#অ্যাডিক্টেড_টু_ইউ
#অরনিশা_সাথী
#পর্ব_১৭
ঘুম ভেঙে যেতেই নিজেকে এলোমেলো অবস্থায় আদ্রর বাহুডোরে বন্দি দেখলাম৷ লোকটা ঘুমের মাঝেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে আমায়। তার থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু উনার শক্তপোক্ত পুরুষালী হাতের বন্ধন থেকে নিজেকে ছাড়াতে ব্যর্থ হলাম। উনার বুকের সাথেই ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকলাম আরো ক্ষানিকটা সময়৷ আদ্রর চুলে হাত চালালাম কিছুসময়। উনি কিছুটা নড়েচড়ে উঠতেই ধীরে ধীরে উনার হাতের বন্ধন থেকে ছাড়িয়ে নিলাম নিজেকে। আদ্র নড়েচড়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন আবার। উনার পিঠে চোখ যেতেই চোখ কপালে আমার। সারা পিঠ জুড়ে আমার নখের আঁচড়ে লাল হয়ে আছে। কাল রাতের কথা মনে হতে লজ্জায় কুঁকড়ে গেলাম। যদিও আদ্র এখন ঘুমে তবুও কেন জানি উনার সামনে থাকতে লজ্জা লাগছে ভীষণ, তাই দ্রুত বিছানা ছেড়ে নেমে আদ্রর মাস্টার বেডরুমে চলে এলাম৷ সারা রুমে চোখ বুলালাম একবার৷ কোত্থাও আমার লাগেজ দেখতে পেলাম না৷ এখন শাওয়ার নিয়ে এসে কি পড়বো? কাঁপা কাঁপা হাতে আদ্রর আলমারি খুললাম। উনার আলমারিতে এক সাইড জুড়ে শুধু নানা ধরনের শাড়ী। যা দেখে বেশ অবাক হলাম আমি৷ সবগুলো শাড়ী দেখতে ভীষণ সুন্দর। গাঢ় সবুজ রঙের জর্জেট শাড়ী নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। বেশ কিছু সময় বাদে শাওয়ার নিয়ে বের হয়ে এলাম৷ দেখলাম আদ্রও উঠে এসেছে৷ বিছানায় আধশোয়া হয়ে ফোন দেখছে। আমাকে বের হতে দেখে ফোন রেখে এগিয়ে এলেন আমার দিকে৷ ঘোরলাগা দৃষ্টিতে দেখছে আমায়৷ তাই নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিলাম। আদ্র আমার কোমড় ধরে একটানে মিশিয়ে নিলেন নিজের সাথে৷ কপালে শব্দ করে চুমু খেলেন৷ বেশ কিছু সময় জড়িয়ে ধরে রেখে, শাওয়ার নিতে চলে গেলেন৷ আমি মূর্তির ন্যায় তখনো দাঁড়িয়ে আছি৷ লোকটা এমন কেন? যখন তখন হার্টবিট মিস করে দেয়৷ আর একটু হলেই তো দমবন্ধ হয়ে মরে যেতাম আমি৷ হার্টবিট এখনো দ্রুত লাফাচ্ছে৷ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি৷ কতক্ষণ একই ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম জানি না। হুশ ফিরতেই নড়েচড়ে দাঁড়ালাম। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে ভালো করে চুল মুছে নিলাম। টাওয়েল বারান্দায় মেলে দিয়ে আবার ড্রেসিং টেবিলের সামনে এসে দাঁড়ালাম। ঠোঁটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক দিয়ে কাজল নিলাম হাতে৷ কাজল দেওয়া শেষ হতেই ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো৷ কোমড়ে শুধু টাওয়েল পেঁচানো। আর গলায় অন্য একটা টাওয়েল ঝুলিয়ে সেটার এক মাথা দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলেন উনি। বুকের ধুকপুকানি শব্দটা ক্রমশই বেড়ে চলছে৷ লজ্জায় চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি। বেহায়া চোখটা উনাকে দেখতে চাচ্ছে বারবার৷ এক চোখ খুলে উনার দিকে তাকাতেই দেখলাম প্যান্ট পড়ছেন উনি। আয়নার ভিতর দিয়েই স্পষ্ট দেখতে পেলাম বুকে খামচির দাগ৷ নিমিষেই গালদুটো লাল হয়ে এলো। আদ্রর চোখে চোখ পড়তেই বাঁকা হেসে এগিয়ে এলেন আমার দিকে৷ আমার পেছনে দাঁড়িয়ে শাড়ি ভেদ করে কোমড়ে হাত গলিয়ে দিলেন। আবেশে চোখ বন্ধ করে নিলাম আমি৷ দুহাতে আমার উম্মুক্ত পেট খামচে ধরে ঘাড়ে মুখ গুজে দিলেন৷ উনার প্রতিটা স্পর্শে কেঁপে উঠছি আমি৷ বেশ কিছুক্ষণ ঘাড়ে, ভেজা চুলে নাক ডুবালেন৷ কোমড় ধরেই একটানে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে চোখের পাতায় চুমু খেলেন৷ চোখমুখ খিচে বন্ধ করে রেখেছি। আদ্র আমার গালে নাক স্পর্শ করে বললো,
