#অবশেষে_তুমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#অন্তিম_পর্ব(প্রথমাংশ)
___________________________
কেমন আছেন?আমি কিন্তু বেশ আছি।আপনাকে কোনো কিছু বলে সম্বোধন করার অধিকার নেই আমার তাই শুরুটা এভাবেই করলাম।আপনি অধিকার দিয়েছিলেন কিন্তু আমি ফিরিয়ে দিয়েছি।কিন্তু আজ আপনাকে ‘প্রিয়’ বলে সম্বোধন করতে খুব করে ইচ্ছে করছে।আপনার অনুমতি ছাড়াই প্রথম আর শেষবারের মতো আপনাকে প্রিয় বলে সম্বোধন করলাম।শেষবার কেন বলছি জানেন?কারন আমার সময় ফুরিয়ে গেছে।চলে যাচ্ছি আমি।মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্ষণেক্ষণে মনে পড়ছে প্রিয় মানুষদের কথা।আপনার কথাও মনে পড়ছে খুব করে। আপনার সাথে কাটানো সেই দুই মাস জীবনের অন্যতম সময়ের মধ্যে এক ছিল।আপনার ছোট ছোট কেয়ার,ছোট ছোট অভিযোগ, রাগ করলে সুন্দর করে রাগ ভাঙানো,হুট করে সারপ্রাইজ দেয়া,পছন্দের জিনিস গিফ্ট করা, এসবই জায়গা করে নিয়েছিল মন গহীনে।কিন্তু মস্তিষ্ক সায় দেয় নি।মানতে নারাজ ছিলো।স্বার্থপরের মতো নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করে ছেড়ে দিয়েছিলাম আপনাকে ফেলনা জিনিসের মতো।কিন্তু সত্যি বলতে পারিনি।মন আর মস্তিষ্কের যুদ্ধে জিতে গিয়েছিল মন।মেনে নিয়েছিলাম আমার ছোট্ট হৃদয়ে সেই কবেই জায়গা দিয়ে ফেলেছি আপনাকে।ভালোবেসে ফেলেছি আপনাকে।কিন্তু অনুতপ্ততা আর লজ্জায় বলতে পারিনি।মনের কথা মনেই পুষছি/লাম।সাহস হচ্ছিল না আপনার সামনে দাঁড়ানোর।তবুও সবকিছু দূরে ঠেলে দিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করেছিলাম যে বলে দিব আপনার যা করার আপনি করবেন।’অন্তত আমার কোনো আক্ষেপ থাকবেনা এটা ভেবে যে আমার মনের কথা আপনাকে জানাতে পারিনি’।কিন্তু ঔ যে বলে না “পাপ বা/পকেও ছাড়েনা।” আমার সাথেও সেটাই হয়েছে।আষ্টেপৃষ্টে চেপে ধরেছে পা/প।শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুর দ্বারে এনে দাড় করিয়ে দিয়েছে।ব্রেন ক্যান্সার হয়েছে আমার।হাতে সময় খুবই অল্প।আপনি আমাকে ঘৃণা করেন জানি।আপনার ভালোবাসা বা করুণা কোনোটার ই যোগ্য না আমি।কিন্তু আপনার কাছে ছোট্ট একটা আবদার-“আপনার জীবনের অপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে হলেও আমাকে মনে রাখবেন আমাকে।” আচ্ছা এই চিঠিটা পড়ে কি মনে খারাপ হবে আপনার?উহুম,,একদম মন খারাপ করবেন না।আপনার জীবনে অপ্রিয়,অপ্রত্যাশিত মানুষ ছাড়া আর কেউ না আমি।আমার জন্য আবার কিসের মন খারাপ?আপনি হাসি-খুশি থাকবেন,একদম আগের মতো।আর একটা আবদার করি?অধিকার নেই তবুও বিনা অধিকারে না হয় কিছু চাইলাম আজ শেষ বারের মতোই।”আপনি বিয়ে করে নিন,গুছিয়ে নিন নিজেকে,অনেক ভালো আপনি। আমি না হয় খারা/প যে ফিরিয়ে দিয়েছে আপনাকে, যে সুযোগ থাকা স্বত্বেও আপনার হৃদ রাজ্যের রাণী হওয়ার প্রস্তাব ঠুকরে দিয়েছে।কিন্তু আমার জন্য আপনি বা অন্য কেউ কেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?একদমই হবেনা।বিয়ে করে নিবেন,,একদম লাল টুকটুকে বউ সাজবে আপনার জন্য।মাফ চাইবোনা আপনার কাছে ।আপনার মুখোমুখি হওয়ারও সাহস নেই তাই আপনাকে জানতে দেইনি।নূর,রিতু ওরা বলেছিলো আপনাকে জানাতে।কিন্তু আমি বরাবরই না করেছি।আপনাকে দেখলে যে বড্ড কষ্ট হবে।নিজের জন্য করুণা হবে যে আমার দুর্ভাগ্য আপনাকে পাইনি আমি।বু/কের বা পাশটায় চিনচিনে ব্যথা অনুভব হয় আপনার কথা মনে পড়লে।তাহলে আপনার মুখোমুখি হলে কি করতাম বলুন।অনেক বেশিই বলে ফেলেছি তাই না?আপনার সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখিত।আর সময় নিবনা।শুধু আমার আবদার দুটো’ পুরো করবেন।ভালো থাকবেন।
ইতি,
আপনার অপ্রিয় একজন।
চিঠিটা পড়া শেষ করে ই পকেটে পুড়ে নিল রাজ।চোখ ভিজে উঠেছে তার।বারান্দার মধ্যিখানে ফ্লোরে বসে এতক্ষণ চিঠিটা পড়ছিলো।দুই বছর চারমাস পেরিয়ে গেছে রিয়া গত হয়েছে। দুই বছরে বদলে গেছে অনেক কিছু। সময় যে প্রবহমান।থেমে থাকেনা।পৃথিবী ও চলতে থাকে আপন গতিতে, আপন নিয়মে।বদল হয় পরিস্থিতি,পরিচয় আর সম্পর্কেরও।এই যে যেমন রাজ সে এখন বিবাহিত।আর তার স্ত্রী হচ্ছে তারই প্রথম ভালোবাসার মানুষ রিয়া’র বেষ্ট ফ্রেন্ড ‘রিতু’।
হ্যা রিতু রিয়া,তন্নী আর নূরের ফ্রেন্ড।রাজের সাথে তারই বিয়ে হয়েছে।কিছুটা প্রি-প্ল্যান্ড ছিলো নূর, কাব্য আর রাজের আম্মু আব্বুর।ব্যাপারটা কেমন জানি তাই না?তবুও এখন সত্যি এটাই।সেদিন সিয়ামের বলা উক্তি টুকু ছিলো-
-“কা,,কাব্য রি,,রিয়া আর নে,,নেই।
সেদিনই শেষ দিন ছিলো রিয়ার।সে বুঝি আগেই টের পেয়ে গিয়েছিলো যে তার সময় শেষ হয়ে গেছে। তাই তো শেষ সময়ে বলে গিয়েছিল সেই কথাগুলো আর এই চিঠিটা ছেড়ে গিয়েছিলো রাজের জন্য। রিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়েই ছুটে এসেছিলো রাজ।নিঃশব্দে কেঁদেছিলো সে।রিয়ার নিথর দেহটাকে বুকে জড়িয়ে কেঁদেছিলো খুব করে।তারপর প্রায় একমাস নিজেকে আটকে রেখেছিলো চার দেয়ালের মাঝে।একমাস পর সম্পূর্ণ নতুন রুপে তাকে আবিষ্কার করেছে সবাই।সারাদিন কাজ,কাজ আর কাজ নিয়েই পড়ে থাকতো।কারো সাথে কোনো কথা না,সকালে অফিসে যাওয়া আর রাত করে বাসায় ফেরা,এগুলোই ছিলো প্রতিদিনের কাজ।সন্তানের এমন হাল কোনো মা-বাবার ই সহ্য হয় না।তার বাবা-মার ও হয়নি।নানান ছলে বলে, কৌশলে চেষ্টা করেছেন বিয়ের জন্য রাজি করাতে।পারেননি।এক বছর সেভাবেই কাটলো।কাটলো আরও মাস কয়েক।দিন পার হওয়ার সাথে সাথে রোবট মানবে পরিনত হচ্ছিল যেনো।উপায়ন্তর না পেয়ে তার মা মিসেস ইবনাত ইমোশনাল ব্ল্যা/ক/মে/ইল করলেন।কাজ হলো তখন।রাজি হলো বিয়ের জন্য। পাত্রী দেখতে গেল।পাত্রী হিসেবে রিতুকে দেখে বড় ধরনের ঝ/টকা খেয়েছিল সেদিন।কিছু বলার আগেই দু’জনকে এক রুমে পাঠিয়ে দিল কথা বলতে।রুমের বারান্দায় যেতেই রিতু একটা কথাই জিজ্ঞেস করেছিলো –
-“আপনার আমাকে নিয়ে সমস্যা নাকি বিয়ে করা নিয়েই সমস্যা?
