অনিমন্ত্রিত প্রেমনদী ২ পর্ব-৩২+৩৩

0
336

#অনিমন্ত্রিত_প্রেমনদী
#দ্বিতীয়_অধ্যায়
#পর্ব_৩২
#জিন্নাত_চৌধুরী_হাবিবা

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

সুহার মামার বলার ভঙ্গি দেখে তরীর বাবা শান্ত গলায় বললেন,“রাজনীতি কি খারাপ কিছু?”

সুহার মামা বুদ্ধিমান মানুষ। তিনি ভেতরে ভেতরে দমে গেলেন। এসব ব্যাপারে তর্কে জড়ানো মানেই সারাজীবনের মতো একটা শ*ত্রু*তা*য় নিজেকে বেঁধে ফেলা। তিনি বললেন,“সব কিছুতেই খা*রা*প ভালো আছে। এ পেশায় ঝুঁকি বেশি। আল্লাহ না করুক, ধরুন আপনার ছেলের দুদিন পর কিছু হয়ে গেল, তখন আমাদের মেয়ের কী হবে?”

“জন্ম-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। এই মুহূর্তে আমি যে এখান থেকে উঠে বাসায় যেতে পারবো, তার কী নিশ্চয়তা আছে?”

মিঠু বুক টানটান করে বসে আছে৷ তার কোন কথাই বলা লাগছে না। বাবার জবাব শুনেই বোঝা যাচ্ছে তিনি কোমর বেঁধে নেমেছেন। কিছুতেই আজ উনাকে কুপোকাত করা যাবে না। মিঠুর ঠোঁট সামান্য প্রসারিত হয়ে সাথে সাথেই মিলিয়ে গেল। সুহার মামা গলা ঝেড়ে বললেন,“আমরা এখনই মেয়ে বিয়ে দিতে চাই না।”

তরীর বাবা দমে গেলেন না। প্রশ্ন ছুড়লেন,“কখন বিয়ে দিতে চান?”

“সময় হলেই বিয়ে দেব।”

“আপনি বলছেন এখনো সময় হয়নি! আচ্ছা তবে বিয়ের কথা পাকা করে রাখুন। সময় হলেই আমরা বউ বাসায় নিয়ে যাবো।”

খালেকুজ্জামান নাকের ডগা থেকে চশমা খানিক ঠেলে দিলেন। রয়েসয়ে বললেন,“দেখুন, আমরা আপনাদের মেয়ে দিয়ে নিজেদের মেয়ের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না৷ দয়া করে এবার আপনারা আসতে পারেন।”

ভেতর ঘরে এতক্ষণে সুহার জানা হয়ে গিয়েছে মিঠু তার পরিবার নিয়ে এসেছে। উত্তেজনায় হাত-পা কাঁপছে তার। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। ভয়ে এই ঠান্ডার মাঝেও তার কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। হাত দিয়ে কিছু আঁকড়ে ধরতে গিয়েও বল পাচ্ছে না। লম্বা হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো সুহা। মনটা বড্ডো হাসফাস করছে। বসার ঘরে কী হচ্ছে জানতে ইচ্ছে করলেও শরীরটা টে*নে দরজা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার মতো শক্তি নেই। অবসন্ন মন নিয়ে পড়ে রইলো বিছানার উপর।

মিঠু এতক্ষণ চুপচাপ ছিলো। গলা ঝেড়ে তার শান্ত, দরাজ কন্ঠে বলল,“মূল সমস্যা কি আমার রাজনীতি করা নিয়ে?”

খালেকুজ্জামান চোখ তুলে সামনে বসে থাকা তাগড়া যুবকের দিকে তাকালেন। দু’দুটো পরিণত পুরুষের মধ্য থেকে ঠাওর করতে পারলেন না কোনটা পাত্র। এবার নিশ্চিত হয়ে পাত্র চিনে নিলেন। পরপর তিনিও গম্ভীর স্বরে জবাব দিলেন,“আমি স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছি।”

মিঠু দাড়িতে হাত বুলিয়ে সামনে বসা মধ্যবয়সী খালেকুজ্জামানের দিকে তাকালো। চোখজোড়া একেবারে স্বচ্ছ। শান্ত গলায় বলল,“তুলে নিয়ে যাব।”

খালেকুজ্জামান যেন এতক্ষণ এই ভয়টাই পাচ্ছিলেন। শান্ত গলায় হুমকি। ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতি করা লোক উনার পছন্দ নয়। সব কিছুতেই এরা মা*রা*রা*রি, কা*টা*কা*টি, ঝামেলা টেনে নিয়ে আসে।
বাবা মিঠুকে ধমকে উঠলেন।
“এটা কেমন কথা মিঠু? আমরা কথা বলছি এখানে।”

