আলো আধারের খেলা পর্ব-২২

0
249

#আলো আধারের খেলা
#পর্ব_২২
#মুমতাহিনা_জান্নাত_মৌ

আমি কি সাধে আলাদা হতে চাচ্ছি!এরা যে কাহিনী শুরু করেছে একজন সুস্থ সবল মানুষের পক্ষে এটা কখনোই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।একই বাড়িতে থাকে অথচ চুরি চুরি করে বউ এর জন্য এটা ওটা নিয়ে আসে।বড় মানুষ গুলোর কথা বাদই দিলাম,বাড়িতে যে দুইজন বাচ্চা আছে সেটা ভুলে যায় কি করে? নিজের বাপ আর চাচার মধ্যে আসলেই রাত দিন তফাত।নিজের ছোল হলে কি এই কাজ টা করতে পারতো।দুইদিনেই আমার বাচ্চারা বেশি হয়ে গেলো।এখনো তো নিজের বাচ্চা হয় ই নি।তখন যে আরো কি হবে কে জানে? এসব কাহিনী দেখে সত্যি আমার মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে।
ঊর্মি জোরে জোরে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলছে কথাগুলো।

রুয়েল আর জান্নাত তাদের ঘর থেকেই কথাগুলো শুনতে পাচ্ছে।তারা বুঝতে পারলো হিয়া তার মাকে গিয়ে সবকিছু বলে দিয়েছে।এসব কথা শোনার পর কি করে খাবারগুলো খাবে জান্নাত?
জান্নাত তখন রুয়েলকে বললো,আপনি আসলেই ভুল করেছেন।জানেনই তো বাসায় আরো মানুষ আছে।এভাবে শুধু আমার জন্য কেনো আনতে গেলেন?আপনার সবার জন্য আনা উচিত ছিলো।

রুয়েল তখন বললো,আমি কি এতোকিছু ভেবেছি নাকি?আপনি না খেয়ে আছেন সেজন্য আনলাম।তাছাড়া ভাবি তো ওদের জন্য রান্না করেছেই।আপনি আর মা যে না খেয়ে আছেন সে খোঁজ কি নিয়েছেন উনি?
–আমি এতোকিছু বুঝি না।এখন থেকে আর এভাবে শুধু আমার জন্য কিছু আনতে যাবেন না।যা আনবেন সবার জন্য আনবেন।
–আনিই তো।সবসময় তো বেশি করেই আনি।কিন্তু আজকে কারো কথা মাথাতেই ছিলো না।
–যান,এখন আনেন গিয়ে।সবার জন্য আনবেন।তারপর আমি খাবো।
রুয়েল সেই কথা শুনে আবার বাজারে চলে গেলো আর সবার জন্য বিরিয়ানির প্যাকেট আনলো।কিন্তু যেই বিরিয়ানির প্যাকেট ঊর্মির হাতে দিয়েছে,ঊর্মি সাথে সাথে সেগুলো ফেরত দিলো।আর বললো,এগুলো আবার আনতে গিয়েছিস কেনো?কে বলেছে আনতে?বিরিয়ানি না খেলে কি দিন যাবে না আমাদের?তাছাড়া তোর ভাই কি মরে গেছে নাকি?সে এখনো বেঁচেই আছে।হিয়া ওর বাবাকে বিরিয়ানি আনতে বলেছে।তোর বিরিয়ানি তুই খা।

রুয়েলের ভীষণ খারাপ লাগলো কথা গুলো শুনে।সে তখন বললো, ভাবি তুমি এভাবে বলছো কেনো?আমি কি হিয়া আর হৃদয় এর জন্য কিছু আনি না?প্রতিদিনই তো আনি।তাছাড়া আজ ঊর্মি আর মা না খেয়ে আছে।সেজন্য দুইজনের জন্য এনেছি শুধু।কিন্তু তুমি যেভাবে অশান্তি শুরু করছো সত্যি আমি আর নিতে পারছি না এসব।

–এখন তো আমার কথা ভালো লাগবেই না।আমরা তো সবাই এখন তোর বেশি হয়ে গেছি।

–ভাবি তুমি থামবে এবার!প্লিজ সংসারে আর অশান্তির সৃষ্টি করো না।তুমি কিন্তু খুব বেশি ঝামেলা করছো।আমার টাকা পয়সা খেয়েই তো ওরা আজ এতো বড় হয়েছে।তারপর ও কেনো এভাবে বলো যে চাচা আর বাবার মধ্যে রাত দিন তফাত?আমি তো কখনো ওদেরকে ভাই এর বাচ্চা ভাবি না।আমি তো মনে করি ওরা আমারই বাচ্চা।কিন্তু এখন তো আমার মনে হচ্ছে আমি বিদেশ যাই নি দেখে তোমার এতো রাগ আমার উপর?সেজন্য সারাক্ষণ এভাবে ঝগড়া করছো?

