শান্তিসুধা পর্ব-০৪

0
150

#শান্তিসুধা
৪.
গাড়ি স্টার্ট হলো। স্বামীর সঙ্গে চোখের আড়াল হলো শান্তি। অশান্ত হৃদয়টা শান্ত হলো নিমেষে। বুকের ভেতর ভার ভার লাগল খুব। এই ভার মন থেকে সব রাগ শুষে নিল। নানুমনি আর নানুভাইকে মনে করে শরীর জুড়ে মৃদু কম্পন উঠল। ফর্সা ত্বকের, মসৃণ গালটাও ভার হয়ে রইল বেশ। শান্তি কাঁদতে পারে না। বুঝদার হয়েছে পর্যন্ত কেউ ওকে কাঁদতে দেখেনি। কোনোকিছু অপছন্দ হলে চিল্লাচিল্লি করে। কেউ আঘাত করে কথা বললে তাকে দ্বিগুণ আঘাত করে কথা শুনিয়ে দেয়। দূর্ঘটনাবশত শরীরে চোট লাগলে দাঁতে দাঁত পিষে থাকে। তবুও চোখ গলিয়ে অশ্রু ঝড়ায় না। সবাই জানে শান্তি কাঁদতে জানে না। মায়ের মতো একগুঁয়ে আর শক্ত ধাঁচের মেয়ে। কিন্তু কাঁদাতে জানে। আজ এই মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেল। আপনজনদের ছেড়ে চলতে লাগল শশুর বাড়ির পথে৷ জীবন কী? বুঝে উঠার আগেই একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল। যার নাম বিয়ে। মনটা হঠাৎ এত বিষণ্ণ লাগছে কেন শান্তির? তবে কি অবচেতন মন অনুভব করতে পারল তার সঙ্গে আজ কী ঘটে গেল! পুরোনো জীবন বুঝে উঠার আগেই নতুন জীবনে ঢুকে পড়া শান্তির মন কি অবচেতনে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল?

জানালার কাঁচ নামানো। নুবাইদ উঠাতে চাইলে শান্তি একবার শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বাঁধা দিল। বুকের ভেতর ধক করে উঠল নুবাইদের। তার গভীর, সুক্ষ্ম চোখদুটি এ প্রথম শান্তির চোখে ডুবল। কয়েক সেকেন্ড মাত্র। এতটুকুতেই নুবাইদ পড়ে নিল শান্তি নামক ডায়ারির কয়েক পৃষ্ঠা। দেখে নিল নীলচে মণির চোখ দু’টির গভীরতা। খুঁজতে লাগল তল। শান্তি মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। দৃষ্টিসীমা রাস্তায়। একের পর এক গাড়ি পাশ কাটাচ্ছে। কিন্তু ওর চোখজোড়া পলক ফেলছে না। পাশে নুবাইদ। কী এক আচ্ছন্নতা যে ঘিরে ধরল তাকে। দুটো নীল সাগরে ডুবতে ডুবতে তল খুঁজে না পেয়ে ফিরে এলো যেন। রুদ্ধশ্বাস ছেড়ে আড়চোখে তাকাল একবার। শান্তির গোলাপি ফর্সা গালে তাকিয়ে ফিরিয়ে নিল চোখ। নীল চোখের গোলাপি সুন্দর মেয়েটা তার বউ! শরীর জুড়ে অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল। এক মুহুর্ত চোখ বুজে অনুভব করল, সে প্রেমে পড়ছে। অবশেষে প্রেমে পড়ছে। যে প্রেম উপর থেকে নির্ধারিত সে প্রেমে পড়ায় লজ্জা নেই। আছে কেবল বুকে শিহরণ জাগানো সুখ।

শহর থেকে তালুকদার বাড়িতে পৌঁছাতে সময় লাগল,
পাক্কা দেড় ঘন্টা। বিরক্তিতে চোখ, মুখ কুঁচকে ফেলেছে শান্তি। বাড়ির সামনে গাড়ি থামতেই মুখ খুলল সে,

‘ কোন গুহায় নিয়ে এলেন আমাকে? এতদূর কেন আপনার বাসা? ‘

দীর্ঘক্ষণ পর শান্তির মুখে কথা শুনে চমকে উঠল ড্রাইভার মামা। ফিরে তাকাল একবার। বড়ো বড়ো চোখ করে ঢোক গিলল বারকয়েক। এরপর নেমে গেল সে। নুবাইদের ভালো লাগল ভীষণ। অনেকক্ষণ পর কথা বলেছে শান্তি। চারপাশের গুমোট ভাবটা কেটে গেছে। সেই সঙ্গে অনুভব করল, শান্তি চুপ করে থাকলে সে একটা ঘোরে চলে যায়। এ ঘোরের নাম হতে পারে প্রণয়াঘোর বা নেশাঘোর। এলকোহলের নেশায় বুঁদ হলে লোকে বলে নেশাখোর। প্রেমিকার চোখের নেশায় বুঁদ হয়ে নেশাঘোর হলো নুবাইদ। আর শান্তি কথা বললে স্বস্তি অনুভব করে। যেভাবেই বলুক। রেগে বা মেজাজ দেখিয়ে। সে স্বস্তি পায়, পাচ্ছে এখনো। এক দিনের পরিচয়ে এত স্বস্তি, শান্তি, প্রেম যে কীভাবে হৃদয়ে এঁটে গেল! বিস্ময় একটা ব্যাপার।