-বিয়ে করা নিয়েই সমস্যা।আম্মু আব্বুকে দেখে মনে হলো তারা রাজি।তুমি সবই জানো।না করে দাও।বলবে আমাকে পছন্দ হয় নি।
-না করার কারণ?
-জানিনা।আমি রিয়াকে ভালোবাসি,তাকে ভুলে অন্য কাউকে ভালোবাসা আমার পক্ষে সম্ভব না।না করে দাও রিতু।
সেদিন মুচকি হেসে জবাব দিয়েছিলো সে-
-‘আমার আপনাকে লাগবে,আমি না করবোনা।বিয়ে হবে,আপনার কাউকে ভুলতে হবে না,শুধু আমাকে আপনার ওই বাম পাশটায় একটুখানি জায়গা দিবেন তাহলেই হবে।যদি না দেন তাহলেও সমস্যা নেই আমি নিজের জায়গা নিজেই করে নিব।
-বললেই হয়না রিতু,এত সহজ না,সম্ভব না আমার পক্ষে।
-আপনার কিছু করতে হবে না। আমি আপনাকে ভালোবাসবো,খুব করে ভালোবাসবো।অতটুকুতেই হবে।শুধু ওই বাম পাশটায় একটু জায়গা লাগবে। একান্তই আমার হবে।তাহলেই হবে।
-আমাকে বিয়ে করতে চাইছো কেন?যদি জায়গা করতে না পারো?যদি ধৈর্য হারিয়ে ফেলো?তোমাকে স্ত্রীর অধিকার দিতে পারবোনা সহজে, সময় লাগবে আমার।যদি বেশি দেরি হয়ে যায়?
-কথা দিচ্ছি আপনি নিজ থেকে না দেয়া অব্দি কখনো স্ত্রীর অধিকার চাইবোনা আমি।
তার এমন কথার পিঠে আর কিছু বলতে পারেনি রাজ।বারবার কিছু একটা বলতে যেয়েও আটকে যাচ্ছিলো।তার তিনদিন পরই কাজি ডেকে বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হলো।বিয়েতে রাজি হওয়ার আগে শর্ত দিয়েছিলো রাজ যে কোনো অনুষ্ঠান বা অন্য কিছু করা যাবেনা।সে অনুযায়ী ই হয়েছে।রিতুও মেনে নিয়েছে।তারপর কেটে গেছে পাঁচ মাস ২৭দিন।এই কয়’মাসে সম্পর্কের উন্নতি বলতে শুধু এতটুকুই হয়েছে আগে রিতুকে দেখলে বিরক্তি লাগতো,তার সব কাজেই মেজাজ বিগড়ে যেত।কিন্তু এখন সে আশেপাশে না থাকলে বিরক্তি লাগে,কোনো কাজ তাকে ছাড়া আর হয়না।
-‘শুনছেনন?
আচমকা কারো কণ্ঠ পেয়ে হকচকিয়ে গেল রাজ।তড়িৎ গতিতে জবাব দিলো-
-হ্য,,হ্যা।
রিতু নিচু স্বরে বললো-
-কতবার ডাকলাম শুনছিলেন না তাই জোরে ডেকেছি।সরি।
-আচ্ছা,, সমস্যা নেই। আমারই দোষ শুনিনি আসলে।বলো।
-খেতে আসুন।
-খাবোনা।
-কেন?
-এমনি ভালো লাগছেনা।
কিছু বললো না রিতু।নিঃশব্দে প্রস্থান করলো সেখান থেকে।তার যাওয়ার পানে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো রাজ।অন্য সময় তো খাবনা বললে কানের সামনে ঘ্যানঘ্যান করতেই থাকতো। অল্প একটু হলেও খায়িয়ে ছাড়ত,আর আজ একবার বলাতেই চলে গেল।তিন-চার দিন ধরে এমনই তার ব্যবহার।বদলে গেছে একেবারে।চাপা শ্বাস ছাড়লো রাজ।বারান্দা থেকে উঠে ধপ করে শুয়ে পরলো বেডে।একটু পর রিতুও আসলো।ফ্রেশ হয়ে এসে শুয়ে পড়লো তার পাশে কিন্তু যথেষ্ট দূরত্ব রেখে।যেন ঘুমের ঘোরেও স্পর্শ না লাগে।মুখ গোমরা করে শুয়ে রইলো রাজ।কিছু বলতে যেয়েও পারলোনা।কি বলবে?কোথা থেকে শুরু করবে?বলবে যে রিতু আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাও না কেন?তুমি জড়িয়ে ধরোনা এজন্য চারদিন ধরে ঘুম হয়না আমার,তোমার ওই হাসিমাখা মুখটাকে মিস করি চারদিন ধরে।বলবে এগুলো?কিন্তু ভয় হয় রিয়ার মতো সে ও হারিয়ে যায়?লোকে যদি বলে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে রিয়াকে?ফিকে হয়ে গেল ভালোবাসা?এমন উদ্ভট সব প্রশ্নে মাথা ভর্তি তার।নিজেই নিজেকে ধাতস্থ করলো।মনে মনে শুধালো নিজেকে – “রিয়া অতীত ছিল।সে আর নেই,হ্যা ভালোবেসেছি,তার জায়গা আজীবন থাকবে মনে।কিন্তু রিতু সে তো আনার স্ত্রী।আমার বর্তমান আর ভবিষ্যত।অতীত নিয়ে আক্ষেপ না করে বর্তমান নিয়ে ভাবা উচিত আর ভবিষ্যতের চিন্তা ও তো করতে হবে।এভাবে আর কয়দিন।যা হয়েছে,হয়েছে সময় থাকতে ঠিক করতে হবে পরে দেরি হয়ে গেলে আক্ষেপ, অনুশোচনা করেও কুল পাবোনা।”
.
