সুখের ঠিকানা পর্ব-০১

0
134

#সুখের_ঠিকানা
#শারমিন_হোসেন
#পর্ব০১

বড় বোনের পাত্র হিসেবে নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে দেখে থমকে যায় অষ্টাদশী এনাবুল জান্নাত খাঁন লিয়া। ক্রাশ কে এইসময় এখানে দেখে লিয়া আশ্চর্যান্বিত হয়।লিয়ার পা থেমে যায়।সিঁড়িতে পা রাখার সাথে সাথেই লিয়ার দৃষ্টি যায় ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে থাকা মেহমানদের দিকে।এইতো মিনিট পাঁচেক আগে তুলি গিয়ে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললো, পাত্রের বাবা মা, পাত্র আর তার কাজিন এসেছে।তুলি আরো বলেছিলো,স্যুট-বুট পরে পাত্রকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। একবাক্যে বললে সো হ্যান্ডসাম । লুকিং বিউটিফুল।সোফায় বসা স্যুট বুট পরিহিত সুদর্শন মানবকে দেখেই লিয়ার পা থেমে যায়।লিয়া দুইহাতে সিঁড়ির রেলিং চেপে ধরে।লিয়া বারকয়েক পলক ঝাপটায়। বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে মনেমনে আওড়ায়,,

“আপনাকে তো ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখতাম।আপনি প্রায়ই আমার স্বপ্নে আসেন।আজ হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আমি জেগেই আপনাকে এইসময় দেখতে পাচ্ছি।এটা আমি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছি কি?নাকি এই মূহুর্তে এইখানে আপনাকে দেখতে পাওয়া আমার চোখের ভ্রম?আর নাকি যা দেখতে পাচ্ছি আর আমার সিক্স সেন্স আমাকে যা জানান দিচ্ছে তা কি সত্যিই?”

লিয়া ঠোঁট গোল করে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে মনেমনে আওড়ায়,,”উফফ!ভাগ্য আবার আমাকে কাঁদাতে চাইছে। আপনার প্রতি একবুক অভিযোগ আর পাহাড়সম অভিমান নিয়ে দূরেই ছিলাম।যখন আমি রিলাইজড করলাম,আমি আপনাকে বোঝাতে পারলাম না।বোঝাতে চেয়েও বোঝাতে পারিনি আপনাকে।মেঘের আড়ালে যেমন রোদ থাকে।ঠিক তেমনি আড়ালে অনেক সত্যিও লুকিয়ে থাকে।আপনি সবটা না জেনেই আমার উপর ব্লেইম করলেন।সেই ব্লেইম টা আমি মেনে নিতে পারিনি। তাইতো বারংবার মন থেকে চেয়েছি কোনকালেই যেনো আপনার সাথে আমার সাক্ষাৎ না হয়। অবশ্য এটা আপনার নিজেরই চাওয়া। আপনার সেই চাওয়াকে প্রায়োরিটি দিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।আড়াল করে নিয়েছি নিজেকে।নিজের অনুভূতিকেও দমিয়ে রেখেছি।আপনাকে নিয়ে আমার মনে সুপ্ত ভালোলাগার যে ফিলিংস ছিলো।সেসব কে ভুলতে চেয়েছি বারংবার।তবে জানিনা কতটুকু সফল হয়েছি আমি?আদৌতেও কি সফল হয়েছি?”

উফ্!পুরোনো বিষাদময় স্মৃতি মনস্তাত্বিকে স্মরণ হতেই লিয়ার বুকের মাঝে যন্ত্রনা অনুভব হয়। তুলির বলা কথা স্মরণ হতেই লিয়ার টানাটানা নজরজোড়া টলমল করতে শুরু করে।বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতিটা যেনো আগুনে ঘি ঢালার মতো। যন্ত্রনাটাকে জ্বলনে পরিণত করছে।

লিয়ার মনমস্তিষ্ক জুড়ে এখন শুধু একটা বিষয়ই ঘুরপাক খাচ্ছে।লিয়া নিজের চোখকে বিশ্বাস করলেও নিজের মস্তিষ্কের স্মরণ হওয়া কথাগুলো মানতে চাইছে না।লিয়ার মন বলছে,আমি যতটুকু বুঝতে পারছি।আমি যতটা ধারনা করছি।সবটা যেনো ভুল হয়।আমি মন থেকে প্রে করছি, তুলির বর্ণনা যেনো ভুল হয়।উনি যেনো পাত্র না হয়।”

লিয়ার ভাবনার মাঝেই কেউ লিয়ার কাঁধে হাত রাখে।লিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে তাসনিমকে দেখে হকচকিয়ে উঠে। অতঃপর নিজেকে যথাসম্ভব স্বভাবিক রাখার চেষ্টা করে নির্বাক থাকে। তাসনিম একবার ড্রয়িংরুমে বসা মেহমানদের দিকে নজর বুলিয়ে নেয়। অতঃপর মৃদুস্বরে লিয়াকে শুধায়,,

“এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস?”