–“শাড়ীটা পরে আবার পাগল করে দিলে তো৷ তোমায় কাছে পাওয়ার তীব্র নেশা আবার জেঁকে বসেছে আমায়। তোমার নেশা কাটতেই চাচ্ছে না৷ ইচ্ছে করছে আবারো কাল রাতের মতো নেশা কাটাই তোমাকে দিয়ে।”
কথাগুলো বলে হুট করেই কোমড় ধরে একটানে কোলে নিয়ে নিলো। কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো,
–“কন্ট্রোল লেস হয়ে পড়ছি বউ৷ এভাবে পাগল না করলেও পারতে৷ এখন যা হবে তার জন্য মোটেও আমি দায়ী নই।”
কথাগুলো বলে আচমকাই ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিয়ে পাগলের মতো চুমু খেতে লাগলেন। ঠোঁটে উনার স্পর্শ পেতেই বড় বড় চোখে তাকালাম আমি৷ উনি একহাতে আমার কোমড় এবং অন্যহাতে আমার ঘাড় ধরে উপড়ে তুলে নিয়ে চুমু খাচ্ছে৷ আমি একহাতে আদ্রর ঘাড় খামচে ধরে অন্যহাত দিয়ে উনার চুল মুঠো করে ধরেছি। লোকটার ছাড়ার নাম নেই৷ দম নিতে কষ্ট হচ্ছে আমার। ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করেও লাভ হলো না। যতক্ষণ না উনার আঁশ মিটেছে ততক্ষণ ছাড়েনি আমায়৷ পাগলের মতো চুমু খেয়েছে, সাথে কামোড় তো ফ্রী আছেই। আদ্র আমার নাকে শব্দ করে চুমু খেয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,
–“আদর করার সময় এমন নড়বে না৷ শান্ত ভাবে ফিল করবে, নয়তো আমার সাথে রেসপন্স করবা। তাহলে দেখবা আমাদের রোমান্সের জার্নিটা আরো বেশি ভালো হবে। আরো গভীর ভাবে আমার ভালোবাসাটা বুঝতে পারবে তুমি।”
কথাগুলো বলে কোল থেকে নামিয়ে দিলো আমায়৷ বা হাতের উলটো পিঠ দিয়ে আদ্র উনার ঠোঁট মুছে বাঁকা হাসলো আমার দিকে তাকিয়ে। তারপর আলমারি থেকে একটা কালো শার্ট বের করে গায়ে জড়ালো৷ ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের বোতাম লাগিয়ে চুলগুলো হাত দিয়ে সেট করে নিয়ে গায়ে পারফিউম দিচ্ছে। আমি তখনো বুকে হাত দিয়ে হাপাচ্ছি৷ লোকটা কি পাগল? দম বন্ধ হয়ে যদি মরে-টরে যেতাম তখন কি হতো? আদ্র রেডি হয়ে আমার কাছে এসে বললো,
–“আর কতক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে? নিচে যাবে না?”
আদ্রর কথায় টনক নড়লো আমার৷ ঘড়িতে দেখলাম নয়টার কাছাকাছি বাজে৷ বৈবাহিক জীবনের প্রথম দিন আজ। আর আজকেই রুম থেকে বের হতে এতটা লেট? নিচে সবাই কি ভাবছে ছিঃ। এই লোকটার হচ্ছে যত দোষ, কি দরকার ছিলো এখন এমন করার? আদ্র আমাকে চুপ থাকতে দেখে আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই আমার হাত ধরে দরজা খুলে বেরিয়ে এলো৷ সিড়ির কাছাকাছি যেতেই দেখলাম আয়ুশী আপু উপড়ে উঠছে। আমাদের দুজনকে দেখে দাঁত বের করে হাসলো। তারপর টিপ্পনী মেরে আদ্রকে বললো,
–“আদ্র তোর জন্য সকাল হয়েছে আজ? আমি তো ভেবেছিলাম কমসে কম আরো দু/তিন ঘন্টা অনায়াসে কেটে যাবে। এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলি যে?”
আদ্র আয়ুশী আপুর মাথায় থাপ্পড় দিয়ে বললো,
–“আমিও তাই ভাবছিলাম, একটু তাড়াতাড়িই বের হয়ে গেছি। কি আর করার বেরিয়ে যেহেতু গেছি তাহলে একেবারে ব্রেকফাস্ট করে তারপর আবার রুমে চলে যাই কি বলিস? সারা দিনেও আর দরজা খুলবো না।”
কথাগুলো বলে আদ্র আর আয়ুশী আপু দুজনেই উচ্চস্বরে হেসে উঠলো৷ এই দুজনের বে/ফাঁ/স কথায় আমি লজ্জায় মরে যাচ্ছি৷ ডাইনিং থেকে মামনি বললো,
–“আয়ুশী, ওখানে দাঁড়িয়ে না থেকে রুহিকে নিয়ে এখানে আসো৷ মেয়েটা রাতে তেমন কিছু খায়নি।”
আয়ুশী আপু আমার হাত ধরে ডাইনিংয়ে নিয়ে বসালেন৷ আপু আমার পাশে বসার জন্য চেয়ার টানতেই আদ্র এসে চট করে বসে পড়লো৷ আয়মান ভাইয়া বললো,
–“সারারাত বউকে কাছে পেয়েও মন ভরেনি? এখন এতটুকু সময়ের জন্যও যে কাছ ছাড়া করতে চাইছিস না।”
আদ্র ব্রেডে বাটার মাখাতে মাখাতে বললো,
–“কি করবো ভাই বল? বহু অপেক্ষার পর পেয়েছি তো তাই আর এক মিনিটের জন্যও দূরে রাখতে পারছি না।”
আদ্র আর আয়মান ভাইয়ার কথায় পাপা গলা ঝেড়ে জানান দিলেন যে, উনিও এখানে আছে। মূহুর্তেই লজ্জায় রক্তিম বর্ন ধারন করলো সারামুখ। ইশ্ উনারা সবাই দেখছি একই রকম। কারো মুখে কিচ্ছু আটকায় না৷ বড়দের সামনেও কিভাবে___এসব ভেবে মাথা নিচু করে রাখলাম আমি৷ সবার সাথে ব্রেকফাস্ট সেরে মাইশা তিন্নি আর আয়ুশী আপুর সাথে সোফায় বসে ছিলাম৷ আদ্র আর আয়মান ভাই বেরিয়েছে একটু৷ বললো দুপুরের দিকেই ফিরবে৷ মাইশাদের সাথে কিছু সময় গল্পগুজব করে কিচেনে মামনির কাছে গেলাম৷ মামনি তখন কিছু একটা রান্না করছিলো৷ জড়তা নিয়ে বললাম,
–“আমি আপনাকে হেল্প করি মামনি?”
মামনি গ্যাসটা একটু কমিয়ে আমার দিকে ঘুরলেন। আমার গালে হাত রেখে বললো,
–“যতদিন আমি আছি, ততদিন তোমার কিচ্ছু করতে হবে না। শুধু আমার আদ্রটার দিকে খেয়াল রেখো। পাগলটা বড্ড ভালোবাসে তোমাকে।”
মামনির মুখ থেকে এসকল কথা শুনে লজ্জা লাগছিলো ভীষণ। উনি যে আমায় ভালোবাসে সেটা শুধু আমিই জানতাম না আর তাছাড়া বাকী সবাই জানতো। মামনি হয়তো বুঝতে পারলো আমি লজ্জা পেয়েছি, তাই টপিক চেঞ্জ করে বললো,
–“মাইশা তিন্নি যেভাবে থাকে তুমিও সেভাবেই থাকবে। ওরা দুজন যেমন আমার মেয়ে তুমি তেমন আমার মেয়ে হয়েই থাকবে এ বাড়িতে, ছেলের বউ হয়ে না।”
মামনির কথাগুলো শুনে চোখ পানিতে ভরে উঠলো খুশিতে৷ ভাগ্য করে এমন বর, আর সংসার পেয়েছি৷ আমতা আমতা করে বললাম,
–“মেয়ে যেহেতু বলেছেন তাহলে তুমি করে ডেকে পর করে দিচ্ছেন কেন আবার?”
আমার কথায় মামনি হেসে জড়িয়ে ধরলো আমায়৷ তারপর কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে বললো,
–“আচ্ছা আমার মেয়েটা যা বলবে তাই হবে। এখন যা তো, উপরে গিয়ে ঘুমিয়ে নে৷ একটু বাদেই তোকে সাজানোর জন্য মেক-আপ আর্টিস্ট আসবে৷ রিসেপশন পার্টি আছে তো। পরে আবার ক্লান্ত হয়ে পড়বি।”
মামনির কথায় সম্মতি জানিয়ে উপরে আদ্রর রুমে চলে এলাম৷ দরজাটা হালকা চাপিয়ে শুয়ে পড়লাম। বিছানায় শুতে শুতেই রাজ্যের ঘুম এসে ভর করলো চোখে, সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
–
কোমড়ে কারো আলতো হাতের স্পর্শ পেয়ে ক্ষানিকটা কেঁপে উঠলাম আমি। কিন্তু তখনই চোখ খুললাম না। মনের ভুল ভেবে ঘুমানোর চেষ্টা করতেই বুঝতে পারলাম, কেউ একজন তার পা দিয়ে আমায় পায়ের গোড়ালি থেকে হাটু অব্দি স্লাইড করছে। সঙ্গে সঙ্গেই ঘুম উড়ে গেলো আমার। দ্রুত চোখ মেলে তাকালাম। আমার দিকে মুখ করেই শুয়ে আছে আদ্র৷ ঠোঁটে বাঁকা হাসি। উনার থেকে সরে আসতে চাইলেই কোমড় ধরে একটানে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয় আমাকে। কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলে,
–“আমার বউটা তো দেখছি এলোমেলো ভাবে ঘুমায়৷ দরজা লক করে ঘুমাওনি কেন? যদি আমি না এসে অন্য কেউ আসতো তখন? তখন তো তোমার এলোমেলো রুপ আমি ছাড়াও অন্যকেউ দেখে ফেলতো।”
নিজের দিকে একবার খেয়াল করে লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিলাম। শাড়ি উপরে উঠে আছে ফলে পা বের হয়ে আছে। পেট থেকে শাড়ী সরে গিয়ে পেটের অনেকটা অংশও দেখা যাচ্ছে। আদ্র আমার কানের লতিতে কামড় দিয়ে বললো,
–“একটা কথা রাখবে আমার?”
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে আদ্রর দিকে তাকালাম আমি৷ আদ্র বললো,
–“বাসায় সবসময় শাড়ি পড়বে প্লিজ?”
অনুরোধের কন্ঠে বললেন আদ্র৷ আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম,
–“শুধু বাড়িতেই কেন? কোথাও গেলে কি পড়বো?”
–“কোথাও গেলে ড্রেস পড়বা৷”
–“কেন কোথাও গেলে শাড়ি পড়তে পারবো না?”
–“নাহ।”
–কেন?”
–“শাড়িতে খুব আকর্ষণীয় লাগে তোমায়৷ বাইরে কোথাও শাড়ি পড়ে গেলে সবাই তোমার সেই রুপটা দেখবে যা আমি একদমই চাই না। বুঝলে?”
কথাগুলো বলে আবারো কানের লতি কামড়ে ধরলো৷ তারপর আবার ফিসফিসানো কন্ঠে বললো,
–“জানো নীলাদ্রির বিয়ের দিন শাড়ি পড়া অবস্থায় তোমাকে দেখে বারবার এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিলাম আমি৷ তোমাকে কাছে পাওয়ার তীব্র নেশাটা বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিলো৷ ভীষণ হেল্পলেস লাগছিলো তখন৷ নিজেকে সামলাতে নিজের সাথেই একপ্রকার যুদ্ধ করতে হয়েছে আমার।”
এইটুকু বলে আদ্র থামলেন৷ আমি আদ্রর চোখে চোখ রেখে বললাম,
–“তাহলে তো বাসায় একদমই শাড়ি পড়া যাবে না।”
আদ্র ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন,
–“কেন?”
আমি মৃদু হেসে বললাম,
–“তখন পুরোপুরি ভাবে আপনার হইনি বলে আপনার শত কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে সামলে রেখেছিলেন৷ কিন্তু এখন তো আমি সম্পূর্ণ আপনার, বাসায় সবসময় শাড়ি পড়ে থাকলে আপনার নিজেকে দমিয়ে রাখার প্রশ্নই আসে না৷ পরে দেখা যাবে যখন তখন হামলে পড়বেন আমার উপর৷ তখন আমার কি হবে? তাই ভেবে নিয়েছি শাড়ি পড়বো না।”
–“কি আর হবে? আমি তোমায় ভালোবাসবো আর তুমি সেটা ফিল করবে৷ তুমিও ভালোবাসবে আমায়৷”
উনার এহেন কথায় চোখ বন্ধ করে নিলাম আমি। উনি কানের কাছে মুখ এনে নেশা জড়ানো কন্ঠে বললেন,
–“এখনো তো শাড়ি পড়েই আছো, সাথে এলোমেলো ভাবে। নিজেকে ধরে রেখে কি হবে? হামলে পড়ি কি বলো?”
কথাটা বলে উনি আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না৷ সাথে সাথেই গলায় মুখ ডুবালো৷ সারা শরীরে এক অদ্ভুত কম্পন সৃষ্টি হলো৷ উনার স্পর্শে ক্ষনে ক্ষনে কেঁপে উঠছি৷ এক পায়ের উপর আরেক পা দিয়ে শক্ত করে বিছানার সাথে চেপে ধরেছি৷ একহাতের বিছানার চাদড় খামচে ধরলাম৷ উনি গভীর ভাবে কোমড়ে পেটে উনার হাত দিয়ে স্লাইড করছে৷ গলায় অজস্র চুমুতে ভড়িয়ে দিচ্ছে৷ উনার করা প্রতিটা স্পর্শে অদ্ভুত ভাবে সাপের মতো মোচড়ামুচড়ি করছি৷ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছি৷ সমান তালে হৃদস্পন্দন লাফিয়ে যাচ্ছে৷ আদ্র গলা থেকে মুখ সরিয়ে ঠোঁট চুমু খেতেই দরজা ধাক্কানোর শব্দ এলো কানে৷ আদ্র সেদিকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মত করে চুমু খাচ্ছিলো৷ দরজা ধাক্কানোর শব্দ ধীরে ধীরে বাড়তেই আদ্র আমার উপর থেকে সরে গিয়ে বিরক্তিতে মুখ দিয়ে ‘চ্যাহ’ টাইপ শব্দ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো৷ আমি দ্রুত বিছানা থেকে নেমে শাড়ি ঠিক করে দরজা খুলে দিলাম৷ মাইশা দাঁড়িয়ে আছে৷ আমাকে দেখেই বাঁকা হাসলো মেয়েটা৷ আমি ওকে ভিতরে আসতে বললে ও জানালো এখন ভিতরে আসবে না। মাইশা একবার রুমে উঁকি দিলো৷ আদ্র তখন বিছানায় শুয়ে ফোনে কিছু একটা দেখছিলো৷ আমিও ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে পেছনে বিছানার দিকে তাকালাম৷ তাড়াহুড়ায় বিছানা ঠিক করতে একদমই ভুলে গেছিলাম৷ লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলাম। মাইশা আমার দিকে ঝুকে বললো,
–“মেক-আপ আর্টিস্ট এসে পড়েছে৷ এখন পাঠাবো? নাকি অর্ধেক হওয়া রোমান্সটা ফুলফিল করবে তারপর পাঠাবো?”
মাইশার কথায়ভ রাগী চোখে তাকালাম আমি৷ মেয়েটা বড্ড ফাজিল। কিভাবে অ/ক/প/টে এই কথাটা বলে দিলো৷ মনে মনে আদ্রকে হাজারটা গালি দিচ্ছি। অসভ্য লোকটার জন্য এখন আমায় মাইশার সামনে লজ্জায় পড়তে হলো। আমি মৃদুস্বরে বললাম,
–“এখনই পাঠিয়ে দাও। আমি তোমার ভাইয়াকে বের করছি রুম থেকে।”
আমার কথায় মাইশা সম্মতি জানিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার আগে অবশ্য দাঁত বের করে হাসতে ভুলেনি৷ ওর হাসির মানেটা স্পষ্ট বুঝতে পেরে আবারো কয়েক দফা গালি দিলাম আদ্রকে।
চলবে~
#অ্যাডিক্টেড_টু_ইউ
#অরনিশা_সাথী
#পর্ব_১৮
হোয়াইট কালার লাক্সারি প্রিন্সেস সিন্ডারেলা ফেয়ারি টেল পাফি ব্রাইডাল বল গাউনে নিজেকে সাজিয়েছি রিসেপশন পার্টির জন্য। কোমড় ছাড়িয়ে যাওয়া লম্বা চুলগুলোতে, মাল্টিপল ব্রেইড ভলিউমিনাস মেসি বান করা হয়েছে। গাউনটা দেখতে অসম্ভব রকমের সুন্দর। আদ্রর পছন্দের তারিফ করতে হয়। নিজের বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে অনক স্বপ্ন ছিলো। চেয়েছিলাম নিজের পছন্দে সবকিছু কেনাকাটা করবো। কিন্তু বিয়ের কেনাকাটার ব্যাপারে কেউ কিছু বলেওনি আমাকে। আর আমারও সেসময় মুড ভালো না থাকায় তেমন একটা আগ্রহ দেখাইনি। তবে এখন মনে হচ্ছে আগ্রহ না দেখিয়েই ভালো হয়েছে। নয়তো আদ্রর পছন্দ সম্পর্কে ধারনা হতো না। ভাগ্যিস আমি যাইনি শপিংয়ে, নয়তো বিয়ের এই তিনটা দিন আদ্রর পছন্দে নিজেকে মুড়াতে পারতাম না। তখন ওই নিজের পছন্দ করা হাবিজাবি টাইপ ড্রেস পড়তে হতো আমার। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছি আর এসব ভাবছি। মিনিট দশেক আগেই সাজ শেষ হয়েছে। এতক্ষণে মনে হয় মেক-আপ আর্টিস্ট দুজন খেয়েদেয়ে বেরিয়েও পড়েছে আবার নিজ গন্তব্যে। আর আমি সেই তখন থেকে নিজেকে দেখেই যাচ্ছি।
দরজা খোলার শব্দে হুশ ফিরে আমার৷ দুহাতে গাউনটা সামান্য উঁচু করে ধরে পেছন ফিরে দরজার দিকে তাকালাম। আদ্র দরজা চাপিয়ে আমার দিকে ঘুরতেই থমকে গেলেন উনার অস্থির দৃষ্টি গুলো খুব শান্তভাবেই থেমে গেলো৷ হা করে তাকিয়ে দেখছে আমাকে৷ উনার চাহনিতে এটা স্পষ্ট যে, উনার ভাবনার চেয়েও বেশি সুন্দর লাগছে আমাকে। আমি মৃদু হেসে উনার দিকে এক পা এগোতেই দরজা খুলে হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকলো মাইশা তিন্নি সাথে ওদের কাজিন এবং আদ্রর ফ্রেন্ড সার্কেল। তাই ওখানেই পা দুটো থেমে যায়৷ সবাইকে দেখে আদ্র নিজেকে সামলে নিয়ে ঠিকঠাক ভাবে দাঁড়ায়৷ আবার এক পলক আমার দিকে তাকিয়ে বিছানায় রাখা উনার আজকের পার্টির ড্রেস নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো৷ মাইশা আর তিন্নি এসে জড়িয়ে ধরলো আমায়৷ তারপর সাজের প্রশংসা করলো৷ আমি ওদের কথায় স্মিত হাসলাম।
আদ্রদের ড্রয়িংরুমটা বেশ বড়সড়। সেখানেই রিসেপশন পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। আর খাবার ভ্যানুটা বাগানের করা হয়েছে। আদ্রর বা পাশে দাঁড়িয়ে উনার একহাত জড়িয়ে সিড়ি দিয়ে নামছি দুজনে। উনি আজ ফুল ব্ল্যাক গেটাপে আছেন। আমার ড্রেস কোড হোয়াইট আর উনার ব্ল্যাক। দুটোর কম্বিনেশন খুব ভালো মানিয়েছে। নিচে নেমে পাশাপাশি রাখা দুটো সিংহাসনের মতো চেয়ারে বসে পড়লাম দুজনেই। খানিক বাদেই দেখলাম গেইট দিয়ে আমার বাসার লোকজন এবং পুরো কাজিন গ্যাং আসছে। বাবার বাড়ির সবাইকে দেখে হাসি ফুটে উঠলো আমার। আমি উঠে এসে আব্বুকে জড়িয়ে ধরলাম। আব্বু মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন আমায়। আদ্র গিয়ে আব্বুকে সালাম দিতেই আব্বু উনাকেও বুকে আগলে নেন। দুই ফ্যামিলির সবাই বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে। আমি স্টেজে বসে আপি ওদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি। আদ্র আমাদের থেকে বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে উনার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। মাঝে মধ্যে আবার আড়চোখে দেখছে আমাকে। দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম আমি।
দুই পরিবারের সকলে একসাথে খেতে বসেছি। আমার একপাশে আদ্র আর অন্যপাশে আব্বু। খাওয়ার জন্য হাত উঠাতে গেলেই সবার আড়ালে আদ্র আমার হাত চেপে ধরে রাখলেন। অবাক চোখে তাকালাম আমি। লোকটা চাইছে কি? মোচড়ামুচড়ি করেও লাভ হচ্ছে না। আদ্র নিজেই খাবার নিয়ে আমার মুখের সামনে তুলে ধরলেন। আশেপাশে চোখ বুলালাম আমি। সবাই দেখছে আর মিটিমিটি হাসছে। আব্বু, পাপা, মামনি মাথা নিচু করে খাচ্ছে। কিন্তু তাদের মুখেও হাসি লেগে আছে। লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম আমি। আদ্র তখনো মুখের সামনে খাবার তুলে ধরে রেখেছে। তাই বাধ্য হয়েই খেয়ে নিলাম উনার হাত থেকে।
–
সন্ধ্যা সোয়া কি সাড়ে সাতটা নাগাদ আমাদের বাড়ি এসে পৌঁছালাম৷ সকল রিচুয়্যালস মেনে রুমে যেতে যেতে আটটা বেজে গেলো৷ রুমে ঢুকেই বিছানায় গিয়ে ধপ করে শুয়ে পড়লাম। ক্লান্ত লাগছে বড্ড। আদ্র রুপ ভাইয়া ওদের সাথে বেরিয়েছে বোধহয়। বেড সাইড টেবিলের ড্রয়ারে অযত্নে পড়ে থাকা আমার প্রানপ্রিয় ফোনটা বের করে হাতে নিলাম। শান্তি লাগছে এখন৷ গুনে গুনে দু/দিন বাদে রিল্যাক্সে ফোনটা হাতে নিলাম৷ এফবিতে ঢুকে দেখলাম এত্ত এত্ত নোটিফিকেশন এর পাহাড় জমেছে এই দুদিনে৷ বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে থেকে উঠে বসলো৷ কাবার্ড থেকে শিফনের ব্ল্যাক শাড়ি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। পুরো শাড়ি জুড়ে ছোট্ট ছোট্ট সাদা স্টোন বসানো৷
আধ ঘন্টা বাদে ফ্রেস হয়ে বের হতেই দেখলো আদ্র বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসে আছে৷ ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে টাওয়েল দিয়ে ভালোভাবে চুল মুছে নিচ্ছি। আদ্র এসে পেছন থেকে দুহাতে কোমড় জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে থুতনি রাখলো৷ তারপর ঘাড়ে ঠোঁট লাগিয়েই বললো,
–“আর একটু ওয়েট করতে পারতে তো আমার জন্য।”
ভ্রু জোড়া আপনা-আপনি কুঁচকে গেলো৷ ঘাড় ঘুরিয়ে উনার দিকে তাকাতেই উনি বললো,
–“তাহলে এখন তোমায় একা একা কষ্ট করে ফ্রেস হওয়া লাগতো না৷ দুজনে একসাথে ডিরেক্ট শাওয়ার নিতাম।”
উনার এহেন কথায় কেঁশে উঠি আমি। উনি বাঁকা হেসে আমায় ছেড়ে দিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লেন। আমি নির্বিকার হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার যাওয়ার পানে। লোকটা আসলেই অদ্ভুত। টাওয়েল-টা বারান্দায় মেলে দিয়ে বের হয়ে গেলাম রুম থেকে। আপি ভাইয়া দের সাথে আড্ডার আসরে বসলাম। টুং করে ম্যাসেজ নোটিফিকেশন বাজতেই ফোন হাতে নিয়ে ম্যাসেজ চেক করলাম। আদ্রর ম্যাসেজ, রুমে যেতে বলছেন এক্ষুনি। দ্রুত কদমে উঠে এলাম ওখান থেকে৷ রুমে এসে দেখলাম উনি ফ্রেস হিয়ে বিছানার হেডবোর্ডের সাথে হেলান দিয়ে বসে ফোন দেখছে। উনার পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই, কোমড় ধরে হ্যাঁচকা টানে উনার কোলে নিয়ে বসালেন। দুহাতে উনার গলা জড়িয়ে বুকে মাথা রাখলাম আমি৷ এই মানুষটার কাছে এলে আমি অদ্ভুত এক শান্তি অনুভব করি সবসময়। মানুষটার সংস্পর্শে এলে মনটা শীতল হয়ে যায়। আদ্র আমার শাড়ি ভেদ করে উম্মুক্ত পেটে হাত গলিয়ে দিলেন। উনার স্পর্শে ক্ষানিক কেঁপে উঠলাম আমি।
হুট করেই হিয়াজ দৌড়ে এলো রুমে। ওকে দেখে আমি দ্রুত উনার কোল থেকে নেমে গেলাম৷ হিয়াজের দিকে হাত বাড়াতেই ও ছুটে এসে আমার কোলে উঠে পড়লো। আমার গলা জড়িয়ে ধরে বেশ কিছু সময় চুপটি করে রইলো। তারপর বারবার রাগী চোখে আদ্রর দিকে তাকাচ্ছে৷ আদ্র মৃদু হেসে বললো,
–“কি হয়েছে, হিয়াজের কি মন খারাপ?”
হিয়াজ আদ্রর কথার জবাব না দিয়ে আবারো আমার কাঁধে মুখ গুজে পড়ে রইলো৷ তারপর পিটপিট করে আবার আদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,
–“ও তোমাকে কোলে নিছে কেন?”
আমি হিয়াজের কথায় ওর কপালে চুমু খেয়ে বললাম,
–“ও না সোনা, জিজু হয় তোমার।”
হিয়াজ আবারো বললো,
–“জিজু তোমায় কোলে নিছে কেন? তোমাকে কোলে আমি নিবো। তুমি আমার সাথে থাকবে ওর সাথে থাকছো কেন?”
এক নাগাড়ে হিয়াজের এতগুলো কথা শুনে অবাক চোখ তাকালাম আমি। আদ্রও ক্ষানিকটা অবাক হইছে ওর কথায়। আদ্র হিয়াজের গাল টেনে দিয়ে বললো,
–“আমার বউ আমার কোলে উঠবে + আমার কাছে থাকবে না তো কার কাছে থাকবে?”
আদ্রর কথায় হিয়াজ ঠোঁট উলটে বললো,
–“আমার কাছে থাকবে।”
–“কেন? তোমার কাছে থাকবে কেন? কে হয় ও তোমার?”
হিয়াজ ঠোঁট উলটে বললো,
–“রুহিপু আমার বউ লাগে৷ ও আমার কাছে থাকবে৷ আমি বড় হয়ে বিয়ে করবো রুহিপুকে।”
হিয়াজের কথায় আদ্র শব্দ করে হেসে দিলো। হাসি থামিয়ে বললো,
–“তোমার রুহিপু অলরেডি আমার বিয়েকরা বউ হয়ে গেছে সোনা। তুমি ভুল নাম্বারে ডায়াল করে ফেলছো। এখন অন্য কাউকে খুঁজে নিও তুমি।”
আদ্রর এহেন কথায় হিয়াজ আমার কোল থেকে নেমে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর কাঁদছে৷ হিয়াজের এমন কাজে আমি আদ্র দুজনেই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই৷ দ্রুত হিয়াজকে উঠাতে গেলে ও কান্নার পরিমান আরো বাড়িয়ে দেয়৷ ড্রয়িংরুম থেকে সকলে ছুটে আসে হিয়াজের কান্না শুনে। আমি আর আদ্র তখন ব্যস্ত হিয়াজকে বোঝাতে। মামি এসে হিয়াজকে এক ধমক দিতেই ও শান্ত হয়ে চুপচাপ আমার কোলে এসে গলা জড়িয়ে ধরলো। মামি জিজ্ঞেস করলো,
–“এভাবে ফ্লোরে গড়াগড়ি করে কাঁদছিলে কেন? আবার কি হইছে তোমার?”
হিয়াজ আমার কাঁধ থেকে মুখ তুলে মামিকে বলে,
–“জিজু রুহিপুকে কোলে নিছে আর বলছে রুহিপু নাকি উনার বউ। আমায় অন্য কাউকে খুঁজে নিতে বলছে। আমি রুহিপুকে ছাড়া অন্যকাউকে বিয়ে করবো না।”
কথাগুলো বলে আবারো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমায়৷ সবার সামনে হিয়াজ এই কথা বলায় আদ্র কেঁশে উঠে। সাথে আমিও লজ্জায় পড়ে যাই৷ এই হিয়াজটাও না। হিয়াজের কথায় সকলে হেসে উঠলো। আম্মু বললো,
–“তোমার রুহিপুর তো বিয়ে হয়ে গেছে তোমার জিজুর সাথে৷ তোমাকে আমি আরো সুন্দর লাল টুকটুকে বউ এনে দিবো কেমন?”
হিয়াজ নাকোচ করে বললো,
–“উঁহু, আমার লাল টুকটুকে বউ চাই না৷ আমি রুহিপুকেই বিয়ে করবো।”
–“আচ্ছা বাবা, তুই তোর রুহিপুকেই বিয়ে করিস। এখন আমার কাছে আসো। রুহিপুকে থাকতে দাও এখানে৷”
কথাগুলো বলে মামি হিয়াজকে কোলে নিতে হাত বাড়ালে হিয়াজ আমায় শক্ত করে ধরে বললো,
–“উঁহু, যাবো না৷ আমি রুহিপুর সাথেই থাকবো। নয়তো জিজু আবার কোলে নিবে রুহিপুকে।”
হিয়াজের কথায় থতমত খেয়ে গেলাম আমি। কাজিন মহলের সকলে মুখ টিপে হাসছে আমায় আর আদ্রকে এভাবে লজ্জায় পড়তে দেখে। আম্মু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,
–“খেতে চলো সবাই। আদ্র, এসো বাবা।”
আদ্র ‘আসছি’ বলতেই আম্মু আর মামি বেরিয়ে গেলেন। এতক্ষণের চিপে রাখা হাসিগুলো আর আটকে রাখতে পারলো না এরা। আমার ঘর কাঁপিয়ে অট্টহাসিতে মেতে উঠেছে সবাই।
খাবার টেবিলেও হিয়াজ আমার হাতে ছাড়া খাবে না। তাই ওকে পাশে বসিয়ে খাইয়ে দিলাম আমি। খাওয়া-দাওয়ার শেষে শুতে গিয়ে হলো আরেক ঝামেলা। হিয়াজ ছাড়ছে না আমায়। আমার সাথে ঘুমাবে ও। আমার কোল থেকে নামতেই চাইছে না। আদ্রকে বললাম,
–“আপনি গিয়ে শুয়ে পড়ুন। আমি হিয়াজের সাথে যাচ্ছি।”
আদ্রর মুখটা একটুখানি হয়ে গেলো। বিড়বিড় করে বললো,
–“বিয়ে করলাম আজ দুদিন, অথচ দেখো আজই বউ ছাড়া থাকতে হবে। এই শালাটা-ও না কি দেখে যে আমার বউটার উপরই ফিদা হইছে আল্লাহ জানে।”
আদ্রর বিড়বিড়ানো কথা আর কেউ শুনতে না পেলেও আমি শুনলাম সবই। আদ্র মৃদু হেসে চলে চলে গেলো। আমিও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হিয়াজকে নিয়ে অন্য রুমের দিকে পা বাড়ালাম।
চলবে~