.
.
সকাল সাড়ে সাতটা।
-‘স্বামী উঠেন,কয়টা বাজে দেখেন।অফিসে যাবেন,আমাকে ওই বাসায় দিয়ে আসবেন।উঠেন।
কথাটুকু কানে পৌছানো মাত্রই বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো রিদ।ধপ করে উঠে বসলো শোয়া থেকে।শাড়ী পড়া লম্বা ঘোমটা টেনে দাড়ানো কেউ।
-‘আবার শুরু করেছো তনিমা।
-ওমা,,কি শুরু করলাম আবার?
-জানোনা তুমি।কি এক নাটক বা/জ মেয়ে বিয়ে করেছি আল্লাহ।
ঘোমটা খুলে রিদের দিকে আঙুল উঁচু করে তন্নী বললো –
-কি বললেন আপনি,আমি নাটক বা/জ।কি নাটক করেছি আমি হ্যা?
-এই তো লাইনে এসেছো।তেমার আসল রুপ এটাই।ওসব ভদ্র,শান্তশিষ্ট রুপ,ভাব তোমার সাথে মোটেও যায়না।আর বেশিক্ষণ থাকতে পারবেনা ওইরুপে।সারাক্ষণ চিল্লা/পাল্লা করাই তোমার কাজ।
মুখটা ছোট করে মন খারাপ করার ভান ধরে তন্নী বললো-
-কি করবে বলুন আমিতো সবার মতো “জান, সো/না,মনা,ক/লিজা উঠো এসব বলতে পারিনা।
-তো এসব ন্যা/কামি করতে বলিনি তো। সুন্দর করে আমার নাম নিয়ে বলো।
তন্নী দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে লজ্জা লজ্জা কণ্ঠে বললো –
-ইশশশশ,,যাহ।সরম করে।
তার অবস্থা দেখে অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো রিদ।সত্যি ই এত লজ্জা পায় মেয়েটা নাকি এটাও এক্টিং তার আল্লাহ মালুম।সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বেড থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো রিদ।তাড়াতাড়ি অফিসে যেতে হবে।অফিসের কাজে নারায়ণগঞ্জ গিয়েছে কাব্য।তাকেই সামলাতে হবে।
.
.
সকাল এগারোটা। ড্রয়িং রুমে ব্যস্ত পায়ে পায়চারি করছেন মিসেস রেহানা।হাতের ফোনটা একবার কানে দিচ্ছেন আবার নামাচ্ছেন।এ পর্যন্ত চারবার ফোন দিয়েছেন কাব্য কে।রিং হচ্ছে তো হচ্ছেই রিসিভ করার নাম নেই।পাঁচ বারের সময় রিসিভ করলো কাব্য। রিসিভ করতেই শোনা গেল মিসেস রেহানার উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলা উক্তিটুকু-
-” কোথায় ছিলি?কয়বার ফেন করেছি।তাড়াতাড়ি বাসায় আয় বাবা,নূর,,নূরের….
এতটুকু বলতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো।ভয়ে গলা শুকিয়ে এলো কাব্যর। কি হয়েছে নূরের?পুনরায় ফোন করলো মিসেস রেহেনা কে।রিসিভ করছেন না।তন্নী, রিদ তার বাবাকেও ফোন দিলো কিন্তু কেউই রিসিভ করছেনা।সাথে সাথে রওনা হলো ঢাকার উদ্দেশ্যে।ড্রাইভিং এর ফাকে অনবরত কল দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছেনা কেউ।
#চলবে
#অবশেষে_তুমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#অন্তিম_পর্ব(শেষাংশ)
_________________________
দুপুর দুইটা।বেডে বসে ঈশা আর তিশার সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলো নূর।তখনই হন্তদন্ত হয়ে রুমে প্রবেশ করলো কাব্য।নূরকে ঠিকঠাক দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো।এতক্ষণ দম বন্ধ হয়ে আসছিলো তার এখন নূরকে সুস্থ দেখা মাত্র ই সব টেনশন দূর হলো।কিন্তু হুট করে রাগ জেঁকে বসলো।ফোন তো তার হাতেই তাহলে এত বার ফোন করার পরও রিসিভ কেন করলোনা?কাব্যকে দেখে নূর কল কেটে ফোন রেখে দিয়ে কাচুমাচু হয়ে বসে আছে ।কাব্য দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল তার দিকে।দুই বাহু চেপে ধরে দাড় করালো তাকে।অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো –
-‘মানুষ ফোন কেন ব্যবহার করে নূর?
ভয়ে জবুথুবু হয়ে নত মস্তকে দাঁড়িয়ে রইলো নূর। জবাব দিলো না।কাব্য আবার জিজ্ঞেস করলো-
-কথা বলছোনা কেন?
-আব,,ব ক,,কথা বলতে। যোগাযোগ করার জন্য।
-তাহলে তোমার ফোনে কল দিয়ে তোমাকে পেলামনা কেন?
-আ,,আসলে
-চুপপ
কাব্যর ধমকে কেঁপে উঠলো নূর।আপনা আপনি আঙুল চলে গেলো ঠোঁটের ওপর।
-তোমার আসলে নকলে শুনতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছুটে আসিনি।আম্মুর কথা শুনে কত ভয় পেয়েছিলাম জানো?কি হয়েছিলো তোমার?
-আ,,আসলে,,থুক্কু সরি আর বলবোনা।
-কি হয়েছিলো?
