#আমার_অদিতি
#পর্ব – ২
#নয়োনিকা_নিহিরা
অদিতি ভোর থেকেই প্রবল উৎসাহে আহনাফের রুমের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। আজ আহনাফ তাকে কলেজে নিয়ে যাবে বলেছে। অদিতি তাই সকাল সকাল রেডি হয়ে বসে আছে। অদিতি অস্থির হয়ে পায়চারি করছে আহনাফের রুমের বাহিরে। এক পর্যায়ে অস্থিরতা দমিয়ে রাখতে না পেরে অদিতি আহনাফের রুমের দরজা নক করা শুরু করে।
আহনাফ দরজা খুলেই অদিতিকে ধমক দিয়ে বলে,”তোমাকে কতবার বলেছি অদিতি অযথা আমার রুমের সামনে এসে দরজা নক করবে না।”
অদিতি কিছু বলতে গিয়েও থমকে দাঁড়ায়। বিভোর দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে নিজের স্বামীর দিকে। আহনাফ কালো ব্লেজার আর সফেদ রংয়ের শার্ট পড়ে অফিসের ফরমাল গেটআপে দাঁড়িয়ে আছে। চোঁখে মুখে স্বভাবসুলভ ভাবগাম্ভীর্য বিদ্যমান। তবুও কতোইনা সুদর্শন লাগছে তার স্বামীকে! কিন্তু এই স্বামী নামক সুদর্শন পুরুষটি তাকে ভালোবাসা তো দূর সহ্যই করতে পারেনা। এ কথা চিন্তা করতেই অদিতির অন্তঃকরণে অজানা এক যন্ত্রণার উদ্রেগ হয়। তীব্র অভিমান জন্ম নেয় মনের গহীনে।
অদিতি নিজেকে সামলিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে,” লেট হয়ে যাচ্ছিলো দেখে আপনার রুমের দরজা নক করলাম। দুঃখিত আর আসবো না আপনার রুমের সামনে।”
অদিতি কথাগুলো বলে আর এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে না থেকে আহনাফের সামনে থেকে সরে গেলো। আহনাফ ভেবেছিলো অদিতি হয়তো তার ধমকে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কান্না করতে থাকবে। কিন্তু এই অদিতিকে যেনো আহনাফ চিনতে পারছে না। মেয়েটা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। তার বাচ্চাসুলভ আচরণগুলো একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা মাথায় আসতেই আহনাফের ভেতরে কেমন যেন অস্থিরতাবোধ কাজ থাকতে থাকে।
আহনাফ আনমনেই ভাবতে থাকে,” অদিতির হঠাৎ এই বদলে যাওয়ার পেছনে কি আমি দায়ী? অদিতি কি ধীরে ধীরে সর্ম্পূণ চেঞ্জ হয়ে যাবে? পড়াশুনা শেষে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দূরে কোথাও হারিয়ে যাবে?”
মনের অজান্তেই বুকের ভেতরটা আঁতকে উঠে আহনাফের। নিজের অন্তরে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া অপরিচিত এই অনুরক্তিতে আহনাফের দমবন্ধ হয়ে আসে। আহনাফ অস্থির হয়ে হনহন করে বাড়ির বাহিরে বের হয়ে মুক্ত বাতাসে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে।
অদিতি গাড়ির ভেতরে বসেই নিঃশব্দে কান্না করছিলো আহনাফকে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অদিতি তাড়াহুড়া করে নিজের চোখ মুখ মুছে স্বাভাবিক হয়ে বসে।
আহনাফও নিজেকে সংযত করে গাড়িতে বসে পড়ে। ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে থাকে আহনাফ। যেনো গাড়িতে সে ছাড়া আর কোনো মানুষ উপস্থিত নেই। অদিতির দিকে ভুলেও এক বারের জন্য তাকায় না আহনাফ।
অদিতিও চুপচাপ উদাসীন হয়ে বসে থাকে। সিটে হেলান দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে ক্ষণিকের জন্য প্রকৃতির মাঝেই বিলীন হয়ে যায় অদিতি।
সারা রাস্তা কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলে না। গাড়ির ভেতরে পিনপতন নিরবতা বিরাজ করছে। যেনো দুই মেরুর দুজন অপরিচিত যাত্রী তাঁদের অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে। আহনাফের অদিতির উপর প্রচন্ড রাগ অনুভূত হতে লাগলো। যদিও এর কোনো কারণ নেই তবুও আহনাফের ভীষণ রাগ লাগছে অদিতির নিরবতা দেখে। মেয়েটাকে ধমক না দিতে পারলে শান্তি নেই।
আহনাফ নিরবতা ভেঙ্গে ক্ষীণ আওয়াজে বললো,”আমার সামনে বেশি ম্যাচিউর হওয়ার নাটক করতে হবে না তোমাকে অদিতি।”
_” নাটক মানে? কিসের নাটকের কথা বলেছেন ,ভাইয়া?”
