Home "ধারাবাহিক গল্প অবশেষে তুমি অবশেষে তুৃমি পর্ব-৩৪+৩৫

অবশেষে তুৃমি পর্ব-৩৪+৩৫

0
অবশেষে তুৃমি পর্ব-৩৪+৩৫

#অবশেষে_তুৃমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_৩৪
_________________________
নিরব,নিস্তব্ধ পরিবেশ।গগনতলে আগের দিনের মতো আজও চাঁদ উঠেছে থালার মতো।আকাশের বু/কে জ্বলজ্বল করছে সে।যেন মনে হাজারো কষ্ট নিয়েও হাসি মুখে আলো ছড়াচ্ছে ধরনীর বুকে।আলোকিত করছে প্রতিটা কোণা কোণা।সেই আলোর বিচরণ দেখতেই মগ্ন কাব্য।মুখে ক্ষণিক বিষাদের ছাপ।অস্ফুট স্বরে নিজে নিজেই শোধালো কাব্য-

-এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য যে সামনে আসবে কল্পনাতেও ছিলোনা আমার। ক্ষ/তি করেছে শা/স্তি দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার মৃ/ত্যু তো কামনা করিনি তাহলে এমনটা হওয়া কি খুব দরকার ছিল?কি জবাব দেব সিয়ামকে?

-কিসের জবাব?আর কার কথা বলছেন কাব্য?

আচমকা নূরের কণ্ঠ পেয়ে চমকালো কাব্য।কিন্তু মুখে সেই ছাপ পড়তে দিল না।পাশ ফিরে তাকালো কাব্য।নির্লিপ্ত চাহনি দিয়ে আবার ও তাকালো আকাশ পানে।গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসলো নূর।কাব্যর পাাশে দোলানায় বসলো।মিহি কণ্ঠে শোধালো-

-কি হয়েছে?কোনো কিছু নিয়ে টেনশনে আছেন?অফিসে কিছু হয়েছে?

হালকা হেসে কাব্য জবাব দিলো –

-উহুম কিছু হয়নি

-তাহলে তখন এমন তাড়াহুড়ো করে চলে গেলেন কেন? বললেন ও না আবার ফোন দিলেন তখনও তাড়াহুড়োয় রেখে দিলেন কিছু বলতেও পারিনি।ফিরলেনও এত দেরিতে।আর ফেরার পর থেকেই চুপচাপ আর মনে হচ্ছে কোনো গভীর ভাবনায় ডুবে আছেন।কি হয়েছে বলুন না।

আবারও হাসি টেনে কাব্য বললো-

-কিছু হয়নি। তুমি বেশি বুচ্ছো।

কাব্যর মুখ থেকে কথা বের করা সহজ না।তবুও দমে গেল না নূর।কাব্যর কা/ধেঁ হাত রেখে বললো-

-আপনার ভালো মন্দ দু’টো সময় ই আপনার পাশে থাকতে চাই আমি।আপনি যেমন আমার ভালো মন্দ দুইয়েই আমার পাশে থাকেন আর থাকবেন ঠিক তেমনভাবেই।যদি খারাপ সময়ে পাশে না থাকতে পারি তাহলে ভালো সময়েও যাতে না থাকি।

নূরের কথা শুনে তার দিকে পূর্ণ দৃষ্টি রাখলো কাব্য। মনে মনে হাসলো ও।অস্ফুটস্বরে বললো-

-বলবো।তুৃমি শুনবে?বিশ্বাস করবে আমার কথা?