-আসলে,,
বলেই জিভ কাটলো নূর।এই আসলে নকলের ভূত কবে নামবে তার ঘাড় থেকে।আড় চোখে তাকালো কাব্যর দিকে।চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো কাব্য।তারপর বললো-
-ঠিক আছে আসলে সহই বলো।
-হু।সকাল থেকে মাথা ঘুরছিলো,উইক লাগছিলো অনেক,বমিও হয়েছে দুইবার সকালে।মামনিকে বলার জন্য তার রুমে যাচ্ছিলাম তখনই সেন্সলেস হয়ে যাই।ডাক্তার বলেছে বেশি করে হেলদি খাবার খেতে,পানি খেতে,রেস্ট নিতে আর একটা চার্ট দিবেন বলেছেন ওইটা ফলো করতে হবে আর ওনার কাছে চেক আপ করানোর জন্য যেতে হবে প্রতি মাসে।
একদমে কথাগুলো বলে নতজানু হয়ে দাড়িয়ে রইলো নূর।ওপাশ থেকে কি জবাব আসে তারই অপেক্ষা করছে।তার কথার পিঠে কাব্য বললো-
-বলবেই তো।আমার কথা তো শোনোনা এখন ডাক্তারের কথা ঠিকই শুনবে আর চার্ট ও ফলো করবে।
কাব্যর কথা শুনে অবাক নূর।কি বললো আর কি বুঝলো।কাব্য কি বোঝেনি?কিন্তু সে কিভাবে বলবে?লজ্জা যে চেপে ধরেছে তাকে।ছোট্ট বাক্যটুকুও বলতে পারছেনা সে।তাকে আরেক দফা অবাক করে দিয়ে কাব্য বললো-
-জার্নি করে এসেছি।ধুলোবালি তে বা/জে অবস্থা। ফ্রেশ হয়ে আসি।
কাব্যর কথা শুনে মেজাজ চরম বিগড়ে গেল তার।এত ইম্পর্ট্যান্ট কথা বলছে সে আর তা রেখে ফ্রেশ হওয়া নিয়ে পড়ে আছে।বেড থেকে উঠে টেবিলের সামনে যেয়ে টেবিল হাতড়ে একটা ডায়েরি বের করলো।
কাবার্ড থেকে জামাকাপড় নিয়ে কাবার্ড লাগিয়ে ঘুরতেই পেছন থেকে হাত টেনে ধরলো নূর।কাব্য প্রশ্ন সূচক দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই তার হাতে ছোট্ট একটা কাগজ ধরিয়ে দিলো।ভ্রু কুচকে তাকালো কাব্য।নাক ফুলিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুড়িয়ে রাখলো নূর।তার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে কাগজে মনোযোগ দিলো। কাগজটা খুলতেই দেখা গেলো ছোট ছোট অক্ষরে লেখা,
” আই এম কামিং,বাবাই।”
লিখাটুকু পড়তেই কেমন করে যেন তাকালো নূরের দিকে।নূরের দৃষ্টি এড়ালো না সেই চাহনি।মনের ভেতর খচখচ করছে তার,এভাবে কেন তাকালো কাব্য? কিছু বলছে না কেন?
ভুল দেখেছে ভেবে আবার পড়লো কাব্য।গুনে গুনে তিনবার পড়লো।লেখাটাতেই থমকে গেছে সে।স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।নূর শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কাব্যর দিকে।কাব্যর দৃষ্টি ও শান্ত।ঘাড় ঘুরিয়ে বার কয়েক শ্বাস নিলো কাব্য।বুকের ভেতর ধুকপুক করছে নূরের।কাব্য নূরের দিকে ঘুরে ঝা/পটে ধরলো তাকে।চোখ অশ্রুতে টইটম্বুর দু’জনেরই।জ/ড়িয়ে ধরতেই টুপ করে গড়িয়ে পড়লো কপোল(গাল) বেয়ে।নেহাৎ আনন্দের অশ্রু।মিনিট দুয়েক পর কাব্য ছেড়ে দিল নূরকে।হাঁটু মুড়ে নিচে বসলো।নূরের কো/মরের দুই পাশে হাত রেখে পরপর তিনবার ঠোঁট ছোয়ালো পে/টে।মুখে তার মোহময়ী হাসি।উৎফুল্ল কণ্ঠে বললো-
-আমার প্রিন্স/প্রিন্সেস আছে এখানে।আমার অংশ বেড়ে উঠছে তোমার ভেতর।আধো আধো বুলিতে মাম্মাম, বাবাই বলে ডাকবে আমাদের।
-হ্যা।
বসা থেকে উঠে নূরের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো কাব্য।তার মুখখানা দুই হাতের আজলে নিয়ে চুমু খেলো কপালে,আলতোভাবে ঠোঁ/ট ছো/য়ালো অধরেও।আবেশে চোখ বুজে নিল নূর।আবারো জড়িয়ে ধরলো তাকে। অস্ফুটে স্বরে বললো-
-থ্যাঙ্কিউ কথার মাম্মা।এত্তগুলো থ্যাঙ্কিউ।
ভ্রু কুচকালো নূর।জিজ্ঞেস করলো-
-কথা কে?
-আমার প্রিন্সেস।
-ইশশশ,,ছেলেও তো পারে।তখন?
-আঁধার এর মাম্মা।
-বাহ নামও ভেবে ফেলেছেন।
-অনেক আগেই।একটা ছোট্ট কারণ আছে এমন নাম ভাবার পেছনে।পরে একদিব বলবো।
-আচ্ছা।
নূরকে ছেড়ে দিয়ে কাব্য বললো-
-সরি,,তখন অনেক জোরে ধরেছিলাম তাই না।আ’ম সরি।
বলেই দুই বাহুতে ফটাফট দুই টা চু/মু খেল কাব্য। তার হেন কান্ডে হেসে ফেললো নূর।
-ফ্রেশ হয়ে আসি।তুমি বসো এখানে। বাইরে যাবেনা একদম,আসছি আমি।
মাথা নাড়িয়ে সায় দিল নূর। কাব্য চলে গেল ওয়াশরুমে।বেডের সাথে হেলান দিয়ে বসে রইলো নূর। হাসি সরছেই না ঠোঁট থেকে।মনের ভেতর অজানা এক উত্তেজনা। সে মা হচ্ছে,তার ভেতরে আর একটা প্রাণ আছে,কাব্যর অংশ সে।অন্যরকম এক অনুভূতি এটা,প্রকাশ করার মতো না।কিন্তু সে অনুভব করতে পারছে।
.
.
.
গোধূলি লগ্ন।আস্তয়মান সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবী জুড়ে।সূর্যের প্রতীয়মান রঙের আচ্ছাদনে নিজেকে নতুন রঙে আচ্ছাদিত করছে প্রকৃতি।নিরিবিলি পরিবেশ,যার যার নীড়ে ফিরতে ব্যস্ত সবাই।নূর বসে আছে ব্যালকনিতে। মনটা একটু খারাপ তার।তন্নীর আসার কথা ছিলো কিন্তু মিসেস রনিতা অসুস্থ তা-ই আজকে আর আসা হবে না তার।একটু আগেই ফোন দিয়ে জানিয়েছে সে।বিয়ের পরে মেয়েদের জীবন বদলে যায় আসলেই।ক’দিন পর তো তিশার ও এমন হবে।মাস তিনেক পরই তিশার বিয়ে,ইরামের সাথে।কম্পলিকেটেড ছিলো তাদের ব্যপারটা। বে/চারি তিশা তো ভেবেই নিয়েছিল বিরহে কাতর প্রেমিকার কাতারেই পড়বে সে আর ইরাম তো নিজের ভালোবাসাকে অন্য একজনকে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিল। ভাগ্যিস ঈশার হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলো না হলে তো।মাস সাতেক আগে সবার অগোচরে বাড়ির পেছনের দিকে দাড়িয়ে কথা বলছিলো তিশা আর ইরাম।সেদিন(অতীত)-
-“আমার জন্য ছেলে দেখেছে আম্মু আব্বু।গতকাল দেখতে এসেছিলো।বাড়ির সবাই পছন্দ ও করে ফেলেছে আর তাদেরও পছন্দ হয়ে গেছে আমাকে।
তিশার কথা শুনতেই বুকটা ধক করে উঠলো ইরামের।যথাসম্ভব চেষ্টা করলো নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে।কোনোমতে বললো-
-“হ্যা শুনেছি।আম্মু বলেছে।
-আপনার কি মতামত?