মিঠু বাবার দিকে তাকালো। এই সামান্য ধমকে তার বিশেষ কিছু এসে গেল না। মৃদু হেসে বলল,“আমি তো ইচ্ছের বিরুদ্ধে বলিনি, সুহার মত নিয়ে তবেই বের করে নিয়ে যাবো।”

রামি পাশ থেকে মিঠুর ঘাড়ে হাত রাখলো। সুহার মামার এবার সন্দেহ গাঢ় হলো। নিশ্চয়ই এই ছেলের সাথে সুহার সম্পর্ক আছে। নয়তো ও বাসায় আসার কদিনের মাথাতেই কেন এভাবে প্রস্তাব আসতে হলো! তাছাড়া ছেলের কথা শুনেও তেমনটাই মনে হচ্ছে। এখনো সুহার উপর সম্পূর্ণ রাগ নির্মূল হয়নি, তার মাঝেই এমন কিছু আন্দাজ করে মাথায় রক্ত চড়ে গেল খালেকুজ্জামানের। প্রশ্ন করলেন,“সুহা তোমাকে চেনে?”

“হ্যাঁ চেনে।”
মিঠুর জবাবে খালেকুজ্জামান চোখমুখ শক্ত করে ভেতর ঘরে চলে গেলেন। সুহার নাম ধরে উচ্চস্বরে কয়েকবার ডাকলেন। মামার ডাক শুনে হৃৎপিণ্ড লাফিয়ে উঠলো সুহার। তড়িঘড়ি করে উঠে এলো। মামা দরজায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন,“যে ছেলেটা বাসায় এসেছে, তাকে তুমি চেন? সত্যিটা বলবে।”

সুহা কেঁপে উঠলো মামার হুঙ্কারে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে মাথানিচু করে নিলো। মামা ফের হুঙ্কার ছাড়লেন,“কী হলো? প্রশ্নের জবাব দাও। চেন ছেলেটাকে?”

সুহা সাহস করে উপরনিচ মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিল সে মিঠুকে চেনে। ব্যস এতটুকু শুনেই মামা চুপ করে গেলেন। তেজী গলা ধীরে অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে গেল। নিচু গলায় বললেন,“যেভাবে বাসায় এসেছো, ঠিক সেভাবেই বেরিয়ে যাবে তুমি। আমি আর তোমার সম্বন্ধে কিছুই জানি না। এতদিন পরিবার লাগেনি, এখন বিয়ের সময় এসে পরিবার খুঁজে নিয়েছো। আমারই ভুল ছিল, তোমাকে সুযোগ না দিয়ে সেদিনই বের করে দিলে ভালো হতো।”

মামার ক্ষেপে যাওয়া স্বাভাবিক। সুহার কাজকর্ম উনার সম্মানে লেগেছে। প্রথমত সে প্রথম ভুলের ক্ষমা এখনো পায়নি, দ্বিতীয়ত উনার সব কথা শুনবে কথা দিয়েও ভেতরে ভেতরে এতদূর পর্যন্ত চলে গিয়েছে। সুহার নিরাপত্তার কথা ভেবেই সম্বন্ধটি নাকচ করতে চেয়েছিলেন তিনি। সুহার মামি দৌড়ে এলেন। স্বামীর পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন,“দোহাই লাগে আপনার, এভাবে উত্তেজিত হবেন না! ঠান্ডামাথায় ভাবুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।”

স্ত্রীর উপর খ্যাঁক করে উঠলেন খালেকুজ্জামান। বললেন,“তুমি চুপ থাকো। সব জায়গায় মুখ চলে তোমার।”

মামি চুপ করলেন না। সুহাকে জিজ্ঞেস করলেন,“ছেলেটা যে আজ বাসায় আসবে তুই জানতি?”

সুহা ত্রস্ত ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল,“না মামি, আমি জানতাম না।”

“ছেলেটাকে পছন্দ করিস?”

এবার সুহা চুপ করে গেল। তার নিরবতা থেকেই যা বোঝার বুঝে গেলেন মামি। তিনি খালেকুজ্জামানের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললেন,“ওঁ যেহেতু রাজি আছে, আপনার এখানে অমত করার কারণ দেখছি না। ছেলের পেশা নিয়ে যেখানে সুহার কোন সমস্যা নেই সেখানে আমরা বাঁধা হয়ে দাঁড়াবো কেন?”

