#অন্তঃকরণে_তোরই_পদচারণ
#পর্ব-৩২
#লেখিকা-মেহরুমা নূর
★মরিশাসের এয়ারপোর্টে এসে নামলো ওরা। একহাতে ট্রলি ঠেলে আরেক হাতে খুশির হাত ধরে বাইরে বেরিয়ে এলো প্রহর। সাথে ফাহিম আর তিশাও এলো। প্রহর আগে থেকেই কার বুক করে রেখেছিল। যেটা বাইরে ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ওরা গিয়ে উঠে বসলো গাড়িতে। ড্রাইভার লাগেজ গুলো ডিকিতে তুলে নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। খুশি বরাবরের মতোই এক্সাইটেড হয়ে বাইরে সবকিছু দেখছে। গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে দুই হাত নেড়ে উচ্চস্বরে বলছে।
–হেলোওওওওও মরিশাস.. লুক হিয়ার আই কাম। দ্যা খুশি প্রহর মেহরাব।
প্রহর খুশিকে ভেতরে টেনে এনে বললো।
–খুশি কি করছ? এভাবে কেউ মাথা বের করে? অন্য গাড়ির সাথে টক্কর লেগে যাবেতো। প্লিজ একটু শান্ত হয়ে বসো। একবার রিসোর্টে গিয়ে পৌছাই তারপর যত হৈ হুল্লোড় করার করো ওকে।
–আরে বেড়াতে এসে কেউ শান্ত হয়ে বসে থাকে নাকি? তাহলে আর বেড়াতে আসার কি মজা হলো? তাইনা তিশা তুমিই বলো?
তিশা খুশির সাথে সহমত পোষণ করে বললো।
–হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই ভাবি। আরে বেড়াতে এসে একটু হৈ হুল্লোড় করবোনাতো কি শোক দিবস পালন করবো?
খুশি তিশার হাতের সাথে হাত মিলিয়ে হাইফাই দিয়ে বললো।
–ইয়ে হুয়ি না বাত। তাহলে একটু গানা বাজানা হয়ে যাক?
–হ্যাঁ হ্যাঁ ভাবি আপনি শুরু করুন না।
খুশি গদগদ হয়ে বললো।
–আরে তুমি যখন এতোকরে বলছ তাহলে আর মানা করি কিভাবে? ঠিক আমি গান শুরু করছি হ্যাঁ।
ওদের কথায় প্রহর আর ফাহিমের চোখ চড়কগাছ হয়ে গেল। এই সেরেছে। এখন কি খুশি ওর মধুর কন্ঠ শোনাবে সবাইকে? ফাহিম তিশাকে টান দিয়ে নিজের কাছে এনে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে বললো।
–তোমার কি মাথা নষ্ট হয়ে গেছে? এখন কি তুমি আমাদের এক্সিডেন্ট করাতে চাও?
তিশা ভ্রু কুঁচকে বললো।
–আজব, আরে আমি কেন এক্সিডেন্ট করাতে চাইবো?
–তোমার চাওয়া লাগবেনা। মহান ভাবিজী তার সুমধুর কন্ঠ ছেড়ে একবার গাওয়া শুরু করলে ড্রাইভার বেচারা হান্ড্রেড পার্সেন্ট এক্সিডেন্ট করবে? আরে কে বলেছে তোমাকে তাকে গান গাওয়ার জন্য বলতে? এখন আল্লায় জানে কি হবে?
কিন্তু অঘটন যা ঘটার তাতো ঘটে গেছে। এখন আর খুশিকে থামানো সম্ভব না। প্রহর বেচারা মনে মনে দোয়াদরুদ পড়ছে। ড্রাইভার বেচারা যেন এতবড় শক নিতে সক্ষম হয়।
অতঃপর খুশি গলা ঝেড়ে তার ট্রাক্টরের মতো মধুর আওয়াজে গলা ছেড়ে গাওয়া শুরু করলো।
♬ লাভলী না আমি বাবলি না নইরে বিল্লোরাণী
♬ খেলি ছিনিমিনি ছিনিমিনি ছিনিমিনি মন নিয়ে
♬ ম্যাজিক মামোনি
♬ হীরণী জেইছি আখে আমার চেহরা নূরানী
♬ খেলি ছিনিমিনি ছিনিমিনি ছিনিমিনি মন নিয়ে
♬ ম্যাজিক মামোনি
তিশা বেচারির মনে হচ্ছে কেউ ওকে হাজার বোল্টের শক দিয়েছে। খুশির মধুর কন্ঠ যে এতোটা মধুর তা জানা ছিলনা ওর। বেচারি করুন চোখে তাকালো ফাহিমের দিকে। ফাহিম চোখের ইশারায় বললো, বোঝ এখন কেমন লাগে। অন্যদিকে খুশির এই মধুর গান শুনে বেচারা ড্রাইভারের ব্যালেন্স হারিয়ে গেল। সে হাঠাৎ করে ব্রেক কষে, বুকে হাত দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো।
–কি করছেন ম্যাডাম? আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি?জানেন আমি হার্টের পেশেন্ট। এখনি যদি আমার হার্ট অ্যাটাক হতো তাহলে আমার ছোট ছোট বাচ্চার কি হতো? প্লিজ ম্যাডাম আপনের পায়ে ধরি আর গান গাইয়েন না। নাইলে আমি এক্সিডেন্ট করে বসবো।
খুশি একটা ভেংচি কেটে বললো।
–হুহ্,, আসল ট্যালেন্টের কোন কদরই নেই।
প্রহর মুচকি হেঁসে বললো।
–আরে মন খারাপ করে না। ওরা আসলে আমার খুশিরাণীর প্রতিভার মূল্য বোঝে না। তবে আমি আছি না? আমি শুনবো তোমার গান কেমন? এখন আর ওদের শোনানোর দরকার নেই।
–হুমম ঠিকই বলেছ এসব আনারিদের এই খুশির ট্যালেন্ট বোঝার ক্ষমতা নেই।
হাসি ঠাট্টার মাঝেই ওরা রিসোর্টে এসে পৌছালো। সমুদ্র সংলগ্ন সেভেন স্টার লাক্সারি রিসোর্ট বুক করেছে প্রহর। রিসোর্টে দুটো হানিমুন সুইট বুক করেছে। একটা নিজেদের জন্য আর একটা ফাহিমদের জন্য। রিসিপশনে এসে চাবি সংগ্রহ করলো প্রহর। ফাহিমের টা ফাহিমের হাতে দিয়ে বললো।
–এখন একটু রুমে গিয়ে সবাই রেস্ট করি। তারপর লাঞ্চের জন্য নিচে আসবো ওকে?
