স্বপ্নের_crush ? (in reality) Part-19+20

0
3477

স্বপ্নের_crush ? (in reality)
Part-19+20
writer : Borno ☺
ছদ্দনামঃ Samiya Arohi
.

অরনিঃ আপু আর ইউ mad?? কি করেছিস তুই আর কেন করেছিস ?
আরোহিঃ আমি এমন না করলে যে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেত রে?
অরনিঃ মানে?
আরোহিঃ ঐ দিন কলেজে সায়র আমাকে ধরে নিয়ে গেছিলো। তখন ও আমার রেপ করতে চায় যেন আমি সায়রের হয়ে যাই কিন্তু একটা কল আসায় আর পারেনি
অরনিঃ হোয়াট!!! এই সায়রটাকে তো কেটে কিমা বানানো উচিত। এতো নিচ চিন্তা ভাবনা ??আর আহা.. আই মিন অহি জানে?

আরোহিঃ নাহ,, সেদিন সায়র আমাকে বলে, আমি যদি অহিকে কিছু বলি তাহলে ওর ক্ষতি করে দিবে

অরনিঃ আর তুই বিলিভ করে নিলি!! ?

আরোহিঃ না, সেদিন এমনিতেই মন খারাপ ছিলো তাই অহিকে সেদিন কিছু বলা হয়নি। তারপর সেদিন রাতে তুই যখন ঘুমাচ্ছিলি তখন সায়র আমাকে ম্যাসেজ করে

অরনিঃ কি?

আরোহিঃ এই দেখ,
অরনিঃ [ আপুর হাত থেকে ফোনটা নিলাম, উপরে একটা ভিডিও ক্লিপ আছে ভিডিও ক্লিপটা অন করলাম,,, দেখা যাচ্ছে আহান ওর গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফোন টিপছে আর সামনে একটা ট্রাক ]
সায়রের ম্যাসেজ,
” তুমি যদি আর ওর কাছে যাও তাহলে কিন্তু এই ট্রাকের দিয়েই ওকে শেষ করে দিবো,, আর ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে শুধু তুমি, আর হ্যা আজকের কথা যদি কাউকে বলেছো তাহলে আমি কি করতে পারি কল্পনা নিশ্চয় করতে পারছো”

ঐ রকম একটা ঘটনার পর এই ভিডিও দেখে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক,,,

অরনিঃ আপু ট্রাকটা তো এমনিতেও দাঁড়িয়ে থাকতে পারে তাই না

আরোহিঃ আমি কোনো রিক্স নিতে পারবো না, আর তাছাড়া সায়র অনেক ডেঞ্জারাস

অরনিঃ উমমম ?? আচ্ছা সেদিন আমি যখন ফোনটা নিয়েছিলাম তখনও কি ঐ বদমাইশটা ম্যাসেজ দিয়েছিলো?

আরোহিঃ না,, ওটা নিহা দিয়েছিলো

অরনিঃ নিহাটা আবার কে? ?

আরোহিঃ অহির গার্লফ্রেন্ড ?

অরনিঃ ?? হোয়াট!!! [ ? এই বদের মাথা বদ অর্ণবটা আমাকে বলেনি তো আহানের গফ আছে ? কাল এদের খবর আছে ?]

আরোহিঃ হ্যা, ও আমাকে আগেও বলেছে আমার জন্য ওদের রিলেশনটা নাকি নষ্ট হচ্ছে। আমাকে অনেকবার ওয়ার্ন করেছে অহির থেকে দূরে থাকতে। সেদিন ও বলেছে আমার খারাপ বিহেভের পর নাকি অহি ওর কাছে আবার ফিরে গেছে তাই আমাকে থ্যাংকস জানাতে ম্যাসেজ দিয়েছিলো ( বলতেই কান্না আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেলো) ???