–কি বললি তুই?আবার বড় কথা বললি আমাকে?আমি ঝগড়া করছি?আর কি বললি?তুই বিদেশ না গেলে কি আমাদের সংসার চলতো না?আমরা কি না খেয়ে মরে যেতাম?শুনে রাখ!এতো লোভ নাই আমাদের।আর আমার বাচ্চারা তার বাপের টা খেয়েই বড় হয়েছে।আসলে তুই যে পালটে গেছিস সেটা আমি বুঝতে পারছি।তোর থেকে আর কিছুই আশা করি না আমরা।এই বলে ঊর্মি তার রুমে চলে যেতে ধরলো। কিন্তু রুয়েল তখন বললো,আমার আছে টাই বা কি?আর কি আশা করবা তোমরা?এ যাবত যা ইনকাম করছি সব তোমাদের দিয়েছি।তোমরা সেসব টাকা কি কি করেছো সেটার খোঁজ পর্যন্ত নেই নি আমি।কিন্তু তুমি যে ভাবে ঝামেলা করছো আর সংসারে অশান্তি করছো সেজন্য মনে হচ্ছে আমি মস্ত বড় এক ভুল করেছি।আমার সবকিছু খোঁজ নেওয়া উচিত ছিলো।তোমরা বেশি পেয়ে পেয়ে আজ মাথায় উঠে গেছো।আজ ভাইয়া বাসায় আসলে ব্যাপার টা মিটিয়ে নিতে চাই।আমার আর সত্যি ভালো লাগছে না।কারণ আমি শান্তি চাই।এতো অশান্তির মধ্যে আমি থাকতে পারবো না।এই বলে রুয়েল বাসা থেকেই বের হয়ে গেলো।সে বুঝতেই পারছে না তার এখন কি করা উচিত।কারণ তার কাছে কোনো টাকা পয়সা নাই।সব তার ভাই এর কাছে।কিন্তু তার ভাবি যেভাবে পদে পদে ঝামেলা করছে এর তো একটা বিহিত করা উচিত তার।

ঊর্মি রুয়েলের মুখে এসব কথা শোনার সাথে সাথে রুবেল কে জানিয়ে দিলো।সে তার নিজের দোষের কথা কিছুই বললো না।শুধু রুয়েলের দোষ দিয়ে বললো, শীঘ্রই তোমার ভাই এর একটা ব্যবস্থা করো।এর কিন্তু পাওয়ার বেড়ে যাচ্ছে।আজকেও আমাকে বকে থুয়ে গেলো।যা নয় তাই বললো।আমি কি এখন ওর বড় বড় কথা সহ্য করে থাকবো নাকি?আজ বাচ্চাদের ও যা নয় তাই বললো,আমার ছেলে মেয়ে নাকি ওর টাকা খেয়ে বড় হইছে।তুমি যদি আজ রুয়েলের কিছু একটা না করো আমি কিন্তু শেষ করে ফেলবো নিজেকে।এই বলে ঊর্মি মায়া কান্না শুরু করে দিলো।

রুবেল ঊর্মির মুখে এসব কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।সে চিৎকার করে বললো,রুয়েল এতো বড় সাহস কই থেকে পেলো?আমার বাচ্চাদের কেও ছাড়ছে না সে।কথায় কথায় এতো টাকার হিসাব চাচ্ছে?দাঁড়াও এর একটা ব্যবস্থা করছি।এই বলে রুবেল কল কেটে দিলো।

কিছুক্ষণ পর রুয়েল দোকানে গেলে হঠাৎ দোকান ভরা মানুষের সামনেই রুবেল রুয়েলকে ধাক্কা দিতে দিতে দোকান থেকে বের করে দিলো।আর বললো,খবরদার আর দোকানের আশেপাশেও আসবি না।এটা আমার দোকান।এই দোকানে যেনো তোর ছায়াও না পড়ে।

