#ইতি_নিশীথিনী
#২য়_পর্ব
রাহেলা বেগমের কথা মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে প্রবেশ করতে সময় নিলো নিশীর। সে ফ্যালফ্যাল নয়নে চেয়ে রইলো। রাহেলা বেগম নিজ থেকেই তার ওড়না টেনে ঘোমটা দিয়ে দিলেন। ভেতরে যেতে আরেকদফা বিদ্যুৎ গর্জে উঠলো নিশীর মস্তিষ্কে। পাত্রটি যে মাহাদী। তার পিতা ওয়ার্ড কমিশনার সোলাইমান শেখ এবং তার মাতা পলি বেগমও এসেছেন। রাহেলা বেগম যে কি না এক চামচ চিনির ব্যাপারেও কার্পন্য করেন তিন তাদের দামী কেক এবং চা পরিবেশন করেছেন। নিশীকে দেখতেই মাহাদী তার বিচিত্র বাঁকা হাসিটা ঠোঁটে ঝোলালো। তার চোখের তীর্যক চাহনী বড্ড বিরক্তিকর ঠেঁকলো নিশীর নিকট। নিশী সন্তপর্ণে ছোট তপ্ত নিঃশ্বাস গোপন করলো। মাহাদীর মতো জেদী, দাম্ভিক মানুষ হার মানতে নারাজ। তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তারা সবকিছু করতে পারে। এই সত্যটি নিশীর অজানা নয়। তাই তো আজ কলেজে মাহাদীর আড্ডাস্থলে তাকে দেখতে না পেরে বেশ অবাক ই হয়েছিলো নিশী। প্রত্যুষীর ভাষ্যমতে সে নিশীর আচারণে জব্দ হয়েছে, কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভুল। নিশীর আত্মঅহমিকায় পায়ের নিচে পি’ষে ফেলার জন্য সে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাসায় হাজির। আর এতো ক্ষমতাবান পরিবারের সম্বন্ধ পেয়ে তার চাচী খুশিতে গদগদ। নিশিকে দেখে পলি বেগম মৃদু কন্ঠে বললেন,
“বসো মা, দাঁড়িয়ে আছো কেনো?”
তার কথাটা শুনতেই রাহেলা বেগম আদুরে স্বরে বললেন,
“আসলে মেয়ে তো আমাদের খুব সরল। বড়দের খুব সম্মান করে। আর আমাকে বেশ মান্যও করে। আমি বসতে বলি নি বলে বসে নি। বয় নিশী মা, বয়”
রাহেলা বেগমের মধুবাক্য ঠিক হজম হলো না নিশীর। চাচীর রুপ তাকে বারবার চমকে দিচ্ছে। তার আচারণটি এমন যেনো নিশীকে তিনি চোখে হারান। কিন্তু বাস্তবটি বড্ড আলাদা। নিশীর বুঝতে বাকি রইলো না, চাচী তাকে ঘর থেকে বিদেয় করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। বড় চাচাও ঘরে নেই। অবশ্য জামশেদ সাহেব থাকলেও যে লাভ হতো তা নয়। তিনি স্ত্রীর কথার বাহিরে খুব একটা যান না। উপরন্তু সোলাইমান শেখের মতো মানুষের পুত্রবধু হবে নিজের ভাতিজী, এটা তার জন্য গর্বের ব্যাপার।
সোলাইমান শেখের দাপট বরাবর ই অন্যরকম। ওয়ার্ডে তার একটা দাপট ও আছেই। উপরন্তু মানী নেতা, পুলিশদের সাথে তার উঠা বসা। মহানগরের রাজনৈতিক কমিটির সভাপতিও ছিলেন তিনি বেশ কয়েকবার। খুলনার মতো জেলায় ব্যাপারটা যে সে কথা নয়। কিন্তু এই বিয়ে নিশীর পক্ষে করা যে অসম্ভব। যার সাথে জীবন কাটাবে তাকে সম্মান করাটা বাঞ্চনীয়। কিন্তু মাহাদীর প্রতি