অবশেষে তুমি পর্ব-২৮+২৯

0
777

#অবশেষে_তুমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_২৮
____________________
আযানের মধুর স্বর কানে আসতেই ঘুম ভাঙলো কাব্যর।নূরএখনো ঘুমাচ্ছে। মেডিসিনের এফেক্ট নাহলে তার আগে নূরেরই জাগার কথা।বেড থেকে নেমে ফ্রেশ হয়ে ওযু করে নামায পড়ে নিলো কাব্য।নামায শেষ করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো সে।একটু বাদেই হাতে দুই কাপ চা নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।

ঘুমের ঘোরে নূরের মনে হলো শূন্যে ভাসছে সে।কপালে ভাজ পড়লো তার। কথাটা মনে হতেই ফট করে চোখ খুললো সে।চোখ খুলেই নিজেকে কাব্যর কোলে আবিষ্কার করে অবাকের চরম পর্যায়ে।বিচলিত কণ্ঠে বললো –

-কি হয়েছে? কি করছেন আপনি?কোলে নিয়েছেন কেন সাত সকালে?

-হুঁশশ।

নূরকে কোলে নিয়ে ব্যালকনিতে যেয়ে দোলনায় বসিয়ে দিয়ে নিজেও বসে পড়ল কাব্য। নূরের হাতে এক কাপ চা দিয়ে নিজেও নিল এক কাপ।অতঃপর বললো-

-কয়েকদিন ধরে আমার স্নিগ্ধাবতীর সাথে চা খেতে খেতে সকালের স্নিগ্ধতা উপভোগ করিনা।তাই

হাসলো নূর।চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে বললো-

-ফ্রেশ হয়ে আসি

-তাড়াতাড়ি আসো।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে ই ফ্রেশ হয়ে আসলো নূর। দোলনায় বসে চায়ের কাপ টা নিয়ে চুমুক দিল তাতে।

তা দেখে কাব্য জিজ্ঞেস করলো-

-কেমন হয়েছে?

-চা আর চা যে বানিয়েছে দু’জন ই একেবারে পারফেক্ট।

মৃদু হাসলো কাব্য। একটু ভাব নিয়ে বললো-

-I know I’m perfect.

কাব্যর কথা শুনে মুচকি হাসলো নূর।তারপর পিনপতন নীরবতা দুজনের মধ্যে। নীরবতা ভেঙে নূর আনমনে ই বললো –

-আপনি এত ভালো কেন কাব্য

কাব্যর সোজাসাপটা জবাব –

-কারণ তুমি পরিমাণ থেকেও বেশি ভালো তাই ভালো মনে হয়।

মৃদু হাসলো দু’জনই।সকালের প্রকৃতি দেখতে ব্যস্ত হয়ে গেলো দুজনই।
.
.
-আর দু’টা দিন পর গেলে হয় না ছোট আম্মু।

উদাস কণ্ঠে মিসেস রাহেলা কে বললো নূর।মিসেস রাহেলা নূরের মাথায় হাত রেখে বললেন –

-নারে যেতে হবে।তোকে দেখার জন্য তাড়াহুড়ো করে চলে এসেছি।পরের বার আসলে সবকিছু গুছিয়ে টুছিয়ে আসবো।তখন না হয় থাকবো।তিশা আর ঈশার ভার্সিটি ও তো খোলা। পরীক্ষা শেষ হলে এসে থাকবে।

-আচ্ছা।

-হ্যা ভাবি মন খারাপ করোনা তো। আবার আসব তখন বেশিদিন থাকব।আর তোমরাও যাবে গিয়ে থেকে আসবে কয়টা দিন।(তিশা)

-ঠিক আছে।

সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন মিসেস রাহেলা,তিশা,ঈশা আর ইরাম।

নূর রুমে এসে বেডে বসতেই কাব্য আসলো রুমে।কাবার্ড থেকে জামা-কাপর নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো সোজা। ওয়াশরুমে থেকে বের হতেই নূর জিজ্ঞেস করলো-

-কোথায় যাচ্ছেন?

-অফিসে

-দুই দিন বাসায় থাকলে হয় না?বাসায় থেকে কাজ করবেন

-হবে না যেতে হবে আজকে।

-খুব জরুরি?

-হ্যা।

-ফিরবেন কখন?