অরনিঃ [ আমার তো এখন আগে তোরে থাপড়াইতে মন চাচ্ছে, আহানের জন্য কিনা আহান কেই রিজেক্ট করছে, মাথার তার ছিড়া পাবলিক কোথাকার ???] আচ্ছা এবার শান্ত হো,,, আমি দেখি কি করতে পারি

আরোহিঃ তুই আবার কি করবি ছোট মানুষ। যা ঘুমা

অরনিঃ [ ?? আমি ছোট মানুষ? আমি ছোট হয়েই সব ঠিক করছি আর তুই তো বড় হয়েও সব ব্লান্ডার করছিস ??]…. হুম … [ বলেই চলে আসলাম,, ]
কালকে অর্ণবের সাথে কথা বলতে হবে,, আমি অর্ণবকে ম্যাসেজ করতেই অর্ণবের ম্যাসেজ আসলো, “কালকে ৪ টায় দেখা করবো”

অর্ণবঃ অরনিকে ম্যাসেজ করার সাথে সাথেই ম্যাসেজ আসলো “কাল দেখা করবো ” [ ( মনে মনে) ওয়াহ!!! কি মিল আমাদের, আমি আবার ম্যাদেজ দিলাম ] মিস ইউ জানু

অরনিঃ [ আমি রিপ্লাই দিলাম ] ” তোমার মিস করা দেখাচ্ছি কালকে, কাল তোমাদের খবর আছে ?? ( সাথে কয়েকটা পাঞ্চিং ইমোজি)”
অর্ণবঃ [ ? এর আবার কি হলো? আমার লাজুক জানুটা ক্ষেপেছে ? কপালে শনি আছে, কিন্তু আমাদের মানে? ? এখন বরং ঠান্ডা করি কাল দেখা যাবে কালকেরটা ] ( ম্যাসেজ দিলাম) “জানু কি করো”

অরনিঃ ( আমি ম্যাসেজ দিলাম) ” ঘুমান আপনি, আপনার সাথে তো কাল বোঝা পড়া হবে”

অর্ণবঃ (?মনে হচ্ছে আমার দিন ঘনিয়ে এসেছে) ” আচ্ছা জানু গুড নাইট”

অরনিঃ ” Bad night, Have some horror dreams ???”
অর্ণবঃ ???

এইদিকে আহান,
আহানের ফোন বাজছে,
আহানঃ [ ফোনটা হাতে নিলাম,,, এতো রাতে নিহার কল! ?( বিরক্ত হলাম) ফোন রিসিভ করে] হ্যালো

নিহাঃ বেবি কি করো?

আহানঃ ( আন্ডা পাড়ি ?) কিছু না, কল করেছো কেন? আমাকে একা থাকতে দাও।

নিহাঃ উফফ তুমি ঐ আরোহির কথা ভাবা বন্ধ করবে? ও তো আসলে টাকা চায় এইজন্য তোমাকে পাত্তা দেয়নি ওর কোন সেলিব্রিটিকে ভালো লাগে যেন মনে হয় তার টাকার জন্য, এই জন্যই মেইবি তোমাকে রিজেক্ট করেছে,, বাট আই লাভ ইউ জান

আহানঃ ( নিহার কথা শুনে মনে মনে) সত্যিই কি তাই? আরোহি তো এমন না, কিন্তু এছাড়া আমার সাথে এমন ব্যবহার করলো কেন?

নিহাঃ হ্যালো হ্যালো আহান??
আহানঃ বাই [ বলেই কল কেটে দিলাম ]
——————
নিহাঃ ডান, ঠিক যেমন চেয়েছি তেমনি হবে ?
সায়রঃ ওয়েলডান বেবি
নিহাঃ হা হা হা হা
________________
পরেরদিন সকালে,
অরনিঃ এভাবে চললে তো কিছুই ঠিক হবে না দেখছি,, নাহ আমাকেই ফাইনাল স্টেপ নিতে হবে,অর্ণবকে বরং একটা কল করি

ক্রিং ক্রিং
অর্ণবঃ [ সকাল সকাল অরনির কল ?] হ্যাল.. ( পুরোটা বলার আগেই)
অরনিঃ ঐ শোনো আজকে আহান ভাইয়াকেও নিয়ে আসবা
অর্ণবঃ কেন? ?