রুয়েলের মেজাজ একদম গরম হয়ে গেলো।তার পুরো শরীর রাগে লাল হয়ে গেলো।কিন্তু বড় ভাই দেখে হাত তুলতে পারলো না।তবে সে আংগুল দেখিয়ে বললো,ভাই আপনি আমার গুরুজন।সেজন্য আপনার উপর হাত তোলার সাহস আমার নাই।কিন্তু আপনি ইদানীং আমার উপর যে অত্যাচার শুরু করেছেন তাতে আমি আর চুপ থাকতে পারছি না।যেদিন আমার এই হাত উঠে যাবে সেদিন কিন্তু আর থামবে না।আমি এখন বড় হয়ে গেছি।যখন তখন যেখানে সেখানে এভাবে আমার শরীরে হাত তুলবেন না।বি কেয়ারফুল!

–কি বললি তুই?এই কি বললি তুই?এই বলে রুবেল সবার সামনে রুয়েলকে মারতে লাগলো।রুয়েল কানে কপালে চড় খেয়ে নিজেকে আর সামলিয়ে রাখতে পারলো না।কারণ তার আজ ধৈর্যের বাঁধ ভেংগে গেছে।এতোগুলোর মানুষের সামনে তার ভাই আজ তাকে মারলো?তার অন্যায় টা কোথায় এটাই তো সে বুঝতে পারছে না।তবে রুয়েলের মেজাজ জ চরমে পৌঁছে গেছে।রুবেল যখন আবার তাকে মারতে এলো রুয়েল এবার আর চুপ করে থাকলো না।সে তখন তার পাশে রাখা চেয়ার টা উঠিয়ে রুবেলের দিকে তেড়ে আসলো।

তখন আশেপাশের মানুষ জন্য রুয়েলকে থামিয়ে দিলো।কিন্তু রুয়েল থামছেই না।কারণ সে এখন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই।তার মনেই হচ্ছে না সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ টা তার নিজেরই ভাই।যাকে সে পিতার আসনে বসিয়ে রেখেছিলো এক সময়।

রুবেল তখন চিল্লাতে চিল্লাতে বললো,মারবি আমাকে?মার!আয় মার আমাকে।আপনারা ছেড়ে দিন ওকে।এটাই মনে হয় দেখার বাকি ছিলো।যাকে ছোট থেকে বড় করলাম তারই হাতের আজ মার খাবো।এই বলে রুবেল মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো।এদিকে সবাই রুয়েলকে ধমকাতে লাগলো।আর বললো,এটা কোনো কাজ করলে তুমি?এইভাবে বড় ভাই এর গায়ে কেউ হাত তোলে?ছিঃ রুয়েল! এট আমরা আশা করি নি।এইভাবে সবাই রুয়েলকেই বকতে লাগলো।কিন্তু রুবেল যে এতোক্ষণ তাকে বিনা কারণে মারতে লাগলো সেটা কারো চোখে পড়লো না।

রুয়েল চুপ করে থাকলো।কারন সে নিজেও জানে না কি করতে গিয়েছিলো সে।হঠাৎ রুবেল তাড়াতাড়ি করে গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে গেলো।রুয়েল চুপচাপ ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো।তার ভালো লাগছে না কিছু।কি থেকে কি হয়ে যাচ্ছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না।

রুবেল বাসায় গিয়ে রুয়েলের রুমের ভিতর যেয়ে তার সব কাপড়চোপড় বাহিরে ছুঁড়ে ফেলে দিলো।এদিকে জান্নাত রুমে বসে নামায পড়ছে।সে তার নামায শেষ না করা পর্যন্ত উঠতেও পারছে না।অন্যদিকে রুবেল একের পর এক জিনিস বাহিরে ফেলে দিচ্ছে।হঠাৎ রুয়েলের মা এলো সেখানে।আর বললো,বাবা কি হয়েছে তোর?কেনো এমন করছিস?