-কি আবার বিয়ে করে নিবি যদি ছেলে ভালো হয়, তোর পছন্দ হয় তো।
ইরামের কথা শুনে টলমলে চোখে তার দিকে তাকালো তিশা।তার চোখে চোখ পড়তেই বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো ইরামের।সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিল। তিশা কাঁদতে কাঁদতে বললো –
-কেন এমন করছেন ইরাম ভাই?আমি কি আপনার যোগ্য না? দেখতে খা/রাপ নাকি অশিক্ষিত?নাকি চরিত্র খারা/প?কোনটাই তো না। তাহলে ভালোবাসেন না কেন?আপনি কাউকে ভালোবাসেন ইরাম ভাই?
তিশার কথাগুলো তীরের মতো বিধলো বুকে।তার জন্য নিজের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নিজেই অথচ সে চেয়েও কিছু বলতে পারছেনা।তিশার একটু কাছে যেয়ে দাড়ালো ইরাম।চাপা গলায় বললো –
-দেখ তিশু খবরদার নিজের ব্যপারে উল্টাপাল্টা কিছু বলেছিস তো।তোর মতো মেয়েকে যে বিয়ে করবে সে তো ভাগ্যবান।কিন্তু আমি তোকে ভালোবাসি না। জোড় করে ভালোবাসা হয় না তিশু।জেদ করিসনা,,আমি আগেও, তো,,,
কথা শেষ করতে পারলোনা ইরাম তার আগেই হাত দিয়ে থামিয়ে দিল তিশা।চোখ মুছে বললো-
-আর কিছু বলতে হবে না আপনাকে।দুইটা অনুরোধ রাখবেন আমার?
-বল
তিশা শক্ত কণ্ঠে বললো –
-আজকের পর আপনি আমার সামনে আসবেন না।আমার বিয়েতেও আপনি থাকবেননা।
ইরাম চকিতে তাকালো তিশার দিকে।তাকে ক’দিন কাছ থেকে দেখার অধিকারটুকু ও ছিনিয়ে নিল তিশা।চাপা স্বরে বললো-
-ঠিক আছে।
-আপনাকে একটু জড়িয়ে ধরতে দিবেন ইরাম ভাই?ভেবেছিলাম সারাজীবন আপনার মায়ায় জড়িয়ে রাখবো নিজেকে কিন্তু ভাগ্য তো সহায়,হলো না।প্রথম আর শেষবারের মতো ই একটু জড়িয়ে ধরতে দিন।
কিছু বললো না ইরাম।শুধু স্থির নয়নে তাকিয়ে রইলো তিশার দিকে। জবাবের অপেক্ষা না করে জড়িয়ে ধরলো তিশা।চোখ দিয়ে অনবরত বর্ষন হচ্ছে। ইরামের চোখ ও চিকচিক করছে পানিতে। মিনিট দুয়েক পরেই ছেড়ে দিল তিশা।পেছনে ঘুরতে ঘুরতে বললো –
-কবে দেখা হবে জানিনা, এমনও হতে পারে দেখা হবেনা আর।ভালো থাকবেন।
কথাটা বলেই হাটা ধরলো তিশা।হুট করেই টান পড়লো হাতে।বুকের ওপর যেয়ে পড়লো ইরামের।ঘটনার আকস্মিকতায় হকচকিয়ে গেল তিশা।কিছু বোঝার আগেই ঝা/পটে ধরলো ইরাম।স্তব্ধ হয়ে গেলো তিশা।তাকে জড়িয়ে ধরা অবস্থাতেই ইরাম বললো-
-আ’ম সরি তিশু।অনেক সরি। আমার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছিস,মাফ করে দে আমাকে।
-ভালোবাসেন?
বুক থেকে মাথা উঁচু করে জিজ্ঞেস করলো তিশা।
সহজ সীকারোক্তি ইরামের-
-হ্যা ভালোবাসি, অনেক ভালোবাসি। কিন্তু
-কিন্তু?
-বাবা না থাকলে সেই সংসারের সব দায়িত্ব থাকে ছেলের ওপর। আমারও তাই।আম্মু, সামিরার দায়িত্ব আমার ওপর। সামিরার পড়াশোনা শেষ হয়নি এখনো,ওকেও তো বিয়ে দিতে হবে।চাকরিটা পেয়েছি সবে একমাসও হয়নি।মামারা ছিলেন বলে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি।কিন্তু তাদের ওপর আর কয়দিন?প্রাপ্ত বয়স্ক একজন শিক্ষিত ছেলে থাকা সত্ত্বেও যদি নিজের ভাইদের সাহায্যে থাকতে হয় আম্মুর তাহলে ছেলে হিসেবে ব্যর্থ হবো আমি। এমন ছেলে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।সবকিছু গোছাতে সময় লাগবে অনেক। এতদিন নিশ্চয়ই মামা তোকে ঘরে রাখবেন না।
-আমি অপেক্ষা করবো।আব্বুকে বলবো আমি।
-কি বলবি?কয়দিন অপেক্ষা করবি?কয়দিন বলে বলে রাখবি? আমি নিজেই তো জানিনা কয়,বছর সময় লাগবে।
উত্তর দিলো না তিশা।কি বলবে সে?ঠিকই তো কয়দিন বলবে সে তার বাবাকে?সময় পার হওয়ার সাথে সাথে বিয়ের জন্য চাপ দিবেই।সে না হয় অপেক্ষা করবে তার বাবা মা তো করবেনা।
-সব ভালোবাসা পূর্নতা পায় না তিশু।আমাদেরটাও না হয় অপূর্নতার খাতায় ই লেখা থাকবে।
ব্যথাতুর নয়নে তাকালো তিশা।দুজন মানুষ একে অপরকে ভালোবাসে অথচ তাদের মিলন হবে না,এই অনুভূতি যে অসহ্য যন্ত্রণা দেয়।
মুখে হাসি আর চক্ষে অশ্রু নিয়ে তিশা চলে এসেছিলো
সেখান থেকে।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবটাই দেখেছে ঈশা।তার বোন এজন্যই চিলেকোঠার ওই রুমে যেতে দিতনা।এজন্যই মনমরা হয়ে থাকতো।অথচ একদিনও মুখ ফুটে বলে নি তাকে।সেদিন রাতেই নূরকে ফোন করে বলেছে সব।নূর কাব্য কে জানিয়েছে তারপর সবটা সেই সামলেছে।অতঃপর বিয়ের সিদ্ধান্ত।বিয়ের পরে ঢাকা থাকবে ওরা।এখানেই ফ্লাট দেখছে।
-নূররররর
কাব্যর ডাকে হকচকিয়ে গেল নূর। কল্পনা থেকে ফিরলো বাস্তবে।
-কতক্ষণ ধরে ডাকছি সেই খেয়াল আছে আপনার?কি ভাবছিলেন ভাবনা কুমারী?
-তিশা আর ইরাম ভাইয়ার ব্যাপারটা ভাবছিলাম।
-ওহ।
-হুম।আযান কি হয়ে গেছে?