ঘৃণা, ধিক্কার ব্যতীত নিশীর হৃদয়স্থলে আর কিছুই নেই। সে যেনো একটা নিকষকালো বিদঘুটে ভয়ের অপরনাম৷ মাহাদী ছেলেটার যদি অর্থ বা ক্ষমতা কিছুই না থাকতো তবে একবার হলেও নিশী ভেবে দেখতো। কিন্তু ছেলেটার আচারণ মোটেই তার পছন্দ নয়। সর্বদা ক্ষমতার দাম্ভিকতা, মানুষকে মানুষ হিসেবে গণ্য করা যেনো তার খুব ই অপছন্দের কাজ। সকলের ভেতর একটা ভীতি চেষ্টা করার প্রচেষ্টা তার সবসময়। ম’দ, গা’জা এসব তো তার নিত্যদিনের সঙ্গী। কেউ তার কথার অমান্য করলে তার গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করে না। যেদিন প্রথম মাহাদীকে দেখেছিলো নিশী ঘৃণার জন্মটি সেদিন থেকে। কলেজ মোড়ে একটা ছেলেকে অমানুষের মতো পি’টা’চ্ছি’লো সে। ছেলেটা র’ক্তা’ক্ত অবস্থায় কাঁতরাচ্ছিলো। কিন্তু সামান্য দয়াও যেনো মাহাদী বা তার দলের হয় নি। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের আগমণ ঘটে। মাহাদীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বেইল হয়ে যায় মাত্র চার ঘন্টায়। নিশী পরে জানতে পারে এই মারপিটের কারণ। ছেলেটি নাকি মাহাদীকে সম্মান করে নি, তার চোখে চোখ রেখে বলেছিলো,
“আমি আপনাকে ভয় পাই না”
ফলস্বরুপ ছেলেটিকে আইসিউতে ভর্তি করানো হয়। সেদিনের পর থেকেই প্রচন্ড ঘৃণা করে নিশী তাকে। তাই তার অর্ধাঙ্গিনী হওয়া আগুনে ঝাপ দেওয়া থেকে কম কিছু নয়।
এর মাঝেই সোলাইমান শেখ বলে উঠলেন,
“আপা, আপনাদের মেয়েকে আমার ছেলের মনে ধরেছে। তাই আমি আর বেশি কথা বাড়াবো না। আজ ই ওকে আংটি পড়িয়ে দিতে চাচ্ছি। বিয়ের তারিখক্ষণ নাহলে জামশেদ ভাইয়ের সাথেই ঠিক করে নিবো”
“মাহাদীর মতো ছেলেকে কার পছন্দ হবে না ভাইসাব, আর আমাদের মেয়েও বেশ গুনী। আপনাদের কখনো কোনো অভিযোগের সুযোগ দিবে না”
রাহেলা বেগম গদগদ হয়ে বললেন। পানি মাথার উপর যেতে দেখে নিশীর পক্ষে চুপ করে থাকা সম্ভব হলো না। ভদ্রতার সহিত বলে উঠলো,
“আংকেল আমাকে ক্ষমা করবেন, তবে এই বিয়েটা আমি করতে পারবো না”
নিশীর কথায় ভ্রু কুঞ্চিত হলো সোলাইমান শেখের। তিনি শান্ত দৃষ্টিতে চাইলেন নিশীর দিকে। অপরদিকে মাহাদী কিঞ্চিত নিড়ে উঠলো। তার চোখে বিস্ময়। নিশী বরাবর ই সাহসী, ঠোঁটকাটা। কিন্তু চাচা বাড়িতে যে সে আশ্রিতা তা কখনোই অজানা নয় মাহাদীর। তাই তো সরাসরি বাসায় সম্বন্ধ নিয়ে এসেছে সে। নিশীকে জব্দ করার মুখ্যম উপায় এটাই। রাহেলা বেগমও বিচলিত হয়ে উঠলেন। তিনি সকলের অগোচরে চিমটি কাটলো নিশীকে। কিন্তু নিশী তাকে ভুল প্রমাণ করলো৷ তাকে অবাক করে দিয়ে সে তার বাক্যে অবিচল রইলো। সোলাইমান শেখ শান্ত চিত্তে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
“তুমি ভেবে বলছো?”
