অতল গহ্বরে নীরবতা পর্ব-১০

0
275

#অতল_গহ্বরে_নীরবতা
#লেখিকাঃশুভ্রতা_শুভ্রতা
#পর্বঃ১০

আমায়রার ভাবনার মাঝেই মাগরিবের আজান দিলো। আজান শুনে আমায়রা মাথায় ওড়নাটা ঠিক করে দিয়ে ধীর পায়ে ছাদ থেকে নামতে লাগল।

ছাদ থেকে ফিরে বাসায় প্রবেশ করতেই অনুভব বলল,
“কোথায় গেছেলি এই ভর সন্ধ্যায়?”

আমায়রা একপলক অনুভবের দিকে তাকিয়ে বলল,
“একটু ছাদে গিয়েছিলাম। তুমি কখন আসলে?”

“এই তো এখনি”

বলেই অনুভব পকেট থেকে একটা চকলেট বের করে আমায়রাকে দিলো। আমায়রা মুচকি হেসে চকলেটা নিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।

———————

রায়ান বাইক থামালো একটা চারতলা ফ্লাটের সামনে। শহরের বাহিরে হওয়ায় চারপাশটা বেশ নিরব। রায়ান নিজে হেলমেটটা খুলে চোখের চশমাটা ঠিক করে একটা মাক্স পড়ে নিলো। সতর্কতার সাথে চারিপাশ পর্যবেক্ষণ করে বাড়িটায় ঢুকে পড়লো। চারতলা বিল্ডিং এর দুই তলা উঠে একটা দরজা নক করলো রায়ান। দুইবার নক করতেই দরজা খুলে গেল। রায়ান আবারো পিছু ফিরে চারিপাশ দেখে নিলো।

প্রায় দেড় ঘন্টা পর একটা ছেলেকে সাথে নিয়ে বের হলো রায়ান। মুখের মাক্সের উপরই হেলমেট পড়তে পড়তে বলল,
“এরপর কি করতে হবে তা আমি ফোন করে জানিয়ে দিবো। একা একা কিছু করতে যাবিনা।”

রায়ানের কথায় ছেলেটা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো। রায়ান আবারো গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“সাবধানে থাকিস। আর কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাবি।”

ছেলেটা আবারো মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর দিলো। রায়ান আর দেড়ি না করে বাইক নিয়ে চলে গেল।

——————

অনুভব সকাল সকাল রেডি হচ্ছে কলেজে যাওয়ার জন্য। আজ সে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট পড়েছে। বাম হাতে কালো বেল্টের ঘড়ি, চুলগুলো সেট করা।

নিজেকে আবারো আয়নায় দেখে নিলো সে। না খারাপ লাগছেনা । বরং ভালোই লাগছে। বাইকের চাবি আর ফোন নিয়ে বের হয়ে পড়লো রুম থেকে।

খাবার টেবিলে এসে দেখলো আমায়রা আগে থেকেই সেখানে বসে খাচ্ছে।

অনুভবকে আসতে দেখে আমায়রা বলল,
“এমন করে সেজেছো, যেন বিয়ে করতে যাচ্ছো।”

অনুভব আমায়রা মাথায় গাট্টা মেরে চেয়ারে বসতে বসতে বলল,
“বাজে না বকে খা তাড়াতাড়ি। তোকে ভার্সিটিতে রেখে আমি আবার কলেজে যাবো।”

আমায়রা মুখ ভেংচি কেটে খেতে লাগলো।

অনুভব খাওয়া শেষ করে মায়ের কাছে গেল। আমেনা বেগম ছেলেকে দেখে মুচকি হেসে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
“সাবধানে যেও বাবা। আর সবসময় মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করবে। দেখবে তুমি সবকিছুই ঠিকঠাক মতো করতে পারবে।”

মায়ের কথা শুনে মুচকি হাসলো অনুভব। নার্ভাস লাগছিলো খুব কিন্তু মায়ের কথা শুনে এখন তার শান্তি লাগছে।

আমায়রা আর অনুভব আমেনা বেগমের থেকে বিদায় নিয়ে বাইকে বসলো। অনুভব বাঈক চালাতৈ লাগল।

আমায়রা চুপচাপ বসে রইলো। আমায়রাকে চুপচাপ দেখে অনুভব বলল,
“কিরে আজ এতো চুপচাপ কেন? কি ফন্দি করছিস?”

আমায়রা ভ্রুকুচকে অনুভবের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমার কি মনে হয়?”

অনুভব কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পরেই বাইক এসে থামলো ভার্সিটির সামনে। অনুভব বাইক থামাতেই আমায়রা নেমে পড়লো। হেলমেট খুলে অনুভবকে দিতে দিতে বলল,
“প্রথম দিনের জন্য শুভকামনা। ভালো করে ক্লাস নিও।”

অনুভব মুচকি হেসে বলল,
“সাবধানে থাকিস।”

আমায়রা হ্যাঁবোধক মাথা নাড়িয়ে চলে গেল। আমায়রা যেতেই অনুভব চলে গেল। আমায়রা ভার্সিটির গেট পেড়িয়ে ঢুকতেই একটা ছেলে এসে ওর সামনে এসে দাঁড়ালো।

আমায়রা খানিকটা বিরক্ত হলো। কিছু না বলে সাইড কাটিয়ে চলে যেতে চাইলেও ছেলেটা দেখে দিচ্ছেনা। আমায়রা চোখমুখে সূক্ষ্ম রাগ ফুটিয়ে তুল কর্কশ কন্ঠে বলল,
“কি চাই?”