–ওকে বস।
ফাহিম চাবি হাতে নিয়ে তিশার সাথে ওদের রুমের দিকে চলে গেল। প্রহরও খুশির হাত ওদের রুমের দিকে অগ্রসর হলো। প্রহর খুশির দিকে তাকিয়ে দেখলো খুশিকে কেমন টায়ার্ড লাগছে। মুখটা কেমন ঘেমে উঠেছে। প্রহর হঠাৎ খুশিকে পাঁজা কোলে তুলে নিল। খুশি প্রহরের গলা জড়িয়ে ধরে দুষ্টু হেসে বললো।
–আরে বাহ্ হানিমুনে আসতেই আমার সোয়ামী একদম রোমান্টিক হয়ে গেল দেখছি।
প্রহর যেতে যেতে বললো।
–মগজের ঘোড়া বেশি দৌঁড়ানোর দরকার নেই। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তোমার টায়ার্ডনেস হচ্ছে। লাফালাফি করতে করতে ব্যাটারি লো হয়ে গেছে তো? এজন্যই বলি এতো বেশি লাফালাফি করতে নেই। কিন্তু তুমি শুনলে তো আমার কথা। তুমি কেন বোঝনা তোমার এতো লাফালাফি করা ঠিক না। তোমার সমস্যা হতে পারে।
–উহুম হবে না। আমার প্রহর থাকতে আমার কিছু হতে পারে নাকি? আমি জানি তুমি আমার কিছুই হতে দিবে না। তাইতো আমার নিজেকে নিয়ে কোন চিন্তা নেই।
–আচ্ছা তারমানে আমাকে টেনশনে রাখতে তোমার খুব মজা লাগে তাইনা?
–এই একটুখানি লাগে বেশি না।
–তাই না?? আগে রুমে চলো তারপর তোমাকে মজা দেখাচ্ছি।
খুশি দুষ্টু হেসে বললো।
–আঃ আঃ মাই হাসব্যান্ড বিকাম ভায়োলেন্ট। আই লাভ দিস এটিটিউড।
প্রহর হেঁসে দিয়ে বললো।
–তুমি সত্যিই পাগল।
–জানিতো
–পুরো পাগল
–তাও জানি
এভাবে দুজন হাসাহাসি করতে করতে নিজেদের রুমের দিকে এগুলো। অথচ ওরা জানলও না একজোড়া ক্রুর চোখের তপ্ত নজর ওদের ওপর পড়ে আছে। তার চোখে জ্বলছে ধ্বংসাত্মক অগ্নিশিখা। যে অগ্নিতে ঝলসে দিতে চাইছে ওদের কে। ওদের এই হাস্যজ্বল মুখটা তার চোখে তীরের মতো বিঁধছে। সহ্য হচ্ছে না প্রহর খুশির এতো সুখ। মনের মধ্যে দাউদাউ করে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠছে। যে আগুনে সে প্রহর খুশিকে জ্বালিয়ে দিবে। ওদের এই হাসি কেড়ে নিবে সে। সুখী থাকতে দিবেনা ওদেরকে।
সেই অজানা ব্যাক্তির মনকামনা থেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত প্রহর খুশিকে নিয়ে মনের আনন্দে নিজেদের রুমে ঢুকলো। রুমে ঢুকে খুশি রুমের চারপাশে তাকিয়ে আরও আত্মহারা হয়ে গেল। একলাফে প্রহরের কোল থেকে নেমে দৌড়ে সারারুম ঘুরে দেখতে লাগলো। এতসুন্দর রুম দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল খুশি। জানালার পর্দা সরাতেই সামনের নীল সমুদ্র চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে গেল। সাথে সাথে দমকা বাতাস এসে শীতল করে দিয়ে গেল দেহ মনটাকে। চোখ বুজে সেই বাতাসে নিজেকে মেলে ধরলো খুশি। এ যেন এক অব্যক্ত অনুভূতি। প্রহর খুশির পেছনে এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। কাঁধে থুতনি রেখে বললো।
–পছন্দ হয়েছে রুম? এটা এই রিসোর্টের সবচেয়ে বেস্ট হানিমুন সুইট।
খুশি প্রহরের দিকে ঘুরে দুই হাতে প্রহরের গলা জড়িয়ে ধরে হাসিমুখে বললো।
–অনেক অনেক অনেক পছন্দ হয়েছে। আই জাস্ট লাভ ইট। আচ্ছা এটাকে হানিমুন কেন বলে? এখানে না হানি আছে, না মুন। তাহলে হানিমুন কিভাবে হলো?
প্রহর মৃদু হেসে বললো।
–আছে তো। এইযে আমার সামনে হচ্ছে আমার মুন। আর এই মুনের মাঝেই ভরপুর মধুর ভান্ডার আছে। তাহলে হয়ে গেল তো হানিমুন।
–ওয়াও হোয়াট আ ক্রিয়েটিভ থিংক।
–শুকরিয়া জনাবা। বাইদাওয়ে তোমার জন্য আরেকটা সারপ্রাইজ আছে।
–সত্যিই? কি সারপ্রাইজ?
–আসো দেখাচ্ছি।
প্রহর খুশির হাত ধরে ব্যালকনির দরজা খুলে ব্যালকনিতে নিয়ে এলো। ব্যালকনিটা বিশাল খোলা জায়গা নিয়ে গঠিত।একটা ছোটমোটো ছাঁদের সমান। আর ব্যালকনির সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হলো বড়ো একটা প্রাইভেট সুইমিং পুল। যার সীমানা একদম ব্যালকনির শেষ মাথায় গিয়ে ঠেকেছে। উপর থেকে দেখে মনে হবে সমুদ্রের সামনে আরেকটা ছোট সমুদ্র। সুইমিং পুলের পানির ওপর সুন্দর করে গোলাপের পাপড়ি ছিটানো। খুশির যেন আনন্দ ধরছেনা। এতসুন্দর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সে এর আগে কখনো দেখেনি। খুশি উল্লাসিত হয়ে বললো।
–ওয়াও আমার তো আর তর সইছে না। প্রহর আমি এখুনি পুলে নামবো প্লিজ প্লিজ প্লিজ..
–আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। আগে চেঞ্জ তো করে নাও। এভাবেই নামবে নাকি।
–ওকে আমি এখুনি চেঞ্জ করে আসছি।
খুশি এক ছুটে চলে গেল চেঞ্জ করতে। প্রহরও চেঞ্জ করার জন্য ভেতরে এলো। খুশি একটা থ্রি কোয়ার্টার টাইস আর টিশার্ট পড়লো। আর প্রহর খালি গায়ে শুধু একটা বক্সার হাফ প্যান্ট পড়লো। চেঞ্জ করা শেষে প্রহর আবারও খুশিকে কোলে তুলে নিল। কোলে নিয়ে ব্যালকনিতে আসলো। তারপর খুশিকে নিয়েই ধীরে ধীরে পুলের পানিতে নামলো। তখন নাচতে নাচতে পানিতে নামতে তো চেয়েছে। কিন্তু ঠান্ডা পানির শীতলতা শরীরে লাগতেই শিরশিরানি জেগে উঠলো খুশির। খুশি প্রহরের গলা জাপটে ধরলো। প্রহর মুচকি হেসে বললো।
–কি সব এনার্জি ফুস হয়ে গেল? এইটুকু ঠান্ডাতেই কুপোকাত?