অরনিঃ এতো জানার এখন তো কোনো দরকার নাই। আসলেই জানতে পারবা। তোমার তো খবর আছে, আর আহান ভাইয়াকে না আনলে তোমার কপালে আরও দুঃখ আছে। ? আমার তোমাদের কিছু বলার আছে, আর হ্যা আহান ভাইয়াকে আগেই বলবে না যে আমি আরোহি আপুর বোন

অর্ণবঃ ওকে [ এই মেয়ের মাথায় যে আবার কি চলছে আল্লাহ জানে]
অরনিঃ হুম বাই
অর্ণবঃ বা….টুট টুট [ জাহ বাবা কেটে দিলো]

একটুপর,
অর্ণবঃ আহান আসবো
আহানঃ তুই আবার কবে থেকে পারমিশন নিতে শুরু করলি?
অর্ণবঃ না মানে, আজকে বিকালে ফ্রি আছিস?
আহানঃ হুম কেন?
অর্ণবঃ আমার সাথে একটু আসা লাগবে তোকে একজনের সাথে মিট করাবো
আহানঃ কে? ??
অর্ণবঃ ঐ যে যার কথা বলেছিলাম
আহানঃ ওহ তোর গফ,, তোর বলার আগে ছোট মা আমাকে সব বলেছে ??? [ আহান অর্ণবের মা কে ছোট মা ডাকে ]
অর্ণবঃ [ ? মেলি ডিজিটাল মা ?] আচ্ছা তাহলে রেডি থাকিস ৪ টায়।।
আহানঃ ওকে, বাট ওখানে আমার কি কাজ?
অর্ণবঃ জানি না তো ?
আহানঃ ??
অর্ণবঃ আচ্ছা আসি [ বলেই চলে আসলাম, আসলেই বিষয়টা অদ্ভুত, আমাদের কাপলের মধ্যে নিজের ভাইকে নিয়ে যাচ্ছি তাও আবার উইথ আউট রিজন তাও আবার গফ এর হুমকি তে ?? ]
.
বিকালে,
আহান আর অর্ণব একসাথে গার্ডেনে চলে আসে যেখানে অরনির আসার কথা
আহানঃ কি রে তোর গফ আবার লেট করবে না তো?
অর্ণবঃ নাহ, ও চলে আসবে

আহানঃ ওকে [ সামনে তাকিয়ে দেখি একটা ছোট্ট মিষ্টি মেয়ে আসছে, আরে এটা তো আরোহির বোন, কি ব্যাপার ও এখানে? ]
অর্ণবঃ [ এই মেয়ে এতো সুন্দর কেন? আজ তো একেবারে পুতুল লাগছে]
অরনিঃ [ দূর থেকে ওদের দেখলাম, ওহ গড দুজনকেই তো হিরোর থেকে কম লাগছে না ? অর্ণবকে বেশি ভালো লাগছে অ্যাশ কালার টি শার্টএ। ওদের কাছে গিয়ে] হাই লেট হইনি তো?

আহানঃ ?? [ তার মানে আরোহির বোনের সাথ আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের…. ]
অর্ণবঃ না না, আমরাও জাস্ট এলাম। বাই হ্যা ওয়ে এ হলো আহান ,, আর ও হলো
আহানঃ আরোহির বোন
অর্ণবঃ ?????
অরনিঃ হুম, আমাদের বাসায় যখন এসেছিলেন আপুকে দিতে তখন দেখেছিলাম, তখন তো আপুকে দেখে অহি বলে পরিচয় দিয়েছিলেন
আহানঃ হুম, তা তুমি কি আগে থেকেই আমাকে চিনতে?
অরনিঃ না, কিছুদিন আগেই অর্ণব বলেছে

আহানঃ তুমি সত্যি ওকে ভালোবাসো তো? [ আমি চাই না আরোহির মতো তুমিও আমার ভাইকে হার্ট কর]
অরনিঃ [ হায় আল্লাহ এভাবে কেউ জিজ্ঞেস করে নাকি? ২ভাইয়ের মাথাহ খালি গোবর আছে মনে হয়। আমি তো লজ্জায় মরেই যাচ্ছি তবুও বললাম] জি

আহানঃ [ দেখলাম মেয়েটা অনেক লজ্জা পেয়েছে, বুঝলাম সত্যিই ভালোবাসে] ওকে, তা আমাকে এখানে কেন ডেকেছো?
অরনিঃ ২টা জীবন বাচাতে
আহানঃ মানে?