ছেলেটা হেসে বলল,
“তোমাকে চাই সুন্দরী।”

আমায়রার চোখমুখ যেন দ্বিগুন কুচকে গেল। আবারো সাইড কাটিয়ে চলে আসতে নিবে তখনি ছেলেটা আমায়রার হাত টেনে ধরলো। হেসে হেসে বলল,
“কোথায় যাচ্ছো আমাকে ছেড়ে?”

আমায়রা কটমটিয়ে তাকালো হাতের দিকে। গম্ভীর গলায় বলল,
“হাতটা ছাড়ুন।”

ছেলেটা আবারো হেসে বলল ছাড়ার জন্য তো ধরিনি। আমায়রা নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারছেনা। তবুও আবার গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“হাতটা ছাড়তে বলছি তোকে।”

ছেলেটা দাঁত কেলিয়ে তাকিয়েই আছে আমায়রার দিকে হাত ছাড়ার নাম গন্ধ নাই। তখনি দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো রায়ান। সোজা চোখ পড়লো আমায়রা আর ছেলেটার দিকে। চোখ ছোট ছোট করে তাকালো সেদিকে।

আমায়রা রাগ সামলাতে না পেরে অপর হাত দিয়ে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলো ছেলেটার গালে। রাগে আমায়রা শরীর কাঁপছে। ছেলেটা অবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে আমায়রার দিকে। সে কল্পণাও করেনি যে আমায়রা তাকে থাপ্পড় মারবে। ঝটকা দিয়ে ছেলেটার হাত থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে আমায়রা হিসহিসিয়ে বলল,
“ছাড়তে বলছিলাম না তোকে। আমাকে অন্যসব মেয়েদের মতো ভাবিস না। নেক্সট টাইম আমি যদি তোরে সামনে পাই তাহলে তোরে আমি সাবান ছাড়া ধুয়ে দিমু বলে রাখলাম।”

বলেই গটগট পায়ে আমায়রা সেখান থেকে চলে গেল।

রায়ান নাক থেকে চশমাটা একটু উপরে তুলে আমায়রার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো।

আমায়রা একটা বড় আম গাছের নিচে বসে রাগে ফুসছে আর হাত ঘষছে।

রায়ান এসে ঠাস করে আমায়রার থেকে কিছুটা দূরত্ব নিয়ে বসলো। আমায়রার সেদিকে হুশ নেই। রায়ান ব্যাগ থেকে পানির বোতল আমায়রার দিকে এগিয়ে দিলো। আমায়রা পাশে কে তা না দেখেই পানির বোতল নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেতে লাগল। পুরো বোতলের পানি শেষ করে পাশে রাখলো আমায়রা।

রায়ান ফোন টিপতে টিপতে নরম গলায় বলে উঠলো,
“এতো রাগ তো শরীরের পক্ষে ভালো না মিস. যমরানী ।”

আমায়রা রাগ নিয়ে বলল,
“ওই বালতির ব্যাটা মগ কোন সাহসে আমার হাত ধরে। অসভ্য পোলা কোথাকারের।”

রায়ান আমায়রার কথা শুনছে আর মিটমিটিয়ে হাসছে। সে বুঝতে পারছে আমায়রা খেয়াল করেনি যে পাশে কে আছে। রায়ান আবারো নরম গলায় বলে উঠলো,
“তা তোমার ফেক আইডি তো গেছে তাহলে এই ছেলেকে কিভাবে অপদস্ত করবে শুনি?”

হুট করে আমায়রার কপাল কুচকে গেল। পাশে ঘুরে তাকাতেই বেশ অবাক হলো। চোখগুলো বড় বড় করে বলে উঠলো,
“আপনি!”

রায়ান বাঁকা হাসলো। আমায়রা চোখ ছোট ছোট করে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনি এখানে কি করছেন?”

রায়ান ভাবলেশহীনভাবে বলল,
“কি আর করবো বলো যমরানীর রাগ দেখছি।”

আমায়রা ভ্রুকুচকে বলল,
“যমরানী আবার কে?”

রায়ান বাঁকা হেসে ব্যাগ কাঁধে তুলে সেখান থেকে উঠে সামনের দিকে এগোলো।

আমায়রা নিজ মনেই যমরানী শব্দটা উচ্চারণ করতেই বুঝতে পারলো রায়ানের কথা। আম গাছতলা থেকে উঠে রায়ানকে পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলল,
“আপনি আমাকে যমরানী বললেন সাদা কালা পান্ডা।”

রায়ান ততক্ষনে অনেকটা দূরে চলে গেছে। আমায়রা আবারো ধপ করে বসে পড়লো।

কিছুক্ষণ বাদেই সেখানে এসে উপস্থিত হলো ইশরা। আমায়রাকে চোখমুখ লাল করে বসে থাকতে দেখে ভ্রুকুচকালো সে।

আমায়রা কাছে এগিয়ে এসে ওর কাঁধে হাত রেখে বলল,
“কিরে এখানে এমন করে বসে আছিস কেন? কি হলো আবার?”

আমায়রা বিরক্তি নিয়ে বলল,
“আজকের দিনটাই খারাপ।”

ইশরার কপালে চিন্তার ছাপ পরলো আমায়রার কথায়। সে চিন্তিত ভঙ্গিতে আমায়রাকে জিজ্ঞাসা করলো,
“কেন হয়েছেটা কি?”

আমায়রা এক এক করে সকালে আসার পর থেকে কি কি হয়েছে সেগুলো সব বলতে লাগল ইশরাকে। ইশরা হতভম্ব হয়ে রইলো আমায়রার কথায়। একটু দেড়ি করায় এতকিছু হয়ে গেল। ভাবতেও পারছেনা ইশরা।

ইশরা থম মেরে বসে আছে। হুট করেই হো হো করে হাসতে লাগলো সে।

#চলবে

(আসসালামু আলাইকুম। ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)