-দেখি।তাড়াতাড়ি আসার চেষ্টা করবো।

-আচ্ছা।

টাইটা নূরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো –

-নাও।

বিনা বাক্যে হাতে নিয়ে সুন্দর করে পড়িয়ে দিল নূর।এবারো কাব্য কোমরে হাত রেখে উঁচু করেছে তবে এবার আর লজ্জায় মিয়িয়ে যায় নি নূর।টাই পড়িয়ে দিয়ে বেডে পা তুলে বসে বসে পর্যবেক্ষণ করছে কাব্যকে।তা দেখে কাব্য জিজ্ঞেস করলো-

-কি দেখছো?

মুখ ফসকে নূরের মুখ থেকে বেড়িয়ে গেল-

-আপনাকে।আপনি অনেক সুন্দর।

কথাটা বলে নিজেই থতমত খেয়ে গেল নূর। কি বলে ফেলেছে সে।কাব্যর দিকে তাকাতেই দেখলো সে মুচকি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

-আব,,ব কিছুনা আমি কিছু বলি নি।

-আমি শুনে ফেলেছি যা শোনার।

-কি শুনেছেন?

-কিছুনা।এদিকে আসো।

বেড থেকে উঠে কাব্যর সামনে যেয়ে দাঁড়ালো নূর।নূরের মুখখানা দু’হাতের আজলে নিয়ে কপালে চুমু খেয়ে বললো-

-আসি নিজের খেয়াল রেখো।টাইমলি মেডিসিন গুলো নিয়ো ফোন দিয়ে জানবো আমি।

মাথা নাড়ালো নূর।তাকে ছেড়ে দিয়ে হাতে ঘড়ি পড়তে নিল কাব্য। তখনই

-শুনুন।

-বলো

নূর পায়ের পাতায় ভর দিয়ে একটু উঁচু হয়ে কাব্যর কপালে চুমু খেয়ে বললো-

-সাবধানে যাবেন।আপনিও টাইমলি মেডিসিন আর লাঞ্চ করে নিবেন।ফোন দিব আমি।

কাব্য কিঞ্চিৎ অবাক হলো বটে তবে হাসি টেনে স্বাভাবিক স্বরে বললো-

-নিব।

এক হাতে জড়িয়ে ধরে পুনরায় বললো –

-আসি।

-আচ্ছা।
.
.
কাব্য চলে গেছে দুই ঘণ্টা প্রায়।নূর তন্নীর সাথে কথা বলছিলো এতক্ষণ। কিচেনেও একবার উঁকিঝুঁকি দিয়ে এসেছে কিন্তু মিসেস রেহেনা বকে পাঠিয়ে দিয়েছে রুমে।অগত্যা এখন একা একা রুমে বসে তারা গুনছে।’মুভি দেখলে কেমন হয়?’প্রশ্নটা মাথায় আসতেই ঠিক করলো মুভি ই দেখবে।খুজে খুজে একটা মুভি বের করে দেখা শুরু করলো।
.
.
দুপুর একটা প্রায়। অফিস থেকে ফিরে এসেছে কাব্য। নূরকে চমক দেয়ার জন্য ই তাড়াতাড়ি এসেছে কিন্তু রুমে এসে সে নিজেই চমকে গেলো। বেডে হাত পা ছড়িয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে নূর।কাব্য তড়িঘড়ি করে তার সামনে যেয়ে বসলো।জিজ্ঞেস করলো-

-কি হয়েছে? কাঁদছ কেন এভাবে?মাথা ব্যথা করছে?

নূর নাক টানতে টানতে বলল-

-না করছেনা

-তাহলে কাঁদছ কেন?

ফোনটা কাব্যর দিকে ঘোরালো নূর।স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে বরফের মধ্যে একটা ঘর মতো তার বাইরে কান্নারত অবস্থায় বসে আছে একজন ছেলে তার কোলে একটা মৃত কুকুর।

নূরের কান্নার কারণ বুঝলো কাব্য।বললো-

– এটার জন্য কান্না করছো?

