অবশেষে তুমি পর্ব-৩০+৩১

0
727

#অবশেষে_তুমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_৩০(Haldi_Special)
____________________
-‘রাত করে ফোন ইউজ করতে নিষেধ করেছি তো নূর।’

কাব্যর কথায় ভাবনার সুতোয় টান পড়ল নূরের।সামনে তাকালো। কাব্য তার একেবারে সন্নিকটে।কাব্যর কথার প্রতিত্তোর করলো না নূর।তাই কাব্য আবার বললো-

-‘কি হলো কথা বলছো না কেন?’

এবার মুখ খুললো নূর। নিচু স্বরে বললো-

-আস,,আসলো কল এসেছিলো তাই..

-আচ্ছা। এখন তাহলে শুয়ে পড়।

-আচ্ছা।

বেডের একপাশে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পরলোো নূর।লাইট অফ করে কাব্য ও শুয়ে পড়লো।প্রতিদিনের মতো নূরকে সন্তপর্ণে আগলে নিলো তার বুকে।এদিকে নূরের মনের ভিতর চলছে অন্য ভাবনা।কাব্য কিছু শোনেনি কিন্তু তার উচিত আগেই বলে দেয়া পাছে যদি কোনো ঝামেলা হয়।ঠিক করলো সে এখনই বলে দিবে।মিহি কণ্ঠে কাব্যকে ডাকলো-

-শুনছেন?

-বলো।

-একটা কথা ছিলো।

-বলো।

নিজেকে কাব্যর কাছ থেকে ছাড়িয়ে উঠে বসলো নূর। সাথে কাব্য ও।জিজ্ঞেস করলো –

-কি হয়েছে বলো।

নূর নত মস্তকে নিচু স্বরে বললো-

-একটু আগে বললাম না কল এসেছিলো

-হ্যা

-রা,,রাজ কল দিয়েছিলো। বলছিলো তার নাকি আমার সাথে কথা আছে দেখা করতে চায়।বিশ্বাস করুন আমি জানিনা আমার নাম্বার কোথা থেকে পেয়েছেন।আমি দেইনি। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ও ওনার সাথে ফোনে কথা হয়নি কোনোদিন। শুধু দুই বার দেখা হয়েছে। একবার ওনার ফ্যামিলি নিয়ে বাসায় এসেছিলেন আর একবার একটা ক্যাফে তে ব্যস এতটুকুই। আমি বলে দিয়েছি যাতে আর কোনোদিন আমাকে কল না দেয়।

নূরের প্রতিটা কথা ই মনোযোগ সহকারে শুনছিলো কাব্য। তার কথা শেষ হতেই কাব্য বললো-

-তাহলে তো হলোই।এত ভয় পাচ্ছো কেন? আর আমাকে বলারও প্রয়োজন ছিলো না।

কাব্যর দিকে তাকিয়ে নূর বললো-

-হ্যা কিন্তু পরে যদি ও আপনাকে উল্টা পাল্টা কিছু বলে আর আপনি যদি আমাকে ভুল বুঝেন তখন?

নূরের কথা শুনে মুখ বাকালো কাব্য।বললো –

-আমি এতটাও অপদার্থ না যে কারো কথায় এসে নিজের বিয়ে করা বউকে অবিশ্বাস করবো।ডাফার আসো।

-কিন্তু…

-নো মোর ওয়ার্ডস নূর।ঘুমাও নাহলে আমি কিন্তু

-হ্যা হ্যা ঘুমাচ্ছি।হুমকি ধামকি দেয়া লাগবে না।(মুখ বাকিয়ে)

-গুড।
.
.
সকাল আটটা প্রায়।আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হেয়ার ড্রাইয়ার দিয়ে চুল শুকাচ্ছিলো নূর।দরজায় কড়া আঘাত করছে কেউ।তাড়াতাড়ি যেয়ে দরজা খুললো নূর।দরজার খুলতেই কেউ জাপটে ধরলো তাকে।আকস্মিক ঘটনায় চমকে গেলো নূর।

-আরে আস্তে

কথাটুকু শুনতেই নূরকে জড়িয়ে ধরা ব্যক্তিটি ছেড়ে দিল তাকে আর বললো –

-ওহ সরি সরি ভাবি আসলে এক্সাইটমেন্টে হুশ ছিলনা।(হাসি দিয়ে)

সামনে থাকা মানুষ দুটিকে দেখে আরেক দফা চমকালো নূর। বিস্ময়াহত গলায় বললো –

-তোমরা দুই জন এত সকালে?কিভাবে?

তিশা আর ঈশা একসাথে বললো –

-সারপ্রাইজ।

-আমি সত্যি ই সারপ্রাইজড।

-দেখেই বোঝা যাচ্ছে। হি হি

-কেমন আছো?(তিশা)

-আলহামদুলিল্লাহ। তোমরা কেমন আছো?

-আলহামদুলিল্লাহ(ঈশা আর তিশা)

-ভাইয়া কি ঘুমাচ্ছে?