অরনিঃ [ বলতে যাবো তখনি পাশে তাকিয়ে দেখি কয়েকটা মেয়ে নিজের বিএফ কে বাদ দিয়ে আমার অর্ণবের দিকে আর আহানের দিকে তাকাচ্ছে, অর্ণবের দিকে তাকানোটা মেনে নিতে পারছি না তাই বললাম] বলবো তার আগে চলুন কোথাও বসি

অর্ণবঃ [ ওর ফেস দেখেই বুঝলাম রেগে গেছে কিন্তু হলোটা কি? একটু আগেই তো হাসছিলো ? পাশে তাকিয়ে দেখি কয়েকটা মেয়ে তাকিয়ে দেখছে আমাদের দিকে, ওহ তাহলে এই ব্যাপার, ম্যাডাম এই জন্য ক্ষেপে গেছেন ??? ] হুম চল [ বলেই সাইডে একটা কফি শপে নিয়ে এলাম ]

আহানঃ এবার বলো, আশা করি আরোহির কথা বাদ দিয়ে কিছু বলবে
অরনিঃ সরি, আমি ওর ব্যাপারেই কিছু বলবো
আহানঃ দেখো… [ আমি আর কিছু বলতেই পারলাম না তার আগেই]
অরনিঃ [ আহানকে থামিয়ে দিয়ে] দেখুন প্লিজ, আগে আমি বলে নিই তারপর আপনি যা বলবেন আমি সব শুনবো
আহানঃ [ এই মেয়ে নিজেরটা বলেই ছাড়বে, একে বলতে দেওয়াটাই শ্রেয় ? একটু ভাব নিয়ে বললাম] হুম ওকে বলো
অর্ণবঃ [ এ আমি কোন অরনিকে দেখছি? ও জীবনে এভাবে আমার সাথেও কথা বলেনি আর আজ ??]
অরনিঃ জি আসলে…

to be continued……….. ?

স্বপ্নের_crush ? (in reality)
Part-20
writer : Borno ☺
ছদ্দনামঃ Samiya Arohi
.
অরনিঃ জি আসলে…… এক মিনিট আগে তোমার সাথে হিসাব করে নিই ( অর্ণবের দিকে তাকিয়ে) ?

অর্ণবঃ (ভয়ে ভয়ে)? আ…আমি আব….আবার ক..কি করলাম?

অরনিঃ কি করলা মানে? তুমি আমাকে বলনি কেন আহান ভাইয়ার গফ আছে?? ?

আহানঃ ?
অর্ণবঃ কিহহহ‌!!! ? ( আহানের দিকে তাকিয়ে) আহান তোর গফ আছে??? ??

আহানঃ ? মানে? কিসের গফ? কোথাকার গফ? আমি চিরকুমার

অরনিঃ দেখুন আমাকে মিথ্যা বলবেন না। আমার বোন আপনাকে প্রথমত ইগনোর করেছে আপনার গার্লফ্রেন্ডের কারনে।

আহানঃ মানে!!! আচ্ছা তুমি কি নিহার কথা বলছো?
অরনিঃ বাহহ নিজেই তো স্বীকার করলেন

আহানঃ এক মিনিট আমি কিছু স্বীকার করিনি। আর নিহা আমার গার্লফ্রেন্ড না। আমি তো প্রথম প্রথম আরোহিকে জেলাস করতে মিথ্যে বলেছিলাম। নিহার সাথে আমার কস্মিন কালেও রিলেশন ছিলো না। আমি নিহাকে বলেই অভিনয় করেছিলাম। তুমি ওকে আস্ক করতে পারো

অরনিঃ হোয়াট!!! ওয়েট ওয়েট ওয়েট… নিহাকে আস্ক করবো মানে? পরশুদিন নিহা আরোহিকে ম্যাসেজ করেছিলো যে, আরোহি আপনাদের মাঝে থেকে চলে এসেছে তাই নাকি আপনি নিহার কাছে ফিরে গেছেন, এছাড়াও অনেক সময় নাকি আরোহিকে ওয়ার্ন করেছে আপনার থেকে দূরে থাকতে

আহানঃ হোয়াট ননসেন্স!! নিহা ??

অরনিঃ আই থিংক আই গাট ইট,, তার মানে নিহা আপুকে আপনার থেকে আলাদা করার জন্য মিথ্যা বলেছে,, ডাইনি একটা ? [ এই মহিলাকে তো কুচি কুচি করে কেটে ভর্তা বানানো উচিত ? ]

আহানঃ মানে?
অরনিঃ মানে আমার বোন সত্যিই আপনাকে অনেক ভালোবাসে। আমি জানি আমার বোন আপনার কাছে অনেক বড় দোষী কিন্তু সে আসল দোষী না। সে বাধ্য হয়েছে।

আহানঃ ? মানে?

অরনিঃ তাহলে শুনুন,, ( অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া সব কিছু বললাম)

আহানঃ ??? হোয়াট! আর আরোহি আমাকে কিছুই বলেনি??