লিয়া শুকনো ঢোক গিলে নিয়ে জড়তা নিয়ে বলে উঠল,,”ক কই কিছু নাতো।তোমার হবু বরকে দেখতেই আসছিলাম।”

লিয়ার শেষের কথাটা শুনে তাসনিমের কিছুটা লজ্জা অনুভব হয়। মূহূর্তেই উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ মায়াবী ফেসে হালকা গোলাপী আভা ছড়িয়ে পড়ে । তাসনিম মাথার উপর দেওয়া ওড়নাটা একহাতে ঠিক করে নিয়ে বলে,,” আমাকে দেখতো সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা।যতই হোক ওখানে জারিফের বাবা মা উপস্থিত আছেন।ছেলের বউ হিসেবে আমাকে তাদের পছন্দ হবে তো? রিজেক্ট করবে না তো আমায়?”

শেষের কথাটা মলিন মুখে ভারী গলায় বলে তাসনিম।এতক্ষণ যদিও লিয়া পাত্র কে?তা নিয়ে কনফিউজড ছিলো।তাসনিমের কথায় সাথেসাথেই সব কনফিউশন দূর হয়ে যায়। তাসনিম এর হবু বর যে জারিফ তা এখন স্পষ্ট লিয়ার কাছে।লিয়া নিজেকে তটস্থ করে।আড়ালে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে।জোর করে হাসির রেখা ঠোঁটের কোনে টেনে আনে। স্বাভাবিক স্বরে বলে,,
“আরে আপু তুমি কিযে বলো না।তুমি দেখতে কত্ত মিষ্টি। পৃথিবীর সব বাবা মা-ই একবার তোমাকে দেখলে বিনা বাক্যকেই তাদের পুত্র বধূ করতে চাইবে। প্রথম দর্শনেই তোমাকে তারা তাদের ঘরের লক্ষী করতে চাইবে, হুহ।।সেখানে রিজেক্ট করবে তোমাকে।হাউ ফানি।কথাটা হাস্যকর।তোমার মতো রুপে গুনে আর কয়জন আছে বলোতো?তার উপরে তুমি একজন ডক্টর।তোমার শ্বশুর বাড়ির চৌদ্দ গুষ্টি বিনা ভিজিটে সেবা পাবে।এখন ডক্টরদের যে পরিমাণ হাই আ্যমাউন্ট ভিজিট।ভাবা যায়। উফ্।তাও আবার সিরিয়াল পাওয়া দায়। সেখানে একজন রেজিস্টারকৃত ডক্টর বউমা পাবে। মাত্রই ইন্টার্ন করছো। ইন্টার্ন শেষে যখন প্রাকটিস করবে।তখন তো তোমার নাম ডাক ছড়িয়ে পড়বে। এরকম বউমা পাওয়া এটা তো তাদের সুপ্রসন্ন ভাগ্যের ব্যাপার স্যাপার,হুম।”

লিয়ার কথা শুনে তাসনিম ঠোঁট টিপে হাসতে থাকে। ঠোঁটে বিস্তৃত হাঁসি রেখেই বলে উঠলো,,”হয়েছে বোন।এবার একটু থাম। প্রশংসাগুলো আজ নাহয় তুলে রাখ।একসাথে সব প্রশংসা করলে তো ফুরিয়ে যাবে।ঠিক বলেছিনা?তার আগে এখন তুই আমার সাথে নিচে চল।ওখানে আন্টি আঙ্কেল আছেন।ওনাদের সাথে আমার ফাস্ট দেখা হবে।কেমন জানি আনইজি ফিল হচ্ছে।তাই বলছি আমাকে সাহস যোগানোর জন্য তুই সবসময় আমার সাথে সাথেই থাকিস কেমন।”

লিয়া কপাল কুঁচকে বাম ভ্রুটা কিঞ্চিৎ নাচিয়ে বলে,,”আমি কি সাহসের সিলিন্ডার নাকি। যে সাহস সাপ্লাই দেবো,হ্যা।”

কথাটা শেষ করেই লিয়া মৃদু আওয়াজে হাসে।কিছুটা ব্যথিত‌্য হৃদয় নিয়েই মলিনমুখে চমৎকার হাসে লিয়া।হাসির আড়ালে থাকে বেদনা।লিয়া ঠোঁট চওড়া করে ফের বলে,,”আপু তুমি কি এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার প্লান করেছো না-কি?ঐদিকে তোমার উডবি তো মনেহয় তোমার দর্শন পাওয়ার জন্য হাপিত্যেশ করছে।তোমাকে সাহস যোগানোর,আনইজি দূরীকরণের মানুষ নিচে আছে।সো টাইম ওয়েস্ট না করে জলদি যাও।গো ফাস্ট।”