-হ্যা।

ঈশা সয়তানি হাসি দিয়ে এক ভ্রু উঁচু করে জিজ্ঞেস করলো-

-এত সকাল সকাল শাওয়ার নিয়েছ যে।কুচ তো গারবার হে।

ঈশার কথা শুনে লজ্জায় পড়ে গেল নূর।কিছু বলতে নিবে তার আগেই তিশা বললো –

-বেশি পেকে গেছিস ঈশু।কানের নিচে দিব একেবারে।

-সে দিও পরে বাট আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।

এবার নূর কোনোরকমে বললো-

-তেমন কিছুই না।আমি রোজই সকালে শাওয়ার নেই।

-ওহ আচ্ছা আমি তো ভাবলাম আবার…

-ঈশা(চোখ গরম করে তাকিয়ে বললো তিশা)

-হি হি হি। এমনে তাকাস কেন?

-নিচে আয়।

-হ্যা হ্যা।আমরা গেলাম তুমি আসো।

-ঠিক আছে।

তিশা আর ঈশা যেতেই দরজা লাগিয়ে পেছনে ঘুরে ই দেখল কাব্য আধশোয়া অবস্থায় বেডে বসে আছে। তাকে দেখে বললো-

-গুড মর্নিং।

-গুড মর্নিং।তিশা আর ঈশা আজকে আসবে আপনি জানতেন?

-হ্যা।

নূর মুখ বাকিয়ে বললো –

-তাহলে বললেন না কেন আমাকে?

কাব্য দুই হাত প্রসারিত করে বাচ্চা বাচ্চা ভাব নিয়ে বললো-

-সারপ্রাইজ..

তারপর আবার মুখটা গম্ভীর করে বললো-

-এজন্য।

-হ্যা বুঝেছি।

বেড থেকে উঠে নূরের পেছনে যেয়ে দাঁড়ালো কাব্য। বললো –

-তুমি যে সকাল সকাল শাওয়ার নেও সেটার জন্য ওদের কাছেও কালার হয়ে গেলে।

-মা,,মানে আপনি জেগে ছিলেন?শুনেছেন?

-জ্বি।শুরু থেকেই জেগে ছিলাম আপনিই খেয়াল করেন নি আমায়।আপনার শাওয়ার নিয়ে আসার পর চুল শুকানো, শাড়ি ঠিক করা সবই দেখেছি আমি।প্রতিদিন ই তো দেখি।

কাব্যর কথা শুনে চোখ বড় বড় করে তাকালো নূর।বললো-

-আপনি আসলেই অসভ্য।নির্লজ্জ একটা

-বাত্তামিজ দিল বাত্তামিজ দিল মানে না মানে না।

-সাত সকালে কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? কি বলছেন এসব?

-পাগল হই নি। I am addicted.

-কিহ?আজই বলতে হবে মামনিকে তোমার ছেলে খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

-সাট আপ নূর।শোনো আগে কিসের এডিক্শন।

-বলুন।

নূরের দিকে একটু ঝুকে তার অধরযুগল কানের কাছে এনে ফিসফিসিয়ে বললো-

-I am addicted to you.You are my addiction.

কাব্যর কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছে নূর। কাব্যর ঠোঁটজোড়া নূরের কানের লতি স্পর্শ করছে।নূরের ডান গালে হাত রাখলো কাব্য।অধর ছোয়ালো অধরে।এক হাত দিয়ে নূর খামচে ধরলো কাব্যর সাদা রঙা টি-শার্ট।ছেড়ে দিলো কাব্য।বাঁকা হাসি দিয়ে পিছিয়ে গেল খানিক।নূর ঠায় দাড়িয়ে আছে সেখানেই।তাই কাব্য বললো-

-কি হলো এখনো দাড়িয়ে আছো যে।আরেকটা দিব?

সম্বিত ফিরে পেল নূর।তাড়াতাড়ি করে রুম ত্যাগ করলো।মুচকি হেসে ওয়াশরুমে চলে গেলো কাব্য।
.
.
তন্নীর রুমে আড্ডা দিচ্ছে তন্নী,তিশা আর ঈশা।নূর কিচেনে।

-ঈশা দেখ তো নূর আসছে না কেন?(তন্নী)

-দাড়াও নিয়ে আসছি।

মিসেস রেহানা আর রাহেলার সাথে টুকটাক কাজ করে দিচ্ছিলো নূর।তখনই ঈশা আসলো কিচেনে।

-ভাবিপু চলো তো।

-একটু পরে আসি কাজ সেরে।

-না এখনই আসো।কাজ করতে হবেনা।

-হ্যা ওকে নিয়ে যা তো ঈশা।কতক্ষণ ধরে বলছি কিন্তু কে শোনে কার কথা। (মিসেস রাহেলা)

-হ্যা চলো চলো(হাত ধরে)

-দাড়াও চা নিয়ে নেই।

-আচ্ছা।

চা নিয়ে তন্নীর রুমে আসলো নূর আর ঈশা।কথার মাঝে তন্নী নূরকে উদ্দেশ্য করে বললো –

-শোন আমরা তিনজন মিলে একটা প্ল্যান করেছি।

নূর ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করলো-

-কিসের প্ল্যান?