অদিতির কথা শুনার সাথে সাথেই আহনাফ তৎক্ষণাৎ গাড়ির ব্রেক কষে ভয়ানক তীক্ষ্ম চাহনি নিক্ষেপ করে অদিতির দিকে।
অদিতি কিছু না বুঝেই আহনাফের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। আহনাফ গম্ভীর কণ্ঠে শুধায়,”তোমার আর আমার মধ্যে বিদ্যমান অসংগতিপূর্ণ সম্পর্কের নাম কি?”
অদিতি চোখ নামিয়ে মিনমিনে আওয়াজে বলে,”বৈবাহিক সম্পর্ক।”
_”তাহলে আমাকে ভাইয়া বলে ডাক দিচ্ছো কেনো?”
আহনাফের ধমক খেয়ে ভয়ে চুপসিয়ে যায় অদিতি। আতঙ্কে হাত পা অবশ হয়ে যায় তার। আহনাফকে বিয়ের আগে থেকেই ভাইয়া বলে ডেকে অভ্যস্থ অদিতি। বিয়ের পর এতো কিছু মাথায় ছিলো না অদিতির। বাবার অসুস্থতা, নিজের মা আর ভাবীর তার জীবন নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি আর আহনাফের তার প্রতি রুষ্ট ব্যবহার এসবের মাঝেই দুশ্চিন্তা আর মনোকষ্টে দিন পার করা অদিতির এতো কিছু মাথায় থাকবেই বা কিভাবে!
অদিতি সোজাসাপ্টা উত্তর দিলো,” খেয়াল ছিলো না।”
অদিতির উত্তর আহনাফের পছন্দ হলো না। দুচোখে ক্ষিপ্ততা নিয়ে আহনাফ রাগান্বিত স্বরে বলল,” কোন দিকে খেয়াল থাকে তোমার? একজন মানুষের সামনে কিভাবে কথা বলতে সেটাই তো জানো না তুমি! বেকুবের মতো আচরণ করে বেড়াও। কতবার বলেছি এই শব্দ ব্যবহার করবে না। তোমাকে এক কথা কতবার বুঝাতে হয়?”
আহনাফ আরো কিছুক্ষন অদিতিকে কথা শুনিয়ে কলেজের সামনে নিয়ে আসে। অদিতি মন খারাপ করে গাড়ি থেকে নেমে টলমল চোঁখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে আহনাফের এখন একটু ভালো লাগছে। খুব ম্যাচিউরিটি দেখাচ্ছিলো না তাকে? পিচ্ছি মেয়ে পিচ্ছি মেয়েদের মতো থাকবে। গম্ভীর, যুক্তিপূর্ণ কথাবার্তা কেনো বলবে? হ্যাঁ আমি চাই আমার স্ত্রী স্মার্ট হোক, ম্যাচিওর হোক। তবুও অদিতির সাথে এসব বিষয়গুলো খাপছাড়া লাগে।
আহনাফ মনে মনে এসব চিন্তা করে অদিতির দিকে তাকায়। অদিতির মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যেকোনো সময় কেঁদে ফেলবে। তবুও নিজের আবেগকে আটকে রাখার চেষ্টা করছে সে। আহনাফের এইবার একটু খারাপ লাগে অদিতির জন্য। অদিতির মাথায় হাত রাখতে গিয়েও থেমে যায় আহনাফ। কিভাবে অনুভুতি প্রকাশ করতে হয় সেটা জানা নেই আহনাফের। বিশেষ করে অদিতির সামনে আহনাফের জড়তা আরো বেড়ে যায়।
আহনাফ আদুরে কন্ঠে কিছু বলতে না পেরে উল্টো ধমক দিয়ে বললো,” পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে না থেকে জলদি চলো। তোমার কলেজের কাজ শেষ করে আমাকে অফিসে যেতে হবে। তোমার পেছনে সময় নষ্ট করার মতো অফুরন্ত সময় নেই আমার।”