খুশি নিজের এটিটিউট ধরে রাখার প্রবল প্রচেষ্টা চালিয়ে বললো।
–মোটেই না।এটা কোন ব্যাপার হলো? এইটুকু ঠান্ডা তো আমার কাছে কিছুই না।
–ইয়া শিওর। আই ক্যান সি দ্যাট।
প্রহর পুলে নেমে খুশিকে ছেড়ে দিতে নিলেই খুশি প্রহরের গলা আরও শক্ত করে ধরে তড়িঘড়ি করে বললো।
–আরে আরে কি করছ? আমি সাঁতার জানি না ডুবে যাবো তো।
প্রহর ভ্রু কুঁচকে বললো।
–হোয়াট? তুমি সাঁতার জানো না? আর সাঁতার জানো না তাহলে পুলে নামার জন্য এতো লাফাচ্ছিলে কেন?
–ওমা সাঁতার না জানলে পুলে নামা যাবে না এমন কোন নিয়ম আছে নাকি? আর তাছাড়া তুমিতো আছোই। তুমি থাকতে আমার সাঁতার জানার কি দরকার?
–অবশ্যই দরকার আছে। প্রত্যেকটা ব্যাক্তিরই সাঁতার জানা অতি অবশ্যক। যাতে কখনো কোন বিপদে পড়লে নিজেকে রক্ষা করতে পারো।
–আচ্ছা তাহলে তুমি শিখিয়ে দাও।
প্রহর খুশির দুই পা নিজের কোমড়ের সাথে পেঁচিয়ে খুশিকে মুখোমুখি করে কোলে বসালো। তারপর বলে উঠলো।
–আগে ডুবে যাওয়া তো শেখো। তারপর নাহয় সাঁতার শিখো।
প্রহর খুশির সাথে লিপলক করে খুশিকে নিয়ে পানির মাঝে ডুব দিলো। সচ্ছ পানির গভীরতায় সিক্ত করলো নিজেদের। খুশি এই প্রথম এভাবে কোন পানিতে নেমেছে। প্রথমবার হওয়ায় খুশি একটু ভয় পেয়ে প্রহরকে শক্ত করে জাপটে ধরলো। তবে কিছু মুহূর্ত অতিবাহিত হতেই খুশির ভয় কমে এলো। প্রিয়তমের সাথে এই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত টাকে সানন্দে অনুভব করছে। মনে হচ্ছে কোন অজানা সুখের রাজ্যে ভাসছে তারা। কিছুক্ষণ পরেই আবার খুশিকে নিয়ে পানির ভেতর থেকে মাথা তুললো প্রহর। দুজনেই হাঁপাচ্ছে। ঠোঁটে ভাসছে তৃপ্তির হাসি। এই অনাবিল সুখের মুহূর্ত দেওয়ার জন্য খুশিও প্রহরকে রিটার্ন গিফট দিতে পিছু পা হলো না। প্রহরের অধরে নিজের অধরের মধু ঢেলে দিলো। প্রহরও সেটা সাদরে গ্রহণ করে নিলো। চুম্বন ক্রিয়া শেষে খুশি প্রহরের কপাল থেকে গাল পর্যন্ত তর্জনী আঙুল টা স্লাইড করে আবেদনময়ী হাসি দিয়ে বললো।
♬ সুইমিং পুল মে নাহাকে, অরভি নামকিন হো গায়ে হো
হেঁসে দিল প্রহর। খুশিকে নিয়ে আরও কিছুসময় পুলের মাঝে নানারকম লীলায় মেতে উঠলো। খুশিকে পিঠে চড়িয়ে সাঁতার কাটছে প্রহর।ওদের দুজনের এই প্রেমলীলা যে আরও এক ব্যাক্তি দেখছে সেটার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই ওদের। দুরবিনের সাহায্যে নজর রাখছে ওদের ওপর। ওদের দুজনের এই প্রেমলীলা তার ভেতরের আগুনে যেন ঘী ঢেলে দিচ্ছে। প্রহর খুশির এতো সুখ তার শরীরে কাঁটার মতো বিঁধছে। সে মনে মনে পণ করছে ওদের এই সুখ বেশিক্ষণ টিকতে দিবেনা সে। কিছুতেই না।
___
ওরা কিছুক্ষণ রেস্ট করে সবাই আবার নিচে নেমে এলো খাওয়া দাওয়া করতে। লাঞ্চ করার জন্য ফুড কর্ণারে এলো ওরা। চারজন এসে একটা টেবিলে বসলো। মেনু কার্ড দেখে কিছু সামুদ্রিক মাছের আইটেম অর্ডার করলো। খাবার আসতে আসতে ওরা নিজেদের মাঝে আড্ডা জুড়ে দিলো।ওদের খাবার টেবিলের কিছুটা দূরেই রয়েছে রিসোর্টের বিশাল সুইমিং পুল। যেখানে অনেক লোক সুইম করছে। কথার মাঝেই ফাহিমের নজর গেল সেদিকে। ফরেনার মেয়েরা সব বিকিনি পরে সুইমিং পুলে নেমেছে। প্রহর সেটা দেখে বাঁকা হেসে বললো।
–আই মাস্ট সে প্রহর সেই একটা ফাস্টক্লাস জায়গা সিলেক্ট করেছিস তুই। চারিদিকে খালি ভিউ আর ভিউ।
ফাহিমের কথায় তিশা ভ্রু কুঁচকে পাশে তাকালো। ফাহিমের এতো মুগ্ধতার কারণ বুঝতে পারলো সে। দাঁত কিড়মিড় করে ফাহিমের পায়ে পাড়া দিয়ে বললো।
–তোমার নজর আজকাল বেশিই চলছে। বলোতো একেবারে অন্ধ করে দেই কি বলো?তখন শুধু চোখের সামনে তারা ঝিলমিল করবে। ভালো হবে না বলো?