-আজকে সন্ধ্যায় তোর হলুদ আর রাতে সন্ধ্যায় মেহেদীর প্রোগ্রাম হবে।

-কি বলিস এত কম সময়ে এত কিছু আরেন্জ করবি কিভাবে?দরকার নেই শুধু শুধু ঝামেলা।

-কোনো ঝামেলা না ভাবি সব আরেন্জ হয়ে গেছে। তোমার ড্রেস,সবার পারমিশন ইন ফেক্ট আমাদের ড্রেস ও আরেন্জ হয়ে গেছে। ডেকোরেশনের কাজ ও হয়ে যাবে।(তিশা)

তন্নী আর তিশার কথা শুনে অবাক হলো নূর।এতটুকু সময়ে এত কিছু কিভাবে সম্ভব। সন্দেহ হলো নূরের। সন্দেহজনক চাহনি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

-কবে থেকে প্ল্যান করেছিলি এসব? আজকে কালকে তো করিসনি সিওর।বল আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলি না?

-আব,,ব হ্যা।আসলে..

-থাম।সব ক”টা এক।এতকিছু করে ফেলেছিস তোরা অথচ কেউ বলেওনি আমাকে।ঘষেটি বেগম এক একটা।

-সুনা ময়না রাগ করিসনা জান (তন্নী)

-হয়েছে এখন ভালুপাসা দেখাতে হবে না।

-হ্যা।সব কাজ টাজ সেরে নে।দুপুরের পরই রেডি হতে হবে।(তন্নী)

ঈশাকে উদ্দেশ্য করে পুনরায় বললো –

-আর বইন তুই দয়া করে মেকআপ টা আজকে একটু কম করিস।

-তন্নীপু তুমি একদম আমার মেকআপ নিয়ে কথা বলবে না।

-তুই পেত্নী সাজা ছেড়ে দে আর বলবো না প্রমিজ।

-ছাড়বো না।

-আমিও বলবো।

-যাও বলিও।

-হু।
.
.
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মতো।আয়নার সামনে বসে আছে নূর।পড়নে তার হলুদ রঙা শাড়ী।তাতে সবুজ আর সাদা রঙের হেন্ড পেইন্টের কারুকাজ করা।সাথে ম্যাচ করা সবুজ,হলুদ আর সাদা আর্টিফিশিয়াল ফুলের গহনা। মুখে হালকা সাজ।আয়নায় নিজেকে খুটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে নূর।সুন্দর লাগছে তাকে।শাড়িটা তার পছন্দ হয়েছে অনেক।নূরের ভাবনার মাঝেই মিসেস রেহেনা আর রাহেলা আসলেন।মিসেস রেহানা নূরের থুতনিতে হাত রেখে বললেন-

-মাশা আল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছে তোকে নূর।

-হ্যা ঠিক বলেছেন আপা।নজর না লাগুক কারো।

তাদের কথায় নূর খানিক লজ্জা পেল।তন্নী,তিশা,মিতু আর ঈশাও আসলো রুমে।তারা চারজন একই রকমের শাড়ি পড়েছে।হলুদ আর সবুজের মধ্যে। ঈশা উদাস কণ্ঠে বললো –

-শুধু কি ভাবি কে-ই সুন্দর লাগছে।আমাদের লাগছেনা?

মিসেস রেহেনা আর রাহেলা দুজন ই হাসলেন। তারপর বললেন –

-আমার চার মেয়েকেই সুন্দর লাগছে মাশা আল্লাহ।

-ফুপি আসলো না কেন?দাদিও আসতে পারলেন না।(নূর)

-আম্মার তো গাড়িতে চড়া নিষেধ।কোমরের সমস্যা টা বেড়েছে।নিয়তি আপাকে তো বললাম উনি আসবেন না।সামিরাকে ও আসতে দিলেন না।আর সামিরা যেহেতু আসেনি উনিও আসবেন না।(মিসেস রাহেলা)

-একটু আগে কথা হয়েছিল বললাম আসতে কিন্তু উনি একই কথা বলছেন(মিসেস রেহানা)

-ওও(নূর)

-হ্যা,,মন খারাপ করিসনা।তন্নী,তিশা তাড়াতাড়ি নিয়ে আয় নূরকে।

-ঠিক আছে।
.
.
নূরকে নিয়ে ড্রয়িং রুমে আসলো তন্নী,তিশা আর ঈশা।কাব্যর কিছু কাজিন এসেছে শুধু।নূরের বাবা আর ভাই শাওন এসেছে। আর রিদ ও আছে।সোফায় আগেই বসে ছিলো কাব্য। নূরকে তার পাশে বসিয়ে দিলো।নূরের দিকে এক পলক তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলো কাব্য।নূরের মন খারাপ হলো একটু।’তাকে কি দেখতে খারাপ লাগছে? মুভি তে তো দেখায় নায়ক হা করে তাকিয়ে থাকে নাায়িকার দিকে। তাহলে কাব্য তাকালো না কেন?একটু তাকিয়ে থাকলে কি হতো?আন রোমান্টিকের বস্তা।’কাব্যর অগোচরে ই তাকে ভেঙচি কাটলো নূর।আড় চোখে পরখ করে নিলো তাকে বার কয়েক।পার্পাল কালারের পান্জাবি পড়েছে কাব্য।তা দেখে নূর মনে মনে ভাবতে লাগলো –