গাড়ি থেকে নামার পূর্বে মৃদু কেশে নুবাইদ বলল,
‘ মাথায় ঘোমটা দাও। ‘

গায়ে ফোস্কা পড়ল যেন। ঠিক এভাবেই তাকাল শান্তি। মামিরা শাড়ি পরার জন্য হাতজোড় করেছিল তাকে। বিয়ের পর প্রথমবার শশুর বাড়ি যাচ্ছে। বউ না সেজে গেলে লোকে কী ভাববে? মামিরা এ কথা বললে তার জেদ আরো বেড়ে গেল। লোকের ভাবাভাবিকে গুরুত্ব দিয়ে তার কেন চলতে হবে? বাবা নেই। মা মৃত। নানু, নানা মানুষ করেছে। এই দায়ে না হয় তাদের কথায় বিয়ে করেছে। তাই বলে তো আর এটা নয়, যে সে কেনা গোলাম হয়ে গেল। শাড়ি পরতে বললে শাড়ি পরবে। খুলতে বললে খুলবে৷ না হলে লোকে কী ভাববে? মেজাজ সাত আসমানে উঠে গেল শান্তির। শাড়ি পরল না আর। নিজের ইচ্ছায় পছন্দ মতো সেলোয়ার-কামিজ পরে নিল। নুবাইদ এ বিষয় নিয়ে ঘাঁটেনি। কারণ তার মা, চাচি বাড়িতে সেলোয়ার-কামিজ পরে। তাই পোশাক নিয়ে শান্তিকে স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। তবে খেয়াল রাখতে হবে সেটা শালীন যেন হয়।

মাথায় ঘোমটা দিল না শান্তি। বাধ্য হয়ে নুবাইদ কাছে এলো। নিঃশ্বাস আটকে দুহাত দিয়ে নুবাইদের বুকে ধাক্কা দিল শান্তি৷ কিন্তু টলাতে পারল না। নুবাইদ অমায়িক ভঙ্গিতে স্মিত হেসে ওড়না দিয়ে ঘোমটা দিয়ে দিল বউকে। স্থবির হয়ে তাকিয়ে রইল শান্তি। চোখে, চোখে নিশ্চুপ এক অনুভূতির খেলা চলল। যে খেলা অচেনা অপরিণত শান্তির। আর চেনা পরিণত নুবাইদের। তাইতো অপলকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণ ঘেঁষে রহস্যময় হাসি ফুটাল প্রাপ্তবয়স্ক যুবকটি। আর হতভম্ব চোখে সে হাসি দেখে চোয়ালজোড়া শক্ত করে ফেলল কিশোরী।

গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির সদর দরজার সামনে দাঁড়াল ওরা। ভেতর থেকে দুজন ভদ্রমহিলা এগিয়ে এলেন। দুজনের বয়স কাছাকাছি। সেলোয়ার-কামিজ পরা। ওড়না দিয়ে খুব সুন্দর করে মাথা ঢেকে রেখেছে। একটা চুলও দেখা যাচ্ছে না। শ্যামলাটে দুটো মুখ। স্নিগ্ধ ভীষণ। তাদের পেছনে পরিচিত মুখ দেখতে পেল শান্তি। নুবাইদের দাদা, চাচা, বোন হুমায়রা। ডাক নাম হুমু।জানে শান্তি।

‘ আমার আম্মু আর খালামুনি। সম্পর্কে ছোটো চাচার বউও। তাই ছোটো আম্মু বলে ডাকি। ‘

নুবাইদ ভেবেছিল শান্তি সালাম দিয়ে কথা বলবে। কিন্তু না সে কিছুই বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। নুবাইদের আম্মু আরেকটু এগিয়ে এলো। অমায়িক এক হাসি দিয়ে দু’হাতে কাঁধ জড়িয়ে ধরল শান্তির। বলল,

‘ মাশাআল্লাহ! ফুলের মতো মেয়ে। এসো মা ভেতরে এসো। ‘

আচমকা এভাবে আগলে ধরাতে কেমন যেন হয়ে গেল শান্তি। অবাক চোখে তাকিয়ে রইল শাশুড়ির পানে। অদ্ভুত একটা মায়া পেল মানুষটার স্পর্শে। এমন মমতাময়ী স্পর্শ কেবল নানুমনির কাছেই পেত। মা মা গন্ধ কেমন হয় সে জানে না। কিন্তু শুনেছে পাপন ভাইয়া আর প্রান্তির কাছে। এই ভদ্রমহিলার শরীরে একটা আদুরে, নরম গন্ধ পেল সে। আচ্ছা এটা কী শাশুড়ি শাশুড়ি গন্ধ? এই মহিলা তো তার মা নয়। তাই মা মা গন্ধ পাওয়ার অবকাশও নেই। এটা নিশ্চয়ই শাশুড়ি শাশুড়ি গন্ধ। আহ, কী আরাম!

