যেখানে দিগন্ত হারায় পর্ব-০৭

0
140

#যেখানে_দিগন্ত_হারায়
#পার্ট_৭
জাওয়াদ জামী জামী

” বেইব, কালকে রাতে বড় বাঁচা বেঁচে গেছি। ঐই লেকচারার যে আমাকে আঘাত করবে এটা বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছিলাম একসাথে পাঁচজনকে দেখে সে ঘাবড়ে যাবে। কিন্তু সেটা মোটেও ঘটেনি। আবার বিপদের আঁচ পাওয়া মাত্রই পুলিশের সামনেই তার কাজিনকে ফোন দিয়েছে। সে গাজীপুরের এসপি। কাজিন এসপি হওয়ার সুবাদে সে ফ্ল্যাটে চলে গেল, আর আমরা গেলাম থানায়! ভাগ্যিস চাচ্চু হস্তক্ষেপ করেছিল, নয়তো জেলে পঁচতে হতো। ” রেস্টুরেন্টে মুখোমুখি বসে কোল্ড কফির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে বলল রিশাদ। সামনে মুখ গোমড়া করে বসে আছে মাশিয়া। ঠোঁট কামড়ে কিছু চিন্তা করছে।

” তোমার চাচ্চু আমার পাপার কাছে ফোন করে তোমাকে ছাড়ানোর কথা বলেছিল। পাপা সব শোনার পর আমাকে সন্দেহ করেছে। পাপা চায়নি তুমি পুলিশ হেফাজত থেকে বেরিয়ে আস। মম আর ভাইয়াও আমাকে ব্যাপক ঝেড়েছে। তোমাকে একটা কাজ দিলাম, সেটাও ঠিকঠাক করতে পারলেনা। ব্লাফ দেয়াতে তুমি পারফেক্ট এটা স্বীকার করতেই হবে। ” চিবিয়ে চিবিয়ে বলল মাশিয়া।

মাশিয়ার বিদ্রুপাত্নক কথায় দমে যায় রিশাদ। ও গত চার বছর ধরে মাশিয়াকে বিভিন্নভাবে পটানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু বারবারই ব্যর্থ হয়েছে। ও মাশিয়ার সামনে নিজেকে যোগ্য প্রমান করে মাশিয়ার মনে জায়গা করে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বরাবরের মত এবারও ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সে হারতে চায়না। মাশিয়াকে তার চাই-ই চাই। মাশিয়ার বিদ্রুপ গায়ে না মেখে হাসি ফোঁটায় ঠোঁটের কোনে।

” এভাবে বলোনা প্লিজ, সুইটি। আমি ঐ লেকচারারকে শায়েস্তা করেই ছাড়ব। তুমি আমাকে আরেকটাবার সুযোগ দাও, বেইব। আমি বুঝতে পারিনি ঠিক সেই সময়ই পুলিশ আসবে, আর ঐ লেকচারার তাদেরকে সব বলে দিবে। আসলে আমিই লেকচারারকে হালকাভাবে নিয়েছিলাম। দোষটা আসলে আমারই। প্লিজ বেইবি, আরেকটাবার আমার ওপর ভরসা কর। ” রিশাদের গলায় অনুনয়।

” তুমি তাকে আর কিছুই বলবেনা। তার সাথে যদি আরেকবার তেমন কিছু ঘটে, আর সেটা যদি পাপার কানে যায়, তবে পাপা আমাকে ছেড়ে কথা বলবেনা। আর তাছাড়া তোমার মুরোদ আমার জানা হয়ে গেছে। কোন সুযোগ তুমি পাচ্ছনা। এরপর যা করার আমিই করব। আসলে আমার অপমানের জ্বা’লা তুমি অনুভব করতে পারবেনা। এই জ্বা’লা একান্তই আমার। আমার কষ্ট বোঝার মত মন কিংবা ইচ্ছে কোনটাই তোমাদের কারও নেই। ” মাশিয়া রা’গে কাঁপছে। ও কিছুইতে সেদিনের থা’প্প’ড়ে’র কথা ভুলতে পারছেনা। যেকোন মূল্যেই আরমানকে শাস্তি দিতে চায় সে। সে নিজের বিবেকবোধ ভুলে গেছে৷ ভুলে গেছে তার করা অন্যায়ের একেকটা পর্যায়। রিশাদকে রেস্টুরেন্টে রেখেই ও বেরিয়ে যায়। এই মুহুর্তে কাউকে ওর সহ্য হচ্ছেনা।

