#আমার_অগোছালো_জীবনে_গোছালো_তুই
#লেখনীতেঃতানজিলা_খাতুন_তানু
পার্ট-(২)
নাহিদ নিজের ঘরে গিয়ে দেখলো জারা ওর শার্টটাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে চেয়ারে বসে আছে।
নাহিদ আস্তে করে জারাকে ডাক দিলো। জারা নাহিদের গলা শুনে তাড়াতাড়ি করে সোজা হয়ে বসলো। বসে থাকতে থাকতে ওর একটু চোখটা লেগে গিয়েছিলো,তাই নাহিদের উপস্থিতি টের পাইনি।
নাহিদ ভ্রু কুঁচকে বললোঃ তুই আমার শার্ট নিয়ে কি করছিলি।
জারা আমতা আমতা করে বললঃ কিছু না আমি আবার তোমার শার্ট নিয়ে কি করবো।
নাহিদঃ ওহ। আচ্ছা শোন তোকে না মা নীচে যেতে বলেছে।
জারা অবাক হয়ে বললোঃ আমাকে।
নাহিদঃ হুম যা।
জারা মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলে চলে গেলো। নাহিদ জারার যাবার দিকে তাকিয়ে আছে। জীবন তাকে এ কোন পরিস্থিতিতে ফেললো। জারাকে কিভাবে ভালো রাখবে,, অন্য কোনো মেয়ে হলে তবুও একটা আলাদা রকম ব্যাপার ছিলো কিন্তু জারা! জারার ক্ষতি,জারার সাথে খারাপ কিছু হলে ওহ যে মেনে নিতে পারবে না। আর খারাপ কিছুটা যদি ওর কারনে হয় তাহলে তো নিজেকে কখনোই ক্ষমা করতে পারবে না। জারার কোনো ক্ষতি কখনোই নাহিদ চাইনি,আর কখনো চাইবেও না। আর জারাকে নিজের স্ত্রী হিসাবে মেনে নিতেও পারবে না।
জারা নাহিদের মায়ের কাছে গিয়ে সালাম দিলো। নাহিদের মা হেসে সালামের উত্তর দিলেন। তারপর বললোঃ নামাজ পড়েছো।
জারা মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো।
নাহিদের মাঃ মা আমার একটা কথা রাখবে?
জারাঃ জ্বি বলুন।
মাঃ আমার ছেলের জীবনটাকে গুছিয়ে দেবে।ছেলেটাকে কোনো কস্ট পেতে দেবে না কথা দাও।
জারা নাহিদের মায়ের হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বললোঃ আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি আপনার ছেলেকে আর কস্ট পেতে দেবো না ওর অগোছালো জীবনটা গুছিয়ে দেবো কথা দিলাম।
নাহিদের মা নিজের বুকের সাথে জারাকে জড়িয়ে ধরলেন। মায়ের চোখে পানি, জারার কথায় ওনার মনে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।
মাঃ তোরা সুখি হ। তোদের জীবনটা সুখে ভরে উঠুক।
জারাঃ দোয়া করবেন আপনাদের দোয়া ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না।
মাঃ সন্তানদের জন্য বাবা-মায়ের দোয়া সবসময় থাকে।
দুপুরে বৌভাতের অনুষ্ঠান ছিলো। অনুষ্ঠান শেষে রাত্রিবেলা নিয়মানুযায়ী জারার বাড়িতে যায় নাহিদ আর জারা।
জারা বিছানায় বসে আছে। নাহিদ জারার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যেটা জারাকে অস্বত্বিতে ফেলছে বারবার।
জারা আর চুপ করে থাকতে না পেরে বললোঃ কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?
নাহিদঃ দেখছি তোকে।
জারাঃ কেন প্রেমে পড়ে গেলে নাকি।
নাহিদ জারার কথায় বিরক্ত প্রকাশ করলো। এই মেয়েটার সবকিছুতেই মজা করা চাই।
নাহিদঃ একটা সত্যি কথা বলবি?
জারাঃ হুম।
নাহিদঃ তুই কি আগে থেকেই আমাকে পছন্দ করতিস।
জারাঃ কেন আগে থেকে পছন্দ করলে কি করবে আর এখন থেকে পছন্দ করলে কি করবে।
নাহিদঃ যেটা জিজ্ঞাসা করেছি সেটা বল।
জারাঃ বলতেই হবে।
নাহিদঃ হুম বল।
জারাঃ না ,,আগে থেকে তোমার প্রতি আমার অন্য কোনো ফিলিংস ছিলো না।
নাহিদ ভ্রু কুঁচকে বললোঃ আর এখন?
জারা হাসলো কিন্তু কিছু বললো না। নাহিদ আবারো জিজ্ঞেস করাতে জারা কথাটা ঘোরানোর জন্য বললোঃ আচ্ছা আমি না যদি বলতাম আমার পরিচয় তাহলে কি তুমি বুঝতে পারতে।
নাহিদ এটা শুনে ভাবনায় পড়ে গেলো সত্যি কি বুঝতে পারতো।যতটা সম্ভব না ,, জারাকে কখনোই সামনে থেকে দেখেনি তাই চিনতে পারাটা খুব কঠিন ব্যাপার।
জারাঃ না বললেই ভালো হতো।
নাহিদঃ পৃথিবীতে এত ছেলে থাকতে তুই আমাকে বিয়ে করতে গেলি কেন?