-হ্যা মাত্রই দিলো।আমি মসজিদে যাচ্ছি।রুমে আসো।
নূরকে ধরে উঠাতে নিলেই বললো –
-উঠতে পারবো তো ধরতে হবে না এখন।
হাত ছাড়লোনা কাব্য হাত ধরেই নিয়ে গেল রুমে।
.
.
রাত আটটা।
“নিজের খেয়াল রাখিস বনু।পুচকু/পুচকির ও খেয়াল রাখিস।আমার তো বিশ্বাস ই হচ্ছে না আমার পুচকি বোনটা এত বড় হয়ে গেছে। থ্যাঙ্কিউ বনু আজকে অনেক খুশি আমি,মামা হবো আমি।তর সইছে নাহ আমার মামা ডাক শোনার।
শাওনের কথা শুনে শব্দ করে হাসলো নূর। বললো-
-এখনো অনেক সময় অপেক্ষা করতে হবে।আর তুই তাড়াতাড়ি বিয়ে কর ভাইয়া।’খুশি’ আপুকে কবে নিয়ে আসবি? কবে বিয়ে করবি তোরা? কবে হবো আমি ফুপ্পি?যা করার তাড়াতাড়ি কর প্লিজ।
-করবো ওর মাস্টার্স টা কমপ্লিট হোক।
-বিয়ের পরও তো করা যাবে।তুই তো আর পড়াশোনা অফ করে দিচ্ছিস না।দেখ আমি অতো কিছু জানিনা।ভাবি লাগবে,ফুপ্পি হতে চাই।ব্যস
-আচ্ছা ঠিক আছে দেখছি।
-সত্যি?থ্যাঙ্কু,,আলাবুউ ভাইয়া।
-হয়েছে নাটক করিসনা।
-হিহিহি।
-খেয়াল রাখিস নিজের।খাওয়াদাওয়া করবি ঠিকমতো। কোনো অনিয়ম যাতে না হয়। বুঝেছিস?
-হুম।
-আব্বুর সাথে কথা হয়েছে?
-হ্যা বিকেলে হয়েছে।
-আচ্ছা এখন তাহলে রাখি।ভালো থাকিস।
-আচ্ছা।
কথা শেষ করে নূর কল কেটে রেখে দিল ফোন।ভিডিও কলে কথা বলছিল শাওনের সাথে।
-শাওন ফোন দিয়েছিল?
রুমে আসতে আসতে কাব্য জিজ্ঞেস করলো।
-হ্যা।চকলেট আনেননি?
-না।
কাঁদো কাঁদো ফেস করে জিজ্ঞেস করলো-
-কেন?
-চকলেট খাওয়া ভালোনা।
রাগে নাক ফুলিয়ে বললো-
-কোথায় লেখা আছে?
-আমি বলেছি।
-চকলেট দিন।
-আনিনি।
-আমি জানি এনেছেন,দিন।
-নেই তো।
মুখ বাকিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলো নূর। একটুবাদেই একটা চকলেট তার মুখের সামনে ধরলো কাব্য।টান দিয়ে নিয়ে নিল নূর।হাসিমুখে বললো-
-জানতাম যে নিয়ে এসেছেন।থ্যাঙ্কিউ।
-তাড়াতাড়ি খাও।বাইরে যাবো
-এই রাতের বেলা আবার কোথায় যাবো?
-আমার বাবুর মাম্মাকে নিয়ে রাতের শহর দেখবো।
কাব্যর কথা শুনে চকলেট খাওয়া অফ হয়ে গেলো নূরের।মূহুর্তেই রক্তিম আভা ধরা দিল কপোলে।মনে মনে বারকয়েক আওড়ালো-“তার বাবুর মাম্মা।”
.
.
ব্যালকনির এক পাশে ফ্লোরে বসে আছে রাজ।মেঝে অব্দি গ্রিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নীলকন্ঠের গাছ।গাড় নীল রঙের ফুল ফুটে আছে অনেকগুলো।এই নীলকন্ঠ রিতুর প্রিয় ফুলের মধ্যে একটা।খুব যত্ন করে সে।হাত উঁচু করে কয়েকটা ফুল ছুয়ে দিল রাজ।কানে হালকা আওয়াজ পৌঁছাতেই পাশ ফিরে তাকালো।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক মানবি।পড়নে কালো পাড়ের জলপাই রঙা শাড়ি।চুলগুলো পিঠ ছাড়িয়ে একটু নিচে পড়ে,এলোমেলো।শ্যাম বর্ণ কিন্তু অদ্ভুত মায়াবী মুখশ্রী।বিশেষ করে চোখ জোড়া।মায়াবতী বলা যায়।এই সাধারণ মেয়েটাকেই তার কাছে অসাধারণ আর অদ্ভুত রকমের সুন্দর লাগে , কিন্তু কেন?তার স্ত্রী বলে?অর্ধাঙ্গিনী তার,তার অংশ বলে?কিন্তু এই মেয়েটাকেই তো মাসখানেক আগে অসহ্য লাগতে।দেখলেই বিরক্তিতে চোখ মুখ কুচকাতো।কিন্তু সে বিরক্ত হতোনা।শুধু মুচকি হাসি দিত।তার সব কাজ করে দিত না বলা সত্ত্বেও।এতবার নিষেধ করেছে তবুও। অথচ আজ পাঁচ দিন,প্রয়োজন ছাড়া কথা বলেনা,যতটুকু দরকার ততটুকু ই বলে,নিঃশব্দে করে সব,কোনো কিছুর জন্য না বললে দ্বিতীয় বার আর জিজ্ঞেস করেনা,আগে একসাথে বসে নাস্তা করতো,রাতেও একসাথে ডিনার করতো, তার পাশের চেয়ারে বসে,অথচ এখন একসাথে খেতেও বসে না,বিরক্ত করে না আগের মতো।কেন?রাগ করেছে?করারই কথা,এভাবে আর কতদিন চলে।কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা না,সে তো বলেছিলো তাকে স্ত্রীর অধিকার না দেয়া অব্দি হাফ ছাড়বে না।তাহলে?একা একা আর কত চেষ্টা করবে সে?রাজের আকাশ-কুসুৃম ভাবনার মাঝেই টের পেল শ্যামবর্ণা সেই মানবি,তার স্ত্রী তার পাশেই বসেছে।দৃষ্টি তার আধার কালো আকাশে।আর তার দৃষ্টি তো তার অর্ধাঙ্গিনীর দিকে।রিতুর মনোযোগের একটুও নড়চড় হচ্ছে না।তার দৃষ্টি অনুসরণ করে রাজও তাকালো আকাশ পানে। কি দেখছে এই আকাশে? না আছে চাঁদ, না আছে তারা,মেঘের ছিটেফোঁটা ও নেই।শুধু অন্ধকার। কিছু জিজ্ঞেস করতে নিবে তা আগেই রিতু চাপা স্বরে বললো-
-আকাশে তাকিয়ে কি দেখছি সেটাই ভাবছেন তাই না?
অবাক হলো না রাজ।কারণ বিয়ের একমাস পেরোতেই এই গুণ আয়ত্তে এনেছে রিতু।কিছু না বললেও দৃষ্টি দেখে বুঝে নেয় তার কথা।অদ্ভুত লাগে তার একমাসে কিভাবে সম্ভব এমনটা?যাক সেসব। তার প্রশ্নের জবাবে ছোট্ট করে বললো-
-হুম।
শব্দহীন ভাবে হাসলো রিতু।কিন্তু মায়াবী লাগছে তাকে।”আচ্ছা রিতুর সাথে থাকতে থাকতে আমিও কি তার মায়ায় পড়ে গিয়েছি?নাকি অন্য কিছু?”
