স্বপ্নের_crush ? (in reality) Part-37+38

0
3419

স্বপ্নের_crush ? (in reality)
Part-37+38
writer : Borno ☺
ছদ্দনামঃ Samiya Arohi
.
আরোহি দৌড়ে রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দরজার সাথে হেলান দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো। আহানের কাছে গেলেই কেমন নিশ্বাসটা ভারী হয়ে যায়,, আজও তাই হয়েছে,, কিন্তু অনুভুতটা ছিলো মারাত্মক। রুমের লাইটস ওফ করা আর মিতু, নিশা ওরা সবাই ঘুমিয়ে গেছে তাই আরোহি কোনো মতে নিজেকে রিল্যাক্স করলো৷
______________________
আহান আরোহি এরপরের দিনের ট্যুরগুলো একসাথেই এনজয় করলো। ১ তারিখ ওরা শুধু কক্সবাজারেই ঘুরেছে। অবশেষে আজ ২ তারিখ ভোরে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে।
এবার আরোহি নিজেই আহানের পাশে বসেছে। সারা রাস্তা আহানের কাধে মাথা রেখে এসেছে। আর আহান আরোহির চুলের ঘ্রাণ চুপিচুপি অনুভব করেছে।

ঢাকা পৌছে যে যার বাসায় চলে গেলো। আহান চেয়েছিলো আরোহিকে বাসায় পৌঁছে দিতে কিন্তু এতো লং জার্নির পর আহানও টায়ার্ড তাই আরোহি জোর করে নিজেই বাসায় চলে আসে।।।

বাসায় এসেই অরনির হামলা,,
অরনিঃ (আরোহির ব্যাগ ঘেটে ঘেটে) এই আপিইই আমার জন্য কিছু আনিস নি?
আরোহিঃ ? হায় আল্লাহ আমি তো ভুলেই গেছিলাম তোর কথা ? ইয়েএএ মাম্মানে…
অরনিঃ (মুখ গোমড়া করে) হুহ এখন আমাকে মনে থাকবে কেন? আমি তোর ১০ টা না ৫ টা না একটা মাত্র বোন আর তুই আমাকেই ভুলে গেলি ? থাক লাগবে না কিছু আমার ??
আরোহিঃ (একটা শাল বের করে অরনি কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে) আমার ১০টা না ৫টা না একটা মাত্র বোন। তার জন্য কিছু না এনে পারি??
অরনিঃ (খুশি হয়ে) সত্যি ?!!
আরোহিঃ হুম,, এই চাদরটা তোর
অরনিঃ থ্যাংক ইউ,, (মুখ গোমড়া করে) কিন্তু এমন বুড়িদের মতো চাদর নিয়ে আমি কি করবো,, এর থেকে চকলেট নিয়ে আসলে আমি বেশি খুশি হতাম ??
আরোহিঃ ? চকলেটও আছে বেবি
বলেই অরনিকে চকলেটের বক্স দিতেই অরনি খুশিতে লাফিয়ে উঠলো ❤
এতোটা জার্নির পর আরোহি এতো টায়ার্ড ছিলো যে সন্ধ্যাতেই ঘুমিয়ে গেলো,, আর অরনি বসে বসে আরোহির পিকনিকের ছবি দেখতে থাকলো