জারাঃ ভাগ্যটা যে তোমার সাথেই জোড়া ছিলো।
নাহিদঃ আমার ভাগ্যটাই খারাপ।
জারাঃ আমার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে বলছো বুঝি।
নাহিদঃ নারে তোর মতো মেয়েকে পাওয়া একটার ছেলের সৌভাগ্য কিন্তু আমি যে তোর যোগ্য নয়।
জারাঃ কে কার যোগ্য সেটা আল্লাহ তায়ালার হাতেই ছেড়ে দাও না।
নাহিদঃ আমার মনে অন্য কেউ আছে, আমি তাকে কখনোই ভুলতে পারবো না এসব মেনে দিতে পারবি তো।
জারা চুপ করে ও কি বলবে বুঝতে পারছে না।
নাহিদ আবারো হেসে বললোঃ কি রে মেনে নিতে পারবি তো।
জারা কথা ঘোরাতে বললঃ অনেক রাত হয়েছে ঘুম যাও।
নাহিদঃ জারা নিজের জীবনে কস্ট নিজের হাতে নিয়ে এসেছিস। আমার হতভাগ্য ভাগ্যের সাথে নিজের ভাগ্য জুড়েছিস কস্টগুলো সহ্য করতে হবে কিন্তু।
জারা শুধু মাত্র হেসে শুয়ে পড়লো। নাহিদের বুক চিড়ে বেড়িয়ে এলো একরাশ দীর্ঘশ্বাস।
এভাবেই কেটে গেলো ১ টা মাস….
নাহিদ আর জারার সম্পর্কের কোনো প্রকার উন্নতি হয়নি। নাহিদ এখনো তার পুরানো ভালোবাসা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি ,জারা চেস্টা করছে কিন্তু ব্যর্থ সে।
জারা ঘরে এসে দেখলো,,নাহিদের ফোনটা বিছানায় পড়ে আছে। জারা দোটানার মধ্যে পড়ে গেলো ফোনটা কি দেখবে না দেখবে না।দোটানা শেষ করে জারা নাহিদের ফেসবুক গিয়ে মেসেজগুলো দেখে ওর মাথায় আকাশ পড়লো। যদিও মেসেজ গুলো অনেক আগের কিন্তু তবুও জারার বুকের মাঝে জ্বালা করতে লাগলো। জারা ফোনটা রেখে বিছানায় শুয়ে পড়লো। বারবার চোখের সামনে মেসেজ গুলো ভেসে আসছে। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছে। জারা নিজেকে সামলানোর করছে কিন্তু পারছে না,তার অবচেতন মন কিছুতেই মানতে চাইছে না।
নাহিদ ঘরে এসে জারাকে ডাকতে গিয়েও ডাকলো না। সেদিনের পর থেকে জারার মধ্যে অনেকটাই পরিবর্তন আসলো। জারা আর আগের মতো নাহিদের সাথে কথা বলে না। নাহিদ বিষয়টা খেয়াল করলো, কিন্তু কারনটা ঠিক বুঝতে পারলো না।।
নাহিদঃ জারা।
জারাঃ জ্বি
নাহিদঃ কি হয়েছে চুপচাপ হয়ে আছিস দেখছি কয়েকদিন যাবত।
জারাঃ কিছু হয়নি। তুমি কাজে বের হবে তো,, রেডি হও আমি খাবার ঠিক করছি।
জারা চলে গেলো। নাহিদ ভালো করেই বুঝতে পারলো জারা ওকে ইগনোর করলো কিন্তু কারনটা কি?
নাহিদ কাজ থেকে ফিরে এসে শুনতে পেলো ওর মা ওকে কিছু একটা দরকারে ডেকেছে।নাহিদ ওর মায়ের ঘরে যেতেই ওর মা বললোঃ কাজ কেমন হচ্ছে।
নাহিদঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো
নাহিদের মাঃ তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে দরজাটা দিয়ে আয় তো।
নাহিদ মায়ের নির্দেশ মেনে দরজাটা বন্ধ করে দিলো।নাহিদের মা ছেলেকে নিজের কাছে বসিয়ে বললোঃ দ্যাখ নাহিদ তুই বড়ো হয়েছিস ভালো মন্দের বিচারটা তুই ভালো করেই করতে পারিস।
নাহিদঃ মা এসব বলছো কেন?
মাঃ আমি ভালো করেই বুঝতে পারছি তোর আর জারার মাঝে কোনো কিছুই ঠিক নেয়।
নাহিদ মাথা নীচু করে নিলো কথাটা শুনে।
মাঃ কেন নিজেকে আর মেয়েটাকে কস্ট দিচ্ছিস। সবটা নতুন করে আবারো শুরু কর না।জারা খুব ভালো মেয়ে তোকে ভালো রাখবে।
নাহিদঃ মা জারা ভালো মেয়ে সেটা আমিও জানি তোমার থেকে আগে থেকে আমি ওকে চিনি।
মাঃ মানে?
#চলবে…
বিঃ দ্রঃ- ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।