-হ্যা জানেন চার্লি কত ভালো আর দেখতেও অনেক কিউট।আর ধার্মা ও তো অনেক আদর করে চার্লিকে। কিন্তু চার্লি ক্যান্সার হয়ে মারা যায়। এতটুকু বলেই আবার কান্না শুরু করলো সে।

কাব্য এই অবস্থায় কেমন রিয়েক্ট করা উচিত বুঝে উঠতে পারছেনা তাই চুপই রইলো ।একটা ছবি দেখেই এই অবস্থা। সাধে কি আর বাচ্চা বলে।

______________________
সময় বহমান।মানুষ আর তাদের কাজকর্ম থেমে থাকলেও সময় থেমে থাকে না কারো জন্য। সে তো তার মতোই চলতে থাকে।এরই মাঝে প্রায় কেটে গেছে পনেরো দিনের মতো।নূর এখন অনেকখানি ই সুস্থ।আজ দুই দিন ধরে ভার্সিটিতে যাচ্ছে নূর।তার সুস্থ হওয়ার অধিকাংশ ক্রেডিট ই কাব্যর।খাওয়া-দাওয়া, মেডিসিন, ঘুম,রেস্ট সব টাইমলি করিয়েছে।এর জন্য অবশ্য কাব্যর থেকে কম হুমকি ধামকি শুনতে হয় নি তাকে।তবুও তার এই হুমকি ধামকি গুলোই এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে নূরের।না শুনলে ভালো লাগেনা একদম।তা-ই তো মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে ই কিছু অনিয়ম আর ভুল করে। তার এই ছোট ছোট কেয়ার আর বকার মধ্যে ও যে আছে লুকায়িত ভালোবাসা।সেগুলো অনুভব করে প্রতিনিয়ত।আর কাব্য নামের পুরুষ কে প্রতি নিয়ত আবিষ্কার করে নতুন নতুন রুপে।কখনো রাগী,কখনো শান্ত স্বভাবের, কখনো ঠোঁট কাটা,কখনো বা একেবারে খরুস আর কঠোর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন কেউ তবে যেমন ই হোক মানুষ টা সম্পূর্ণ তার।

ভার্সিটি থেকে এসে বাড়ির অবস্থা দেখে কিছুটা অবাক হলো নূর।বাড়ি ভর্তি মানুষ দেখে ঘাবড়ে ও গেলো সে।বাড়িতে প্রবেশ করেই সে পুরো অবাক।

#চলবে

#অবশেষে_তুমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_২৯
______________________
ভার্সিটি থেকে এসে বাড়ির অবস্থা দেখে কিছুটা অবাক হলো তন্নী আর নূর।বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতেই আরেক দফা অবাক।ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে আছেন নূরের বাবা,ভাই,মিসেস রেহানা, আর কাব্য।নূর আর তন্নী দু’জনই দুজনের দিকে তাকালো তারপর এগিয়ে গেলো সামনে।নূরকে দেখেই তার বাবা জিজ্ঞেস করলেন –

-কেমন আছিস মা?

-আলহামদুলিল্লাহ আব্বু। তুমি কেমন আছো?

-আলহামদুলিল্লাহ।

-কিরে কেমন আছিস?(শাওন)

-ভালো।তুই?

-আমিও ভালো

-নূর,তন্নী তোরা যেয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।একসাথে লাঞ্চ করবি।(মিসেস রেহানা)

-ঠিক আছে

ফ্রেশ হয়ে এসে সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খেল।নূরের বাবা আর শাওন চলে গেছে খাওয়ার পরপর ই।খাওয়া শেষে রুমে আসলো নূর।কাব্যকে রুমে না পেয়ে ব্যালকনিতে গেল নূর। যেয়ে কাব্যর পেছনে দাড়ালো।ফোনে কথা বলছিলো কাব্য। পুরো কথা না শুনলেও শেষ কথাটুকু ছিল এমন –

-আমারই ভুল হয়েছে রিদ আগেই সাবধান হওয়া উচিত ছিলো। তাহলে আর এত বড় ঘটনা ঘটতো না।তবে এবার আর সেই ভুল করিনি। তার শাস্তি তাকে দিয়ে দিব।

ওপাশ থেকে…..

-হুম।

ফোন রেখে পেছনে ঘুরে নূরকে দেখে ঘাবড়ে গেল কাব্য। ‘নূর কিছু শুনে ফেলেনি তো?’

এদিকে কাব্যর কথাগুলো শুনে অবাক নূর।মাথার মধ্যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তার।কাব্য কিসের ভুলের কথা বলছিলো?কাকে শাস্তি দিবে?আর কিসের ই বা শাস্তি?