মামা কপট রাগ দেখিয়ে বললেন,“সেজন্যই তো বলেছি বাড়ি থেকে চলে গিয়ে যা ইচ্ছে করুক।”

মামি বললেন,“বাড়ি থেকে যাবে কেন? পরিবার জানিয়ে সে তো কোন ভুল করেনি। আপনি আর রাগ করে থাকবেন না। ওখানে মেহমান বসে আছে। গিয়ে কথা বলুন।”

“তুমি গিয়ে কথা বলো। আমি পারবো না।”

সুহা চুপ করে রইলো। চোখজোড়া তটস্থ। মামা ঘরে চলে গেলেন। মামি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এবার উনার নিজেরও কিছুটা অভিমান জন্মালো সুহার উপর। ছেলেটার ব্যাপারে অন্তত উনাকে জানাতে পারতো। অভিমান চেপে রেখে সুহাকে বললেন,“তুই ঘরে যা, চিন্তা করিস না। সব ঠিকঠাক হবে।”

মামির চোখের দিকে তাকাতে পারলো না সুহা। ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো। অপরাধী গলায় বলল,
“আমায় ক্ষমা করো মামি। সেদিন বাসায় ফেরার উদ্দেশ্য ছিল এই ব্যাপারে তোমাদের জানানো। কিন্তু বাসায় থাকার সুযোগ আর তোমাদের ভালোবাসা পাওয়ার লো*ভে আমি কথাটা ভুলেই বসলাম।”

“আমি তোর মামাকে বোঝাবো।”

এই বলে মামি বসার ঘরে এসে দাঁড়ালেন। বললেন,“আমরা আপনাদের পরে জানাচ্ছি। আপাতত আমাদের বাসার পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ দিন।”

ভদ্রমহিলার নম্র গলা শুনে তরীর বাবা আর কথা বাড়ালেন না। মিঠুও আর ঝামেলা করলো না। চুপচাপ উঠে পড়লো।
সন্ধ্যার পর এ নিয়ে সুহার মামি স্বামীকে অনেকক্ষণ বুঝিয়ে বিয়েতে রাজি করাতে সক্ষম হলেন। শেষে খালেকুজ্জামান ভেবে দেখলেন সুহা এতদিন পর বাড়ি আসায় মানুষ আড়ালে নানান কটূক্তি করছে। বিয়েটা দিতে পারলে হয়তো তাদের মুখ বন্ধ করা যাবে। মামি সুহাকে ডেকে নিয়ে খবর খানা দিলেন।

★★

রাত খুব বেশি হয়নি। ঘড়ির কাঁটা সবে ১১ এর ঘর পেরিয়েছে। মুঠোফোন বেজে উঠলো সুহার। সাথে সাথেই ফোন তুললো না। ইচ্ছে করেই দেরি করলো। কয়েকবার রিং হওয়ার পর ফোন কানে চাপলো। ওপাশ থেকে চাপা রাগি স্বর শোনা গেল।
“ফোন ধরেন নি কেন এতক্ষণ? না-কি মামা-মামি পেয়ে আমাকে দেওয়া কথা ভুলে বসলেন?”

সুহার ঠোঁটে চাপা হাসি। কোন জবাব দিলো না। তার নিশ্চুপ থাকা মিঠুকে আরো রাগিয়ে দিল।
“আমার কাছ থেকে নিজেকে একবিন্দু দূরে সরানোর চেষ্টা করে দেখুন, আমি সব লণ্ডভণ্ড করে দেব সুহা।”

সুহা হাসি চেপে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো। শক্ত গলায় বলল,“কী করবেন আপনি?”

“বিয়ে করবো, বাকিটা তো সেদিন বললামই। আবার শুনতে চান?”

সুহা বিব্রত হলো। কোনভাবে আওড়ালো,“অ*ভ*দ্র লোক!”

মিঠু বলল,“আপনার কাছে হাজারবার অভদ্র হতে রাজি আছি, শুধু একবার হ্যাঁ বলে দেখুন।”

“দেখুন্, আমি মামার কথার অবাধ্য হতে পারবো না।”

মেজাজ চড়ে গেল মিঠুর।
“মামার কথার অবাধ্য হতে পারবেন না, তবে আমায় বিয়ে করবেন কথা দিয়েছিলেন কেন? আপনি কী ভেবেছেন, আপনার মামা আমাকে বাঁধা দিতে পারবে? উনার সামনে দিয়ে আপনাকে তুলে নিয়ে আসবো। আমি চাই সব সুষ্ঠুভাবে হোক। নয়তো আপনার মামার কথার পরোয়া আমি করতাম না।”

আর রাগানো ঠিক হবে না ভেবে সুহা মিইয়ে যাওয়া স্বরে বলল,“মামা কাল আপনার বাবাকে আসতে বলেছেন।”

মিঠু থেমে গেল। কিয়দংশ সময় নিরব থেকে অধর প্রসারিত হলো। তীর্যক হেসে বলল,“বাহ্! মামা শশুরের বুদ্ধি হয়েছে দেখছি। তবে আর দেরি কীসের?”