-পারবো আর বিশ্বাস ও করবো।বিশ্বাস থেকেও বেশি বিশ্বাস আছে আপনার ওপর।

আবারও হাসলো কাব্য। নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো নূরের দিকে।
.
.
বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে আছে তন্নী। উদ্দেশ্য রিদকে ফোন করা কিন্তু সাহসে কুলোচ্ছে না তার।ডায়াল করছে আর সাথে সাথে কেটে দিচ্ছে। এবারো ডায়াল করলো কিন্তু কাটলো না।আল্লাহর নাম নিয়ে বুকে ফু দিয়ে ফোন ধরলো কানে।রিং হচ্ছে ধরছে না।তিনবারের সময় ফোন ধরলো রিদ।ভয়ে আর উ/ত্তে/জ/না/য় হৃদ স্প/ন্দন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে তার।ভয় মিশ্রিত কণ্ঠে ই বললো-

-আসসালামু আলাইকুম।

ওপাশ থেকে গম্ভীর আর শক্ত কণ্ঠের জবাব-

-ওয়া আলাইকুমুস সালাম।এত রাতে কেন ফোন দিয়েছ?

ক্ষণিক মন খারাপ হলো তন্নীর।তবুও সেদিকে পাত্তা দিল না।বললো-

-এমনি।কেন আপনি বিজি?

-হ্যা তোমার মতো ফোন টি/পা ছাড়া আরও অনেক কাজ আছে আমার।রাত হয়েছে ঘুমাও।রাখছি।

কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল রিদ।তার পূর্বেই ওপাশ থেকে মেয়েলি কণ্ঠ স্বর শোনা গেল।রিদের নাম ধরে ডাকছে।অজানা আশঙ্কায় বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো তন্নীর।কিছু জিজ্ঞেস ও করতে পারলোনা।পুনরায় কল দিল কিন্তু রিসিভ করা হলো না।রিদের হেন আচরণে তন্নীর চোখে অশ্র কণারা এসে ভিড়লো। ব্যথাতুর নয়নে তাকিয়ে রইলো ফোনের স্ক্রিনে।রাগে, ক্ষোভে ফোন ছুড়ে মারলো বিছানার অপর প্রান্তে।বালিশে মুখ গুজে দিলো।আখি জোরায় অনাকাঙ্ক্ষিত বর্ষণ নেমে এসেছে তার।
.
.

-কিছু লাগবে?

-হ্যা(নিচু স্বরে বললো)

-কি?

-পা,,পানি খাবো।

-দাড়ান দিচ্ছি।

মুখের সামনে এক পানির গ্লাসটা ধরলো রিদ।সামনের ব্যক্তিটাও গ্লাসটা নিয়ে ঢকঢক করে খেয়ে নিল।ফিরিয়ে দিল আবার গ্লাসটা।গ্লাসটা টেবিলে রেখে রিদ তার দিকে তাকিয়ে বললো-

-বাইরে গার্ডসরা আছে কোনোরকম চা/লা/কি করার চিন্তা ভাবনা করবেন না।

মলিন হেসে মাথা নাড়ালো সে।গার্ডসদের সব বুঝিয়ে দিয়ে ফার্ম হাউজ থেকে বেড়িয়ে পড়লো রিদ।রাত হয়েছে অনেক। বাসায় ফিরতে হবে।মিসেস রনিতা বাসায় একা।এ’কয়দিনে দৌড় ঝাপ করতে করতে হাপিয়ে গেছে সে।এবার বোধহয় একটু শান্তি মিলবে সবার।
.
.
সকাল নয়টা প্রায়।কাব্য কে নাস্তার জন্য ডাকতে রুমে এসেছে নূর।তারও রেডি হতে হবে দশটায় ক্লাস আছে।রুমে এসে দেখলো কাব্য আয়নার সামনে দাড়িয়ে রেডি হচ্ছে। নূর আলতো স্বরে বললো –

-নাস্তা করতে আসুন।

-হুম।ভার্সিটিতে যাবে আজকে?

-হ্যা।

-আজকে যেতে হবেনা।ভার্সিটি থেকে ছুটি নিয়েছি এক সপ্তাহের জন্য।

অবাক হয়ে তাকালো নূর। বিস্ময়াহত কণ্ঠে ই বললো-

-এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছেন? তাও আপনি কিন্তু কেন?