ফাহিম জোরপূর্বক হেসে বললো।
–না না থাক তোমার এতো কষ্ট করার কি দরকার? এইযে আমি কালো চশমা পরে নিলাম।
ফাহিমের অবস্থা দেখে খুশি তিশার উদ্দেশ্যে বললো।
–বাহ্ তিশা এই না হলো বাঙালি নারী,যার ষোলকলা ভারী।
আড্ডার মাঝেই খাবার চলে এলো। হাসিখুশির মাধ্যমে ওরা খাবার খেয়ে নিলো। সেই অজানা ব্যাক্তি ওদের সব গতিবিধির ওপরই নজর গেড়ে আছে। কখন কি করছে না করছে সবই পর্যবেক্ষণ করছে। ব্যাস সঠিক সুযোগের অপেক্ষা করছে সে।
খাওয়া শেষে প্রহর বললো।
–আচ্ছা শোন আজকে যেহেতু জার্নি করে এসেছি। আর বেলাও তেমন হাতে নেই। তাই আজকে আর দূরে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। সামনের পিরেবেরের বিচটাই একটু ঘুরে আসি। কাল নাহয় অন্য কোথাও যাবো।
ফাহিম বলে উঠলো।
–জো হুকুম বস।
কিছুক্ষণ পরেই ওরা বিচের উদ্দেশ্যে বের হলো। আর ওদের পিছে গেল সেই অজানা ব্যাক্তি।
__
পিরেবেরের বিচে হাঁটছে ওরা।মাথার ওপরে বিশাল সীমাহীন নীল গগনতলে খুশির হাত ধরে বালুর চাদরে হাঁটছে প্রহর। পাশেই অসীম নীল সমুদ্রের জলরাশির অশান্ত কলতান। আর তার সাথে তাল মিলিয়ে চলছে শীতল পবন। সবমিলিয়ে যেন এক অতুলনীয় দৃষ্টিনন্দিত পরিবেশ। জায়গায় জায়গায় উঁচু উঁচু নারিকেল গাছের সারি।আবার কোথাও কোথাও বালির তৈরী সুন্দর সুন্দর মূর্তি। জায়গায়টা প্রায়ই বাংলাদেশের কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মতোই। সবকিছুই অতি মনোমুগ্ধকর। তবে এসবের মাঝে একটা জিনিসই দৃষ্টিকটু লাগছে খুশি আর তিশা দুজনের কাছেই। সেটা হলো বিচের মেয়েগুলো। সবগুলো বিকিনি পরে কেমন বেশরমের মতো এখানে ওখানে ছড়িয়ে আছে। খুশির কেমন রাগ লাগছে। এসব দেখলে যেকোনো ছেলেদেরই নজর খারাপ হবে। তবে প্রহরের দিকে তাকাতেই খুশির সব রাগ হাওয়ায় উড়ে গেল। আনি শুধু শুধু রাগছি। আমার প্রহরের নজর তো শুধু ওর খুশিতেই আবদ্ধ। এইযে কি সুন্দর মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। এইসব পেত্নীদের দেখার সময় আছে নাকি ওর। খুশি ঠোঁটে প্রাপ্তির হাসির রেখা টেনে দু’হাতে প্রহরের বাহু জড়িয়ে ধরে কাঁধে আলতো করে মাথা এলিয়ে দিলো।
কিছুক্ষণ হাঁটার পর ওরা সিবোটে উঠে কিছুক্ষণ সমুদ্রের সওয়ারী করলো। সন্ধ্যার সূর্য ঢলে পড়তেই ওরা আবারও রিসোর্টে ব্যাক করলো। রিসোর্টে ফিরে কিছুক্ষণ রিসোর্টের পুল সাইডে বসে আড্ডা দিলো ওরা। হঠাৎ প্রহরের অফিসের একটা ফোন আসায় প্রহর ফোনে কথা বলায় ব্যাস্ত হয়ে পড়লো।তখনই তিশারও ওয়াশরুমে যাওয়ার দরকার পড়লো। তাই সে ফাহিমকে সাথে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে গেল। প্রহর এখনো কথা বলে যাচ্ছে। খুশি বোর হয়ে উঠে একটু পুলের কাছাকাছি এগিয়ে গেল। হাতে একটা ককটেলের গ্লাস। গ্লাসের মাঝে রাখা ছাতার মতো পাইপটা ঘুরাতে ঘুরাতে হাঁটছে খুশি। হঠাৎ একটা অপরিচিত এক লোক এসে বললো ম্যাম আপনার হাসব্যান্ড আপনাকে ডেকেছে। খুশি ভ্রু কুঁচকে পেছনে তাকিয়ে দেখলো ওখানে প্রহর নেই। প্রহরকে না দেখে খুশি লোকটার কথায় বিশ্বাস করে নিলো। খুশি বললো।
–কোথায় ডেকেছে।
লোকটা হাতের ইশারায় রিসোর্টের কর্ণারের দিকে দেখিয়ে বললো ওইযে ওইখানে আছে। খুশি লোকটার ইশারা অনুযায়ী সেদিকে এগিয়ে গেল। কর্ণারের দিকে আসতেই হঠাৎ ওখানকার সব লাইট বন্ধ হয়ে। খুশি একটু ঘাবড়ে গেল।ভীতু কন্ঠে বললো।
–প্রহর? তুমি কি আছ এখানে? প্রহর?
হঠাৎ ওর সামনে কালো কোটওয়ালা মাথায় হুডি পড়া কেউ এসে দাঁড়াল ওর সামনে। লোকটার মুখের ওপর লাল আলো পড়লো। আর আলো পড়তেই লোকটার ভয়ংকর মাস্ক পড়া মুখটা দৃশ্যমান হলো খুশির সামনে। হঠাৎ করে এমন ভয়ংকর দৃশ্য দেখে খুশির ভয়ে কলিজা কেঁপে উঠল। মুখ দিয়ে আওয়াজ বের করারও শক্তি পাচ্ছে না ও। তখনই ঘটলো আরও ভয়ংকর ঘটনা। ওই ভয়ংকর লোকটা এবার ধারালো এক ছুরি বের করে খুশির দিকে তাক করলো। খুশির এবার ভয়ে আত্মা বেড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম। আতঙ্কে দম বন্ধ হয়ে আসছে ওর। অনেক চেষ্টা করে শেষমেশ চিৎকার দিতে সক্ষম হলো সে। দুই চোখ খিঁচে নিয়ে গলা ছেড়ে একটা চিৎকার দিলো খুশি।
–আআআআআআ!!