নূরের অবস্থা কাব্য বেশ বুঝতে পারছে তাই সে নিজে জিজ্ঞেস করলো –

-কি হয়েছে? কি ভাবছো?

-কি ভুল করেছেন আপনি?কাকে শাস্তি দেয়ার কথা বলছিলেন?

কাব্য স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো –

-কিছুনা।অফিসের এক এমপ্লয়ি। কাজে ফাকি দিয়েছে। জানোই তো কাজে ফাঁকি দেয়া আমার একদম অপছন্দ।

-হ্যা। আচ্ছা শুনুন

-বলো

-আব্বু আর ভাইয়া হঠাৎ বাসায় এসেছিলো কেন?জানালো ও না।আবার এত তাড়াহুড়ো করে চলে গেলো।

-আমি আসতে বলেছিলাম।

-কই আপনি তো কিছু বলেন নি।

-এমনি

-কেন আসতে বলেছিলেন?

-প্ল্যান করতে?

নূর ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো-

-প্ল্যান কিসের প্ল্যান?

-রিসেপশনের।

-মানে?

-রিসেপশন মানে বোঝনা

থতমত খেয়ে গেল নূর। তারপর বললো –

-বুঝবোনা কেন?কিন্তু হঠাৎ রিসেপশনের প্রসঙ্গ আসছে কেন?

-আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই।

-কিন্তু আমার ইচ্ছে নেই।আমি এসব চাই না।

-কেন?ওইদিন না বললে তোমাকে বউ হিসেবে মানতে চাই না এজন্য রিসেপশন করতে চাইছি না।তাহলে?

-সেটা তো আগের কথা।রাগের মাথায় বলেছিলাম।আপনি না মানতে চাইলেও আমি ই আপনার বউ।

-হ্যা তাও রিসেপশন হবে।

-ফাইনাল ডিসিশন আপনার?

-হ্যা।

-তাহলে আর কি।

-রাজি?

-রাজি না হয়ে উপায় আছে?

-তা অবশ্য ঠিক।( মুচকি হাসি দিয়ে)

-কবে?

-কাল বাদে পরশু।

-কিহ?এত তাড়াতাড়ি কেন?

-সবকিছু রেডি।সবাই আগে থেকেই জানে তুৃৃমি ই শুধু আজকে জেনেছ।

-কিহ?এত বড় মীর জাফরগিরি কিভাবে করলেন সবাই?(ঠোঁট উল্টে)

-এমনেই।তোমার শপিং ও হয়ে গেছে।

-বাহ।অথচ আমি জানিনা।

-হ্যা।দেখতে চাইলে দেখতে পারো।

-দেখবো না।

-তোমার ইচ্ছা।

-হুম।
.
.
পড়ন্ত বিকেল। মেঘমুক্ত আকাশ।হালকা বেগে বাতাস বইছে।কাব্য মসজিদে গিয়েছে।তন্নী ঘুম।আর কোনো কাজ নেই এই মেয়ের।এই সুযোগে নামাজ পড়ে হাতে এক কাপ চা আর সাথে ‘মুন্নি আক্তার প্রিয়া’ আপুর সদ্য প্রকাশিত বই ‘কৃষ্ণপক্ষের শেষ তিথি’ বইটা নিয়ে ব্যালকনিতে বসেছে নূর।কালকেই বইটা হাতে পেয়েছে।অনলাইন অর্ডার করেছিলো।তার প্রিয় লেখিকাদের মধ্যে অন্যতম সে।পড়ার লোভ সামলাতে পারছেনা নূর।বইটা হাতে নিয়ে সবে খুলতে যাবে অমনেই কেউ ছো মেরে নিয়ে নিল হাত থেকে।আচমকা এমনটা হওয়ায় ভড়কে গেল সে।সাথে মেজাজও বিগড়ে গেল। বিগড়ানো মেজাজ নিয়ে চোখ মুখ কুচকে সামনে তাকালো সে। কাব্য বইটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

নূর রাগী গলায় বললো –

-কি সমস্যা বই টা নিলেন কেন?বই দিন আমাার।

কাব্য বইটা উল্টে পাল্টে দেখে তারপর বললো-

-পড়ালেখা বাদ দিয়ে উপন্যাসের বই পড়া হচ্ছে। পরীক্ষায় কি গোল্লা পাওয়ার শখ জেগেছে?