অরনিঃ আপনাকে বলার আগেই ওকে হুমকি দেওয়া হয়েছিলো

আহানঃ কিসের হুমকি?

অরনিঃ ( আহানকে আপুর ফোনে আসা ম্যাসেজ গুলো দেখালাম, কালকে আপুর ফোন থেকে স্ক্রিন শট করে পার করে নিয়েছিলাম সাথে নিহার ম্যাসেজটাও)

আহানঃ আরে এই ট্রাকটা তো ওখানে এমনিতেই ছিলো, ওর ভেতরে কোনো ড্রাইভারও ছিলো না, আর নিহাকে তো আমি ???

অরনিঃ কিহহহহ?? তার মানে!! ??

আহানঃ তার মানে হলো তোমার বোন আসলেই একটা বোকা। ওকে বোকা বানিয়েছে, এই মেয়েকে তো তুলে আছাড় মারা উচিত ?

অরনিঃ আসলেই বোকা। নয়তো রেডিওতে কল দিয়েও কেটে দিতো?? ?? ( একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লাম)

আহান ও অর্ণবঃ মানে? বুঝলাম না ?

অরনিঃ ওহ বলা হয়নি,, আসলে লাস্ট ইয়ার আমি আর আপু আপনাদের প্রোগ্রাম শুনছিলাম, তখনি আহান ভাইয়ার গান শুনে আপু ফিদা হয়ে যায়, তারপর ধীরে ধীরে ওর আপনার প্রতি ভালোবাসা বাড়তে থাকে, ও প্রায়ই আপনার জন্য কাদত, তাই একদিন আমি জোর করে রেডিওতে কল দিয়ে ওকে কথা বলতে বাধ্য করি, আরে আপনাদের মনে নেই? আমি কল দিয়ে বলেছিলাম আমার বোন আপনার সাথে কথা বলতে চায়। তখন ও হাতে ফোন নিয়েও লজ্জায় কথা বলতে পারেনি, কলটাই কেটে দিয়েছিলো। পরে আমি তো আপনাদের ম্যাসেজও দিয়েছিলাম

(এতোক্ষন আহান আর অর্ণব হা হয়ে অরনির কথা শুনছিলো ???? হা করে শোনার যে কারন আছে বন্ধুরা। )

অরনিঃ ( ওদের সামনে তুড়ি বাজিয়ে) কি হলো আপনাদের? এমন হা করে আছেন কেন? মশা ঢুকবে তো

আহান আর অর্ণব তো যেন খুশিতে আত্ত হারা
অর্ণবঃ দোস্ত যাকে খুজেছিলি সে তো সামনেই ছিলো রে
আহানঃ হ্যা ???

অরনিঃ মানে?

অর্ণবঃ মানে হলো, সেদিনের পর থেকে আহান কেন যেন তোমার বোনকে খুজতো, আসলে কেউ কখনো আহানের কাছে কল দিয়ে এভাবে কেটে দেয়নি তো। আহান কোনোভাবেই তোমাদের খুজে পায়নি। তোমাদের নাম্বারটাও অফ ছিলো

অরনিঃ হ্যা ঐ মানে আমাদের মারামারিতে সিমটা শহীদ হয়েছিলো ?

আহান ও অর্ণব একসাথেঃ মারামারিতে সিম শহীদ!!!

অরনিঃ হ্যা,, আরও অনেক কিছুই শহীদ হয়। বাদ দিন,, আসল কথা হলো এখন তো সব প্রব্লেম সলভ হলো তাই না,, আর এই যে আহান ভাইয়া এবার আবার জেলাস করতে যাইয়েন না, তাহলে কিন্তু এবার সব শেষ হয়ে যাবে, অন্যভাবে নিজের করে নিন আমার বোনটাকে। আর এই ভিলেনগুলার ব্যাবস্থা করতে হবে তো, একেকটা তো দেখি কুমিরের হাড্ডি, এগুলাকে তো উল্টো লটকিয়ে কাতুকুতু দেওয়া উচিত, ভর্তা করে চিড়িয়াখানায় রেখে আশা উচিত, বানরের সাথে বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত, বানরের লেজ, মুরগির পা, গরিলার গার্লফ্রেন্ড ?