-দরকার আছে।ফিরে এসে বলবো।

কথা বাড়ালো না নূর।এমনিতেও কাল রাত থেকেই কাব্যকে কেমন যেন লাগছে তার কাছে।কিছু একটা নিয়ে খটকা লাগছে তার।ভালো লাগছেনা কিছুই।তন্নীর চেহারা দেখেও মনে হচ্ছে যেন আধার নেমেছে তার মনে।জিজ্ঞেস করেনি নূর।যখন তন্নীর ইচ্ছে হবে সে নিজে এসেই বলবে।এমনই তো করে।তাই নিজে থেকে জিজ্ঞেস না করে সময়ের অপেক্ষায় আছে।

নাস্তা করে অফিসে চলে গেছে কাব্য।তন্নী দরজা আটকে রুমে বসে আছে।মিসেস রেহানাও তার রুমে। নূরও বসে আছে ব্যালকনিতে বিষন্ন মনে।মনটা হুট করেই খারাপ হয়ে গেছে।সব কিছু অসহ্য লাগছে। কু ডাক ডাকছে মনের ভেতরে।’ভয় হচ্ছে খুব।কিন্তু কিসের ভয়?প্রিয় কিছু হারানোর ভয়?

কথাটুকু মস্তিষ্কে নাড়া দিতেই চকিতে নিজেই নিজেকে শোধালো নূর-

-কিছু হবেনা নূর।কাব্য ঠিকই বলছে বেশি ভাবছিস তুই। কিছু হবেনা। আল্লাহ ভরসা।

কাব্য কে ফোন দেয়ার জন্য ফোন হাতে নিবে তখনই ফোনের মেসেজ টোনে চমকে গেলো নূর।পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে মেসেজ ওপেন করতেই স্তম্ভিত হয়ে গেলো সে।কেউ একজন ভিডিও পাঠিয়েছে।কাঁপা কাঁপা হাতে ভিডিওটা ওপেন করলো নূর। বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে ভিডিও টা দেখছে সে।দু’চোখ দিয়ে অনবরত গড়িয়ে পড়ছে নোনা জ্ল।

অশ্রুসিক্ত নয়নে কাঁদতে কাঁদতে অস্ফুটস্বরে বললো-

-এভাবে ধোঁকা না দিলেও তো পারতেন কাব্য। কেন করলেন এমনটা?কেন আমার বিশ্বাস আর আমাকে ভেঙে চুরমার করে দিলেন?

#চলবে

#অবশেষে_তুমি
#লেখিকা_Nazia_Shifa
#পর্ব_৩৫
____________________
নিকোশ কালো অন্ধকারে আচ্ছন্ন ঘরময়।বেডের সাথে হেলান দিয়ে ফ্লোরে বসে আছে নূর।এলোমেলো চুলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বেডে। ছোট অবাধ্য চুলগুলো বারবার উপচে পড়ছে চোখেমুখে। বিরক্ত হওয়ার কথা হলেও সেদিকে ধ্যান নেই তার।শাড়ির আঁচল টাও অর্ধেক ফ্লোরে আর অর্ধেক বেডে গড়াগড়ি খাচ্ছে।সবকিছু সাইডে রেখে সে একধ্যানে টেবিল ল্যাম্পটা একবার জ্বালাচ্ছে আবার বন্ধ করছে।যেন এই মুহূর্তে আর পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এটাই।চোখে পানি আর মুখে বাঁকা হাসি।অদ্ভুত লাগছে নিজেকে নিজের কাছে।ক্ষণিক আগে ঘটা অপ্রিয়,অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা মনে পড়লো তার।

-হ্যা,,,হ্যালো।

–হ্যা বলো।

-কোথায় আপনি কাব্য?

-অফিসে। কেন কি হয়েছে?তোমার গলার স্বর এমন শোনাচ্ছে কেন?

-কি,,কিছুনা।আপনি তাড়াতাড়ি বাসায় আসুন।

-কিন্তু কেন?