– হলুদে জামাই পার্পল কালার পড়ে?কই বউয়ের সাথে ম্যাচ করে পড়বে তা না পার্পাল কালার পড়ছে।হুহ এলিয়েন একটা।

একে একে সবাই হলুদ লাগিয়ে দিচ্ছে নূর আর কাব্য কে।সবার চোখের আড়ালে ডান হাতে নূরের কোমর চেপে ধরলো কাব্য। কাব্যর এহেন কান্ডে চোখ বড় বড় হয়ে গেল নূরের।চকিতে তাকালো কাব্যর দিকে।বিচলিত হয়ে নিচু স্বরে বললো-

-কি করছেন? ছাড়ুন,,কেউ দেখে ফেললে শেষ।

-দেখবে না।

-প্লিজ ছাড়ুন।

-হুঁশশ।
.
.
ফ্লোরে বসে দুই হাত বেডের দুই দিকে দিয়ে বেডে মাথা রেখে বসে আছে নূর।প্রচুর গরম তার ওপর মুখ,হাত,পায়ে মাখা হলুদ।শাওয়ার নিতে হবে তাড়াতাড়ি। বসা থেকে উঠে দাড়ালো নূর।কাবার্ডের সামনে যেতেই হাতে টান পড়লো তার।আচমকা এমনটা হওয়ায় চমকে গেলো নূর।সামনে তাকিয়ে দেখলো কাব্য কে।দু-হাত দিয়ে দেয়ালে চেপে ধরেছে তাকে।নূর কাঁপা গলায় বললো –

-কি,,কি হয়েছে?

-কোথায় যাচ্ছিলে?

-শা,,শাওয়ার নিতে।

-কিন্তু এখনো তো হলুদের প্রোগ্রাম বাকি আছে

-মানে?

প্রতুত্তর করলোনা কাব্য।কোমরে শীতল হাতের স্পর্শ পেয়ে কাব্যর পান্জাবির কলারের দিকটা খামচে ধরলো নূর।বুঝতে বাকি রইলো না তার কাব্য হলুদ লাগিয়েছে।তারপর কাব্য একবার নূরের ডান গালে আর একবার বাম গালে তার গাল ছোয়ালো।কাব্যর খোঁচা খোঁচা দাঁড়ির স্পর্শ পেয়ে থেমে কেঁপে উঠলো নূর। হাতের বাঁধন দৃঢ় হলো আরও।

#চলবে,

#অবশেষে_তুমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_৩১(Mehedi_and_Reception_Special)
________________________
রাত প্রায় বারোটা ছুইছুই।নূরের দুই হাতে মেহেদি পড়িয়ে দিচ্ছে ঈশা আর তিশা।কালো রঙের শাড়ি পড়েছে নূর।তাতে লাল,গোলাপি,সবুজ আর নীল রঙের সুতো দিয়ে এমব্রয়ডারি কাজ করা।অর্নামেন্টস বলতে শুধু কানে দু’টো সিলভার মেটেলের ছোট ছোট ঝুমকা আর দু’হাতে মোটা দু’টো চুড়ি।মুখে প্রসাধনীর কোনো ছাপ নেই।একদমই নরমাল।
ড্রয়িং রুমে আপাদত আছে ঈশা,তিশা,তন্নী আর রিতু।বড়রা যার যার কাজের পাঠ চুকিয়ে শুয়ে পড়েছে।যেহেতু মেয়েদের ফাংশন তাই ছেলেরা নেই এখানে।তারা ছাদে আড্ডা দিচ্ছে।রিতু তন্নীর হাতে মেহেদি পড়িয়ে দিতে দিতে তিশাকে বললো-

-ভাইয়ার নামটা এমনভাবে লিখবে যেন সহজে খুজে না পায়।

-হ্যা সেভাবেই লিখেছি।

-তন্নীপুর হাতে রিদ ভাইয়ার নামটা লিখে দাও।(ঈশা)

-হ্যা ঠিক বলেছো।এখনই লিখে দিচ্ছি।

রিদের নাম শুনে মূহুর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলো তন্নী।তা দেখে রিতু বললো –

-তোদের দুইটার এত লজ্জা কই থেকে আসে রে?আমাকেও একটু ধার দিস নাহলে আমার জামাই বলবে ‘কি এক মেয়েকে বিয়ে করেছি লজ্জার ‘ল’ ও নেই’ তার মধ্যে।

-ঠিক ই বলবে তোর মধ্যে সত্যি ই লজ্জার ‘ল’ ও নেই।(নূর)

রিতু গা ছাড়া ভাব দেখিয়ে বললো-

-লজ্জার কি আছে আজিব।জামাই তো আমারই যা ইচ্ছা করবো।তার কাছে আবার কিসের লজ্জা যা হওয়ার তো হয়….