অর্ণবঃ ( এগুলা আবার কেমন গালি ?)
আহানঃ ( লাস্ট গালিটা কাকে দিলো ?)

আহানঃ হুম একদম, তা শালী জি আপনি আমাকে হেল্প করবেন তো?

অরনিঃ অবশ্যই,, জাস্ট আমাদের লাইনটাও একটু ঠিক করে দিয়েন ??

আহানঃ ডোন্ট ওয়ারি শালী জি,, এবার তো আমি নিউ চাল চালবো [ ( মনে মনে) আরোহি এইবার তুমি যদি এমন ছাগলের মতো কাজ আবার করেছো তোমাকে তো তুলে তুলে আছাড় মারবো ?? ]

অরনিঃ আচ্ছা তাহলে আজ আমি আসি, লেট হয়ে যাবে নয়তো
অর্ণবঃ চলো আমি তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আসি

আহানঃ ওকে বাট শোনো আরোহিকে এখনই কিছু বলো না,,
অরনিঃ ওকে আমি এমনিতেও কিছু বলবো না। আমাকে কি না ছোট বলে ? সব ঠিক করে নিই তারপর দেখাবো মজা

অর্ণবঃ ( হাসতে হাসতে) ?? তুমি তো ছোটই,, পিচ্চি একটা, আর মাথায় খালি দুষ্টু বুদ্ধি আর তোমার স্পেশাল গালি ?

অরনিঃ তবে রে…. ( বলে আমি অর্ণবকে ধরতে দৌড় দিলাম আর অর্ণব আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে দৌড়াচ্ছে)

আহানঃ ( চিল্লিয়ে) বাই,, [ ( মনে মনে) খুব শিগগিরই দিনটা আসবে যেদিন আমি আর তুমি এভাবে মজা করবো] ( বলেই আহানও চলে এলো)

এদিকে,
অরনিঃ অর্ণব দাড়াও, আমি তো তোমাকে ধরেই ছাড়বো
অর্ণবঃ এতো কষ্ট করতে হবে না, আমিই ধরা দিচ্ছি ( বলেই ওর কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে নিলাম)

অরনিঃ আরে কি করছো কি? সবাই আছে, ছাড়ো

অর্ণবঃ ( ওকে ধরে একটা বড় গাছের কাছে নিয়ে গেলাম) এইরূপ এতো দিন কোথায় ছিলো? আজ তো তোমার নতুন রূপ দেখলাম

অরনিঃ কেন? এই রূপটা ভালো লাগেনি বুঝি?

অর্ণবঃ ( ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে) তোমার সব রূপই আমার পছন্দ।

অরনিঃ ( আমি একেবারে কেপে উঠেছি ?) এ…একটু স..স..সরবেন.

অর্ণবঃ কেন? ( বলে ওর কাছে যেতে নিলেই)

অরনিঃ ( ওর দিকে করুন চোখে তাকিয়ে) আমি একটা ছোট বাচ্চা ?

অর্ণবঃ ???? ( এবার একটু সরে গিয়ে) তুমি আসলেই একটা পিচ্চি, ভিতু পিচ্চি।

অরনিঃ ( মুখ ফুলিয়ে, ঠোঁট উল্টিয়ে ) আপনি আসলেই একটা পঁচা ?

অর্ণবঃ তাই?তাহলে তুমিও পঁচা। এটা কি হলো?? আমাকে ডেকে আমাকে বকা দিয়ে বসিয়ে রাখলে শুধু,, আমি এতো কষ্ট করে আসলাম, আর আমি কি কিছুই পাবো না? ( বলেই ওর অনেক কাছে চলে এসে ওর দুই পাশে হাত দিয়ে গাছের সাথে আটকে ধরলাম)

অরনিঃ পাবে তো

অর্ণবঃ ? কি?
অরনিঃ চিমটি ( বলেই ওর হাতে একটা চিমটি দিলাম)
অর্ণবঃ আহহ
অরনিঃ ??? ( আমি হাসতে হাসতে শেষ) এটুকুতেই শেষ?
অর্ণবঃ দেখাচ্ছি তোমাকে দাড়াও (এবার অর্ণব অরনিকে ধরতে অরনির পেছনে দৌড়াচ্ছে)

[ওরা আজ দৌড়াতেই থাক,, আমরা কাল আসি,, দেখি কাল কি হয়,, সবাই ভালো থাকবেন ☺]
.
to be continued……. ??