“জ্বী”
“কিন্তু আমার ছেলের মধ্যে অপ্রিয় হবার তো কারণ নেই, তাহলে এই বিয়েটি কেনো করতে চাইছো না তুমি”
“আপনার ছেলের মধ্যে প্রিয় হবার কোনো গুন নেই, সে একজন বে’য়া’দ’ব, অহংকারী, ক্ষমতার জোরে অন্ধ, নিম্ম মানসিকতার ব্যাক্তি। তাই তাকে আমি কখনোই সম্মান করতে পারবো না। আমাকে ক্ষমা করবেন আমি এই বিয়েতে রাজী নই”
রাহেলা বেগ নিশীকে দমাতে বলে উঠলেন,
“নিশী, বে’য়া’দ’বী করো না। তোমার ভাগ্য মাহাদীর মতো ছেলে তোমাকে পছন্দ করছে”
“চাচী, আমার ভাগ্য বুঝি এতোটাই খারাপ! একজন ল’ম্প’টকে বিয়ে করাই যদি সৌভাগ্য হয় তবে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি”
মাহাদী শরীর কাঁপছে রাগে, মেয়েটির স্পর্ধা যেনো দিন দিন আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সাহস ভালো কিন্তু দুঃসাহস ভালো নয়। মেয়েটিকে ছাড় দিতে দিতে মাথায় উঠে নৃত্য করছে। সামান্য সৌন্দর্য্যের এতো দাম্ভিকতা! হ্যা, নিশীকে মনে ধরার প্রথম কারণটি ছিলো সে সুন্দর। বিশ্বসুন্দরী না হলেও তার মায়াবী মুখের নেশায় ডুবেছিলো মাহাদী। এই নেশা আরোও গাঢ় হলো নিশীর ব্যক্তিত্বের কারণে। নির্ভীক নিশীর চালচলন, বচনভঙ্গি তাকে মুগ্ধ করেছিলো। তবে এতোটাও নয় যে মেয়েটির উদ্ধত আচারণ সহ্য করবে। যে মাহাদী শেখ কে সকলে ভয় পায় তাকেই সকলের সম্মুখে চ’ড় মেরেছিলো, এখন বাড়িতেও তাকে অপমান করছে সে। মাহাদী গজগজ করতে করতে বললো,
“তুমি সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছো নিশী, ফল ভালো হবে না”
“ঠিক এই কারণেই আপনাকে অপছন্দ আমার। ক্ষমতার দাম্ভিকতা কাঁটার মতো বিঁধছে। আপনার পরিবার আপনাকে ক্ষমতার সঠিক ব্যাবহারটি শিখালে হয়তো ভালো হতো”
“তুমি…”
মাহাদী কিছু বলার পূর্বেই তাকে থামিয়ে দিলেন সুলাইমান শেখ। তিনি মুখে প্লাস্টিকের হাসি এঁকে উঠে দাঁড়ালেন। রাশভারি স্বরে বললেন,
“মেয়েটিকে ভালো শিক্ষাই দিয়েছেন আপা, আজ উঠি। দেখা হবে অন্য কোনো সময়”
পলি বেগম এখন নিশ্চুপ। তিনি যেনো একজন চাবি দেওয়া পুতুল। স্বামী দাঁড়াতেই তিনিও দাঁড়িয়ে গেলেন। মাহাদী ও বসলো না। হনহন করে বেঁড়িয়ে গেলো। তাদের প্রস্থানে হাঁফ ছাড়লো নিশী। সুলাইমান শেখের কঠিন মুখের উপর চোখে চোখ রেখে উত্তর দেওয়াটা সরল নয়। তার বুক কাঁপছে। কিন্তু রেহাই হলো না। রেহালা বেগমের হিনহিনে কন্ঠ কানে এলো,
“তোমাকে আমি প্রথমেই সাবধান করেছিলাম নিশী, তোমার মতো বে’য়া’দ’ব মেয়ে জন্মে দেখি নি আমি। কি ভাবো নিজেকে! কোথাকার রাণী ভিক্টোরিয়া। তোমার জন্য ঘোড়ায় চড়া রাজকুমার আসবে? কচু আসবে। এতো ভালো পরিবার খুঁজেও পাওয়া যায় না। তুমি তাদের এভাবে অপমান করলে!”
“চাচী, বিয়েটা তো আপনি করবেন না। আমাকেই ওই লোকটির সাথে থাকতে হবে। তাহলে আমার মতের দাম কেনো থাকবে না?”