কথা শেষ হওয়ার আগেই নূর আর তন্নী দুজনের কাছ থেকেই রাম ধমক খেলো রিতু।রিতু কাঁদো কাঁদো ফেস করে তাকালো দু’জনের দিকে।ঠোঁট উল্টে বললো-

-এভাবে বকা দিতে পারলি তোরা।

-নাটক করিস না তো ভালো করে মেহেদি লাগা। নষ্ট হলে সব তোর চেহারায় মাখবো।(তন্নী)

তন্নীর কথা শুনে আবারো কাঁদো কাঁদো ফেস করে তাকালো নূরের দিকে। কিন্তু নূর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালোনা।

মুখ বাকিয়ে আবার মেহেদি দেয়ায় মনোযোগ দিলো রিতু।
.
.
নূরের মেহেদি শুকিয়েছে একটু। বসে থাকতে থাকতে বেচারির কোমর শেষ।১টা বেজে ২০মিনিট এখন।রিতু আর তিশা মেহেদি পড়ায় ব্যস্ত।ঈশা ব্লুটুথ দিয়ে গান বাজাচ্ছে একটার পর একটা আর নূর হামি দিতে দিতে শেষ।তাই তিশা বললো –

-ভাবি তুমি যেয়ে শুয়ে পড়ো।এমনিতেই কালকে সারাদিন অনেক ধকল যাবে।আবার সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে।পার্লারে যেতে হবে তো।

-হ্যা।ঠিক বলেছো। কিন্তু মেহেদি?

-কিছু হবেনা।শুকিয়ে যাবে একটু পরই।

-আচ্ছা। তোমরাও তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ো তাহলে।

-হ্যা।

ড্রয়িং রুম থেকে চলে আসলো নূর। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে নিলেই দেখা হলো রিদের সাথে। নূরকে দেখে বললো –

-স্যারএখনো ছাঁদে আছে।

-এখনো আসে নি যে?

-জানিনা বলেছেন একটু পর আসবে।

-ওহ।ঠিক আছে তুমি ঘুমিয়ে পরো কালকে কিন্তু অনেক দায়িত্ব বোনের বিয়ে বলে কথা।

হাসলো রিদ।মনে মনে ভাবলো তার তো বোন নেই অথচ এই মেয়েটার কথা বার্তা,ব্যবহারে তার মনেই হয়না সে যে তার আপন ভাই না।রিদ নূরের মাথায় হাত রেখে বললো-

-চিন্তা করিস না। সব দায়িত্ব ঠিকঠাক ই পালন করবো।

-আমার আবার কিসের চিন্তা দুই দুইটা ভাই থাকতে।বলেই ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো নূর।

রিদও মুচকি হাসি দিয়ে বললো-

-হ্যা ঠিক বলেছিস।

-হুম।এখন যাও গুড নাইট।

-আচ্ছা গুড নাইট।

রিদ চলে গেলে ছাদের দিকে অগ্রসর হলো নূর।দরজা পেরিয়ে একটু সামনে যেতেই দেখলো ছাদের রেলিং এর দুই পাশে দুই হাত রেখে দাড়িয়ে আছে কাব্য। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো নূর।তার পাশে যেয়ে দাঁড়ালো। তার উপস্থিতি টের পেলেও কিছু বললো না কাব্য। নূরই জিজ্ঞেস করলো-

-এখনো ছাদে কি করছেন?

-এমনি,,

-দেরি হয়ে গেছে অনেক আসুন।

-পরে না এখনই আসুন।

-পরে আসব তুমি যেয়ে শুয়ে পড়ো।

কাব্যর কথা শুনে আঁড়চোখে তার দিকে তাকালো নূর। এভাবে কেন বললো সে কি জানে না তাকে ছাড়া যে নূর ঘুমাতে পারবেনা।নূর ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো।হঠাৎ কোমরে কারো স্পর্শ পেয়ে চমকে গেলো নূর।পেছন থেকে নূরকে জরিয়ে ধরে আলগোছে নূরের দুই হাত আলতোভাবে মেলে ধরলো আর বললো –

-‘তার’ মেহেদি পরা হাতে একমাত্র আমার নাম থাকুক।’তার’মেহেদি পড়া হাতে লিখা নামটা খোজার অধিকারও একমাত্র আমার ই হোক।

-তাহলে খুজে বের করুন।

পকেট থেকে ফোন বের করে ফ্লাশ অন করে হাতে ভালোভাবে চোখ বুলাচ্ছে কাব্য। প্রায় এক মিনিটের মাথায়ই বললো-

-পেয়ে গেছি।

-দ,,দেখান তাহলে

এই যে।

হাতের তালুতে বাম দিকটায় ডিজাইন করা পদ্মফুলের সাথে ছোট্ট একটি জায়গায় লাভ শেপের ভিতর ‘K’ লিখে আবার ডিজাইন করা যাতে সহজে খুজে বের না করতে পারে।কিন্তু কাব্য খুজেই ফেলেছে।নূর অবাক চাহনি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

-কিভাবে খুজলেন?

-‘তার’ হাতে আমার নামের প্রথম অক্ষরটা জ্বলজ্বল করছিল আমার চোখে।

কাব্য আবার বললো-
-নাম তো খুজে বের করলাম এখন ‘তার’ কাছ থেকে গিফ্ট হিসেবে কি পাবো?