রুবেল তখন চিৎকার করে বললো, কোনো কথা না বলে চুপচাপ নিজের রুমে চলে যাও।আর যদি একটা কথা বলো তাহলে কিন্তু ছেলের সাথে সাথে তোমাকেও বাসা থেকে বের করে দিবো।
রুয়েলের মা তখন বললো, তোর কি মাথা পাগল হয়েছে?কি বলছিস এসব?
–হ্যাঁ ঠিক বলছি।ওই জানোয়ার কে আমি আর এ বাসায় রাখবো না।ওর মুখ ও আমি আর দেখতে চাই না।আর যে ওর হয়ে ওকালতি করবে তাকেও রাখবো না আমি।

রুয়েলের মা সেই কথা শুনে বললো,তুই বললি আর হলো নাকি?তোর কি একার বাসা এটা?যে তুই একাই থাকবি?প্রতিদিন কি অশান্তি শুরু করেছিস তোরা?

–ছেলের হয়ে ওকালতি করতে আসছিস?তোকেও কিন্তু বের করে দিবো।কোনো কথা না বলে চুপচাপ বের হয়ে যা।
রুবেলের কথা শুনে তার মায়ের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।এতো বড় কথা তাকে বলতে পারলো রুবেল।এতো নীচে নেমে গেছে সে?রুয়েলের মা আর কোনো কথা না বলে তার রুমে চলে গেলো।তবে তিনিও আজ ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন।

এদিকে জান্নাত নামায পড়া শেষ করে যেই জায়নামাজ টা গুছিয়ে রাখতে গেছে ঠিক তখনি রুবেল এসে বললো,এই মুখোশধারী শয়তান মেয়ে!তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে স্বামীকে নিয়ে বের হয়ে যা।আজ তোর কারণেই সংসারে এতো অশান্তি হচ্ছে।আগে তো আমাদের সংসার এমন ছিলো না।তুই আসার পর থেকেই এমন অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে।শুধু মুখ ঢাকলে আর নামায কালাম পড়লেই ভালো হওয়া যায় না।বেয়াদব মেয়ে কোথাকার।আগে জানলে ভুল করেও তোকে দিয়ে আমার ভাই এর বিয়ে দিতাম না।

জান্নাত যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলো।সে আর এক পা এগোতে বা পিছাতে পারলো না।রুবেলের মুখের এমন বাজে ভাষা শুনে সে একদম স্তব্ধ হয়ে গেলো।তার বড় ভাসুর যে কোনো দিন এভাবে তাকে বলবে সে কল্পনাও করে নি।জান্নাতের চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পড়তে লাগলো।তার চোখের পানি কিছুতেই আর থামলো না।সে তখন তার বাবাকে ফোন দিলো।আর কাঁদতে কাঁদতে বললো,বাবা কই আছো তুমি?তাড়াতাড়ি এসে আমাকে নিয়ে যাও।আমি আর থাকতে পারবো না এই বাড়িতে।

জান্নাতের কান্না করা দেখে জহির সাহেব বললেন, মা!কি হয়েছে তোর?এভাবে কাঁদছিস কেনো?

জান্নাত তখন বললো,আগে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।তারপর বলছি।প্লিজ বাবা!আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।আমি আর থাকতে পারছি না এ বাড়িতে।এই বলে জান্নাত ফোন রেখে দিলো।

জহির সাহেব জান্নাতের কান্না করা দেখে আর স্থির হতে পারলেন না।তখন তিনি সাথে সাথে রুয়েল কে ফোন দিলেন।আর বললেন,বাবা রুয়েল।জান্নাতের কি হয়েছে?ও এভাবে কাঁদছে কেনো?আর আমাকে কেনো তোমাদের বাসায় যেতে বলছে?

রুয়েল বুঝতে পারলো তার ভাই বাসায় গিয়ে অশান্তি শুরু করেছে।সেজন্য সে তার শশুড় কে শান্ত্বনা দিয়ে বললো,বাবা আপনি ওকে নিয়ে অযথাই চিন্তা করছেন। কিছুই হয় নি।হয়তো সবার কথা মনে পড়েছে এজন্য কাঁদছে।এই বলে রুয়েল তাড়াতাড়ি করে বাসায় চলে গেলো।