নিশীর শান্ত কন্ঠের উক্তিটি যেনো ফোস্কার মতো ছ্যাৎ করে উঠলো রাহেলার। সে তীক্ষ্ণ কন্ঠে মুখ বাঁকিয়ে বললো,
“কিসের মতামত? ঘাড়ে বসে তো।আমার আছো। খাচ্ছো, অন্ন ধ্বংস করছো আবার মতামতের দোহাইটুকু দিচ্ছো? শুনে রাখো নিশী, আমি যেখানে বলবো তোমার বিয়ে সেখানে হবে। তোমার এসব রং ঢং আমার সহ্য হয় না”
রাহেলার কথার বান আজ যেনো একটু বেশি ই দাঁড়ালো। নিশী অবাক হলো বটে কিন্তু দমলো না। শান্ত কন্ঠে বললো,
“চাচী, আমি কিন্তু দেশের নাগরিক। আইন কানুন আমার ও জানা। আমার অমতে আমাকে বিয়ে দেবার অধিকারটা আপনার নেই। হ্যা, আমি আশ্রিতা ঠিক ই কিন্তু রক্ত মাংসের একজন স্বাধীন মানুষ”
কথাটা বলেই সে ভেতরে পা বাড়ালো। রাহেলা থামলেন না। তিনি তার কটুক্তির বান বজায় রাখলেন। প্রতিবারের মতো এখনো নিশীর মায়ের বদনাম শুরু হলো। নিশী নিজ ঘরের দরজা দিলো। মুখ ফুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠছে, এক অসামান্য হাহাকার। হয়তো বাবা থাকলে মেয়েটিকে এমন কটুক্তি শুনতে হতো না। পরজীবিদের চামড়া হতে হয় মোটা। যেনো বাক্যের তীর ভেতরে না প্রবেশ করে। নিশী ভেবেছিলো সে হয়তো মোটা চামড়ার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আজ বুঝছে বিষাদ তাকে এখনো ছুঁয়ে যায়________
*****
নিগুঢ় রাত, তারা ভরা আকাশের দিকে চেয়ে আছে মাহাদী। মেঘের ছিটে দেখা যাচ্ছে না। শ্রাবণ মাসের আকাশ এতোটাও ঝলমলে হয় না। হয় কালো মেঘে ঢাকা তার মাঝে একটু উঁকি দেয় চাঁদ। ঠান্ডা বাতাস কান ছুঁয়ে যাচ্ছে। মাহাদী পা ছড়িয়ে বসে আছে। তার সামনে টেবিলে “old munk” এর একটি অর্ধখাওয়া বোতল। ইমাদ তাকে বরফ আর সোডা মিশিয়ে একটি গ্লাস এগিয়ে দিলো। তারপর রয়ে সয়ে বললো,
“ভাই, আপনার এই মাইয়াটারেই কেনো পছন্দ হইলো কন তো? মাইয়া তো আহামরি সুন্দর ও না”
মাহাদী উত্তর দিলো না। তার দৃষ্টিতে এখনো ক্ষোভ, নাক মুখ এখনো ঈষৎ লাল। ইমাদ একটু ঠেস মেরেই বললো,
“ভাই, আপনি মেলা সরল। আপনার জন্য মাইয়াটা লায় পাইছে। আমি হইলে কাঠির মতো সোজা করে দিতাম”
“কি করতি?”
এবার মুখ খুললো মাহাদী। কন্ঠ তার শীতল, চাহনী শান্ত। মুখশ্রী কঠিন। ইমাদ একটা শুকনো ঢোক গিললো। মাহাদীর এই চাহনী তার বেশ পরিচিত। সে একটু থেমে বললো,
“থাক, আমি চুপ করে যাচ্ছি”
“বলেই ফেল, ভয় পাচ্ছিস”
ইমাদের এবার একটু সাহস হলো। সে ধীর গলায় বললো,
“এমন কিছু করতাম মেয়েটা যেনো মুখ দেখানোর সাহস না করে”
বলেই চুপ করে গেলো ইমাদ। মাহাদী কিছু একটা ভাবলো। তারপর আকাশের পানে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো। দূর্বোধ্য সেই হাসি_______
****
টিউশন শেষ হতে হতে মাগরিব হলো নিশীর। পশ্চিম আকাশে ব্যস্ত সূর্য অস্তগামী। লাল আভা মিশে যাচ্ছে নীলাভ আকাশে। পাখিরা নিজ নীড়ে ফেরার জন্য ব্যস্ত। নিরব গলিতে মানুষের আনাগোনার দেখা মিলছে না। তারা হয়তো নামাজে গেছে। কয়েক মূহুর্তেই আলো ফুরিয়ে নামবে বিশাল কালো অন্ধকার। রিক্সাও পাচ্ছে না সে। হাটতেই হবে। হয়তো গলি পাড় হলেই রিক্সার দেখা মিলবে। পুরান দেয়ালে মসের আবরণ, তার পাশ দিয়েই হাটছে নিশী। দেখতে দেখতেই আঁধার নামলো। এর মাঝেই হঠাৎ মনে হলো তার পেছনে কেউ আছে। নিশী প্রথমে পাত্তা দিলো না। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে অনুভূতি গাঢ় হলো। নিশী পেছনে চাইলো দেখার জন্য কিন্তু কাউকে দেখতে পেলো না। চটের ব্যাগটা শক্ত করে ধরে পায়ের গতি বাড়ালো সে। কিন্তু কিছুদূর যেতেই একজোড়া কালো হাত পেছন থেকে মুখ চেপে ধরলো। আকস্মিক আক্রমণে হাত পা ছুঁড়ে হাতটির শক্ত বাঁধন খোলার চেষ্টা করেছিলো নিশী, কিন্তু চিৎকার দেবার আগেই জ্ঞান হারালো সে….……
চলবে
মুশফিকা রহমান মৈথি