-গিফ্ট তো আপনি প্রাপ্য শুধু এটার জন্য না আরও অনেক কিছুর জন্য ও।কিন্তু আজকে যে দেয়ার মতো কিছু নেই।

-‘সে’ পুরোপুরি আমার হলে সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে সুন্দর গিফ্ট।

কাব্যর কথা শুনে মুচকি হাসলো নূর।
.
.
সকাল দশটা। পার্লারে যাওয়ার জন্য বারবার নূরকে তাড়া দিচ্ছে ঈশা। তাই তারাহুরো করে সবকিছু গুছিয়ে দিচ্ছে তন্নী আর তিশা।নূর রেডি হচ্ছে।আর বাকি সবাই কাজে ব্যস্ত।ব্যাগের চেন লাগাতে লাগাতে তন্নী জিজ্ঞেস করলো-

-নূর তোর হয়েছে?

-হ্যা।আমি একটু আসছি হ্যা।দাড়া।

-আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়।

তাড়াতাড়ি করে রুম থেকে বেড়িয়ে পড়লো নূর।মিনিট দুয়েক খোজার পর কাঙ্খিত মানুষটার দেখা মিললো।বাড়ি সদর দরজার সামনে দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছে।ঘর্মাক্ত শরীর।পড়নের শার্ট টা একেবারে ভিজে একাকার অবস্থা।কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।এজটু আগেই কমিউনিটি সেন্টার থেকে এসেছে কাব্য।সেখানকার সব কাজ শেষ করে বাদ বাকি ইরাম আর রিদকে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছে।বাড়িতে তেমন একটা ঝামেলা নেই আত্মীয় স্বজন কম থাকায়।নূর এগিয়ে গেলো কাব্যর দিকে।হালকা কাশি দেয়ার মতো করে দৃষ্টি আকর্ষণ করলো কাব্যর।ফোন রেখে কাব্য জিজ্ঞেস করলো-

-এখনোো যাও নি কেন?

-এখন যাবো।

-আচ্ছা সাবধানে যেও।

-হুম।আপনার জন্য খাবার রুমে রেখে এসেছি খেয়ে নিবেন মনে করে।

-রুমে রাখার কি কোনো দরকার ছিলো।

-ছিলো রুমে দিয়ে না আসলে আপনি খাবেন না এই ঝামেলার মধ্যে।

কিছু বললো না কাব্য। এক পলক নূরের দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলো।তখনই তিশা,ঈশা আর তন্নী এসে পুনরায় তাড়া দিতে লাগলো তাকে।

-খেয়ে নিবেন।আসি আমি।

এবারো প্রতিত্তোর করলোনা কাব্য।
.
.
.
দুপুর দেড়টা প্রায়। নূরকে নিয়ে সবে মাত্র ভেনুতে পৌছেছে তন্নী,তিশা আর ঈশা। তাদের সাথে রিদকে পাঠানো হয়েছিলো।বেবি পিংক কালারের গাউন পড়েছে নূর।সাথে ম্যাচিং হিজাব।মুখে প্রসাধনীর সাজ আর অর্নামেন্টস।হলদেটে ফর্সা রঙে খুব মানিয়েছে তাকে।তার ওপর সে তো কনে।সুন্দর তো লাগবেই।বিয়ের সময় মেয়েদের সৌন্দর্য নাকি দ্বিগুণ হয়।হয়তো এজন্য ই সৌন্দর্য যেন তারও দ্বিগুন হয়েছে আজ।তন্নী সবুজ রঙের, তিশা কালো আর ঈশা নেভি ব্লু আর রিতু আসমানি রঙের গাউন পরেছে।সেম ডিজাইন শুধু রঙের ভিন্নতা।নূরকে স্টেজে বসিয়ে চারজনই ব্যস্ত হয়ে পড়লো ছবি তুলতে।আস্তে আস্তে সবাই এসে ছবি তুলতে লাগলো নূরের সাথে।কাব্যর কিছু এমপ্লয়িদের ইনভাইট করা হয়েছে।সাথে কিছু বিজনেস পার্টনার্স যারা ভরসা যোগ্য শুধু তাদের।অনেকেই এসে কন্গরেট্স জানাচ্ছে।এত কিছুর মধ্যে নূর চাতক পাখির ন্যায় তড়পাচ্ছে যেন। আখি জোড়া এদিক ওদিক বুলাচ্ছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মানুষটার দেখা মিলছে না।কোথায় সে?আসছেনা কেন?নিজেই নিজেকে শোধালো নূর-

‘হয়তো ব্যস্ত আছে।এত এত মানুষ।সবকিছু সামলাতে হচ্ছে এজন্য হয়তো।
কিন্তু ঘন্টা দেড়েকের মতো হয়ে গেছে এসেছে এখানে অথচ একবারও একটু আসার সময় হলো না।

ভাবনায় মগ্ন নূরের ভাবনার রেশ কাটলো মাথায় কারো স্পর্শ পেয়ে।ঘাড় বাকিয়ে পাশে তাকালো।পাশের মানুষটাকে দেখেই মুখে এক চিলতে হাসি ধরা দিল। হাসি টেনেই পাশের মানুষটার বুকে মুখে লুকালো।অভিমানী মিশ্রিত আদুরে কণ্ঠে বললো –