-আসুন।

-ঠিক আছে আসছি আমি।

কিছু না বলে খট করে ফোন রেখে দিল নূর।নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না তার।কিভাবে পারলো কাব্য এমন করতে?বারবার মনে হচ্ছে এসব ভুল প্রমাণ হয়ে যাক।এমন কিছুই হয়নি।ভুল দেখেছে সে।কিন্তু নাহ একবার, দুইবার ভুল হতে পারে মানুষের। ভুল দেখেনি সে।কাব্য ই ছিলো সেটা।আবারো চোখ ভিজে উঠলো নূরের।ধপ করে বসে পড়লো বেডে।ফোনটা এখনো শক্ত করে ধরে রাখা হাতে।

ফোন করার মিনিট তিরিশের মধ্যেই আসলো কাব্য। হন্তদন্ত হয়ে ছুটলো রুমে।নির্বাক ভঙ্গিতে বেডে বসে আছে নূর। কাব্য যেয়ে নূরের এক হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

-কি হয়েছে? এভাবে বসে আছো কেন?শরীর খারাপ লাগছে?

ঝাড়া দিয়ে হাত সরিয়ে দিলো নূর।ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বললো –

-ছুবেননা আমায়।আপনার ছোয়া এখন কাঁটার মতো বিঁধছে শরীরে।

স্তব্ধ হয়ে গেলো কাব্য। কি বলছে নূর? কি করেছে সে?

আবারো হাত ধরতে গেলে নূর আবারো চে/চি/য়ে বললো-

-বলেছি না ছু/বেন্না আমায়।আপনি একটা খু/নি।খু/ন করেছেন আপনি।একটা মানুষকে মে/রে ফেলেছেন আপনারা।রু/হ কা/পেনি আপনাদের?কিভাবে করলেন এমনটা?

স্তম্ভিত কাব্য।তবুও শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো। শুকনো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো-

-কে বলেছে তোমায়?

হাতের ফোনে থাকা ভিডিওটা দেখালো নূর।স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।পুরোনো কোনো গোডাউন বা কারখানা মতো।সেখানে রিদ আর কাব্য দাড়িয়ে আছে আর তাদের সামনেই পড়ে আছে রিয়ার নিস্তেজ শরীরটা।কাব্যর ইশারা করতেই টে/নে হিচ/রে সেখান থেকে নিয়ে গেল রিদ।ভিডিও শেষ হতেই নূর কাব্যর দিকে তাকালো।আবার চোখ নামিয়ে নিলো সাথে সাথে। মিনিট একের মধ্যেই চোখ তুলে তাকালো কাব্যর পানে। ভেজা ভেজা কণ্ঠে বললো –

-সরি।আমি আপনাকে বিশ্বাস থেকেও বেশি বিশ্বাস করি বলেছিলাম।আপনি একবার বলুন ‘নূর এসব মিথ্যে।আমি কিছু করিনি।নির্দোষ আমি।’আমার জন্য যথেষ্ট। ভিডিও কেন কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করবোনা।প্লিজ বলুন কাব্য আপনি এসবের কিছু জানেননা।

নিরুত্তর কাব্য।

নূর অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো। আবার বললো-

-চুপ করে থাকবেন না কাব্য বলুন।

এবারো নিরুত্তর কাব্য।

চোখ মুছে রুঢ় কণ্ঠে নূর বললো-

-আপনি নিশ্চুপ। এই মৌনতাকে কি সম্মতি ধরে নিব।

নির্বাক কাব্য। যেন নূরের কোনো কথাই কানে যাচ্ছে না তার।

টুপ করে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো চোখ থেকে।আবারো মুছে নিলো কোনোরকম। ধাতস্থ করলো নিজেকে। বললো-

-চলে যাচ্ছি আমি।আর যাই হোক অন্তত একজন খু/নি/র সাথে থাকতে পারবোনা আমি।

তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো নূর।ভেবেছিলো কাব্য তাকে আটকাবে।বলবে-

-আমি কিছু করিনি। সব ভুল। কেউ ষ/ড়/যন্ত্র করছে।

কিন্তু নাহ সে তো পেছনে মুরে তাকায় ও নি।বাসা থেকে চলে আসার পর একবার ফোন দিয়ে খোঁজ ও নেয় নি।হাঁটুতে মাথা গুজে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো নূর। ‘এমনটা না হলে কি হতোনা?