প্রহর ফিরে এসে কাউকে না দেখে ভ্রু কুঁচকে আসলো ওর। ফোনের নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় একটু দূরে গিয়েছিল কথা বলার জন্য।যাওয়ার আগে তো খুশিকে পুল সাইডেই দেখেছিল। তাহলে আবার কোথায় গেল। প্রহর ফোন করলো খুশির নাম্বারে। দেখলো টেবিলের ওপরই খুশির ফোন বাজছে। প্রহর এবার একটু ঘাবড়ে গেল। খুশি ফোন রেখে কোথায় চলে গেল? একটু পরে ওখানে ফাহিম আর তিশাও চলে এলো। ওদের সাথেও খুশিকে না দেখে প্রহরের চিন্তা হতে লাগলো। ওরা সবাই এদিক ওদিক খুশিকে খুঁজতে লাগলো। তখনই হঠাৎ কর্ণারের সাইড থেকে খুশির চিৎকার শুনতে পেল প্রহর। হৃদপিণ্ড কেঁপে উঠল ওর।ভয়ে কুঁকড়ে উঠলো মন। খু খুশি,, এটাতো খুশির আওয়াজ। খুশিইইইই…. উচ্চস্বরে ডাকতে ডাকতে সেদিকে ছুটে এলো প্রহর। এসে দেখলো খুশি চোখ বুজে দুই হাতে মাথা চেপে ধরে চিৎকার করছে। প্রহর আৎকে উঠে ছুটে এলো খুশির কাছে। দুই হাতে খুশির মুখটা ধরে ভয়ার্ত কন্ঠে বললো।
–হেইই খুশি,, কি হয়েছে তোমার? তাকাও সোনা।
প্রহরের কন্ঠ শুনে চোখ মেলে তাকালো খুশি। প্রহরকে দেখে জাপটে ধরলো ওকে।সারা শরীর থরথর করে কাপছে ওর। আতঙ্কিত কন্ঠে বললো।
–প প প্রহর ও ও ওই…
অতিরিক্ত ভয়ের কারণে খুশি কথাও বলতে পারছেনা।খুশিকে এভাবে ভয় পেতে দেখে প্রহর ঘাবড়ে গেল। আবারও খুশির মুখটা ধরে বললো।
–হুশহুশ শান্ত হও প্লিজ। কি হয়েছে আমার সোনাটা? এমন করছ কেন তুমি? আর এখানে কেন এসেছ তুমি?
খুশি কোনরকমে নিজেকে একটু শান্ত করে বললো।
–এ একটা লোক এসে বললো তু তুমি নাকি আমাকে ডাকছো। আমি এখানে আসতেই ও ওই ভয়ংকর লোকটা আ আমাকে ছুরি দিয়ে মা মারতে চাচ্ছিল। এ এখানেই ছিলো ওই ভয়ংকর লোকটা।
প্রহর ভ্রু কুঁচকে বললো।
–ভয়ংকর লোক? কোথায়? এখানে তো কাওকেই দেখলাম না। আমার মনে হয় তোমার কোন ভ্রম হয়েছে। তুমি হয়তো অন্যকিছু দেখে ভয় পেয়েছ।
–না না আমি সত্যিই দেখেছি। অনেক ভয়ংকর ছিলো লোকটা। আমার ভয় করছে প্রহর। ও আমাকে মেরে ফেলবে।
প্রহর খুশিকে বুকের মাঝে জড়িয়ে নিয়ে বললো।
–শুশ আমার জানপাখির গায়ে কেউ হাত দিতে পারবেনা। আমি আছি না? আমি থাকতে কেউ তোমাকে ছুতেও পারবেনা। ভয় নেই কোন। প্লিজ এখন শান্ত হও একটু। এতো স্ট্রেস তোমার শরীরের জন্য ঠিক না।
প্রহর খুশিকে কোলে তুলে নিল। খুশি ভয়ে একেবারে প্রহরের বুকের মাঝে মুখ লুকিয়ে ফেললো। প্রহরের খুব চিন্তা হচ্ছে। কি এমন দেখলো খুশি? ও যা দেখেছে তাকি সত্যি? নাকি কোন ভ্রম হয়েছে ওর?
প্রহর আর খুশিকে এভাবে দেখে সেই অজানা ব্যক্তি সয়তানি হাসি হাসছে। ওদের এই করুন চেহারা দেখে তার কলিজা যেন ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। কেবলতো মাত্র শুরু। আগে আগে দেখো হোতা হে কেয়া? লাইফ হেল করে দেবো তোমাদের।
চলবে….
#অন্তঃকরণে_তোরই_পদচারণ
#পর্ব-৩৩
#লেখিকা-মেহরুমা নূর
★সকাল বেলার শিরশিরানি বাতাসের শীতলতা ছুয়ে দিলো খুশির মুখমণ্ডল। আস্তে করে আঁখি যুগল মেলে তাকালো সে। প্রহরকে বিছানায় দেখতে পেল না। ভাবলো হয়তো উঠে গেছে। কালকের ওই ঘটনার পর খুশি প্রচুর ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সারারাত প্রহরের বুকের মাঝে লুকিয়ে ছিলো। একটুর জন্যেও প্রহরকে কোথাও যেতে দেয়নি ও। খুশি আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো। তখনই প্রহর হাতে ট্রে নিয়ে রুমে ঢুকলো। প্রফুল্লতার সহিত বলতে লাগলো।
–আমার খুশিরাণীর ঘুম ভেঙেছে বুঝি? এই দেখ তোমার ডিয়ার হাসব্যান্ড তার বউয়ের খিদমতে হাজির হয়ে গেছে। পেশ হে তোমার জন্য ফ্রেশ ফ্রেশ ব্রেকফাস্ট।
ট্রেটা বেডের ওপর রেখে খুশির সামনে এসে বসলো প্রহর। কপালে চুমু একে দিয়ে বললো।
–চলো তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট সেরে নাও। তারপর আমরা বের হবো কেমন?
খুশির খুব খারাপ নিজের কাছে। প্রহর ওকে এখানে এনেছে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর জন্য। আর আমি কিনা সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে এভাবে ওকে টেনশনে ফেলে দিয়েছি। না না এটা একদম ঠিক না। আমি প্রহরকে আর কোন টেনশন দিবোনা। কথাগুলো ভেবে খুশি হাসিমুখে প্রহরের গলা জড়িয়ে ধরে বললো।
–গুড মর্নিং মাই হ্যান্ডসাম হাবি। ভাবছি আজ বাইরে না গেলে কেমন হয়? তুমি আমি আর এই হানিমুন সুইট। ব্যাপার টা কেমন হবে?
প্রহর খুশির কোমড় জড়িয়ে ধরে বললো।
–আই থিংক ইটস আ গ্রেট আইডিয়া। উই শুড গো ফর ইট।
খুশি প্রহরের কপালে কপাল ঠেকিয়ে হাসলো। সাথে হাসলো প্রহরও। তারপর বললো।
–বাচ একটাই সমস্যা। ফাহিমদের কি বলবো? এখন সবারতো আর তোমার মতো এতো ইনটেলিজেন্ট বউ নেই। ওদের মাথায় তো আর এই গ্রেট আইডিয়া টা নাও আসতে পারে।
–হুম তাও ঠিক। সবাই তো আর খুশি না। ঠিক আছে তাহলে ওদের মন রাখতে বাইরে যাবো। কি আর করার?
প্রহর হেঁসে দিয়ে খুশিকে কাতুকুতু দিতে দিতে বললো।
–তাই না??