-তুমি দিন দিন পচু হয়ে যাচ্ছো আব্বু।বিয়ের পর একদম আমাকে পর করে দিয়েছো।এখন একটু ও ভালোবাসো না আমাকে। আজকে ও এত লেট করে এসেছো।

-এখন তো বলবি আমিও পচু হয়ে গেছি।

শাওনের কণ্ঠ পেয়ে সামনে তাকালো নূর। মুখ বেঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

-ও কে আব্বু? তুমি চিন?আমি কিন্তু চিনিনা।

-বাহ।চিনিস না মানে।গালে দিলে ঠিকই চিনবি।

-হ্যা চিনব কিন্তু আমার ভাই হিসেবে না কাব্যর ভাই হিসেবে।কারণ তুই আমার থেকে বেশি কাব্যর কথা শুনিস।ওনার কাজ করিস।ওনার পেছনেই লেগে থাকিস।

-জ্বলছিস কেন তোরই বর।আমার তো এখন বোন জামাই মাত্র।

-হুহ,,বর না ছাই(বিড়বিড় করে)

-কি?

-কিছু না।

-থাম তোরা একসাথে হলেই খালি ঝগড়া।

-আমি ভালো মানুষ। ওর দোষ

-তোর দোষ।

হাফ ছাড়লো নূরের বাবা।উঠে চলে গেলেন তিনি।এখনো বাচ্চাই রয়ে গেল দু’জন।

শাওন নূরের সাথে ছবি তুলবে তখনই ঈশা এসে বললো-

-শাওন ভাই আপনাকে কাব্য ভাইয়া ডাকছে।

তাড়াহুড়ো করে চলে গেলো শাওন।মেজাজ আরও খারাপ হলো নূরের।তখনই ফটোগ্রাফার টা পোজ দিতে বললো-

-ম্যাম একটু এদিকে ঘুরে দাড়ান।

রাগে তাকেই ঝারি মেরে ব’লে দিল –

-আমি আর ছবি তুলবোনা আপনি যান সামনে থেকে।দূরে যান।

থতমত খেয়ে গেল ফটোগ্রাফারটা।নূরও বুঝতে পেরে জ্বিভ কামড়ালো।অনুশোচনার স্বরে বললো-

-আসলে রাগের মাথায় বলে ফেলেছি।এক্সট্রিমলি সরি।

-ইট’স ওকে ম্যাম বুঝতে পেরেছি।

মুচকি হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে ‘থ্যাঙ্কিউ’ বললো নূর।

-সুন্দর করে কতগুলো পিক তুলে দাও তো শুভ্র।

কথাটুকু কর্ণধার হতেই চট করে তার ডান পাশে তাকালো নূর।নেভি ব্লু কালার স্যুট পরা শ্যাম বর্ণের সুদর্শন যুবক তার পাশে। হাতে ম্যাচিং করা নেভি ব্লু কালার বেল্টের ওয়াচ।চুলগুলো এমনিতেই হাত দিয়ে সেট করা।মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি।এই খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি মূলত নূরই বলেছে রেখে দিতে।তাই আজকের দিনেও সেভ না করে এভাবেই রেখে দিয়েছে।অতি সাধারণ সাজসজ্জা তবুও অসাধারণ লাগছে কাব্যকে তার কাছে। ‘সে তো রাগ করেছে কাব্যর সাথে’ কথাটুকু মস্তিষ্কে নাড়া দিতে ই সাথে সাথেই চেহারার ভাব পরিবর্তন হলো নূরের। মুখ ঘুরিয়ে নিল বললো-.

-আমি ছবি তুলবোনা।

-শুভ্র তোলো তো।কোন পোজে সুন্দর লাগবে বলো।

-বললাম তো তুলবো না।

-শুভ্র বলো।

নূরের কোনো কথা আমলে আনলো না কাব্য। জোর করেই যেমন যেমন পোজ দিতে বলছে তেমন ই দিচ্ছে।নূরও দমে গেল যত যাই হোক রোজ রোজ রিসেপশন হয় না তাই ছবি সুন্দর হতে হবে।তাই সেও মুখের রাগী আর অভিমানী ভাবের ইতি ঘটিয়ে হাসি টানলো।

খাবার টেবিলে বসে আছে নূর আর কাব্য।সাথে রিতু,তন্নী,তিশা,ঈশা,শাওন,রিদ আর ইরাম।তারা খেয়ে নিয়েছে সবাই।গেস্টদের খাওয়ার পর্বও শেষ।মিসেস রেহানা আর রাহেলাও আছে।কাব্যর বাবা,ছোট আব্বু আর নূরের বাবা ওইদিকটা সামলে নিচ্ছে টুকটাক যা আছে।খাবার টেবিলে এত খাবারের আইটেম দেখে গা গুলাচ্ছে নূরের।তার ওপর বেলা হয়ে গেছে খাওয়ার ইচ্ছে ও নেই কোনোরকম।ইনিয়েবিনিয়ে বার কয়েক না করেছে কিন্তু তবুও কাব্য জোর করে বসিয়েছে। অবশেষে নূর বলেই ফেললো –

