#আমার_মাঝে_তুমি
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
#পর্ব_৪
ভোর ছ’টা নাগাদ ঘুম ভাঙে ইজহানের। আড়মোড়া ছেড়ে উঠে বসে সে। চোখ কচলে সামনে তাকাতেই দেখতে পায় তার অর্ধাঙ্গিনী তার প্রিয়তমা। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। এই প্রথম সে কোনো নারী কে ঘুমন্ত অবস্থায় খুব কাছ থেকে দেখছে। সুনাইফা ঠোঁট উল্টে ঘুমিয়ে আছে। ইজহান লক্ষ করে সুনাইফার পায়ের নিচ থেকে শাড়ি কিছুটা সরে গেছে। ফর্সা ধবধবে চামড়ায় গাড়ো কালো পশম গুলো মারাত্মক সুন্দর লাগছে। ইজহান দুষ্টু হেসে সুনাইফা র পা’য়ে হাত দিতে গেলে কিভেবে যেন হাতটা নামিয়ে নেয়। এভাবে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে যে নিজেকে কন্ট্রোল করা বড্ড দায় হয়ে যাবে। সেজন্য দ্রুত বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে চলে যায়।
সুনাইফা দের বাসায় শুধু মাত্র তার রুমের সাথে ই বাথরুম আছে। আর কারোর রুমে এটাস বাথরুম নেয়। আর সিঁড়ির নিচে একটা। যেটা সবাই ব্যবহার করতে পারবে। সুনাইফা আর মুন্নি দুবোন। তাদের একটা বড়ো ভাই আছে তবে সে এখন দেশে নেয়। সুনাইফার ছোটো চাচা চাচি র কোনো সন্তান নেয়। অনেক চেষ্টা করেও কোনো ফল পাননি।
______________________
ইজহান ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে সুনাইফা মুখে হাত দিয়ে ভাবুক হয়ে বসে আছে। কোনো দিকে তার হেলদোল নেয়। ইজহান বার কয়েক ডাকলেও কোনো সাড়া পায় না। এবার তার হাতে থাকা তোয়ালে টা সুনাইফা র দিকে ছুড়ে মারে। গা’য়ে ঠান্ডা তোয়ালে পড়তেই হকচকিয়ে যায় সে। তারপর ইজহানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
” আন্নের সমস্যা ডা কোনহানে? গা’য়ে তোয়ালে ছুড়ে মারলেন ক্যান। একটু জন্য আমার জানডা বাইচা গেছে।
ইজহান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
” তুমি কোন জগতে ছিলে?
সুনাইফা বোকা বোকা হেসে জবাব দেয়,
” ওম্মা আফনে জানেন না মুই কোন জহতে ছিলুম।
ইজহানের সোজাসাপটা জবাব,
” না। শুনি একটু কোন জগতে ছিলে?
সুনাইফা হেঁসে হেসে জবাব দেয়,
” আমি তো সৌরজগতে ছিলাম। আফনে যাইবেন আমার লগে। আফনারে মেলা জায়গায় ঘুরাইমু।
সুনাইফার কথা শুনে ইজহানের মুখ হা হয়ে যায়। এ মেয়ে বলে কি? সে নাকি সৌরজগতে ছিল মানা যায়। ইজহানের মুখ হা করে থাকতে দেখে সুনাইফা চেচিয়ে বলে ওঠে,
” মুখডা বন্ধ করুন এমপি মশাই। নইলে যে মুখে মশা মাছি ঢুকে যাবে। আমাদের এইহানে অনেক মশা আছে কিন্তু।
সুনাইফার কথা শুনে ইজহান মুখ বন্ধ করে বলল,
” তুমি দুষ্টু এটা জানতাম। তবে এতটা সেটা জানতাম না। বাই দ্যা ওয়ে, তুমি কাল রাতেও তো আমার সাথে খুব সুন্দর ভাষায় কথা বললে আর আজ আফনে যাইবেন ঘুরাইমু ছিলুম এভাবে কথা বলছো কেন? ভালো ভাবে কথা বলবে ওকে।
সুনাইফা মুখ ভেঙচি দিয়ে বিছানা থেকে উঠে আসে। তারপর আলনা থেকে তার একটা সুতি কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়। কাল রাতে শাড়ি পরে ঘুমিয়েছিল। রাগ করা শাড়ি টা চেঞ্জ ও করেনি।
_____________
সামিয়া ছাদে দাড়িয়ে বন্ধুদের সাথে গ্রুপ কলে আড্ডা দিচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার পর কেঁদে কেটে বাড়ি থেকে ফোন নিয়েছে। তার বাপটা তো তাকে কিছুতেই ফোন কিনে দেবেনা। শেষ মেষ সামিয়ার কান্না করার কারণে রাজি হতে হয়েছে। সামিয়া কথা বলার সময় খেয়াল করে চিলেকোঠার ওখানে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। তবে কে সেটা জানে না। সেজন্য কথা বলার মাঝেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখে অবাক হয়ে বলল,
” আপনি?
আকস্মিক তাকানোই থতমত খেয়ে যায় ইয়াদ। আমতা আমতা করে বলে,
” আসলে মাত্রই আসলাম। তুমি কথা বলছো বলে তোমাকে ডিস্টার্ব করিনি।
সামিয়া ইয়াদ কে কিছু না বলে ফের ফোনের স্কিনে তাকিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,
” গাইস পরে কথা হবে। আল্লাহ হাফেজ। অতঃপর কল কেটে ইয়াদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে,
” চলেই যেহেতু আসছেন তাহলে আর কি বলব। আপনি তাহলে থাকুন আমি যাই। বলে চলে যেতে গেলে ইয়াদের কথা’য় থেমে যায় সামিয়া। ইয়াদ বলল,
” তুমি থাকলে আমার কোনো সমস্যা নেই।
সামিয়া পিছনে ঘুরে ইয়াদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে,
” আপনার সমস্যা নেই। বাট আমার আছে।
ইয়াদ অবাক হয়ে বলল,
” তোমার কি সমস্যা?