খুশি খিলখিল করে হাসছে আর মোচড়ামুচড়ি করছে।
__
আজ ওর প্রথমে “গ্রান্ড বে” বিচে এলো। মরিশাস দ্বিপের চারপাশে শুধুই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্যে ভরপুর। যতদূর চোখ যায় শুধুই নীল রুপে রুপান্বিত। এই অসীম সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা হয়তো অসম্ভব। “গ্রান্ড বে” বিচও তেমনি আরেকটি অপরুপ প্রকৃতির নিদর্শন। মরিশাসের উওরে অবস্থিত মরিশাসের অন্যতম সৈকত হিসেবে পরিচিত। প্রহররা কিছুক্ষণ পূর্বেই এসে পৌঁছেছে এখানে। সৈকতের সৌন্দর্যে মোহিত হচ্ছে সবাই। নীল স্বচ্ছ পানির মাঝে পা ডুবালো খুশি। সুইমিং পুলের পানির চেয়েও স্বচ্ছ সুন্দর পানি। পানির নিচের সবকিছু পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। এ যেন এক অভূতপূর্ব অনুভূতি। পাশেই প্রহর খুশির হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আজ আর খুশিকে সে এক মুহূর্তের জন্যেও একা ছাড়বে না। গতকালের ভুলের পুনরাবৃত্তি কোনমতেই করবে না সে।
পানিতে কিছুক্ষণ ঘোরার পর। ওরা এখানেও সি বোটে উঠলো। বোটে চড়ে গভীর নীল লেগুন প্রদক্ষিণ করছে। বোটে ঘুরতে ঘুরতে ওরা পোর্ট লুইস আর পর্বতমালারও প্রদক্ষিণ করলো। ঘোরা শেষে ওরা সমুদ্র কিনারে সারি করা ছোন পাতার গোল গোল ছাউনির নিচে এলো। ওখানে টেবিল চেয়ার রাখা আছে। ওর এসে চেয়াগুলোতে বসলো। ওখানেই হালকা কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিলো। খাওয়া দাওয়া শেষে একটু রেস্ট নিয়ে আবার বেড়িয়ে পড়লো ”
ওদের সাথে সাথে চলছে সেই অজানা ব্যক্তি। ওদের সব গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর তার। সঠিক সুযোগের অপেক্ষা করছে সে।
প্রহররা এবার এলো “গ্রান্ড বের আরেকটি অপরুপ সৈকত “লা কুভেটে। এটিও অসীম সৌন্দর্য বহনকৃত এক রূপবতী সৈকত। সমুদ্রের তীরে এবং পানির মাঝে জমা আছে হাজারো পাথরের মেলা। খুশি প্রহরের আর তিশা ফাহিমের হাত ধরে পানির মাঝে সেই পাথরের উপর এসে দাঁড়াল। পাথর গুলো অনেক পিচ্ছিল হয়ে আছে। স্বচ্ছ জলরাশির মাঝে পাথর আর শৈবাল গুলো দেখতে অপূর্ব লাগছে। পানির উত্তাল ঢেউ এসে পায়ের কাছে আছড়ে পড়ছে। এক অবিস্মরণীয় অনুভূতি হচ্ছে ওদের।
সারাদিন আরও কিছু দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়ালো ওরা। তারপর সন্ধ্যার একটু আগে “পিরেবেরে” বিচের “পয়েন ডি আজুরে এলো সূর্যাস্ত দেখতে। সীমাহীন নীল সুস্পষ্ট জলরাশি আর পাথরে ঘেরা আরেকটি প্রকৃতির অপরুপ নিদর্শন হলো এই স্থানটি। অপরিসীম সৌন্দর্যে সমন্বিত এই জায়গার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিলো সূর্যাস্তের রক্তিম আভা। চারিদিকে কমলা আলোর ঝলকানি দিয়ে বিশাল থালার মতো সূর্য টা ঢলে পড়ছে সমুদ্রের গহ্বরে। প্রহর এসে পেছন থেকে খুশিকে বাহুডোরে আবদ্ধ করে নিলো। দুজন সাক্ষী হলো এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের। ফাহিমও পিছিয়ে রইলোনা। প্রহরের দেখাদেখি সেও তিশাকে জড়িয়ে ধরলো। সূর্যাস্ত শেষে ওরা আবারও রিসোর্টে ফিরে এলো। সাথেই ফিরলো সেই অজানা ব্যক্তি। আজ সারাদিন কোন সুযোগ পায়নি নিজের কার্য প্রতিফলন করার। প্রহর এক সেকেন্ডের জন্যেও খুশিকে হাত ছাড়া করেনি। তবে সেও এতো সহজে ছাড়বে না। ওদের এই সুখ দুঃখে পরিনত করেই ছাড়বে।
ডিনার শেষ করে প্রহর আর ফাহিমরা নিজেদের রুমে এলো। ফাহিম রুমে আসতেই দরজা আটকে দিয়ে তিশার হাত টেনে ধরলো। তিশা ভ্রু কুঁচকে বললো।
–কি হয়েছে? টেনে ধরলে কেন?
ফাহিম দুষ্টু হেসে বললো।
–কারণ আজ খেলা হবে।
তিশা ভ্রু কুঁচকে বললো।
–খেলা? কি খেলা?
–ফুটবল, বলিবল,সব ধরনের খেলাই চলবে। এখানে আসার পর থেকে আমরা একবারও রোমান্টিক কোন কিছু করতেই পারিনি। রোজ তুমি ঘুরে ঘুরে এসে টায়ার্ড হয়ে শুয়ে পড়ো। আরে খুশি ভাবির কাছ থেকে কিছু শেখ। ওরা কতো রোমান্টিক ব্যাপার স্যাপার করে।ওদের রোমাঞ্চের চিহ্ন গুলো প্রহরের শরীরে বিদ্যমান দেখা যায়। আর এক তুমি। হানিমুনে এসেও ঘুমাও। এটা কোন কথা? তাই আজ নো ঘুমানো। ওনলি রোমাঞ্চ এন্ড রোমাঞ্চ। আমিও আমার শরীরে এমন চিহ্ন চাই। দেখ আমি তোমার জন্য কিছু এনেছি।
ফাহিম লাগেজের ভেতর থেকে একটা প্যাকেট বের করে এনে তিশার হাতে দিয়ে বললো।
–এটা তোমার জন্য। প্লিজ এটা পড়ে এসোনা?
তিশা প্যাকেট খুলে দেখলো একটা লাল রঙের শিফন জর্জেটের নাইটি। তিশা চোখ মুখ নাইটিটা বেডের সাথে ছিটকে ফেলে দিয়ে বললো।
–ছিহ্হ,, এটা কি? এসব আমি পড়বো? কিছুতেই না।
ফাহিম অনুনয়ের সুরে বললো।
–আরে ছিহ এর কি হলো? এটাতো সবাই পড়ে। প্লিজ একবার শুধু আমার জন্য পড়োনা? প্লিজ প্লিজ প্লিজ..