সুহার সাড়া না পেয়ে মিঠু কোমল স্বরে ডাকলো,“মাদকতা!”

চোখ খিঁছে বন্ধ করে নিলো সুহা। মিঠু বলে গেল,
“শুনছেন মাদকতা? কেন এত নে*শা ধরালেন? এর শা*স্তি স্বরূপ সারাজীবন আমার দায়িত্ব নিতে হবে। আমার বুকের খাঁচায় বন্দী দশা বরন করে নিতে হবে আপনাকে।”

সুহা মৃদুস্বরে বলল,“আমি দায়িত্ব নিতে জানি না।”

“আমি শিখিয়ে দেব। কথা দিচ্ছি আমার প্রশস্ত বুক হবে আপনার স্বস্তির জায়গা।”

সুহা মনে মনে আওড়ালো “আমার বিশ্বাস টুকু আপনাকে দিলাম, যত্নে রাখবেন।

★★★

অরুর ভীষণ মন খা*রা*প। সবকিছুর মাঝে সে মনে রেখেছে রামির চলে যাওয়ার কথা। আর মাত্র একদিন। তারপরই রামি আবার ফিরে যাবে। অরুর দৃষ্টি নিবদ্ধ একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা রামির উপর। সে কানে ফোন চেপে কারো সাথে জরুরী আলাপে ব্যস্ত। অরু ধীর পায়ে এগিয়ে গেল। দু’হাতে পেছন থেকে রামিকে জড়িয়ে ধরে পিঠে মাথা ঠেকিয়ে রাখলো। কান থেকে ফোন সরালো না রামি। কথা বলার মাঝেই অরুর হাত ছাড়িয়ে দিয়ে তাকে সামনে টেনে আনলো। বুকের সাথে আগলে ধরতেই অরু বুকে মাথা মিশিয়ে দিল। অরুর পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে রামি। অরু জড়োসড়ো হয়ে বুকে মিশে রইলো। কথা শেষ করে ফোন পকেটে পুরে নিলো রামি। নরম স্বরে অরুকে বলল,“ঠান্ডা লাগছে?”

অরু দু-পাশে মাথা নাড়িয়ে না জানালো। অরুর মাথায় চিবুক ঠেকিয়ে রামি আদুরে স্বরে বলল,“কী হয়েছে?”

অরু কাতর স্বরে বলল,“কাল না গেলে হয় না?”

রামি হাসলো। বলল,“ক’দিনেরই তো ব্যাপার। আবার তো চলে আসবো।”

অরু মাথা তুলে তাকালো। তার চোখে স্পষ্ট পানি চিকচিক করছে। ঢোক গিলে বলল,“ক’দিন? কতগুলো দিন তোমার হিসেব আছে?”

রামি হেসে বলল,“তুই তো আমায় সহ্যই করতে পারিস না। তাহলে আমি থাকবো কেন?”

অরু ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো। রামি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে দু-হাতে অরুর মুখ আঁজলা করে তুললো। ললাটে উষ্ণ ওষ্ঠ জোড়া চেপে ধরে রাখলো অনেকক্ষণ। অতঃপর চোখের পাতায় ঠোঁট ছোঁয়ালো। অরু দু-হাতে আঁকড়ে ধরলো রামির গলা।
রামি বলল,“মন খা*রা*প করে থাকবি না। তোকে এমন দেখতে আমার ভালোলাগে না। আচ্ছা বলতো এবার গেলে তোর জন্য কী কী নিয়ে আসবো?”

“আমার তুমি হলেই চলবে।”

রামি নিঃশব্দে হেসে বলল,“আমি তো তোরই আছি। আমি ছাড়া আর কী লাগবে?”

