আমার মাঝে তুমি পর্ব-০৫

0
26

#আমার_মাঝে_তুমি
#ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
#পর্ব_৫

ইফা বিস্ময়ে হা’ করে তাকিয়ে থাকে। চারপাশের কারোর দিকে তার খেয়াল নেই। সে তো তার সামনে থেকে হেঁটে যাওয়া মানুষ টার দিকে চেয়ে আছে। সামিয়া পাশ থেকে গুতা দিয়ে বলল।

” কিরে ইফু, চোখের পলক তো ফ্যাল।

সামিয়ার কথায় দ্রুত নিজেকে সামলে নেয় ইফা। তারপর মুখের মাক্সটা ঠিক করে নেয় আর সামিয়া কেউ ঠিক করে নিতে বলে। তারপর যার যার স্থানে বসে পরে।

——–

কলেজের মাইকে কলেজের শিক্ষক রা অনেক কথা বলছেন। কিভাবে চলাচল করতে হবে, কিভাবে স্যারদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

অতঃপর প্রধান অতিথি একজন মেয়ে আর একজন ছেলেকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানাবেন। সেজন্য মেয়েদের সারি থেকে ইফা কে আর ছেলেদের সারি থেকে একটা ছেলে কে ডেকে নেয়। মাইকে নিজের নাম শুনে চমকে ওঠে ইফা। ইফা তো কিছুতেই যেতে রাজি নয়। সামিয়া ঠেলেঠুলে পাঠিয়েছে।

স্টেজে ওঠে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে রয় ইফা। একটুপর একজন শিক্ষক তাকে এগিয়ে আসতে বলে। ইফা গিয়ে দাঁড়ায় প্রধান অতিথি এমপি ইজহান শেখের সামনে। হ্যাঁ ইফা ইজহান কে দেখে ই অবাক হয়ে ছিল। আর এখন তাকে তার কাছ থেকেই ফুল নিতে হবে।

মাইকে যখন বলা হচ্ছে, আমাদের কলেজের বিশেষ অতিথি আজকে কলেজের দু’জন শিক্ষার্থী কে ফুল দিয়ে স্বাগত জানাবেন। অতঃপর ইজহান মুচকি হেসে উঠে দাড়িয়ে একটা ফুলের তোড়া নিয়ে ইফা’র দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মেরে এগিয়ে দেয়। ইফা সাথে সাথে চমকে ওঠে মনে মনে বলে,

” উনি কি আমায় চিনে ফেললেন নাকি। আর না চিনলেই বা চোখ মারবেন কেন?

ইফার ভাবনার মাঝেই ইজহান ফের বলে,

” কি হলো ফুল নিচ্ছো না কেন সবাই দেখছো তো?

ইফা দ্রুত আশেপাশে তাকিয়ে মৃদু হেসে ফুল নেয়। ইফা ইজহানের দিকে আবার তাকায়। এবার ইজহান ভ্রু নাচায়। এবার ইফা নিশ্চিত ইজহান তাকে চিনে ফেলছে। আর তার জন্য ই এই কামডা করল। ইফা’র খুব ভয় হয় সবাই তো স্টেজের দিকেই তাকিয়ে আছে কেউ দেখে ফেলেনি তো? অতঃপর ইফা স্টেজ থেকে নেমে আসে।

একই ভাবে ইজহান শেখ ছেলেটাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়।
—————–
টানা কয়েক ঘন্টা অনুষ্ঠান শেষ হলে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয় ইফা আর সামিয়া। ইফা সামিয়া কে এখনো কিছু বলেনি।

_____________________

দোতালা বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের সামনে এসে একটা মাইক্রোকার থামে। ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে এসে দরজা খুলে দিলে বের হয় ইজহান। তারপর গটগট পায়ে এগিয়ে যায় বাড়ির ভিতরে। কলিংবেল বাজালে বাসার মেইড এসে দরজা খুলে দেয়। তারপর নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায়। রুমে এসে পড়নে থেকে শার্ট খুলে ওয়াশরুমে চলে যায়। টানা ত্রিশ মিনিট পর ফ্রেশ হয়ে বের হয়। ইজহানের ঘা’ড়ের উপর সাদা টাওয়ার। মাথা থেকে দু এক ফোটা পানি গড়িয়ে পরছে। ইজহান তোয়ালে দিয়ে মাথাটা মুছে নেয়। তারপর বেলকনিতে গিয়ে ভেজা কাপড় গুলো নেড়ে দেয়। ইজহানের ঠোঁটের কোণে চওড়া হাসি। বেলকনি থেকে রুমে এসে একটা গেঞ্জি গায়ে দেয় ঠিক তখনই তার মা মিসেস রুমা শেখ ভিতরে ঢুকেন। ছেলের ঠোঁটের কোণে হাসি দেখে তিনি ভ্রু কুচকে তাকান। ইজহান খেয়াল করে তার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। তবে কে সেটা সে বুঝতে পারে। কারণ তার রুমে তার অনুমতি ব্যতিত তার মা ছাড়া কেউ আসে না। তবে আজ মা কে চুপ থাকতে দেখে কিছু টা অবাক হয়ে বলে,

” ব্যাপার কি মা? আজ কোনো কথা বলছো না কেন?