পরেরদিন,
অরনি অর্ণবের সাথে দেখা করতে আসে,,,আর অর্ণব লেট হয় (সো জাস্ট ইমেজিন অরনি অর্ণবের কি হাল করবে)
অর্ণবঃ ( দৌড়াতে দৌড়াতে হাজির হয়) হায় জানু কখন এলে?
অরনিঃ (কেদেই দিবে) এতোদিন দেখা হয়নি আর আপনি আজকেও লেট ??
অর্ণবঃ সরি জানু লেট হয়ে গেল
অরনিঃ লেট কেন হলো?
অর্ণবঃ আসলে একটা মেয়ে…
অরনিঃ ভ্যাএএএএ (অর্ণবের কথা শেষ হওয়ার আগেই অরনির কান্না শুরু)
অর্ণবঃ আরেএ কি হলো? কথা তো শোনো
অরনিঃ কি শুনবো? হ্যাঁ?? আমার সাথে ২দিন দেখা হয়নি আর এর মধ্যেই অন্য মেয়ে তোমার উপর লাইন মারতে শুরু করে দিলো ??? ঐ ডায়ান তোমার সাথে লাইন মারা শুরু করে দিলো ??? আমার অর্ণবটাকে বোকা ভদ্র পেয়ে সবাই খালি লাইন মারতে চায়। ওদের তো কেটে কুচি কুচিইইই করে ফেলবো। ওহ মেয়েটা মাহি ছিলো তাই না,, পাজি মেয়ে একটা, ওকে রাম ধোলাই দিবো,, কই কই ও? নিয়ে আসেননি? আজ আমার বয়সটা একটু বেশি হলে আপনাকে আজই বিয়ে করে নিতাম তারপর দেখতাম কে কিভাবে তোমাকে আমার কাছে থেকে নিয়ে নেয় ??? লুচু মহিলা, পল্টুর ফুপি, ডাইনি কোথাকার
অর্ণবঃ (অরনির কথা শুনে হাসবো না কাদবো বুঝতে পারছি না,, ও ক্ষেপে গেলে তুমি আপনি সব মিক্স করে দেয় ??) পল্টুর ফুপি মানে?
অরনিঃ আমাদের ছেলে পল্টু,, আর কালকেই মাহিকে আপনার বোন বানাবো তাহলে তো ও পল্টুর ফুপিই হলো
অর্ণবঃ ওওওওও
অরনিঃ কি ও হ্যাঁ?? আপনিও কম না,, হুহ আমি এতো নিষেধ করে দিলাম তবুও আপনি মাহিকে প্রশ্রয় দিলেন ভ্যাএএ আপনি একটা হুতুম পেচা,, আজ ওর জন্য আমার সাথে! আমার সাথে লেট করে দেখা করতে এলেন ? আপনি,, আপনি একটা পচা ছেলে,, এবার আমার কি হবেএএ,, আমি তো বিয়ের আগেই ডিভোর্সি হয়ে গেলাম ভ্যাএএএএএএ ???
অর্ণবঃ (ধমক দিয়ে) এই চুপ
অর্ণবের ধমক খেয়ে অরনি সাথে সাথে ২সেকেন্ডের জন্য চুপ,, তারপর আবার,, ভ্যাএএএএ
অর্ণবঃ (আবার ধমক) এই চুপ করতে বললাম না তোমাকে
অরনি এবার একেবারে চুপ
অর্ণবঃ (অরনির এমন ভয় পাওয়া দেখে অর্ণবের প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে তবুও হাসি আটকে ধমক দিয়ে বললো) চোখ মুছো
অরনি ফট করে চোখ মুছে ফেললো
অর্ণবঃ (মনে মনে) মেয়েটা এতো বোকা কেন?
অর্ণবঃ একটা মেয়ে ওর বাচ্চাকে পার্কে খেলতে দিয়ে কোথাও চলে গেছিলো তখন বাচ্চাটা রাস্তায় চলে আসে আর আমার গাড়ির সামনে চলে আসে,, ওকে সেভ করে ওর মার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আসলাম তাই লেট হলো
অরনিঃ সরি ,, ?সবাই খালি আপনার গাড়ির নিচেই পড়ে ??
অর্ণবঃ হ্যা শুরুটা তুমিই করেছিলে ??
অরনিঃ ?
অর্ণবঃ কেমন আছো?
অরনিঃ ভালো, আপনি?
অর্ণবঃ এই একটু আগেই না তুমি করে বললে,, এখন আবার আপনি করে কেন বলছো?
অরনিঃ (অবাক হয়ে) আমি আবার কখন তুমি করে বললাম ?
অর্ণবঃ এই একদম কথা ঘোরাবে না,, আমার মনে আছে তুমি আমাকে ‘তুমি’ করে বলেছো
অরনিঃ (ভেঙচি কেটে) জ্বি না আপনি ভুল শুনেছেন
অর্ণবঃ আমি ভুল শুনিনি তুমি সব ভুলে গেছি,, ভুলাক্কার
অরনিঃ আমি মোটেও ভুলাক্কার না
অর্ণবঃ তুমি ভুলাক্কার
অরনিঃ (মুখ ফুলিয়ে) জ্বি না
অর্ণবঃ জ্বি হ্যা
অরনিঃ (একটা চিৎকার দিয়ে) আআআআআাাাা না,,
অর্ণবঃ ওকে ওকে,, তো আমাকে মিস করেছো?
অরনিঃ হুহ আপনাকে মিস করতে আমার বয়েই গেছে ?
অর্ণবঃ তাই? তাহলে আমি মাহির কাছে যাই
অরনিঃ (রেগে শেরনি হয়ে) কিহহহ আর একবার বলো
অর্ণবঃ এই যে তুমি আবার আমাকে তুমি করে বললা
অরনিঃ ? ভু…ভুল করে
অর্ণবঃ উহু ইচ্ছা করে
অরনি বোধ হয় এবার কেদেই দিবে,, অর্ণব যেভাবে ওর পেছনে লেগেছে ?
অর্ণবঃ আরে আরে কাদো কেন পাগলী? তোমার জন্য কিছু নিয়ে এসেছি
অরনিঃ আমার কিছু লাগবে না
অর্ণবঃ সত্যি তো
অরনিঃ হু (১সেকেন্ড ভেবে) শুধু চকলেট দিলেই হবে
অর্ণবঃ (হেসে দিলাম,, তারপর ওকে ওর চকলেটের বক্সটা দিলাম,, ও তো মহা খুশি,, তারপর অরনির জন্য কেনা মালাটা ওকে পরিয়ে দিলাম৷ অরনিকে মালা পরানোর সময় ও কেপে উঠলো)
অরনিঃ (অর্ণব কাছে থাকলে কেন যেন যেমন ভালো লাগে তেমনিই লজ্জাও লাগে, আর আজ যখন মালা পরিয়ে দিলো, ওর হাত আমার ঘাড়ে একবার টাচ হতেই আমি কেঁপে উঠি)
এরপর দুজন অনেক্ষন ঘুরে অর্নব অরনিকে বাসায় পৌছে দিয়ে যায়।।
পরেরদিন বিকালে অর্ণবের মা আর বাবা আসেন আরোহিদের বাসায়,, তারা বিয়ে ডেট ঠিক করেন। দুই বোনেরই ১ বছর পর একসাথে বিয়ে। বিয়ের তারিখ ২২জানুয়ারি, ২০২০ (সবার দাওয়াত রইলো)