“তোমাকেই লাগবে।”

রামি অতিষ্ঠ ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল,“তোকে দেখছি পকেটে পুরে নিয়ে যেতে হবে।”

অরু মোহাবিষ্ট কন্ঠে বলল,“নিয়ে যাও না।”

#চলবে………

#অনিমন্ত্রিত_প্রেমনদী
#দ্বিতীয়_অধ্যায়
#পর্ব_৩৩
#জিন্নাত_চৌধুরী_হাবিবা

(কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)

রামি চলে গিয়েছে আজ দুদিন হলো। মিঠু পুরোদমে কাজে লেগেছে। নমিনেশন পেপার হাতে পেতেই তার ব্যস্ততা বাড়লো। এক সাথে দু-দুটো নমিনেশন, বলতেই হয় তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। আজকাল সুহার সাথে খুব একটা আলাপ হয় না। বেশ রাত করে ক্লান্ত ভঙ্গিতে বাড়ি ফেরে, ততক্ষণে হয়তো সুহা ঘুমিয়ে পড়ে। আর কল দেওয়া হয় না। ভোরের আলো ফোটার পরই আবার বেরিয়ে পড়ে সে। গোসল সেরে শরীরে শার্ট চাপিয়ে বের হলো মিঠু। অরু বাবার সাথে নাস্তা করতে বসেছে। মিঠু হাতা গুটিয়ে এসে অরুর পাশে বসলো। চুপচাপ অরু নাস্তা এগিয়ে দিল তার দিকে। খাবার মুখে তুলে চিবানোর পরই বাবা গলা খাঁকারি দিলেন। গম্ভীরমুখে বললেন,“আমি সুহার মামার সাথে কথা বলে এসেছি।”

মিঠু খেতে খেতে মনোযোগ দিয়ে বাবার কথা শুনলো। মুখের খাবার গলাধঃকরণ করে বলল,“কী বলেছেন তিনি?”

“উনারা বিয়ের ব্যাপারে দ্রুত এগোতে চাইছেন।”

মিঠু দুর্বোধ্য হাসলো। উপরে নিজেকে বেশ স্বাভাবিক করে বলল,“এত দ্রুত মত পরিবর্তন কীভাবে?”

“সব যেহেতু আগে থেকেই রেডি, তাই আর দেরি করতে চাইছেন না তিনি।”

মিঠু চিন্তিত স্বরে বলল,“আমার জন্য ঝামেলা হয়ে যাবে, জানোই তো এখন প্রেশারের মধ্যে আছি।”

“তিন দিনেরই তো ব্যাপার। ম্যানেজ করতে পারবি। আর বাদবাকি আয়োজনের দিক আমরা সামলে নেব।”

“দেখছি কী করা যায়!”

বাবা রয়েসয়ে বললেন,“আমি আরো একটি কথা চিন্তা করেছি।”

“সেটা কী?”

বাবা অরুর দিকে একঝলক তাকিয়ে মিঠুর দিকে ফিরলেন৷ বললেন,“সাথে অরু আর রামির বিয়ের অনুষ্ঠানটাও সেরে ফেলবো।”

এতক্ষণ চুপচাপ বাবা আর ভাইয়ের কথা শুনলেও এবার খানিকটা লজ্জা পেল অরু। কথা না বলে দ্রুত খাবার গিলে উঠে পড়লো। মিঠু অরুর যাওয়ার পানে তাকিয়ে বলল,“এত দ্রুত অরুকে বিদায় করতে চাইছো কেন?”

“বিদায় কোথায়? অরুতো আসা-যাওয়া করছেই। যখন যেখানে ইচ্ছে থাকবে। যদিও অনুষ্ঠান করার কথা ছিল অনেক পরে, কিন্তু এখন করে নিলে মন্দ হয় না। আমি বেয়াইনের সাথে কথা বলে দেখবো। পরে যদি তারা অনুষ্ঠান করতে চায়, তো আবার করতে পারে। আমার শরীরটাও দিনদিন খা*রা*পে*র দিকে যাচ্ছে৷ কবে না মৃ*ত্যু এসে দরজায় কড়া নাড়ে!”

মিঠুর ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠলো। মা মা*রা যাওয়ার আগে সে অন্যদের দেখে নিজেই নিজেকে বলতো, মা বা বাবা দুজনের কারো কিছু হলে সে বোধহয় খুব একটা কষ্ট পাবে না। বরং তার জীবন আনন্দে কাটবে। মা বাড়ি গেলে বকাঝকা করবে না, কোন অন্যায় করলে বাবা শাসন করবেন না। কিন্তু ছোটো মিঠুর ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো মা মা*রা যাওয়ার পর। জীবনটা অন্ধকারে তলিয়ে যেতে লাগলো। মাকে মিস করতে লাগলো প্রতিনিয়ত। এখন বাবার কিছু হয়ে গেলে সে নিঃস্ব হয়ে যাবে। কখনো কোথাও মা*রা*মা*রি, গো*লা*গু*লি হলেই বাবা পাগলের মতো হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে পড়েন। রাত-দিন মানেন না। যত রাতই হোক, ছেলে নিরাপদে আছে কি-না তা না জানা পর্যন্ত ক্ষান্ত হন না তিনি। মিঠু মাঝেমাঝেই বাবাকে মেজাজ গরম করে কড়া কথা শোনায়,“আমি নিজেকে সামলে রাখি। তুমি এই শরীরে কেন বের হও? যদি তোমার কিছু হয়ে যায়? আমার উপর ক্ষোভ মেটাতে যেকোন দিক থেকেই তোমাকে আক্রমণ করতে পারে। এরপর থেকে তুমি আর মা*রা*মা*রি হলে ছুটে আসবে না।”