মিসেস রুমা শেখ এবার মুখ খুললেন। তিনি বললেন,

” আমার ছেলেটা হাসছে কেন সেটা আগে বল? কোনো কারণ, কারণ বলছি কেন? আমার রসকষহীন কাঠখোট্টা ছেলেটা হাসছে ভাবনার বিষয়। কাহিনি কি বাপ?

ইজহান পিছনে ঘুরে মা কে জড়িয়ে ধরে বলে,

” মা আজকে একটা কলেজে গিছিলাম। সেখানে নিমন্ত্রণ ছিল।

” আচ্ছা। কিন্তু সেখানে কি এমন হয়েছে যার জন্য হাসছিস৷

ইজহান মুচকি হেসে বলল,

” মা ওই কলেজেই তোমার বউমা ভর্তি হয়েছে। আর আমি তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানিয়েছি। আরও একটা কারণ আছে।

” কি শুনি।

” ওটা বলা যাবে না সিক্রেট।

” যাহ্। তাহলে আমি জানব কেমনে তুই কিসের জন্য হাসছিস।

” তুমি বুঝে নাও মা। এখন খেতে দাও তো খুব খিদে লাগছে।

” আচ্ছা তুই নিচে আয়। আমি টেবিলে ভাত দিচ্ছি।

****
রাতের ডিনার শেষ করে রুমে চলে আসে ইজহান। সারাদিন একাজে সে কাজে দৌড়াদৌড়ি করার ঠেলায় ঠিক মতো বিশ্রাম টাও নিতে পারে না। আজকে একটু সময় পেয়েছে তার জন্য সকাল সকাল ঘুমোনো সিদ্ধান্ত নেয়। কালকে আবার তাকে গ্রামের যেতে হবে। তার বউয়ের জন্য একটা ফোন কিনেছে। শাশুড়ির ফোন দিয়ে ঠিক করে কি কথা বলা যায়। আর ফোন দিতেও তো সরম করে। কালকের পর থেকে একটু শান্তি মতো কথা তো বলতে পারবে। ভেবেই মুচকি হাসে।

°°°°°°°°°°°°
রাত দশটা বাজে। অথচ ইফা’র চোখে ঘুম নেই। অনেক্ক্ষণ যাবত বিছানায় শুয়ে থাকার পরেও ঘুম আসছে না দেখে বিছানা ছেড়ে ছাদে চলে আসে। ছাদের রেলিং দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকায়। আকাশে মেঘ জমেছে, তারা রা মিটিমিটি করে জ্বলছে না। আকাশ জুড়ে মেঘের আনাগোনা। যেকোনো সময়ই ঝুপঝাপ করে বৃষ্টি নেমে যেতে পারে। কয়েক মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর ই ইফা’র ভাবনা সত্যি হয়ে গেলো। জড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে, দু-এক ফোট বৃষ্টি পরছে। ইফা ছাদে দাড়িয়েই থাকে। ঠান্ডা বাতাসে গা ছিম ছিম করছে। বেশ কয়েক মিনিট যাওয়ার পর ছাদ থেকে নেমে আসে। কারণ একটু জ্বরেই বৃষ্টি পরছে। ইফা রুমে এসে জানালা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পরে। পাশে মুন্নি বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। মুন্নির গা’য়ে কাথা টেনে দিয়ে নিজেও শুয়ে পরে। চোখ বন্ধ করতেই চোখের পাতায় ভেসে ওঠে ইজহানের হাস্যজ্বল চেহারা। ইফা দ্রুত চোখ খুলে তাকায়। রুমের নীল আলোয় রুম জ্বলজ্বল করছে। পাশে তাকিয়ে দেখে জানালায় বাতাসে খটখট শব্দ হচ্ছে। আশেপাশে না তাকিয়ে চোখ বুঁজে নেয়। একসময় ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়

_____________

সকাল নয়টা। সকালের নাস্তা সেরে কলেজের উদ্দেশ্য বের হবে বলে রুম থেকে কলেজ ব্যাগ আনতে যায়। তখন আবার দরজায় খটখটে শব্দ হয়। মানে কেউ এসেছে, সেজন্য রুমে না গিয়ে দরজা খুলতে যায় ইফা। দরজা খুলে সামনে ইজহান কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে বলে,

” আপনি এখন? এখানে কেন এসেছেন?

চলবে ইনশা আল্লাহ