অতল গহ্বরে নীরবতা পর্ব-০৫

0
367

#অতল_গহ্বরে_নীরবতা
#লেখিকাঃশুভ্রতা_শুভ্রা
#পর্বঃ০৫

অনুভব তাচ্ছ্যিলের হাসি দিয়ে বলল,
“সত্যি বলেই বা লাভ কি!”

আমায়রা দমে গেল। কি বলবে কিছু বুঝতে পারছেনা। কিছুসময় নিরবতা পালন করে আমায়রা বলল,
“ভাইয়া তুমি চিন্তা করো না। দেখবে আমি আর আম্মু মিলে তোমার জন্য বন্যা আপুর চেয়েও সুন্দর একটা লাল টুকটুকে বউ নিয়ে আসবো।”

আমায়রার এমন কথা শুনে অনুভব হেসে দিলো। অনুভবকে হাসতে দেখে আমায়রার ঠোঁটের কোণও প্রসারিত হলো।

কিছুক্ষণ পর বাইক এসে থামলো ভার্সিটির সামনে। আমায়রা বাইক থেকে নামতেই অনুভব বলল,
“সাবধানে থাকিস। ক্লাস শেষে রিক্সা নিয়ে চলে যাস।”

আমায়রা মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে বলল,
“আচ্ছা, তুমিও সাবধানে যেও।”

অনুভব মুচকি হেসে বাইক স্টার্ট দিলো। আমায়রাও ক্লাসে যেতে লাগল।

ক্লাসে যেতেই আমায়রা দেখলো ইশরা ভ্রুকুচকে তারদিকেই তাকিয়ে আছে। আমায়রা প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে ইশরার দিকে তাকিয়ে বলল,
“কি হয়েছে তোর!”

“তোর কি হয়েছে তাই বল!”

আমায়রা তীক্ষ্ম চোখে তাকিয়ে বলল,
“আমার আবার কি হবে?”

“তুই তোর ভাইয়ের সাথে ঝগড়া না করে,ভালোভাবে কথা বলছিস!”

ইশরার কথায় হেসে দিলো আমায়রা। সিটে বসতে বসতে বলল,
“ভাইয়া বন্যা আপুর জন্য ছ্যাকা খাইছে।”

ইশরা বড় বড় চোখ করে বলল,
“কিহ!”

আমায়রা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“হুম সত্যি কথা।”

ইশরা প্রশ্নবিদ্ধ কন্ঠে বলল,
“কিন্তু বন্যা আপু তো রাকিব ভাইয়াকে ভালোবাসে।”

“হুম বিয়ে কিছুদিন পর। সেই কার্ড দিতে এসেছিলো।”

“এখন কি হবে?”

“কি আর হবে ভাইয়ার বিয়া দিতে হবে!”

ওদের কথার মাঝেই টিচার চলে আসে। টিচারকে দেখে ওরা কথা বাদ দিয়ে ক্লাসে মনোযোগ দেয়।

———————-

কালো টিশার্ট আর জিন্স পড়ে একদম ফিটফাট হয়ে ভার্সিটিতে এসেছে রায়ান। রায়ানকে আসতে দেখেই আহাদ ওর কাছে এলো। রায়ান ফোনে ব্যস্ত। আহাদ নরম গলায় বলে উঠলো,
“এখনো রাগ করে আছিস।”

রায়ান নিরেট গলায় জবাব দিলো,
“না”

আহাদ আবারো বলল,
“আমার কি দোষ, তুই তো না জেনে শুনে গিয়ে সোজা থাপ্পড় মেরে দিলি।”

রায়ান শান্ত দৃষ্টিতে আহাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমি এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিনা।”

ওদের কথার মাঝেই সেখানে ইয়াসিন আসলো। ইয়াসিন আহাদের ঘাড়ে হাত রেখে বলল,
“কিরে কি হয়েছে, মুখটা এমন ঝুলিয়ে রেখেছিস কেন?”

আহাদ বিরক্তি নিয়ে বলল,
“মনের সুখে। তোর কি?”

রায়ান গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“পরীক্ষা যে সামনে মনে আছে নাকি ভুলে গেছিস তোরা।”

ইয়াসিন মাথায় হাত দিয়ে বলল,
“হায়,আল্লাহ! আমি তো কিছুই পারি না। এখন আমার কি হবে!”

রায়ান লাইব্রেরির দিকে যেতে যেতে বলল,
“চল কিছু বই নিতে হবে।”

আহাদ আর ইয়াসিনও লাইব্রেরি যেতে লাগল।

———————

আমায়রা আর ইশরা টানা দুইটা ক্লাস করে ক্যান্টিনে এসেছে। ইশরা চা আর আমায়রা আইসক্রিম নিয়ে বসেছে। আমায়রা আইসক্রিম খেতে বলল,
“জানিস কাল কি করেছি!”

ইশরা ধোঁয়া উঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে আমায়রার দিকে তাকিয়ে বলল,
“না বললে জানবো কিভাবে?”