তাসনিম দৃষ্টি সরু করে কাঠকাঠ গলায় বলে,,”নো নেভার।একা একা যাওয়া আমার পক্ষে পসিবেল নয়।সত্যিই আমার লজ্জা প্লাস অস্বস্তি দুইটাই হচ্ছে।তুই-ও তো দেখবি বলছিলি।তাই আমার সাথেই চল।তোর দেখাও হবে।আমারও বড়দের মাঝে অস্বস্তিবোধটা একটু হলেও কম হবে।”

অনিচ্ছা সত্ত্বেও বড় বোনের কথা রাখতে লিয়া তাসনিমের সাথে নিচে নামতে থাকে। প্রতিটা সিঁড়ির ধাপে পা ফেলছে লিয়া।সাথে লিয়ার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়তে থাকে।বুকটা ভারী হয়ে উঠছে লিয়ার। অজান্তেই লিয়ার বুকের ভেতর ব্যাথা অনুভব হচ্ছে।

এক আসন বিশিষ্ট রাজকীয় সোফায় জান্নাত বেগম বসে আছেন।বয়স সত্তরের কুঠায় হলেও চেহারার জৌলুস এখনো বিদ্যমান।তেমনি বেশ দাপট নিয়ে চলেন।বাড়ির যেকোনো বিষয়ে প্রধান সিদ্ধান্ত দাতা তিনি।নাতী-নাতনীরা সহ নিজের ছেলে ছেলের বউয়েরা এখনো ভয় করে চলেন।অবশ্য শুধু ভয়ই নয় শ্রদ্ধা সমীহ করে চলেন সবাই।একপাশের চার আসন বিশিষ্ট সোফায় তাসনিমের বাবা ইমতিয়াজ খাঁন।ওনার পাশে জারিফের বাবা আনোয়ার রহমান।তারপর জারিফের মা জাহানারা বেগম।অপর পাশের সোফায় সাদা শার্টের উপর কালো কোট,কালো প্যান্ট আর কালো স্যু পরিহিত মানব ভার্সিটির টিচার আয়মান জারিফ। জারিফের পাশে এক মানব বসে উসখুস করছে। টিশার্টের উপরে চেইক শার্ট পড়া শার্টের বোতাম গুলো খুলে রাখা। জিন্স প্যান্ট পড়নে,পায়ে সাদা কেডস।বড়রা বিভিন্ন কথায় মশগুল ছিলো।জারিফ ফোন স্ক্রল করছিলো। নীল বসে বসে বোর হচ্ছিলো। নীল সোফায় গা এলিয়ে দেয়। অতঃপর জারিফের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে মৃদুস্বরে বলে উঠলো,,

“ব্রো তোকে দেখে তো মনে হচ্ছে, তুই পাত্রী দেখতে না এসে।কোনো শোক সভায় আসছিস।একি রঙ পড়েছিস তুই?”

জারিফ নির্বিকার ভঙ্গিতে স্পষ্ট স্বরে শুধায়,,”কেনো দেখতে পাচ্ছিস না তুই?নাকি নার্সারির বাচ্চা তুই কালার চিনিস না। অবশ্য তোকে নার্সারির বাচ্চার সাথে কম্পিয়ার করলে ভুল হবে না।কজ তোর জ্ঞানের পরিধি নার্সারি বাচ্চাদের সমান।”

জারিফের অপমানজনক কথাটা শুনে নীল মুখটা কাচুমাচু করে ফেললো।যতই হোক এতবড় একজন অনার্স পড়ুয়া ছেলেকে কিনা নার্সারির বাচ্চার সাথে তুলনা করা হলো।বিষয়টা সত্যিই লজ্জাকর।তবে নীলের কাছে এই কথা নতুন নয়।আর না কোনো ম্যাটার।জারিফের কথাকে গায়ে না মেখে নীল আরেকটু টানটান হয়ে বসলো। অতঃপর গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,,”দেখতে পাচ্ছি দেখেই তো বললাম।আর শোন ব্রো এই ব্ল্যাক কালার কেমন জানি শোক প্রকাশ করে।তাই কথাটা বললাম।”

কিয়ৎক্ষন পরে নীল একটু নড়েচড়ে বসে বিরক্তিকর গলায় ফের বললো,,”পাত্রী দেখতে আসছি।অথচ পাত্রীর কোনো নাম গন্ধ-ই নেই।উফফ!কি যন্ত্রনা।এখানে বসে বড়দের বিরক্তিকর কথাবার্তা গিলতে হচ্ছে। পাত্রী আসবে।সাথে দুইচারটা সুন্দরী কাজিন কিংবা বান্ধবী আসবে।তাদের সাথে আলাপ ক”