বাবা মিঠুর কথা শোনেন। এক কান দিয়ে প্রবেশ করে তো অন্যকান দিয়ে বের করে দেন। পরেরবার ঠিকই আবার ছুটে যান। মিঠু এখন মস্তিষ্ক সজাগ রাখে। মা*রা*মা*রি হলেই সে দুজনকে ঠিক করে রাখে বাবাকে সেফ জেনে রাখতে। বাবার ঈষৎ হলদেটে চোখের দিকে তাকালো মিঠু। আগের মতো সতেজ নেই কিছুই। নিস্তেজ, নিভু নিভু একজোড়া চোখ। গভীর চোখে বাবাকে পর্যবেক্ষণ করে কোমল স্বরে বলল,“তোমার কিছু হবে না বাবা। তোমাকে আরো অনেক বছর বাঁচতে হবে, আমাদের জন্য বাঁচবে।”

ছেলে সচরাচর এতটা নরম হয়ে কথা বলেনা। বাবা নিজেও একটা ধাক্কা খেলেন। পরপরই আবেগী হয়ে গেলেন। চোখ ভিজে এলো। মিঠু স্পষ্ট টের পেলো বাবার চোখে মূল্যবান অশ্রু। মুহূর্তেই কঠিন হয়ে বলল,“নিজের দিকে খেয়াল দাও। এসব উলটাপাল্টা চিন্তা বাদ দিও৷ আমি বের হচ্ছি।”

মিঠু বেরিয়ে গেল। বাবা উঠে মাহমুদের বাসার দিকে পা বাড়ালেন। আয়েশা সুলতানার সাথে বিয়ে সম্পর্কে আলাপ-আলোচনা করা প্রয়োজন।

আজ সূর্য তেজহীন। ঠান্ডার পরিমাণ অন্যদিনের তুলনায় বেশি। গায়ে চাদর জড়িয়ে কাঁধে ব্যাগ চেপে অফিস থেকে বের হলো সুহা। আকস্মিক হাতে কোন শক্ত হাতের ছোঁয়া পেয়ে চমকে উঠলো। হাত থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মুখাবয়ব দেখার চেষ্টা করতেই এক সুশ্রী, সৌষ্ঠব পুরুষ নজরে পড়লো। কিছু বলার পূর্বেই হাত ধরে সামনে এগিয়ে গেল মিঠু। সুহার পা জোড়া চলছে, কিন্তু চোখজোড়া স্থির৷ একধ্যানে তাকিয়ে রইলো মিঠুর মুখপানে। গাড়ির কাছে এসে থামতেই মিঠু সুহার দিকে ঘুরে তাকালো। চোখ দিয়ে ইশারা করলো ভেতরে ঢুকে বসতে। সুহা এখনো তাকিয়ে আছে। মিঠু চাপা হাসলো। মাথা ঝুঁকিয়ে খানিক দূরত্ব রেখে দাঁড়ালো মিঠু। ফিসফিস করে বলল,“আমাকে এত ভালোলাগে? চলুন আজই বিয়ে করে ফেলি। তখন যত ইচ্ছে দেখতে পারবেন।”

সুহার ঘোর কাটলো। থতমত খেয়ে দৃষ্টি লুকানোর চেষ্টা করে তড়িঘড়ি করে বলল,“কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে?”

মিঠুর ঠোঁটে নিটোল হাসি। রগঢ় করে বলল,“খু*ন করতে নিয়ে যাচ্ছি।”

সুহা গায়ে মাখলো না। চোখমুখ অন্ধকার করে বলল,“আমি এখন বাসায় যাবো।”

“যাবেন, আমি যখন বলবো তখন।”
বলেই গাড়ির দরজা খুলে দিল মিঠু। সুহা অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। এতদিন কোন খবর না নিয়ে এখন এসেছে প্রেম দেখাতে। পুরুষ মানুষ সহজে পেয়ে গেলে তার শখের নারীকেও কদর করতে ভুলে যায়। সে আমারই আছে ভেবে একমুঠো প্রেম বাড়িয়ে দিতে ভুলে যায়। অথচ তার অবহেলায় অপরপ্রান্তের মানুষটি যে জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যায়, সে খেয়াল রাখেনা। মিঠু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,“উঠে বসুন, আজকের বিকেল শুধুই আপনার।”