একটু চিন্তায় ছিল নুবাইদ। চিন্তা দূর হয়ে গেল শান্তির শান্ত রূপ দেখে। যাক বুদ্ধি আছে। শশুর বাড়ি এসে যে চুপচাপ থাকতে হয় জানে মেয়ে। মনে মনে হাসল সে। আম্মু আর খালামুনিদের কাছে শান্তিকে রেখে সে গেল পোশাক পরিবর্তন করতে।

তাসলিমা, তানজিনা দুইবোন। নুবাইদের মা তাসলিমা বেগম। খালামুনি তানজিনা বেগম। দুবোন পিঠোপিঠি। তাই পিঠোপিঠি দুভাই দেখেই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। একসঙ্গে বেড়ে উঠা এবং সংসার করা। দুজনের স্বভাবে অবশ্য গড়মিল রয়েছে। বড়ো তাসলিমা। সে যত সহজে সব মেনে নেয় ছোটো বোন তানজিনা তত সহজে মানতে পারে না। বড়ো বোন ধীরস্থির, সহনশীল আর ছোটো বোন সম্পূর্ণ বিপরীত। তাই শান্তিকে তাসলিমা বেগম আগলে নিলেও তানজিনা বেগম তা পারল না। সে প্রথমেই দুটো ভুল ধরে মনে গিঁট বাঁধল। নতুন বউ বাড়ি ঢুকেছে সেলোয়ার-কামিজ পরে। তাদের কাউকে সালাম দেয়নি। সে গিঁট থেকেই চুপচাপ বসে থাকা শান্তিকে ড্যাবড্যাব করে দেখে বড়ো বোনকে ফিসফিস করে বলল,

‘ আপা, এই আপা মেয়ের বয়স নাকি কম। এ তো দেখি হাড্ডাগাড্ডা। ‘

তাসলিমা বেগম মুচকি হেসে বলল,

‘ উঁচা, লম্বা স্বাস্থ্য ভালো তাই এমন। ‘

তানজিনা বেগম তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইল শান্তির পানে। এতক্ষণ শান্তি শাশুড়িকেই দেখছিল। তাই চাচি শাশুড়িকে খেয়াল করেনি। এবার খেয়াল হলো। দেখল ভদ্রমহিলা তার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে৷ এ দৃষ্টিতে মায়া নেই। আন্তরিকতা নেই। অপছন্দ, অসন্তুষ্ট ভাব স্পষ্ট। কিন্তু সে তো উনাকে আগে থেকে চেনে না। কোনো প্রকার শত্রুতা নেই। তাহলে এমন চোখে তাকিয়ে আছে কেন? ভ্রু কুঁচকে শান্তিও সরাসরি তাকিয়ে রইল। তানজিনা বেগমের মুখ হা হয়ে গেল মুহুর্তেই। চোখ দুটো বিস্ময়ে গোল গোল হয়ে গেল। এই মেয়ে তার দিকে এমন করে তাকিয়ে আছে কেন? নতুন বউ। শাশুড়ির সামনে মাথা নিচু করে থাকবে। প্রথম এলো, লজ্জায় লাল হয়ে থাকবে, তা না। কেমন নির্ভীক হয়ে তাকিয়ে আছে। আশ্চর্য! বিরক্ত হলো ভীষণ। বলল,

‘ কী ব্যাপার এভাবে তাকিয়ে আছ কেন? ‘

ভেবেছিল এবারে লজ্জা পাবে নতুন বউ। দ্রুত মাথা নত করবে। কিন্তু তাকে সহ উপস্থিত সবাইকে অবাক করে দিয়ে হাসি হাসি মুখে শান্তি বলল,

‘ আপনি আমাকে এত মন দিয়ে দেখছিলেন। তাই ভাবলাম আমারো আপনাকে দেখা উচিত। ‘

চমকে উঠল সবাই। ও বাড়িতে করা কাণ্ড হুমু যতটুকু জানে ততটুকু ফিসফাস করে মাকে বিবৃতি করতে লাগল। তাসলিমা বেগম নাস্তা পানি নিয়ে এসে নতুন বউয়ের পাশে বসল। বিনয়ের স্বরে বলল,