আহনাফ অদিতিকে কলেজে ভর্তি করিয়ে ক্লাসে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে গাড়িতে বসে পড়ে। তবে যাওয়ার আগে আবার কি যেনো ভেবে গাড়ির জানালা খুলে অদিতিকে ইশারায় সামনে এসে দাঁড়াতে বলে আহনাফ।
অদিতি সামনে আসলে আহনাফ আদেশের স্বরে বলে,”খবরদার! কোনো ছেলের সাথে মিশবে না। এখানে পড়তে এসেছো তুমি একথা ভুলে যেয়ো না। তাই শুধু পড়ার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে। আমি যদি শুনি কোনো ছেলের সাথে কথাবার্তা বলেছো তাহলে তোমার পড়া এখানেই বন্ধ, মাইন্ড ইট।”
অদিতিকে কিছুক্ষণ শাসিয়ে আহনাফ কার স্টার্ট করে তার সামনে দিয়েই শা শা করে চলে যায়। অদিতি থম ধরে কিছুক্ষণ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। মনের ভেতরে বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। অদিতির ব্যাপারে সবসময় উদাসীন আচরণ করা আহনাফ আজ কেনো এতো অধিকারবোধ দেখালো তাকে? তাহলে কি আহনাফও তাকে হারানোর ভয় করে?
অদিতি সাথে সাথেই নিজেকে সামলিয়ে মনে মনে ভরকায়,” কেনো আশা করছি আমি ওনার কাছ থেকে? উনি যা করছেন, যা বলছেন সবকিছু দায়িত্ববোধ থেকে বলছেন। এর বাহিরে কিছু নয়।”
অদিতি আর সময় নষ্ট না করে ক্লাসে চলে যায়।
____
আহনাফ অফিসে বসে গভীর ভাবনায় ডুবে আছে। কোনো কাজেই এই মুহূর্তে মনোযোগ দিতে পারছে না সে। মনটা বারবার অদিতি অদিতি করছে। অদিতিকে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিলেও মনের মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে আহনাফের। মেয়েটার বয়স কম,তার উপর আবার মেয়েটাকে সব সময় নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে আহনাফ। যদি অদিতি বদলে যায়? অন্য কারো মোহে পড়ে যায়? তখন কি হবে? দুশ্চিন্তায় এসির মাঝেও কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে থাকে আহনাফের। এসির পাওয়ার বাড়িয়ে নিজের মাথা চেপে ধরে আহনাফ।
কাল রাত থেকেই এক অন্যরকম অস্থিরতা কাজ করছে আহনাফের হৃদয়ে। যেই মেয়েটাকে এতদিন দেখেও না দেখার ভান করতো আহনাফ আজ হঠাৎ তাকে নিয়ে নিজের ভাবনা গুলোকে বন্ধ করতে পারছে না সে। এর কারণ কি হতে পারে? অদিতি নিজে থেকেই তার জীবন থেকে সরে যেতে চেয়েছে সেই জন্য নাকি তার মায়ের বলা কথাগুলো নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করার জন্য?
