই শশী মিরাজ মোর্তাজাকে ফোন দিয়ে হসপিটালে আসতে বলেছে।

মাশিয়া অসুস্থ এই কথা শোনামাত্র আরমান ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। শশী শুধু ওকে জানিয়েছে মাশিয়া অসুস্থ। কিন্তু ওর কি হয়েছে সেটা বলেনি। এমনকি মাশিয়ার কাছে ফোন দিয়েও জানতে পারেনি। ওরা দু’জনই মুখে কুলুপেতে বসে আছে।

কলিং বেলের আওয়াজ পেয়েই মাশিয়া রুমে যায়। শশীকে বলে দরজা খুলে দিতে। কারন ও জানে আরমান এসেছে। শশী দরজা খুলে দিতেই আরমান হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকল।

” মাশিয়া কোথায়? ”

” রুমে আছে। ”

আরমান রুমে এসে দেখল মাশিয়া বিছানায় বসে আছে। বেচারা ছুটে যায় মাশিয়ার কাছে।

” কি হয়েছে তোমার? আমাকে কিছুই বলছোনা। জানো কত টেনশন করছি? ”

আরমানের কথা শুনে মাশিয়া একটা ফাইল ওর দিকে বাড়িয়ে দিল। আরমান ফাইলে চোখ বুলিয়ে মাথায় হাত দিয়ে ধপ করে মেঝেতে বসে পরল। ও কিছু বলার ভাষা হারিয়েছে।

মাশিয়া আরমানের দিকে তাকিয়ে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে আর মিটিমিটি হাসছে। ও ভালো করেই জানে আরমান ওকে সামান্য ধমক ছাড়া আর কিছুই বলবেনা।

” মাশিয়া, কি করেছ! তোমার নিজের জীবনের চিন্তা নেই! বাচ্চাদের চিন্তা হয়না তোমার! আমি নিষেধ করা স্বত্বেও….

আরমান মাশিয়ার দিকে তাকায় উত্তরের আশায়। ওর চোখেমুখে হতাশা।

” বাচ্চাদের কথা চিন্তা হয় জন্যই তো ওদের জন্য খেলার সাথী আনতে চলেছি। আপনি আর কোন কথা বলবেননাতো। আমার পাশে থাকুন, তাহলেি হবে।”

” আমার মেয়েরা কি বড় হয়েছে? ওদের এক বছর হয়নি এখনও। তুমি কিভাবে সামলাবে ওদের! ”

” আপনি পাশে থাকলে সব পারব আমি। আমি কিন্তু আমার রাজপুত্রের নাম ঠিক করেছি। ”

এরপর আরমানের আর কোন কথা থাকেনা। ওর হাহুতাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

আটমাস পর। হসপিটালের বেডে শুয়ে আছে মাশিয়া। ওর পাশে হাত-পা নেড়ে খেলছে ওর রাজপুত্র। ও মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে ওর ছেলের দিকে। আরমান দুই মেয়ের চুলে ঝুঁটি করে দিচ্ছে । শশী একটু পরেই ওদের নিয়ে বাসায় যাবে। রাতে বাচ্চাদের হসপিটালে রাখেনা।

” আমার রাজপুত্র ঘুমিয়েছে? ” রাতে হসপিটালে আরমান থাকে। কল্পনা মোর্তাজার শরীর খুব একটা ভালো নেই। তাই আরমান তাকে হসপিটালে থাকতে দিচ্ছেনা।

” হুম। এবার তুমিও ঘুমাও। ”

” আগে আমার কাছে আসুন। ” আরমান এগিয়ে যায় মাশিয়ার কাছে।

” এবার বলুন আপনি কি আমার ওপর রেগে আছেন? আমার রাজপুত্রকে দেখে আপনি খুশি হননি? ” মাশিয়ার কথা শুনে আরমান অবাক হয়ে গেছে।

” কি বলছ তুমি? আমি আমার ছেলেকে পেয়ে খুশি হবোনা! আর তোমার ওপরই বা কেন রেগে থাকব! পাগলি বউ আমার। তোমাকে নিয়ে চিন্তা করেছি তারমানে এই নয় যে আমার ছেলে আসাতে অখুশি আমি। ”

” তাহলে শার্টের বোতাম খুলুন। ”

” কেন! কেবিনের মধ্যে আবার তোমার কি ইচ্ছে জাগলো? ”

” কা ম ড় দেব। গত সাতদিন আপনাকে কা ম ড়া ই নি। আমার দাঁত ব্যথা করছে। ”

আরমান কপাল চাপড়ে শার্টের বোতাম খুলে মাশিয়ার ওপর ঝুঁকল। মাশিয়া আনন্দে ওর পরম নির্ভরতার স্থানে কা ম ড় বসিয়ে দেয়।

” শান্তি পেয়েছ? ”

” খুউউউউব। আচ্ছা আপনি নাকি সেন্সলেস হয়ে গেছিলেন যখন আমাকে ওটিতে নেয়? লজ্জা লাগছেনা আপনার? ”

” রাখো তোমার লজ্জা। আমি ম র ছি লা ম চিন্তায়, আর তুমি আছ লজ্জা নিয়ে। এই শেষ। আর সন্তান নেয়ার কথা ভাববেওনা। ”

” উঁহু। আরও একটা বাকি আছে। আমার আরও একটা সন্তান লাগবে। ছেলে অথবা মেয়ে যেকোন একটা হলেই হবে। ”

” মেয়ের সাহস কত! আর নয়। এটাই শেষ। প্রয়োজনে আমি আলাদা রুমে থাকব। ”

” আপনি আলাদা রুমে থাকবেন। আমিতো থাকবোনা। আমি আপনার রুমে যাব।
আটকাবেন কিভাবে আমাকে? ”

” প্লিজ বউ, আমি সুখী তোমাদের নিয়ে। আর কোন সন্তান চাইনা আমার। তুমি সুস্থ থাক, বাচ্চারা সুস্থ থাকুক। তোমাদের নিয়ে আমি আমার পৃথিবী গড়েছি। আমি চাইনা অসময়ে এই পৃথিবী ধ্বংস হোক। অনেক সময় ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও কাজ করতে হয়। এবার না হয় আমার ইচ্ছেকেই নিজের ইচ্ছে কর৷ আমি তোমাদের নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি। তোমাকে ভালোবাসি। সেজন্যই হারানোর ভয় পাই। খুব ভালোবাসি বউ, খুব ভালোবাসি। ” মাশিয়াকে জড়িয়ে ধরল আরমান। মাশিয়াও ওর বুকে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করল। ও সিদ্ধান্ত নিল, এবার ও আরমানের ইচ্ছেকে সম্মান জানাবে। এই মানুষটার সাথে বাঁচতে চায় অনেক যুগের পর যুগ। এই মানুষটার হাত ধরেই পথ চলতে চায় অনন্তকাল।

সমাপ্ত…