সুহা দূরে সরে দাঁড়ালো। মিঠু দৃষ্টি ক্ষীণ করে বলল,“আমি কি চলে যাব? অনেক কষ্ট করে সময় বের করেছি। আবার কাজে লেগে পড়লে এক সপ্তাহেও দেখা পাবেন না আমার।”

সুহা রাগে ফোঁসফোঁস করে গাড়িতে চড়ে বসলো। মিঠু হেসে ফেললো নিঃশব্দে। দরজা আটকে নিজেও ঘুরে এসে ড্রাইভিং সিটে বসলো।
সারারাস্তা সুহা গোমড়ামুখে বসে রইলো। গাড়ি এসে থামলো কোলাহলহীন একটি জায়গায়। মিঠু নেমে হেঁটে এগিয়ে গেল লেকের ধারে। সুহা চুপচাপ গাড়িতে বসে রইলো। অনেকটা সময় পর মিঠুকে আসতে না দেখে সে-ও নেমে পড়লো। ছোটো ছোটো কদম ফেলে মিঠুর পাশে এসে দাঁড়ালো। মিঠু ঘাড় না ঘুরিয়েই বলল,“এই কাজটা করতে এতক্ষণ ভাবতে হয়েছে?”

সুহা মাথানিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। তার অভিমান দেখে হাসলো মিঠু। কৈফিয়তের সুরে বলল,“আমি ব্যস্ত ছিলাম। অনেক রাত করে বাসায় ফিরতে হয়, ততক্ষণে আপনি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েন। তা ভেবেই আর কল দেওয়া হয় না।”

সুহা গমগমে স্বরে বলল, “আমি কি কৈফিয়ত চেয়েছি না-কি?”

মিঠু পকেট হাতড়ালো। কচমচে আওয়াজ সৃষ্টি হচ্ছে। সুহা কৌতুহলী চোখে তাকিয়ে রইলো পকেটের দিকে। মিঠু কিছু একটা বের করলো। বাদামের প্যাকেট। সুহার হাতে ধরেয়ে দিল। সুহা বোকার মতো চেয়ে থেকে বলল,“কী করবো?”

“খোসা ছাড়িয়ে দিন।”

সুহার রাগ হলো। নাক ফুলিয়ে ফোঁস করে শ্বাস নিলো। কপট রাগ দেখিয়ে বলল,“খোসা ছাড়ানোর দায়িত্ব প্রেমিকের। প্রেমিকা কেন খোসা ছাড়াবে? নিন আপনার বাদাম আপনিই খোসা ছাড়ান।”

মিঠু মিটিমিটি হাসলো। কয়েক কদম এগিয়ে গেল সুহার দিকে। ভড়কে গেল সুহা। দু-কদম পেছালো সে। মিঠু উপরের ঠোঁট দিয়ে নিচের ঠোঁট চেপে ধরলো। পরক্ষণে ফিসফিস কন্ঠে বলল,“আপনি আমার প্রেমিকা?”

শিউরে উঠলো সুহা। চোখ পলক ঝাপটালো ঘনঘন। মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না।

মিঠু মন্থর কন্ঠে বলল,“একদিন কী বলেছিলেন মনে আছে? আমি আপনার প্রেমিক হলেও আপনি না-কি আমার প্রেমিকা নন। অথচ আজ সেই আপনিই নিজ মুখে নিজেকে আমার প্রেমিকা দাবি করছেন?
শুনুন মাদকতা! আপনি আমার প্রেমিকা নন, অর্ধাঙ্গিনী হয়ে যান।”

সুহা অস্থির হয়ে উঠলো। বলল,“আপনি আমায় কীসের জন্য ভালোবাসেন?”

মিঠুর কন্ঠে ধীরে ধীরে আরো গভীর হলো।
“ভালোবাসতে কোন কারণ লাগে না। আমি আপনাকে ভালোবাসি একজন অভদ্র প্রেমিকের মতো। যে আপনার দেহ, মন দুটোই চায়। আমি আবারও বলছি, আমি ভীষণ অভদ্র। কেবল আপনার মনটা ভালোবেসে দেবদাস হয়ে আপনাকে অন্যের বুকে দেখতে পারার মতো প্রেমিক আমি নই। আপনার মন, দেহ সবটাই আমার। কেবল বৈধতা পাওয়ার অপেক্ষায়।”