আরমান আজ একটু দেরিতে ভার্সিটি এসেছে। ও গতরাতের ঘটনা ভুলতে পারছেনা। ওর এসপি কাজিন যখনই জানিয়েছে ওর ওপর আক্রমনকারীকে ছাড়ানোর জন্য ওরই ভার্সিটির ভিসি আর চেয়ারম্যান সুপারিশ করেছে, তখনই ওর খটকা লাগে। ও তৎক্ষনাৎ ওর কলিগ তুষারকে ফোন দিয়ে রিশাদের ব্যাপারে জানতে চায়। তুষার ওকে সব খুলে বললে, আরমান বুঝতে পারে এটা মাশিয়ারই কাজ। কারন তুষার ওকে বলেছে, মাশিয়ার সাথে রিশাদের সুসম্পর্ক আছে।

আরমান রা’গে গজগজ করছে। ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে আজ মাশিয়াকে একটা উচিত শিক্ষা দেবে। আগে মাশিয়াকে ঠাটিয়ে কয়েকটা থা’প্প’ড় মা’র’বে, তারপর অন্যকিছুর কথা ভাবতে। এতে ওর চাকরি থাকলে থাকবে না থাকলে নেই। ইতোমধ্যেই ও কয়েক জায়গায় এ্যাপ্লিকেশন করেছে। ভার্সিটির থেকে ভালো কোথাও অফার পেলে সেখানেই চলে যাবে। তবুও ও কিছুতেই মাশিয়াকে ছেড়ে দেবেনা। এতে মাশিয়ার বাবাও যদি বাঁধা দেয় তবুও আরমান মাশিয়াকে ওর ভুলের শাস্তি দেবেই।

” কি ভায়া, এভাবে মুরগীর মত ঝিমাচ্ছ কেন? আমার জানামতে তুমি অবিবাহিত যুবক। আর অবিবাহিত মানেই রাজ্যের সুখ আর অবাধ স্বাধীনতা। আর কোন স্বাধীন যুবককে এভাবে ঝিমাতে দেখলে নিজের দুর্দশার কথা মনে পরে যায়। বউ নামক রণরঙ্গিণীর হাতে জীবনটা তেজপাতা হয়ে গেছে বুঝলে? আর যাই কর ভাই, বিয়ে করোনা। মনে রেখ, নারী জাতীকে ভালোবাসা দিয়ে তুষ্ট করা যায়না। ওদেরকে যতই ভালোবাসবে, সেটা ওদের কাছে ততই কম মনে হবে। বউয়ের সামনে মুখ বন্ধ রাখলেও সমস্যা, আবার বেশি কথা বললেও বিপদ। এদেরকে বোঝা দায়। কিন্তু ভায়া, তুমিতো আমার পজিশনে নেই, তবুও এমন মনমরা হয়ে আছ কেন? মনে হচ্ছে, মুরগীর খাঁচায় রানীক্ষেতে আক্রান্ত কোন মুরগী বসে আছে। ” তুষারের কথা শুনে সকল চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে হাসল আরমান। এই কয়দিনে তুষারের সাথে ওর একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মানুষ হিসেবে তুষার বেশ রসিক। সে রসিকতা করে আরমানকে অনেক কিছুই বলে। আরমানও তাকে অনেকটাই প্রশ্রয় দিয়েছে।