to be continued………. ❤

স্বপ্নের_crush ? (in reality)
Part-38
writer : Borno ☺
ছদ্দনামঃ Samiya Arohi
.
অরনি-অর্ণব আর আরোহি-আহান এদের প্রেম গুলো ভালোই যাচ্ছিলো। অরনি-অর্নবের দুষ্টু মিষ্টি প্রেম আর আরোহি-আহানের মান-আভিমানের প্রেম। সবার অধীর অপেক্ষার পর অরনি জুলাই মাসে ১৮ তে পা দেয়….
১বছর পর,,,
২১ জানুয়ারি,,
আজ ওদের গায়ে হলুদ ,, আরোহি পড়েছে হলুদ রঙের শাড়ি আর সাথে হলুদ ফুলের মালা,, মালাটায় সাদা মুক্তও রয়েছে আর অরনি পড়েছে হলুদ রঙের শাড়ি এর আচঁল গোলাপী রঙের সাথে সাদা হলুদ রঙের ফুলের জুয়েলারি,, দুজনেরই মাথা টায়রা,, আজ দুজনকেই কোনো অপ্সরির থেকে কম লাগছে না ? দুবোনকে সাজানো শেষ হলে মাহি ওদের ছবি তুলে আহান আর অর্ণবকে পাঠিয়ে দেয়। আর আহান তো আরোহিকে দেখে নিজেই এবার ক্রাশড আর অর্ণব তো অরনিকে দেখে আবার পাগল হয়ে গেছে।। ওহ ভালো কথা,, মাহি বিয়ে কিন্তু সামনেই।। বেচারির এরেঞ্জ ম্যারেজ,, আর মজার কথা হলো মাহি কক্সবাজারে যার উপর ক্রাশ খেয়েছিলো, তার সাথেই মাহির বিয়ে,, ছেলেটার নাম তূর্য. মাহি অনেক চেষ্টা করেও ওকে পটাতে পারেনি, মাহির বাবা আর তূর্যর বাবা নাকি ফ্রেন্ড হন তাই পারিবারিকভাবে বিয়েটা ঠিক হয়েছে। মাহি তো মহা খুশি।