নীলের কথাটা শেষ করতে না দিয়ে জারিফ গম্ভীর কন্ঠে বলে ,,”কোনো মেয়ের সাথে তোর আলাপ মানে তো ফ্লার্টিং।আর ড্যাবড্যাব করে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকা।”

নীল জিহ্বায় কামুড় দিয়ে সাথে সাথেই বলে উঠলো,,
“ছিঃ ছিঃ ব্রো।আমার মতো ইন্নোসেন্ট ছেলের নামে এমন মিথ্যাচার তুই করতে পারলি। ইটস্ নট ফেয়ার ব্রো।এই সরফরাজ অভ্রনীল এর চরিত্র,আচার , ব্যবহার কাজ-কর্ম ।এক কথায় বললে এ টু জেড নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য আজ পর্যন্ত কেউ করেনি। এ্যকসেপট নিজের বাড়ির লোক।নিজের ফ্যামেলিই অভ্রনীলের কদর বুঝতে পারছেনা।যেকিনা একজন ফিউচার ব্রাইট সাইকোলজিস্ট।”

শেষের কথাগুলো ক্ষীণস্বরে ভাব নিয়ে বলে নীল।জারিফ দৃষ্টি ফোনে রেখেই মিটমিট করে হাসে। নীল ছোট করে শ্বাস টেনে নেয়।একহাতে শার্টের কলারটা একটু টানটান করে নিয়ে আয়েশ করে বসার চেষ্টা করে। অতঃপর কিছু মনে হতেই নীল কৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে উৎসুক গলায় বলে উঠলো,,”আচ্ছা ব্রো সকালে বড়মা আর আম্মু ডায়নিং এ বলাবলি করছিলো।তাই কথাটা কানে এলো।”

“এতো ভনিতা না করে সোজা সাপটা কথা বল।যদিও আমি গেইস করেছি তুই কি বলবি।”

জারিফের কথাশুনে নীলের কপালের ভাঁজগুলো প্রগাঢ় হয়। কপালের ভাঁজগুলো কিছুটা সরল করে বললো,,”পাত্রী আই মিন হবু ভাবী নাকি তোর পরিচিত।আগে থেকেই তোদের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে।আরো ক্লিয়ার করে বললে।”

“থাক তোকে আর ক্লিয়ার করে কিছু বলতে হবে না।আর হ্যা ও আমার পরিচিত।সী ইস ওয়েল নোন টু মি।”

নীল অভিযোগের সুরে বলে,,”তাহলে আমাকে কেনো একবারো মিট করাসনি?হ্যা।আর মিট নাহয় বাদই দিলাম। অন্তত পক্ষে ছবি টবি তো দেখাতে পারতি।”

“আমার পছন্দের জিনিসে তো তোর আবার ভাগ বসানোর স্বভাব।বলা তো যায়না।পোশাক আশাকের মতো আবদার করে বসতি। যদিও ও তোর থেকে সিনিয়র হবে।তবুও তোকে বিশ্বাস নেই।তোর থেকে পাঁচ বছরের বড় রুমকি তার সাথেও শুনেছি তুই ফ্লার্ট করিস।”

“এই ব্রো এগুলো জাস্ট টাইম পাস।বলতে পারিস ফানও বটে।তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পার্ফেক্ট একজনকে খুঁজছি।”

“আগে নিজে পার্ফেক্ট হ তারপর ”

হঠাৎ জারিফ থেমে যায়।মুখের শব্দগুলো উড়ে যায়।জারিফের নজরজোড়া থমকায়।যেখানে দুই মানবী দাঁড়িয়ে আছে। তাসনিম এর পাশে লিয়াকে দেখে জারিফ অবাক হয়।এতক্ষণ নীলের সাথে হেনোতোনো কথা বললেও মনটা বারবার চাইছিলো তাসনিমের দর্শন। সেখানে জারিফের দৃষ্টি প্রগাঢ় হয় তাসনিমের পাশে থাকা টানাটানা বড়বড় কালো মিচমিচে চোখের মনির অধিকারী মানবীতে।জারিফ বিস্ময়কর চাহনিতে কিয়ৎক্ষন তাকিয়ে থাকে লিয়ার দিকে। লিয়াকে দেখার পরে কিছু কথা মনস্তাত্ত্বিকে স্মরণ হতেই সাথে সাথে দৃষ্টি নুইয়ে নেয়।লিয়াকে দেখে জারিফের ভেতরে অনুতপ্ত বোধ জাগ্রত হয়।সাথে জারিফের মনে কিছুটা শঙ্কার সৃষ্টি হয়। জারিফ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে মনেমনে আওড়ায়,,