“May I come in, sir?,” হঠাৎ পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনে ভাবনার সুতোয় টান পড়ে আহনাফের।
তৎক্ষণাৎ নিজেকে সামলিয়ে স্বাভাবিক হয়ে বসে আহনাফ। নাজিমকে ইশারায় ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি প্রদান করে। নাজিম ভেতরে আসতেই ডেস্কের উপর একটা এনভেলাপ রেখে আহনাফ গম্ভীর স্বরে বলে,”তোমাকে আর অফিসে আসতে হবে না নাজিম। ইউ আর ফায়ার্ড।”
নাজিম অনুরোধ করে বলে,” স্যার, আমি খুবই দুঃখিত এতদিন অ্যাবসেন্ট করার জন্য। আমার স্ত্রীকে নিয়ে এতদিন হসপিটালে ছোটাছুটি করতে হয়েছে, স্যার। আমার স্ত্রী খুবই অসুস্থ ছিলো।”
আহনাফ নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে চেয়ে বললো,” তো আমি কি করবো? রুলস ইজ রুলস্। তোমার জায়গায় অন্য একজনকে হায়ার করা হয়েছে। নিজের বেতন বুঝে নিয়ে বেরিয়ে যাও।”
নাজিম অনেক অনুনয় বিনয় করা শুরু করলো আহনাফের কাছে। কিন্তু আহনাফ কোনো দয়া দেখালো না। একসময় তার পরিবারও তো কতটা অসহায় ছিলো কই তখন তো কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি ইলিয়াস আঙ্কেল ছাড়া। তাহলে সে কেনো কারো প্রতি সদয় হবে? প্রশ্নই ওঠে না। যার যার সমস্যা সে সে নিজে সমাধান করুক ,তার কোনো ঠেকা পড়েনি।
আহনাফ রেগে গার্ড ডেকে নাজিমকে অফিস থেকে বের করে দিলো। এর কিছুক্ষণ পরেই আগমন ঘটলো আহনাফের নতুন পিএ নাবিলার। নাবিলা হুড়মুড় করে অফিসে এসে আহনাফের কেবিনের বাহিরে দাঁড়িয়ে হাঁফাতে থাকে। নাবিলা পারমিশন নিয়ে আহনাফের কেবিনের ভেতরে ঢুকতেই আহনাফ এক গাদা ফাইল নাবিলার দিকে এগিয়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে,” প্রথম দিনেই আপনি দশ মিনিট লেট করে এসেছেন মিস নাবিলা ইয়াসমিন। এই ফাইল গুলো আপনাকে শাস্তিস্বরুপ দেওয়া হলো। এগুলো চেক করে আজকের মধ্যেই সাবমিট করবেন আমার ডেস্কে।”
_”কিন্তু স্যার এতোগুলো ফাইল একদিনের মধ্যে কিভাবে শেষ করবো?”
_” সেটা আমার মাথাব্যথার বিষয় নয়। চাপ নিতে না পারলে কাজ করতে এসেছেন কেনো? ইচ্ছে হলে রেজাইন করে চলে যেতে পারেন। এই পোস্টে ক্যান্ডিডেটের অভাব নেই।”
_” দুঃখিত স্যার। আমি এখনই কাজ শুরু করছি।”
নাবিলা সাথে সাথেই ফাইলগুলো হাতে নিয়ে আহনাফের কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়। নাবিলা অনেক স্মার্ট আর কনফিডেন্ট একটা মেয়ে। সেই সাথে খুব বেশিই ফ্যাশনেবল নাবিলা। এর আগে যতগুলো অফিসেই কাজ করেছে নাবিলা সে সব অফিসের বসরাই নাবিলার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে। কিন্তু নাবিলা কাউকেই পাত্তা দেয়নি।
কিন্তু এই প্রথম সে এমন একজন গম্ভীর পুরুষের দেখা পেলো যে তার দিকে ফিরে তাকানোর প্রয়োজনও বোধ করলো না। ইন্টারভিউ দেওয়ার সময়ই আহনাফের উপর আকর্ষিত হয়েছে নাবিলা। আর আজ আরো একবার আহনাফের ভাবগাম্ভীর্যের প্রেমে পড়লো সে।
নাবিল নিজের ডেস্কের সামনে এসে আনমনেই বলতে থাকে,” ইশশ্! রাগলেও স্যারকে কত হ্যান্ডসাম লাগে,উফফ!”
নাবিলা তার সহকর্মীদের সঙ্গে পরিচিত হতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই নাবিলা তার সহকর্মীদের সঙ্গে মিশে যায়। নাবিলা খুবই মিশুক টাইপের হওয়ায় সবাই নাবিলাকে খুবই পছন্দ করে। অফিসের একজন এমপ্লয়ি প্রত্যয়ের সাথে কুশল বিনিময় শেষে নাবিলা জিজ্ঞেস করলো,”আচ্ছা প্রত্যয় সাহেব, আহনাফ স্যার কি বিবাহিত?”