রাজের মস্তিষ্কে কড়া নাড়লো প্রশ্ন দুইটা।এরই মাঝে বিষাদ ভড়া কণ্ঠে জবাব এলো-
-“ওই অন্ধকার আকাশে নিজের মনের প্রতিচ্ছবি দেখছি।অন্ধকার আর অন্ধকার।
কথার মানে বুঝতে সময় লাগলো না রাজের।কালো হয়ে গেলো মুখখানা।তার জন্য ই তো মেয়েটার এই অবস্থা। রাজ অস্ফুটস্বরে জিজ্ঞেস করলো-
-সেই অন্ধকার কাটিয়ে কি রশ্মিতে আসা যায় না?
-একা একা আর কতদূর যাবো। এ পর্যন্ত তো একা ই ছিলাম এই পথে।উল্টো রশ্মি থেকে আধারে পদার্পণ হয়েছে।ঠিকই বলেছিলেন বলা সহজ করা সহজ না।
-তুমিও তো বলেছিলে চেষ্টা করবে যতদিন না হয়।
-একা পথ চলা খুব কঠিন জানেন তো।চেষ্টা করেছি আর করছি বিধায় এখানে বসে আছি। না হলে তো,,যাই হোক রাত হয়েছে অনেক,ঘুমাবেন না?
-এখনই ঘুমিয়ে থাকবে?
-রাত জাগার কারণ আছে?এমন তো না আপনি কথা বলবেন,আপনাার কথা শুনতে জেগে থাকবো।
-যদি বলি, “হ্যা কথা বলবো,তুমি শোনো?”
-যদি শব্দটা না থাকলে ব্যাপারটা সুন্দর হতো।
-এমন করছো কেন রিতু?
-কি করেছি?
-তুমি জানোনা কি করছো?
-আমার জানামতে তেমন কিছুই করিনি,আপনি বলুন কি করেছি?
মলিন হয়ে গেলো রাজের মুখটা।নিচু স্বরে বললো-
-গত পাঁচ রাত ধরে চোখ থেকে ঘুম উবে গেছে আমার।যা ও একটু ঘুমাতাম, হুট করেই ঘুম ভেঙে যেত।ফাঁকা ফাঁকা লাগে নিজের কাছে।কিছুর অভাব
ফিল হয়।এমন হয় কেন?তুমি নিশ্চিন্তে কিভাবে ঘুমাও?
-এমন তো হওয়ার কথা না। এখন তো আর আগের মতো জোড় করে আপনাকে জড়িয়ে ধরি না,জোড় করে চুমুও নেই না আপনার কাছ থেকে।পরিমান ছাড়া কথাও বলিনা,আপনার কাজে ইন্টারফেয়ার করিনা।এখনো কেন ডিস্টার্বড হন?
-কেন করছো এমন?তোমাকে এত চুপচাপ, গোমরা মুখো হয়ে থাকলে ভালো লাগেনা।আমার পাঁচ দিন আগের রিতুকে চাই- যে আমার সব কাজে ইন্টারফেয়ার করবে,যেটা না করবো আরও বেশি করে করবে,খেতে না চাইলে জোর করবে,জোর করে আমার কাছ থেকে চুমু নিবে,জোর করে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে আমায়,মুখে সবসময় হাসি থাকবে” এই রিতুকে চাই আমার।
সব লজ্জা, আড়ষ্টতা কাটিয়ে কথাগুলো বলে ফেললো রাজ।
রাজের মুখের দিকে ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে আছে রিতু।কিছু বলছে না। তাই রাজই আবার জিজ্ঞেস করলো-
-কিছু বলছো না কেন?
-কি বলবো?
এবার কিঞ্চিৎ রা/গ হলো রাজের।কিছু বলবে তার আগে রিতুই বললো-
-আপনাকে বিয়ে করতে দ্বিমত করিনি।রাজি হয়ে গিয়েছি সাথে সাথে। কেন জানেন?
-কেন?
-যেই মানুষটা তার প্রথম ভালোবাসার মানুষ যে বেঁচে ও নেই তাকে,তার প্রতি নিজের অনুভূতি গুলোকে এত সুন্দর করে মনের ভেতর আগলে রাখতে পারে,তার না থাকা যদি তাকে এতটা প্রভাবিত করতে পারে তাহলে সেই মানুষটা যদি আমাকে ভালোবাসে তখন আমার জন্য কি কি করতে পারে?স্বার্থপর হয়ে গিয়েছিলাম একটু।ভেবেছিলাম ঠিক হয়ে যাবে বিয়ের পরে।কিন্তু ভুল ছিলাম আমি।এই ছয় মাসে আমার জন্য আপনার মনে ভালোলাগা, ভালোবাসা তো অনেক দূরের ব্যাপার সামান্য করুনা টুকুও জন্মায়নি।আপনার কথা আপনি রেখেছেন।আমারই যোগ্যতা নেই।ব্যর্থ আমি।
-তুমি ব্যর্থ না, তোমার যোগ্যতা নেই মোটেও তেমন না।
-তাহলে কেমন?
-তুমি বুঝতে পারছো না?
-নতুন করে বোঝার তো কিছু দেখছি না।
চুপ হয়ে গেল রাজ।ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো রিতুর দিকে। অতঃপর ঘটালো এক বিস্ময়াবহ ঘটনা।দুই হাত দিয়ে রিতুর দুই কপোল(গাল) চেপে ধরে অধরে অধর মিলিত করলো গভীরভাবে।অবাক, হতভম্ব রিতু।তাকে ছেড়ে দিয়ে কিছু বলার জন্য লম্বা করে শ্বাস নিলো রাজ। রিতু এখনো বিস্ময় ভাব কাটিয়ে উঠে নি। আচমকা তার দুই হাত ধরলো রাজ। হাত টেনে একেবারে নিজের নিকটে নিয়ে আসলো। নত মস্তকে রিতু।দুরুদুরু কাপছে বু/ক।তার মুখের সামনে থেকে ছোট চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে কপালে চুমু খেয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তাকে। টইটম্বুর আখি জোরা থেকে সাথে সাথেই গড়িয়ে পড়লো অশ্রু।রিতুও দুই হাত পিঠে রাখলো রাজের।রাজ অস্ফুটস্বরে বললো –
-তুমি বিরক্ত না করলে নিজেকেই নিজের কাছে বিরক্তিকর মনে হয়।তোমার জন্য ই ছয়মাস আগের আমি আর এখনের আমির মধ্যে ফারাক এসেছে।আবার হাসতে শুরু করেছি,সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাই আমি।আর কোনো ঝামেলা বা দূরত্ব চাইনা আমি।রিয়া অতীত ছিলো কিন্তু আমার বর্তমান, ভবিষ্যত শুধু ই তুমি।আমার তোমাকে চাই।
রিতুর মুখখানা দুই হাতের মাঝে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
-থাকবে আমার সাথে?মানিয়ে নিয়ো আমার সাথে। নিবে তো?