” অনেক কিছুই ভাবছি, তুষার ভাই। আপনি বিয়ে করে যেমন মুরগীর খাঁচায় আটকে আছেন, তেমনি আমি বিয়ে না করেই খাঁচায় আটকে গেছি। আপনাকে যেমন ভাবী আঙ্গুলে নাচাচ্ছে, তেমনি আমাকে চেয়ারম্যান স্যারের মেয়ে খোঁচাচ্ছে। দু’জনের অবস্থা মোটামুটি একই। পার্থক্য শুধু নাচানো আর খোঁচানোয়। ”

” বেশ বললে, ভায়া। নাচানো আর খোঁচানোর পার্থক্য। তা চেয়ারম্যান স্যারের মেয়েটি আবার কি করল শুনি! আমিতো আগেই বলেছিলাম, ঐ মেয়ে ধানী লংকা। তোমার হাতে থা’প্প’ড় খেয়ে ও নীবর থাকবে এটা হতেই পারেনা। ”

” ভুল আমারই হয়েছে। ওর সাথে খোলাখুলি কথা বলা উচিত ছিল। কিন্তু সেটা যখন হয়ে ওঠেনি, তখনতো আমাকেই কোন ব্যবস্থা নিতে হবে। আজ সে ভার্সিটিতে আসলে তাকে বুঝিয়ে দেব, সব পুরুষকেই শাস্তি দেয়া কিংবা আঘাত করা যায়না। আমি অন্তত তেমন পুরুষ নই। ওর দাম্ভিকতা আমাকে একটুও জ্বা’লা’তে পারবেনা। কিন্তু ও আমার দেয়া শিক্ষায় ঠিকই জ্ব’ল’বে। ” আরমানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে। তুষার ওর দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছে ঘটনা গুরুতর।

আরমান ক্লাসে গিয়ে মাশিয়াকে দেখলনা। এমনকি পরপর দুইদিন ও মাশিয়ার অপেক্ষায় থেকেও মাশিয়ার দেখা পেলোনা।

এদিকে গত দুইদিন থেকে মিরাজ মোর্তাজা তার মেয়ের সাথে কথা বলছেননা। তিনি ভাবতেই পারেননি তার মেয়ে প্রতিশোধের নেশায় কাউকে মা’র’তে নিজের বন্ধুদের পাঠাবে। তিনি মাশিয়ার এমন কাজে চূড়ান্ত মাত্রায় বিরক্ত। তাই তিনি ছেলের বিয়ের সাথে সাথে মাশিয়ার বিয়েরও তোড়জোড় শুরু করলেন। তার আত্মীয় স্বজনর এবং পরিচিত বেশ কয়েকজনকে ফোন করে মাশিয়ার জন্য পাত্র দেখার কথা বলেছেন।

” মম, আমি শপিং এ যাচ্ছি। তোমার কিছু লাগবে? ” কল্পনা মোর্তাজা ড্রয়িংরুমে বসে মেহমানদের লিষ্ট করছিলেন। মাশিয়ার আওয়াজ পেয়ে তিনি মুখ তুললেন।

” তুমি গতকালই একগাদা শপিং করে আনলে। আজকে আবার কিসের শপিং! বাবার আছে জন্যই তুমি কি প্রয়োজন-অপ্রোয়জনে শপিং করবে! মনে রেখ, সব কিছুরই একটা শেষ থাকে। তোমার খরচের হাত না কমালে একদিন সেটা তোমার জন্যই ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াবে। সারাজীবন তো বাবার বাড়িতে থেকে এমন বিলাসিতা করতে পারবেনা। আর শ্বশুর বাড়িতে বিলাসিতা করবার সুযোগ সবার হয়না। ” কল্পনা মোর্তাজা কড়া গলায় বললেন।

” তুমি কি বলছ, মম! আমি বিলাসিতা করছি! নিজের জন্য প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র কিনলে সেটা বিলাসিতা হয়? ”