“ওহ্ শিট।এই মেয়েটা এখানে কি করছে?আর বাহ্যিক আ্যপিয়ারেন্স দেখে তো বাইরের কেউ মনে হচ্ছে না।কজ তাসনিম এর ফেসের সাথে অনেক মিল দেখছি। তারমানে এই মেয়ে এইবাড়ির মেয়ে?নো ডাউট। উফ্!সেদিন মেয়েটার সাথে মিসবিহেভ করা মোটেও আমার উচিত হয়নি।সেদিনের আচরণের কথা সবার সামনে বলে দিলে।তবে সবার মধ্যে আমাকে নিয়ে ব্যাড ধারণা জন্মাবে।মেয়েটাকে কড়া করে কিছু বলতে গিয়ে ফ্যামেলি শিক্ষা নিয়ে বলে ফেলেছিলাম।এই বাড়ির মেয়ে বাট মেয়েটার আচরণ তা প্রকাশ করেনা।কারন যে কয়বার মেয়েটার সাথে দেখা হয়েছে।মেয়েটার মধ্যে ভালো কিছু দেখেনি।আর সেদিন তো মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো,মেয়েটার অসভ্যতামি।যাইহোক, তবুও মেয়েটার সাথে ওভাবে রুঢ় আচরণ আমার চরিত্রের সাথে কোনোভাবেই মানা যায়না। তারপরেও জানিনা সেইসময় আমার কি হয়েছিলো?আমি কড়া করে অনেক কিছুই বলে ফেলি।”

উফফ! এতো সময় সুন্দর আনন্দঘন অবস্থা বিরাজ করছিলো জারিফের হৃদয়ে। মূহূর্তেই সেই জায়গায় আশ্রয় নেয় অপরাধবোধ, অনুশোচনা। ছাব্বিশ বছরের জীবনে জারিফের মনে পড়ে না কখনো কাউকে কথা বা কাজ দিয়ে হার্ট করছে।আর বা কাউকে অসম্মান করেছে। কিন্তু সেদিন লিয়াকে বলা প্রতিটা কথা যখন শীতল মস্তিষ্কে নাড়া দেয়।তখন জারিফ কিছুটা অনুতপ্ত ফিল করে।জারিফের মনেহয় একটু বেশিই বলে ফেলেছি বোধহয়।জারিফ ফের মনেমনে আওড়ালো,,

“আসলে সেদিন নাতাশাকে ঐভাবে দেখে আমার সেন্স ঠিক ছিলো না। মানছি আমি নাতাশার ব্যাপারে খুব পজেসিভ।তারপরেও মেয়েটার-ও যে দোষ ছিলো না এমন নয়।”
.
.
জান্নাত বেগম উপস্থিত সবার সামনে তাসনিম লিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেন। তাসনিম সালাম দিয়ে কুশলাদি বিনিময় করে। অতঃপর জাহানারা বেগম তাসনিম কে নিজের পাশে বসিয়ে হাসিমুখে কোমল গলায় বিভিন্ন কথা বলছেন। জাহানারা বেগমের মুখাবয়ব দেখে যে কেউ নির্দ্বিধায় বলতে পারবে, একমাত্র ছেলের বউ হিসেবে মেয়েটাকে উনার বেশ মনে ধরেছে।আর এরকম ভদ্র,শান্ত-শিষ্ট মায়াবী ফেসের অধিকারী মেয়ে কে না পছন্দ করে?

লিয়া একপাশে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।ওড়নার কোনা আঙ্গুলে একবার পেছাচ্ছে তো আবার খুলছে।এবাড়ির বড় বউ তহমিনা বেগম। হঠাৎ লিয়াকে উদ্দেশ্য করে শরবতের ট্রে টা দেখিয়ে আদূরে গলায় বলে উঠলো,,”লিয়া সোনা মা আমার শরবত টা সবাইকে দাও।”

তহমিনা বেগম প্রথমে কথাটা তাসনিম কেই বলতে চেয়েছিলেন।পরে দেখলেন মেয়ে তার হবু শ্বাশুড়ির পাশে বসা। জাহানারা বেগম বেশ উৎসুকভাবে এটা সেটা কথা বলছেন তাসনিম এর সাথে। সেখানে ব্যাঘাত ঘটাতে ওনার মন সায় দিলো না।তাই তো পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লিয়াকে বললেন।লিয়া মলিন মুখে জোর করে হাসির রেখা ফুটিয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক উত্তর দেয়। তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে কিয়ৎকাল পরেই মৃদুস্বরে ছোট করে বললো,,

“ঠিক আছে বড়মা।”