আমায়রা দাঁত বের করে হেসে বলল,
“আমার ফেক আইডি দিয়ে ওই সাদা পান্ডার সব পোষ্টে হাহা দিয়ে আসছি।”

ইশরা কপাল কুচকে বলল,
“সাদা পান্ডাটা আবার কে?”

আমায়রা একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলল,
“আরে যেই বেটা কাল আমার সুইট নরম গাল হুদাই এসে বাজিয়ে গেল।”

“কিহ,তারপর কি হলো?”

আমায়রা ভাবলেশহীন ভাবে আরামে আইসক্রিম খেতে খেতে বলল,
“তারপর আর কি হবে ওই ফালতু বেটা আমারে ব্লক মারছে।”

ইশরা একটা সস্থির নিশ্বাস ছেড়ে বলল,
“তাও ভালো।”

ইশরা সামনে তাকাতেই চমকিত হলো। সামনে কালকের ওই ছেলেটা আসছে। আমায়রা উল্টো হয়ে বসে আছে বলে দেখতে পারছে না।

ইশরাকে চমকিত হতে দেখে আমায়রা কপাল কুচকে বলল,
“কিরে কি হলো, এমন ভুত দেখার মতো চমকালি কেন!”

ইশরা কালকের কাহিনী মনে করে ঢোক গিলল। মুখে জোর করে হাসি টেনে বলল,
“বইন নাম নিছোস শয়তান হাজির।”

ইশরার কথা বুঝতে পারলো না আমায়রা। আবারো প্রশ্নবিদ্ধ কন্ঠে বলল,
“মানে”

ইশরা নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো। কারণ আমায়রা কখন কি করবে তার ঠিক নেই। খানিকটা স্বাভাবিক হয়েই বলল,
“কিছুনা।”

আমায়রা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো ইশরার দিকে। ইশরা হাসার চেষ্টা করলো।

রায়ানরা এতক্ষণ এসে টেবিলে বসেছে। আমায়রাদের দুইটেবিল পরেই ওরা বসেছে। তবে ওরা ইশরা আর আমায়রাকে দেখেনি। রায়ান ব্যস্ত যে বইগুলো লাইব্রেরি থেকে নিয়ে এসেছে সেগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে। আহাদ ফোন টিপছে আর ইয়াসিন খাবার আনতে গেছে।

ইশরা কথা এড়াতে বলল,
“তা বন্যা আপুর বিয়ে কবে?”

আমায়রা ইশরাকে একবার দেখে বলল,
“কথা এড়াচ্ছিস!”

“না মানে একটু ওয়াশরুমে যেতাম আমি। একটু চল না।”

আমায়রা ব্যাগটা কাধে তুলে বলল,
“চল”

আমায়রা উঠতে নিবে তখনি ইশরা ওর হাত ধরে বলল,
“চল না আজকে পিছনের দরজা দিয়ে যাই।”

আমায়রা বিরক্তি নিয়ে এবার বলে উঠলো,
“সমস্যা কি তোর সামনের দরজায় কি বাঘ ভাল্লুক আছে নাকি।”

রায়ান বই সব ঠিকঠাক করে সামনে তাকাতেই একটা মেয়েকে দেখে ভ্রুকুচকে এলো তার। মেয়েটাকে বড্ডা চেনা চেনা লাগছে কিন্তু চিনতে পারছে না। রায়ান চোখ ফিরিয়ে নিলো। হয় তো দেখেছে রাস্তাঘাটে।

ইয়াসিন কফির কথা বলে একটু দূরে গেছে কলে কথা বলার জন্য।

আমায়রা ইশরার থেকে হাত ছাড়িয়ে পিছনে ঘুরে তাকাতেই দুই টেবিল পরে বসে থাকা রায়ানের দিকে চোখ পড়লো। রায়ান আহাদের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত।

ঈশরা ভীত চোখে তাকালো আমায়রার দিকে। আমায়রা কিছুক্ষণ ছোট ছোট চোখ করে তাকিয়ে রইলো রায়ানের দিকে। পরমুহূর্তেই একটা বাচ্চাকে দেখলে ট্রেতে কফি সাজাতে।

আমায়রা শয়তানি হাসি দিলো। ইশরাকে বলল,
“তুই ওয়াশরুমে যা। আমি আসছি।”

ইশরা মাথা নাড়িয়ে বলল,
“না আমি যাবো না। তুইও চল আমার সাথে।”

আমায়রা ইশরার দিকে তাকিয়ে ভ্রুকুচকে বলল,
“তোর সঙ্গে ওয়াশরুমে গিয়ে আমি কি করবো। তোকে যেতে বলেছি তুই যা।”

ইশরা নাকোচ করতে নিবে তার আগেই আমায়রা তীক্ষ্মচোখে তাকালো ইশরার দিকে। ইশরা আর উপায় না পেয়ে ধীর পায়ে চলে গেল।

ইশরা যেতেই আমায়রা শয়তানি হাসি দিয়ে ওই বাচ্চাকে ডাক দিলো।

#চলবে