ফাহিমের জোরাজুরিতে তিশাও আর মানা করতে পারলোনা। ওর মন রাখতে তিশা নাইটি টা নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। ফাহিম এদিকে এক্সাইটেড হয়ে লাফাতে লাগলো। আজতো খেলা জমবে খুব। তিশা আসতে আসতে ফাহিম এক্সাইটমেন্টে নিজের প্রায় অর্ধেক জামাকাপড় খুলে ফেললো। বিছানার উপর ফুলের পাপড়ি বিছিয়ে দিলো। তারপর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো তিশার। কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে ফাহিম অতি উৎসাহ নিয়ে সেদিকে তাকালো। তবে তিশাকে দেখে ওর সব উৎসাহ ফাটা বেলুনের মতো ফুসস হয়ে গেল। তিশা কামিজের ওপর দিয়েই নাইটি টা পরিধান করেছে। তিশার আউট অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড ড্রেসিং সেন্স দেখে ফাহিম বেচারা হতবিহ্বল হয়ে গেল।তিশা মৃদু পায়ে এগিয়ে এসে বললো।
–সরি আসলে আমার খুব লজ্জা করছিল। তাই এভাবেই পড়েছি।
ফাহিম নিজেকে কোনরকমে সামলে নিয়ে বললো।
–আচ্ছা থাক বাদ দাও। তুমি আছ আমি আছি আর কি চাই। লেটস ডু সাম এ্যাকশন বেবি।
ফাহিম ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো তিশার কাছে। মাথা ঝুকিয়ে তিশার ঠোঁটের দিকে এগুলো সে। তিশার ঠোঁট প্রায় ছুঁইছুঁই তখনই ফাহিমের রোমাঞ্চে এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে তিশার ফোনটা তীব্র আওয়াজে বেজে উঠলো। তিশা দ্রুত ওখান থেকে সরে গিয়ে ফোনটা ধরলো। ফাহিম বেচারা চুমু খেতেই যাচ্ছিলো সেই মুহূর্তে তিশা সরে যাওয়ায় ফাহিম পড়ে যেতে যেতে কোনরকমে নিজেকে বাঁচালো। পেছনে তাকিয়ে দেখলো তিশা ফোনে কথা বলছে। তিশার মা ফোন করেছে। এই কনভোকেশন যে কতো ঘন্টা চলবে তার ঠিকানা নেই। ফাহিমের এখন হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কারোর শাশুড়ী যে মেয়ের জামায়ের রোমাঞ্চের দুশমন হতে পারে তা তিশার মাকে না দেখলে জানতোই না। যখনই একটু দুজন রোমাঞ্চ করতে নেয় ঠিক তখনই ওনার ফোন আসা লাগে। আর তিশাও তখন দুনিয়া দাড়ি ভুলে ঘন্টার ঘন্টা আলাপ শুরু করে দেয়। কিন্তু আজ আর তা হতে দিবেনা।
ফাহিম এগিয়ে গেল তিশার কাছে। চোখের ইশারায় ফোন রাখতে বললো। তিশাও আঙুল দেখিয়ে বুঝালো একটুখানি। কিন্তু এই একটুখানি সময় আর শেষ হচ্ছে না। ফাহিম এবার তিশাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে তিশার ফোনালাপের মাঝেই ওর সাথে দুষ্টুমি শুরু করে দিলো। তিশা বারবার চোখ গরম করে দেখাচ্ছে। কিন্তু কিছুই মানছে না ফাহিম। অনেকক্ষণ পর শেষমেশ তিশা ফোনালাপ শেষ করলো। ফাহিম ভাবলো এবার নিশ্চয় রোমাঞ্চ জমবে। ফাহিম আবারও তিশার অধরপানে এগুলো। তখনই হঠাৎ তিশা বলে উঠলো।
–আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসছি প্লিজ।
ফাহিম বেচারা আবারও হতাশ হলো।তবে আশা ছাড়লোনা।তিশার ওয়াশরুম থেকে ফিরে আসার অপেক্ষা করছে সে। তিশা ফিরে আসলেই ফাহিম ওর রোমাঞ্চ আবারও রিজুম করবে। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিশা বেড়িয়ে এলো ওয়াশরুম থেকে। ফাহিম টেবিলের ওপর থাকা ফুলদানি থেকে একটা লাল গোলাপ তুলে নিল। ফুলের ডাটিটা দাঁতের দুই পাটির মাঝে কামড় দিয়ে ধরে রোমান্টিক মুডে এগুলো তিশার দিকে। তিশার কাছে এসে এক হাতে তিশার কোমড় পেঁচিয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে নিলো। দাতের মাঝে থাকা ফুলটা এবার বের করে তিশার কপাল থেকে গাল পর্যন্ত ফুল দিয়ে স্লাইড করলো।অতঃপর আবারও নিজের মিশনে অগ্রসর হলো। তবে এবারও ওর মিশন নাকামিয়াব করে দিয়ে তিশা বলে উঠলো।
–আমার পিরিয়ড শুরু হয়ে গেছে। সরি..
বেচারা ফাহিম এতবড় পরাজয় মেনে নিতে পারলোনা।ঠাস করে জ্ঞান হারিয়ে ঠুস করে পড়ে গেল।
___
রাতের আকাশে তাঁরারা ঝলমল করছে। জানালা ভেদ করে আসছে ভরা জোছনার রুপালী আলো। ঘড়ির কাঁটা গিয়ে ঠেকেছে রাত দশটায়। প্রহর বসে ফোনে কিছু ইমেইল চেক করছে। খুশি ওয়াশরুমে ঢুকেছে অনেকক্ষণ হলো।এখনো বের হওয়ার নাম নেই। কি করছে কে জানে? পাগলিটার মাথায় কখন কি চলে তা জানা মুশকিল। তবে ওর এই পাগলামু গুলোই প্রহরকে আনন্দঘন মুহূর্ত এনে দেয়। খুশির হাসিখুশি প্রাণচঞ্চলতাই প্রহরের সুখী জীবনের মূলমন্ত্র।
খট করে দরজা খোলার শব্দে ফোন থেকে মাথা তুলে সামনে তাকালো প্রহর। তাকাতেই চোখের নজর সহ সব ইন্দ্রিয় গুলো আবদ্ধ হয়ে গেল সামনের মহীয়সী রমনীতে।ওর সামনে পিংক নাইট ড্রেস পরিধানরত খুশি নামক এই আবেদনময়ী নারীর মায়াজালে নিজের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছে প্রহর। নাইট ড্রেস টার ঝুল হাটুর উপর পর্যন্ত। প্রহর ভেবে পায়না একটা নারীই আর কতবার ঘায়েল করবে ওকে। ওতো কবেই এই নারীতে নিজেকে বিলীন করে দিয়েছে।