.
.
অন্ধকারাচ্ছন্ন কামরা।কপালে হাত ঠেকিয়ে বিছানায় শুয়ে আছে কাব্য। দৃষ্টি মাথার ওপর অনবরত ঘুরতে থাকা সিলিং ফ্যানটার দিকে।দরজা ঠেলে রুমে আসলো তন্নী।লাইট অন করে দিল রুমের। কাব্য কে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে অবাক হলো কিঞ্চিৎ।জিজ্ঞেস করলো-

-ভাইয়া তুই এত তাড়াতাড়ি বাসায় যে?অসময়ে শুয়ে আছিস কেন?শরীর খারাপ লাগছে?আর নূর কোথায়?

তন্নীকে দেখে উঠে বসলো কাব্য। মুখে হাসি টেনে বললো-

-এমনি।কাজের প্রেশার কম ছিলো আজকে।নূরকে মামার বাসায় দিয়ে আসতে গিয়েছিলাম।

-মানে? কখন গেল নূর?বললো না তো?

-আমিই নিষেধ করেছিলাম।তুই রুমে ছিলি।আর আম্মু তো বাসায় ছিলোনা।তাই বলেছি যে আমি বলে দিব।

কাব্যর উত্তর তেমন পছন্দ হলোনা তন্নীর।কারন আর যাই হোক।সে রুমে থাকলেও দরজা ভে/ঙে হলেও তাকে বলে যেত।সাথে নিয়ে যাওয়ার বায়না করত।না হয় যেয়ে ফোন দিত তাকে।কোনটাই তো করেনি।

তন্নী আবার জিজ্ঞেস করলো-

-কিছু হয়েছে? ঝগড়া করেছিস তাই না?

হালকা হাসলো৷ কাব্য।বললো-

-হ্যা রাগ করেছে একটু চিন্তা করিস না দুই দিন থাকুক তারপর যেয়ে নিয়ে আসবো।

-সিরিয়াসলি তুই এখন ঝগড়া করা শিখে গেছিস?যাক গে আমি এত কিছু বুঝিনা তাড়াতাড়ি এনে দে নূরকে।ভাল্লাগেনা একা একা।

-হুম।

-কিছু খাবি? বানিয়ে দিব?

-না। এখন ফ্রেশ হতে যাবো।

-আচ্ছা।

তন্নী চলে গেলে কাব্য ওয়াশরুমে চলে গেল ফ্রেশ হতে।
.
.
সবে শাওয়ার নিয়ে এসে বেডে বসেছে নূর।পড়নে পিংক কালারের টি-শার্ট আর ব্লাক কালারের প্লাজু আর ওড়না।মাথা ব্যথা করছিলো প্রচুর।তাই শাওয়ার নিয়েছে।তখনই ফোন বেজে উঠল।তন্নীর ফোন। গলা ঝেরে নিল।ফোন রিসিভ করতেই শোনা গেল-

-কই গেছিস হ্যা?বলিসনি কেন?ফোন ও দেয়ার প্রয়োজন মনে করিস নি তাই না?তা বলবি কেন আমি তোর কে?কেউ ই তো না।

শুষ্ক ঠোঁট জোড়া জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিল নূর।ধীর কণ্ঠে বললো –

-রাগ করিস না সো/না।আসলে,,

-হয়েছে কাব্য ভাই সব বলেছে আমাকে।

কাব্যর নাম শুনে বক্ষ মাঝে চিনচিনিয়ে ব্যথার আভাস পেল নূর।আজকে তার বু/কে মাথা রেখে ঘুমানো হবেনা।সকালে পাশাপাশি বসে চা খেতে খেতে সকালের শুরু হবেনা।

-নূররররর

হকচকিয়ে উঠলো নূর।

-হ্য,,হ্যা।

-কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলি?