আজ আহান আর অর্ণবকেও কম সুন্দর লাগছে না,, আহান পড়েছে সাদা পাঞ্জাবি সাথে হলুদ রঙের ওরনার গলায় প্যাচানো,, আর অর্ণবও সাদা পাঞ্জাবি পড়েছে তবে অর্ণবের গলায় গোলাপী রঙের ওরনা প্যাচানো।

দুজনেরই বাসায় ধুম ধাম করে হলুদের অনুষ্ঠান হয়।

২২জানুয়ারি,,
দুই বাড়িতেই চলছে জমপেশ আয়োজন। আরে দুই বাড়িরই দুই ছেলে দুই মেয়ের বিয়ে বলে কথা,, হইহুল্লোড় না হলে চলে??? আহানদের পুরো বাড়ি একেবারে প্রাসাদের মতো করে সাজানো হয়েছে। সাদা বাড়িটাই কত শত লাইটিং,,,
আরোহির মা ও কোনো কমতি রাখেননি,, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পারা যায় সর্বোচ্চ করছেন। আর আড়ালে আরোহির বাবাকে স্বরণ করে চোখের জল ফেলছেন। আগের দিন রাতে আরোহি আর অরনি এসে উনার পায়ের উপর মাথা রেখে শুয়ে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করেছিলো। মা কে একা ফেলে যেতে কোনোভাবে ইচ্ছে করছে না ওদের। আহান অবশ্য উনাকে ঐ বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। তবে উনি রাজি হননি।

সকাল থেকে দুবোনের মনে অন্য রকমের ভয় কাজ করছে,, এক দিকে যেমন খুশি হচ্ছে তেমনি ও বাড়িতে মানিয়ে নিয়ে চলতে পারবে কি না ভেবে ভয় হচ্ছে। তার উপর অরনি ছোট, অভিমান বেশি। যদি কোনো ভুল করে ফেলে। মা মেয়ে মিলে এইসব চিন্তাই করছে।।
দুপুর ৪টায় আরোহি অরনিকে পার্লারে পাঠানো হয়।

বিয়ে হচ্ছে Destination Community Centre এ। (নাও এডড্রেস দিলাম,, চলে আসো সবাই) কনে পক্ষের সবাই বিকাল থেকেই আসা শুরু করেছে। বরপক্ষ ৭ টার দিকেই চলে এসেছে। আহান অর্ণব একসাথে গেট দিয়ে ঢুকতেই ফুলের ছোট খাটো বন্যা বয়ে গেলো। আহান পড়েছে হোয়াইট শেরওয়ানি আর অর্ণব পড়েছে অফ হোয়াইট কালারের শেরওয়ানি। অর্ণব মাথায় পাগড়ি পড়ে ঢুকলো আর আহান বাম হাতে পাগড়ি নিয়ে ডান হাত দিয়ে চুল উচু করতে করতে ঢুকছে। ওদের এটিটিউড দেখে অন্য মেয়েরা হা হয়ে আছে ? দুজনকে স্টেজে বসানো হলো। কিন্তু কনে দুজন এখনও পার্লারে ?? এদিকে এখনও কনে আসেনি শুনে আহান আর অর্ণব তো ব্যাপক হারে অবাক ? প্রতিটা সেকেন্ড যেন ওদের কাছে এক এক বছর। বিয়ে বাড়িতে বর বেশি কথা বলে না কিন্তু টাইম পাস করতে বেচারারা নিজেদের মধ্যেই কথা বলা শুরু করেছে।
আহানঃ এদের সাজতে এতো সময় লাগে কেন!? ?
অর্ণবঃ আমারও মাথায় ঢুকছে না। অরনিকে ম্যাসেজ দিলাম চেক পর্যন্ত করেনি
আহানঃ কে জানি এতো কি সাজছে
অর্ণবঃ হুম