প্রত্যয় সাবলীল ভঙ্গিতে বলল,” না, স্যার বিবাহিত নন।”
প্রত্যয়ের কথা শুনে পেটের ভেতরে হাজারো প্রজাপতি উড়তে শুরু করে নাবিলার। নাবিলা খুশি মনে নিজের সিটে বসে আহনাফের দেওয়া কাজগুলো কমপ্লিট করতে থাকে।
আহনাফের অফিসের কেউই জানে না আহনাফ বিবাহিত। আহনাফ বিষয়টা গোপন রেখেছে। এর কারণ হচ্ছে অদিতির আনস্মার্ট ও ভীতু আচরণ। শুধুমাত্র আহনাফের কয়েকজন বন্ধু আর আত্মীয় ছাড়া কেউ জানে না অদিতির ব্যাপারে। যদিও একটা ইভেন্টে আহনাফ নিজের সাথে নিয়ে গিয়েছিল অদিতিকে। কিন্তু অদিতি সেখানে ভালোমতো কথা বলতে না পারায় আহনাফ বিব্রতবোধ করে নিজের ক্লায়েন্টদের সামনে অদিতিকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় না দিয়ে নিজের একজন ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলো। এরপর থেকেই নিজের অফিসিয়াল কোনো পার্টি কিংবা ইভেন্টে আহনাফ অদিতিকে নিয়ে যায় না। আর কাউকে বলেও না যে তার বাসায় একটা বউও আছে।
___
অদিতি ক্লাস শেষে খুশি মনে বাসায় ফিরে আসে। আজ লাইব্রেরি থেকে কিছু নতুন বই কিনে এনেছে অদিতি। বইগুলো ভালোমতো ঘেঁটে ঘেঁটে দেখতে দেখতে বেলা গড়িয়ে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেছে সেইদিকে হুশ ছিলো না অদিতির।
অদিতির ধ্যান ভাঙ্গলো কলিংবেলের টিং টিং শব্দে। অদিতি আহনাফ এসেছে ভেবে খুশি হয়ে দরজা খুলতেই পরিচিত একজন মানুষকে সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চমকে যায়। অস্ফুট স্বরে উচ্চারণ করে,”আপনি!”
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটি উচ্ছাসিত গলায় বলে,”আমাকে চিনে ফেলেছেন ভাবী!”
অদিতি স্বভাবসুলভ মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল,” হ্যাঁ,চিনে ফেলেছি। আপনি আলভী ভাইয়া না। ওনার ফুফাতো ভাই?”
আলভী উচ্ছাসিত গলায় বলে,” ঠিক ঠিক ঠিক। একদম সঠিক গেস করেছো তুমি ভাবী। উফফ স্যরি তুমি করে বলে ফেললাম। আসলে তুমি বয়সে আমার থেকে ছোট তো সেইজন্য। বাই দ্যা ওয়ে ইউ আর সো স্মার্ট ভাবী।”
অদিতি সাবলীল ভঙ্গিতে বললো,” সমস্যা নেই। আপনি ভেতরে এসে বসুন।”
আহনাফের মা আজমেরী ওয়াহিদ আলভিকে দেখেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন। তবুও কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বললেন,” এতদিনে তোর আসার সময় হলো। তোর সাথে কোনো কথা নেই যা।”
আলভীও দুষ্টামি করে বললো,” কথা বলবে না মানে। তোমার জন্যই তো সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরে আসলাম। মাই সুইট বিউটিফুল মামী।”
_” হয়েছে থাম এবার আর মিথ্যে প্রশংসা করতে হবে না।”
তাদের দুষ্টু মিষ্টি কথাবার্তা শুনে অদিতি মিটিমিটি হাসছে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে। অদিতি মনে মনে ভাবে,”ওনার আত্মীয়রা কত মিশুক আর হাসিখুশি টাইপ। তাহলে উনি এমন কেনো? সবসময় মুখটা গোমড়া করে রাখেন। জন্মের পর ওনার মুখে মধু না দিয়ে করলার রস দেওয়া হয়েছিলো হয়তো।”
চলবে…