-কি,,কিছু না।

-কি হয়েছে? এমন শোনাচ্ছে কেন কণ্ঠ।

-কিছুনা। আসলে এসে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম তোর ফোন পেয়েই উঠেছি।তাই এমন শোনাচ্ছে।

-আচ্ছা। ফিরবি কবে?

নূর মলিন কণ্ঠে বললো-

-দেখি।

তন্নী আদেশের স্বরে বললো-

-দেখ টেখা যাবেনা।তাড়াতাড়ি আয় আমার একা ভাল্লাগে না।

মলিন হাসলো নূর।ছোট্ট করে জবাব দিলো –

-হুম।

নূরই জিজ্ঞেস করলো-

-মামনি কি রাগ করেছে আমার ওপর?

-না উল্টো আম্মুই বলছিল যে গিয়েছিস ভালো করেছিস।বিয়ের পর তো মাত্র একবারই গিয়েছিলি।

-ওহ।আচ্ছা এখন তাহলে রাখি।এশারের নামাজ পড়িনি এখনো।

-আচ্ছা।

ফোন রেখে দিয়ে কিছু একটা ভেবে বাঁকা হাসলো নূর।
উঠে রুম থেকে চলে গেলো বাইরে।
.
.
.
সময় প্রবহমান। চোখের পলকেই মাঝে কেটে গেছে দুই দিন।তবে দুই জন মানুষের জন্য এই দুইদিন যেন দুই বছরের ন্যায় ছিল।

ব্যালকনির গ্রিলে হাত রেখে দাড়িয়ে আছে নূর।গোধুলির লালাভ সৌন্দর্যে পরিবেষ্টিত চারিদিক।পাখিরাও নীড়ে ফিরতে বেজায় ব্যস্ত।কমলা রাঙা দীপ্তির প্রখরতায় পরিবেষ্টত সূর্যটাও পশ্চিমাকাশে অর্ধ ডুবন্ত অবস্থায়।লালাভ রাঙায় আকাশের বিদায়ের ন্যায় অনুভুতিরাও যেন বিদায় নিয়ে নিয়েছে নূরের কাছ থেকে।যেন শত শত রঙের ভিরে আজ রঙহীন অজানায় আচ্ছাদিত লাগছে নিজেকে।এই দু’টো দিনে নিজেকে এমনই লাগছে নূরের কাছে।মনে হচ্ছে এখনই দৌ/ড়ে চলে যাক কাব্যর কাছে।শক্ত করে জ/ড়িয়ে ধ/রুক তাকে।কিন্তু সেটা সম্ভব না।অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নূর।পুলিশের কাছে যাবে।ভিডিও টা এখনো আছে তার কাছে।দেখাবে তাদের। আর যাই হোক দুজন খু/নি/কে এভাবে খোলা আকাশের নিচে মুক্ত হয়ে ঘুরতে দেয়া যাবেনা।ফোনের মেসেজ টোন বাজতেই ফোন হাতে নিলো সে। মেসেজ ওপেন করে দেখল।বড় করে শ্বাস নিল কয়েকটা।তারপর রুমে এসে নিজেকে ঠিকঠাক করে বেড়িয়ে পড়লো বাসা থেকে।নিরব,নিস্তব্ধ রাস্তা।এই সময়টায় সচরাচর মানুষ থাকেনা। গাড়ির ডোর খুলে ভেতরে বসতে যাবে তখনই পেছন থেকে মুখ চেপে ধরলো কেউ।ছোটাছুটি করেও লাভ হলোনা।মূহুর্তেই নিস্তেজ হয়ে পড়লো শরীর।

#চলবে