অবশেষে ৭:৩৫ মিনিটে কনে আসলো। কনের গাড়ি এসে গেটের সামনে থামলো। গেটটা ফুলে সাজানো। লাল সাদা ফুল,, সাথে অর্কিডও রয়েছে। গাড়ির সামনে থেকে স্টেজ পর্যন্ত লাল কার্পেট বিছানো,, চারপাশে ফুল নিয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে আছে। দু বোন একই গাড়ি থেকে নামলো। গাড়ি থেকে নামতেই ওদের উপর লাইটে আলো ফেলা হলো। সবাই তো কনেদের দেখে অবাক ?? দুজনকে দেখে যে কেউ পাগল হয়ে যাবে। না না এসব হেভি মেকআপের কামাল না। আজ দুজনকে এই শাড়িতে মানিয়েছে অনেক। দুজনেই পড়েছে লাল বেনারসি। শুধু গহনা আর মেকআপের পার্থক্য। ওরা ভেতরে আসতেই ফুল পড়তে থাকলো ওদের উপর। আরোহির ডান হাত দিয়ে আর অরনি বাম হাত দিয়ে একে অপরের হাত ধরে আছে,, আর অন্য হাত দিয়ে শাড়ি ধরে ভেতরে প্রবেশ করছে। স্টাজের কাছে যেতেই আহান অর্ণব দুজনে দাঁড়িয়ে গেলো ? দুজনের চোখে পলকই পড়ছে না। সবার সামনে এভাবে তাকিয়ে থাকায় দুই বোনই প্রচন্ড লজ্জা পাচ্ছে। আহানদের স্টেজের পাশেই কনের জন্য আলাদা স্টেজ। সবাই চাচ্ছে ওদের পাশাপাশি বসাতে,, কিন্তু আগে বিয়েটা হবে।

৮টা ২০মিনিটে ওদের বিয়ে হয়। আরোহি কবুল বলার আগে ওর মায়ের দিকে একবার আর একবার আহানের দিকে তাকিয়ে কবুল বলেছে। আহান কবুল বলার সময় আরোহির দিকে তাকিয়ে কবুল বলেছে। অরনি অর্ণবের দিকে তাকিয়ে কবুল বলেছে। আর অর্ণবকে তো জিজ্ঞেস করার সাথে সাথেই কবুল বলে দিয়েছে ? ওদের কবুল বলার পর বিয়ে সম্পন্ন হতেই আরোহির মায়ের চোখ দিয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।
এরপর ওদের জোড়ায় জোড়ায় বসানো হয়। আহান-আরোহি আর অরনি-অর্ণব। অর্ণব অরনি হাত ধরে আছে। আরোহির লজ্জায় সবার সামনে হাত ধরছে না তাই আহান জোড় করে আরোহির এক হাত ধরে বসে আছে।
আহানঃ এতো লেট করলে কেন? জানো সব বিয়েতে বর পক্ষ পরে আসে আর এখানে আমরা আগে এসেছি ?
আরোহিঃ (হেসে) তো কি হয়েছে? মাঝে মাঝে কিছু নিয়ম পাল্টানো ভালো ☺
আহানঃ এতো লেট কেন করলে? এতো না সাজলেও বিয়ে তো আমিই করতাম
আরোহিঃ মোটেও এতো সাজিনি। শাড়ি পড়া অনেক ঝামেলা। তাই লেট হলো
আহানঃ ???
আরোহিঃ ???
আহানঃ ??
আরোহিঃ ?
আহানঃ ?
অনেক ছবি উঠানো হলো। সবাই ওদের সাথে ছবি তুললো। আর আরোহির কাজিনগুলো জিজুদের অনেক জ্বালাতন করার চেষ্টা করলো। কিন্তু আহান আর অর্ণবের কথার সাথে পেরে না উঠে স্থান ত্যাগ করে।