-আমি খাবোনা কাব্য। কেমন জানি লাগছে আমার।

-অল্প একটু খেতে বলেছি বেশি বলিনি।আর কোনো কথা যেন না শুনি।হা করো।

মুখের সামনে এক লোকমা খাবার ধরে বললো কাব্য।
সবার সামনে এভাবে কাব্য খায়িয়ে দিচ্ছে তাকে ব্যপারটা লজ্জাজনক হলেও আপাদত লজ্জা দেখার সুযোগ নেই।বিনাবাক্যে মুখে পুড়ে নিল নূর নাহলে দু’চারটা রাম ধমক আরও খেতে হবে।নূরকে খায়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি কাব্য ও খেয়ে নিচ্ছে।

ভেন্যু থেকে নূর আর কাব্যর আগে বেড়িয়ে গেল তিশা,তন্নী,ঈশা আর ইরাম।রিতু বাসায় চলে গেছে। তার আম্মু অসুস্থ নাকি তাই।কাব্য আর নূর এক গাড়িতে আসছে।গাড়ি ড্রাইভ করছে কাব্য। এখন সন্ধ্যা প্রায়।বাসায় পৌছুতে আধ ঘন্টা লাগবে।পরিবেশটা একেবারেই নিস্তব্ধতায় ছেয়ে আছে।যেন থম মেরে বসে আছে প্রকৃতি।আকাশ মেঘলা। লালাভ সৌন্দর্য ছেয়ে আছে আকাশের বুকে।সন্ধ্যা নামবে নামবে এমন সময় হওয়ায় মানুষ জন তেমন একটা নেই।এক ধ্যানে গাড়ি ড্রাইভ করছে কাব্য।তাকে আড়চোখে দেখছে নূর।

-এভাবে লুকিয়ে দেখার কি আছে?তোমার বর সামনাসামনি ই দেখ।

কাব্যর কথা শুনে থতমত খেয়ে ধরা পড়া চোরের মতো চোখ সরিয়ে নিল নূর।নড়েচড়ে বসলো।তারপর আমতা আমতা করে বললো-

-লুকিয়ে দেখতে যাবো কেন আজিব। আমাকে দেখার সময় নেই আমি কেন দেখতে যাব হুহ।

শেষের কথাটুকু বিড়বিড় করে বললেও কাব্য ঠিকই শুনে ফেলেছে।কিন্তু কিছু বললো না।

বাসায় এসেছে প্রায় এক ঘন্টা।সবার সাথে ড্রয়িং রুমে বসে আছে নূর আর কাব্য।নূরের বাবা আর শাওন চলে যাবে এখনই। খানিক মন খারাপ নূরের।

-মন খারাপ করিস না মা।তুই যেয়ে কয়দিন থেকে আসিস।

-হুম।

-হ্যা মন খারাপ করিস না বনুৃ।

নূর কেঁদে দিবে দিবে অবস্থা তখনই ঈশা বললো –

-ভাবি কেঁদো না মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে।

তার মাথায় চাটি মেরে তন্নী বললো-

-গাঁ*ধি ওয়াটার প্রুফ মেকআপ ভুলে গেছিস।

মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বোকা চাহনি দিয়ে বললো-

-ওহ হ্যা মনেই তো ছিলোনা।

ঈশার চেহারার ভাবভঙ্গি দেখে হেসে দিল নূর। নূরের বাবা আর শাওন চলে গেলো।তন্নী নূরকে বললো –

-নূর আমার রুমে আয়। এসব চেন্জ করে নে এবার।

-হ্যা

-ভাইয়া তুমি গেস্ট রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নাও।

কপাল কুঁচকে কাব্য জিজ্ঞেস করলো-

-গেস্টরুমে যাব কেন?আমার রুমে যাব আমি।আর নূরও তোর রুমে কেন যাবে?

-ভাবির হেল্প লাগতে পারে তাই।তুমি যাও তো গেস্ট রুমে। তোমার রুমের ওয়াশরুমের দরজার লক আমি ভেঙে ফেলেছি। (ঈশা)

-ঠিক আছে কিন্তু আমার টাওয়াল,টি-শার্ট আট ট্রাউজার এগুলো তো রুমে।

-কিসের রুমে।এই যে সব নিয়ে এসেছি আমি।

হাতে টাওয়াল,টি-শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে দাড়িয়ে আছে তিশা।সন্দেহ হচ্ছে কাব্যর।নিশ্চয়ই কোনো গোলমাল পাকাচ্ছে এরা।দেখা যাক কি হয়।তাই কাব্য আর কথা বাড়ালো না তিশার হাত থেকে সব নিয়ে গেস্ট রুমের দিকে রওনা হলো

হাফ ছাড়লো চারজন।নূরও ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
.
.
.
রাত এগারোটা ছুইছুই।রুমে আসলো নূর। কাবার্ড থেকে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা খুজে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।কাব্য কে এখনো রুমে আসতে দে নি।
ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আয়নার সামনে দাড়ালো নূর।হালকা সেজে আরেকবার পরখ করে নিল নিজেকে।তারপর ফোনটা নিয়ে মেসেজ করলো তন্নীকে।তার মিনিট দুয়েকের মাথায়ই রুমে আসলো কাব্য। রুমে ঢুকতেই স্তম্ভিত হলো সে।

#চলবে