” গতকালই তুমি চার লাখ টাকার শপিং করেছ। দুইদিন আগেও শপিং এ গিয়েছিলে। আমি ভেবে পাইনা, একটা মানুষ কত লাখ টাকার জিনিস কিনলে তার প্রয়োজন মিটবে! প্রতিমাসেই তুমি লাখ টাকার শপিং কর, তবুও তোমার প্রয়োজন মেটেনা? আজ কোথাও যাচ্ছনা তুমি। ভার্সিটিতে যখন যাওনি, তখন অন্য কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন আমি দেখছিনা। সোজা নিজের রুমে গিয়ে বই নিয়ে বস। ” কল্পনা মোর্তাজাও মাশিয়ার ওপর রে’গে আছেন। তিনিও জেনে গেছেন মাশিয়া ওর ভার্সিটির টিচারকে মা’রা’র জন্য রিশাদকে পাঠিয়েছিল। এবার তিনি মাশিয়াকে নিয়মের বেড়াজালে বাঁধবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নিজের সবটুকু দিয়ে মাশিয়াকে রিশাদ আর ওর গ্যাং থেকে দূরে সরিয়ে আনতে চান।

” মম, তুমি আমাকে টাকার খোঁটা দিচ্ছ! পাপা টাকা আমি খরচ করতে পারবনা! নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারবোনা? ” মাশিয়ার চোখে পানি এসেছে।

” তোমার যা যা প্রয়োজন আমাকে লিষ্ট করে দিবে। আমি নিজে তোমাকে এনে দেব। আজ থেকে তোমার ভার্সিটি ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া বন্ধ। ”

” তুমি এটা করতে পারোনা। ”

” আমি কি করতে পারি, আর করতে পারিনা, সেটা নিশ্চয়ই তোমার কাছ থেকে শিখবনা? আমি যা বলেছি, সেটাই তোমাকে শুনতে হবে, মানতে হবে। নইলে চড় মে’রে শোনাব। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে বিলাসিতা কর, যদি তারা করতে দেয়। ”

” তুমি আমাকে মা’র’বে! তুমি না আমার মম! কোন মা তার মেয়েকে মা’র’তে পারে? ”

” আলবাত পারে। তোমার মত বেয়াদব মেয়ে যেই বাসায আছে, সেই বাসার মা’কে অনেক কিছুই করতে হয়। তোমার সৌভাগ্য এখন অব্দি তোমাকে চড় মা’রি’নি। তবে এরপর থেকে সেই ভুল আর করবনা। এখন চড় খেতে না চাইলে নিজের রুমে যাও। আর আজ থেকে রান্নাঘরে আমাকে কাজে সাহায্য করবে। টুকটাক রান্না শিখে নিবে। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে তোমাকে কেউ বসিয়ে খাওয়াবেনা। ”

” বারবার তুমি বিয়ের কথা বলছ কেন, মম? আর আমাকেই বা কেন রান্না শিখতে হবে? এই বাসায় আটটা মেইড থাকতে আমি রান্নাঘরে যাব কেন? ” মাশিয়া সত্যিই আজ হতভম্ব হয়ে গেছে।

” তোমার প্রশ্নের উত্তর তোমার প্রশ্নের মধ্যেই আছে। বাবার বাড়িতে আটটা মেইড কেন দশটা মেইড থাকলেও তোমার কোন লাভ নেই। শ্বশুর বাড়িতে কয়টা মেইড থাকবে আর সেখানে তোমার পজিশন কি থাকবে সেটাতে বোঝা যাবে তোমার লাভ-ক্ষতি। ”

কল্পনা মোর্তাজার কথা শুনে মাশিয়া বুঝল ওর বিয়ের কথা ভাবছে বাবা-মা। চিন্তাটা মাথায় আসতেই ওর পা’য়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়।