অবশেষে নিজের বাড়ি ছাড়ে শ্বশুড় বাড়ি যাওয়ার সময় এলো। দু বোন মাকে ধরে আঝোরে কান্না শুরু করলো। কান্না যেন থামেই না। অনেক কষ্টে ওদের গাড়িতে বসানো হলো। আহান-আরোহি এক গাড়িতে। আর অর্ণব-অরনি এক গাড়িতে। সারা রাস্তা কান্না করল ওরা। আহান আরোহিকে বুকে জড়িয়ে নিলো। আর অর্ণব অরনিকে সান্তনা দেওয়ার অনেক চেষ্টা করলো। কিন্তু যখন তাতেও কাজ হচ্ছিলো না তখন অরনির গালে একটা ?? করে দিলো। অরনি প্রথমে কিছু না বুঝলেও পরক্ষনেই টের পেল। বেচারি লজ্জায় কান্নাই ভুলে গেছে। অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। আর অর্ণব অরনির এমন অবস্থা দেখে হেসে দেয়।

গাড়ি গুলো বাসায় ঢুকলো। বাসাটা আজ আরো সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। এমনিতে বাসাটা সুন্দর। রাজ প্রাসাদ না হলেও আজ একে রাজ প্রাসাদের মতোই লাগছে আরোহি অরনির কাছে। এই বাসার যে জিনিসটা আরোহির ভালো লাগে তা হলো এখানে অনেক সুন্দর একটা বাগান আছে। বাগানটি অতিকায় বড় নয় আবার অনেক ছোটও নয়।
গাড়ি থেকে নামার সময় সবাই চিৎকার করে উঠলো বউদের কোলে নিয়ে ঢুকতে। বলতে দেরি কিন্তু আহানের আরোহিকে কোলে নিতে দেরি না। ও বোধ হয় এই সুযোগেরই অপেক্ষা করছিলো। আহানের এভাবে তাড়াতাড়ি কোলে নেওয়াই সবাই হেসে ফেলে। অর্ণবও হেসে অরনিকে কোলে নিয়ে ভেতরে গেলো।

রাত ১১ঃ৩৫ বাজে,,
আরোহি আহানের রুমে বসে আছে। বুকটা কেমন ধুকপুক ধুকপুক করছে। আহানের রুমে বারান্দাটায় থাই লাগানো। কাচের দরজা। আরোহি ধীর পায়ে উঠে গ্লাসটায় হাত রেখে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আরোহির হাতের উপর কেউ হাত রাখলো। বুঝতে বাকি নেই এটা আহানের হাত। দরজাটা খোলা ছিলো। আহান দরজাটা ঠেলে লক না করে ভেতরে এসেছে। হাতে হাত রাখতেই কেপে উঠলো আরোহি। আহান আরোহির কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বললো,
আহানঃ আজ আমার সাথে আমার কাধে মাথা রেখে জোছনা বিলাস করবে প্লিজ?
আরোহি চোখটা আলতো করে বন্ধ করে খুলো। অর্থাৎ চোখ দিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলো। আহান আরোহির হাত ধরে বাহিরে এনে বারান্দার পাটা বিছিয়ে বসে একসাথে চাঁদ দেখতে লাগলো। আহানের কাছে মনে হচ্ছে তার পাশের চাঁদটা ঐ আকাশের চাঁদ অপেক্ষা অধিকতর সুন্দর। আর অরনি?? অরনি অর্ণবের বুকের মাঝে ঠাই খুজে নিয়েছে।
.
to be continued……… ?
[ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন ]