#আমার_অগোছালো_জীবনে_গোছালো_তুই
#লেখনীতেঃতানজিলা_খাতুন_তানুলেখনীতেঃতানজিলা_খাতুন_তানু
#পার্টঃ১
– সবকিছু জানার পরও তুই কেন আমাকে বিয়ে করলি? কেন নিজের জীবনটা এভাবে নস্ট করলি বল,আমি না জানলেও তুই তো জানতিস আমার সাথে তোর বিয়ে হতে চলেছে তাহলে কেন বাঁধা দিলি না কেন একবার আমাকে জানালি না বল?
নাহিদের দিকে তাকিয়ে জারা শান্ত কন্ঠে বললোঃ জানিয়ে কি হতো বলো?
নাহিদঃ পাগলের মতো কথা বলিস না তুই তো জানতিস আমি একজনকে ভালবাসি,আর তাকে ছেড়ে কখনোই কাউকে ভালোবাসতে পারবো না তবুও কেন নিজের জীবনটা আমার এলোমেলো জীবনের সাথে জড়ালি বল?
জারা নাহিদের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললোঃ তোমার এলোমেলো জীবনটা গোছানোর জন্যই তো নিজেকে জড়ালাম তোমার জীবনের সাথে।
নাহিদঃ কি হলো কথা বলছিস না কেন?
জারাঃ দ্যাখো দাদা, সরি দ্যাখো জন্ম- মৃত্যু-বিয়ে তিনটিই কিন্তু আমাদের হাতে থাকে না। আল্লাহ তায়ালা কার সাথে কার জুটি বেঁধে রেখেছেন সেটা একমাত্র তিনিই জানেন। আমার সাথে তোমার হবার ছিলো তাই হয়েছে এটাকে আমরা কেউ বদলাতে পারবো না।
নাহিদ জারাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বললোঃ তুই কি চাইছিস বলতো?
জারা আলতো করে হেসে বললোঃ তোমাকে
নাহিদ অবাক চোখে বললোঃ মানে?
জারাঃ কিছু না, একটা কথা বলার ছিলো।
নাহিদঃ কি
জারাঃ আমাকে তুই করে সবার সামনে বলবে না তাহলে সবাই ভাববে আমরা আগে থেকেই পরিচিত আর সকলে হয়তো উল্টোপাল্টা ভাবতে পারে।
নাহিদঃ হুম।
জারাঃ সারাদিন অনেক ধকল গেছে আমার খুব ঘুম পাচ্ছে আমি ঘুমায়।
নাহিদঃ হুম যা।
জারা বিছানায় শুয়ে পড়লো। নাহিদ চেয়ারে বসে ভাবতে লাগলো ,ভাগ্য তার সাথে আর কত খারাপ করবে। যাকে নিজের বোনের চোখে দেখে এসেছে তাকে কিভাবে স্ত্রী ভাববে সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না নাহিদ।
জারা শুয়ে ভাবতে থাকে আগের কথা….
নাহিদ আর জারা একে অপরকে প্রায় ৩ বছর ধরে চেনে। ওদের পরিচয়টা ভার্চুয়াল জগতেই , তবে কখনোই দুজনের মাঝে কোনো সম্পর্ক গড়ে উঠেনি নাহিদ সবসময় জারাকে নিজের বোনের চোখে দেখতো নাহিদের জীবনের সবকিছুই জারা জানতো কিন্তু একটা ঝামেলার পরে ওদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জারা পড়াশোনা শেষ করার পর ওর বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য দেখাশোনা করতে থাকে আর ভাগ্যক্রমে নাহিদের সাথেই ওর বিয়ে ঠিক হয় নাহিদ জারার সম্পর্কে সবকিছুই জানতো কিন্তু সময়, পরিস্থিতির চাপে সবকিছুই মাথা থেকে বেড়িয়ে গিয়েছিলো। জারাও প্রথমে জানতো না নাহিদের সাথে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে কিন্ত নাহিদের নম্বরটা ওর খুব চেনা চেনা লাগে আর কৌতূহল বশত নম্বরটা মেলাতে গিয়ে দেখতে পাই নম্বরটা নাহিদের। জারাও প্রথমে বিষয়টা মেনে নিতে পারছিলো না কিন্তু ভাগ্যের লিখনে জারাও সবটা মেনে নেয় আর নাহিদের সাথে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায়।
রাত্রিরে নাহিদের ঘরে জারাকে বসিয়ে রেখে দিয়ে যায় বড়োরা। নাহিদ ঘরে আসতেই জারা শান্ত কন্ঠে সালাম দেয় নাহিদ সালামের উত্তর দেয়। দুজনেই ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে।
নাহিদ জারাকে কিছু বলবে বলে উশখুশ করতে থাকে, জারা সেটা বুঝতে পেরে বললোঃ আপনি কি কিছু বলবেন?
জারা খুব ভালো করেই জানে নাহিদ ওর সাথে বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানে না,জানলে কখনোই এই বিয়েটা করতো না। নাহিদ জারাকে কখনোই দেখেনি ছবি দেখেছিলো তবে আগের থেকে জারার মাঝে পরির্বতন এসেছে আগের ছবি দেখে এখন জারাকে মেলানো খুব একটা সহজ কাজ নয়। নাহিদও বুঝতে পারেনি।
নাহিদ মৌনতা ভেঙে বললোঃ আমি আসলে এই বিয়ে করতে চাইনি। বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলো তাই বিয়ে করেছি আমার মানিয়ে নিতে সময় লাগবে।
জারা শান্ত স্বরে বললঃ এখনো কি ভালোবাসার মানুষটিকে ভুলতে পারো নি।
নাহিদ চমকে উঠলো জারার কথা শুনে। নাহিদ ভ্রু কুঁচকে বললোঃ কি বলছেন এসব।
জারা একটু হেসে বললোঃ এখনো কি মাথায় সুইসাইড করার নেশা চেপে আছে।
নাহিদ এবার পুরোপুরি শিওর হয়ে গেলো এটা ওর চেনে কেউ কিন্তু কে সেটাই বুঝতে পারছে না ঠিক করে।
নাহিদঃ কে তুমি?
জারাঃ আমি জারা। চিনতে পারছো?
নাহিদ অবাকের শেষ পর্যায়ে।জারা মানে যাকে নিজের বোন মনে করে সেই জারা আজকে ওর সামনে ওর নিজের স্ত্রী রূপে আছে।
নাহিদঃ জারা মানে সেই জারা।
জারা মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো।
নাহিদ জারার দিকে তাকিয়ে বললোঃ সবকিছু জানার পরও তুই কেন আমাকে বিয়ে করলি?কেন নিজের জীবনটা এভাবে নস্ট করলি বল,আমি না জানলেও তুই তো জানতিস আমার সাথে তোর বিয়ে হতে চলেছে তাহলে কেন বাঁধা দিলি না কেন একবার আমাকে জানালি না বল?
তারপরের কথাবার্তা তো সকলেরই জানা। কি হবে নাহিদ আর জারার জীবনে। নাহিদ কিভাবে মেনে নেবে বোন তূল্য জারাকে নিজের স্ত্রী রূপে। আর জারাই বা কি করবে সে তো জানে তার স্বামীর মনে অন্য একজন আছে সে কি পারবে নিজের স্বামীর মনে জায়গা করে নিতে।
পরেরদিন সকালে….
জারা ভোরবেলা উঠে নাহিদ কে ডাক দিলো নামাজ পড়ার জন্য। নাহিদ চেয়ারেই ঘুমিয়ে পড়েছিলো কালকে রাতে।
নাহিদঃ কি হলো।
জারাঃ নামাজ পড়বে না।
নাহিদঃ কাজা পড়বো ক্ষন এখন ঘুমাতে দে।
জারাঃ তোমার আর কি বলেছি চুপচাপ উঠো,আর নামাজ পড়ো কাজা পড়তে হবে না এখনি নামাজ পড়বে তুমি।
নাহিদঃ ভালো লাগছে না।
জারাঃ কি করলে ভালো লাগবে শুনি।
নাহিদ জারার দিকে তাকালো। এই বাচ্চা মেয়েটা ওর স্ত্রী। কিভাবে মানবে ওকে।
জারাঃ কি হলো উঠো না।
নাহিদঃ হুম।
নাহিদ নামাজ পড়ার জন্য উঠে পড়লো। জারা একটা হাসি দিলো। নাহিদ ওজু করে মসজিদে চলে গেলো আর জারা ওজূ করে নামাজ আদায় করলো। মোনাজাতে আল্লাহ তায়ালার আছে ধৈর্য্য চাইলো কারন ধৈর্য্য ছাড়া কিছুই করতে পারবে না ও।
জারা নামাজ পড়ে আবার না ঘুমিয়ে এদিক ওদিক করতে লাগলো। নামাজ পড়ে কখনোই ঘুমানোর অভ্যাস ওর ছিলো না কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করতো কিন্ত আজকে প্রথম দিন এই বাড়িতে লোকজন আছে কে কি ভাবে তাই আর পড়তে বসলো না।আর নিজেও যেতে পারছে না। নাহিদের ঘরটা ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলো। সিম্পেল সাজে গোছানো ঘর, আলমারিতে নাহিদের জামা কাপড় গোছানো আছে, নাহিদ খুব গোছানো ছেলে কিন্তু ওর জীবনটাই অগোছালো। জারা দেখতে পেলো নাহিদের পড়া শার্টটা চেয়ারেতে আছে মসজিদে যাবার আগে ওটাকে খুলে রেখে গেছে জারা শার্টটাকে নিয়ে নিজের নাকের কাছে নিয়ে আসলো হালকা ঘামের গন্ধ সাথে একটা পারফিউম বা আতরের গন্ধ নাকে আসছে যেটা জারাকে নেশা ধরিয়ে দিচ্ছে।
ওদিকে….
নাহিদের মা নামাজ পড়ে রান্নাঘরে যাবার সময় নাহিদকে নামাজ পড়ে আসতে দেখে একটু অবাক হয়ে বললেনঃ আজকে তুই মসজিদে গিয়েছিলি।
নাহিদঃ হুম।
মাঃ নিজে উঠলি না
নাহিদঃ না জারা তুলে দিয়েছে।
মাঃ জারা উঠেছে।
নাহিদঃ হুম।
মাঃ আচ্ছা তুই ঘরে গিয়ে ওকে আমার কাছে পাঠিয়ে দে তো।
নাহিদঃ আচ্ছা।
নাহিদ চলে যায়,নাহিদের মা চোখের পানিটা মুছে নিলো। নাহিদ তার মাকে কিছু না বললেও তিনি মা তিনি খুব ভালো করেই বুঝতে পারেন ছেলেটা কত কস্টের মধ্যে ছিলো। আল্লাহ ছেলেটাকে এবার সুখের মুখ দেখাক এটাই চাই তিনি।
নাহিদ ঘরে গিয়ে চমকে উঠলো…
#চলবে…..
বিঃ দ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।