‘ মা মিষ্টি মুখে দাও একটু। ‘

‘ আমি মিষ্টি কিছু খাই না আন্টি। ঝাল কিছু আছে? না থাকলে ঝাল, ঝাল করে নুডলস বা পাস্তা করে দিলে খাব। ‘

সবার মুখ চুপসে গেল। তাসলিমা বেগম সুক্ষ্ম চোখে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল শান্তিকে। কী সুন্দর মেয়ে। কথাবার্তায়ও ভুল নেই। কিন্তু লজ্জা কম, অপরিচিত স্থানে, অপরিচিত মানুষে জড়তা রেখে কথা বলে না। মুখের ওপর সব জবাব দিয়ে দেয়। অল্প বয়স, বাবা, মা ছাড়া মানুষ তাই হয়তো এমন। মৃদু হাসল তাসলিমা বেগম। শান্তির গালে হাত রেখে নরম গলায় প্রশ্ন করল,

‘ ভয় লাগছে না? অচেনা মানুষ, নতুন জায়গা? ‘

‘ ভয় লাগবে কেন? শশুর বাড়ি প্রথম দিন অচেনাই তো থাকে। আস্তেধীরে চিনে নিব সব। ‘

ঠোঁট টিপে হাসল তাসলিমা বেগম। আহা, ছেলে তার কী বউ এনেছে! একবারে দিলখোলা মেয়ে। মনের কথা অকপটে মুখে বলে দিতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে সবার এই মেয়ের আচরণ খারাপ লাগলেও তার কেন জানি খারাপ লাগল না। সে শান্তির কপালে স্নেহের পরশ এঁকে উঠে গেল।

এদিকে তানজিনা বেগম তো রেগে বোম। নতুন বউ বাড়ি এসেই এত চোপড় চোপড় কথা বলবে কেন? শান্তি খেয়াল করল তীর্যক চোখে তাকিয়ে আছে চাচি শাশুড়ি। বিরক্ত লাগল তার। শরীরটা টনটন করছে। মাথাও ধরেছে ভীষণ। চোখেমুখে পানি দিয়ে একটু বিছানায় গা এলালে আরাম পেত। তক্ষুনি মনে পড়ল নুবাইদের কথা। বিড়বিড় করে বলল,

‘এই নাফেরটা গেল কোথায়? ব্যাটা বিয়ে করে বউ এনে ভরা আসরে বসিয়ে কি আরাম করতে গেল নাকি?’

ভাবতে ভাবতে হাই তুলল। আবার চোখ গেল চাচি শাশুড়ির পানে। একইভাবে তাকিয়ে আছে। মেজাজ খারাপ হলো শান্তির। উঠে দাঁড়িয়ে তপ্ত গলায় বলল,

‘ নাফেরের রুম কোনদিকে? ‘

নিঃশ্বাস আটকে গেল তানজিনা বেগমের। হাঁটুর বয়সী মেয়ে। বয়সে এত বড়ো স্বামীকে কী অবলীলায় নাম ধরে ডাকছে। এদিকে তিন সন্তান জন্ম দিয়ে, বড়ো করেও স্বামীর নাম মুখে নেওয়া দূর, মনেও নিতে পারে না। এই মেয়ে তো চরম বেয়াদব! নুবাইদের বউ বেয়াদব একটা মেয়ে? ভাবতেও বুক ভার হলো তানজিনার। একটা ধমক দিতে উদ্যত হবে তক্ষুনি হুমু এগিয়ে এসে বিগলিত গলায় শান্তিকে বলল,

‘ দোতলার কোণার ঘরটাই বড়ো ভাইয়ার। চলো নিয়ে যাই। ‘

চোখের পলকে শান্তি উপরে উঠে গেল। তানজিনা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল সোফায়। কী হচ্ছে এসব? একে তো আচমকা বিয়ে করে নিল নুবাইদ। এরওপর বউ একটা কঠিন বেয়াদব। চপড় চপড় কথা বলে। বিয়ের পর প্রথম রাত। স্বামীর ঘরে জোর করে পাঠানো যাবে না বউকে। এতকাল এই দেখে এসেছে। মেয়ে যত শিক্ষিত, স্মার্ট হোক। লজ্জা নামক শব্দটা তো আর উঠে যায়নি দুনিয়া থেকে। কোন মেয়ে বিয়ের প্রথম রাতে এমন স্বেচ্ছায় স্বামীর ঘর কোথায় জেনে নিয়ে টইটই করে ঘরে চলে যায়? দম বন্ধ হয়ে এলো তানজিনার। সহসা উঠে দাঁড়িয়ে দৌড় দিল রান্নাঘরের দিকে,

‘ আপা, ও আপা, আপা! ‘

®জান্নাতুল নাঈমা