” আ..আমি এখন বিয়ে করবনা। আর তুমি আমার সাথে এমন রুড হতে পারোনা। কিছুতেই পারোনা। আমি এই বাড়ি থেকে কোথাও যাবোনা। ” দুরুদুরু বুকে, কম্পমান গলায় বলল মাশিয়া।

” এই কথা তোমার আগেই চিন্তা করতে হত। যদি মন দিয়ে পড়াশোনা করতে, রিশাদের সঙ্গ ছাড়তে, টিচারের সাথে বেয়াদবি না করতে আর তাকে মা’র’তে রিশাদকে না পাঠাতে তবে আমরা তোমার প্রস্তাব চিন্তা করে দেখতাম। এখন আর তোমার কোন প্রস্তাবই গ্রহন করা সম্ভব নয়। ”

” ঐ সামান্য টিচারের জন্য তোমরা এতবড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছ! তা-ও যে কিনা আমাদেরই ভার্সিটির বেতনভুক্ত কর্মচারি! ” মাশিয়া বিস্মিত।

” খবরদার কোন টিচারকে সামান্য বলবেনা। আমার আব্বাও একজন টিচার ছিলেন। তাই তোমার কাছে যেটা সামান্য, আমার কাছে সেটা অমূল্য। বেয়দব মেয়ে, এখনই একটা থা’প্প’ড় বসিয়ে দেব। নিচে নামতে নামতে এত নিচে নেমে গেছে যে, সম্মানিত ব্যাক্তিতে সম্মান দিতে ভুলে গেছে! আর সে যদি আমাদের ভার্সিটির সামান্য কর্মচারিই হয়, তবে সে নিজের যোগ্যতায় হয়েছে। যে যোগ্যতাটুকু তোমার নেই। এনিওয়ে, তোমার সাথে কথা বলতে আর ইচ্ছে করছেনা। তুমি নিজের রুমে যাও, আর আমাকে কাজ করতে দাও।” কল্পনা মোর্তাজার গলার আওয়াজে সব মেইড ড্রয়িং রুমে চলে এসেছে। তারা অবাক হয়ে তাদের মালকিনকে দেখছে। এত বছরেও যাকে তারা এত রা’গ’তে দেখেনি।

” ভাইয়া, কেমন আছো? দেখ আমরা এসে গেছি। ” গাড়ি থেকে নেমেই শশী চিৎকার করে বলল। আরমান ওদের নিতে এসেছে। ও গাড়ি থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। শশী গাড়ি থেকে নেমেই দৌড়ে যায় আরমানের কাছে। আর চিৎকার করে কথা বলে।

সুধা আর আয়েশা খানম কপাল চাপড়ে শশীর কর্মকান্ড দেখছে।

” এই মেয়ে আর শুধরাইলোনা। আল্লাহ কবে যে ওরে বুদ্ধি দিব! ” আয়েশা খানম বিরবির করে বললেন।

আরমান শশীকে দেখে হেসে ওকে এক হাতে জড়িয়ে ধরল।

” কেমন আছিস, চন্দ্র? বাসের যাত্রীরা সবাই ঠিক আছে তো? কেউতো তোকে পাবনা পাঠাতে চায়নি? ” আরমান জানে ওর এই বোনটার বাচ্চামোর স্বভাব আছে। তাই সবাই ওকে এটা নিয়ে খোঁ’চা দিতে ভুল করেনা।

শশী মুখ খোলার আগেই আরমান ওর মা’য়ের কাছে যায়।

” আসসালামু আলাইকুম, আম্মা। তুমি ঠিক আছতো? তুই কেমন আছিস, সূর্য? ”

আয়েশা খানম তার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেলেন৷ তার সারাজীবনের একমাত্র অহংকার তার এই ছেলে। যে ছেলের জন্য তিনি অনায়াসে মৃ’ত্যু’কে বরণ করে নিতে পারেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পায়ে ঠেলতে পারেন। ধুলোয় লুটাতে পারেন তার সব সম্পদ।

চলবে…