সামিয়া মুচকি হেসে বলে,
” এটা গ্রাম, শহর নয়। আর গ্রামের মানুষ গুলো কেমন সেটা আপনি নিশ্চয় জানেন তাই না৷
ইয়াদ সামিয়ার কথায় জবাব দেয়,
” এক নয় সেটা তো জানি। বাট এখানে তো কেউ নেই।
” আপনি কি ভাবছেন এখানের মানুষ গুলো দেখবে না। আপনার ধারণা ভূল। গ্রামের মানুষ গুলো সহজ সরল হলেও। এরা কিন্তু মানুষের কথা মানুষের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়। আমাকে আর আপনাকে কেউ যদি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করতে দেখে তাহলে গ্রামের মানুষ গুলো এই নিয়ে হাত পা বানিয়ে ছাড়বে। বুঝতে পারছেন।
ইয়াদ মাথা ঝাকিয়ে হ্যাঁ বলে। সামিয়া ছাদ থেকে নেমে আসে। সামিয়ার যাওয়ার পানে এক মনে তাকিয়ে থাকে ইয়াদ। ইয়াদ ছাদের রেলিং ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। সকালের আবহাওয়া টা অন্য রকম। এই ঠান্ডা বাতাস বয় তো ওই প্রচন্ড গরম।
____________
সকালের নাস্তা সেরে ইজহান আর ইয়াদ তাদের বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয় গ্রাম থেকে। ইজহান যাওয়ার আগে সুনাইফা কে পইপই করে বলে গেছে ভদ্র মেয়ের মতো থাকতে। ইজহান রা চলে যায় শহরের উদ্দেশ্য।
‘
‘
‘
‘
‘
‘
‘
‘
দেখতে দেখতে দুটো দিন কেটে গেছে। সুনাইফা এসএসসি পরীক্ষার পর কয়েকমাস বাড়িতে কাটিয়েছে। তেমন কোথাও যায় নি। সময় অতি দ্রুত কেটে গেছে। এই তো কয়েকদিন আগে সুনাইফা আর সামিয়া দুই বান্ধবী কলেজে ভর্তি হয়েছে। দু’জনে সেকি খুশি। নতুন কলেজ, নতুন মানুষ। সব কিছু অপরিচিত। আজকে সুনাইফা দের কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান। নতুন স্টুডেন্টস দেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেবে। সুনাইফা আর সামিয়া দু’জনে খুশি মনে এক সাথে কলেজের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পরে। দু-জনের পড়নে কালো বোরকা, কালো হিজাব। মুখে মাক্স, তবে মাক্স নামিয়ে রেখেছে। গ্রাম থেকে বেশ খানিকটা দুরেই । সেজন্য সকাল সকাল বের হয়েছে। রাস্তা থেকে একটা ভ্যান গাড়ি ঠিক করে কলেজের নামটা বলে। তারপর ভ্যান ওয়ালা মামা কলেজের উদ্দেশ্য ভ্যান চালায়।
*****
পাক্কা চল্লিশ মিনিট পর পৌঁছে যায় নির্ধারিত জায়গায়। সুনাইফা ভাড়া মিটিয়ে সামিয়ার হাত ধরে পা বাড়ায় কলেজের ভিতর। চারপাশে এত এত মানুষ। সবার মুখ অপরিচিত৷ গুটি কয়েক মানুষের মুখ চেনা। যারা তাদের সিনিয়র বা তাদের সাথে। সুনাইফার অস্বস্তি ফিল হচ্ছে। সাথে প্রচুর গরম। সব মিলিয়ে যা তা অবস্থা।
বড়ো বড়ো বিল্ডিং কোনো টা চারতলা, আবার কোনো টা তিনতলা। সুনাইফা রা গিয়ে বসে পরে স্টেজের সামনে। সেখানে অসংখ্য স্টুডেন্ট বসে আছে। যারা ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে। প্রথম সারির দুইটা চেয়ারে দুজন বসে পরে। স্টেজে কয়েকজন টিচার বসে আছেন। একজন টিচার দাঁড়িয়ে মাইকে এনাউন্সমেন্ট করছেন। ইফা লক্ষ করে টিচার মাইকে বলছেন। আমাদের মধ্যে আজকে একজন বিশেষ ব্যক্তি উপস্থিত হবেন। তিনি আজকের বিশেষ অতিথি। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে দেখতে পাব। ঠিক তার কিছুক্ষণের মধ্যে কলেজের গেইট দিয়ে প্রবেশ করে একটা কালো মাইক্রোকার । তার পিছনে আরও একটা কার। কলেজের সিনিয়র স্টুডেন্ট রা ফুল নিয়ে এগিয়ে যায় তাকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য। চেয়ারে বসা প্রতি টা স্টুডেন্ট গাড়ির দিকে চেয়ে আছে। সবার মতো ইফাও তাকিয়ে আছে। কিন্তু গাড়ি থেকে যিনি নামেন তাকে দেখে ইফা চেয়ার থেকে উঠে দাড়ায়। ইফা বিস্ময়ে হা করে তাকিয়ে আছে!
চলবে ইনশা আল্লাহ
রিচেক দেওয়া হয়নি ভূল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।