বাড়ির মেজো বউ রাজিয়া সুলতানা (লিয়ার আম্মু) কাজের মেয়েটার সাহায্যে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি ফলমূল কয়েক রকমের নাস্তার ট্রে এনে রাখলেন।লিয়া এক এক করে সবাইকে শরবত দিতে থাকলো।আগে বড়দের কে দিলো। অতঃপর জারিফদের পাশে আসলো।নীল যেনো কোনো ঘোরের মধ্যে আছে।মুখে কোনো কথাই নেই। যখন বুঝতে পারলো পাত্রী তাসনিম।তখন নীলের মনে লাড্ডু ফোঁটে।নীল মনেমনে ভাবে,,”উফ্।বড্ড বাঁচা গেলো।এতক্ষণ তো পাত্রী কে তা নিয়ে কনফিউজড ছিলাম। ব্রো এর নজরজোড়া ফলো করে মনে হয়েছিল পাত্রী মিস লিয়া।পরে বড়মা যখন পাত্রী কে কাছে টেনে বসালেন।তখন সব কনফিউশন দূর হলো।তার মানে শ্যাম বর্ণের মায়াবী মেয়েটা ভাবী।আর মনোহরনী, ফর্সা ডাগরডাগর চোখের মালিক হলেন বেয়াইন।”

নীলের এসব ভাবনার মাঝেই লিয়া শরবতের ট্রে টা নীলের সামনে ধরে।এতেও নীলের কোনো হেলদোল নেই।নীল তো মনেহয় এই জগতে নেই।ওতো ওর ভাবনার জগতে বিরাজ করছে। প্রায় মিনিট খানেক পর লিয়া যথেষ্ট বিরক্ত হয়ে যায়।কি বলে সম্বোধন করবে? কি বলবে লিয়া ভেবে পাচ্ছে না। অতঃপর হালকা কেশে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,,

“এইযে শরবত নিন।”

এতক্ষণে নীল হুসে ফিরলো।লিয়ার কথা কর্ণদ্বয় ভেদ করে মস্তিষ্কের নিউরনে সাড়া জাগাতেই নীল নড়েচড়ে বসে।নীল ভাবনা থেকে বেড়িয়ে লিয়ার দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো,,”ওয়াও।সো নাইস।একবাক্যে বললে অসাধারণ।”

কথাটা শুনেই লিয়া আশ্চর্যের চরম সীমায় পৌছায়।সাথে লিয়ার মেজাজটাও খা’রাপ হয়।বড়রা উপস্থিত থাকায় লিয়া রা’গটা প্রকাশও করতে পারছে না।জারিফ তো বিস্ফোরিত নয়নে নীলের দিকে তাকায়।জারিফ মৃদু রাগি চোখে নীলের দিকে তাকাতেই নীল বিষয়টা বুঝতে পারে।নীল থতমত খেয়ে বসে।সে যে ভুল যায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছে তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। নীলের কথা শুনে সবার দৃষ্টি নীলের দিকে। জান্নাত বেগম খানিকটা মোটা চোখে গম্ভীর মুখাবয়ব করে নীলের দিকে তাকিয়ে।সেটা দেখে নীলের মুখটা চুপসে যায়।নীল বারকয়েক শুকনো ঢুক গিলে নেয়। ওহ্ শিট।বুড়ি দাদিকে দেখে তো মনে হচ্ছে বেশ চটেছে আমার উপর।আমার স্লিপিং অফ টাঙ এর জন্য ব্রো এর বিয়েটা না ভেস্তে যায়।নীল সবাইকে অবাক করে গমগমে কন্ঠে বলে উঠলো,,

“অসাধারণ!এক কথায় ওসাম! বাড়ির ডিজাইনটা খুবই সুন্দর! আহ্!দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়।সবুজের ডিস্টেম্বার।সবুজ হলো শান্তির প্রতিক।গাছের পাতার রঙ সবুজ।সত্যি দাদি আম্মা আপনার আভিজাত্যপূর্ণ রুচির প্রশংসা না করে আমি থাকতে পারছিনা আর।সবুজের মাঝে আভিজাত্যপূর্ণ সফেদ পর্দা গুলো মৃদু বাতাসে উড়াউড়ি করছে।এখানে কোনো কবি থাকলে নির্ঘাত মারাত্মক সুন্দর একটা কবিতা লিখে ফেলতো।”

তাসনিম মিটমিট করে হাসছে। জারিফ একহাত কপালে দিয়ে আছে। জাহানারা বেগম চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই নীল থেমে যায়।লিয়া ভাবে,”মেন্টাল নাকি?”