-এই ভর সন্ধ্যায় কে পড়তে বসে শুনি।

-অনেকেই বসে।আমি নিজেই পড়েছি।

-যারা বসে তারা মানুষ না এলিয়েন।

কাব্যর শেষ কথা টা ভালোমতো খেয়াল করে নি নূর।খেয়াল করতেই বুঝলো সে কাব্য কে এলিয়েন বলেছে।তার দিকে তাকিয়ে দেখল সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

-আব,,ব,,সে যা-ই হোক আমার বই দিন।

-দিবনা।

-দিন প্লিজ।

-দিবনা।আগে পড়া শেষ করো তারপর যা করার করবে।

-সন্ধ্যায় পড়তে বসবো এখন দিন।

-সন্ধ্যায় ই নিও তাহলে।

-বেশি না একটু পড়বো।

-সন্ধ্যায় ই পড়ো।

কথাটুকু বলেই কাব্য নূরের পাশ থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে পা বাড়াতে নিলো রুমের উদ্দেশ্যে।নূর চেচিয়ে বললো-

-আমার আধ খাওয়া চা ওটা।

সমস্যা নেই। তুমিও আমার চাও আমার ইনফেক্ট তোমার সবকিছুই আমার।(চোখ মেরে)

কাব্যর কথায় তাজ্জব বনে গেল নূর। তারপর আবার কাঁদো কাঁদো ফেস করে তাকিয়ে রইলো।চা ও গেলো বই ও গেল,বোকাও বনে গেল।
.
.
রাত সাড়ে আটটা প্রায়।নূর আর তন্নী পড়তে বসেছে একসাথে।ফোনের রিংটোন শুনে বিরক্ত হয়ে পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিলো নূর।আননোন নাম্বার।বাজতে বাজতে অফ হয়ে গেল।রাখতে যাবে তখনই আবার বেজে উঠলো।আননোন নাম্বার হওয়ায় রিসিভ না করে কেটে দিল নূর।তন্নী জিজ্ঞেস করলো-

-কে কল দিয়েছে? রিসিভ করছিস না কেন?

-কি জানি আননোন নাম্বার।কে না কে।

-ওহ।বাদ দে তাহলে।

-হুম।
দু’জনই আবার মনোযোগ দিল পড়ায়।ঘন্টা খানেক বাদেই ডাক পড়ল ডিনারের জন্য।
.
.
রাত এগারোটা। ডিনার শেষে সবকিছু গুছিয়ে নূর ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়েছে সবে।কাব্য রুমে আসেনি এখনো।ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসা মাত্র ই ফোন বেজে উঠল।একরাশ বিরক্তি নিয়ে বেড সাইড টেবিল থেকে ফোনটা নিল।সেই নাম্বার ই।বাজতে বাজতে অফ হয়ে গেলো। আবারো কল আসলো। কিছুটা অসস্থি নিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো নূর।ফোন কানে তুলে অপর পাশের ব্যক্তির কথা শুনে অবাক,বিরক্তি আর ভয় ঘিরে ধরলো তাকে।আবার কেন কল দিয়েছেন উনি?নতুন কোনো ঝামেলা পাকাবেন না তো?মাথার মধ্যে এই প্রশ্নগুলো নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

-আপনি কল দিয়েছেন কেন?

-নূর প্লিজ আমার কথা শোনো। কেটে দিও না প্লিজ।

ফোন কাটতে নিয়েও থেমে গেল নূর।বললো-

-কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন।

-নূর আমার কিছু কথা আছে।একটা বার দেখা করতে পারবে?প্লিজ না করোনা।

নূর ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বললো –

-দেখুন রাজ,, আমার সাথে আপনার কোনো কথা থাকতে পারেনা।সে জায়গায় দেখা করার তো প্রশ্ন ই আসেনা।যা হওয়ার হয়ে গেছে ভুলে গেছি আমি। আপনি আর ভুল করেও আমাকে কল দিবেন না।রাখি ভালো থাকবেন।

কথা টুকু বলেই খট করে ফোনটা রেখে দিল নূর। পেছনে ঘুরতেই দেখলো দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে কাব্য।মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন ই আসছে নূরের কাব্য কি ভুল বুঝবে তাকে?

#চলবে