রুয়েল বাসায় গিয়ে দেখে তার সব জিনিসপত্র বাহিরে ফেলে দেওয়া।রুয়েল সেজন্য তাড়াতাড়ি করে রুমে ঢুকলো।রুমে যেতেই জান্নাত তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।আর রুবেল তাকে কি কি বলেছে সব কথা বললো।রুয়েল জান্নাতের মুখে এসব কথা শুনে ভীষণ রেগে গেলেও,নিজেকে সে কন্ট্রোল করে নিলো।কারণ সে বুঝতে পারলো এভাবে রাগারাগি, মারামারি করে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না।তাছাড়া আর কখনোই তাদের একসাথে থাকা সম্ভব নয়।সেজন্য এ নিয়ে ঝামেলা না করে সে ভালোই ভালোই আলাদা হয়ে যাবে।ওরা ওদের মতো থাকবে আর সে জান্নাত আর তার মাকে নিয়ে আলাদা থাকবে।এদিকে জান্নাত কাঁদতেই আছে।কারণ রুবেলের কথাগুলো তার ভীষণ খারাপ লেগেছে।তার খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে।

রুয়েল তখন জান্নাতকে তার বুকের সাথে ভালোভাবে জড়িয়ে ধরলো, আর তার মাথা বুলিয়ে শান্ত্বনা দিতে লাগলো।
জান্নাত!আমার লক্ষ্ণী বউ।আর কাঁদবেন না প্লিজ।সব ঠিক হয়ে যাবে।আমি ভীষণ ভাবে দুঃখিত।ভাইয়া কেনো যে আমাদের সাথে এরকম করছে সত্যি আমি নিজেও বুঝতে পারছি না।আমার ভাইয়া তো আগে এরকম ছিলো না।তবে আমি আর ভাইয়া ভাবিকে সুযোগ দিতে চাই না।জীবনে অনেক বড় ভুল করেছি তাদের কে বিশ্বাস করে।আমি কখনো কল্পনাও করি নি তারা আমার সাথে এমন আচরণ করবে।এতোদিন তারা আমার টাকাকে ভালোবেসেছে।আমাকে কখনো তারা ভালোই বাসে নি।জীবনের সমস্ত ইনকাম তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।কিন্তু তারা যে এভাবে তার প্রতিদান দেবে সত্যি আমি ভাবি নি কখনো।সেজন্য এখন আর আমি ভুল করতে চাই না।এখনো যা যা আছে ঠিক ভাবে চলতে পারবো।হয় তো রাজার মতো চলাফেরা করতে পারবো না,তবে দিনপথ যাবে ইনশাআল্লাহ। প্লিজ জান্নাত!আমার এই বিপদে আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবেন না।আমার পাশে থেকে সারাজীবন সাহস যোগাবেন।এটাই আমি চাই।আর কিছু চাই না আমি।প্লিজ জান্নাত!কথা দিন আর কখনো আমাকে রেখে একা একা কোথাও যেতে চাইবেন না?

জান্নাত রুয়েলের মুখে এমন কথা শুনে আর কি করে বাড়ি চলে যাবে?সেজন্য সে তার সিদ্ধান্ত পালটিয়ে ফেললো।তবে রুবেলের কথাগুলো সে কখনো ভুলতে পারবে না।সারাজীবন এই কথাগুলো তার মনে হবে।
কারণ রুবেলের কথাগুলো শুনে সত্যি সে অনেক বেশি আঘাত পেয়েছে।নামায শেষে যখন সে মোনাজাত করে সবার প্রথম রুবেলের সেই কথাগুলোই তার মনে হয়।আর দু চোখ বেয়ে এমনিতেই জল গড়িয়ে পড়ে।তাহলে কত টা আঘাত পেয়েছে সে!

কিছুক্ষন পর রুয়েল তার বোন আর দুলাভাই এবং মামাকে খবর দিলো।তারা যেনো তাড়াতাড়ি তাদের বাসায় আসে।সবাই যখন জিজ্ঞেস করলো কেনো আসতে হবে?
রুয়েল তখন বললো,আমি মা আর জান্নাতকে নিয়ে আলাদা থাকবো।আপনারা এসে আমার ভাগের জমিজমা,বাড়ি-গাড়ি যা কিছু আছে সব বের করে দিন।আমি আর ভাই ভাবীর সাথে থাকতে চাই না।

রুয়েলের কথা শুনে সবাই বেশ অবাক হলো।মাত্র কয়েকদিন হলো বিয়ে করেছে আর তাতেই রুয়েল আলাদা থাকতে চাচ্ছে?

রুয়েল আর ফোনের মধ্যে এসব ঝামেলার কথা বললো না।শুধু বললো তাড়াতাড়ি সবাই আমার বাসায় চলে আসো।

#চলবে,