খুশি মায়াবী হাসির রেখা টেনে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো প্রহরের কাছে। প্রহরও মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে এলো খুশির দিকে। খুশির কাছে এসে ওর সাথে আলিঙ্গন করতে নিলেই খুশি আবেদনময়ী হাসি দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে প্রহরকে পেছনের সোফায় ফেলে দিলো। হেঁসে উঠলো প্রহর। খুশি প্রহরের মুখোমুখি হয়ে ওর কোলে বসলো। হাতের দুই আঙুল দিয়ে বন্দুকের মতো বানিয়ে প্রহরের থুতনির নিচে ঠেকিয়ে বলে উঠলো।
–দ্যা খুশি তোমাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।পালানোর পথ খোলা নেই। বাঁচতে চাইলে আত্মসমর্পণ করো। নিজেকে আমারে কাছে সঁপে দাও। নাহলে চুমু চালাতে বাদ্ধ হবো।
প্রহর হাসলো কিছুক্ষণ। তারপর খুশির কোমড়ে রাখা হাতের বাঁধন আরও মজবুত করে বললো।
–আমি আত্মসমর্পণ করবোনা। আপনি আপনার হুমকি কার্যকর করুন।
খুশি তার হুমকি কার্যকর করা আরম্ভ করলো। প্রহরের শার্টের বোতাম খুলে প্রহরের গলা আর বুকে শুরু করলো চুমুর তীর চালানো। প্রহর ভাসছে অনাবিল সুখের সাগরে। খুশির অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও। আর পারছে না। এবার সেও পাল্টা আক্রমণ করবে। প্রহর আকড়ে ধরলো খুশির অধরযুগল। ওভাবে খুশিকে কোলে নিয়েই এগুলো বিছানার দিকে।
___
পরম শান্তি সুখের আবেশে প্রহরের বুকে মিশে ঘুমিয়ে আছে খুশি। দুজনের মুখমন্ডলে ভাসছে অসীম সুখের প্রচ্ছায়া। যেন এদের চেয়ে সুখী দুনিয়াতে আর কেই নেই। আর ওদের এই সুখ কারো চোখে বিষাক্ত কাটা হয়ে বিঁধছে। ওদের এই সুখ সে কিছুতেই সহ্য করতে পারছে না। কেড়ে নিবে ওদের সব সুখ। কিছুতেই ওদের কে সুখে থাকতে দিবেনা।
সকালের মিষ্টি রোদ রুমে ঢুকে ঘরময় আলো ছড়িয়ে দিলো। ঘুমের লেশ কেটে মুচকি হাসির রেখা ঠোঁটে এনে ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকালো খুশি। তবে চোখ খুলে যে এমন কিছু দেখতে হবে তা স্বপ্নেও ভাবেনি খুশি। বিছানায় প্রহরের জায়গায় রক্তে রঞ্জিত প্রহরের শার্ট পড়ে থাকতে দেখে খুশির অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল। ঠাস করে উঠে বসলো ও। শার্টের ওপর রক্ত মাখা ছুরি দেখে চোখের সামনে পৃথিবী ঘুরে উঠলো ওর। হঠাৎ কেমন বোধশক্তিহীন হয়ে পড়লো খুশি। হাত পা থরথর করে কাঁপছে। ও নিশ্চয় কোন খারাপ স্বপ্ন দেখছে। এটা সত্যি হতে পারে না। কিছুতেই না। প পপ্রহর?? প্রহর কোথায়? আ আমার প্রহর কোথায়?? ভয়ে নিঃশ্বাস আটকে আসছে খুশির। খুশি অনেক কষ্টে চোখ বন্ধ করে চিৎকার করে প্রহরকে ডাকলো।
–প্রহররররররর…..
প্রহর ওয়াশরুমে শাওয়ার নিয়ে মাত্রই তোয়ালে পড়ছিল। তখনই হঠাৎ খুশির চিৎকার শুনে ঘাবড়ে গেল প্রহর। তড়িঘড়ি করে তোয়ালেটা পেঁচিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে এলো প্রহর। এসে দেখলো খুশি আবারও সেদিনের মতো ভয়ে চোখ বুজে চিৎকার করে যাচ্ছে। প্রহর দৌড়ে এলো খুশির কাছে। দুই হাতে খুশির মুখটা ধরে বললো।
–এই খুশি কি হয়েছে তোমার? এই দেখ আমি এখানে।
খুশি চোখ খুলে তাকালো। প্রহরকে দেখে ওর জানে পানি এলো। প্রহরকে জাপটে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো খুশি। প্রহর আরও ঘাবড়ে গেল। কি হলো ওর খুশিরাণীটার? সবতো ঠিকই ছিল। খুশি প্রহরের সারা মুখে পাগলের মতো চুমু খেয়ে অস্থির হয়ে বললো।
–তু তুমি ঠিক আছ? তোমার কিছু হয়নিতো?
–আমার কি হবে? আমি একদম ঠিক আছি? এই দেখ। কিন্তু তোমার কি হয়েছে? আর এভাবে কেন বলছ?
খুশি বিছানার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করে বলতে লাগলো।
–ও ও ওখানে…
বিছানার দিকে তাকাতেই কথা বন্ধ হয়ে গেল খুশির। কারণ বিছানা একদম পরিস্কার দেখা যাচ্ছে। একটু আগের কোনকিছুই নেই এখানে। কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব? প্রহর ভ্রু কুঁচকে বললো।
–কি হয়েছে খুশি? ওখানে কি?
–প্রহর এখানে এইমাত্র তোমার রক্ত মাখা শার্ট আর চাকু দেখেছি আমি। ঘুম থেকে উঠেই ওসব দেখলাম আমি। আ আমি ভেবেছি তোমার হয়তো কিছু…
–কিন্তু এখানে তো কিছুই নেই। আমার মনে হয় তুমি কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছ। ওটাকে সত্যি ভেবে ভয় পেয়ে গেছ।
খুশি কিছুই বুঝতে পারছে না। ওতো সত্যিই দেখেছিল। তাহলে সব গায়েব হয়ে গেল কিভাবে? নাকি প্রহর ঠিক বলছে? আমি কি কোন স্বপ্ন দেখেছিলাম? খুশি প্রহরকে জড়িয়ে ধরে বললো।
–তুমি আমাকো ছেড়ে আর কোথাও যেওনা প্লিজ। আমার অনেক ভয় করছে।
প্রহর খুশির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো।
–আমি এখানেই আছি আমার খুশিরাণীর কাছে। কোথাও যাবোনা। ভয়ের কিছু নেই।
খুশিকে শান্তনা দিলেও প্রহরের ভেতর ভেতর অনেক চিন্তা হচ্ছে। ওর খুশির হঠাৎ কি হয়ে গেল? এমন অদ্ভুত কথা বলছে কেন? ওর অপারেশনের কারণে মাথায় কোন সাইড ইফেক্ট হলো নাতো?
ওদের কে এভাবে অশান্তিতে দেখে অজানা ব্যক্তির মনে পরম শান্তি হচ্ছে। পরবর্তীতে সে এমন কিছু করবে যাতে এদের সুখ চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।
চলবে…..