লজ্জায় সুহার কান গরম হয়ে উঠলো। গাল দুটো ক্রমশ ফুলে আরক্তিম হয়ে উঠছে। এত ঠোঁটকাটা স্বভাবের মানুষ হয়! তার তো লাজলজ্জা আছে। মানুষটা কি বোঝে না? নত হয়ে থাকা দৃষ্টি পড়লো লেকের টলটলে জলে। তাদের দুজনের অবয়ব পানিতে ফুটে উঠেছে। মাঝে একটুখানি দূরত্ব। এই দূরত্বটুকু পছন্দ হলো না সুহার। মনে মনে হিংসে হলো। তবে নিজ থেকে দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার মতো সাহস তার নেই। জড়তা কাজ করে। মিঠু কি কিছু বুঝতে পারলো? দূরত্ব ঘুচিয়ে মুঠোয় সুহার হাত বন্দি করে নিলো। দুজনের বাহুর সাথে বাহু ঘেঁষে গেল। মিঠু জলের দিকে তাকিয়ে বলল,“দেখুন্, পানিতে একজোড়া শালিকের প্রতিচ্ছবি।”

★★★

অরু খাওয়া, ঘুম, পড়াশোনা বাদ দিয়ে রামির বিরহে দিন কাটাচ্ছে। চায়ের কাপে ঠোঁট ভিজিয়ে চোখমুখ কুঁচকে ফেললো। কেমন তিক্ত স্বাদ। অথচ চায়ের স্বাদ প্রতিদিনের মতো একই। বারান্দায় উদাসী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থেকে অরুর মনে হলো যদি রামির ঠোঁটের ছোঁয়া থাকতো, তবে এই তিক্ত চায়ের স্বাদও অমৃত মনে হতো। এখন রামির সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু এখন ডিউটিতে আছে রামি। অরু গালে হাত দিয়ে বসে রইলো।

রামি ইউনিফর্ম পরে ডিউটি শেষ করে বের হতে নিতেই এয়ার হোস্টেস লিয়া ওঁর হাতে একটা কাগজ গুঁজে দিল। রামি মেয়েটার চাহনি দেখেই বুঝতে পেরেছে অনেক কিছু। পা থামিয়ে ডাকলো রামি।
“মিস….!”

রিনরিনে মিষ্টি কন্ঠ শোনা গেল,
“লিয়া, লিয়া চৌধুরী।”

রামি হাতের কাগজটি খুলে দেখার প্রয়োজন মনে করলো না। হাত থেকে ফেলে দিয়ে লিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,“আমার ছোট্ট ঝ*গ*ড়ু*টে একটা বউ আছে। তাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি।”

বলেই রামি হেসে চলে গেল। কথাগুলো বলার সময় তার চোখমুখ প্রফুল্ল ছিল। লিয়া মেয়েটা অপমানিত বোধ করলো। ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবে বললেই হতো। কাগজটি এভাবে ফেলে দেওয়ায় তার ইগো হার্ট হলো। অথচ কত ছেলে তার পেছনে পড়ে আছে। যারা আমাদের পাত্তা দেয় না, আমরা তাদের পেছনেই পড়ে থাকি।

ইউনিফর্ম চেঞ্জ করে লম্বা একটা গোসল নিলো রামি। ট্রাউজার পরে চুল না মুছেই অরুকে ভিডিও কল দিল। সাথে সাথেই রিসিভ হলো। অরুর হাস্যজ্জ্বল মুখখানি ভেসে উঠতেই বুকটা প্রশান্তিতে ভরে গেল। অরু শুরুতেই প্রশ্ন করলো,“তোমার ছুটি হবে কবে?”

রামি চোখ ছোটো ছোটো করে বলল,“মাত্র দুদিন হলো ছুটি কাটিয়ে এসেছি। কী ব্যাপার! ডাক্তার সাহেবা দেখছি আমার বিরহে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তারের এই অবস্থা হলে জনসাধারণের চিকিৎসা করবে কে?”

অরু মুখ ছোটো করে বলল,“সত্যিই তোমায় মিস করছি।”

মায়া মায়া মুখ। ডিম লাইটের মৃদু আলোতে অরুকে দেখে ঘোর লাগছে রামির। সে চোখ সরালো না। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলো অরুকে। বেশ মোহনীয় লাগছে তাকে। রামি হঠাৎ করে ব্যস্ততা দেখিয়ে কল কেটে দিল। অরু বুঝতে পারলো না কিছুই। বরং তার রাগ হলো। সারাদিনে এখন একটু কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। তার প্রেমনদীতে হাবুডুবু খাইয়ে দূরে পালাতে চাইছে।
#চলবে……