রিতুর কান্নার পরিমান বেড়ে গেছে। নাক টানতে টানতে বললো-
-নি,,নিবো।
আবারো চুমু খেল কপালে।আবদারের স্বরে বললো-
-আমি স্ত্রীর অধিকার না দেয়া অব্দি তুমি কখনো চাইবেনা বলেছিলে।চাওনি কোনোদিন কিন্তু আজ আমি নিজেই যদি দেই?তোমাকে একেবারে নিজের করতে চাই,সম্পূর্ণ রূপে।তোমার কোনো আপত্তি আছে?
রাজের কথা শুনে লজ্জায় কুঁকড়ে গেলো রিতু।দৃষ্টি নত করলো সাথে সাথে।কোলে তুলে নিল রাজ। ফিসফিসিয়ে বললো-
-আমার রাহি/রুহানের আম্মু বানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে আজ থেকেই।
-রাহি/রুহান কে?
-আমাদের ছেলে, মেয়ে।
লজ্জায় রাজের ঘাড়ে মুখ লুকালো রিতু।ইশশশ,,এত দূরে চলে গিয়েছে লোকটা।নামও ভেবে ফেলেছে। হায়,,
রিতুকে কোলে নিয়ে পা বাড়ালো রুমের উদ্দেশ্যে,
নতুন সম্পর্কের শুরু করতে, নতুন রূপে।মনের সাথে মিলন হবে শরীরের ও।
.
.
এক হাত ব্রিজের রেলিঙের ওপর আর অন্য হাতে কাব্য কে জড়িয়ে ধরে দাড়িয়ে আছে নূর।কাব্যর সাথে প্রথম বার যেদিন রাতে বের হয়েছিল সেদিন এসেছিলো এখানটায়।তারপর আর আাসা হয়নি।দুই বছর পর আজকে আসলো।রাত বেশি না সাড়ে দশটা বাজে হয়তো।কাব্যর কাধে মাথা রেখে দাড়িয়ে আছে নূর। মিহি স্বরে কাব্য জিজ্ঞেস করলো-
-চা খাবে?
নূর তড়িৎ গতিতে মাথা নাড়াতে নাড়াতে জবাব দিলো
-হ্যা খাবো।
এতক্ষণ খচখচ করছিলো মনটা বলার জন্য কিন্তু ভয়ে বলেনি।এখনতো সেই বলে দিয়েছে সুযোগ হাতছাড়া করে কিভাবে।
-ঠিক আছে নিয়ে আসছি।
-থ্যাঙ্কু।
কাব্য দুষ্টুমির ভঙ্গিতে বললো-
-চা খেতে বলেছি তাতেই এত খুশি।তুমি রাগ করলেও প্রবলেম নেই,,তোমাকে পটা/তে তো চা ই এনাফ।
মুখ বা/কালো নূর।বললো-
-চা….
-আরে বাবা আনছি আনছি।
সামনেই সেই টঙের দোকানটা। দোকানের মালিক বৃদ্ধ লোকটাকে কে যেয়ে সালাম দিলো কাব্য
-আসসালামু আলাইকুম চাচা।
-ওয়া আলাইকুমুস সালাম বাবা।কেমন আছো?এখানে তো আসোই না এখন।
-আলহামদুলিল্লাহ,, আপনি কেমন আছেন?আসা হয় না চাচা কাজের ব্যস্ততায়।
-আলহামদুলিল্লাহ বাবা,,আম্মা কেমন আছেন?.
-আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি চাচা।
-দোয়া করবেন আমাদের জন্য।আল্লাহর রহমতে আমাদের একটা পুচকু বা পুচকি আসছে শীঘ্রই।
-আলহামদুলিল্লাহ,, শুনে খুশি হলাম।ফি আমানিল্লাহ সুস্থ, সবলভাবে হোক সে।খেয়াল রাখিয়েন আম্মার।
-জ্বি।
চা নিয়ে গাড়ির সামনে আসলো দু’জন।কিছু একটা মনে করেই মুচকি হাসলো নূর। তার কোম/রের দুই পাশে হাত রেখে উঁচু করে গাড়ির ওপরে বসিয়ে দিয়ে নিজেও উঠে বসলো কাব্য। শক্ত করে ধরে রাখলো নূরের এক হাত।মূলত এই মূহুর্তটাকে মনে করেই হাসছিলো নূর।চায়ে চুমুক দিয়ে নূর ফিচেল কণ্ঠে বললো –
-সময় কত দ্রুত চলে যায় তাই না।দুই বছর আগের এই মূহুর্ত আর আজকের মূহুর্তটায় অনেক তফাৎ। তখন পরিস্থিতি এক ছিলো আর এখন এক। তখন সবে সম্পর্কের শুরু হয়েছে। আপনার সাথে পরিচয় হচ্ছিলাম, জানছিলাম আপনাকে একটু একটু করে। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে শ’খানেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো মন-মষ্তিষ্কে। কি হবে সামনে?কিভাবে মানিয়ে নিব এসব ভেবেই চিন্তা হচ্ছিল। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি এমন যে আপনি হৃদগহীনে এমনভাবে আসন পেতেছেন যে আপনাকে ছাড়া নিজেকে অস্তিত্ব হীন মনে হয়।ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্রতর ইচ্ছে,আবদার,স্বপ্ন সব আপনাকে ঘিরে ছিলো আর এখন তো সাথে আর একজন ও যুক্ত হয়েছে।এখন পুরো দুনিয়া আপনাকে আর তাকে ঘিরে হবে।আপনার কাছ থেকে যা যা পেয়েছি তার জন্য ধন্যবাদ দিবনা শুধু বলবো আমার সাথে,আমার কাছে থাকবেন সবসময়।ছেড়ে দেয়ার কথা তো কল্পনাতেও আনবেন না।আনলেও সেটা মুখে আনার আগেই ভুলিয়ে দিব একেবারে।আপনি আমার, আমার আর আমারই। অন্য কাউকে সহ্য করবোনা আমি।আপনাকে নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করবোনা একদম।
নূরের এক নাগাড়ে বলা কথা গুলো মন দিয়ে শুনলো কাব্য। হাসলো নিঃশব্দে।দুই হাতে জড়িয়ে ধরে তার মাথাটা বুকে চেপে ধরে মাথায় চুৃমু খেল দুইবার।
মিহি স্বরে জিজ্ঞেস করলো-
-ভালোবাসো?
উত্তর দিলো না নূর।আর একটু শক্ত করে ঝাপ/টে ধরলো তাকে।হাসি ফুটলো কাব্যর মুখে।নির্লিপ্ত গলায় বললো –
-আজ হোক বা কাল হোক,যেভাবেই হোক না কেন #অবশেষে_তুমি আমারই হতে।তোমার দিকে হাত বাড়িয়েছিলাম আমি সেই হাত আকড়ে ধরেছো তুমি,এখন চাইলেও সেই হাত ছাড়াতে পারবেনা।ছাড়বোনা আমি।জোর করে রেখে দিব।তুমি আমার ছিলে,আমার আছো আর #অবশেষে_তুমি আমারই থাকবে।
#সমাপ্ত