জান্নাত বেগম মুখে গম্ভীরতার ছাপ রেখেই ভরাট গলায় বললেন,,”এখন আপাতত নাস্তা করো।কবিতা লেখার জন্য পরে পাছে সময় পাবে।”

নীল শরবতের গ্লাসটা হাতে নিয়ে চুমুক দিতে থাকে।জারিফের সামনে দাঁড়াতেই লিয়ার হৃদযন্ত্রের গতিবেগ বেড়ে যায়।লিয়ার মনেতে কম্পন শুরু হয়।মনের কম্পনটা মূহূর্তেই সারা শরীরে ছেয়ে যায়। লিয়ার হাত কাঁপতে থাকে।জারিফ একবার লিয়ার মুখের দিকে তাকিয়ে অতঃপর শরবতের গ্লাসটা হাতে তুলে নেয়।তারপর মৃদুস্বরে বলে উঠলো,,” থ্যাংকস।”

লিয়া শরবতের ট্রেটা সামনের টেবিলে রাখে।সেদিনের অপমানজনক কথা স্মরণ হতেই লিয়ার দুচোখের কোল নোনাজলে ভরে উঠলো।লিয়া কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে দ্রুত ওখান থেকে প্রস্থান করে।লিয়া রুমে চলে আসে। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না আটকিয়ে রাখে। লিয়া মনটাকে রিফ্রেশ করতে কিছুক্ষণ পর পেছন দরজা দিয়ে বাগানে যায়।লিয়ার মন খা’রাপ থাকলে বাগানে আসে। বিভিন্ন রকমের ফুটে থাকা ফুলের নজরকাড়া সৌন্দর্য দেখে লিয়ার মনমেজাজ ফুরফুরে হয়ে যায়।তবে আজকে আর ফুলের সৌন্দর্য লিয়ার মনটা ফুরফুরে করতে পারছে না।
.
নাস্তার পর্ব শেষে নীল জারিফের কানের পাশে মুখটা নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,,”এই ব্রো ভাবীর সাথে আলাদা করে কথা বলতে চাস?আমি ম্যানেজ করছি তুই শুধু হ্যা বল।”

“এরকম হলে মন্দ হয়না।তবে তোর কোনো কাজের উপর আমার বিন্দুমাত্র ভরসা নেই।ভালো করতে গিয়ে উল্টো টা করে ছাড়বি।আমাকে হেল্প করতে গিয়ে।একদম হেল্পলেস করে ছাড়বি।”

জারিফের বাবা বিয়ের কথা বার্তা বলতেই জান্নাত বেগম বলেন,,”আপনাদের সাথে পরিচিত হয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।আমার বড় নাতনী।আমার খুব আদরের।বাড়ির বড় মেয়ে।খুব আদর যত্নে বড় হয়েছে। জানিনা কতটুকু আদব-কায়দা,সুশিক্ষা দিয়ে বড় করতে পেরেছি।তবে আমি এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি,এখন অব্দি কোনো খা’রাপ দিক আমার চোখে পড়েনি।নিজের নাতনি বলে কথাটা বলছি না।একজন নিরপেক্ষ মানুষ হিসেবে বলছি।ছেলে মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলে তাদের বিয়ে দিতে হবে এটা শরীয়তের বিধান। তাই আমরাও বেশি দেরি করতে চাইছি না।তবে আমার ছোটো ছেলে না আসা পর্যন্ত আমরা দিনক্ষণ ঠিক করতে পারছিনা।তাসনিম এর ছোটো চাচ্চু অফিসিয়াল ট্রেনিং এ দেশের বাইরে গিয়েছে।আসতে আরো দেড় -দুই মাসের মতো লাগবে।”

জারিফের বাবা জান্নাত বেগমের কথায় হ্যা সূচক উত্তর দেয়।এরমধ্যে নীল বলে,,”ইয়ে মানে দাদিমা।আপনারা বড়রা বিয়ে-শাদীর ব্যাপারে কথা বলছেন।সেখানে আমরা ছোটরা আছি।তাই বলছি যে,আমরা একটু ঘুরে আসি। আপনারা কথা বলুন ।ততক্ষণে বাগানবাড়ির মতো এই সুন্দর বাড়িটা ঘুরে ফিরে দেখি।”

জান্নাত বেগম ঠিক আছে বলতেই।নীল উঠে দাঁড়িয়ে দুইহাতে শার্ট টা টেনেটুনে ঠিক করে। অতঃপর চঞ্চল কন্ঠে তাসনিম কে উদ্দেশ্য করে ফের বললো,,”ভাবী চলুন।আপনি আমাদেরকে বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখাবেন।”

তাসনিম ঠোঁট কামড়ে ধরে জান্নাত বেগমের দিকে তাকায়। জান্নাত বেগম চোখ দিয়ে ইশারা করতেই তাসনিম মৃদু হাসলো।দাদিমনির সম্মতি পেয়ে তাসনিম জারিফ আর নীলের সাথে বাইরে আসে।

বাড়ির সামনে ফুলের বাগান। দক্ষিণে বিশালাকার পুকুর।পুকুরের চারিপাশে সুপারি আর নারিকেল গাছ।আম,জাম সহ হরেক রকমের ফলের গাছ। তাসনিম আর জারিফ পাশাপাশি হাঁটছে আর বিভিন্ন কথা বলছে।জারিফ দুইহাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে একটা আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে পড়লো। তাসনিম ও হাঁটার গতি থামিয়ে পাশে দাঁড়ালো। ওদিকে নীল একটা পেয়ারা গাছের একটা ডাল একহাতে বাঁকিয়ে টপ করে একটা পেয়ারা ছিঁড়ে নিলো।

“এই ব্রো পেয়ারা খাবি?নে ক্যাচ ধর।”

জারিফ বিরক্তিকর কন্ঠে জবাবে বললো,,”নাহ্।তুই খা।”

“ওকে”

হঠাৎ-ই উপর থেকে নীলের বাম কাঁধের উপর কিছু পড়লো।নীল উৎসুক চোখে সেদিকে তাকাতেই দুই আঙ্গুলে নাক চেপে ধরলো।গাছের উপরে ডালে বসে থাকা একটা নাম নাজানা পাখি পটি করেছে।নীল জারিফদের কাছে কয়েক কদম এগিয়ে যায়। অসহায় ফেস করে ইশারায় দেখায়।জারিফ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে মনেমনে ভাবে,একে নিয়ে সমস্যার শেষ নেই।যেখানে সমস্যা নেই।এই নীল থাকলে সেখানে সমস্যা হেঁটে নয় দৌড়ে আসবে।

তাসনিম কি রিয়াকশন দেবে ভেবে পাচ্ছে না। তাসনিম হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝতে পারছে না।তবে দাদিমনির দেওয়া শিক্ষা মনে পড়তেই ম্লান চোখেমুখে নীলের দিকে তাকায়।দাদিমনি সর্বদা নাতী-নাতনীদের বলেছেন।কেউ বিপদে পড়লে তাকে নিয়ে কখনো হাসি ঠাট্টা করবে না।পারলে সাহায্য করবে।হোকনা সেটা অতি ক্ষুদ্র। তাসনিম ঠোঁট আওড়িয়ে বলে উঠলো,,

“এমা তোমার গায়ে তো পাখি ইয়ে করেছে। আচ্ছা ব্যাপার না তুমি আমার সাথে চলো।আমি ওয়াশরুম দেখিয়ে দিচ্ছি।আমার ভাইয়ের শার্ট তোমার গায়ে ফিট হবে হয়তো।”

শেষের কথাটা কিছুটা জড়তা নিয়ে বলে তাসনিম।নীল সাথে সাথে বলে উঠলো,,”থ্যাংকস আ লট আপু।উপসস!সরি ভাবী। শার্ট লাগবে না।নিচে ট্রিশার্ট আছে।আপনি শুধু ওয়াশরুমটা দেখিয়ে দিন।তাহলেই চলবে।”

তাসনিম জারিফকে উদ্দেশ্য করে বলে,,”জারিফ তুমি একটু ওয়েট করো।আমি নীলকে ক্লিন করে এখনি আসছি।”

জারিফ স্মিত হেসে নরম গলায় বলে,,”ইটস্ ওকে।”

শান বাঁধানো পুকুরের ঘাটলা।লিয়া একদম নিচের সিঁড়িতে বসে আছে।দুইপা পানিতে ভিজিয়ে।পাজামাটা একটু উঁচু করে রেখেছে।যাতে করে না ভেঁজে। পরিষ্কার স্বচ্ছ পানি।গোড়ালি পানিতে ডুবে আছে।পায়ে থাকা পাথরের কারুকাজ করা পায়েলটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

জারিফের হঠাৎ ফোনকল আসে।কথা বলতে বলতে হাঁটতে হাঁটতে পুকুর পাড়ে আসে।ফোন কানে ধরেই একটা ইটের টুকরায় পা দিয়ে কিক করে জারিফ।ইটের টুকরো টা পানিতে পড়তেই শব্দ হয়।সাথে পানি ছিটে যায়। বিন্দু বিন্দু পানি লিয়ার গায়ে ছিটে আসে।লিয়ার চোখেমুখে পানির ছিটা পড়তেই লিয়া চমকে উঠে।লিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে পাড়ে তাকাতেই জারিফকে দেখতে পায়।জারিফ ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত থাকায় এখনো লিয়াকে খেয়াল করেনি।লিয়া জারিফকে দেখে এখান থেকে প্রস্থান করার উদ্দেশ্যে উঠে চলে যেতে থাকে।

জারিফ কলকেটে ফোনটা পকেটে ঢুকাতে যাবে সেইসময় দৃষ্টি যায় লিয়ার দিকে।লিয়াকে দেখার সাথে সাথেই জারিফ গম্ভীরভাবে বলে উঠলো,,”হে ইউ।ওয়েট।আই হেভ স্পিচ ইউথ ইউ।”

চলবে..??